আট সন্তানের মধ্যে পাচঁ জনই প্রতিবন্দী!

প্রতিবন্দী পাঁচ সন্তান নিয়ে করুণ জীবন যাপন করছেন এক বৃধবা নারী
আট সন্তানের মধ্যে পাঁচজনই বিকলাঙ্গ ও বাক প্রতিবন্দী! অভাবের সংসার। বাবা অন্যের জমিতে চাষ করে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতেন। প্রায় তিন বছর হল বাবা আব্দুল জলিল মারা গেছেন।
মা বিধবা আলিমুন নেছা। এখন অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন।
আর সুস্থ্য তিনটি সন্তানের মধ্যে আব্দুস সামাদ সপ্তম শ্রেনীতে লেখাপড়া করছে এবং জামিল আহমদ মাদ্রাসায় ৩য় শ্রেনী ও তাছলিমা বেগম ২য় শ্রেনীতে লেখা-পড়া করছে।
প্রতিবন্দী দুই জনের জন্য সরকারি ভাতা হিসেবে তিন মাস পর মাত্র নয় শ’ টাকা বরাদ্ধ!
এলাকাবাসী ও কিছু প্রবাসীরা মাঝে মধ্যে সাহায্য করে থাকেন। বাড়িতে ভিটা ছাড়া আর কোন জমি-জামা নেই তাদের।
জানা গেছে, প্রায় পচিশ বছর পূর্বে আলিমুন নেছার বিয়ে হয় চাচাতো ভাই আব্দুল জলিলের সাথে। বিয়ের পর সুস্থ সবল অবস্থায় তাদের ঘরে জন্ম নেয় ১টি কন্যা সন্তান, তার নাম রাখা হয় হাজেরা বেগম। বর্তমানে তার বয়স ২৪ বছর।
আলিমুন নেছা জানান, হাজেরা সুস্থ অবস্থায় জন্ম নিলেও অন্য সব শিশুর মত স্বাভাবিক আচরন করেনি। তার বয়স যখন দুই বছর অর্থাৎ মুখে কথা বলার সময় তখন এক রাতে হঠাৎ তার শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। তাকে স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু তার শরীর থেকে জ্বর কমার সাথে সাথে পা ও কোমর ছোট হয়ে যায় এরপর বড় হওয়ার সাথে সাথে সে একজন প্রতিবন্ধি শিশুর মত বেড়ে উঠে।
হাজেরার জন্মের ছয় বছর পর তাদের ঘরে একে একে জন্ম নেয় আরো চারটি সন্তান রুবেনা, আজিজ, সুবেনা ও সাবিনা। এই চার সন্তান সুস্থ অবস্থায় জন্ম নিলেও হাজেরার মত কথা বলার বয়স থেকে তাদের প্রত্যেকেরই জ্বর আসে। তাদেরকেও চিকিৎসা করানো হয়। তবে তারাও এক সময় প্রতিবন্ধি শিশুতে পরিণত হয়। এজন্য আব্দুল জলিল দম্পতি তার সাধ্যানুযায়ী সব ধরনের চিকিৎসা করান। কিন্তু তার পাঁচ সন্তানের কেউই আর সুস্থ হয়ে উঠেনি।
এরপর তাদের ঘরে মজিদ ও জেবিনা নামের আর দুই শিশুর জন্ম হয়। ১ম শিশুর ৬ মাস বয়সে ও ২য় শিশু ২ বছর বয়সে জ্বর আসে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। পরবর্তীতে তাদের ঘরে আরো তিনটি সন্তান যথাক্রমে আব্দুস সামাদ (১৪),জামিল (১০) ও তছলিমা (৮) জন্ম নিলেও তাদের কেউ প্রতিবন্ধি হয়নি। তাদের আট সন্তানের মধ্যে প্রতিবন্দিরা হলেন- হাজেরা বেগম (২৪), রুবেনা বেগম (২২), আব্দুল আজিজ (২০), সুবেনা বেগম (১৮) ও সাবিনা বেগম (১৬) এদের কেউই কথা বলতে পারেনা। দুই জন অন্যের সহযোগিতায় কোন মতে হাটতে পারলেও অন্য তিনজন বিকলাঙ্গ হওয়ায় ঠিকমত দাড়াতেও পারেনা।
এব্যাপারে আলিমুন নেছা বলেন, 'আট সন্তানের মধ্যে পাঁচ জনই প্রতিবন্দী বাকি তিন জনকে অনেক কষ্ট করে লেখা-পড়া করাচ্ছেন। প্রতিবন্দি দুই জন সরকারি ভাতা হিসেবে তিন মাস পর নয়শত টাকা করে পায়। এলাকাবাসী ও কিছু প্রবাসীরা মাঝে মধ্যে সাহায্য করে থাকেন। বাড়িতে ভিটা ছাড়া আমাদের আর কোন জমি-জামা নেই। যদি সরকারি কিংবা বিত্তবানদের সহযোগীতায় আমার প্রতিবন্দী সন্তানদের লেখা-পড়ার করার জন্য কোন সুযোগ পেতাম তাহলে কিছুটা হলেও উপকৃত হতাম।'
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের জানাইয়া নোয়াগাঁও গ্রমের আব্দুল জলিলের বিধবা স্ত্রী, পাঁচ প্রতিবন্দী সন্তানের মাতা আলিমুন নেছার করুণ জীবন নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয় বেশ কয়েকবার।
গত রোবাবার (০২/১২/১২) স্থানীয় একটি পত্রিকায় ঐ বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আমি তা আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

লেখক দিশেহারা জীবন
- দিশেহারা জীবন -এর ব্লগ
- ৩৫ টি মন্তব্য
- ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১২
- জানা-অজানা
প্রিন্ট করুন
- ৩৫ টি মন্তব্য
-
এস এইচ মং মারমা০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬
ওদের জন্য প্রাথর্ণা রইল ঈশ্বর ওদের ভাল রাখুন..................... -
রশীদ জামীল০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:৩৭
আলিমুন নেছাদের জন্য ভাববার সময় কোথায় আমাদের? নির্বাচন আসতে বেশি বাকি নেই। ক্ষমতায় থাকা বা যাবার পায়তারা করতে করতেই তো সময় ফুরিয়ে যায়। আলিমুন নেছারা এভাবেই বেঁচে থাকে । কিছু বলে লাভ নেই। বরং নিজে পারলে তাদেরকে সাহায্য করা আর সামর্থ না থাকলে বসে বসে এই সমাজকে, সমাজের অংশ হিসেবে নিজেকে, ধিক্কার দেয়া। এছাড়া আর করার কিছু নেই।
-
রশীদ জামীল০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:১৬
তবে চাইছি তাঁদের করুণ কাহিনী তুলে ধরে কিছুটা হলেও আমার আপনার মত সাধারণ মানুষদের মাঝে দু:খবোধ হোক!
এটি একটি পারফেক্ট কাজ হয়েছে জীবন
-
রশীদ জামীল০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:২৩
দেশটা আমাদের পুরাই আশি:বিশ ফর্মূলায় চলছে।
এ জন্যই আলিমুন্নেছারা অসহায় আজ। -
রশীদ জামীল০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৩৫
এখানে, বছর খানেক আগেই এক লেখায় লিখেছিলাম।
ইতালির একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ পৃথিবীবাসিকে একটি চমৎকার সূত্র উপহার দিয়েছিলেন যা ৮০;২০(আশি অনুপাত বিশ) নামে পরিচিত। উনার দাবি ছিলো . এই পৃথিবীর মোট সম্পদের ৮০% সম্পদ ভোগ করে ২০% লোকে, আর অবশিষ্ট ২০% সম্পদ ভাগ হয় ৮০% লোকের মাঝে। যার ফলেই ধনি- গরিবের এই বৈষম্য।
কারণ ব্যাখ্যায় তনি বলেছিলেন, পৃথিবীর ৮০% মানুষ Hard work বা কঠোর পরিশ্রম করে মোট সম্পদের ২০% এর মালিক হয়। আর অবশিষ্ট ৮০% সম্পদ যে ২০% লোকে ভোগ কর, তারা কিন্তু Hard work করে না। তারা করে Smart work । আর Smart work এর সংজ্ঞায় তিনি বলেছিলেন-
S=Specific
M=Measurable
A=Attainable
R= Realistic
T= Time bounding
প্রথমত: সফলতার টার্গেটকে হতে হবে সুনির্দিষ্টপ। হতে হবে পরিমাপযোগ্য। সেই সাথে টার্গেটকে হতে হবে অতিক্রমযোগ্য। হতে হবে বাস্তবসম্মত। সেই সঙ্গে নিজেকে একটি সময়ও বেধে দিতে লাগবে । এই পাঁচ বৈশিষ্টের সমন্বয়ে যারা কাজ করতে পারে, তাদের কাজকে বলাহয়- Smart work । আর এটা এই পৃথিবীর মাত্র ২০% লোকেই করে থাকেন। আর তারাই ৮০% সম্পদের মালিক হন।(পুরনো লেখা থেকে কপি পেস্ট)
যেহেতু আলিমুন্নেছারা Smart work করতে পারার অবস্থানে যেতে পারেনি,
তাই দুর্গতি তাদের পিছুও ছাড়ে না
দায়ী কিন্তু আমরাই।
বৈষম্যে ভরপুর আমাদের এই সমাজটাই

স্বাধীনতা নিয়েতো খুব গর্ব করেন অনেকেই। এই কি স্বাধীনতা ?
কঠিন প্রশ্ন। তবে স্বাধীনতাটাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে এই আলিমুন্নেছাদের দিকে নজর দে হবে। -
জিনজির০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:২৫
মানুষ কত ভাবেই না কষ্টে আছে!!! ভাবলেও কষ্ট লাগে!!! মহান আল্লাহ পাক তাদের সবার জীবনকে সহজ করে দেন, এই কামনা রইল।
পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ দিশেহারা ভাই। এত এত কষ্টের মধ্যে আসলে দিশেহারা না হয়ে উপায় নেই!!! আমরা কত অক্ষম!!! হায়!!! -
লুৎফুন নাহার জেসমিন০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৪২
এতগুলো সন্তান প্রতিবন্ধী ভাবা যায় না । কতটা কষ্ট এই মায়ের বুকে । আর এই আমরা কিনা ছেলে হোল নাকি মেয়ে হোল তা নিয়ে চিন্তায় থাকি ।
এমন পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব । সেই দায়িত্ব কি পালন করছে তার এলাকার বিত্তবান রা ? অথবা আমাদের প্রশাসন ?
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
শুভকামনা।