পল গোয়েবলসের বিগ লাই থিওরী জানুন-, ৩৫ বছর ধরে লালন করা কয়েকটি মিথ্যা, ২০১০ সালের শুরু হোক সত্য ইতিহাস জানার মধ্য দিয়ে
হিটলারের প্রচারমন্ত্রী অসাধারণ বাগ্মী রাজনীতিবিদ পল গোয়েবলস তার জীবনের শেষের দিকে এসে রাশিয়া কর্তৃক জার্মান আক্রান্ত হওয়া দেখে এবং তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবি জেনে নিজে সস্ত্রীক আত্মত্যা করার আগে নিজের ছয় ছয়টি শিশু সন্তানকে মরফিন ইনজেকশন ও সায়ানাইড ক্যাপসুল খাইয়ে হত্যা করেছেন অমানবিক ও নিষ্ঠুর বর্বরতায়, সেটাও তার কুখ্যাতির আসল কারণ নয়। ইহুদী নিধনের হলোকাষ্ট কর্মসুচিও তার কুখ্যাতির আসল কারন নয়। তার কুখ্যাতির আসল কারন যেটা সেটা আমরা সবাই জানি । আর তা হল তিনি একজন সত্য হন্তারক। সত্যকে হত্যা করার "বিগ লাই থিওরী" বা প্রোপাগান্ডার থিওরি ---যার সারমর্ম হচ্ছে একটা মিথ্যাকে যদি বার বার ব্যাপক ভাবে, সরকারি সকল প্রশাসন যন্ত্রকে বা এক কথায় মিডিয়া উইং দিয়ে প্রচার করা হয় তখন সেটি সত্যের মত শুনায় এবং মানুষ আর আসল সত্যটা খুঁজে পায় না। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দেয়া অথবা সত্যের সাথে মিথ্যা কিংবা মিথ্যার সাথে সত্যকে মিশ্রিত করে ফেলে সত্যকে আর ‘সত্য’ না রাখা। সত্যকে বদলে ফেলা। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আবিস্কার(কু) খুব কমই আছে। হয়ত বিশ্বের রাজনীতিবিদগন তার উপর কৃতজ্ঞ থাকবেন যুগে যুগে। অনেকের ক্ষমতা আরোহন, ক্ষমতাচ্যুত বা ক্ষমতার দীর্ঘায়ন এই থিওরীকে কেন্দ্র করে রচিত। তো এই থিওরীটা বাংলাদেশে কতটা জনপ্রিয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদি ও তার থিওরীটা বেশ অনেক বছর নিরবে কাজ করে যেতে পারে কিন্তু সত্য ও তো কম বড় বদমাশ নয়!!! কিছু দিন পরে হলেও সে কবর থেকে উঠে আসে আর দাত বের করে হাসে। আর ইতিহাস বড় নির্মম, বড় একরোখা তাই এই থিওরী কিছুটা সময় কাজ করলেও এক সময় সেটা আর কাজ করে না ।
ইতিহাসের কথা যখন চলেই এসেছে তখন ইতিহাসের আরেকটা দিক ও একটু আলোক পাত করি---সেটা হল ইতিহাসের নিরপেক্ষতা নিয়ে। ইতিহাস সব সময় রচিত হয়, লালিত হয় জয় লাভ করা গোষ্টির দ্বারা। তাই সেখানে পরাজিত গোষ্টির চরিত্র সঠিক বিচার পায় না। হিটলার আদতেই একজন উগ্র জাতিয়তাবাদি ছিলেন সন্দেহ নেই, কিন্তু তার ইতিহাসতো রচনা করেছে জয়ী ইংরেজ!!! আর ইংরেজরা তার ভাল দিক যে একটুও রাখবে না এবং ঘটনার ভিন্ন রঙ দিয়ে নিজেদের দিকে আনবে না এমন কোন গ্যারান্টি কি আছে? যেমন ধরুনই বাংলার মুকুট হীন সম্রাট শেখ মুজিব শহীদ হওয়ার পর যাদের হাতে মিডিয়া উইং ছিল তারাতো চাইবেই যে শেখ মুজিবের অপবাদ। কারন এই ক্যারিশমাটিক ব্যাক্তিটির জনপ্রিয়তায় ধস না নামানো পর্যন্ত যে বাংলার মসনদ কখনোই মীর জাফরদের অনুকুলে থাকবে না ,তা তারা ভাল করেই জানে। তাই উল্লাসে আসে নানাবিধ অপপ্রচার।
যা হোক যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করব বলে আসছিলাম, তার একটি একটি বলতে শুরু করি।
শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর কিডনাপ প্রসংগ
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে -----শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে---আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখে। স্বয়ং ডালিমের নিজের ওয়েভ সাইট
ঘেটে তার লেখা যত বই "যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি " কিছু কথা কিছু ব্যাথা"ঘেটে যার কোন ইশারা ও পাওয়া যায় না তাই বিরুধী পক্ষ এতদিন খেতে দিলেন আমাদের? ইতিহাসের ভুল পাঠ? পাওয়া যায় মেজর ডালিমের বইয়ে- নিজেই উল্লেখ করেছেন তাদের কিডনাপের সবিস্তার যদিও তিনি দিয়েছেন তারমত করেই কিছুটা নিজের রঙে । তার মুখ থেকেই শুনি ।
" রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। আমার খালাতো বোন তাহ্মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই।
-------আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।
-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।--------
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।
আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম।
---------------
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। ----------
গাজী -মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে?"
আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।"
আরো উঠে আসে তার লেখায় শেখ কামালের সহজ সরল অভিব্যক্তি--
"একরাতে হঠাৎ করে শেখ কামাল, সাহান এবং তারেক এসে উপস্থিত আমার কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসায়।
কি ব্যাপার কামাল। তোমরা এত রাতে এখানে ? প্রশ্ন করলাম।
-বস সরি! কিন্তু উপায় নাই। রাতটা আপনার বাসায় নিরাপদে কাটাবো বলেই এলাম। সকালে এসেছি পার্টির কাজে। সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম শহরে।-----
সবার মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে কারোই খাওয়া হয়নি, এসো খেয়ে নাও; তারপর কথা বলার জন্য সারারাত পড়ে আছে।
-নিম্মী You are really great বলল কামাল। সবাই হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেল। এরা তিনজনেই বিশেষভাবে পরিচিত এবং আপনজন। খাওয়ার মাঝেই সাহান বলে উঠল,
-ডালিম ভাই কামাল বিয়ে করছে।
-তাই নাকি! তা হঠাৎ করে বিয়ে কি বিষয়?
-না মানে, সবাই ধরছে; না করে আর উপায় কি বস ? রাজি হতেই হল।
-এত খুবই সুখবর। তা তোমার স্কলারশীপের কি হল? সস্ত্রীক যাচ্ছ নাকি? জানতে চাইলাম আমি।
-যাওন যাইবো না বস। পড়ালেখা করার সময় নাই। এরপর কামাল র্শাটের কলারের একপ্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে নাড়িয়ে বেশ একটু গর্বের সাথেই বলল,
- Future Prime Minister বুঝতেইতো পারেন কত কাম। একদম সময় নাই।
-সেটাতো বুঝতেই পারছি; কিন্তু There is no short cut to knowledge. মাত্রতো ২-৪ বছরের ব্যাপার ছিল। লেখাপড়াটা সেরে আসলে ভবিষ্যতে একজন Educated Prime Minister পেতাম। This is my only interest nothing else. তাই বলা আর কি। তাছাড়া আগামী দু’চার বছরেতো চাচা রিটায়ার করছেন না; সেক্ষেত্রে স্কলারশীপটা avail করলেই পারতে।------ খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা আলাপ করে সবাই শুয়ে পড়েছিলাম। পরদিন নাস্তার পর ওরা ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হয়ে গেল।
সংক্ষেপ করে দিলাম -- বিস্তারিত পাবেন নীড় সন্ধানীর এই পোষ্টে মন্তব্যের ঘরে এবং প্রজন্ম ফোরামের এই টপিকটাতে
আসা যাক ব্যাংক ডাকাতি
আসলে আমাদের তথ্য প্রমানের ও দরকার ছিল না, একটা সাধরন চিন্তাই যথেষ্ট ছিল। মিথ্যা বর্ননাকে একটু টোকা দিলেই সেখান থেকে অসরতা খসে পড়তে দেখা যায় । বলা হয় ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়েছেন আহত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের ছেলেরকি স্পটে গিয়ে ডাকাতি করা লাগে। যারা বলে তাদের কাছ থেকে একটু জানতে চাইবেনকোন ব্যাংকের ?জানতে চাইবেন সদ্য গত তারেক রাজকুমারের টাকার দরকার হলে তিনি কি অস্ত্রহাতে ব্যাংকে যাবেন? জানতে কি চেয়েছি সেই টাকা গেল কোথায়? ৫৪ সালে মন্ত্রীত্বের স্বাধ পাওয়া শেখ মুজিব ৩২ নম্বরের বাড়িটির কাজ শেষ করে যেতে পেরেছিলেন কিনা?বলতে পারেন মন্ত্রীর আর বেতন কত? হ্যাঁ সত্য এখানেই যে বেতনের বাইরে না হাটলে বাড়ির কাজ অসম্পুর্নই থাকে। নাকি সিরাজ শিকদারের ডাকাতিটা চালিয়ে দেবার পায়তারা চালিয়েছে শেখের ছেলের কাঁধে ---১৬ ই ডিসেম্বর সকালে বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ তাদের মিটিং থেকে প্রথম প্রচার করে "শেখ কামাল দলবল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি বিদ্ধ হয়"। যেটি ছিল পুলিশের সাথে নিছক একটা ভুল বুঝাবুঝি। জিয়াউর রহমান ও গিয়েছিলেন শেখ কামালকে দেখতে হসপিটালে। জিয়ার উত্তরসুরীরা কি কখনো শুনেছেন এই কথা জিয়ার মুখে? সাথে সাথে খবরটি বাতাসের চেয়ে বেশী বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ যে একটা আংশিক সত্যের সাথে মিথ্যা ঢুকিয়ে দিয়ে আসল সত্যের মৃত্যু ঘটানো। আসলেই তারা বৈজ্ঞানিক। বৈজ্ঞানিক বলেই এখন নৌকার ছাঁইয়ের নীচে। ভুল বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা জাসদের এই কবজ খানি পরবর্তীতে বিএনপি , জামাত ব্যবহার করে তাদের গলায়, যতনে বেঁধে রাখে বাম হাতে বছরের পর বছর। আর মোটা বুদ্ধির আওয়ামীনেতারা কেউ জেনে কেউ না জেনে চুপ করে ছিলেন। সে সময় সিরাজ শিকদার লুটপাট ব্যাংক ডাকাতি করে গরীবদের কাছে খাবার বিলি করছেন এই খবর ও তাদের দৈনিক গুলোতে ফলাও করে প্রচার পায়।
সিরাজ শিকদারকে নিয়ে লেখা কমরেড রোকন উদ্দিনের বই থেকে পাওয়া যায় "
'৭৩ সালকেই ধরা হয় সিরাজ সিকদারের স্বর্ণ সময়। গল্প ছড়িয়ে পড়ে সিরাজ ব্যাঙ্ক লুট করে অভাবী মানুষকে খাবার দিচ্ছেন। দখল করা হয় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও টাঙ্গাইলের পাথরাইল পুলিশ ফাড়ি। "
এই কথার আসল ঘটনা না জানার কারনে আওয়ামীলীগের নেতারা ও মাঝে মাঝে এই বিষয়ে চুপসে যান। বিব্রত হন। বলতে ও দেখেছি তাদের গোপনে। আসল ঘটনা জানতে এনাকে দেয়া লস এন্জেলেস প্রবাসী ,ঘটনার প্রতক্ষ্য দর্শী আবুল ফজল মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এর জবানবন্দি দেখুন।
বিস্তারিত পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন esnip থেকে---আমি রহমান পিয়ালের করা পিডিএফ ফাইল
সিরাজ সিকদার কোথায়?
বরিশাল, মাদারী পুরের কিছু অংশ, কুষ্টিয়া , চুয়াডাংগা,মেহের পুর, ঝিনাইদাহ, এবং রাজবাড়ী এলাকার সাধারন মানুষের কাছে মাওবাদী সর্বহারার লিডার সিরাজ সিকদার এবং তার দল সর্বহারা একটি মুর্তিমান আতংক ।তার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখলে এখানে পরিসর বেড়ে যাবে। অমি রহমান পিয়ালের গবেষনা পোষ্ট "ভুল বিপ্লবের বাঁশিওয়ালাতে" সব কিছু পাবেন
তো শুনে আসছিলাম শেখ মুজিব নাকি সিরাজ সিকদার মারা যাওয়ার পর দিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল " কোথায় এখন সিরাজ সিকদার।" সেদিনের সংসদ কার্যবিবরনী ঘেটে দেখা যাক---
আসলে কি বলেছিলেন "
১৯৭৪ সালে ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ গ্রেপ্তার হন সিরাজ শিকদার। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে।
২ জানুয়ারী সাভারে নিহত হন সিরাজ শিকদার। সরকারী ভাষ্য গাড়ি থেকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হন তিনি।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লবের (বাকশাল) বিশ্লেষণ করার এক পর্যায়ে (বক্তৃতার মাঝামাঝি) মুজিব বলেন : স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে। আপনারা কি ভেবেছেন ঘুষখোর কর্মকর্তাদের আমরা ধরবো না? যারা বিদেশীদের থেকে টাকা নেয় তাদের আমরা ধরবো না? মজুতদার, কালোবাজারী আর চোরাকারবারীদের ধরবো না? অবশ্যই ধরবো। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। তারা কিছুই হজম করতে পারবে না। ইনশাল্লাহ, পাপী একদিন ধরা পড়বেই...'
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিশৃংখলা কারী লুটে�রার জন্য বেশী মায়াকন্না করে যারা কমিউনিষ্ট বলতে মুখের থুতু ফেলান যারা তারা। এরশাদ সিকদার এখন কোথায়, বাংলা ভাই এখন কোথায়, ক্রস ফায়ারে নিহত পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির জয়নাল মাষ্টার এখন কোথায়? এই কথা যদি শুনি এখন কোন মুখ থেকে তাহলে কি আমার কানে বাজ পড়বে?
ওসমানীর না থাকা
আর সর্বশেষ ১৬ ই দিসেম্বরে ওসমানী কেন অনুপস্তিত ছিল তার ব্যাখ্যা উনি নিজেই দিয়েছেন। জেনেভা কনভেনশনে সাইনি না হওয়া, ৯২ হাজার সৈন্যের নিরাপত্তা, পাকিস্তানিদের অনিচ্ছা , সর্বপুরি প্রটোকল ঘটিত এবং ওসমানীর সিলেট অবস্তান । যদি ও সেখানে ওসমানীর ডেপুটি একে খন্দকার গিয়েছিল , মেজর হায়দার গিয়েছিল। ইদানিং এটা নিয়ে অতি উৎসাহী ভারতীয়রা এবং স্বাধীনতার ক্ষনটাকে কলংকিত করতে চাওয়া একটা মহলের অপতৎপরতা বেশ দৃষ্টি কটু লাগছে।
এর সমুচিৎ জবাব দিতে বিস্তারিত পড়তে পারেন মুক্তমনায়
নুরুজ্জামান মানিকের এই লিখায়http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=1952
আমার ও একটা পোষ্ট আছে কেন অরোরার কাছে
শেখ কামাল নিহত হয়েছেন, তার হত্যাকান্ডের ও বিচারের রায় হয়েছে। সে যদি অন্তত এই দুটি বিষয়ে নির্দোষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে তাকে মুক্তিদিন, রক্তস্নাত রাজনীতিতে আর না হয় নাই করলেন গোয়েবলেস এর মিথ্যা তত্ব এর ব্যবহার!!!
আর বর্তমানে শুরু করেছে জনপ্রিয় সাহিত্যিক লেখক জাফর ইকবাল কে নিয়ে। আরো অনেক মানুষই পড়বে প্রতিক্রিয়াশীলদের খপ্পরে। তাই যারা অসাম্প্রদায়িক চেতানার তারা সাবধান থাকবেন, চোখ খোলা রেখে।
(অমি রহমান পিয়াল, নুরুজ্জামান মানিক, আদিল মাহমুদ, নীড় সন্ধানী ,জিয়াউল হক, প্রজন্ম ফোরাম এবং বরাবরের মত উইকিকে কৃতজ্ঞতা।)
ইতিহাসের কথা যখন চলেই এসেছে তখন ইতিহাসের আরেকটা দিক ও একটু আলোক পাত করি---সেটা হল ইতিহাসের নিরপেক্ষতা নিয়ে। ইতিহাস সব সময় রচিত হয়, লালিত হয় জয় লাভ করা গোষ্টির দ্বারা। তাই সেখানে পরাজিত গোষ্টির চরিত্র সঠিক বিচার পায় না। হিটলার আদতেই একজন উগ্র জাতিয়তাবাদি ছিলেন সন্দেহ নেই, কিন্তু তার ইতিহাসতো রচনা করেছে জয়ী ইংরেজ!!! আর ইংরেজরা তার ভাল দিক যে একটুও রাখবে না এবং ঘটনার ভিন্ন রঙ দিয়ে নিজেদের দিকে আনবে না এমন কোন গ্যারান্টি কি আছে? যেমন ধরুনই বাংলার মুকুট হীন সম্রাট শেখ মুজিব শহীদ হওয়ার পর যাদের হাতে মিডিয়া উইং ছিল তারাতো চাইবেই যে শেখ মুজিবের অপবাদ। কারন এই ক্যারিশমাটিক ব্যাক্তিটির জনপ্রিয়তায় ধস না নামানো পর্যন্ত যে বাংলার মসনদ কখনোই মীর জাফরদের অনুকুলে থাকবে না ,তা তারা ভাল করেই জানে। তাই উল্লাসে আসে নানাবিধ অপপ্রচার।
যা হোক যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করব বলে আসছিলাম, তার একটি একটি বলতে শুরু করি।
শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর কিডনাপ প্রসংগ
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে -----শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে---আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখে। স্বয়ং ডালিমের নিজের ওয়েভ সাইট
ঘেটে তার লেখা যত বই "যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি " কিছু কথা কিছু ব্যাথা"ঘেটে যার কোন ইশারা ও পাওয়া যায় না তাই বিরুধী পক্ষ এতদিন খেতে দিলেন আমাদের? ইতিহাসের ভুল পাঠ? পাওয়া যায় মেজর ডালিমের বইয়ে- নিজেই উল্লেখ করেছেন তাদের কিডনাপের সবিস্তার যদিও তিনি দিয়েছেন তারমত করেই কিছুটা নিজের রঙে । তার মুখ থেকেই শুনি ।
" রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। আমার খালাতো বোন তাহ্মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই।
-------আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।
-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।--------
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।
আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম।
---------------
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। ----------
গাজী -মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে?"
আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।"
আরো উঠে আসে তার লেখায় শেখ কামালের সহজ সরল অভিব্যক্তি--
"একরাতে হঠাৎ করে শেখ কামাল, সাহান এবং তারেক এসে উপস্থিত আমার কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসায়।
কি ব্যাপার কামাল। তোমরা এত রাতে এখানে ? প্রশ্ন করলাম।
-বস সরি! কিন্তু উপায় নাই। রাতটা আপনার বাসায় নিরাপদে কাটাবো বলেই এলাম। সকালে এসেছি পার্টির কাজে। সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম শহরে।-----
সবার মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে কারোই খাওয়া হয়নি, এসো খেয়ে নাও; তারপর কথা বলার জন্য সারারাত পড়ে আছে।
-নিম্মী You are really great বলল কামাল। সবাই হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেল। এরা তিনজনেই বিশেষভাবে পরিচিত এবং আপনজন। খাওয়ার মাঝেই সাহান বলে উঠল,
-ডালিম ভাই কামাল বিয়ে করছে।
-তাই নাকি! তা হঠাৎ করে বিয়ে কি বিষয়?
-না মানে, সবাই ধরছে; না করে আর উপায় কি বস ? রাজি হতেই হল।
-এত খুবই সুখবর। তা তোমার স্কলারশীপের কি হল? সস্ত্রীক যাচ্ছ নাকি? জানতে চাইলাম আমি।
-যাওন যাইবো না বস। পড়ালেখা করার সময় নাই। এরপর কামাল র্শাটের কলারের একপ্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে নাড়িয়ে বেশ একটু গর্বের সাথেই বলল,
- Future Prime Minister বুঝতেইতো পারেন কত কাম। একদম সময় নাই।
-সেটাতো বুঝতেই পারছি; কিন্তু There is no short cut to knowledge. মাত্রতো ২-৪ বছরের ব্যাপার ছিল। লেখাপড়াটা সেরে আসলে ভবিষ্যতে একজন Educated Prime Minister পেতাম। This is my only interest nothing else. তাই বলা আর কি। তাছাড়া আগামী দু’চার বছরেতো চাচা রিটায়ার করছেন না; সেক্ষেত্রে স্কলারশীপটা avail করলেই পারতে।------ খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা আলাপ করে সবাই শুয়ে পড়েছিলাম। পরদিন নাস্তার পর ওরা ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হয়ে গেল।
সংক্ষেপ করে দিলাম -- বিস্তারিত পাবেন নীড় সন্ধানীর এই পোষ্টে মন্তব্যের ঘরে এবং প্রজন্ম ফোরামের এই টপিকটাতে
আসা যাক ব্যাংক ডাকাতি
আসলে আমাদের তথ্য প্রমানের ও দরকার ছিল না, একটা সাধরন চিন্তাই যথেষ্ট ছিল। মিথ্যা বর্ননাকে একটু টোকা দিলেই সেখান থেকে অসরতা খসে পড়তে দেখা যায় । বলা হয় ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়েছেন আহত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের ছেলেরকি স্পটে গিয়ে ডাকাতি করা লাগে। যারা বলে তাদের কাছ থেকে একটু জানতে চাইবেনকোন ব্যাংকের ?জানতে চাইবেন সদ্য গত তারেক রাজকুমারের টাকার দরকার হলে তিনি কি অস্ত্রহাতে ব্যাংকে যাবেন? জানতে কি চেয়েছি সেই টাকা গেল কোথায়? ৫৪ সালে মন্ত্রীত্বের স্বাধ পাওয়া শেখ মুজিব ৩২ নম্বরের বাড়িটির কাজ শেষ করে যেতে পেরেছিলেন কিনা?বলতে পারেন মন্ত্রীর আর বেতন কত? হ্যাঁ সত্য এখানেই যে বেতনের বাইরে না হাটলে বাড়ির কাজ অসম্পুর্নই থাকে। নাকি সিরাজ শিকদারের ডাকাতিটা চালিয়ে দেবার পায়তারা চালিয়েছে শেখের ছেলের কাঁধে ---১৬ ই ডিসেম্বর সকালে বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ তাদের মিটিং থেকে প্রথম প্রচার করে "শেখ কামাল দলবল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি বিদ্ধ হয়"। যেটি ছিল পুলিশের সাথে নিছক একটা ভুল বুঝাবুঝি। জিয়াউর রহমান ও গিয়েছিলেন শেখ কামালকে দেখতে হসপিটালে। জিয়ার উত্তরসুরীরা কি কখনো শুনেছেন এই কথা জিয়ার মুখে? সাথে সাথে খবরটি বাতাসের চেয়ে বেশী বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ যে একটা আংশিক সত্যের সাথে মিথ্যা ঢুকিয়ে দিয়ে আসল সত্যের মৃত্যু ঘটানো। আসলেই তারা বৈজ্ঞানিক। বৈজ্ঞানিক বলেই এখন নৌকার ছাঁইয়ের নীচে। ভুল বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা জাসদের এই কবজ খানি পরবর্তীতে বিএনপি , জামাত ব্যবহার করে তাদের গলায়, যতনে বেঁধে রাখে বাম হাতে বছরের পর বছর। আর মোটা বুদ্ধির আওয়ামীনেতারা কেউ জেনে কেউ না জেনে চুপ করে ছিলেন। সে সময় সিরাজ শিকদার লুটপাট ব্যাংক ডাকাতি করে গরীবদের কাছে খাবার বিলি করছেন এই খবর ও তাদের দৈনিক গুলোতে ফলাও করে প্রচার পায়।
সিরাজ শিকদারকে নিয়ে লেখা কমরেড রোকন উদ্দিনের বই থেকে পাওয়া যায় "
'৭৩ সালকেই ধরা হয় সিরাজ সিকদারের স্বর্ণ সময়। গল্প ছড়িয়ে পড়ে সিরাজ ব্যাঙ্ক লুট করে অভাবী মানুষকে খাবার দিচ্ছেন। দখল করা হয় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও টাঙ্গাইলের পাথরাইল পুলিশ ফাড়ি। "
এই কথার আসল ঘটনা না জানার কারনে আওয়ামীলীগের নেতারা ও মাঝে মাঝে এই বিষয়ে চুপসে যান। বিব্রত হন। বলতে ও দেখেছি তাদের গোপনে। আসল ঘটনা জানতে এনাকে দেয়া লস এন্জেলেস প্রবাসী ,ঘটনার প্রতক্ষ্য দর্শী আবুল ফজল মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এর জবানবন্দি দেখুন।
বিস্তারিত পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন esnip থেকে---আমি রহমান পিয়ালের করা পিডিএফ ফাইল
সিরাজ সিকদার কোথায়?
বরিশাল, মাদারী পুরের কিছু অংশ, কুষ্টিয়া , চুয়াডাংগা,মেহের পুর, ঝিনাইদাহ, এবং রাজবাড়ী এলাকার সাধারন মানুষের কাছে মাওবাদী সর্বহারার লিডার সিরাজ সিকদার এবং তার দল সর্বহারা একটি মুর্তিমান আতংক ।তার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখলে এখানে পরিসর বেড়ে যাবে। অমি রহমান পিয়ালের গবেষনা পোষ্ট "ভুল বিপ্লবের বাঁশিওয়ালাতে" সব কিছু পাবেন
তো শুনে আসছিলাম শেখ মুজিব নাকি সিরাজ সিকদার মারা যাওয়ার পর দিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল " কোথায় এখন সিরাজ সিকদার।" সেদিনের সংসদ কার্যবিবরনী ঘেটে দেখা যাক---
আসলে কি বলেছিলেন "
১৯৭৪ সালে ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ গ্রেপ্তার হন সিরাজ শিকদার। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে।
২ জানুয়ারী সাভারে নিহত হন সিরাজ শিকদার। সরকারী ভাষ্য গাড়ি থেকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হন তিনি।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লবের (বাকশাল) বিশ্লেষণ করার এক পর্যায়ে (বক্তৃতার মাঝামাঝি) মুজিব বলেন : স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে। আপনারা কি ভেবেছেন ঘুষখোর কর্মকর্তাদের আমরা ধরবো না? যারা বিদেশীদের থেকে টাকা নেয় তাদের আমরা ধরবো না? মজুতদার, কালোবাজারী আর চোরাকারবারীদের ধরবো না? অবশ্যই ধরবো। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। তারা কিছুই হজম করতে পারবে না। ইনশাল্লাহ, পাপী একদিন ধরা পড়বেই...'
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিশৃংখলা কারী লুটে�রার জন্য বেশী মায়াকন্না করে যারা কমিউনিষ্ট বলতে মুখের থুতু ফেলান যারা তারা। এরশাদ সিকদার এখন কোথায়, বাংলা ভাই এখন কোথায়, ক্রস ফায়ারে নিহত পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির জয়নাল মাষ্টার এখন কোথায়? এই কথা যদি শুনি এখন কোন মুখ থেকে তাহলে কি আমার কানে বাজ পড়বে?
ওসমানীর না থাকা
আর সর্বশেষ ১৬ ই দিসেম্বরে ওসমানী কেন অনুপস্তিত ছিল তার ব্যাখ্যা উনি নিজেই দিয়েছেন। জেনেভা কনভেনশনে সাইনি না হওয়া, ৯২ হাজার সৈন্যের নিরাপত্তা, পাকিস্তানিদের অনিচ্ছা , সর্বপুরি প্রটোকল ঘটিত এবং ওসমানীর সিলেট অবস্তান । যদি ও সেখানে ওসমানীর ডেপুটি একে খন্দকার গিয়েছিল , মেজর হায়দার গিয়েছিল। ইদানিং এটা নিয়ে অতি উৎসাহী ভারতীয়রা এবং স্বাধীনতার ক্ষনটাকে কলংকিত করতে চাওয়া একটা মহলের অপতৎপরতা বেশ দৃষ্টি কটু লাগছে।
এর সমুচিৎ জবাব দিতে বিস্তারিত পড়তে পারেন মুক্তমনায়
নুরুজ্জামান মানিকের এই লিখায়http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=1952
আমার ও একটা পোষ্ট আছে কেন অরোরার কাছে
শেখ কামাল নিহত হয়েছেন, তার হত্যাকান্ডের ও বিচারের রায় হয়েছে। সে যদি অন্তত এই দুটি বিষয়ে নির্দোষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে তাকে মুক্তিদিন, রক্তস্নাত রাজনীতিতে আর না হয় নাই করলেন গোয়েবলেস এর মিথ্যা তত্ব এর ব্যবহার!!!
আর বর্তমানে শুরু করেছে জনপ্রিয় সাহিত্যিক লেখক জাফর ইকবাল কে নিয়ে। আরো অনেক মানুষই পড়বে প্রতিক্রিয়াশীলদের খপ্পরে। তাই যারা অসাম্প্রদায়িক চেতানার তারা সাবধান থাকবেন, চোখ খোলা রেখে।
(অমি রহমান পিয়াল, নুরুজ্জামান মানিক, আদিল মাহমুদ, নীড় সন্ধানী ,জিয়াউল হক, প্রজন্ম ফোরাম এবং বরাবরের মত উইকিকে কৃতজ্ঞতা।)
লেখক আ,শ,ম,এরশাদ
- আ,শ,ম,এরশাদ -এর ব্লগ
- ১৪৮ টি মন্তব্য
- ১২ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৩৬
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ১৪৮ টি মন্তব্য
-
নীলসাধু১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:০৫
এই ইতিহাস ইতিহাস নয় আরো অনেক ইতিহাস রয়ে গেছে যা আমি আপনি পাশ কাটিয়ে যাই। কারন আপনি একদলের সমর্থক। আর আমি অন্য দলের।
সমস্যা সেখানে।
শুভেচছা আশমএরশাদ ভাই।
ভাল থাকুন। -
আরিফা দীপা১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:৫৬
আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনার গল্প আছে।
ডালিমের বৌ কিডন্যাপ এর গল্প আছে।
আছে ব্যাংক ডাকাতির গল্প।
ইতিহাস যদি ফেলে আসা সত্য হয় তবে এগুলোকে আমি গল্পই বলি।
অনেক তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। ভালো লেগেছে আপনার সত্য জানানোর চেষ্টা।
ধন্যবাদ আপনাকে। -
শামিম রহমান১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৩:৪৭
পড়েছি
কিন্তু আমি নিজে এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি জানি না।
তাই হ্যা-না কিছু বলতে পারব না।
ধন্যবাদ। জানানোর জন্য। -
সারওয়ার চৌধুরী১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:২০
ও মাই গড ! আপনি তো দারুন প্রিয় আশমএরশাদ! বাংলাদেশের ইতিহাস লেখকদের দেখে ইতিহাস হাসে এবাং কান্দে!
সময় নাই বেশি কথা বলবার। সবদেশেরই রাজনীতিতে গোয়েবলসরা আছে!
ভালো থাকুন -
সাইদুর রহমান চৌধুরী১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:১২
একটা অকপট সত্য কথা বলি?
আমাদের আমলা, আইনজীবি, শিক্ষক-গবেষক, বুদ্ধিজীবি - সবাই এত বেশি দলনির্ভর, দলকেন্দ্রিক বা দলতোষণকারী হয়ে গিয়েছে যে আজকাল তথ্য উপাত্ত থাকলেও মনের সন্দেহটা আর যেতে চায়না। কি এক হতভাগ্য জাতিতে পরিনত হলাম আমরা। -
সাইদুর রহমান চৌধুরী১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:০৮
একমত, দেশের বাইরে গেলে একটা নুতন জানালা খুলে যায় কিভাবে যেন
-
নিমফুল১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:২৬
এত দলাদলি যে কেন আমি এটা বুঝতে পারিনা......যেটা সত্য সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তুলনা চলে আসে সবকিছুতেই এটা কেন?
আপনি অনেক লিংক দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন বোঝাই যাচ্ছে।
পড়লাম পুরো লেখাটা, মাথা ভো ভো করছে....ধন্যবাদ আপনাকে।আবার হয়ত পড়ব ধীরে ধীরে
ভালো থাকুন, শুভকামনা থাকল
-
দখিনো হাওয়া১২ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৫৫
আলোচ্য উক্তিটির অর্থ এর চেয়ে ভালো ভাবে বলাএ ইচ্ছা নাই।
একটা হালকা ক্লু দেয়া যায়, ধরে নিন কলা=জাতির আব্বাহুজুর পরিবার।
-
দখিনো হাওয়া১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১২:১৭
আমার পোস্টে আপনি কি কমেন্ট করেছেন সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, আমি নিশ্চই গিভ এন্ড টেইক ফর্মূলা খাটাতে আসি নি।
আর এখানে আঘাত এর কথা কেন আসলো সেটাও পরিষ্কার নয়।
অনেককেই তো পোস্ট না বুঝে জ্ঞান গর্ভ কথা বা সেড পোস্টে খুব ভালো হয়েছে বলতে দেখা যায় আমার এই কমেন্টাকে সে রকমই কিছু একটা না হয়ে ভেবে নিন।
ধরে নিন, হাজিরা কমেন্ট। আর যদি একান্তই কমেন্ট টা বিশ্লেষন করে কিছু বের করতে পারে নতাহলে আপনাকে বিচক্ষন বলতেই হয়।
ভালো থাকুন।
-
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৫৫
এরশাদ ভাই, পোষ্টটির জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছি। যে পোষ্ট এবং লেখাগুলো রেফেরেন্স দিয়েছেন তা আগে পড়লেও সবগুলো একসাথে পেয়ে ভালো লাগছে। আশা করি লেখাটা পড়ে অনেকের ভুল ধারণা চলে যাবে। -
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:১২
৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিব নগর সরকার, বাকশাল, ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট, ৩-৭ ই নভেম্বর এরকম অনেক বিষয় নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে বা ভুল ব্যখ্যা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বিষয় নিয়ে আমি ইতিমধ্যেই লিখেছি, সামনে আরও লেখার ইচ্ছে আছে। তবে ইতিহাস বিকৃতির একটি লক্ষ্যণীয় দিক হচ্ছে এ বিকৃতিগুলো প্রধানত করা হয়েছে একটি বিশেষ দলকে হেয় করে অন্য একটি দলকে বড়ো করে দেখানোর জন্য। এখন ইতিহাসের বিকৃতিগুলো বিরুদ্ধে নির্মোহভাবে লিখলেও অনেক মনে করেন বিশেষ কোন একটি দলের দালালী করা হচ্ছে। -
কবিরনি১৪ জানুয়ারি ২০১০, ১২:০৪
খালেদ ভাই, আমি একদিন সাকা চৌধুরির রেফারেন্স এনেছিলাম শেখ হাসিনা'র বেয়াই এর ব্যাপারে তাই আপনি আহত হয়ে, প্রতিবাদী হয়ে একজন রাজাকারের রেফারেন্স আনতে মানা করেছিলেন সবাইকে। আজ যখন এরশাদ ভাই ডালিমের রেফারেন্স আনছে তখন আর আপনাকে আহত হতে দেখছি না, প্রতিবাদী হতে দেখছি না।
-
সাইদুর রহমান চৌধুরী১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:০৩
মাথা খালি ঘুরায়
এম্নে কঠিন লেখা, তার উপর ডজনে ডজনে লিংক
সময় করে পড়বো।
স্বস্ত্রীক - সস্ত্রীক -
সাইদুর রহমান চৌধুরী১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:১৬
আত্বহত্যা - আত্মহত্যা
সায়ানিড - সায়ানাইড
প্রতিষ্টাতা -প্রতিষ্ঠাতা
প্রোপাগন্ডার - প্রোপাগান্ডার -
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:১৭
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন “সেইসব জাতি ভাগ্যবান যারা সবসময় স্বদেশকে দেশের ইতিহাসের মাঁঝেই খুঁজে পাই”। সেদিক থেকে চিন্তা করলে জাতি হিসাবে আমাদের দূর্ভাগ্য এবং লজ্জ্বার বিষয় এ যে আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের স্বদেশকে দেশের ইতিহাসে খুঁজে পাই না। আমাদের দেশে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে দেশের ইতিহাসও পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রসাশনের দলীয়করণের সাথে সাথে ইতিহাসেরও দলীয়করণ চলে।
কিন্তু তারা ভুলে যান ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারো ধার ধারে না; কারো রক্তচক্ষুকে সে পরোয়া করে না – আবেগের ছিটেফোটা মূল্যও নেই তার কাছে। পর্যালোচনা করা, সমালোচনা করা, মুল্যায়ন করা ইতিহাসের কাজ না - ইতিহাসের কাজ হল ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। ইতিহাস সহস্র প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপন গতিতে তার কাজ করে চলে। তার গতির সামনে ইতিহাস বিকৃতিকারীদের জমানো জঞ্জাল খড়কুটার মতই ভেসে যায়।
বিকৃতির মাধ্যমে ইতিহাসের যজ্ঞানল জ্বালানো যায় না; জ্বালানো যায় নিজেদের খুব ছোট ছোট চিতানল। আর সেই সব ছোট ছোট চিতানলের আগুনে একটা জাতির ললাটে আঁকা হয় কলঙ্ক তিলক -যেমন আমাদের কপালে হয়েছে। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, “সত্য বর্জন করা সহজ; কিন্তু সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করা সহজ নয়”। কিছু তথাকথিত স্বার্থান্নেষি, মোসাহেব, পদলেহী(এর চেয়েও অনেক খারাপ কমপ্লিমেন্ট দেওয়া যায়, এর চেয়ে ভাল দেওয়া যায় না) বুদ্ধিজীবি, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতিবিদ সত্যকে বর্জন করে ইতিহাস বিকৃত করার সে সহজ কাজটা করেছেন। এখন তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করার কঠিন কর্মসাধনের। দায়টা যতটা না আমদের তারচেয়ে অনেকবেশি তাদের নিজদের। তা নাহলে যে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েও তাদের জায়গা হবে না। -
সুমিন শাওন১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:২৬
বস, আপনার দারুন পোষ্টের জন্য ব্যাপক প্রশংসা করছি,
কিন্তু এই সাত সকালেই 'পল গৌবলস'রে আপনার পোষ্টে দেইখা আমারতো
ভিমরী খাওয়ার মতো অবস্থা হইছিলো, পরে বুঝলাম আমাদের এরকম একজন দক্ষ গোয়েবলস ও নাই!
-
হাজারি১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৩১
আসলেই গোয়েবলস......।
পাপমুক্ত হলাম......
রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা এ শালা এখন কোথায়........ -
সামিয়া১৫ জানুয়ারি ২০১০, ১২:২৭
আপনার পোস্টটা অনেক আগে পড়া হয়েছে..কিন্তু কি মন্তব্য করবো চিন্তা করছিলাম..আসলে আমাদের বাসায়ও মাঝে মাঝে যখন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তখন আম্মুকে বলতে শুনেছি, শেখ কামালের নাকি ক্যারেক্টার ভাল ছিলনা..তবে আম্মু এটাও বলতো এগুলো শোনা কথা..আমরাতো সত্যি-মিথ্যা জানিনা..
আপনার এই পোস্টটা পড়ে এ ব্যাপারটায় অনেক কিছু জানলাম। -
রুদ্র-অক্ষর১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৩৯
এক দৌড়ে প্রিয়তে নিলাম ।
কিছু বলবো অতবড় কোন পাঠক হইনি আর কিছু জানাবো অত বড় বিজ্ঞতো নই-ই
খুব ভালো লাগে কিছু জানার রাস্তা করে দিলে আর তাই সীমাহীন কৃতজ্ঞতা জানাই ।
ভালো থাকবেন । -
আলরাহিম১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৪৭
অর্ধেক পড়েছি।
আসা যাক ব্যাংক ডাকাতি
এখান থেকে নিচে পরে পড়বো।
অনেক কিছু জানা হলো আজকে।
ধন্যবাদ আপনাকে
-
নীলসাধু১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৫০
এই ইতিহাস ইতিহাস নয় আরো অনেক ইতিহাস রয়ে গেছে যা আমি আপনি পাশ কাটিয়ে যাই। কারন আপনি একদলের সমর্থক। আর আমি অন্য দলের।
সমস্যা সেখানে।
-
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:১৯
পাশ কাটিয়ে যাওয়া ইতিহাসটাই একদিনে নিয়ে হাজির হবেন সে প্রত্যাশা। -
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:৩৯
জিয়াউর রহমান সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে গেছিলেন---এটা যেমন বিশ্বাষ করি নাই তেমনি এই গুলোও।
এটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আছে। অনেকগুলো রেফারেন্সে এ বিষয়টি উঠে এসেছে
স্বাধীনতার প্রথম প্রহর নিয়ে প্রফেসার মাজহারুল আনোয়ার একটি বিশদ গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁর গবেষণা পত্রেও বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রারম্ভিক মূহুর্তে জিয়াউর রহমানের একই ভুমিকার কথা উঠে এসেছে । সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাই, খানিকটা দীর্ঘ হলেও-
" ............ As per the statements of the witnesses present in the Kalurghat radio station (Belal Mohammad, Abul Kashem Swandeep, MA Hannan and AK Khan) and Zia's article "The Birth of a Nation" published in weekly Bichitra on 26 March 1974, we can come to the following conclusion: While Bangabandhu was formally declaring the liberation war against Pakistan, Zia with his troops was marching toward the Chittagong port from their base at Sholashahar to unload the weapons from the ship (Swat) and unloaded weapon all through the day (26 March) and returned to their base at Sholashahar just before the dusk on March 26. It should be mentioned here that the Pakistani authority first ordered colonel Chowdhury to unload the weapons from the ship. But colonel Chowdhury refused to carry out the order as he knew that the weapons were to be used to kill the Bengalis. For his refusal he was arrested and killed (in the night of 25 March) by his superior Pakistani officers. Zia did not have the moral scruples that Colonel Chowdhury had. So the Pakistani high command replaced Zia to carry out the dirty job colonel Chowdhury refused.
At 2300 hrs on March 26, Zia received another order from the Pakistani high command to go to Chittagong port for unloading more weapons the next day. Zia realized that it was nothing but his death sentence and he had no other choice than to revolt to escape execution. Thus convinced Zia, on his way to Chittagong, revolted and fled from Agrabad and reached Patia before midday on March 27”.
এবার আমরা একজন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের কথা শুনবো.১৯৭১এর ২৫মার্চে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের প্রথম সেনাবিদ্রোহের মহানায়ক মেজর রফিক । যাঁর পরবর্তীতে পরিচয় মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম । ২৫মার্চ রাত ৮ঃ৪০মিনিটে তিনি তাঁর অধীনস্থ ইপিআর এর বাঙালি সৈনিক ও জেসিও-দের নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেন এবং রাত ১১ঃ৩০মিনিটের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্ধ, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সহায়তায় সমস্ত চট্টগ্রাম শহর দখলে আনতে সক্ষম হন। তাঁর লিখিত মুক্তিযু্দ্ধভিত্তিক ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল “লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে” গ্রন্থেও আমরা ঠিক একই তথ্য পাই। জনাব মেজর ইসলাম তাঁর গ্রন্থের ভূমিকার ৭ম প্যারায় লিখেছেন –
‘আমরা ২৫ মার্চ রাত ৮ঃ৪০মিনিটে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার তিন ঘন্টা পরেও অবশ্য কিছু বাঙালি সামরিক অফিসার পাকিস্তানিদের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে কাজ করে চলেছিলেন একযোগে-এবং চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গরকৃত সমুদ্রগামী মালবাহী জাহাজ এম, ভি সোয়াত থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নামিয়ে আনার কাজ বিশ্বস্থতার সাথে পালন করে যাচ্ছিলেন। পাকিস্তানিরা পরে এই সব অস্ত্র ও গোলাবারুদই ব্যবহার করেছিল লক্ষ লক্ষ বাঙালি হত্যায়। তবে উলেখিত বাঙালি সামরিক অফিসারগন নিতান্তই সৌভাগ্যবান যে, কঠিন সংকটের ঠিক ক্রান্তিলগ্নে পাকিস্তানিরা তাঁদের হত্যা করতে পারে এ কথা চিন্তা করে তাঁরা আমাদের সাথে যোগ দেন। স্বতঃস্ফুর্ততা নয়, সার্বিক অবস্থা এবং স্বীয় নিরপত্তার বিবেচনাই তাঁদেরকে শেষ মূহুর্তে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করে।’
যদি কেউ এ রেফারেন্সের সত্যতা এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে সন্দেহপোষন করেন তাদের অবগতি জন্য বলতে চাই যে বই থেকে এ উদ্বৃতি দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমণ্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের “লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে” শীর্ষক সে বইটি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে সর্বজনস্বীকৃত এবং ১৯৮১ সালে জাতীয় সংসদে বইটি মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বস্ত দলিল হিসেবে বহুল আলোচিত। -
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:৪৬
'একটি জাতির জন্ম' লেখাটা আমার কাছে আছে এবং এটা আমি অনেকবার পড়েছি। -
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:৫৪
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক যে নিবন্ধটি মেজর জিয়া নিজে লিখেছিলেন সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' বলে সম্বোধন করেছেন। আর এখন বি এন পি তাঁকে 'জাতির জনক' বলতে অস্বীকার করে। -
নীলসাধু১২ জানুয়ারি ২০১০, ০২:৩৫
বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই দলীয় ইতিহাস।
এর থেকে কেউ বের হতে পারেনি।
আপনারাও না।
শুভেচ্ছা এরশাদ ভাই এবং খালেদ ভাই।
-
সাইফুজ্জামান খালেদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৫:১৯
উপরেই আমি কমেন্ট করেছিলাম,
"ইতিহাস বিকৃতির একটি লক্ষ্যণীয় দিক হচ্ছে এ বিকৃতিগুলো প্রধানত করা হয়েছে একটি বিশেষ দলকে হেয় করে অন্য একটি দলকে বড়ো করে দেখানোর জন্য। এখন ইতিহাসের বিকৃতিগুলো বিরুদ্ধে নির্মোহভাবে লিখলেও অনেক মনে করেন বিশেষ কোন একটি দলের দালালি করা হচ্ছে"।
শুধু এটুকু বলতে পারি ইতিহাসচর্চা করতে গিয়ে দলীয় সঙ্কীর্ণতার উর্ধে উঠার সৎসাহস আমার আছে। তাই এড়িয়ে না যেয়ে আপনার বক্তব্যটা বলুন। যদি নির্ভরযোগ্য হয় তাহলে মেনে নিতে আপত্তি নেই। ইতিহাস নিয়ে অনেক পড়তে হয়েছে, সব দলের দৃষ্টিউভঙ্গি থেকে ইতিহাসকে দেখার মানসিকতার সাথেও পরিচয় আছে। তবে যা পড়েছি, যা জানি তার উপর ভিত্তি করে শহীদ জিয়ার ব্যাপারে কিছু সত্যি কথা বলব যেগুলোকে বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছিল।
কথাগুলো সম্পূর্ণ সচেতনভাবে সম্পূর্ণ দায়টা নিজে স্বীকার করেই বলছি_
১। জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন; পাঠক। তার আগে এ ঘোষণাটি পাঠ করেন এম এ হান্নান এবং আবুল কাশেম আবুল কাশেম সন্দীপ।
২। বঙ্গবন্ধুর হত্যার ব্যাপারে জিয়া জানতেন এবং এ ব্যাপারে তার নীরব সম্মতি ছিল।
৩। জিয়া উত্থানটা অগণতান্ত্রিক ছিল। ৭ই নভেম্বর নিয়ে অনেক ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে।
৫। জিয়া ব্যক্তিগতভাবে দূর্ণীতি না করলেও প্রাতিষ্টানিকভাবে করেছেন।
৬। তিনি দেশে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদীদের নিজ স্বার্থে পুনর্বাসন করেছেন।
৭। জিয়ার বহুল আলোচিত খাল খনন কার্যক্রম আসলে শুরু করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
৮। তার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সামরিক বাহীনির হাজার হাজার সদস্যকে তিনি বিনাবিচারে হত্যা করেন।
যা বললাম সেটা নিজ দায়িত্বেই বলেছি । যদি দলীয় দলীয় সঙ্কীর্ণতার উর্ধে উঠে সত্যকে মেনে নেওয়ার এবং গঠনমুলক তর্ক করার ইচ্ছে থাকে তবে সবগুলো অভিযোগের প্রমাণ হাজির করতে পারি। -
কারিম ভাই১২ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৫৩
স্যার, অনেকগুলো সত্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ । কিন্তু ম্যাঙ্গু পিপলের মনে যে মিথ্যা ঢুকে পড়েছে তা কিভাবে ধুয়ে মুছে সাফ করবেন -
মোজাম্মেল কবির১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:০৮
এরশাদ ভাই এই বিষয়টি নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ লেখা প্রয়োজন ছিলো।
ভুল জানার কারণে প্রায়ই চুপসে যেতাম।
লেখাটি প্রিয়তে রাখলাম। বার বার প্রয়োজন হবে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ চমৎকার লেখাটি উপহার দেয়ার জন্য।
ভালো থাকুন। -
দেবদাস১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:২৯
এই ঋণ কোনদিন শোধ হইবেনা যেমন শোধ করতে পারিনা বিশ্বব্যাংক আই এম এর ঋণ। বিশাল কিছু জানলাম। আমি নিজেও এমন অপবাদ গুলোর কথা লোকমুখে শুনেছি। পরমকরুনাময় ক্যান্টনম্যান্টে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে মিথ্যাচারিতা থেকে বেরিয়ে আসার তৌফিক দিন। আমীন। -
দেবদাস১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৩:১৫
পোষ্ট তৈরীতে কেমন দৌড়ানো লাগছে সেটা আমি অনুমান করতে পারছি চাচা। লিংক গুলা পড়া হয়নি। তবে অবশ্যই পড়ব। এটা বিস্তারিত জানা দরকার নইলে গোয়েবলসরাই টিকে থাকবে আর সত্যর মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বাংলা সিনেমার নায়ক নায়িকারা উদাহরন সহকারে বুঝিয়ে দিয়েছে 'সত্যর মৃত্যু নাই'।
-
নাসরীন জুবায়ের১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৩:৪৯
শ্রদ্ধা সহকারে বলছি... শেখ মুজিব যুদ্ধ পূর্ববর্তি সময়ে যতটা কঠর ভাবে নিজের ভাই ব্রাদারকে এক কথায় দেশের জণ্ন্য উৎসর্গ করেছেন, যুদ্ধের পরে ঠিক তার বিপরিত ভারে দেশের প্রতি যারা বেইমানী করেছেন তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর তার সেই ক্ষমার মাসুল আজকের এই দেশ। যেখানে কোন দেশ প্রেম নেই, আছে কেবল খাই খাই রাজনীতি। -
দেবদাস১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৩:৫৩
যার পরিনতিতে ক্যান্টনমেন্টে দুই দুইটা অবৈধ রাজনৈতিক দল আর একটা রাজাকারী দল জন্ম নিতে পেরেছে। -
একলা তেপান্তর১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:১০
বাগ্মী রাজনীতিবিদ পল গোয়েবলস এর ব্যাপারটা খুব চমৎকার লিখেছেন।
আর বাকি অংশটুকু নিয়ে কিছু বললাম না।(বড়দের ব্যাপার
)
ধন্যবাদ এরশাদ ভাই। ভাল থাকবেন।
-
মেহেদী১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৫৫
এরশাদ ভাই এমন তথ্য সমৃদ্ধ লেখায় বিশাল কোন মন্তব্য করাটা খুব জরুরী নয়।
যাহা সত্য
তাহা সবসময়ই সত্য।
আর একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে নিজেকে সবসময় সত্যের পথে পরিচালিত করতে চাই।
যদি ভয় থাকতো মনে তাহলে রোজার মাসে জেলে ইফতারি করতে হতো না।
যদি হলুদ সাংবাদিকতা করতে পারতাম তাহলে জীবনে অনেক দূর যেতে পারতাম।
তবে অনেক সময় আপনার বিশাল পোষ্টে মন্তব্য করা হয় না। আর আমি না পড়ে মন্তব্য করাটাও পছন্দ করি না।
ভালো থাকুন। -
জলের কাব্য১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৪৬
আমি আপনার পাথরের পৃথিবী পোস্ট টায় ঢুকতে চাচ্ছি কিনতু বারবার মুন সিনেমা পোস্ট টায় ঢুকে যাচ্ছে। আর ঐ দুইটা পোস্টের সিরিয়াল নাম্বার ১০৯ । একটা ১১০ হওয়ার কথা ছিল। একটু দেখে যানাবেন। -
কবিরনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৫৫
এরশাদ ভাই ছক্কা আর ছক্কা মানের দুই হাত উপরে তোলা আর দুই হাত উপরে তোলা মানে সারেন্ডার করা- তবে আপাতত।
বিশাল গবেষনা মুলক পোষ্ট। গোয়েবলস থিউরি দিয়া কাম হবে না আরও কিছু লাগবে যুক্তি খন্ডনে। আমি রেডি হইতেছি। একটু সময় দেন। -
কবিরনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:৫৩
তবু পোষ্ট এ ঢুকে যখন পড়েছি আহমেদ ছফার কিছু লেখা দিয়ে শুরু করে দিই যুক্তখন্ডন। ১৪ই আগষ্ট ১৯৭৫ সনের কথা তার জবানীতেই লিখলাম - " উদ্দেশ্যবিহীনভাবে আমি বলাকা বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। ওমা কিছু দুর যেতেই দেখি একখানা খোলা জীপে সাঙ্গো পাঙ্গো সহ শেখ কামাল। একজন দীর্ঘদেহী যুবক কামালের দৃষ্টি আর্কষন করে বললো, দেখো কামাল ভাই, আহমদ ছফা যাচ্ছে। কামাল নির্দেশ দিলেন, হারামজাদাকে ধরে নিয়ে আয়। আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে নিউমার্কেটের কাচাবাজারের দিকে ঢুকে পড়ি।"
(চলবে) -
কবিরনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৫৭
এরশাদ ভাই , আপনার পোষ্টটি পড়েছি। সময় স্বল্পতার কারনে তখন লিখতে পারিনি তবে শুরুটা করতে চেয়েছিলাম। এবং মোটেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে না। আপনি যখন লিখেছেন - "বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের ছেলেরকি স্পটে গিয়ে ডাকাতি করা লাগে। যারা বলে তাদের কাছ থেকে একটু জানতে চাইবেনকোন ব্যাংকের ?জানতে চাইবেন সদ্য গত তারেক রাজকুমারের টাকার দরকার হলে তিনি কি অস্ত্রহাতে ব্যাংকে যাবেন?" - ঠিক সেই পয়েন্টিতে আঘাত করার জন্যই আহমেদ ছফার প্রসঙ্গটি আনা। একজন প্রেসিডেন্টের ছেলে ব্যঙ্ক ডাকাতি করতে গেছে এটা যেমন ভাবতে অবাক লাগে তেমনি একজন প্রেসিডেন্টের ছেলে সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে একজনকে ঠেঙানোর জন্য খোলা জীপ নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে এটাও ভাবতে সিনেমার মত লাগে। তবে সেসময় অনেক কিছুই সম্ভব ছিল যা এখন কল্পকাহীনি মনে হয়।
আপনি আহমেদ ছফাকে প্রোপাগান্ডানিষ্ট বলায় ভীষন ভাবে আহত হয়েছি। আহত হয়েছি সিরাজ শিকদারকে আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন পোষ্ট এ তাতে। তবে আপনি যদি ভেবে থাকেন -দলীয় বিদ্বেষে আমি আপনার বিরোধীতা করেছি তবে হয়ত প্রমান দিতে পারব না কিন্তু শুধু বলব আপনি ভুল করেছেন। আমি আপনার মত আত্মস্বীকৃত কোন দলের লোক না।
পরিশেষে আপনি যখন শুরুই করেছেন এই লাইন দিয়ে = " শেখ কামাল নিহত হয়েছেন, তার হত্যাকান্ডের ও বিচারের রায় হয়েছে।" আমি ইস্তফা দিলাম এখানেই। একজন মৃত মানুষকে টানা হেচড়া নাই বা করলাম। আর বঙ্গবন্ধুতো অনেক বড় ব্যাপার। তাকে নিয়ে আলোচনা করার ধৃষ্টতা দেখাতেও কেমন জানি লাগে। ভাল থাকবেন। -
কবিরনি১৪ জানুয়ারি ২০১০, ১০:১৫
লেখাটি আহমেদ ছফা'র "মুজিব হত্যার নীল নকশা - আমি যতটুকু জানি" থেকে নিয়েছি। ১৪/১৫ ই আগষ্টের দিনগুলো ছফা ভাই ঢাকাতেই ছিলেন এবং খুব কাছ থেকে ঘটনার বিবরন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ভাল থাকবেন। এরশাদ ভাই। -
কবিরনি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:৪৪
এরশাদ ভাই, আপনার জন্য কষ্ট করে খুজে আনলাম ইন্টারনেট থেকে ফরহাদ মজহার এর একটি লেখা আহমেদ ছফাকে নিয়ে-
" আহমদ ছফা এবং ব্যক্তির মুক্তিতত্ত্ব
-ফরহাদ মজহার
“সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে আছি।”- আহমদ ছফা
ব্যক্তির নাম, রাজনীতি এবং ইতিহাস নিয়ে আমি এখানে লিখব। আহমদ ছফার ওপর নয়। কিন্তু তার নাম আসবে। তাকে নজির হিশাবে নেবো। ছফা বেঁচে থাকলে তাকে নজির হিশাবে ব্যবহার করছি দেখলে সে বিলকুল খেপত। খিস্তিখেউড়ের অভ্যাস ছিল তার। কী বলত তার এক ঘণ্টার একটা ফিরিস্তি আমি এখনই দিতে পারি। তার ঘনিষ্ঠজনরা একা থাকলে এই আনন্দটি সে পুরোমাত্রায় উপভোগ করত। তবে সত্যি যে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের ধোপদুরস্ত করে দেবার চর্চা করে সে নিজেকে প্রকট প্রতিকূলতার মধ্যে প্রকৃতিস্থ রাখার চেষ্টাা করত। আগে কার সামনে কী বলত খুব একটা বাছবিচার করত না। কিন্তু এক সময় সে নিজেই বুঝত তুমুল অট্টহাসি ও অবিনাশী মশকরায় ছাদ ফাটিয়ে দেবার সমাজ এটা নয়। এই সমাজের আড্ডা পরচর্চার অধিক এগোয় না। বড়োজোর দলা পাকায় চক্রান্তে আর ষড়যন্ত্রে। বয়স যখন তার খানিকটা বাড়ল তখন প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে তার এই প্রতিভাটুকুর চর্চা করে সে নির্মল শিশুর আনন্দ উপভোগ করত। তেমনি বন্ধুদেরও ছাড় দিত খুব কম। ওতে আজ অবধি তার সত্যিকারের বন্ধুদের সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য হয়েছে বলে আমার জানা নেই। কেউ তার আড্ডার খিস্তিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করছে টের পেলে তাকে তার ধারেকাছে ঘেঁষতে দিত না। ফরাসি দার্শনিক রঁলা বার্থ কোথায় বুঝি ত্রিক্রয়েটিভ মানুষদের খিস্তিখেউড় সর্ম্পকে কিছু একটা মন্তব্য করেছিলেন। ওর ™^ারা ছফার উৎসাহিত হবার কোনো প্রমাণ পাইনি। ফরাসি দর্শন কেন, পশ্চিমের কোনো জ্ঞানকান্ডের প্রতি তার অভিভূত ভাব কখনোই ছিল না। নিজের জ্ঞানমন্ডল ও বিচারশক্তির ওপর তার ঈমান ছিল পাথরের মতো মজবুত। তবুও, চিন্তার নতুন দিগন্তের খিলগুলো সহজে না খুললে হাতুড়ি পিটিয়ে উন্মুক্ত করা যেমন, চিন্তাশীলের খিস্তি কি সেইরকমই? কে জঠনে? মগর কবরে উঠে বসে সে আমার সাতপুরুষ উদ্ধার করলেও আমি তাকে নজির হিসেবে গ্রহণ না করে উপায় দেখছি না।
আমার প্রধান প্রস্তাব : আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি এমনকি জীবনযাপনের নজির সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যক্তি আহমদ ছফা এবং তার লেখালিখি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। কিছু মানুষ জš§গ্রহণ করে যাদের লেখালিখি ও কর্মকান্ডের চেয়েও খোদ মানুষটিই বড়ো হয়ে ওঠে। আহমদ ছফা সেই মানুষদেরই একটা নজির। তার লেখালিখি ও কর্মকান্ডের একটা বিচার নিশ্চয়ই মানুষ করবে, কিন্তু আমার অনুমান তার নামটা হয়ে উঠবে পাতাকুড়ূনি মেয়েদের পাতার বস্তার মতো। যেখানে এই নাম আশ্রয় করে বাংলাদেশের আগামী দিনের সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অপরাপর তৎপরতা একটা শক্তি হিশাবে সংগৃহীত হতে থাকবে এবং ত্রমাগত নিত্যনতুন অর্থোৎপাদন করবে। ছফা বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির একটি শক্তিশালী প্রবণতার ধারক এবং বাহক। আগামী দিনে সেই ধারারই বিকাশ ঘটবে এবং কাজেকাজেই তার নামের তাৎপর্যও ক্রমশ পরিচ্ছন্ন হতে থাকবে।
তার নাম বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিতার ইতিহাসে উচ্চারিত হবে, বলাই বাহুল্য। কিন্তু সেটা আমার প্রস্তাব মোটেও নয়। তার নামের পাতাকুড়ানি মাধুর্য সরাসরি তার লেখা থেকে আসবে, এই দাবিও আমি করছি না। মুশকিল হলো, আহমদ ছফার লেখা সরল ও সুখপাঠ্য। কিন্তু যে-সকল সিদ্ধান্ত ও জ্ঞানকান্ড অনুমান করে নিয়ে তিনি লেখেন সেটা অধিকাংশ সময়ই মৌলিক, ফলে তাকে পড়া যত আরামের, ‘পাঠ’ করা ঠিক সেই পরিমাণই কামলাগিরির-পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের। তার পুরো রাজনীতি, জীবনাচরণ ও কর্মকান্ড সর্ম্পকে সম্যক ধারণা না থাকলে তার রচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তাকে পেশ করা বিপজ্জনক। বাংলাদেশের স্বাাধীনতা, বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা এবং একটি জনগোষ্ঠীর বিকাশের সমস্যা তিনি নানাদিক থেকে ভেবেছেন। সেই ভাবনার মধ্যে সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সৃষ্টিশীল ও প্রায়োগিক দুটো দিকই তার মন অধিকার করে রাখত। তাঁর রচনা মাত্রই রাজনৈতিক। সেটা উপন্যাসই হোক, কিংবা হোক কবিতা বা প্রবন্ধ। সাহিত্যিক শখে তিনি ফাউস্ট অনুবাদ করতে বসেননি। গ্যেটে তার রচনা দিয়ে একটি ভাবুক কিন্তু সুশৃগ্ধখল জাতির বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছিলেন। এই প্রকার ভবিষ্যৎ নির্মাণের বাসনা আহমদ ছফার মধ্যে ষোলো আনা বর্তমান ছিল। কী করে এই বাসনাকে তিনি নিজের জীবনাচরণে ও লেখালিখিতে রূপ দিতে চেষ্টা করেছেন? কী ছিল আমাদের ‘জাতি’ ভাবনা?, রাষ্ট্রচিন্তা? ‘বাঙালি মুসলমান’ নামক ধারণাটির অর্থ ও তাৎপর্য কী? এমন নয় যে এইসব প্রশ্নের উত্তর ছফা দিয়ে ফেলেছেন, তাকে কোট করলেই ল্যাঠা চুকে। এইসকল নানান প্রশ্ন আমাদের ভবিষ্যতে ভাবাবে। ফলে তার নাম আশ্রয় করে আমাদের ঝোলায় আরও অনেক সংগ্রহ বাড়তে থাকবে। অনেক ঝাড়াপোঁছার কাজ এখনও বাকি আছে আমাদের। তার গৌরব ওখানেই যে তিনি এমন একটা অবস্থা তৈরি করে দিয়ে গেছেন যে এইসকল প্রশেুর মুখোমুখি না হয়ে আমাদের আর গত্যন্তর নেই। তার আবির্ভাব ও তিরোভাবের মধ্য দিয়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে বাগাড়ম্বর টাল্টিবাল্টি বকোয়াজগিরি অসম্ভব হয়ে উঠবে। এই অর্থেই তার নামের পাতাকুড়ানি ভূমিকার কথা তুলেছি।
এমনকি তার খুচরো মন্তব্যগুলোও রাজনৈতিক-দার্শনিক দিক থেকে বিপদে ফেলে দেয়। তার তরুণ বয়েসের বিপ্লবী শ্লোগান ছিল, “বৃষ্টি আসলে সব কিছুই ভিজে যায়”। বিপ্লবী, বিপ্লববিরোধী, অ-বিপ্লবী প্রত্যেকেই ‘ভিজে’ যায়। বিপ্লব প্রত্যেকেরই মুক্তি আনে। এর সঙ্গে কি মার্কসের কথা মেলানো যায়? সর্বহারা শ্রেণী শুধু যে তার বিপক্ষ শ্রেণীর বিলুপ্তি ঘটায় তা-ই নয়, তার নিজ শ্রেণীসহ সকল শ্রেণীর বিলয় নিশ্চিত করে। বিপ্লব সকল শ্রেণীর মুক্তির জন্য, শুধু সর্বহারার মুক্তি নয়। সশস্ত্র সংগ্রামের ঘোর ঝনঝনানি ও হিংসার যুগে ছফাকে কথা বলতে হয়েছে কাব্যের ভাষায়, কিন্তু শ্রেণী সংগ্রামের ফলাফল সর্ম্পর্কে হুঁশ বজায় রেখে। তা হলে কর্তব্য কী? কর্তব্য হচ্ছে মেঘ ও বাষ্প তৈরি করাÑ অর্থাৎ সেই সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক শর্ত তৈরি করা যাতে “বৃষ্টি” অর্থাৎ বিপ্লব সম্ভব হতে পারে। ছফা গান্ধীবাদী ছিল না, কিন্তু সহিংসতার পক্ষালম্বীও ছিল না। তার বিপ্লবী তরুণ বন্ধুদের সঙ্গে থেকে এতটুকু সে অনায়াসেই আমল করেছিল যে হিংসা বাস্তব, শ্রেণীসংগ্রাম সত্য। অতএব ‘অহিংস’ হওয়া অবাস্তব, রোমান্টিক প্রস্তাব। বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধে এই বোধ তার আরও দৃঢ় হয়েছে। বিদ্যমান শ্রেণী হিংসার যারা শিকার ‘অহিংসবাদ’ সেই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে। কারণ একদিকে তা হিংসাকে মেনে নেবার ‘নৈতিকতা’ তৈরি করে অন্যদিকে হিংসার বিরুদ্ধে নির্যাতিত যখন রুখে দাঁড়ায় তখন তাকে নিন্দার শর্তও তৈরি করে রাখে।
অন্যদিকে হিংসাবাদীদের সঙ্গেও ছফার সায় ছিল না। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, গণবাহিনী, সর্বহারা পার্টি বা অন্যান্য বিপ্লবী বন্ধুদের সঙ্গে এখানেও তার বিরোধ ছিল প্রকট। গান্ধীর সমালোচক ছিল সে অবশ্যই, কিন্তু গান্ধীর সঙ্গে সে পুরোমাত্রায় একমত ছিল যে বিপ্লবের প্রক্রিয়া বিপ্লবের ফলাফলের মতো সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে-প্রক্রিয়ায় বিপ্লব সাধিত হয় সেই প্রক্রিয়ার ছাপ থেকে যায় ফলাফলে, বিপ্লবের পরিণতিতে। হিংসা বর্তমানের বাস্তবতা নিঃসন্দেহে, কিন্তু ভবিষ্যতের লক্ষ্য তো হিংসার অধিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠা নয়, বরং তার বিলুপ্তি। যদি বিপ্লবের প্রক্রিয়াÑ অর্থাৎ রণনীতি ও রণকৌশলের মধ্যে এই সত্য হাড়েমজ্জায় হাজির না থাকে তা হলে সমুহ বিপদের সম্ভাবনা। মানুষ হিংসুক হয়, দাঙ্গাহাঙ্গামা করে, যুদ্ধবিগ্রহ করে। কিন্তু সেটা তার স্বভাব নয়, মানুষ মাত্রই হিংসুক হতে পারে না, অসম্ভব। তা হলে তো ভবিষ্যৎ নির্মাণের ধারণটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিপ্লব মানুষের মুক্তি আনে কথাটির অর্থ হতে পারে মনুষ্য-স্বভাবের অফুরন্ত সম্ভাবনা বাস্তবায়নের শর্ত তৈরি করা। যদি হিংসাই বৈপ্লবিক রূপান্তরের একমাত্র পথ, প্রকরণ ও পদ্ধতি হয়, তাহলে সেই সম্ভাবনাও সীমিত ও সংকীর্ণ হয়ে যেতে বাধ্য। ছফা বিপ্লবী, মনেপ্রাণে সে সমাজের বৈপ্লবিক রূপান্তর চাইত। কিন্তু বিপ্লব নামক ধারণার মধ্যে যে-সহিংসার ইঙ্গিত আছে, সেটা একদমই তার পছন্দ ছিল না। কেন? কারণ বৈপ্লবিক ফলাফলের মধ্যে যে সজল-মাধুর্য আস্বাদনের আকাঙ্খা ও প্রতিশ্র“তি তার সঙ্গে বিপ্লবের সহিংস ভাবমূর্তি তার কাছে ছিল রাষ্ট্রবিরোধী এবং অসংগত। গান্ধীর কাছ থেকে প্রতিত্রিক্রয়াশীল শ্রেণীগুলো ‘অহিংসাবাদ’ গ্রহণ করেছে। আহমদ ছফা গ্রহণ করেছে তার প্রায়োগিক তাৎপর্য। কার্ল মার্কসের কাছ থেকে বিপ্লবীরা “হিংসা ইতিহাসের ধাত্রী” এই শিক্ষাটাই গ্রহণ করেছে, কিন্তু ছফা গ্রহণ করেছে মার্কসের মানবেতিহাসের আনন্দময় প্রতিশ্র“তি। সেই দিন যখন আসবে তখন বাংলাদেশে শ্রাবণের মতো অঝোর ধারায় শুধু বৃষ্টি হবে এবং সব কিছুই ভিজে যাবে। বিপ্লব ও বৃষ্টির মধ্যে এই পার্থক্য নিছকই কাব্যিক জ্ঞান করলে তার রাজনৈতিক-দার্শনিক অনুমান ও জ্ঞানকান্ডগুলো কখনোই নজরে পড়বে না। এই কারণেই বলেছি, আহমদ ছফা হয়তো পাতাকুড়ানিয়া নাম হয়ে উঠবে। তার নামকে কেন্দ্র করে যেসব লেখালিখি ও কর্মকান্ড সেইসব নানা অর্থ তৈরি করতে থাকবে। এখানেই তার সঙ্গে অন্যদের প্রধান পার্থক্য ঘটবে বলে আমার অনুমান।
আহমদ ছফাকে নিছকই সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবী হিশাবে গণনা করলে মারাত্মক গলতি হবার সম্ভাবনা। তার জীবনযাপন, সামাজিকতা, লেখালিখি, রাজনীতি, তরুণদের দুর্দান্ত প্রেরণায় উজ্জীবিত করার ক্ষমতাÑ ইত্যাদি মিলিয়ে তার তাৎপর্য অন্যরকম। তার সাহিত্য ও অপরাপর চর্চা তার মহান ব্যক্তিত্বের গৌণ দিক, প্রধান দিক নয়। আহমদ ছফা অন্য জিনিস। ইংরেজি ঢ়যবহড়সবহড়হ শব্দটির সংস্কৃতাশ্রয়ী অনুবাদ দেখেছি ‘প্রতিভাস’। এই অনুবাদের মধ্যে সংস্কৃতকে বাংলা বলে চালিয়ে দেবার চিরাচরিত অহংকার আছে। তার চেয়ে খোদ ইংরেজি শব্দটিই হয়তো ভালো। বাংলায় যে-অর্থে আমরা ‘ঘটনা’ কথাটি অলৌকিক বা অতিলৌকিক অর্থে ব্যবহার করি সেই অর্থে ব্যবহার উত্তম। তবে অতিলৌকিকতার ইশারাটুকু ছেঁটে দিয়ে ইহলৌকিক ভাষান্তর দরকার। বলা যায় আহমদ ছফা বাংলাদেশে একটি ঘটনা। ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে এবং আমার দৃঢ় বিশ^াস আহমদ ছফা-নামক ঘটনাটি ঘটে যাবার পর বাংলাদেশ আর আগের মতো থাকবে না। আমার এই কথা বন্ধুর প্রতি অতিশয়োক্তি মনে হতে পারে। সেই কারণে এখানে নিজের তরফে কিছু যুক্তি আমাকে পেশ করতে হবে।
প্রথমেই বলি, আহমদ ছফা তিরিশ দশকীয় সাহিত্যের প্রডাক্ট নন। অর্থাৎ ঔপনিবেশিক কলকাতায় সাহিত্যসর্বস্ব কেরানিমার্কা লেখালিখির যে-ধারা, ছফা সেই ধারার মানুষ নন। এই কালের বাংলা ভাষার বাইরের জাঁকজমকে সে অভিহিত হয়নি, সুধীন দত্ত বা বুদ্ধদেব বসুকে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে সে অচিরে টের পেয়েছিল এগুলো ঠুনকো জিনিস। ওসব দিয়ে আনন্দবাজার-সানন্দা মার্কা ব্যবসা চালানো যায় কিন্তু ভেতরে খাঁটি মাল কিছু নেই বললেই চলে। অন্তঃসারশহৃন্য। এই কথাটা যত সহজে এখন বলা যাচ্ছে ষাট দশকে তার সংস্পর্শে আসা তরুণদের ‘আধুনিক’ হবার দাপটে বলা যেত না। ধরতে পারাও কঠিন ছিল। একমাত্র কবি ও বিপ্লবী হুমায়ুন কবীর ছাড়া ছফাকে সেই সময় বুঝতে পারে বা কোনোভাবে বুঝেছিলÑ এই স্মৃতি আমার মনে পড়ে না। কারণ হুমায়ুন ইতিহাস তৈরি করতে চেয়েছিল। মত, পথ ও প্রকরণের ভেদ থাকলেও সেখানে ছফার সঙ্গে তার একটা আন্তরিক মিল ছিল অবশ্যই। দুজনেই ইতিহাসে নিজেদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে সজ্ঞান ছিল। সেই দিক থেকে দুই জনেই ছিলেন মাঝি ও সচেতন কারবারি। ফলে পরস্পরকে বোঝার একটি সাধারণ পাটাতন ছিল, যেখানে দুজনের মোলাকাত সব সময়ই সম্ভব। হুমায়ুন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী, মাও জে দংয়ের অনুরাগী ও অনুশীলনে বিশ^াসী। ছফা খানিকটা বুর্জোয়া নবজাগরণের সাধক, সমালোচকও। রেনেসাঁপন্থী, ইউরোপে কী করে শিল্পবিপ্লব ঘটল এবং একটি শক্তিশালী জনগোষ্ঠী বিকশিত হল ছফা সেটা জানতে চায় বুঝতে চায়। কেন লেনিন শ্রমিকশ্রেণীকে বিপ্লবের এজেন্সি দিয়েছিলেন, তাদেরকেই শ্রেণীগতভাবে কর্তাশক্তি গণ্য করেছিলেন সেটা জানার জন্য তার আকুতি ছিল তীব্র। তার গুরু আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকে সেই পাঠ নিতে সে উদ্গ্রীব। মাও জে দংয়ের চিন্তাধারা তাকে হুমায়ুনের মতো আপ্লুত করেনি। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক যখন তাকে লেনিনের রাশিয়ায় পুঁজিতন্ত্রের বিকাশ বইটি পড়ে তার কাছে সারসংক্ষেপ করে দেওয়ার দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন ছফা দৈনিক সাত আট ঘণ্টা কাজ করে কাজটি ঠিকই করল। যদি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কী বলা উচিত সেই দায়িত্ব তাকে মাথায় নিতে হয় তা হলে রাশিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে লেনিন আসলে কী বলেছেন সেটা তো তাকে জানতেই হবে। নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ছফা লিখেছে, “লেনিনের অন্ততৃষ্টি আমাকে বিস্ময়াবিস্ট করে তুলেছিল।” কেন সে এত বিস্মিত হয়েছিল তার একটা নজির দিয়েছে ছফা, তার যদ্যপি আমার গুরু বইটিতে। লিখেছে :
‘লেনিন সাহেব দেখিয়েছেন বৃহৎ জোতের জমি চাষের প্রচলন শুরু হওয়ার পরে উন্নত জাতের ঘোড়া জমি চষার কাজে ব্যবহার হওয়ার কারণে উৎকৃষ্ট অশ^ প্রজননের ধুম পড়ে যায়। ভালো জাতের ঘোড়ার প্রজনন বৃদ্ধির জন্য ঘোড়ার বৈদ্য নামক একটি অর্থনৈতিক শ্রেণী সৃষ্টি হয়েছে, সেই জিনিসটি [লেনিন] উল্লেখ করতে ভুল করেননি।’
ইতিহাসের সঙ্গে আর্থসামাজিক গতিপ্রকৃতির অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক সম্বন্ধে তার ধারণা এর পর থেকে সবসময়ই ছিল পাকা। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও সে টের পেয়েছিল যে সকলেই তো লেনিন হয় না। তা হলে জ্ঞান বিচারের এই অন্তদৃষ্টিটা কোথা থেকে আসে? একে তো অর্থনৈতিক বিচারের বিষয় জ্ঞান করলে চুনকে দই বলে ভুল করার দোষ ঘটে যায়। তা হলে বৈপ্লবিক অন্তদৃষ্টিটা আসলে কী জিনিস?
এই প্রশ্ন তার তরুণ বয়েসেই মনে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে যান্ত্রিক বস্তুবাদ বা শ্লোগানসর্বস্ব বিপ্লবী কর্মকান্ডকে সে সতর্কতার সঙ্গে পরিহার করতে পেরেছে। কিন্তু কেন লেনিন রুশদেশের বাস্তবতায় শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবের কথা বলেছেন তার ব্যাখ্যাটি সে বুঝে নিয়েছে ভালো করে। এটাও হয়তো বুঝেছিল যে বাংলাদেশে রুশ বা চীনের অনুকরণে বিপ্লবের ধারণা পন্ডশ্রম মাত্র।
তখন বাংলাদেশের বিপ্লবী রাজনৈতিক ধারা বাংলাদেশে সামান্ততান্ত্রিক প্রধান নাকি পুঁজিতান্ত্রিকÑ এই বিতর্ক করছে। ছফা তখন বিদেশী কারো বিচার বা সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। এমনকি মার্কসেরও নয়। বরং মনোযোগ দিয়ে শুনেছে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সিদ্ধান্ত। ছফা রাজ্জাক স্যারের বাচনভঙ্গি ধারণ করে এই বিষয়ে তার বক্তব্য লিখছে :
‘ইন দ্য স্ট্রিকেস্ট সেন্স অব দ্যা টার্ম ইন্ডিয়াতে কোনো ফিউডালিজম আছিল না। বেঙ্গলের কথা তো এক্কেরে আলাদা। বেঙ্গলের কথায় পরে আইতাছি। তার আগে রেস্ট অভ দি ইন্ডিয়ার খবর লই। ফিউডালিজম হইল একটা ক্লোজড সিস্টেম। বংশপরম্পরায় একটি পরিবার স্থায়ী অইয়া একটা জায়গায় বাস করব। তার ধোপা, নাপিত, কামার, কুমার সব আলাদা। এক জায়গার মানুষ অন্য জায়গায় যাইবার পারব না। কাঁঠালের যেমন কোয়া ফিউডাল সিস্টেমে সামন্তের জমির সঙ্গে সকলের তেমন সম্পর্ক... আর যদি বেঙ্গলের কথায় আইয়েন, তাইলে এক্কেরে অন্য কথা বলতে অয়। পুরানা বাংলা পুঁথিতে দেখা যায় বাংলার বাণিজ্যবহর জাভা, সুমাত্রা এই সকল অঞ্চলে যাওয়া-আসা করছে। যেখানে বাণিজ্য এই রকম সচল থাকে সেই সমাজটারে অন্য যা ইচ্ছা কইবার চান কন, কিন্তু ফিউডালিজম বলবার পারব না। ভিটফোগেলের হাইড্রোফিক থিয়োরি বেঙ্গলের বেলায় এক্কেরে খাটে ন -
কবিরনি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:৪৯
আবদুর রাজ্জাকের বক্তব্যের সঙ্গে তার আক্ষরিক সায় ছিল কি না সেটা সে কোথাও উল্লেখ করেনি। ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুদের কাছে তার অবস্থান ছিল এই রকম যে, বাংলাদেশের বিপ্টèবী রাজনীতি এই তর্কটিকে কখনোই আন্তরিকতার সঙ্গে করেনি। এই তর্কটি করবার জন্য লেনিনের যে মেধা ও পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল সেটা অর্জন করবার জন্য বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতি কখনোই সচেষ্ট ছিল না। এই তর্কের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব প্রগতিশীল রাজনীতি কখনোই বোঝেনি। একটা কিছু বলা দরকার বা বলতে হবে, যেন তার জন্যই বলা, ব্যস। তারপর কেউ হার্মোনিয়াম বাজাতে ভালোবেসেছে, বাজিয়েছে। কেউ রাজপথে শ্লোগান হাঁকতে পুলকিত বোধ করেছে, রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছে। কেউ ছেলেবেলায় বাপ-মায়ের কাছ থেকে খেলনা উপহার না পাবার অভাবে বন্দুক দিয়ে খেলতে নেমে নিজের প্রাণ দিয়ে শৈশবের অভাব মিটিয়েছে। কিন্তু এগুলাম কই? জ্ঞানচর্চা ও বিচার ছাড়া কি কোনো জনগোষ্ঠীর বিকাশ সম্ভব? বাষ্প আর মেঘ আর তৈরি করা গেল না, দিন গেল ভয়াবহ দাবদাহে আর খরায়।
সেই সময়ে হুমায়ুন ছফাকে বুঝতে পারত, তার একটা ইঙ্গিত দিয়েছি। কিন্তু আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কথা না বললে কথাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ইলিয়াস ইচ্ছে করলে ষাট দশকের ছফাকে বুঝতে পারত। কিন্তু যতদূর জানি ইলিয়াসের সঙ্গে সেই সময় তার কোনো আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। কিন্তু উভয়ের একটা পার্থক্যও ছিল। সেটা হয়তো পরের লেখাগুলোতে খানিক আসবে। কিন্তু সেটা এখন আমার আলোচনার বিষয় নয়। ছফার আলোচনায় আমি হুমায়ুন কবির ও ইলিয়াসকে বারবার টেনে আনছি এই কারণে যে, আমি মনে করি ষাট দশকে যে-চিন্তা, রাজনীতি ও চর্চার উন্মেষ ঘটেছিল তার গোড়ায় এই তিনজনের নাম আসতে বাধ্য। বাংলাদেশে যেখানে সাহিত্য, প্রজ্ঞার চর্চা ও রাজনীতি হাত ধরাধরি করে চলেছে সেখানে শুধু এই তিনজনকেই দন্ডায়মান দেখি। আর কাউকে তো দেখি না।
মনে রাখা দরকার ষাট দশকের কথা বলছি। তখন সমকাল, কণ্ঠস্বর আর ‘হাংরি জেনারেশনে’র যুগ। ছফার বিপরীতে ইলিয়াস ত্রিশের তৈরি। কিছুটা সমকাল এবং তারও বেশি কণ্ঠস্বর আর হাংরি-জেনারেশন ধরনের আন্দোলনে ইলিয়াসের সায় ছিল পুরোমাত্রায়। গদ্যে ও কবিতার ভাষায় পরাবাস্তবতা চর্চার জ্বর ততক্ষণে একশ তিন ডিগ্রি পেরিয়ে গিয়েছে। তখন কেউ গ্রাম্য, পশ্চাৎপদ, কথা বলতে জানে না, আধা-তোতলা আহমদ ছফাকে পাত্তা দেবে কেন? ছফার লেখালিখি তো ধর্তব্যের মধ্যেই ছিল না। তার চেহারা, পোশাক-আশাক, কথা বলার ধরন নিয়ে হাসাহাসি-তামাশার অন্ত ছিল না। নামও ছিল ‘ছফা’। এই নাম নিয়েও তাকে কম বিড়ম্বনা সইতে হয়নি। এ কেমন নাম? কেমনই-বা বানান? প্রত্যেকে প্রত্যেকের বাপের দেওয়া নাম বদলাল, প্রত্যেকের নামের বানানের মধ্যে ‘আধুনিকতা’ জ্বলজ্বল করতে লাগল। কিন্তু ছফার নাম আর বদলাল না। আহমদ ছফা আধুনিক বা স্মার্ট হবার লোভে কাতর হল না। সে টের পেয়ে গিয়েছিল ত্রিশ দশকীয় আধুনিকতা তার সাধনার বিষয় নয়, বরং তার বাসনা সে বিদ্যাসাগর হবে। বুদ্ধদেব বসুর শার্ল বোদলেয়ার নামক কলকাত্তাইয়া চরিত্রের অনুসরণে বেশ্যাবাড়ি যাওয়া আর মদ খাওয়া ছিল তখন আধুনিকতা। বুদ্ধদেবের বোদলেয়ারকে কলকাত্তাইয়া বলছি কারণ ওর সঙ্গে আসল বোদলেয়ারের মিল খুব সামান্যই। এমনকি অনুবাদের সাড়ে পনেরো আনা বুদ্ধদেব বসুর নিজের মৌলিক সৃষ্টি সেখানেই হয়তো বুদ্ধদেবের সার্থকতা। কবি-সাহিত্যিকরা যখন রেক্স রেস্তোরাঁর আড্ডায় আর মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটের বাংলা দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, চন্দনাইশের গ্রাম আর গাছবাড়িয়া থেকে পাশ করা ল্যাবরধ্যাবর ছফা তখন রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসুদের সময়কাল গভীরভাবে অধ্যয়নে রত। মাও জে দংয়ের লাল বইয়ের কদরও তখন বাড়ছে। কিন্তু ছফার কাছে মহান চীন বিপ্লবের তুলনায় বইয়ের শ্লোগান কম আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। সে তখন বোঝার চেষ্টা করছে হিন্দু নবজাগরণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি কী? কী করে একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মপরিচয়ের চেতনা জাগল। হঠাৎ তো জাগেনি। কীভাবে সেটা জাগল? সেই জাগরণের পেছনে ব্যক্তির ভূমিকাটা কী? কী ভূমিকা ছিল সাহিত্যের, সংস্কৃৃতির, লেখালিখির?
মদ খাওয়া আর টাকা দিয়ে মেয়েমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করা মন্দ কি ভালো সেই নৈতিক বিতর্কের জন্য এখানে এই প্রসঙ্গটি তুলিনি। ষাট দশকে সাহিত্য ও ‘আধুনিকতা’-সংক্রান্ত ধারণা নির্মাণ করতে গিয়ে ব্যক্তিজীবনের স্বেচ্ছাচারের মহিমা কীর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যারা এই স্বেচ্ছাচারকেই ‘আধুনিক’ হয়ে ওঠা বলে গণ্য করেছেন, তারা পুরোটা ভুল করেছেন বলা যাবে না। যে-দেশে রাজনৈতিক দিক থেকে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি, সেখানে নিজের সার্বভৌমত্ব আর স্বাধীনতা আস্বাদনের আর কী পথ থাকতে পারে? মদ না খেয়ে আর বেশ্যাবাড়ি না গিয়ে অপরিণত ব্যক্তির পক্ষে আর কীভাবে নিজের ‘স্বাধীন ইচ্ছা’ অনুধাবন সম্ভব? পুরনো ও পাশ্চাৎপদ সমাজে ব্যক্তির সার্বভৌমত্ব ও স্ট^াধীনতার স্বাদ মদ খেয়ে আর মেয়েমানুষের সঙ্গে স্বাধীন সম্পর্ক নির্মাণ ছাড়া অসম্ভব এই কথা বলছি না। তাকে কাব্যে এবং সহিত্যাদর্শে নিয়ে আসাটা দারুণ তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া আর কীভাবে আধাখেঁচড়া ব্যক্তিতান্ত্রিক সাহিত্যিক ব্যক্তির মহিমা প্রচার করতে পারে? ষাট দশকে এটাই প্রধান ধারা। চরম অরাজনৈতিক ও প্রতিত্রিক্রয়াশীল এই ধারাটিই স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে রাতারাতি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হয়ে গিয়ে রাজনৈতিক হয়ে গেল। সাহিত্য, সংস্কৃতি এমনকি রাজনীতিতেও যারা স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে ব্যক্তির মহিমা কীর্তন করেছেন তারা কেউই কিন্তু শহরের নাগরিক নন। তাদের অধিকাংশই ছফার মতো গ্রাম থেকে শহরে আসা। অনেকে নিজের জবানিতে লিখিতভাবে তাদের স্বেচ্ছাচারের বর্ণনাও দিয়েছেন। এই ধারার বিপরীতে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে আরেকটি শক্তিশালী ধারা ছিল, আহমদ ছফা যার শিরোমণি। সেই ধারা ব্যক্তির মুক্তি আস্বাদন করতে চায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মুক্তির সঙ্গে ব্যক্তির মুক্তির সম্পর্ক বিচার করতে চায়, সেই সম্পর্কের মহিমা বুঝতে চায়, লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় হতে চায়। তরুণ বয়েসে তার সেই অন্বেষণ অধিকতর পরিণত বয়েসে এসে অসাধারণ প্রজ্ঞাবান হয়ে উঠেছিল। তার পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ নামক আত্মজৈবনিক বয়ানে ছফা লিখছে : “একমাত্র অন্যকে মুক্ত করেই মানুষ নিজের মুক্তি অর্জন করতে পারে।” এই জ্ঞানবাক্যটি সে পাখির কাছে শিখেছে, বিশেষত সেই পাখিটির কাছে যাকে যে নিজের পুত্রজ্ঞান করত। মাটির মানুষের জগতে হিংস্রতা ও হানাহানি দেখে ছফা আকাশের পাখির জগতে আশ্রয় নিয়ে আবিষ্কাার করল সেখানেও হিংস্রতা এবং জাতিবৈরিতার প্রকোপ আছে। ‘সুতরাং’, আহমদ ছফা লিখছে, “মানুষের মতো কর্তব্য পালন করার জন্য আমার মানুষের কাছে ফিরে না গিয়ে উপায় কি? আমি বৃক্ষ নই, মানুষ। ভালো হোক মন্দ হোক আনন্দের হোক, বেদনার হোক আমাকে মানুষের মতো মানুষের সমাজে মনুষ্যজীবনই যাপন করতে হবে। মনুষ্যলীলার করুণ রঙ্গভূমিতে আমাকে নেমে আসতে হবে।”
ছফা যখন পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ লিখছিল তখন তার ধারণা ছিল সে একটি ‘পরিবেশবাদী’ উপন্যাস লিখছে। বোধহয় সেইভাবেই সে তার রচনার প্রচার চালাচ্ছিল। পরিবেশবাদিতার দার্শনিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো দিক সম্পর্কে ছফার নিজের খুব একটা উৎসাহ কখনোই ছিল না। তার পান্ডুলিপি শুনে ও পড়ে আমি যতবারই তাকে বলেছি তার উপন্যাস পরিবেশবাদী উপন্যাস নয় এবং লেখাটি অসাধারণ হওয়ার জন্য পরিবেশবাদিতার আলখাল্লা পরানো অনাবশ্যক, খামাখা বোঝাÑ ছফা সবসময়ই মনঃক্ষুন্ন হয়েছে। বইটি প্রকাশের পর আমাকে কোনো কপি দেয়নি। কিন্তু বইটি ছাপা হবার পর আমি নিজে কিনে পড়েছি। পরে অবশ্য নিজেই পাঠিয়েছিল। প্রচ্ছদের প্রচারছত্রে বলা ছিল, “রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রে জীবনবোধের উšে§ষ এবং বিভূতিভূষণের প্রকৃতিনির্ভর রচনাসমুহে জীবনের যে-উপলব্ধির বিকাশ, আহমদ ছফার এ লেখাটি একই গোত্রভুক্ত হয়েও স্বাতন্ত্র্যের দাবি করতে পারে।’’
বলা বাহুল্য, ‘একই গোত্র’ জ্ঞান করবার এই মূল্যায়ন ঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের রচনা। আদৌ উপন্যাস বলা যায় কি না সেই আঙ্গিকগত প্রশ্ন তো আছেই। বাস্তব আর কল্কপ্পনার কোনো সীমারেখা মানা হয়নি। তাতে ক্ষতি তো দূরের কথা নগদ লাভ অপরিসীম। অন্যদিকে আমরা ছফার একটি আত্মজীবনী পড়ছি কি না সেই ভুলেও হোঁচট খেতে হয়েছে। পড়বার উত্তেজনায় উš§াদ হয়ে যাবার জোগাড়। যখন তাকে আমার অসম্ভব ভালো লাগার কথা বললাম, শিশুর মতো খুশি হল অবশ্যই। পরিবেশবাদী উপন্যাস হিশাবে চালাবার জন্য আর জবরদস্তি করল না। মানবজীবনের সঙ্গে বিহঙ্গজীবন আর উদ্ভিদজীবনের ‘অবিচ্ছিন্ন’ সম্পর্কের বয়ান এটি নয়। তা হলে তো ছফা পাখির জগৎ ছেড়ে মানুষ্যজীবনের রঙ্গালয়ে মনুষ্যকর্তব্য সম্পাদনের জন্য আর ফিরে আসতে চাইত না। কিল্ফ^া পাখির জগতে হিংসা-হানাহানি, জাতিবৈরিতা বা শ্রেণীসংগ্রাম দেখত না। এমনই সেই ‘শ্রেণীসংগ্রাম’ যে ছফা লিখছে : একসময় হয়তো এমনও হতে পারে দাঁড়কাকেরা এই শহর থেকে পাতিকাকদের তাড়িয়ে দেবে। বাস্তব জগতের দ্বন্দ্বটাই সে উদ্ভিদ আর পাখির জগতে দেখতে ও আমাদের দেখাতে পেরেছেÑ এটাই শক্তিধর লেখক হিশাবে তার নিদারুণ মুনশিয়ানা।
ব্যক্তি-স্বেচ্ছাচারিতা বা ব্যক্তিতন্ত্র নিয়ে কথাটা তুলেছিলাম। তার বিপরীতে এখানে দেখছি ব্যক্তি আর ব্যক্তির দায়িত্ব বা ছফার ভাষায় ‘মনুষ্যজীবনের কর্তৃব্য’ সম্পর্কে অসাধারণ ভাবুকতায় সমৃদ্ধ এই রচনা। দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মুক্তির ধারণা নিহিত রয়েছে। কারণ স্বাধীন ও মুক্ত ব্যক্তির পক্ষেই কেবল অন্য মানুষ, পশু, পাখি, উদ্ভিদ এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রাণী ও অপ্রাণী জগতের দায়িত্ব গ্রহণ করা সম্ভব। বিপরীতে মুক্ত বা স্বাধীনমাত্রই দায়িত্বশীল নয়, মনুষ্যজীবনের কর্তব্য তার আরাধ্য নয়। ফলে তা স্বেচ্ছাচার ও ব্যক্তিতন্ত্রেই শেষ হয়। হতে বাধ্য। সেই জীবন শেষাবধি একাকিত্বের, নৈঃসঙ্গের। কিন্তু আহমদ ছফার কোনো একাত্বিবোধ ছিল না। তাকে কেউ কোনোদিন হতাশ হতে দেখেনি। তার কোনো নৈঃসঙ্গচেতনা ছিল না। একমাত্র মুক্ত ও স্বাধীন ব্যক্তির পক্ষেই এই ঘোষণা দেওয়া সম্ভব যে, “এই পুষ্প, এই বৃক্ষ, তরুলতা, এই বিহঙ্গ আমার জীবন এমন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে, আমার মধ্যে কোনো একাকিত্ব, কোনো বিচ্ছিন্নতাা আমি অনুভব করতে পারিনে। সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে আছি।”
এই বাক্যের গঠনে রাবীন্দ্রিকতা আছে বলে এর সাথে “বিশ^ সাথে যোগে যেথায় বিহারো, সেই খানে যোগ তোমার সাথে আমারও”Ñ সমার্থক নয়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আহমদ ছফা বাংলাদেশে মুক্ত ও স্ট^াধীন নতুন মানুষের জšে§র ঘোষণা দিয়ে গেল, যাদের মানুষ্যজীবনের কর্তব্য পালন করবার জন্য মানুষের করুণ রঙ্গভূমিতে ফিরে আসতেই হবে। বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি ও সংস্কৃতিচর্চার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত, ইশারা ও অতি আবশ্যকীয় কিছু উপাদান আমাদের জন্য রেখে গেল। বলা বাহুল্য সে লেনিন নয়, মার্কস নয়, মাও জে দংও নয়। নিজেকে সে আউলিয়া বলে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করলেও সে জানত সে আউলিয়াও নয়। সে গাছবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা অতি সাধারণ একটি গ্রামের ছেলে। কিন্তু সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিন্তা ও রাজনীতির জগতে সে যে উথালপাথাল ধাক্কা দিয়ে গেল তার ফলে বাংলাদেশের সাহিত্য বলি, সংস্কৃতি বলি, রাজনীতি বলি, বৈপ্লবিক কর্মকান্ড বলিÑ তার সঙ্গে খোদ একটা বোঝাপড়া না করে কোনো ক্ষেত্রেই অগ্রসর হওয়া যাবে না।
আমি নিশ্চিত আগামী দিনগুলোতে সেটা আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।
-----
উপরের প্রবন্ধটি সাংবাদিক নুরুজ্জামান মাণিকের সৌজন্যে প্রাপ্ত। -
কবিরনি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ১০:০৩
জাফর ইকবাল এর পরিবার আর আহমেদ ছফাকে নিয়ে একটা কাহীনি আছে। আপনার জানা আছে কিনা জানি না। ৭১ এর পর জাফর ইকবাল দের পরিবারকে গাছ তলায় দাড়াতে হচ্ছিল তাদের বাড়ী বেদখল হওয়ায়। আহমেদ ছফা তখন গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্বহত্যা করতে চেয়েছিলেন সংসদের সামনে যদি এই শহীদের সন্তানদের বাড়ী ফেরত না দেওয়া হয় তাহলে। ছফা যেরকম মানুষ ছিলেন করেও ফেলতে পারতেন। তাই বোধহয় সরকারের টনক নড়ে এবং জাফর ইকবাল রা বাড়ী ফেরত পাই। -
কবিরনি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ১১:০৭
ধন্যবাদ। বাচাইলেন আমারে। আমি আরও ঘাটাঘাটি করতেছিলাম । এই মানুষটারে আপনি চিনবেন না এইটা কেন জানি মন মেনে নিতে পারছিল না। আর একটা কথা ছফা আমার জীবন কে দারুন প্রভাবিত করেছে। -
রঙের মানুষ রঙ্গীলা (সুজা)১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:২৪
প্রিয়তে নিয়ে রাখালাম।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন। -
মৌসুমী দত্ত১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:২৮
পোষ্টটি প্রিয়তে নিলাম।
সত্যিই পল গোয়েবলস এর থিওরী বাংলাদেশে সফল হয়েছে।
শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর কিডনাপ প্রসংগের বিষয়টি ব্লগার ফারুক ভাইয়ের কাছ থেকে পূর্বে জেনেছিলাম।
নিয়াজির মিত্রবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পনের বিষয়টি হলো পাকিস্তান কোন ভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্ম-সমর্পন করত না। কারন মুক্তিযোদ্ধারা organized ছিলো না। তারা তাদের আশ্রয় দিতে পারতো না এবং আত্ম-সমর্পন করলে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা নিহত হবার ভয় ছিলো (জেনেভা কনভেনশনে সাইনি না হওয়া )। এছাড়া আমরা মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে বলি, প্রকৃতপক্ষে তারা ভারতের কাছেই পরাজিত হয়েছিলো । ভারত না থাকলে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাকিস্তান কখনওই পরাজিত হতো না। পাকিস্তান তাই তাদের ৯২ হাজার সৈন্যের নিরাপদ আশ্রয় ও নিরাপদভাবে দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য মিত্রবাহিনী প্রধান অরোরার কাছে আত্ম-সমর্পন করেছিলো। কারন ভারতীয় বাহিনী organized, আত্ম-সমর্পন করলে তাদের জীবন সংশয় হবে না এবং তারা নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে পারবে।
ধন্যবাদ এরশাদ ভাই তথ্যমূলক এ পোষ্টটির জন্য।
শুভকামনা রইলো।
-
জামান একুশে১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:২৮
ছোটবেলা থেকেই ঠাকুরমার ঝুলির মতো এইসব গল্প শুনে আসছি। যখন থেকে বিচার বুদ্ধি গজানো শুরু হয়েছে আমার অত্যুৎসাহী মন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে সত্যের সন্ধানে। পরবর্তীতে পল গোয়েবলস সত্য-মিথ্যার মিশ্রিত থিউরি থেকে সত্যিটাকে বুঝে নিতে কষ্ট হয়নি। আপনার এই পোস্ট সত্যিটাকে বুঝে নিতে অনেকের জন্যই সহায়ক হবে। ধন্যবাদ এরশাদ ভাই, লম্বা পোস্ট হলেও আমার এক নিঃশ্বাসে পড়তে এতটুকুও কষ্ট হয়নি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ঝর্ণার গড়িয়ে পড়া পানির মতোই অনায়েসে উপর থেকে নিচে নামতে পেরেছি। ভালো থাকবেন।
আর হ্যাঁ, রোমান্টিক কিছু লিখেন। মাথার মধ্যে এখনতো রাজনীতি ছাড়াও একটু আধটু রোমান্স ঘুরে বেড়ানোর কথা। নতুন ইনিংস শুরু করেছেন। বিদেশ বিভূইয়ে থেকে নাক ছ্যাপা রমনীদের ভীড়ে নিজের প্রিয়ার কথা তো নিশ্চয়ই মনে পড়ে। লিখেই দেখুন না। আমি জানি আপনি যা লিখবেন তাই সাধারণকে ছাড়িয়ে যাবে।
-
দখিনো হাওয়া১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১০:৫৪
ইমো দেয়া প্রেকটিস করছেন নাকি? এই পোস্টে কমেন্ট পরলে মাঝে মাঝে দেখতে আসি। এর মধ্যে ইমো দিয়া দেশ ও জাতিকে ডিস্টাক্ট করা নো গুড(বড় জিহ্বার ইমো হবে, সামু টাইপ) -
হাফিজ১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১১:২০
চাচা আমাদের দেশের প্রকৃত ইতিহাস আমরা যে কত বার বদল করেছি , যার ফলে সঠিক যে কোনটা বুঝা বড় মুসকিল , আজকে লীগ ক্ষমতায় ১৫ আগস্ট সরকারী বন্ধ, আবার বি এন পি আসলে ৭ নভেম্বর বন্ধ। এখন এমন অবস্থা সঠিক ইতিহাস ও মনে হয় বানানো । নিজেদের রাজনীতিতে ফায়দা লুটার জন্য করছে ,
অনেক কষ্ট করে পোস্ট লিখছেন বলে অসংখ্য ধন্যবাদ
.............................
http://omipial.amarblog.com/posts/96269/
নতুন পোস্ট দেখতে পারেন -
িনশাচর১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১২:০২
অনেক পরিশ্রম আর সাধনায় লেখা এটি.......
আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে যে এটি একটি চমৎকার রেফারেন্স যুক্ত লেখা যেটি প্রিয়তে রাখলে নিজের ও অন্যের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে....
সত্যকে জানতে চাই.....
পরিশেষে ধন্যবাদ -
বজগ১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০২:১৭
২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার বিষয়ে ১৯৭১ সালের অনেক আন্তর্জাতিক নিউজ-মিডিয়া, আমেরিকান বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের নানা রিপোর্ট রয়েছে। যা রিপোর্ট করা হয়েছিল সেটা অবিকৃতভাবে দেয়া হলো
এখানে ।
http://www.bangladesh-71.info/portal/
লিস্টের কয়েকটি নাম উল্লেখ করা হল রিপোর্টিং ডেইটসহ:
১. আমেরিকান ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সী (২৬শে মার্চ, ১৯৭১)
২. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট টেলিগ্রাম (৩১শে মার্চ, ১৯৭১)
৩. আমেরিকান সিনেট রিপোর্ট (জুলাই ২৭, ১৯৭১)
৪. নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৭শে মার্চ, ১৯৭১)
৫. ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (২৯শে মার্চ, ১৯৭১)
৬. টাইম, নিউজউইক (৫ই এপ্রিল, ১৯৭১)
৭. বাল্টিমোর সান (৪ই এপ্রিল, ১৯৭১)
৮. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট- রিসার্চ স্টাডি (ফেব্রুয়ারী ২,১৯৭২ -
শেখ আমিনুল ইসলাম১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০৩:৫৮
ধন্যবাদ প্রিয় আশমএরশাদ ভাই।
খুব ভালো লাগল পড়ে।
প্রিয়তে রাখলাম।
কেমন আছেন আপনি? -
শামান সাত্ত্বিক১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৫৪
অফ লাইনে কম বেশি পড়া হয়। অনেক ধন্যবাদ এ গুরুদায়িত্ব পালনে। আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে মিথ্যাকে নির্বাসিত করতে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলো ছড়িয়ে দিতে। আপনি এগিয়ে এসেছেন বলে কৃতজ্ঞ। -
বজগ১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:১১
শেখ হাসিনার ক্ষমতা লাভ ভারতের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। BNP ?????
শেখ হাসিনার ক্ষমতা লাভ ভারতের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। BNP ?????
শেখ হাসিনার ক্ষমতা লাভ ভারতের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। BNP ?????
শেখ হাসিনার ক্ষমতা লাভ ভারতের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। BNP ?????
General Zia ????????????????????????????????????????? -
রকিব হাসান১৬ জানুয়ারি ২০১০, ০১:০০
এরশাদ ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই পোস্টটির জন্য। অনেক কিছুই জানলাম। আর হ্যাঁ আমিও বলব -
"বান্দর হাজার চক্কর মারলেও কলা গাছটাই তার প্রিয়।" এখানে কলা গাছ হল ভুল ইতিহাস।
ভাল থাকবেন। -
আজমান আন্দালিব১৬ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৪২
মেঘনাপাড় স্কুল, লক্ষ্মীপুর থেকে ফেরার পথে বাসে বসে বসে আপনার এই লেখাটি অনেক সময় নিয়ে পড়লাম।
খুব ছোটবেলায় এই গোয়েবলসীয় মিথ্যা সম্পর্কে জানতাম। কিন্তু এগুলোর রেফারেন্স পাইনি। ধন্যবাদ এরশাদ ভাই। চমৎকার লাগল। প্রিয়তে নিলাম। -
ইথার১৬ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৩১
হুমম পড়লাম !! প্রচুর খেটেছেন !!
আচ্ছা একটা জিনিস জানতে ইচ্ছে করছে !!
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে যে বাকশাল প্রথা চালু হয়েছিল । সে কি কারনে ?
আপনার কি মনে হয় ?? অর্থনৈতিক ভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভিন্ন উপায় না অন্য কোন কারন !! যেটা নিয়ে বি এন পি প্রায়ই পানি ঘোলা করে !!
আপনার ভাবনাটা কি ?? একটু বলবেন কি ?? -
পদ্ম১৭ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৩৬
অনেক সিরিয়াস পোষ্ট বলে এসেই চলে গিয়েছিলাম ১ম বার। আজ পড়তে বসলাম। পড়লাম। অনেক লিংক। গোয়েবলসীয় তত্ত্ব আমাদের দেশে কীভাবে যে এত পরিপক্কভাবে ঠাঁই নিলো!!! তবে আমার কাছে পুরো লিখাটি পড়ে এই ব্যাপারে জানার ইচ্ছাটা আরো বাড়লো। আপনাকে ধন্যবাদ বিষয়গুলো তুলে এনেছেন বলে। -
রিসাত২২ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:৪৪
আসতে আসতে পড়বো,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, গভীর পানি পোস্ট মনে হচ্ছে,,,,,,,,,,,,,,,,,,





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
ভেবেছি।
অতঃপর সুস্থ্য ইতিহাস পাবার অপেক্ষায়
আজ জীবনের চল্লিশ টা বসন্ত পেড়িয়ে গেল,
তবু ক্যানো জানিনা, সত্য বচন বা সত্য মানুষের নির্ভরযোগ্য সত্য কথন
আজো পাইনি।
আপনার লিখায় অনেক বিষয় উঠে এসেছে।
বিশেষ করে আমি উপকৃত হলাম।
জেনে মরতে চাই,
না জেনে নয়।
ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধু আশমএরশাদ।