শুক্রবার ০১ আগস্ট ২০১৪, ১৭ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


ফিরে দেখা বিশ্বচিত্র ২০১১-২০১২ (বিশেষ প্রতিবেদন)

বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধূলা থেকে শুরু করে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিনোদন জগতের অনেক প্রাপ্তি ও হারানোর বছর ছিলো ২০১২।


ঘটনাবহুল এ বছরটিতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও কমতি ছিলো না।বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বড় কয়েকটি অর্জনের বছর ছিল এটি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ: বছরজুড়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্তে’র হাওয়ায় সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদবিরোধী আন্দোলন এবছর ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। গৃহযুদ্ধের সহিংসতা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার সিরীয় শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশ জর্ডান, লেবানন ও তুরস্কে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ আন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়ার পর তা থামাতে প্রেসিডেন্ট বাশার ও বিদ্রোহী পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে কয়েক দফা বৈঠক করে জাতিসংঘ ও আরব লিগের প্রতিনিধিরা।সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়ে অগাস্ট মাসে সিরিয়ায় জাতিসংঘ ও আরব লিগের বিশেষ প্রতিনিধির পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান। তার স্থলে নিযুক্ত হন আলজেরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক লাখদার ব্রাহিমি।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত: নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের হামাস গ্রুপের এক নেতা নিহত হলে গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়। ইসরায়েলের জল, স্থল ও বিমান হামলার বিপরীতে হামাসের রকেট হামলা চলে টানা আট দিন। নভেম্বরের শেষদিকে মিশরের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। আটদিনের সংঘাতে ৩৭ শিশুসহ ১৬২ জন ফিলিস্তিনি ও ৫ ইসরায়েলি নিহত হয়। এর কিছুদিন পরেই জাতিসংঘের ‘পর্যবেক্ষক অঞ্চল’ থেকে ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রে’ উন্নীত হয় ফিলিস্তিন।

ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের ‘রাষ্ট্রের স্বীকৃতি’ লাভ: নভেম্বরের শেষে ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবির প্রতি বিপুল সমর্থন জানিয়ে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র করে নেয়ার পক্ষে রায় দেয় সদস্য দেশগুলো। এর আগে ফিলিস্তিন ‘পর্যবেক্ষক অঞ্চল’ হিসেবে এই বিশ্ব ফোরামের অধিবেশনে যোগ দেয়ার সুযোগ পেত। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পাওয়ায় ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি সাধারণ অধিবেশনের বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন। ফিলিস্তিনের সীমানার দাবিও এক ধরনের স্বীকৃতি পাবে।

মিয়ানমারের জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত:
২০১২ সালের মে মাসে মিয়ানমারের রাখাইনে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর জুনে রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় কয়েক হাজার মানুষ। অক্টোবরের শেষ দিকে দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

দাঙ্গার পর মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগ করে কিছু মানবাধিকার সংস্থা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতা প্রশমনে ‘সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ’র চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করে মিয়ানমার সরকার।

মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা: পাকিস্তানে তালেবান বাহিনী নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় তার প্রতিবাদ করে লেখালেখি শুরু করে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সোয়াত উপত্যকায় চলতি বছরের অক্টোবরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে তালেবান জঙ্গিরা। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মাথায় ও ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ মালালাকে গুরুতর অবস্থায় লন্ডনের বার্মিংহামে এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ্ হয়ে উঠছেন।

এরপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা মালালা মার্কিন ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের শীর্ষ শত চিন্তাবিদের তালিকার ৬ষ্ঠ স্থানে ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের কয়েক হাজার নাগরিক তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য আবেদনে স্বাক্ষর করেন।এই দাবি ফ্রান্সের পার্লামেন্টেও পাস হয়।

বেনগাজির মার্কিন দূতাবাসে হামলা: ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে কথিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ার ও পেন্টগনে হামলার ১১ বছর পূর্তির দিনটিতে মিশরের কায়রো ও লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’।

দূতাবাস ভবনে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়। বেনগাজির হামলায় লিবিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেনসসহ আরো তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন।

পরবর্তী সময়ে এ হামলার সঙ্গে ৯/১১ হামলায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবর প্রকাশ পেলে এ নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাসখানেক আগে এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে যাওয়াও বেশ খানিকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

নির্বাচনের বছর : এবছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা বেশ কয়েকটি দেশের সাধারণ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি ছিল নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফিরছেন বলে অধিকাংশ বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিলেও প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি জনপ্রিয়তায় ওবামার প্রায় সমান অবস্থান তৈরি করে নেন। ফলে নির্বাচনে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডেমোক্রেট প্রার্থী বারাক ওবামা।

চীনের নেতৃত্ব বদল: সমাজতন্ত্রী এ দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় এ বছর। এতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নতুন প্রধান হিসাবে নির্বাচিত হয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের উত্তরসূরী হন শি জিংপিং। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন লি কুহচিয়াং, যিনি উপ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আগামী এক দশক তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার এই দেশ।

মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন: আরব বসন্তের হাওয়ায় তিন দশক ধরে মিশর শাসন করা হোসনি মুবারকের পতনের ১৫ মাস পর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন। দেশটির ৫ হাজার বছরের লিপিবদ্ধ ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশটির জনসাধারণ তাদের পছন্দমতো একজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান নির্বাচনের সুযোগ পায়। এ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট: বছরের শেষদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির সাবেক সেনাশাসক পার্ক চাং হির মেয়ে ও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী পার্ক জিউন-হাই। ১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন জিউন-হাই এর বাবা চাং হি। চাংয়ের সেই অবদানের স্মরণেই অনেকে এবারের নির্বাচনে দেশটির জনগণ ভরসা নিয়ে ভোট দেয় তার মেয়েকে।

জাপান: জাপানে গত ছয় বছরের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা শিনজো অ্যাবে। পাঁচ বছর আগেও আরেকবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

মেক্সিকো: দীর্ঘ সময় মেক্সিকো শাসনকারী পুরনো রাজনৈতিক দল ইনস্টিটিউশনাল রেভ্যুলিউশনারি পার্টির (পিআরআই)প্রার্থী এনরিক পিনা নিয়েতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০০ সালে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগে ৭১ বছর মেক্সিকো শাসন করেছিল পিআরআই। কিন্তু মাদক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্রতার অভিযোগে দলটির জনভিত্তিতে ধস নামে। নতুন মুখ পিনা নিয়েতো দলটির ওই নেতিবাচক ভাবমূর্তি ঘুচিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনলেন।

ভেনেজুয়েলা: অক্টোবরে চতুর্থবারের মতো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজ। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টানা বিজয়ী শ্যাভেজকে হারাতে এবার ৩০টি বিরোধী দল একজোট হয়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে তার নিজস্ব রীতির ‘সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব’ আরো বেগবান করতে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জেতা জরুরী বলে মনে করছিলেন ৫৮ বছর বয়সী এ নেতা।

চলতি বছর শ্যাভেজের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। বন্ধু রাষ্ট্র কিউবায় চিকিৎসা শেষে তিনি আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসেন এবং নির্বাচনে জয়ী হন। তবে বছরের শেষ প্রান্তে এসে তার ক্যান্সার আবারো ছড়িয়ে পড়ায় ডিসেম্বরে চতুর্থবারের মতো ক্যান্সার চিকিৎসায় অস্ত্রেপচার করা হয় শ্যাভেজের। আর এ ঘটনায় নতুন বছরের জানুয়ারিতে আরেক মেয়াদে তার দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হামলা, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বছর : এ বছরের শুরুতেই ইতালির তাস্কান ঊপকূলের গিগলিও দ্বীপের কাছে ৪২০০ যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে প্রমোদতরী ‘কোস্তা কনকর্ডিয়া’। এতে অন্তত ৩২ যাত্রী নিহত হয়। তীরের বেশি কাছাকাছি চলে যাওয়ায় জাহাজের তলদেশে পাথরের আঘাত লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে একটি চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী দিনে সিনেমা হলের ভিতরে এক বন্দুকধারীর আকস্মিক হামলায় ১২ জন নিহত হয়। বছরের শেষে কানেটিকাটের একটি এলিমেন্টারি স্কুলে ঢুকে এক বন্দুকধারী ২০ শিশুসহ ২৮ জনকে হত্যা করে। এসব ঘটনার পরে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরো কঠোর করার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

নিউইয়র্কে ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির তাণ্ডব: অক্টোবর মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব উপকূলে অন্তত ৪৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়ে, বিদ্যুৎ বিতরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড করে দেয় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে স্যান্ডি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে নিউইয়র্ক রাজ্যকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কেবল এ রাজ্যেই নিহত হয় ১৮ জন। দুর্যোগ কবলিত ১৩টি রাজ্যে দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কাটাতে হয় অন্তত ৮০ লাখ মানুষকে।

ফিলিপাইনে বোপার তাণ্ডব: বছরের শেষদিকে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় টাইফুন বোপার আঘাতে হাজারখানেক মানুষ নিহত হয়। গত এক দশকের মধ্যে মিন্দানাওয়ে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল এটি।

ইউরো জোনে অর্থনৈতিক সঙ্কট : ২০১১ সালে ইউরোপ জুড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর দেশগুলোকে বাঁচাতে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো এগিয়ে আসলেও ২০১২ সালেও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইউরো জোনের বেশিরভাগ দেশ। গ্রিস, স্পেন ও ইতালিতে বেকারত্ব সমস্যার কারণে বিক্ষোভ চলেছে প্রায় পুরোটা বছর জুড়েই। এদিকে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে অবৈধভাবে অর্থ চালানের দায়ে বিশাল অংকের জরিমানা গুনতে হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি আন্দোলন : দেশটির ম্যারিকানা এলাকায় একটি প্লাটিনাম খনিতে ধর্মঘট শুরু করায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ৩৪ শ্রমিক নিহত হয়। এতে পুরো দেশজুড়ে খনিশিল্পে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং দেশটির অর্থনীতিতে এ ঘটনার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড়ো সংকট বলে মনে করা হচ্ছে এ ঘটনাকে।

উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপণ : পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা সমাজতান্ত্রিক দেশ উত্তর কোরিয়া এবছর দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ করে। মহাকাশে নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের এ উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে বলে জানায় দেশটি। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, কৃত্রিম উপগ্রহ নয়, বরং দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোই ছিল রকেট উৎক্ষেপণের মূল উদেশ্য।

ভারতে গণধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলন : বছরের শেষভাগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্য আরো ছিল ভারতের দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের আশেপাশের এলাকায় বিক্ষোভরত কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।

অর্জন:

বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বড় বড় কয়েকটি অর্জনের বছর ছিল এটি।

চাঁদের মহাকর্ষ মানচিত্র তৈরি সম্পন্ন: চাঁদের মাটির নিচে কি আছে তা অনুসন্ধানের জন্য এক বছর ধরে চালানো সফল গবেষণা শেষ হয় এ বছর। এরপর সেখানে পাঠানো দুটি ছোট স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান মহাকাশযান ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয় নাসা। গবেষণাগারের সুবিধা সম্পন্ন ওই দুটি যমজ মহাকর্ষ অনুসন্ধান যন্ত্র বা “গ্রাইল” (গ্র্যাভিটি রিকভারি এন্ড ইন্টেরিয়র ল্যাবরেটরি) মহাকাশযান চাঁদের মহাকর্ষ মানচিত্র তৈরির জন্য গত এক বছর ধরে উপগ্রহটির খুব কাছকাছি ঘুরপাক খেয়েছে। ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর চাঁদের উত্তর মেরুর পার্বত্য এলাকায় ওই দুটি গ্রাইল আত্মঘাতী ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের ধ্বংস করে।

প্রথম বেসরকারি রকেট: ২০১২ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গিয়ে মাল সরবরাহ করে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে বেসরকারি কোম্পানি স্পেস এক্স নির্মিত ‘ড্রাগন’ ক্যাপসুল। ১৮ দিন মহাশূন্যে অবস্থানের পরে ২৮ অক্টোবর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে এটি।

এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দামী বিজ্ঞান পুরস্কারে ভূষিত হন বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান গবেষণাগার সার্ন। ব্ল্যাকহোল বিকিরণ নিয়ে কাজের জন্য হকিং এবং হিগস-বোসন সংক্রান্ত গবেষণার জন্য সার্ন এই পুরস্কার পেয়েছে। রাশিয়ার মিলনার ফাউন্ডেশন এই পুরস্কার ঘোষণা করে। ‘ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সপ্রাইজ’ নামের এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ লাখ ডলার।

অলিম্পিকের আসর: জুনে অলিম্পিক গেমসের ৩০তম আসর বসে লন্ডনে। এ শহরটিতে তৃতীয় বারের মতো বসেছিল এ আসর। দূষণমুক্ত গাড়িসহ পরিবেশবান্ধব নানা উপাদান ব্যবহার করায় এবারের অলিম্পিকই এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অলিম্পিকগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ছিল বলে জানায় আয়োজকরা।

অন্যান্য: বিনোদনের জগতেও এবছর অপূর্ব এক ঘটনা ঘটে অস্কার পুরস্কারের আসরে। সবাক যুগের নির্বাক চলচ্চিত্র ‘দ্য আর্টিস্ট’র সেরা চলচ্চিত্র, সেরা নির্মাতা, সেরা অভিনেতাসহ মোট পাঁচটি পুরস্কার জিতে নেয়ায় চুরাশিতম আসরে অস্কার যেন ফিরে গেল তার প্রথম আসরে, ফিরিয়ে আনল নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের সৌন্দর্যের ছটা।

এবছর যুক্তরাজ্যের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসন আরোহণের ৬০তম পূর্তিও পালিত হয়। ২০১১ সালে রাজকীয় বিয়ের পর যুবরাজ উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের সংসারে নতুন অতিথির আগমণের বার্তাও জানা গেছে এবছর। এছাড়া সারা পৃথিবী জুড়ে নানা গুজব ও ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার’ অদ্ভুত ধারণার অবসান ঘটিয়ে মেক্সিকোর ইউকাতান প্রদেশে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের উপস্থিতিতে এক উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রাচীন মায়া সভ্যতার ৫ হাজার ১২৫ বছরের বর্ষপঞ্জি।

২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর চিরবিদায় নেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক ও সুরকার পণ্ডিত রবিশঙ্কর। ভারতীয় সংগীতকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া এ সংগীতজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়াগোর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


২০১২: সেরা দশ প্রযুক্তিপণ্য
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস
গত কয়েক বছরে নাটকীয়ভাবে স্মার্টফোনের বাজার দখল করে নেওয়া স্যামসাং চলতি বছর তাদের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ফোনটি বাজারে ছেড়েছে- গ্যালাক্সি এস৩। ৪.৮ ইঞ্চির অ্যান্ড্রয়েড আইসক্রিম স্যান্ডুইচ চালিত ফোনটি প্রথমবারের আইফোনকে হারিয়ে বাজারের শীর্ষস্থান দখল করেছে। মুক্তির প্রথম তিন মাসে এটি বিক্রি হয় ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিটি, যেখানে আইফোন ৫ বিক্রি হয় ১ কোটি ৬২ লাখ ইউনিট।

আইফোন
এলাম, দেখলাম, জয় করলাম- কথাটি আইফোনের জন্যই প্রযোজ্য। আইফোনের অন্যান্য সংস্করণের মতোই পঞ্চম সংস্করণও প্রযুক্তি বিশ্বকে কাঁপিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে আসে। ৪ ইঞ্চি রেটিনা ডিসপ্লে, এ৬ প্রসেসর, আইওএস ৬, কোয়াড কোর গ্রাফিক্স প্রসেসর একে আইফোন পরিবারের সেরা ফোনে পরিণত করেছে। এখন পর্যন্ত বিক্রির দিক দিয়ে গ্যালাক্সি এস৩’র চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকেই আবার শীর্ষস্থান দখল করতে পারে এটি।

আইপ্যাড ৩
চলতি বছর নিজেদের অন্যান্য পণ্যের মতোই আইপ্যাডকেও পরিপূর্ণ রূপ দিয়েছে অ্যাপল। যার ফলস্বরুপ সেপ্টেম্বরে বাজারে আসে তৃতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড। রেটিনা ডিসপ্লে, কোয়াড কোর গ্রাফিক্স, ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং, এ৫এক্স চিপসেট একে দ্রুত ট্যাবলেট বাজারের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। বাজারে আসার প্রথম তিন দিনেই ৩০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয় আইপ্যাড ৩।
আইপ্যাডের ক্ষুদ্র সংস্করণ (ফ্যাবলেট) আইপ্যাড মিনিও চলতি বছর একই সময়ে বাজারে এসেছে।

মাইক্রোসফট সার্ফেস
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য চলতি বছর নিজেই হার্ডওয়্যার নির্মাণে নেমে গেছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। বছরের শেষদিকে বহু প্রতীক্ষার পর বাজারে আসে উইন্ডোজ ৮ আরটি চালিত মাইক্রোসফট সার্ফেস। কিবোর্ড-মাউসের যুগ পেরিয়ে যে সামনে টাচ যুগের শুরু হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত পরবর্তী প্রজন্মের এই ট্যাবলেট।
তবে এর উইন্ডোজ ৮ প্রো চালিত মূল সংস্করণ সার্ফেস প্রো আগামী জানুয়ারিতে বাজারে আসবে, যা ট্যাবলেট হলেও ক্ষমতার দিক দিয়ে একটি পরিপূর্ণ কম্পিউটারের মতোই হবে। মাইক্রোসফটের মতে, আশির দশকের পর থেকে কম্পিউটার ব্যবহারধারায় এতোবড় পরিবর্তন আর আসেনি।

ম্যাকবুক প্রো উইথ রেটিনা ডিসপ্লে
আইফোনের বিখ্যাত রেটিনা ডিসপ্লে ল্যাপটপেও আনতে যাচ্ছে অ্যাপল, এমন গুজব শোনা গিয়েছিল আগেই। চলতি বছরের মাঝামাঝি তা বাজারে আসে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্ক্রিন রেজ্যুলুশনের ল্যাপটপ এটি। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও তাই দারুণ পাতলা ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের ল্যাপটপটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইন্টেল কোর আই ৭ আইভি ব্রিজ প্রসেসর, ইউএসবি ৩.০, বিল্ট-ইন স্টোরেজ সংবলিত উচ্চগতির ল্যাপটপটিকে প্রযুক্তিবিদরা এযাবৎকালের সবচেয়ে ‘পারফেক্ট’ ল্যাপটপ বলে মন্তব্য করেছেন।

নোকিয়া লুমিয়া ৯২০
মোবাইল বাজারের প্রাক্তন সম্রাট নোকিয়াকে চলতি বছর দেখা গেছে নতুন রূপে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের উন্মাদনার বিপরীতে তারা জোর লড়াই চালিয়ে গেছে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ফোন নিয়ে। বছর শেষে বাজিমাত করেছে উইন্ডোজ ফোন ৮ চালিত লুমিয়া ৯২০ দিয়ে। আকর্ষণীয় ডিসপ্লে, ওয়্যারলেস চার্জিং, এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন), সেন্সিসিটিভ টাচ ইত্যাদি সেরা ফিচার নিয়ে বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোনের সঙ্গে ভালোই পাল্লা দিচ্ছে এটি।

আসুস তাইচি
উইন্ডোজ ৮’র নতুন সব বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে যেসব ব্যতিক্রমধর্মী ডিভাইস বাজারে আসতে শুরু করেছে, তাদের মধ্যে আসুস তাইচি অন্যতম। অত্যন্ত পাতলা এ ডিভাসিটি একই সঙ্গে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট। এর দুই পাশে রয়েছে দুটি স্ক্রিন, যাদের ব্যবহার করে একই ডিভাইসে দুই কম্পিউটার চালানোর স্বাদ পাওয়া যাবে। বাইরের স্ক্রিনটি টাচ হওয়ায় ল্যাপটপের ডালা বন্ধ করলেই তা ট্যাবলেট হয়ে যাবে। কিংবা দুটো স্ক্রিনকে আয়নার মতোও (মিরর মোড) ব্যবহার করা যাবে।

নোকিয়া পিওরভিউ ৮০৮
২০১২ সালের আরেকটি সাড়া জাগানো ফোন নোকিয়া পিওরভিউ। এমনিতে সাধারণ গড়নের এই ফোনটির একটি বৈশিষ্ট্যই চোখ কপালে তোলার মতো- এর ক্যামেরা ৪১ মেগাপিক্সেল! বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ঝড় তোলার জন্য নোকিয়ার এ প্রয়াসটি আরও জনপ্রিয় হতো, যদি এতে অ্যান্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ ফোন ব্যবহার করা হতো। তারপরও এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরা ফোন হিসেবে এটি শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে।

গুগল নেক্সাস
আগামী বছর অ্যান্ড্রয়েডকে বিশ্বব্যাপী আরও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য গুগল নিজেই তৈরি করা শুরু করেছে সবচেয়ে কম মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস। তাই চলতি বছর পরপর বাজারে এসেছে নেক্সাস ৪ (ফোন), নেক্সাস ৭ (ফ্যাবলেট) ও নেক্সাস ১০ (ট্যাবলেট)।. তুলনামূলক শস্তা এই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অ্যাপলের ডিভাইসগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে গুগল আশা করছে। তবে দাম কম হলেও কনফিগারশনের ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করেনি গুগল, যার ফলে অ্যান্ড্রয়েডের শতভাগ পাওয়া যাবে প্রতিটি ডিভাইস থেকেই।

আসুস প্যাডফোন ২
প্যাডফোন ২ দিয়ে আবারও নিজেদের সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে আসুস। অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের দারুণ এই সমন্বয় প্রযুক্তিপ্রেমীরা ভালো না বেসে পারেননি। গ্রাহকদের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজস্ব পণ্য ব্যবহার করানোর জন্য তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানটির এ চমৎকার

২০১১ ও ২০১২-তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্বে যাদের হারিয়েছি

জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিশ্বে বিশেষ অবদান রেখেছেন এরকম অনেককেই আমরা ২০১২ সালে হারিয়েছি। তাদের মধ্যে রয়েছে খুদে প্রযুক্তিবিদ, ক্ল্যাসিক কম্পিউটার নির্মাতা, টিভি রিমোটের উদ্ভাবক, প্রথম মার্কিন নারী নভোচারী, চাঁদে অবতরণকারী প্রথম ব্যক্তি, প্রথম ল্যাপটপ নির্মাতাসহ আরো অনেকেই।

১৬ বছরের মাইক্রোসফট প্রফেশনাল সনদপ্রাপ্ত পাকিস্তানের খুদে প্রযুক্তিবিদ আরফা করিম। আরফা করিমের জন্ম ১৯৯৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে। আরফা, ২০০৫ সালে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের কাছ থেকে ‘ফাতেমা জিন্নাহ স্বর্ণপদক’ গ্রহণ করে ১০ বছরের খুদে আরফা।

এছাড়া ২০০৫ সালে পাকিস্তান ইয়্যুথ অ্যাওয়ার্ড এবং প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয় আরফা। মাত্র নয় বছর বয়সে ২০০৪ সালে আরফা মাইক্রোসফটের (মাইক্রোসফট সার্টিফায়েড প্রফেশনালস) এমসিপি সনদ অর্জন করেন। এত অল্প বয়সে এ সনদের জন্য মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ওই বছরই তাকে মাইক্রোসফট প্রধান কার্যালয় ঘুরে আসার আমন্ত্রণ জানান। সফটওয়্যার শিল্পের মহানায়কের সাক্ষাৎদর্শন পেতে খুদে মাইক্রোসফট প্রফেশনাল আরফাও পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয়ে। বিল গেটস তাকে মাইক্রোসফট অফিস ঘুরে দেখান। আরফা গত ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লাহোরে অবস্থিত সেনা হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিন্তু অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। আরফা কোমায় চলে যায়। হৃদরোগে আক্রান্তের কারণে প্রথমে রক্ত চলাচল এবং পরে ব্রেন অকেজো হয়ে পড়ে।

২৬ দিন কোমায় থাকার পর ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আরফা। এ সময় তার বয়স হয়েছিল মাত্র ১৬ বছর। আরফার অসুস্থতার খবরে বিল গেটস তার সব ধরনের ব্যয় নির্বাহ করার ঘোষণা দেন। এবং উচ্চ চিকিৎসার জন্য আরফাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আরফার অবস্থা ক্রমেই অবনতি হলে এ উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি।

ক্ল্যাসিক কম্পিউটার নির্মাতা :

কম্পিউটার শিল্পের পথপ্রদর্শক জ্যাক ট্রামিয়েল। ট্রামিয়েল ১৯২৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর পোল্যান্ডের একটি ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাকে সহ তার পরিবারকে অশউইৎজ পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে পিতাসহ তাকে হ্যানোভারের নিকটে অবস্থিত এহলেম বন্দীনিবাসে পাঠানো হয?েছিল। এই বন্দীনিবাস থেকে ট্র্যামিয়েলকে ১৯৪৫ সালের এপ্রিল মাসে উদ্ধার করা হয় এবং ১৯৪৭ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। আমেরিকায় এসে প্রথমে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। এখানে তিনি কিভাবে দাপ্তরিক যন্ত্র ঠিক করতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন, এর মধ্যে ছিল টাইপরাইটার। ১৯৫৩ সালে, যখন তিনি একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছিলেন তখন একটি রিপেয়ার শপ ক্রয় করেন। এই দোকানের নাম দেন ‘কমোডোর পোর্টেবল টাইপরাইটার’। .প্রযুক্তির একেবারে পুরোভাগ থাকার কারণে এক সময় তার টাইপরাইটার প্রথমে ক্যালকুলেটর এবং পরে কম্পিউটারে রূপান্তরিত হয়। আশির দশকে; কম্পিউটারের প্রথম যুগেই ঝড় তুলেছিল ট্রামিয়েলের ৮ বিটের এই কমোডোর মেশিন। মাত্র ৬৪ কিলোবাইট মেমোরির এই কম্পিউটারটি বেস্ট সেলিং কম্পিউটারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছিল। আর এ কম্পিউটারটির পেছনে ছিলেন জ্যাক ট্রামিয়েল। ১৯৮৪ সালে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে জোর করে বের করে দেয়া হলে তিনি আটারি ইনকরপোরেটেডের ক্রেতা বিভাগে যোগ দেন এবং আটারি করপোরেশন গড়ে তোলেন। জ্যাক ট্রামিয়েল গত ৮ এপ্রিল হৃদযন্ত্রের ক্রয়া বন্ধ হয়ে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। টিভি রিমোটের উদ্ভাবক : পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে টেলিভিশন।

টিভির এই জনপ্রিয়তার পেছনে সব থেকে বড় ভূমিকা রয়েছে রিমোট কন্ট্রোলের। রিমোটের মাধ্যমে সেই টিভির নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় এনে দেয়ার কৃতিত্ব যার, রিমোটের সেই আবিষ্কারক ইউজিন পল। ইউজিন পল ১৯১৫ সালের ২৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অ্যাডভান্স রাডার নিয়ে কাজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কমার্শিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। ১৯৩৫ সালের দিকে জেনিথ ইলেকট্রনিক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাকে স্টক বয় হিসেবে চাকরি দেয়। চাকরি জীবনের একেবারে শুরুতে ক্যাটালগ বানাতেন ইউজিন। একের পর এক সফলতার পর তাকে এ প্রতিষ্ঠানের প্রডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৫৫ সালে বাজারে এলো অনেকটা বন্দুকের মতো দেখতে তারবিহীন ‘ফ্ল্যাশ -ম্যাটিক’। ,পৃথিবীর প্রথম টিভি রিমোট।

সূর্যের আলোয় বেশি ক্ষণ থাকলেই বিগড়ে যেত রিমোটটি। এই কমতি পূরণ করে ১৯৫৬ সালে এলো আরো উন্নত রিমোট। এটির আবিষ্কর্তাও ইউজিন। আলট্রাসোনিক তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করত এটি। সহজে নষ্ট হতো না। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রণ করা যেত টিভিতে দেখানো ছবির রংও। আশির দশক পর্যন্ত ইউজিনের আবিষ্কার করা প্রযুক্তিতেই তৈরি হতো রিমোট। শুধু রিমোট কন্ট্রোল নয়, ডিভিডির প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কৃতিত্বও তার। ভিডিও ডিস্কে ধাক্কা দেয়ার পদ্ধতিতেও কাজ করেছেন। ফলে আজকে ডিভিডি ড্রাইভে এ ব্যবস্থা যুক্ত আছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি উদ্ভাবনের পেটেন্ট অর্জন করেন।

প্রথম মার্কিন নারী নভোচারী :

আমেরিকার প্রথম নারী মহাকাশচারী স্যালি রাইড। তিনি শুধু প্রথম মার্কিন নারী নভোচারী হিসেবেই পরিচিত নন বরং তিনি আমেরিকার সবচেয়ে কম বয়সী নভোচারীও ছিলেন। স্যালি রাইড ১৯৫১ সালের ২৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে নাসায় যোগ দেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালের ১৮ জুন চ্যালেঞ্জার মহাকাশ যানে করে আমেরিকার প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে প্রথমবারের মতো মহাকাশে পাড়ি জমান। সে সময় তার বয়স ছিল ৩২।

তিনি ছিলেন মহাকাশযান চ্যালেঞ্জার এর এসটিএস-৭ মিশনের একজন সদস্য।

তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মহাকাশে ভ্রমণ করেন ১৯৮৪ সালে একই মহাকাশযান চ্যালেঞ্জারে এসটিএস ৪১-জি মিশনের সদস্য হয়ে। এই ভ্রমণেই প্রথম দুইজন নারী একসাথে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তৃতীয়বারের মতো আরো একবার তার মহাকাশে যাওয়ার কথা থাকলেও ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার মহাকাশযান নষ্ট হয়ে যায়। তিনি প্রায় ৩৫০ ঘণ্টা মহাকাশে অবস্থান করেন। ১৯৮৭ সালে নাসা থেকে অবসর গ্রহণ করার পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির স্পেস ইন্সটিটিউট ফ্যাকাল্টি মেম্বার নিযুক্ত হন। তার নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্যালি রাইড সায়েন্সের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, তিনি ছেলে এবং মেয়েদের মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে উৎসাহী করে তুলতেন তার প্রতিষ্ঠানে। প্রথম মার্কিন নারী নভোচারী স্যালি রাইড (৬১) আর নেই। দীর্ঘ ১৭ মাস অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ভুগে গত ২৩ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

চাঁদে অবতরণকারী প্রথম ব্যক্তি :

চাঁদের বুকে প্রথম পা রাখেন যে ব্যক্তি, তিনি নিল আর্মস্ট্রং। ১৯৩০ সালের ৫ আগস্ট আমেরিকার ওহাইওতে জন্ম নেয়া মি. আর্মস্ট্রং । মাত্র দুবছর বয়সে তিনি তার পিতার সাথে ক্লীভল্যান্ড এয়ার রেস দেখতে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই বিমান চালানোর প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হয়। ১৯৩৬ সালের ২০ জুলাই তিনি প্রথম বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ১৯৫০’র দশকে কোরিয়া যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধবিমান চালান। এরপর ১৯৬২ সালে তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বা নাসায় যোগ দেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ছিল মানব ইতিহাসের সেই স্মরণীয় দিন। নভোযান অ্যাপোলো ইলেভেনের দলনেতা মি. আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের বুকে পা রাখেন তখন পৃথিবীজুড়ে ৫০ কোটি মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় সে দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন। চাঁদের বুকে পা রাখার পর নিল আর্মস্ট্রং যে কথা বলেছিলেন সেটি হচ্ছে মানুষের জন্য এটি ছোট একটি পদক্ষেপ কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট ঘটনা। আজ থেকে ৪৩ বছর আগে চাঁদের বুকে নেমে পৃথিবীর মানুষকে চমকে দিয়ে নিল আর্মস্ট্রং মানবজাতির ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রেখেছেন।

প্রথম ল্যাপটপ নির্মাতা :

বিশ্বে ল্যাপটপ কম্পিউটারের প্রথম নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার বিল মগরিজ।

মগরিজ ১৯৪৩ সালের ২৫ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে মগরিজ ‘গ্রিড কম্পাস’ ডিজাইন করেছিলেন। মগরিজের তৈরি গ্রিড কম্পাসকে বলা হয় টেকনোলজি ইতিহাসের প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার। এখন পর্যন্ত টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর তৈরি করা প্রায় সব ল্যাপটপ কম্পিউটারের সাথে গ্রিড কম্পাসের মিল রয়েছে। ২০০৯ সালে ন্যাশনাল ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড থেকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১০ সালে প্রিন্স ফিলিপ ডিজাইনার্স অ্যাওয়ার্ডও জিতে নিয়েছিলেন বৃটিশ বংশোদ্ভূত এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার। ২০১০ সাল পর্যন্ত কপার-হিউইট, ন্যাশনাল ডিজাইন মিউজিয়ামে পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন মগরিজ।

নির্মম হলেও সত্য, এই প্রযুক্তিবিদ আর বেঁচে নেই। গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে ৬৯ বছর বয়সে মারা যান ক্যান্সারে আক্রান্ত মগরিজ। ন্যাশনাল ডিজাইন মিউজিয়াম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে মিউজিয়ামের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ক্যারোলিন বোমেন বলেন, ‘মিউজিয়াম স্টাফ এবং ডিজাইন দুনিয়ার সবারই প্রিয় মানুষ ছিলেন মগরিজ।

২০১১ তে যাদের হারিয়েছি

২০১১ সালে প্রযুক্তির দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব যাদের মধ্যে রয়েছে এপলের স্টিভ জবস, সি প্রোগ্রামিং ও ইউনিক্স এর জনক ডেনিস রিচি, ই-বুকের জনক ও প্রোজেক্ট গুটেনবার্গ-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল হার্ট। এখানে পাঠকদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিবিদ যাদেরকে প্রযুক্তি বিশ্ব এই বছর হারিয়েছে তাদের তালিকা ও সেরা অবদান জেনে নিই

কেনেথ অলসেন, শীর্ষ নেতা, ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্প
কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পথ পদর্শক ডিজিটাল ইকুইপমেন্টের সহ প্রতিষ্ঠাতা কেনেথ অলসেন ফেব্র“য়ারী মাসে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্প আশির দশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কম্পিউটার কোম্পানী ছিলো এবং কেনেথ ওলসেন ৩৫ বছর ধরে কোম্পানীর হাল ধরেন। ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কোম্পানীটিকে ১৯৯৮ সালে কম্প্যাক কিনে নেয়।

পল বারান, প্রযুক্তিবিদ, প্যাকেট সুইচিং প্রযুক্তির আবিস্কারক
শীতল যুদ্ধের সময়ে পল বারানের আবিস্কৃত প্যাকেট সুইচিং একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ প্রযুক্তি যা ইন্টারনেটের ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করে। এই প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির মাধ্যমে যাকে তথ্যকে ুদ্র ুদ্র ভাগ করে ছড়িয়ে থাকা ও সংযুক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে আদানপ্রদান করা সম্ভব হয় যা ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্সের আরপানেটে ব্যবহৃত হয় এবং সেটিই পরবর্তীতে আজকের ইন্টারনেটে রূপান্তরিত হয়। পল বারানকে দেখা হয় প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম সেরা আবিস্কার হিসেবে এবং তিনি তার অবদানের জন্য মার্কোনি পুরুস্কারের মতো অনেক স্বীকৃতি লাভ করেন। জাতিগতভাবে পোলিশ এই আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ ২০১১ সালের মার্চ মাসে মারা যান।

জিন বার্টিক, প্রথম জেনারেশন কম্পিউটারের প্রোগ্রামার
বেটি জিন জেনিংস বার্টিক ছিলেন এনিয়াক (ঊঘওঅঈ) নামে প্রথম জেনারেশন জেনারেল পারপাস ইলেকট্রিকাল কম্পিউটারের শীর্ষ প্রোগ্রামার। পরবর্তীতে তিনি বাইনাক ও ইউনিভ্যাক নামের প্রথমদিককার কম্পিউটারগুলোর উন্নয়নেও কাজ করেন। তিনি মারা যান মার্চ মাসে।

টম ওয়েস্ট, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডাটা জেনারেল
ডাটা জেনারেলের ৩২বিট মাইক্রোকম্পিউটার টীমের শীর্ষ নেতা ছিলেন টম ওয়েস্ট। ১৯৯৮ সালে টম অবসর গ্রহন করেন ডাটা জেনারেলের চীফ টেকনোলজিস্ট হিসেবে। ৭১ বছর বয়সে ২০১১ সালের মে মাসে এই মেধাবী মৃত্যুবরণ করেন।

জ্যাক কেইল উলফ, ইনফরমেশন থিওরিস্ট
জ্যাক উলফ ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগোর শিক হিসেবে সিগনাল প্রসেসিং গ্র“পের শীর্ষব্যক্তি ও গবেষক হিসেবে কিভাবে বিভিন্ন উৎসের তথ্য দতার সাথে কমপ্রেস করে স্ট্রিম করতে পারে তার উপরে যুগান্তকারী তাত্ত্ব্কি গবেষণা প্রকাশ করেন যা ভিডিও ট্রান্সমিশন সিস্টেম থেকে শুরু করে ফ্যাশ মেমোরী ইত্যাদি অনেক েেত্রই বড় অবদান রাখে। ম্যাগনেটিক রেকর্ডিংয়ের েেত্র উলফের কাজ ছোট ডিভাইস যেমন হার্ডডিস্কে তথ্য রাখার ত্রেকে অনেকটা এগিয়ে দেয়।

দানিয়েল ম্যাকক্রাকেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও বেস্টসেলার প্রযুক্তি বিষয়ক বইয়ের লেখক
১৯৬১ সালে প্রকাশিত এ গাইড টু ফোরট্রান প্রোগ্রামিং সহ আরো ডজন খানেক প্রযুক্তি বিষয় বইয়ের লেখক দানিয়েল ম্যাকক্রাকেন অনেককে কিভাবে কম্পিউটার ব্যাবহার করতে হয় তা শিখানোর জন্য অবদান রেখেছেন। সিটি কলেজ নিউ ইয়র্কের এক সময়ের এই প্রফেসর ২০১১ সালের জুলাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল হার্ট, ই-বুকের জনক
অনেকের কাছে মাইকেল হার্টকে ই-বুকের জনক হিসেবে স্বীকৃত এবং তিনিই ১৯৭১ সালে প্রজেক্ট গুটেনবার্গ প্রতিষ্ঠা করেন ডিকারেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স এর ডিজিটাল কপি প্রকাশের মাধ্যমে। এর পরেই বাইবেল, শেক্সপিয়ারের রচনাবলী ইত্যাদি অনেক বই অনলাইনে চলে আসে প্রোজেক্ট গুটেনবার্গের মাধ্যমে। এই মেধাবী প্রযুক্তিবিদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তার বয়স হয়েছিলো ৬৪ বছর।

স্টিভ জবস, এপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
স্টিভ জবসকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার অবকাশ নেই। ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে অবশেষে ৫৬ বছর বয়সে তার মৃত্যুর সংবাদটি ২০১১ সালের অন্যতম শীর্ষ খবরে পরিণত হয় বিশ্বজুড়েই। তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাইক্রোসফটও স্টিভ জবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের হেডকোয়ার্টারের পতাকা অর্ধনিমিত রাখে।

রবার্ট গ্যালভিন, মটোরোলা
মটোরোলার প্রতিষ্ঠাতা পল গ্যালভিনের সন্তান রবার্ট গ্যালভিন কোম্পানীটিকে দীর্ঘ ২৯ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ওয়্যারলেস ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুল অবদান রেখেছেন। কোম্পানিটির সিইও থাকা অবস্থায় মটোরোলা বহনযোগ্য সেলুলার ফোনের উদাহরন হিসেবে সর্বপ্রথম চাঁদ থেকে পৃথিবীতে শব্দ প্রেরণ করে এবং এরপরেই তারা প্রথম বাণিজ্যিক সেলফোন বিক্রি শুরু করে। এছাড়াও তারা বাজারে আনে টু-ওয়ে রেডিও এবং লেজার বারকোড স্ক্যানারের মতো যুগান্তকারী সব প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির নেতা ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ২০১১ সালের অক্টোবরে।

ডেনিস রিচি, সফটওয়্যার ডেভলপার, সি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ও ইউনিক্সের জনক
ডেনিস রিচিকে বলা হয় ডিজিটাল যুগের অন্যতম ব্যক্তিত্ব যিনি সি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এবং ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম ডেভলপ করেন। রিচির অন্যতম সেরা অবদান হিসেবে দেখা হয় ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমটিকে বিভিন্ন কম্পিউটার ও প্ল্যাটফর্মের উপযোগি করে গড়ে তোলা। কম্পিউটার এ্যাপ্লিকেশন তৈরীতে সি প্রোগ্রামিং যা তার হাতে তৈরী, তার অবদানও অপরিসীম। ডেনিস রিচি অক্টোবর মাসে ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

সুত্র কৃতজ্ঞতা- মাসিক প্রযুক্তি বিসয়ক ম্যাগাজিন “সায়েন্সটেক” ও প্রযুক্তি কম,যায় যায় দিন এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।
বিদায় ঘটন-অঘটন- গুম ও খুনের বছর ২০১২ (বাংলাদেশ)

গুম ও খুনের বছর বলে বিবেচিত নানান কারণে বহুল আলোচিত ২০১২ সাল। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী গুম এবং লোহমর্ষক বেশ কয়েকটি খুনের মধ্যে দিয়ে বিদায় নিতে চলেছে পুরনো এ বছরটি। ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা নিয়ে বছরের সালতামামী।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম, বেডরুমে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, নিজ বাসায় চিকিৎসক নিতাই, বিশ্বজিৎ দাসসহ চাঞ্চল্যকর গুম ও গুপ্তহত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় দেশবাসী আতঙ্ক উদ্বেগের মধ্যে পুরো বছর পার করেছেন। কে কখন গুম হয়ে যায় এই ভয়ে দিন কেটেছে দেশের মানুষের।

জোবায়ের খুন ও ভিসির পদত্যাগ: ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জোবায়ের আহমেদ খুন হন ৯ জানুয়ারি। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্র-শিক্ষকরা। টানা কয়েক মাস আন্দোলনের পর ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে জাবির ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়।

বিশ্বজিৎ হত্যা: বিদায়ী বছরে পুরান ঢাকার দর্জি দোকানদার বিশ্বজিৎ হত্যা ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এ ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজন খুনিকে গ্রেফতার করেছে। ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকাল নয়টার দিকে ঢাকার জজকোর্ট এলাকা থেকে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে গেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আইনজীবীদের ধাওয়া দেন। এ সময় ভিক্টোরিয়া পার্ক-সংলগ্ন একটি তেলের পাম্পের কাছে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাম্পের দিকে ধাওয়া দিয়ে যেতে থাকলে আতঙ্কে পথচারী বিশ্বজিৎ দৌড়ে সেখানকার ‘ইনটেনসিভ ডেন্টাল কেয়ার’ সেন্টারে আশ্রয় নেয়। সেখানে ছাত্রলীগ ক্যাডার শাকিল ওরফে কোপা শাকিলসহ কয়েকজন চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। গুরুত্বর আহত হয়ে পালাতে দৌড়ে দেন বিশ্বজিৎ। দৌড়ে শাঁখারীবাজারের তার দোকানের সামনের গলিতে লুটিয়ে পড়েন। রিকশাচালক রিপন মোল্লা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিশ্বজিৎকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে বিশ্বজিৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ইলিয়াস আলী গুম: গত ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী বনানীর বাসায় ফেরার আগ মুহূর্তে নিখোঁজ হন। গভীর রাতে বনানী ২ নম্বর রোডে সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তার ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে আদালতে একটি রিট করা হয়। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস ও আদালতের নির্দেশের পরও ইলিয়াস আলীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ইলিয়াস আলীর ঘটনাটি এখন আর তদন্তই করছে না র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। আদালতের নির্দেশের পরও ইলিয়াস আলীকে হাজির করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইলিয়াস আলী গুমের পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আদালতে একটি রিট করেন। আদালত দশ দিনের মধ্যে ইলিয়াস আলীকে হাজির করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ডিবি, এসবি, সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনেও তা কার্যকর হয়নি। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দারা। বর্তমানে ইলিয়াস আলী গুম তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। উপরন্তু তার বনানীর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় অবরুদ্ধ পরিবারটির সঙ্গে ভয়ে ঘনিষ্ঠজনরাও দেখা করতে আসছেন না।

সাগর-রুনি হত্যা-: চলতি বছরের আলোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে ছিল ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ফ্ল্যাটের বেডরুমে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হলেও পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের শুরুতে মামলা ধামাচাপা দেয়ার নানামুখী গুঞ্জন উঠতে থাকে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ৪৮ ঘণ্টা, আইজিপির প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতির প্রলাপ এবং সাংবাদিকদের জোরদার আন্দোলনে রাজপথ কাঁপলেও এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়নি। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকা-ে খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং হত্যার কারণ নির্ণয়ে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। পরে আদালত ২২ মার্চ মধ্যে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে আইজিপি ১৭ এপ্রিল আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদন পর্যালোচেনা করে আদালত ডিবি দক্ষিণের ডিসি মনিরুল ইসলামকে গত ১৮ এপ্রিল ডেকে পাঠান। মনিরুল ইসলাম আদালতে গিয়ে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। এরপর মামলাটি র‌্যাবে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ডিএনএ টেস্ট ও কয়েকজন চোরকে গ্রেফতার দেখিয়ে নতুন নাটকের জন্ম দেওয়া হয়। এ ঘটনা এখনো নানা আলোচনা-গুঞ্জনের জন্ম দিচ্ছে।

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা : চলতি বছরের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় আমিনুলের নিজ শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিসিডব্লিউএস) সাভার অফিসের কাছ থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার পুলিশ সদস্যরা টাঙ্গাইলের ব্রাহ্মণশাসন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের রাস্তা থেকে আমিনুলের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় আমিনুলের ডান হাঁটুর নিচে একটি কাপড় বাঁধা ছিল, যাতে জমাটবাঁধা রক্ত এবং তার দুই পায়ের আঙুল থেতলানো ছিল। মামলার তদন্ত করছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ মামলার কোনো ক্লু পাচ্ছেন না তারা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, শ্রমিক আন্দোলনসহ যুক্তরাষ্ট্রের তাগাদা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না প্রশাসন। তাছাড়া এ হত্যাকান্ডের পেছনে সরকারের একটি নিরাপত্তা সংস্থার কতিপয় সদস্য জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিহত আমিনুলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ফাহিমা এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন, আমিনুল নিখোঁজ হওয়ার সময় তার বন্ধু মোস্তাফিজুরকে না পাওয়া যাওয়ায় তিনি ধারণা করছেন, মোস্তাফিজকে ব্যবহার করেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আমিনুলকে অপহরণের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে এবং লাশ গুম করতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ফেলে দিয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে ২০১০ সালেও পুলিশ সদস্যরা বেশ কয়েকবার আমিনুলকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছিল। তিনি জানান, তার স্বামী শ্রমিক সংগঠন বিসিডব্লিউএসের নেতা ছিলেন। এছাড়াও আমিনুল বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটিতে সংগঠক হিসেবে চাকরি করতেন।

চিকিৎসক নেতা খুন: সরকারি বাসায় নিজের ঘরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও চিকিৎসক নেতা নারায়ণ চন্দ্র দত্ত ওরফে নিতাই (৪৭)। ২৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভোররাতে নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণ চন্দ্র জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সাবেক আবাসিক চিকিৎসক, পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যকরী পরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। পুলিশ তথ্যমতে, দোতলার জানালার লোহার শিক বাঁকিয়ে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢোকে। পুলিশের ধারণা, চুরি বা ডাকাতি করতে ঢুকে বাধা পেয়ে খুনের ঘটনা ঘটানো হয়। তবে স্বজন ও সহকর্মী চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকা-।

এ ঘটনায় ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও ক্লিনিকের ম্যানেজারসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যাকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি রড বাঁকানোর দ-, একটি পেরেক তোলা দ-, দুটি ছুরি ও একটি চাপাতি। নিতাই হত্যার সময় নিচের একমাত্র শোবার ঘরটিতে থাকতেন তার বৃদ্ধ মা। ঘটনার রাতে স্ত্রী চিকিৎসক লাকি চৌধুরী ছুটিতে চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন।

সৌদি দূত হত্যাকা-: ৫ মার্চ রাতে গুলশানের ১২০ নম্বর রোডে বাসার অদূরে সৌদি দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (হেড অব সৌদি সিটিজেনস অ্যাফেয়ার্স) খালাফ আল আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৭ মার্চ গুলশান থানার এসআই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নামে একটি খুনের মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ১৪ মার্চ মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর হয়। এই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ৩০ ডিসেম্বর আদালত ঘটনায় সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে।

যশোরের সাংবাদিক জামাল হত্যা: ১৬ জুন পেশাগত কারণে খুন হওয়া সাংবাদিকের নাম জামালউদ্দিন। জামাল যশোর থেকে প্রকাশিত গ্রামের কাগজ পত্রিকার রিপোর্টার ছিলেন। জামাল উদ্দিনকে রাত ১১টার দিকে সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার কাশিপুর বাজারে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও চোখ উঠিয়ে হত্যা করে। জামাল শার্শার সীমান্তবর্তী কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং শার্শা প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছিলেন, রাত ১১টার দিকে কাশিপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন সাংবাদিক জামাল উদ্দীন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তাকে কুপিয়ে, হাত পায়ের রগ কেটে ও চোখ উপড়িয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যায়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিক জামাল উদ্দীনকে মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দিয়েছিল। এ বিষয়ে জামাল উদ্দীন শার্শা থানায় একটি জিডিও করেছিলেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্র নিখোঁজ: গত ৪ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব পরিচয়ে আটক করে নেয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্র আল-মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহের খোঁজ মেলেনি ১১ মাসেও। ঢাকায় ব্যক্তিগত কাজ শেষে হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে এগারোটায় রাজধানীর কল্যাণপুর বাস কাউন্টার থেকে ঝিনাইদহ-৩৭৫০ নম্বর গাড়ির সি-১ ও সি-২ সিটে বসে ক্যাম্পাসে আসার পথে রাত সাড়ে বারোটা থেকে একটার মাঝামাঝি সময়ে সাভারের নবীনগর পৌঁছলে র‌্যাব-৪ এর সদস্য পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামানো হয়। এ সময় র‌্যাবের পোশাক ও সাদা পোশাকধারী ৮-১০ জন ব্যক্তি গাড়িতে উঠে আল-মোকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় বলে তাদের আত্মীয়স্বজনকে নিশ্চিত করেন গাড়িতে অবস্থানকারী যাত্রী ও সুপারভাইজার সুমন। এর পর থেকে র‌্যাবের হাতে আটক দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান পায়নি তাদের পরিবার। র‌্যাব তাদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

সিলেটের ছাত্রনেতা দিনার নিখোঁজ: সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনারকে গত ১ এপ্রিল র‌্যাব আটক করে গুম করেছে বলে অভিযোগ করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। গত ৬ এপ্রিল স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি মামলার আসামি হওয়ায় গত ১ এপ্রিল ঢাকায় আসেন দিনার। রাজধানীর উত্তরায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় তিনি অবস্থান করছিলেন। সেদিন রাতে র‌্যাব ১-এর একটি টিম দিনারকে ওই বাসার সামনে থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

তরুণীর ২৬ টুকরো লাশ: গত ২ জুন নির্মমভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে এক তরুণীকে। পুলিশ তরুণীর ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করে। চেহারা বিকৃত করার জন্য ঘাতক ওই তরুণীর শরীর থেকে চামড়া তুলে ফেলে। রাজধানীর শাহাবাগের হাতিরপুলের নাহার প্লাজার ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। ছাদে গিয়ে খ- খ- বিভৎস লাশের টুকরো দেখতে পায়। সেখানে এক তরুণীর মাথা, দুই হাতের বিচ্ছিন্ন কবজি, বিচ্ছিন্ন স্তন, হাড় থেকে খসানো মাংস, পায়ের উপরের অংশসহ দেহের ১৬ টুকরো উদ্ধার করে। এছাড়াও ছাদ, হোটেল কক্ষের কমোড ও বাড়ির সামনে থেকে অন্যান্য টুকরো গুলো উদ্ধার করা হয়। পরে তরুণীর প্রেমিক বাচ্চুকে গ্রেফতার করা সে পুলিশের কাছে নিজেই খুনের কথা স্বীকার করে।

নিশাত হত্যাকান্ড: ৭ জুন সেগুনবাগিচার তোপখানা রোডের একটি বাড়িতে মাকে হাত-পা-মুখম বেঁধে অজ্ঞাত খুনিরা মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘাতকরা ওই বাসা থেকে বেশকিছু স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও জমির ছয়টি দলিল লুট করে নিয়ে যায়। নিহত নিশাত বানু (৪০) তার মা খালেদা বানুর (৭৩) সঙ্গে তোপখানা রোডের ২৭/১৩/১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের নিজস্ব বাড়ির নিচতলায় বাস করতেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার হলেও পুলিশ তদন্তে ঢিলেমি করছে।

ছিনতাইকারী ঠেকাতে গিয়ে খুন: ৬ এপ্রিল সকালে মিরপুরে ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে হিমু ও উজ্জ্বল নামের দুজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেও তারা কেউই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।

হরতালে গাড়িতে আগুন পুড়ে নিহত: গত ২১ এপ্রিল হরতালের আগের দিন খিলগাঁও থানাধীন মালিবাগ এলাকায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ঈগল পরিবহনের বাসের ভেতর পুড়ে মারা যান চালক বদর আলী বেগ।

এমপি হোস্টেলে তরুণীর লাশ: ২২ এপ্রিল সংসদ ভবন চত্বরে এমপি হোস্টেলের ৬ নম্বর ব্লক থেকে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনো ওই নারীর পরিচয়ই মেলেনি।

বিশ্বজিত খুন : (১০-১২-১২) ছাত্রলীগের কতিপয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিসংসভাবে খুন হলো গরিব খেটে খাওয়া মানুষ (বিশ্বজিত) সরকার ,পুরান ঢাকার দর্জি ব্যবসায়ী বিশ্বজিত দাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যাকারীদের পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি।

খাগড়াছড়িতে দুই ইউপিডিএফকর্মী খুন : খাগড়াছড়ির পানছড়িতে শান্তি চুক্তিবিরোধী পাহাড়িদের সংগঠন ইউপিডিএফের দুই কর্মী সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হয়েছেন। খাগড়াছড়ির জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী দুদুকছড়ি এলাকায় শনিবার সকাল ৮টায় দিকে এ হত্যাকান্ড ঘটে। নিহতরা হলেন- হৃদয় চাকমা (২৬) ও সুনীতি চাকমা (৩৮)।

এই হত্যাকান্ডের জন্য ইউপিডিএফ নেতারা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে। এলাকাবাসী জানায়, দুদুকছড়ি সেতুর পাশে বাজারে একদল অস্ত্রধারী এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই হৃদয় ও সুনীতি মারা যান। এর আগে গত ২০শে সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপিডিএফের দুই কর্মী নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার জন্যও সংগঠনটি জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছিল। তবে জনসংহতি সমিতি সে অভিযোগ প্রত্যাখান করে।

মেয়েকে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে বাবাকে খুন : ডিসেম্বর ২৮ জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় মেয়েকে অপহরণে ব্যর্থ হয়ে বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার ভাটারা গ্রামে কমল উদ্দিনের বাড়িতে এ হামলায় নিহত হন কমল (৭০)।

সরিষাবাড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিম উদ্দিন বলেন, চরপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন কালু (৩০) অনেক দিন ধরে সবুজা খাতুনকে (১৮) উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

বেলা ১১টার দিকে সে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সবুজাকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে তার বাবা কমল তাতে বাধা দেন।

পুলিশ সদস্য খুন : ৭ ডিসেম্বর : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক পুলিশ সদস্য (কনষ্টেবল) কে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।
যুবদল নেতা জসিম খুন : AUGUST 10, 2012 কুমিল্লার গাংচর পূবালী ব্যাংকের সামনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষে চাপাতির আঘাতে মহানগর যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন (৩৫) খুন হয়েছেন।

চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান দুলাল : (14-12-12)পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাড়ির সামনে খুন হয়েছেন জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান দুলাল।

ভান্ডারিয়া থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুলালের ওপর হামলা হয়। দুলাল গৌঁড়িপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে বলেছে, দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে বাংলাদেশে র‌্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাকা- কমলেও গুমের ঘটনা অনেক বেড়েছে। বিচারবহির্ভুত হত্যা ও নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন তদন্ত ও বিচারে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি বলেও মনে করে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধরে নিয়ে গিয়ে গুম করার ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এক ধরনের নির্যাতনের বদলে অন্য ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে এমন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এইরকম হাজারো ঘটনা আছে । যেগুলার রিপোর্ট পাওয়া গেছে । আরও অনেক আছে যেগুলার রিপোর্ট পাওয়া যায় নি ….
http://www.toprealnews.com/?p=11231
২১ টি মন্তব্য
fardousha ফেরদৌসা৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৮
সব কিছু মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০১২ ভাল যায়নি।

২০১৩ ভাল কাটুক সবার।
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০৩
২০১৩ ভাল কাটুক সবার এই কামনা করি।
mdkamruliiuc মুহম্মদ কামরুল হাসান৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
ধন্যবাদ তথ্যগুলো শেয়ার করার জন্য।
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০৫
ধন্যবাদ ।নববষে'র শুভেচ্ছা রইল।ভাল থাকবেন।
shsiddiquee ছাইফুল হুদা ছিদ্দীকি৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪১
অনেক তথ্য এক সংগে, ভালো লাগলো, ভালো কিছু নিয়ে আসুক ২০১৩।
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:১১
নতুন বছরের প্রতিটি দিন হোক শুভ।ধন্যবাদ
Shongkhobas সেলিনা ইসলাম৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪২
২০১২ সালটি খুব খারাপ গেছে এই পোষ্ট তারই কথা মনে করিয়ে দিল । ধন্যবাদ তথ্যবহুল পোষ্ট দেবার জন্য
২০১৩ সালটি যেন সবার ভাল কাটে সেইহোক আমাদের সবার কামনা। শুভেচ্ছা রইল
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:১০
নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল।ভাল থাকবেন।
MainulAmin মাইনুল আমিন৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫০
বহু কষ্টসাধ্য একটি পোস্ট । অনেক তথ্য এক সংগে দিয়ে বিশেষ উপকার করলেন । ভালো লাগলো খুউব ।
ভালো কিছু নিয়ে আসুক ২০১৩। লিখাটি কপি করে নিলাম । পরে সময় পুরোটা পড়ব একসাথে ।

আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রিয়
মু. সুফী আলম ভাই । ভালো থাকুন সবসময় এ প্রত্যাশা ------------------------------
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০৯
মাইনুল আমিন ভাই আপনার মন্তব্যে আমার সাহস বাড়িয়েছে।
pramanik99 শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:১৬
খুব মূল্যবান পোষ্ট
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০৪
ধন্যবাদ আপনাকে।
noisobdo রাশেদুল ফরহাদ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৯:১৫
আশা হতাশা মিলিয়ে তথ্যপূর্ণ একখানা পোষ্ট।

ধন্যবাদ ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০১
নতুন বছরের শুভেচ্ছা
Niloy1073 নির্ঝর নাসির০১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:১৭
শুভ নববষ'।নববষে'র শুভেচ্ছা রইল।নতুন বছরের প্রতিটি দিন হোক শুভ।
sufialam মু. সুফী আলম০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:০০
নববষে'র শুভেচ্ছা রইল।ভাল থাকবেন।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:২১
২০১২ আসলে বেশ ভালো যায়নি।
২০১৩ হোক আপনার সর্বাধিক সাফল্যের বছর।
JAVED79 এম ই জাভেদ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৭
ভাল -মন্দ মিলিয়েই চলবে এই সব দিন রাত্রি । আমার ২০১৩ সাল শুরু হয়েছে খুব বাজে ভাবে।
kamaluddin কামাল উদ্দিন০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ০৯:২২
অসম্ভব পরিশ্রমী পোষ্ট, ধন্যবাদ ।
bashudeb বাসুদেব খাস্তগীর০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:৪৯
তথ্যবহুল অনেক সমৃদ্ধ লেখা্ । অনেক কিছু জানা হলো্‌। অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান পোস্টাটির জন্য।
calvertbrett calvertbrett১৩ মে ২০১৩, ২০:২৬
Yeah, it's just what I need, I'm about to have a new one