শনিবার ২৩ আগস্ট ২০১৪, ৮ ভাদ্র, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


কবিগুরু: বিশ্বমানবের পূর্ণাঙ্গ কবির উপর বাংলাদেশ এবং লালনের সাঁইজির প্রভাব !! ( কবিগুরু জানা-অজানা অধ্যায়-২)


ভাষা শিল্প সাহিত্য সংগীতের শুধু নয় বাঙালির শিল্প-আত্মা সৃষ্টিতে কবিগুরুর ভূমিকা প্রায় জনকের মতো। বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ররি ঠাকুর বিশ্বমানবের পূর্ণাঙ্গ কবি। প্রশ্নজাগে বাংলাদেশে না হলে বা লালন না হলে তিনি কি স্বয়ংসম্পূর্ণ সাহিত্য স্রষ্টা হতে পারতেন?
কলকাতায় বসে রবি ঠাকুর বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রথমদিকের ধারণা অবাক করার মতো। কবিগুরুর ধারনা ছিলো. “ বাংলাদেশ অখ্যাত এক অঞ্চল , অখ্যাত তার কতকগুলো পল্লী, আর পদ্মানদী ছাড়া তার নদী-নালা, খাল-বিলগুলোও অখ্যাত প্রায়।(পৃষ্ঠা-৪২, “শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ”, প্রমথনাথ বিশী, ৪র্থ সংস্করণ, কলিকাতা) .... নরনারী যারা কোনো বিশিষ্ট দেশের অধিবাসী নয়, অন্ধ কল্পনারাজ্যের ছায়া বা উপছায়া মাত্র, কিংবা অনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক জগতের অস্পষ্ট প্রেতমূর্তি মাত্র। ” (প্রাগুক্ত-পৃ-৩৪)
বাংলাদেশ সম্পর্কে রবি ঠাকুরের এ ধারনা বদ্ধমূল হতো তাহলে তা তাঁর বিশ্বজনীনতার বিষটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

কিন্তু ১৮৯১-১৯০১ এ এক দশকে জমিদারি কাজের দেখাশুনার দায়িত্ব পড়ে কবিগুরুর উপর ফলে তাকেঁ প্রায়শ: নদীময় বঙ্গের শিলায়দহ, সাজাদপুর, নদীয়া , পাবনা এবং রাজশাহী জেলায় যেতে হতো। এ সময়ে কবিগুরু বাংলাদেশকে স্বরূপে আবিস্কার করতে শুরু করলেন। বাংলাদেশকে দেখলেন অনুভব করলেন আর পেলেন human habitation and name এর বাস্তব পৃথিবী। সবচেয়ে বড়কথা- একমাত্র বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখেই কবি প্রকৃতির সাথে পরিপূর্ণ একাকার হতে পেরেছেন । বাংলার সব অতিসাধারণ মানুষের বাস্তব পৃথিবীতে কিংবা বাংলাদেশের হৃদয়ের গহীন ভেতরে প্রবেশের চিত্র রবীন্দ্রনাথ অসামান্য সুন্দর করে একেঁছেন তাঁর চিরকালীন “ছিন্নপত্রে” রানি চন্দকে লেখা এক চিঠিতে। কবি লেখেন : “ ছিন্নপত্র যখন লিখছিলুম- তারই সঙ্গে স্রোতের শেওলার মতো ছোটো ছোটো দৃশ্য ঘটনা ভেসে এসেছিল, ধরা পড়েছিল প্রতিদিনকার জীবনে। রসে ভরা ছিল এমনতরো দিনগুলো , যা জীবনে আর আসবে না। দেখেছি দেখিয়েছি সবাইকে তাদের নানা পুজো পার্বণ, বিবাহ, উৎসব, ঘরকন্না। .. বিশ্বের রস আকর্ষণ করেছি, লোকের চিত্ত থেকে, দেশের মাটি থেকে। অত্যন্ত সত্য যে, সে-রকম করে আর কেউ তখন দেখেনি। (আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ- রানি চন্দ, পৃ-১২৬)

রবি ঠাকুর বাংলাদেশের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর জীবনে “বাংলাদেশ” অধ্যায়টি সাহিত্য সৃষ্টির রত্নগর্ভা হয়ে আছে। এ অধ্যায়ের কারণে রবি ঠাকুর তাঁর সাহিত্যে ঝুলিতে অসংখ্য মানিক তুলে নিতে পেরেছিলেন। এ অধ্যায়েই রবি ঠাকুর সৃষ্টি করেছেন করেছেন অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম। কাব্যে সোনার তরী, চৈতালী, ক্ষনিকা, কল্পনা, নৈবদ্য, কথা, চিত্রাঙ্গদা, মালিনী, গান্ধারীর আবেদন, বিদায় অভিশাপ; অসামন্য সব ছোট গল্প এবং কালজয়ী “ছিন্নপত্র”, অনিন্দ্য সুন্দর সব গান আর কত নতুন দৃষ্টির গভীরতর মানবিক চেতনার নবনব আঙ্গিকে সৃষ্টিসম্ভার। রবি ভান্ডারে নদী এবং গ্রামীন জীবন সহ অপরূপ প্রকৃতি বাংলাদেশের হৃদয় হতে পাওয়া তেমনি সংগীতের এক বিশাল অংশ লালনের কাছ থেকে নেয়া।
বাংলাদেশের নদীর স্থান কবির হৃদয়ে স্থায়ী। কবি বলেন, “ আমি প্রথম অনুভব করেছিলুম, যে বাংলাদেশের নদীই ভিতরকার প্রাণের বাণী বহন করে.... বাস্তবিক আমি পদ্মাকে বড়ো ভালোবাসি; ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত, আমার তেমনি পদ্মা-আমার যথার্থ বাহন। -খুব বেশী পোষমানা নয়, কিছু বুনো রকম- কিন্তু ওর পিঠে এবং কাঁধে হাত বুলিয়ে ওকে আমার আদর করতে ইচ্ছে করে।. . . পদ্মা আমার পক্ষে সত্যিকার একটি স্বতন্ত্র মানুষের মতো। .. ছিপছিপে মেয়ের মতো, নরম শাড়িটি বেশ গায়ের গতির সঙ্গে বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে। ”
পদ্মাকে নিয়ে এত প্রাণবন্ত বর্ণনা আর কোন কবি দিয়েছেন আমার জানা নেই। কেবল নদী নয় নিসর্গ-প্রকৃতি আর এর সাথে ওতপ্রোত মানবজীবনকে দেখে কবি দারুনভাবে অভিভূত হয়েছিলেন।
কবি অবশেষে লিখলেন চড়ান্ত কথাটি, “ পৃথিবী যে কী আশ্চর্য সুন্দর এবং কী প্রশস্তপ্রাণ এবং গভীরভাবে পরিপূর্ণতা এইখানে না এলে মনে পড়ে না।.... এ নদীর উপরে, মাঠের উপরে, গ্রামের উপরে সন্ধ্যাটা কী চমৎকার, কী প্রকান্ড, কী প্রশান্ত, কী অগাধ। ”
তাছাড়া গ্রাম বাংলা কবিকে কম প্রভাবিত করেনি। কবি লিখছেন, ‘ওখানটিতে ছোট গ্রাম এবং গুটিকতেক গাছ, এক তীরে পরিপক্বপ্রায় ধানের ক্ষেত, নদীর উঁচু পাড়ের ওপর পাঁচ ছয়টি গরু ল্যাজ, দিয়ে মাছি তাড়াতে তাড়াতে কচমচ্ করে ঘাস খাচ্ছে, অন্য তীরে শুন্য মাঠ ধু-ধু করছে-নদীর জলে শ্যাওলা ভাসছে, মাঝে মাজে জেলেদের বাঁশপোঁতা, বাশেঁর উপর মাছরাঙা পাখি ছবির মতো স্থির হয়ে বসে রয়েছে। আকাশে উজ্জ্বল রোদ্রে একপাল চিল উড়ছে . . .।”
বাংলাদেশের অপরূপ প্রকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কবি সর্বোচ্চ আবেগের পরিচয় দিয়েছেন,-
“ আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি,
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী।।
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আখিঁ না ফিরে।।
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে।।

অবাক করার মতো বিষয় - রবি ঠাকুর হতভাগ্য মানুষের কথা কখনো ভুলে যাননি। লিখছিলেন, “ আমার এই দরিদ্র হতাভাগ্য, চাষি প্রজাগুলো দেখলে ভারী মায়া করে-এরা যেন বিধাতার সৃষ্টি শিশু-সন্তানের মতো নিরুপায়।” ঠিক অস্থির মন নিয়ে কবি গুরু লালনের “মানুষ-রতনে”এর বাউল দর্শনের সংস্পর্শে আসেন। এর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে পূণ্যাহ উপলক্ষে শিলাইদহে চিরাচরিত প্রথা ভেংগে হিন্দু-মুসলমান-ব্রাম্মন-চন্ডাল সবাইকে এক আসনে বসালেন, নিজে গিয়ে বসলেন সবার মাঝখানে। সকল মানুষকে এক করে দেখার এ সপ্রাণ অনুরাগ আর মনুষ্যত্বসাধনা বাংলার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি বিশের কবে বাউল সম্প্রদায়ের “মানুষ-রতনে”র অনুসন্ধানেরর প্রবণতার প্রভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।
কবিগুরু লালনের কেবল গানের ভক্ত ছিলেন তা নয় বরং লালনের মূল দর্শন “মানুষ-রতনে”র দ্বারা দারুনভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। কবির জীবন দর্শনের সঙ্গে বাউল সাধকদের জীবন-দর্শন এর এক গভীর আত্মিক সংযোগ ছিল। সে সংযোগ হলো সমস্ত সামাজিক সংস্কার, বিধিনিষেধ, প্রথা, রীতি-নীতির বাইরে একান্ত সহজভাবে “রূপের মধ্যে অরূপের” এবং “সীমার মধ্যে অসীমের জন্য ব্যাকুলতা।” তাইতে কবি দশম কংগ্রেস ভাষণে (১৯২৫) বাউল দর্শনকে The Philosophy of People বলে অবিহিত করেন। আর Oxford এ দেয়া “The Religion of Man” শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতায় এদের দর্শনের কাছে তাঁর স্বীকার করেছেন অকুণ্ঠচিত্তে। কবিগুরু সর্বপ্রথম বিশ্বভারতীতে লালনের গান খাতা সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। কবি (না দেখেই) লালনের এত ভক্তছিলেন যে, এক পর্যায়ে কবিগুরু লালন সাঁইকে কলিকাতা যাওয়ার আমন্ত্রন জানান কিন্তু লালন আখড়া ছেড়ে আসতে রাজী হননি।
কবির জীবন দর্শন, সাহিত্য বিশেষকরে সংগীতে লালনের বাউলিয়ানার বিশেষ প্রভাব অনস্বীকার্য । কবিগুরুর অনেক কালজয়ী গানের কথায় এবং গানের সুরে লালনের বাউলিয়ানার প্রভাব সুস্পষ্ট। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বয়াতি মুহাম্মদ মনসুর উদ্দীন এর“হারামনি”(১৯৩০) গ্রন্থের ভূমিকায় কবিগুরু বিষয়টি একেবারে পরিস্কার করে দেন ,“ আমার অনেক গানে আমি বাউল সুর গ্রহন করেছি... আমার অনেক গান বাউল ছাঁচের.. । ” বাউলিয়ানার প্রভাব কবিগুরুর উপর এত বেশী ছিলে যে তিনি নিজেকে বাউল বলেই পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করলেন, “ সেগুলো (সংগীত) স্পষ্টত রবীন্দ্র বাউলের লেখা।” (কাছের মানুষ রবীন্দ্রনাথ- নন্দগোপাল সেনগুপ্ত-কলিকাতা)
কালজয়ী সংগীত গুলোর কয়েকটা উদ্ধৃত করছি, “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে”, “নিশিদিন ভরসা রাখিস্”, “ও আমার দেশের মাটি”, “ পাগলা হাওয়া বাদল দিনে”, “আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণ”, আমার নাইবা হলো পারে যাওয়া”, “ডাকব না ডাকব না”, “আমি তখন ছিলেম মগন”, “আমার প্রাণে মাঝে সুধা আছে”, “আমি যখন ছিলেম অন্ধ” ইত্যাদি।
সবচেয়ে বড়কথা আমাদের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” গানটি একেবারে খাটিঁ বাউলিয়ানা সুরের গান- এ গান রবীন্দ্রনাথ একেবারে বাংলাদেশের হৃদয় হতে তুলে এনেছিলেন। এ গানটি ছিল আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিল নিরন্তর প্রেরণার উৎস। শুধুই কি তাই এ বাউলিয়ানা ঘরানার গানটি ২০০৬ সালের বিবিসির শ্রোতা জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ট বাংলা গানের মর্যদা লাভ করেছে। বাংলাদেশের নদী-প্রকৃতি এবং লালন দর্শন কবিগুরুর গূঢ় চেতনা এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনায়ন করে। যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-দেশ এর মতো ক্ষুদ্রতা ছাড়িয়ে পৃথিবী আর তার মানুষ হয়ে উঠল দুরত্বমুক্ত একটি বিশ্বের মানবজাতি।


তথ্যসূত্র: এক. আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ- রানি চন্দ।
দুই. তর্ক-তদন্তে পাওয়া রবীন্দ্রনাথ,
শামসুজ্জমান খান,
অনিন্দ্য প্রকাশ, ঢাকা-১১০০।
তিন. বাঙলা সাহিত্য সমালোচনা, আফজালুল বাসার, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
চার. “শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ”, প্রমথনাথ বিশী, ৪র্থ সংস্করণ, কলিকাতা)
২০ টি মন্তব্য
shmongmarma এস এইচ মং মারমা০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩:৪০
একমাত্র বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখেই কবি প্রকৃতির সাথে পরিপূর্ণ একাকার হতে পেরেছেন । বাংলার সব অতিসাধারণ মানুষের বাস্তব পৃথিবীতে কিংবা বাংলাদেশের হৃদয়ের গহীন ভেতরে প্রবেশের চিত্র রবীন্দ্রনাথ অসামান্য সুন্দর করে একেঁছেন তাঁর চিরকালীন “ছিন্নপত্রে” রানি চন্দকে লেখা এক চিঠিতে।

কবি গুরু কে নিয়ে লেখাটা ভাল লেগেছে ।অনেক ধন্যবাদ প্রিয় বাবলা ভাই । ভাল থাকবেন। শুভেচ্ছা নেবেন।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৫:৪০
মারমা ভাই,
পড়ে মন্তব্য করার ধন্যবাদ।
মন্তব্য পড়ে বেশ উৎসাহিত হলাম।

আপনার জন্য শুভকামনা।
KohiNoor মেজদা০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৫:৩২
ভেঙ্গে মোর ঘরে চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে
ও বন্ধু আমার
না পেয়ে তোমার দেখা একা একা
দিন যে আমার কাটেনা রে।

এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাউলাংগের গান।
যার জন্য রবীন্দ্রনাথ নিজেকে শেষের রবি বাউল বলে পরিচয় দিতেন।

আর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” এই গানটি শিলাইদহের এক ডাকপিয়ন যিনি নিজেকে গগন ডাকহরকরা নামে পরিচয় দিতেন তার একটা বাউল গান “আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে” গান রবিন্দ্রনাথ সামনাসামনি গগন ডাকহরকরার কণ্ঠে শুনে সেই গানের সুরে আমার সোনার বাংলা নামে দেশাত্মবোধক গান লেখেন।

খুব সুন্দর লাগলো আপনার এমন তথ্যমুলক জানা-অজানা লেখাটি পরে।
অনেক ধন্যবাদ জমির ভাই।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৫:৪২
গুরু,
আর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” এই গানটি শিলাইদহের এক ডাকপিয়ন যিনি নিজেকে গগন ডাকহরকরা নামে পরিচয় দিতেন তার একটা বাউল গান “আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে” গান রবিন্দ্রনাথ সামনাসামনি গগন ডাকহরকরার কণ্ঠে শুনে সেই গানের সুরে আমার সোনার বাংলা নামে দেশাত্মবোধক গান লেখেন।
আমার কথাগুলো বিস্তারিত লিখে দিলেন। আপার পোস্টটাকে আরো সমৃদ্ধ করে দিলেন।
আপনার মন্তব্য বেশ উৎসাহ দিল।

আপনার জন্য শ্রদ্ধা।
KohiNoor মেজদা০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:০৮
Rabbani রব্বানী চৌধুরী০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৫:৫০
ধন্যবাদ হায়দার ভাই. মূল্যবান একটি পোষ্ট শেয়ার করার জন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার সব চাইতে প্রিয় কবি এ লেখক, সেই সাথে লালন শাহও। জানা হলো অনেক অজানা কথা এই বড় মাপের এই দুই মানুষকে নিয়ে। পরের অধ্যায়ের অপেক্ষায়। শুভেচ্ছা জানবেন। ভালো থাকবেন।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৫:৫৯
রব্বানী ভাই,
মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিত করলেন।
প্রিয় ব্লগার আশরাফূল বলেছিলেন কবিগুরুকে নিয়ে সিরিজটা চালানো কিছুটা শ্রমসাধ্য।
আসলেই তাই। কবিগুরুকে নিয়ে নতুন করে পোস্ট দেয়ার জন্য প্রচুর নির্ভরযোগ্যেএবং তথ্যবহুল বই পড়তে হয়। প্রতিটি পোস্ট দিতে দুই থেকে তিনটা বা তারো বেশী বই পড়তে হয়। আপনাদের উৎসাহ পেলে বাকী অধ্যায়গুলো পোস্ট করব।


আপনার জন্য শুভকামনা।
MainulAmin মাইনুল আমিন০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:০৭
প্রিয় কবি এবং লেখক জমির হায়দার ভাই
অনেক অনেক শুভেচ্ছা -------------প্রিয় কবি কে ।


সবচেয়ে বড়কথা আমাদের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” গানটি একেবারে খাটিঁ বাউলিয়ানা সুরের গান- এ গান রবীন্দ্রনাথ একেবারে বাংলাদেশের হৃদয় হতে তুলে এনেছিলেন। এ গানটি ছিল আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিল নিরন্তর প্রেরণার উৎস।

এ ছাড়া ভারতের জাতীয় সঙ্গীতটিও কবিগুরুর লিখা এবং সম্ভবত শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীতটিও নাকি কবিগুরুর লিখা । সব মিলিয়ে বিশ্বে এমনই একজন ভাগ্যবান এবং গৌরবময় কবি যিনি, তিনি আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ।

অসাধারণ তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট প্রিয় কবি জমির হায়দার ভাই । অনেক কিছু শিখলাম । আপনাকে অশেষ কৃতজ্ঞতা মূল্যবান প্রবন্ধটির জন্যে । অনেক পরিশ্রম করে এটি তৈরী করেছেন । আপনার পরিশ্রম সার্থক হোক সফল হোক এ কামনা ----------------
ভালো থাকুন সুন্দর ঠাকু সবসময় -------আরও আরও লিখুন আমাদের জন্যে এমন মূল্যবান তথ্য ও দিলিল ।
আপনার জন্যে অবিরাম শুভকামনা প্রিয় কবি এবং লেখক জমির হায়দার ভাই------------------------
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:২৬
এ ছাড়া ভারতের জাতীয় সঙ্গীতটিও কবিগুরুর লিখা এবং সম্ভবত শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীতটিও নাকি কবিগুরুর লিখা । সব মিলিয়ে বিশ্বে এমনই একজন ভাগ্যবান এবং গৌরবময় কবি যিনি, তিনি আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ।

কবিগুরুকে নিয়ে লিখতে বসলে ভয় হয়। অধম কার উপর লিখছি ? ছাইপাশ হলো কিনা? ইত্যাদি ভয় থাকেই। তবু লোভ সামাল দেয়া কঠিন হয়। কবিগুরুকে নিয়ে নতুন করে পোস্ট দেয়ার জন্য প্রচুর নির্ভরযোগ্যেএবং তথ্যবহুল বই পড়তে হয়। প্রতিটি পোস্ট দিতে দুই থেকে তিনটা বা তারো বেশী বই পড়তে হয়। আপনাদের উৎসাহ পেলে বাকী অধ্যায়গুলো পোস্ট করব।

আপনার মন্তব্যের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা থাকলো।
MainulAmin মাইনুল আমিন০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:১২
শ্রদ্ধাপ্রিয় কবি জমির হায়দার ভাই
অনেক অনেক ভালোবাসা জানবেন । আপনার পোস্টের জন্যে হা হয়ে থাকি । বলতে গেলে, আপনি প্রিয় আলো ব্লগে নতুন প্রানের সঞ্চার করেছেন । অনেকেই গবেষণামূলক পোস্ট দেন এবং দিচ্ছেন প্রতিদিন । কিন্তু আপনার ভাষাময় ব্যঞ্জনা লিখাকে এমন প্রাঞ্জল্য করে তোলে যে, তা প্রতি শব্দ না পড়ে থাকা যায় না । শিক্ষক অনেকেই হয় কিন্তু শব্দের ঝংকার তুলে সহজবোধ্য ছন্দের দোলা তুলে আপনিই পারেন তা পাঠকের হৃদয়ের মনিকোঠায় প্রবেশ করিয়ে দিতে । এটা একান্তই আপনার নিজস্ব গুণ এবং ব্যক্তিগত কারিশমা ।

অনুমতি মতি পেলে পোস্টটি পেস্ট করে নিতে চাই প্লিজ ! ব্লগে আপনার এবং মাইনউদ্দিন মইনুল এ দুজনই বিশেষ করে গবেষণা পোস্টগুলেতে এখন পর্যন্ত এগিয়ে । আপনার কাছ থেকে এ ধরণের পোস্ট নিয়মিত আশা করছি । আশা করি আমরা বঞ্চিত হবো না । অবশ্যই অবশ্যই চালিয়ে যাবেন প্লিজ !!! প্লিজ !!
ভালো থাকুন সবসময় -------------------------------
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২২
অনুমতি মতি পেলে পোস্টটি পেস্ট করে নিতে চাই প্লিজ ! ব্লগে আপনার এবং মাইনউদ্দিন মইনুল এ দুজনই বিশেষ করে গবেষণা পোস্টগুলেতে এখন পর্যন্ত এগিয়ে । আপনার কাছ থেকে এ ধরণের পোস্ট নিয়মিত আশা করছি । আশা করি আমরা বঞ্চিত হবো না । অবশ্যই অবশ্যই চালিয়ে যাবেন প্লিজ !!! প্লিজ !!

প্রিয় কবি মাইনুল আমিন,
“অনুমতি মতি পেলে পোস্টটি পেস্ট করে নিতে চাই প্লিজ !”
অধম এত সম্মানের যোগ্য নয়। যে কোন লেখা কপি করে নিবেন। যেখানে দুর্বলতা আছে লিখে দিবেন। আপনাদের সংশোধনী অনেকের গতানুগতিক (পড়ে না পড়ে) ধন্যবাদের তুলনায় লক্ষ গুন বেশী গুরুত্বপূর্ণ। অধমের লেখা আপনাদের মত কবিদের ছোঁয়া পাবে। ব্লগে এর চেয়ে বেশী পাওয়ার নেই। আজকের পোস্ট লিখতে চারটি বই প্রায় তিন দিন সময় ধরে লিখেছি। এখন মনে হচ্ছে লেখা সার্থক।
আপনার জন্য শ্রদ্ধা।
sopnerdin45 এনামুল রেজা০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
অসাধারণ একটা লেখা। গ্রেট এপ্রোচ জমির ভাই। শুভেচ্ছা।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২৯
অসাধারণ একটা লেখা। গ্রেট এপ্রোচ জমির ভাই। শুভেচ্ছা।
প্রিয় অরিত্র,
আজকের পোস্ট লিখতে চারটি বই পড়ে প্রায় তিন দিন সময় ধরে লিখেছি।
এধরনের লেখার পাঠক খুব বেশী নেই। তা জেনেই লিখে যাচ্ছি।
আপনি লেখা পড়েছেন। অধমের জন্য বড় প্রাপ্তি।

আপনার জন্য শুভকামনা।
Maeen মাঈনউদ্দিন মইনুল০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:০১
অনেক দিন পর বাবলা ভাইয়ের টাইপের একটা লেখা পেলাম। (আচ্ছা ১ নম্বরটা আমি পড়তে পারলাম না কেন?)

“রবি ঠাকুর বাংলাদেশের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর জীবনে “বাংলাদেশ” অধ্যায়টি সাহিত্য সৃষ্টির রত্নগর্ভা হয়ে আছে।”


রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশকেও রত্মগর্ভা করেছেন। লেখাটি প্রিয়’তে রাখলাম। ভবিষ্যতে উদ্ধৃতি করার জন্য।

প্রিয় জমির হায়দার বাবলা ভাইকে অভিনন্দন জানাই বিশ্লেষণী একটি পোস্ট দেবার জন্য।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৩৮
“রবি ঠাকুর বাংলাদেশের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর জীবনে “বাংলাদেশ” অধ্যায়টি সাহিত্য সৃষ্টির রত্নগর্ভা হয়ে আছে।”

রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশকেও রত্মগর্ভা করেছেন। লেখাটি প্রিয়’তে রাখলাম। ভবিষ্যতে উদ্ধৃতি করার জন্য।


প্রিয়তে রেখেছেন জেনে বেশ উৎসাহিত বোধ করছি। আপনার পড়ার সময় এ পোস্ট ছিল মাত্র ৭০ বার পঠিত! কিছুটা বিস্মত হলাম। এ লেখা তৈরি করার সময় তিনদিন চারটা বই পড়েছি। যাক, আপনার মন্তব্য আমাকে প্রাণ ফিরিয়ে দিল।

কারণ কবিগুরুকে নিয়ে নতুন কিছু লিখতে গেলে সাম্প্রতিক গবেষনার বই দরকার । তাছাড়া ব্লগে রবি প্রেমিক আছেন অনেক ভুল তথ্য দেয়ার সুযোগ নেই।
মন্তব্য করে বাধিত করলেন।

bashudeb বাসুদেব খাস্তগীর০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১১
রবি ঠাকুর বাংলাদেশের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর জীবনে “বাংলাদেশ” অধ্যায়টি সাহিত্য সৃষ্টির রত্নগর্ভা হয়ে আছে। এ অধ্যায়ের কারণে রবি ঠাকুর তাঁর সাহিত্যে ঝুলিতে অসংখ্য মানিক তুলে নিতে পেরেছিলেন

ধন্যবাদ বাবলা ভাই্ ।আপনারসুখ পাঠ্য নিবন্ধের জন্য। রবীন্দ্রনাথ ভীষণ ভাবে লালনে প্রভাবিত।তাঁর অনেক লেখায় লালনের চিন্তা চেতনা গভীর ভাবে প্রতিফলিত।বিশেষ করে সংগীত।লালনের পূণ্যভূমি কুষ্টিয়ায় এসে রবীন্দ্রনাথ লালনে মুগ্ধ হন।আপনার তথ্যবহুল লেখাটি রবীন্দ্র সাহিত্যপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে নিশ্চয়ই।আমার খুব ভালো লেগেছে। আরো আপনার লেখার প্রত্যাশায় রইলাম।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:০৮
ধন্যবাদ বাবলা ভাই্ ।আপনারসুখ পাঠ্য নিবন্ধের জন্য। রবীন্দ্রনাথ ভীষণ ভাবে লালনে প্রভাবিত।তাঁর অনেক লেখায় লালনের চিন্তা চেতনা গভীর ভাবে প্রতিফলিত।বিশেষ করে সংগীত।লালনের পূণ্যভূমি কুষ্টিয়ায় এসে রবীন্দ্রনাথ লালনে মুগ্ধ হন।আপনার তথ্যবহুল লেখাটি রবীন্দ্র সাহিত্যপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে নিশ্চয়ই।আমার খুব ভালো লেগেছে। আরো আপনার লেখার প্রত্যাশায় রইলাম।

দারুন লিখেছেন বাসুদা।
লেখাটি তৈরি করতে বেশ সময় লেগেছিল। সে অনুযায়ী পাঠক পেলাম না। যাই হোক আপনার মন্তব্য পেয়ে কিছুটা সার্থক মনে হচ্ছে।

আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।
atanu111 অতনু ১১১২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:০৬
জমির ভাই, আপনার রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এ লেখাটা ভাল হয়েছে । গুরুদেবকে নিয়া লেখা আমার খুব ভাল লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে ।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৯ মে ২০১৩, ২১:১১
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। (উত্তর দিতে দেরী হলো বলে দু:খিত)
শ্রদ্ধা জানবেন।
calvertbrett calvertbrett১৩ মে ২০১৩, ২০:২৫
Yeah, it's just what I need, I'm about to have a new one

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment