বুধবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯ ভাদ্র, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাস।



বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের প্রতীক বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক। বৃত্তের লাল রং উদিয়মান সূর্য এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ই জানুয়ারি সরকারীভাবে গৃহীত হয়।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকার উপর ভিত্তি করে এই পতাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন মধ্যের লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল। পরবর্তীতে পতাকাকে সহজ করতেই মানচিত্রটি বাদ দেয়া হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা জাপানের জাতীয় পতাকার সাথে মিল রয়েছে। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশের সবুজের স্থলে জাপানীরা সাদা ব্যবহার করে। লাল বৃত্তটি একপাশে একটু চাপানো হয়েছে। পতাকা যখন উড়বে তখন যেন এটি পতাকার মাঝখানে দেখা যায়।

আদি পতাকাটি এঁকেছিলেন স্বভাব আঁকিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ। আ.স.ম. আব্দুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ইতিহাসে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ১৯৭১ সালের ২রা মার্চে। শেখ মুজিবর রহমান ২৩শে মার্চ তারিখে তাঁর বাসভবনে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইনকৃত পতাকার মাঝে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে পতাকার মাপ, রঙ ও তার ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলে পটূয়া কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসান দ্বারা পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

পতাকার মাপ
১. বাংলাদেশের পতাকা আয়তাকার।
২. এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ এবং মাঝের লাল বর্ণের বৃত্তটির ব্যাসার্ধ দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ, পতাকার দৈর্ঘ্যের কুড়ি ভাগের বাম দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র।
৩. পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।

পতাকা ব্যবহারের মাপ
১. ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১০ ফুট ৬ ফুট, ৫ ফুট ৩ ফুট, ২.৫ ফুট ১.৫ ফুট।
২. মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১৫ ইঞ্চি ৯ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি ৬ ইঞ্চি।
৩. আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হল—১০ ইঞ্চি ৬ ইঞ্চি।

পতাকার ব্যবহারবিধি
১. বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশন ও কনস্যুলেটে পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
২. শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে প্রথমে পতাকা শীর্ষস্থান পর্যন্ত ওঠাতে হবে। তারপর অর্ধনমিত অবস্থানে রাখতে হবে। দিনের শেষে পতাকা নামানোর সময় পুণরায় শীর্ষস্থান পর্যন্ত উঠিয়ে তারপর নামাতে হবে।
৩. সরকারের অনুমতি ব্যতীত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা যাবে না।
৪. জাতীয় পতাকার ওপর কিছু লেখা অথবা মুদ্রণ করা যাবে না। এমনকি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে কিছু আঁকা যাবে না।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
১০ টি মন্তব্য
mmrnet মুস্তাফিজ ৭১২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১২:৩০
অতি প্রয়োজনীয় পোষ্ট।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের এই প্রিয় পতাকার পরিমাপ ও ব্যবহার সঠিকভাবে করতে অনেক সহায়ক হবে এই পোষ্টটি।

ধন্যবাদ আপনাকে।
rezaulkabir মোঃ রেজাউল কবির২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৫
ধন্যবাদ। আপনার অনুভুতি ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন।
tohidsowkot বাংলার তেীহিদ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১২:৪০
আমার দেশের না শুধু আমার হারট র পতাকা
rezaulkabir মোঃ রেজাউল কবির২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৫
ধন্যবাদ আপনাকে।বাংলার কোটি মানুষের অন্তরে প্রতিটি ক্ষণে ভেসে ভেড়াচ্ছে আমাদের এই প্রতীক।ভালো থাকবেন।
irina ইরিনা২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:৪৮
ধন্যবাদ আপনাকে এমন চমৎকার একটি পোস্ট দেবার জন্য
rezaulkabir মোঃ রেজাউল কবির২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৪
ধন্যবাদ ।ভালো থাকবেন।
kamaluddin কামাল উদ্দিন২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৭:৪৫
ইতিহাসটা আগেও পড়েছি, কিন্তু মনে নাই, ধন্যবাদ আবারো মনে করিয়ে দেওয়া পোষ্ট দেওয়ার জন্য ।
rezaulkabir মোঃ রেজাউল কবির২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৩
ধন্যবাদ কামাল উদ্দিন ভাই । আমরা যখন এই ইতিহাস গুলো বার বার পড়বো তখন আমাদের জন্য প্রেরনার উৎস হিসেবে দেশের জন্য কাজ করতে শক্তি যোগাবে।ভালো থাকবেন।
sulary আলভী২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৪
চমৎকার পোষ্ট প্রিয় কবির..।



Niloy1073 নির্ঝর নাসির২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:০৪
প্রয়োজনীয় পোষ্ট।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment