মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন আপেডট-১
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের সেই শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা শুরু হয়েছে। শিশুদের স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়েছে ব্লগার বন্ধুদের মাঝে। মুসলীমা, আনন্দময়ী, সাদিদ হাসান, বিল রাসেলের নিরন্তর প্রচেষ্টায় 'আসুন একটি স্বপ্নের সাথে যুক্ত হই' পোস্টটি নির্বাচিত তালিকায় আছে। আশা করছি এটি অচিরেই স্টিকি করা হবে।
জেলে শিশুদের স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই স্বপ্নের পথে হাটছেন সজল শর্মা, গোধূলীর সূর্য, জলজ, আফসানা সজল, নীলাকাশ, নাসরিন জুবাএর, আবু তৈয়ব, সুজন, সুমন সালেহী, ইমন, মাহবুব মোর্শেদ, ত্রিভুজ, সোহায়লা রিদওয়ান, ডা. শাহরিয়ার, চিন্তা এবং আরও অনেকে। আমি প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
স্কুলে ক্লাশ শুরু হয়েছে আজ প্রায় ৫ মাস। ফারজানা খুব কষ্ট করে বাচ্চাদের পড়ায়। এই ক'মাসে ও বাচ্চাদের অ-আ, ক-খ, এবিসিডি, ১২৩৪, ওয়ান-টু-থ্রি এগুলো শিখিয়েছে। ওর বসার জন্য একটি চেয়ার দিতে পারিনি। বাচ্চারা স্কুল ঘরের ভিতর চাটাই বিছিয়ে পড়ে। ওদের দাবি 'লাসা'। স্থানীয় ভাষায় লাসা মানে বেঞ্চ। বাচ্চাদের বসার ব্যবস্থা না করে ফারজানার জন্য টেবিল-চেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে মন চাচ্ছে না।
ফারজানার স্বামী একজন লোকাল ডাক্তার। মজু চৌধুরী হাটে ও ডা. রিয়াজ নামে পরিচিত। ফারজানার বেতন দিতে পারছিনা প্রায় চারমাস। এই নিয়ে রিয়াজের কোন অভিযোগ নেই। ওর দৃঢ় বিশ্বাস বেতন সমস্যার সমাধান হবে। ফারজানাও আত্মবিশ্বাসী স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হবেই। কিন্তু এই মুহূর্তের সামান্য যে আর্থিক সমস্যা তা মিটাতে পারছিলাম না।
সমস্যাটুকু নিয়ে গত ১৪/০৩/০৯ তারিখ ম্যানেজিং কমিটির একটি সভা ডেকেছিলাম। আমি ঢাকা থেকে ছুটে গিয়েছি লক্ষ্মীপুর- মিটিং করার উদ্দেশে। স্থানীয় মেম্বার ছিল কমিটির সভাপতি। সে আসেনি। ওখানকার স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল। সবাইকে মোবাইলে অনেকবার করে বলেছি। ওরা কেউ মিটিংয়ে উপস্থিত হয়নি।
আমি আশাহত হইনি। কারণ আমি জানি এ কাজে অনেকেই পিঠটান দেবে। উক্ত সভায় আমি লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল আহসান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ ইকবাল সাহেবকে পেয়েছি। নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব স্কুলটিকে আরও বড় করে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আমি আপ্লুত হয়েছি। আমার মনে আরও শক্তি এসেছে। কিন্তু সেটি সময়সাপেক্ষ।
স্কুলটি এখন অস্তিত্বের সংকটে আছে। তালিকাভুক্ত ৬০ জন শিক্ষার্থীর বই, খাতা, শ্লেট, স্কুল ড্রেস এবং তাদের বসার ব্যবস্থা করা- এই নিয়ে অস্তিত্বের সংকট। আমি ১৪ মার্চ তারিখে স্কুল ভিজিট করে আমার পর শিক্ষার্থী নাকি আরও প্রায় ১৫/১৬ জন বেড়েছে। স্কুল শিক্ষক ফারজানা আমাকে জানিয়েছে। স্কুলটি এখন যেখানে অবস্থিত সেটা অনেকটা অরক্ষিত। বড় ধরনের কোন দুর্যোগ মোকাবিলা করার মতো কাঠামো স্কুলটির নেই। মাত্র ৮টি খুঁটির উপর টিনের চাল দিয়ে স্কুলটি দাঁড়িয়ে আছে। সামনের ঝড়-ঝাপটা সহ্য করার মতো অবস্থানে নিতে হলে স্কুলটির চারদিকে শক্ত তার দিয়ে টানা দিতে হবে।
এই সমস্যাগুলোকে আমি তেমন আমলে নিচ্ছি না। কারণ প্রথম আলোর ব্লগার বন্ধুরা যেভাবে স্কুলটিকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন- আমি নিশ্চিত আমরা জেলে শিশুদের স্বপ্নকে আরও অনেকদূর টেনে নিয়ে যেতে পারবো।
ব্লগার বন্ধু দু:খ গতকাল মানিগ্রামের মাধ্যমে ইউএই থেকে ৫০০০/- টাকা পঠিয়েছে। বিল রাসেল টাকা তুলে তা স্কুল ফান্ডে জমা করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগামী দু'এক দিনের মধ্যেই ফারজানার বেতন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ব্লগার বন্ধুদের সহায়তায় একে একে সমস্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে...জেলে শিশুদের পড়াশুনা করার স্বপ্নকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো...আমি সেই অপেক্ষায় আছি।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এভাবে আমরা আমাদের স্বপ্নগুলোকে ছড়িয়ে দিতে পারি সবার মাঝে। যারা আমাকে এই কাজে উৎসাহ এবং সমর্থন যুগিয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ব্লগার বন্ধু সাফায়েত এবং কাঙাল মুরশিদকে। কাঙাল মুরশিদ গত কোরবানী ঈদের আগে ১০০০/- টাকা এবং সাফায়েত স্কুলটি পরিদর্শন করে ৩০০০/- টাকা পাঠিয়েছিলেন। আমি স্কুলের এ পর্যন্ত খরচ নিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি পোস্ট দেবো। ধন্যবাদ সবাইকে- এরকম একটি কাজে এগিয়ে আসার জন্য।
আমি আশা করছি মেঘনাপাড়ের সেই অবহেলিত জেলে শিশুদের কাছে শিক্ষার আলাকবর্তিকা হাতে নিয়ে আপনারা সবাই এগিয়ে আসবেন।
লেখক আজমান আন্দালিব
- আজমান আন্দালিব -এর ব্লগ
- ৩০ টি মন্তব্য
- ১৭ মার্চ ২০০৯, ০৩:০০
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৩০ টি মন্তব্য
-
দুঃখ১৭ মার্চ ২০০৯, ০৫:০৫
পাসপোর্ট পাঠিয়ে দেন, আমি ভিসার ব্যবস্থা করি
আর আপনি না অফিসের টুরে যাবেন কোথায়....তখন একবার না হয় আবুধাবীতে ল্যান্ড করবেন
-
দেবদাস১৭ মার্চ ২০০৯, ০৩:৪১
সকালে রাসেল ভাই একটা ইউটিঊব ভিডিও দেখাল। এত সুন্দর উদ্যেগ কখোনও ব্যার্থ হতে পারেনা। -
িনবারন১৭ মার্চ ২০০৯, ০৪:২৩
আজমান ভাই, আপনার সংগ্রাম সফল হোক এই কামনা করছি। আমাকেউ একজজন নগন্য সদস্য করলে খুশি হবো। এ মুহুত্তে আমি ফারজানার একমাসের বেতন আর একটি চেয়ারের টাকা দিতে চাই। ঠিকানা বা কি করে পাঠাবা তা জানিয়ে আমাকে একটা মেইল করলে আমি উপকৃত হবো। nbr969bd@yahoo.com এই মেইলে লিখো।আপনার িিবদ্যালয়ের ভিডিো আমি youtube এ দেখেছি।
শুভকামনা রইলো আপনার প্রচেষ্ঠার
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক