বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

আসুন, একটি স্বপ্নের সাথে যুক্ত হই...(প্রথম পেজে না আসায় পুন: পোস্ট)

আজ ১৪ মার্চ ২০০৯, শনিবার। একটি স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছে। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। গতকাল লক্ষ্মীপুর এসেছি। আজ দুপুর দুইটায় স্কুলের মিটিং। সকালে কিছুটা সময় পাওয়ায় হঠাৎ করে স্কুলে চলে গেলাম। সাথে লক্ষ্মীপুরের এক তরুণ সাংবাদিক স্বপন। স্বপনের মোটরসাইকেল চড়ে ছুটে চলেছি মজু চৌধুরী হাটের সেই স্বপ্নের স্কুলটিকে কেন্দ্র করে।

লক্ষ্মীপুর শহর ছাড়িয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মজু চৌধুরী হাট। মেঘনা নদীর বুকে নৌকার মধ্যে একটি জেলে জনগোষ্ঠী বাস করে। শিশুদের জন্য একটি স্কুল শুরু করেছি গত বছরের ১৪ জুলাই তারিখে। নভেম্বর মাস থেকে শিশুদের ক্লাশ শুরু হয়েছে। আর এখন মার্চ মাস। স্কুলের অদূরে পৌঁছেই দেখতে পেলাম একদল শিশু স্কুলের গেটে জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা পৌঁছামাত্রই স্কুলের একমাত্র শিক্ষক ফারজানা আমাদেরকে সালাম জানায়। স্কুলের ভেতরে বাচ্চারা গাদাগাদি করে বসে আছে। শিশুরা স্কুলে আসতে চাটাই নিয়ে আসে। কাচা মাটির উপর চাটাই বিছিয়ে শিশুরা পড়তে বসে। বাচ্চারা সবাই একযোগে সালাম দেয়। প্রত্যুত্তরে সালামের জবাব দিয়ে শিশুদেরকে জিজ্ঞেস করি কেমন আছো তোমরা?

আমি জানি ওরা ভালো নেই। মলিন চেহারাগুলো স্কুলে আসার আনন্দে ঝকমক করলেও দারিদ্রক্লিষ্ট মুখ স্পষ্ট বোঝা যায়। গায়ের জামাগুলো মলিন। বই-খাতা গুলো মলিন। স্বপন হাতে ধরা ক্যামেরার সাহায্যে সেই ক্লিষ্ট মুখগুলোর ভিডিও ধারণ করছে। এই বাচ্চারা এই পাঁচ মাসে 'অ-আ, ক-খ, এবিসিডি, ১২৩৪, ওয়ান-টু-থ্রি লিখতে শিখেছে। শিশুরা একটি স্বপ্নের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

ওরা আমার কাছে অভিযোগ করে ওদের অনেকে বই পায়নি। কেন পায়নি? কারণ আমি যোগান দিতে পারিনি। স্কুলটি যখন শুরু করেছি তখন তেমন কিছু ভেবে শুরু করিনি। আমি এবং মাহবুব সাহেব নিজেদের বেতন-বোনাস থেকে কাঁট-ছাট করে শুরু করে দিয়েছিলাম। নভেম্বর থেকে স্কুলটি যাত্রা শুরু করেছে। প্রায় ৫ মাস চলছে। স্কুলের শিক্ষকের ৪ মাসের বেতন বকেয়া। নিজের সীমিত আয়ের দ্বারা এই ভার বহন করা যাচ্ছে না।

স্কুলের তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থী এখন ৬০ জন। এর বাইরে ২০/৩০ জন মাঝে মাঝে আসে। তাই ওদের তালিকায় তোলা হয়নি। সবাই যখন একযোগে স্কুলে চলে আসে জায়গা হয় না। কিন্তু শিশুদের স্বপ্নটি এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। ৬০টি শিশু ৬০টি স্বপ্ন দেখছে। ওদেরকে আমি বড় হয়ে কে কি হবে তা জিজ্ঞেস করিনি। আমি জানি যা উত্তর আসবে এর অধিকাংশই সত্যে পরিণত হবে না। স্কুলটিকে কেন্দ্র করে শতাধিক শিশুর স্বপ্ন ওদের কাছেই থাকুক। আমি ওদেরকে বলেছি বই কিনে দেবো, শ্লেট কেনে দেবো, স্কুল ড্রেস কিনে দেবো। কিন্তু আমি তা কোথা থেকে দেবো?

অনেকেই আশ্বাস দিয়েছিলেন স্কুলটিকে সহায়তা দেবেন। প্রাথমিক অবস্থায় যে সত্যিই দিয়েছেন তা অস্বীকার করার জো নেই। কারণ স্থানীয় সহায়তা না পেলে এপর্যন্ত আসা যেতো না। কালে কালে বাচ্চাদের স্বপ্ন বড় হয়েছে আর সবাই পিঠটান দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমি এই স্বপ্নটিকে আঁকড়ে ধরে আছি। মজু চৌধুরীহাট জেলেপাড়ার জন্য স্থাপিত মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের শিশুদের স্বপ্নকে আরও অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবো।

আসুন না, সবাই মিলে লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনাপাড়ের অবহেলিত জনগোষ্ঠী জেলে শিশুদের স্বপ্নের স্কুল মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের উদ্দেশে হাত বাড়াই।

আপডেট সংবাদ : আজ ১৪ মার্চ ২০০৯, শনিবার লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজে মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের নবম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), লক্ষ্মীপুর শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-
জনাব ফারুক আহাম্মদ, প্রভাষক, বাংলা
জনাব সাইফুল ইসলাম স্বপন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
জনাব মাহমুদ রিয়াজ, পল্লী চিকিৎসক।
জনাব জহিরুল আলম পাটওয়ারী কিশোর, বি.এস.এস ১ম বর্ষ শিক্ষার্থী।

সভায় আলোচনায় স্কুলের এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ৫ হাজার টাকা সংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়। ভবিষ্যতে স্কুলটিকে স্থায়ীভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থায়ী কোন স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী স্কুলের জমির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন বলে আশ্বাস দেন। (কিন্তু ৫ হাজার টাকা সংস্থানের ব্যাপারে তেমন আশ্বাস পেলাম না।)

প্রাথমিক একটি গঠনতন্ত্র সবাইকে সরবরাহ করা হয়। পরবর্তী মিটিংয়ে গঠনতন্ত্রের চুড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ব্লগার বন্ধুদের মধ্যে যদি কেউ মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের একমাত্র শিক্ষিকার বেতন বাবদ চার হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করতে ইচ্ছুক থাকেন, তবে স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠাতে পারেন-

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
সঞ্চয়ী হিসাব নং-০০১-৭২৩২
সোনালী ব্যাংক, সদর, লক্ষ্মীপুর।

শিক্ষার্থীদের বই, স্কুল ড্রেস ইত্যাদি বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। ব্লগার বন্ধুদের মধ্যে কেউ এই সহায়তাটুকু নিয়েও এগিয়ে আসতে পারে। কিংবা প্রথম শ্রেণীর পাঠ্য বই, শ্লেট, খাতা ইত্যাদি সরবরাহ করার মাধ্যমেও সহায়তা করা যেতে পারে।

আজকে যে ভিডিও করা হয়েছে তা নিয়ে পরে আরেকটি পোস্ট দেবো।
৫৪ টি মন্তব্য
sharmabangla সজল শর্মা১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৩৩
এসব কাজে এগিয়ে আসব- আমার অনেক দিনের সাধ। কিন্তু কি করব বলুন সাধ্য এখনও হয়নি। তা না হলে আমি একাই আপনাদের প্রয়োজন মেটাতাম। প্রথম আলো ব্লগ আছে যখন আরও দেখা হবে। হয়তো একদিন নিশ্চই সাহায্য করতে পারব- সেই সময়ের প্রতীক্ষায় আমি দিন গুনে যাচ্ছি।
azman আজমান আন্দালিব১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৩৮
সজল শর্মা, অসংখ্য ধন্যবাদ। নিশ্চয়ই আপনার সাথে দেখা হবে।
sharmabangla সজল শর্মা১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৩৭
ব্লগে অনেকেই আছেন যারা উচ্চ পদে কর্মরত। তাদের কাছে অনুরোধ- ৬০ টি সুবিধা বঞ্চিত শিশুর স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করুন।

মডারেটরকে অনুরোধ- অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি স্টিকি করুন অথবা নির্বাচিত পোস্টে রাখুন।
azman আজমান আন্দালিব১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৪০
মডারেটরকে পোস্টটি স্টিকি করার অনুরোধ জানানোয় ধন্যবাদ। মডারেটর মাহবুব মোর্শেদ ভাই শুনতে পাচ্ছেন কি...
godhulirsurjo গোধুলীর সুর্য১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৩৭
ভাষাহীন, কারন আমি নিরুপায়,,,,,,,,,, দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নাই আমার
azman আজমান আন্দালিব১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৪২
আপনার দোয়াই যথেষ্ঠ।
sadid_hasan না বলা কথা১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৩৮
ভালো উদ্যোগ।
azman আজমান আন্দালিব১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৪৩
ধন্যবাদ সাদিদ হাসান, উদ্যোগের সাথে থাকবেন আশা করি।
azman আজমান আন্দালিব১৪ মার্চ ২০০৯, ১১:৫৬
আমি বুঝতে পারছিনা আমার ব্লগে কি হচ্ছে। আমার ব্লগের যত কমেন্ট বিভাগে দেখি মুসলীমা, আনন্দময়ী এবং সাদিদ হাসানের চমৎকার সব মন্তব্য। এগুলো কি করে মিসিং হলো ভেবে কপি করে এখানে দিলাম..




শিরোনাম: আসুন, একটি স্বপ্নের সাথে যুক্ত হই...
আনন্দময়ী বলেছেন :

--------------------------------------------------------------------------------

এই পোস্টটা স্টিকি করা উচিত। অন্তত আমরা বলতে পারি আমরা চেষ্টা করেছি। মডারেটরের কাছে অনুরোধ করছি।
এই পোস্টটা স্টিকি করা উচিত। অন্তত আমরা বলতে পারি আমরা চেষ্টা করেছি। মডারেটরের কাছে অনুরোধ করছি।


--------------------------------------------------------------------------------




শিরোনাম: আসুন, একটি স্বপ্নের সাথে যুক্ত হই...
সাদিদ হাসান বলেছেন :

--------------------------------------------------------------------------------

এমন উদ্যোগের সাথে থাকা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন।
এমন উদ্যোগের সাথে থাকা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন।


--------------------------------------------------------------------------------




শিরোনাম: আসুন, একটি স্বপ্নের সাথে যুক্ত হই...
আনন্দময়ী বলেছেন :

--------------------------------------------------------------------------------

চমৎকার একটি উদ্যোগ। আপনাদের এই উদ্যোগ সফল হোক। এর বেশি বলার কিছু নেই। কারন এটা আসলেই অসাধারন একটি কাজ হয়েছে। আমার আশা এই প্রচেষ্টাটি থেমে যাবে না, বরং এগিয়ে যাবে।

একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে চাই। শিশুদের জন্য ব্যয় এককালীন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষিকার বেতন তো নিয়মিত, সেটার জন্য ফান্ড জেনারেট করার কি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে? সব সময় তো সেটা অনুদানের টাকায় চলবে না। এই বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি?

ধন্যবাদ।
চমৎকার একটি উদ্যোগ। আপনাদের এই উদ্যোগ সফল হোক। এর বেশি বলার কিছু নেই। কারন এটা আসলেই অসাধারন একটি কাজ হয়েছে। আমার আশা এই প্রচেষ্টাটি থেমে যাবে না, বরং এগিয়ে যাবে।

একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে চাই। শিশুদের জন্য ব্যয় এককালীন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষিকার বেতন তো নিয়মিত, সেটার জন্য ফান্ড জেনারেট করার কি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে? সব সময় তো সেটা অনুদানের টাকায় চলবে না। এই বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি?

ধন্যবাদ।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ১২:০৮
আনন্দময়ী আপনার প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তরে বলছি- একজন শিক্ষিকা বতর্মানে পাঠদান করছে। আরও একজন হলে খুব ভালো হয়। মাসে একহাজার টাকা করে বেতন। অন্যান্য একহাজার ধরলে প্রতিমাসে সবর্মোট ৩০০০ টাকা ব্যয় হবে। একবছরে ৩৬,০০০/- টাকা।
আমরা ব্লগেই এই ফান্ড জেনারেটের বিষয়টি সারতে পারি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে।
তবে ভবিষ্যতে স্কুলটিকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম সেবা চালু করে স্কুলের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব। ধন্যবাদ আপনাকে।
rumohsin নীলাকাশ১৫ মার্চ ২০০৯, ০১:০২
খুউব ভাল উদ্যোগ।
কিন্তু এভাবে অনুদান সংগ্রহের মধ্যমে এটি কত দিন সচল রাখা যাবে তা এই মুহুর্তে বলা কঠিন।
তাই দেশি-বিদেশী নানা ধরনের যোনার ওজোন্সি আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
rumohsin নীলাকাশ১৫ মার্চ ২০০৯, ০১:০৪
খুউব ভাল উদ্যোগ।
কিন্তু কষ্টকর হলেও বাস্তবতা এই যে, এভাবে অনুদান সংগ্রহের মধ্যমে এটি কত দিন সচল রাখা যাবে তা এই মুহুর্তে বলা কঠিন।
তাই দেশি-বিদেশী নানা ধরনের ডোনার এজোন্সি আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০১:৪৬
কিছুদিন অনুদানের মাধ্যমে চালানো গেলে স্কুলটি নিজস্ব অর্থায়নের উৎস খুঁজে নিতে পারবে। মৎস শিল্প কিংবা ট্যুরিজম সেবাকে কেন্দ্র করে স্কুলটি স্বাবলম্বী হতে পারে। এ সম্ভবনা আছে মেঘনাপাড়ের এ জায়গাটুকুতে।
mateors বিল রাসেল১৫ মার্চ ২০০৯, ০৭:৪০
ভাল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা কম। মডারেটর সাহেব এটা ষ্টিকি করলে কি সমস্যা? স্টিকি করার মাধ্যমে আপনি আপনার সাহায্যের হাত প্রসারিত করুন। আমি শুরু থেকেই এর সাথে জড়িত, বাহবা পাবার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, সত্যি কারের আন্দ যে কি তা স্কুলে একবার গেলে সবাই বুঝতে পারবেন। আমার অনুরোধ আপনার সবাই এই মহান প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হবেন।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৩০
রাসেলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। শুধু রাসেলকে কেন, ধন্যবাদ আসলে সকলেরই পাওনা। তবে সজল শর্মা, নাসরিন জুবাএর, আনন্দময়ীকে লক্ষ্মীপুরের জেলে শিশুদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। কেননা এই তিনজন পোস্টটিকে স্টিকি করার অনুরোধ জানিয়ে অন্তত ব্লগার বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে।
রাসেল মডারেটরকে একটু দাবি নিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে পোস্টটি স্টিকি করার জন্য। রাসেল আমার সাথে কাজ করছে অনেকদিন। তাই ওর দাবিটা ভিন্নরকম। ওর চোখেও অবারিত স্বপ্ন। ঠিক ব্লগের আর দশজন বন্ধুর মতো।

এই পোস্টটি স্টিকি করলে আমরা সবাই একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কথা জানবো। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা একটি স্কুল পরিচালনায় যুক্ত হবো।
তথ্যপ্রযুক্তিকে সাধারণ জীবনমানে নামিয়ে না আনতে পারলে আমরা ক্রমশ: পিছিয়ে পড়বো।

তথ্যপ্রযুক্তির সাথে যারা যুক্ত আছেন, তারা সবাই মিলে একটি স্বপ্নের স্কুল পরিচালনায় এগিয়ে আসতে পারি। পোস্টটি স্টিকি করলে অন্তত এইটুকু লাভ হবে যে মেঘনাপাড়ের জেলে শিশুরা একটি তথ্যশক্তির সাথে যুক্ত থেকে বিশ্বকে নতুন করে চিনবে।
anandomoye আনন্দময়ী১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:০৪
এই পোস্টটা স্টিকি করা উচিত। অন্তত আমরা বলতে পারি আমরা চেষ্টা করেছি। মডারেটরের কাছে অনুরোধ করছি।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৭:৪৫
অসংখ্য ধন্যবাদ আনন্দময়ী। আপনারা সবাই মিলে এগিয়ে আসলে আমি সাহস পাবো।
tayub আবু তৈয়ব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৩২
এই পোষ্টটা মিস হয়ে গেছিল।
মহান এই উদ্দ্যেগ সফল হোক।
tayub আবু তৈয়ব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৩৫
আমারও খুব ইচ্ছা আছে এই ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার।
তবে সাধ্য সীমিত।
দেখা যাক কী করতে পারি।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৫৫
এধরনের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছাকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আমি আপনাকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
anandomoye আনন্দময়ী১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৩৭
পোস্টটা কেন স্টিকি হয়না ? এধরনের উদ্যোগকে প্রোমোট করা উচিত।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৮:৫৯
ধন্যবাদ আনন্দময়ী। আমি আশাবাদী মডারেটর পোস্টটি স্টিকি করার ব্যবস্থা নেবেন।
nasrinjubaer নাসরীন জুবায়ের১৫ মার্চ ২০০৯, ০৯:০৭
ধন্যবাদ আপনাকে। কেমন আছেন আপনি? আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চাই আমার ই-মেইল আইডি দিলাম আপনার ফোন নাম
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৭:৫৫
আমি ভালো আছি। আপনার পিচ্চি বাবু কেমন আছে?
আপনার মেইলে আমার নাম এবং মোবাইল নাম্বার দিলাম।
dukkho দুঃখ১৫ মার্চ ২০০৯, ০৯:৩৫
প্রথম শ্রেণীর পাঠ্য বই, শ্লেট, খাতা ইত্যাদি সরবরাহ করতে কি পরিমান ব্যয় হবে?
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৯:৫৭
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনে বর্তমানে তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থী ৬০ জন। প্রত্যেকের মাথাপিছু ২০০ টাকা (বই, শ্লেট, খাতা বাবদ)ব্যয় ধরলে ১২,০০০/- টাকা।
dukkho দুঃখ১৫ মার্চ ২০০৯, ১০:১৯
এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ৫ হাজার টাকা সংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়। ভবিষ্যতে স্কুলটিকে স্থায়ীভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থায়ী কোন স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী স্কুলের জমির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন বলে আশ্বাস দেন। (কিন্তু ৫ হাজার টাকা সংস্থানের ব্যাপারে তেমন আশ্বাস পেলাম না।)
----------------------------------------------------------------------------------------
আমি ইনশাল্লাহ পাঠিয়ে দিব পুরোটাই। আমি অনাথ শিশুদের কে নিয়ে কিছু একটা করব, কিন্তু তা আরো পরে। আমার বাবা-মায়ের আত্মার মাগফিরাতের জন্য টাকাটা উৎস্বর্গ করলাম।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ১১:৫১
দু:খকে বলছি। টাকা পাঠালে সম্ভাব্য সমস্ত তথ্য ব্লগে জানিয়ে দেবেন।
আপনার বাবা-মায়ের আত্মা চির শান্তিতে থাকুক- এই কামনা আমার এবং মেঘনাপাড়ের জেলে শিশুদের।
azman আজমান আন্দালিব১৬ মার্চ ২০০৯, ০৪:৩৯
দু:খ, আপনার মানিগ্রামের মাধ্যমে স্কুলের জন্য পাঠানো ৫০০০/- টাকা সহ পুরো টাকা বিল রাসেল গ্রহণ করেছে এবং মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের ফান্ডে জমা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরবর্তীতে ও আপনাকে মেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
anandomoye আনন্দময়ী১৬ মার্চ ২০০৯, ০৯:১৫
দুঃখ আপনাকে অশেষ শ্রদ্ধা আপনার এই চিন্তার জন্য আর সাহায্যের জন্য।আল্লাহ আপনার পিতা-মাতার আত্মাকে মাগফেরাত দান করুন। আমীন।
sujanpranto12 সুজন১৫ মার্চ ২০০৯, ০৯:৫২
যারা এরকম স্বপ্নের সাথে যুক্ত হয়ে এরকম কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে তাদের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও সালাম। সফল হোক আপনাদের কার্যক্রম। এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেব আমরা।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ০৯:৫৯
আপনাদের প্রেরণা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগাবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
joloj জলজ১৫ মার্চ ২০০৯, ১২:১৫
সহমত।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ১২:১৯
ধন্যবাদ...
afsanaprodhan আফসানা সজল১৫ মার্চ ২০০৯, ১২:৪৩
হয়তো একদিন নিশ্চই সাহায্য করতে পারব- সেই সময়ের প্রতীক্ষায় আমি ও দিন গুনে যাচ্ছি।
সজল ভাই এর সাথে একমত।
azman আজমান আন্দালিব১৫ মার্চ ২০০৯, ১২:৫০
আমিও আপনাদের সাথে সেই সময়ের প্রতীক্ষায় রইলাম।
imon ই-মন১৬ মার্চ ২০০৯, ০১:০৭
প্রার্থণা করি আপনার এই সুন্দর উদ্যোগটি সফল হোক। চালিয়ে যান। যদি সামর্থে কুলায় অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করব।
imon ই-মন১৬ মার্চ ২০০৯, ০১:০৮
প্রার্থণা করি আপনার এই সুন্দর উদ্যোগটি সফল হোক। চালিয়ে যান। যদি সামর্থে কুলায় কিছু দেয়ার তাহলে অবশ্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করব।
azman আজমান আন্দালিব১৬ মার্চ ২০০৯, ০৪:১৮
ইমন, ভবিষ্যতে আপনার যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আমাকে উদ্দীপনা যোগাবে। আপনার সাথে অবশ্যই যোগাযোগ ঘটবে- এই আশায় রইলাম...
salehee সুমন সালেহী১৬ মার্চ ২০০৯, ১২:০২
যাদের দেয়ার ইচ্ছা আছে তাদের সাধ্য নাই আর যাদের সাধ্য আছে তাদের বেশিরভাগের দেয়ার ইচ্ছা নাই। আপনার উদ্যেগ সফল হোক এই কামনাই করি।
azman আজমান আন্দালিব১৬ মার্চ ২০০৯, ১২:১২
আপনি একটি চমৎকার এবং বাস্তবানুগ কথা বলেছেন। তবে আপনাদের সমর্থন পেলে আমরা সাহস এবং শক্তি পাবো।
capitanof7sea সোহায়লা রিদওয়ান১৭ মার্চ ২০০৯, ০১:৫৮
লক্ষীপুর গেলে স্কুলে কাজ করবো, কোন সন্দেহ নাই। ইনশাল্লাহ। যাওয়ার আগে জানাবো ,আর কি কি স্টাফস লাগবে, না লাগবে জেনে নিতে হবে আমাকে।

যাস্ট পরীক্ষাটা শেষ হোক।
azman আজমান আন্দালিব১৭ মার্চ ২০০৯, ০২:০৭
আপনার পরীক্ষা কবে শেষ হচ্ছে? লক্ষ্মীপুর কখন (সম্ভাব্য) যাচ্ছেন? আমরা আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) বাংলা নববর্ষ মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের শিশুদের সাথে উদযাপন করার পরিকল্পনা করছি। যাবেন নিশ্চয়ই...
capitanof7sea সোহায়লা রিদওয়ান১৭ মার্চ ২০০৯, ০২:২১
আমার যাওয়া হয়না অনেকদিন। (যদিও দাদা বাড়ি ...... কেউ থাকেনা যে)। কিন্তু এখন চিন্তা করেছি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু কাজ (ভল্যান্টারী ওয়ার্ক) করার। পরীক্ষা শেষ হতে হতে জুন। গ্র্যাড ফাইনালতো ....মেঘনা পারে গিয়েছি আমি , সেটা বার-তের বছর আগে। কিন্তু নদীর ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো মানুষদের দেখেছি, কিভাবে রাস্তার দুই পাশে ঘর বানিয়ে থাকে তারা। খুব স্পষ্ট সেটা মনে আছে। শিশুদের কথাও মনে আছে, তারা দল বেধে থাকে, নতুন কাউকে দেখলেই তার পেছনে পেছনে ঘুরতে থাকে। আমার সাথেও ছিল। সে সময় আনন্দ পেয়েছিলাম ,কারণ বোধ খুব পরিণত ছিলনা আমার। তাদের নোংরা শরীর যেন আমার পোষাকে না লেগে যায়, সতর্ক দৃষ্টি ছিল। ছোট ছিলাম তো, মানবিক বোধ ছিলনা। এখন সেসব ভাবলে খুব কষ্ট পাই। খু্ব কষ্ট পাই! নিজের উপর রাগ ও হয়। ওই শিশুদের একজন তো আমিও হতে পারতাম। কতইবা পার্থক্য তাদের সাথে আমার ছিল ????
যাইহোক , অরিজিন লক্ষীপুর, সুতোরাং ...... আসছি। ইনশাল্লাহ।
azman আজমান আন্দালিব১৭ মার্চ ২০০৯, ০২:৪৭
আপনার মানবিক বোধ জেলে শিশুদের শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে- এই কামনা করি।
mateors বিল রাসেল১৭ মার্চ ২০০৯, ০২:২৫
অ, আ, ক, খ, ১,২,৩, A,B,C, দেখুন জেলে পাড়ার সেই শিশুগুলো কিভাবে শিখছে...
http://prothom-aloblog.com/users/base/mateors/61

সারসরি ভিডিও দেখতে চাইলে-
http://www.youtube.com/watch?v=qOKB72hvVy8
azman আজমান আন্দালিব১৭ মার্চ ২০০৯, ০২:৪৯
রাসেল, নির্বাচিত পোস্টে আমার যে লেখাটা আছে সেখানে ভিডিওটা যোগ করে দাও...
sharifmoskat মেসকাত শরীফ২০ মার্চ ২০০৯, ১২:১৫
মহান এই উদ্দ্যেগ সফল হোক।
azman আজমান আন্দালিব২০ মার্চ ২০০৯, ০১:৩০
ধন্যবাদ। আপনাদের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।
prothom প্রথম২০ মার্চ ২০০৯, ১২:৫১
আপনাদের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও সালাম। সফল হোক আপনাদের কার্যক্রম।
azman আজমান আন্দালিব২০ মার্চ ২০০৯, ০১:৩১
আপনাকেও ধন্যবাদ। পাশে পাবো তো?
computer নির্বাসিত নিশাচর২৪ মার্চ ২০০৯, ০৭:২০
এই শুভ ও মহ্ৎ উদ্যোগের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন।........
স্বুলে যাওয়ার ঠিকানাটা জানতে চাইছি...... কারন আমি লক্ষীপুরে কখনও যাইনি.......
mateors বিল রাসেল২৪ মার্চ ২০০৯, ০৮:৪৯
আমরা আগামী মাসের ১৭ তারিখ একটা প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি.আপনি চলুন আমাদের সাথে, আমরা সবাই লক্ষীপুর যাচ্ছি।
http://prothom-aloblog.com/users/base/azman/33
computer নির্বাসিত নিশাচর২৫ মার্চ ২০০৯, ০১:৩৯
রাসেল ভাই, কি প্রোগ্রাম ? অগ্রিম জানানো যাবে কি?

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment