বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

আসছে নতুন বছর

আজ ২৭ ডিসেম্বর৷ আর মাত্র চার দিন৷ আসছে নতুন বছর, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ৷ কালের গহ্বরে তলিয়ে যাবে একটি বছর, ২০০৯৷ কত স্মৃতি আর কত আয়োজন৷ ইশ! কত আনন্দ-বিষাদে ভরা ছিল বছরটি৷ কারও মনে হবে একটি সোনালি বছর বিদায় নিচ্ছে৷ পেছনে তাকালে কারও বুকটা হু হু করে উঠবে৷ এভাবে সাফল্য আর ব্যর্থতা, অর্জন আর হারানোর ওপর নির্ভর করবে মূল্যায়নের রকমফের৷ এটাই বুঝি প্রকৃতির নিয়ম৷ চারপাশে তাকালে বিষয়টা ঠিকই বুঝতে পারি আমরা৷ কোনো কষ্ট হয় না৷ অসুবিধা হয় না৷
বেশির ভাগ শিশু-কিশোরের জন্য নতুন বছর মানেই মহানন্দের বিষয়৷ আমরা কেউ নতুন বিদ্যালয়ে যাব৷ নতুন শ্রেণীতে ভর্তি হব৷ নতুন বই-খাতার গন্ধ নেব৷ সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নতুন জামা৷ নতুন জুতো৷ ভাগ্য ভালো হলে জুটবে নতুন একটি ব্যাগও৷ আবার অনেকে থেকে যাবে আগের শ্রেণীতে, পুরোনো বিদ্যালয়ে৷ তখন বন্ধুর মনে কষ্টের দলা মোচড় মারবে৷ বন্ধুকে ছেড়ে নতুন শ্রেণীতে যেতে ভালো লাগবে না৷
নানা কারণে বন্ধুদের পরীা ভালো হয়নি৷ হয়তো অসুখ ছিল৷ হয়তো পড়াশোনায় মনোযোগ কম ছিল৷ হয়তো টাকার অভাবে মা-বাবা সময়মতো বই-খাতা দিতে কিংবা গৃহশিক রাখতে পারেননি৷ অথবা বাবার বদলিজনিত কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি৷ সে যাই হোক, এ েেত্র বন্ধুর মনোবল চাঙা করতে পরামর্শ দেব আমরা৷ মনে রাখতে হবে 'ব্যর্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি৷' কিংবা বলা যায় 'একবার না পারিলে দেখ শতবার৷'
এই যে ২০০৯ নামের একটি বছর শেষ হলো৷ এটা কিন্তু চটজলদি হয়নি৷ এর মধ্যে আছে অনেক ঘটনা, দুর্ঘটনা৷ অনেক শোক-দুঃখ আমাদের কাতর করেছে৷ অনেকের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব বেড়েছে৷ কারণে কারণে অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে৷ ভুল বুঝে অনেকে দূরে সরে গেছে৷ আবার অনেকে হয়তো দূরে ঠেলেও দিয়েছে৷ আমরা অনেক প্রিয়জন হারিয়েছি৷ এই যে তি, এটা অপূরণীয়৷ তবে এটাকে আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে৷ আমাদের এগিয়ে যেতে হবে৷
এখন আমাদের নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা করতে হবে৷ এ বছর আমরা কী করব৷ আমাদের নিয়মিত কাজ যেমন পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম, সৃজনশীলতার বিকাশ কর্মপরিকল্পনায় থাকবে তেমনি থাকা উচিত পরিবার, সমাজ বা দেশের জন্য কিছু করার অঙ্গীকার৷ কারণ আমরাই পারি চারপাশে আলো ছড়িয়ে অাঁধার তাড়াতে৷ পরিবেশদূষণ, জলবায়ুসংক্রান্ত নেতিবাচক দিক, অমানবিকতা, অসুন্দর আর অকল্যাণের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে৷ জনমত সৃষ্টি করতে হবে৷ খেলার সাথি, সহপাঠী আর ছোট ভাইবোনদের নিয়ে আমরা ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ নিতে পারি৷
ধরা যাক, আমাদের পাড়ার মোড়ে বা বিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে ছিন্নমূল পরিবার শীতে কষ্ট পাচ্ছে৷ সোয়েটার, আলোয়ান, শাল, চাদর, কম্বল, লেপ, তোশক নেই তাদের৷ এ েেত্র আমরা ছোটরা এগিয়ে আসতে পারি৷ বাড়াতে পারি সাহায্যের হাত৷ বাসায় পুরোনো শীতের কাপড় থাকলে ওই পরিবারকে দিতে পারি৷ বাসায় না থাকলে পাড়ার ছেলেমেয়েরা মিলে শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারি৷ তা-ও সম্ভব না হলে আমরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কিংবা ঈদে পাওয়া সালামির নতুন টাকা থেকে চাঁদা দিয়ে পুরোনো শীতবস্ত্র কিনতে পারি৷ এভাবে চারপাশটা বদলে দেওয়া যায়৷ চাই শুধু উদ্যোগ৷
এরই মধ্যে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতি অনেকেরই সম্পন্ন হয়েছে৷ দোকানে শোভা পাচ্ছে কার্ড, ফুল, উপহার কত কী! উপহারের তালিকায় রাখা যায় বর্ষপঞ্জি কিংবা বইও৷ আসলে উপহার নির্বাচনে আমাদের বিচণতার পরিচয় দিতে হবে৷ এমন উপহার কিনতে হবে যা কাজে আসবে৷ যা হবে স্মৃতি-প্রীতির সহচর৷
নববর্ষ সবার জীবনে আনুক অনাবিল সুখ৷ দূর করুক আছে যত শোক-দুখ৷ ছড়িয়ে দিক হাসি খুশি আনন্দ অফুরান৷ যেন সবাই গাইতে পারি জীবনের জয়গান৷

এ লেখাটি ছোটদের জন্য
০ টি মন্তব্য