বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই ২০১৪, ৯ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


যুদ্ধাপরাধী দল গঠনতন্ত্র সংশোধন করলেই কি?

এতদিন অস্বীকার করলেও জামায়াত তার গঠনতন্ত্র সংশোধন করলো, মানে কাগজে-কলমে তারা মেনে নিল নির্বাচন কমিশনের সব আদেশ।

সেটাও শুধুমাত্র দেখানোপনাই মনে হয়। কেননা জামায়াত পাকিস্তানপন্থী দল, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সংগে এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এদেরকে বিশ্বাস নেই। এরা মুখে ধর্মের কথা বললেও যা বলে ও করে তা ধর্মপ্রাণ মুসলিমের চরিত্র হতে পারে না।

এদের গঠনতন্ত্র বড়ই অদ্ভুত একটি জিনিস। যদিও এটি দলের মূলমন্ত্র তথাপি এতে মোট ৪৬বার সংশোধন আনা হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ৮টি ধারায় সংশোধনের জন্য জামায়াতকে বলা হয়, তখন তড়িঘড়ি করে সেই ধারাগুলো লালকালি দিয়ে কেটে দেয়। কোন একসময় তারা দলের ওয়েবসাইটে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকৃতি দিয়েছে পর্যন্ত।

তারপর ২০০৯ সাল থেকে গতমাস পর্যন্ত মোট ৪বার তাদের তাগাদা দেয়া হয় এবং জামায়াত শেষবারের আগ পর্যন্ত সেইসব ধারাগুলো সাংঘর্ষিক নয় বলে জানিয়েছিল।

নিষিদ্ধ হওয়া থেকে আপাতত রক্ষা পেল জামায়াত। কিন্তু ৭১-এ যারা দলীয়ভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের কি দল করার অধিকার থাকতে পারে?

পাকিস্তানপ্রেমী জামায়াতী নেতাদের বিচারের শেষমুহুর্তে এসে দলটির নেতারা যেভাবে আক্রমনের দামামা বাজাচ্ছে তাতে করে মনে হচ্ছে হামলায় অংশ নেয়া ও পরিকল্পনার জন্য দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এদের হামলার ধরন বদলাবে বা কঠোরতর বা নির্মম হবে।

তখন এইসব পাগলাকুত্তাকে কে সামলাবে?

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলটির ৮-১০জন নেতৃস্থানীয়দের বিরুদ্ধে এমন রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কিন্তু কেন এত দেরি হচ্ছে তা জানা সম্ভব হচ্ছে না।

জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম-ঠিকানার একটা তালিকা করে এদের দ্রুত জেলে ঢুকাতে হবে।

কোনমতেই এই দলটিকে আর বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেয়া যাবেনা।

"যারা বাংলাদেশ চায় নাই, তারা কেন বাংলাদেশে থাকবে? রাজনীতি করবে? এমপি-মন্ত্রী হবে? ব্যবসা করবে? মিডিয়া চালাবে? স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বানাবে? হাসপাতাল বানাবে? প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিবে?

তাইলে আমিও যা খুশি তাই করার আইনগত অধিকার চাই। যখন-তখন জামাতীগো পাইলে গদাম দিতে চাই, অগোরে ধইরা পুষ্কুনিতে খাড়া করায়া রাখতে চাই না মরা পর্যন্ত, গনহারে জবাই/বলি দিতে চাই, ডজন ডজন কইরা আফ্রিকান মাগুরের পুষ্কুনিতে ফালাইতে চাই, বড়রাস্তার মোড়ে বাইন্ধ্যা রাখতে চাই যেন সবাই লাত্থি-গুতা-জুতার বাড়ি দিতে পারে এবং আরো অনেক কিসু করতে চাই অগো লগে।"

আপডেট ডিসেম্বর ৫: ফাঁক-ফোকড় সহকারে জামায়াত ইসলামী নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে স্বাধীনতা স্বপক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের সোচ্চারের মুখে "গণতান্ত্রিক পদ্ধতি" অনুসরণে গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধন আনে। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে দলটি গঠনতন্ত্র থেকে আল্লাহ প্রদত্ত এবং রসুল প্রদর্শিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলেছে। এছাড়া "আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও সয়ংসম্পুর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আাইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে" এ নীতিও বাদ দিয়েছে দলটি। কিন্তু এ ধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ "আল্লাহ ব্যতিত অন্য কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়সম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইনপ্রণেতা মানিয়া লইবে না" কথা রেখেই ইসিতে গঠনতন্ত্র জমা দেয় দলটি।

নির্দেশিত যেসব ধারায় সংশোধনী আনা হয়নি, পরিবর্তন হয়নি এবং আংশিক পরিবর্তন হয়েছে তা পুরোপুরি সংশোধনের জন্য দলটিকে আবারো চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন।

রোববার বিকেলে দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার সংশোধিত এ গঠনতন্ত্রের মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দেন। এতে ২০১২ সালের নভেম্বরে ৪৯ তম মুদ্রণ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমানের নাম।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গঠনতন্ত্রের প্রতিটি পাতায় অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকারের নামের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিকুল রাজনৈতিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দুই মাসের সময় চায় জামায়াত। তবে তাদেরকে সে সময় দেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই দলটি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তার মুদ্রিত কপি কমিশনে জমা দিল।

এর আগে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপধারা, ধারা ৩, ৫ ধারার ৩ উপধারা, ৬ ধারার ৪ উপধারা, ৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারা, ১১ ধারার ২ উপধারা ও ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারা সংশোধনের তাগিদ দেয়। দলটির নিবন্ধনের সময়ও এসব ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার তখন তাদের গঠনতন্ত্র থেকে কয়েকটি ধারা লাল কালি দিয়ে কেটে দিয়ে তা গঠনতন্ত্রের অংশ নয় মর্মে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরে জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ওই বাদ দেওয়া বিষয়গুলো থেকেই যায়।

৩ ধারায় দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভূমিকাসহ ৪ টি উপধারাতে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথ থেকে দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের প্রচেষ্টার কথা বলা ছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’ বাক্যটি সংযোজন করা হয়েছে।

৫ ধারা ৩ উপধারায় বলা ছিল, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটাইবার আহ্বান জানাইবে।’ এ অংশ থেকে ‘ইসলামের’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতি’ কথাটি সংযোজন করা হয়েছে।

৬ ধারার ৪ উপধারায় বলা ছিল, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনায়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’ এ কথাগুলো থেকে ‘খোদাভীরু’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘চরিত্রবান’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে।

৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারায় জামায়াতের সদস্য হতে হলে ইসলামে বিশ্বাস ও শরীয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ের শর্ত দেওয়া ছিল। এগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে।

১১ ধারার ২ উপ ধারায় যে কোনো অমুসলিম নাগরিক কয়েকটি শর্ত পূরণের মাধ্যমে জামায়াতের সদস্য হতে পারবে বলা ছিল। এ উপধারাটি দলের গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ব-বিরোধী বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। জামায়াত এ উপধারাটি বিলুপ্ত করেছে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারায় বলা ছিল ‘আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রযোজনীয় সংখ্যক সদস্যকে ( রুকনকে) কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন।’ এটি আরপিও পরিপন্থি মর্মে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ উপধারাটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

জামায়াতকে তাদের গঠনতন্ত্রের ৬৪ পৃষ্ঠার বিশেষ নোটের দফা ৩-এ সংশোধনী আনারও তাগিদ দিয়েছিল ইসি। এতে দলের সব কমিটিতে আরপিও অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মহিলা সদস্যের স্থলে অধিকাংশ কমিটিতে ২৫ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সম্পৃক্ত করে ৬৯ ধারায় সন্নিবেশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কোনো দলের গঠনতন্ত্র দেশের সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সে দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। আরপিও’র ৯০ এর সি ধারায় বলা হয়েছে- একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের অযোগ্য হবে, যদি ওই দলের (ক) গঠনতন্ত্রের উদ্যেশ্যসমূহ সংবিধান পরিপন্থি হয়, (খ) গঠনতন্ত্র ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গভেদে কোনো বৈষম্য প্রতীয়মান হয়, (গ) নাম, পতাকা, চিহ্ন বা অন্য কোনো কর্মকা- দ্বারা সাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার কিংবা দেশকে বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আর সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে এই মর্মে বলা হয়েছে যে, নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনিষ্ট করার উদ্দ্যেশে এবং ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জš§স্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টির জন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন বা ওই ধরণের কোন সমিতি বা সংঘের সদস্য হওয়ার অধিকার কোন নাগরিকের থাকবে না।
১৬ টি মন্তব্য
MainulAmin মাইনুল আমিন০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:৪৩
প্রিয় প্রবীর বিধান দা
অসাধারণ সত্য উচ্চারণ করেছেন । মিনমিনেরা, ক্ষুদ্রস্বার্থে সুবাধিবাদিরা সরে গেলে যাক । মা-বোন কে, দেশকে এবং নিজেকে যে শ্রদ্ধা করে সে এগিয়ে আসবেই ।
সুবিধাবাদীরা সত্যকে ভয় পায় । স্বাধীনতা এবং দেশকে যে নুন্যতম ভালোবাসে সে এখন চুপ থাকতে পারে না ।

নিষিদ্ধ হওয়া থেকে আপাতত রক্ষা পেল জামায়াত। কিন্তু ৭১-এ যারা দলীয়ভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের কি দল করার অধিকার থাকতে পারে?---------------কোন অবস্থায়ই না,----- আমাদের স্বাধীন দেশে ।

তখন এইসব পাগলাকুত্তাকে কে সামলাবে? -------------জনগণ আবার যুদ্ধে জড়াবে । নিঃসন্দেহে গৃহযুদ্ধ !!!

কোনমতেই এই দলটিকে আর বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেয়া যাবেনা।-----------শতভাগ সহমত !

"যারা বাংলাদেশ চায় নাই, তারা কেন
বাংলাদেশে থাকবে? রাজনীতি করবে? এমপি-
মন্ত্রী হবে? ব্যবসা করবে? মিডিয়া চালাবে?
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বানাবে?
হাসপাতাল বানাবে? প্রকাশ্যে বক্তৃতা দিবে?
-------------না-না-না ! কোন অধিকার তারা পেতে পারে না ।

বিচার চাই না; অভিশাপ চাই ! -----------সহজ দাবী হোক আজ !-----------আমাদের বিবেকবান মানুষদের । নীতিহীনেরা চুপ থাক !

কবিতাটি পড়বার অনুরোধ রাখলাম প্রিয় প্রবীর বিধান দা । সাহসী উচ্চারণের জন্যে কৃতজ্ঞতা । ------সঙ্গে আছি আমিও ।
probirbidhan প্রবীর বিধান০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৪৯
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। শুভকামনা।
durbolpasha পাশা০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৩:৩৭
বললেতো হবেনা। কাজ করে দেখাতে হবে। দেশের স্বপক্ষ শক্তিকে এমন কিছু করে দেখাতে হবে যে তারা আসলেই দেশের ভাল চায়। আপনি যদি ঘরের দরোজা খোলা রেখে ঘুমান আর সকালে উঠে চোরকে গালি তাহলে আপনার সম্পদ রক্ষা হবেনা। আগে ঘরের দরোজায় খিল দিতে হবে। নিজেদের মধ্যে হাজারো দুর্বলতা রেখে জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা উলুবণে মুক্তা ছড়ানোর শামিল। আমি বসে বসে ঘুমাবো তার মানে এই নয় অন্যরাও ঘুমাবে।
সেই এক কালের খরগোশ এবং কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগীতার কথা মনে পড়ছে। খরগোশের ঘুমের সুযোগেই কচ্ছপের মত ধীর গতি সম্পন্ন প্রানী প্রতিযোগীতায় জিতে গেছে। গালি দিয়ে লাভ নেই। আন্দোলন না করে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষকে বুঝাতে হবে এই দেশের জামায়াতের প্রয়োজন নেই।

আরেকটা বিষয় স্পস্ট হতে হবে। আন্দোলন কেন করছি। ইসু কি? মুখে এক কথা আর অন্তরে আরেক কথা রেখে হাউ কাউ করা যায়। কাজের কাজ কিছুই হয়না। এইটা আমার কথা না বাস্তবতা তাই বলে। ভুল ইসু ভুল পরিকল্পনা এবং ভুল কর্ম কখনোই আন্দোলনের সার্থকতা এনে দিতে পারেনা।
probirbidhan প্রবীর বিধান০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫১
ধন্যবাদ আবার ভাবতে বলার জন্য, ভেবে-চিন্তে কাজ করার জন্য। সত্যিই তো, বুহেশুনে কাজ না করলে এবং বিশেষ করে নিজে শুদ্ধ না হয়ে অন্যের ভুল ধরতে গেলে বিপদে পড়তেই হবে।
RasadulHassan রাসেদুল হাসান০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:৪৪
দাদা,

ছাত্র হিসেবে ভাল ছিলাম না কোন কালেই। তাই ছোট বেলায় ইংরেজী অনুবাদ এর একটা লাইন প্রায়ই আসতো- "কয়লা ধুলে ময়লা যায় না" বার বার পড়তে পড়তে এইটা মনে আছে কিন্তু উর্দুতে কোন দিন পড়ি নাই। তাই জানা নাই। যদি পারেন তাহলে উর্দু করে দিয়েন। কারন জামাতি'রা বাংলায় পড়তে নাও পারে তবে উর্দুতে দিলে মিস নাই।
probirbidhan প্রবীর বিধান০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৩৭
হাহাহা... দারুন বলেছেন
probirbidhan প্রবীর বিধান০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৩৩
আজকে লন্ডনপ্রবাসীবন্ধু নিঝুম মজুমদারের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে সবার সাথে শেয়ার করার কথা মনে হলো:

'মরলে সহিদ, বাচলে গাজী'ই যদি হয়, আমার জানামতে তো শহীদের মর্যাদা বেশি। তাইলে দেলাওয়ার হসাইন সাঈদী সাহেব, গোলাম আজম স্যার রা কেন শহীদ হতে চাইছেন
না?

এত সুবর্ণ সুযোগ কি খুব একটা বেশি আসে কারু জীবনে?

এইখানেই শেষ না, এক "জালেম বাকশালি" সরকারের চাপে পইড়াই আল্লা-রসুল বাদ দিয়া দিলেন নিজেদের সংবিধান থেকে, তাহলে নিজেদের দ্বীন কিভাবে কায়েম করবেন সাড়া দুনিয়া জুড়ে?

"কাফের" রাষ্ট্র আমেরিকার কাছে ক্ষমা চাইবার ব্যপারে মত কি?

এই কিছু দিন আগের পুলিশ পিটানোর ঘটনাগুলীকে কিভাবে দেখছেন? কারা মানুষকে জ্যন্ত পুড়িয়ে মারতে চেয়েছে বলে মনে করেন?

ইজরায়েলের ব্যপারে আপনারা নীরব কেন? জামায়াতের এই ব্যপারে মত কি?

বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরের প্রতিশ্রুতি (ভারতের সাথে গভীর বন্ধুত্বকে) কিভাবে দেখেন?

এবং সব শেষে, অনেক মানবাধিকার, হেন-তেন নানান আইনের কথা বলেন, কিন্তু দুনিয়ার কোন আইনে আছে যে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন করতে হবে, যেটা কোন রাষ্ট্রীয় ইস্যু না সেই আন্দোলন কিভাবে বৈধতা পায়? কোন যুক্তিতে পায়?

আর বাম্পার দুইটা প্রশ্ন করি:

১. মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মউদুদি কোথাকার আলেম ছিলেন? কোন জায়গা থেকে উনি কোরআন-হাদিস শিক্ষা করেছেন? যদি শিক্ষা না থাকে, তাহলে কিভাবে উনি এত
বিষয়ে ফতওয়া দিতে পারলেন?

২. আলেম হিসেবে কে বেশি জ্ঞানী? দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, নাকি আবুল আলা মউদুদি?

যিনি বেশি জ্ঞানী হবেন, তার জ্ঞানের বেশি হওয়ার কারনটা বলবেন দয়া করে।

বাপের ব্যাটা হইলে শুধু একজন জামায়াতের (শিবিরের হইলেও হবে) সদস্য একটু লজিকালি উত্তর দিয়া যান প্রশ্নগুলার।
adimran1 ব্লগার আহমেদ ইমরান০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১২:২৪
আসলে জামাতের নিবন্ধন বাতিল করলে কি হবে তার সাথে তো সাহায্যকারী শক্তি রয়েছে
probirbidhan প্রবীর বিধান০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:২৩
কিছু না বলার চেয়ে সার্বজনীন আইন প্রয়োগ করা ভালো। নিষিদ্ধ হলে জামায়াত হয়তো আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে, বিএনপির সাথে মিশে রাজনীতি করবে, কিন্তু এখনকার মত তো ডিসেম্বর মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবীতে হরতাল বা বিক্ষোভ করার সাহস পাবেনা, তাই না?
probirbidhan প্রবীর বিধান০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৫১
এতো আজ স্পষ্ট যে জামায়াত শিবিরের সদস্যরা মুনাফিক, মুসলমান নয়। তারা স্বার্থের জন্য অবলীলায় আল্লাহ-রসুল (দঃ) বিসর্জন দিতে পারে। তেমনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম বলে লেখে যে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি জাফর ইকবাল স্যারের একটি কলাম প্রকাশ হওয়ার পর এই নতিজা দেখা গেছে। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ ও রসুলের (দঃ) নির্দেশনাগুলো জানুন, মিলিয়ে নিন এবং নিজেকে প্রত্যাহার করে নিন তাদের সংস্পর্শ থেকে। মনে রাখবেন হাজার হাজার লাইকের ফেসবুক পেইজগুলো আসলে একটা ভন্ডামী, সহজ সরল মানুষকে আকৃষ্ট করে প্রতারণামাত্র। এবার জেনে নিন মুনাফিকদের চরিত্র।

হে মুমিনগণ! কিছু লোক আছে যারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত ও তোমাদের সম্প্রদায়ের। আর তারা তোমাদেরই সাদৃশ্য। তারা মানুষের মধ্যে প্রকাশ করে যে, আমরা তোমাদের দাওয়াত ও ধর্মের অনুসারী অথচ তারা এ দাওয়াত ও ইসলাম ধর্মের অনুসারী নয়, সত্যিকার অর্থে তারা হল মুনাফিক।

মুনাফিকরা কখনই তাদের নিজেদের দোষত্রুটি নিজেরা দেখতে পায় না। তাই তারা নিজেদের অনেক বড় মনে করে। কারো কোন উপদেশ তারা গ্রহণ করে না, তারা মনে করে তাদের চাইতে বড় আর কে হতে পারে? আল্লাহ তা‘আলা তাদের অহংকারী স্বভাবের বর্ণনা দিয়ে বলেন,
﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ تَعَالَوۡاْ يَسۡتَغۡفِرۡ لَكُمۡ رَسُولُ ٱللَّهِ لَوَّوۡاْ رُءُوسَهُمۡ وَرَأَيۡتَهُمۡ يَصُدُّونَ وَهُم مُّسۡتَكۡبِرُونَ﴾ [المنافقون: 5]
অর্থ, আর তাদেরকে যখন বলা হয় এস, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা তাদের মাথা নাড়ে। আর তুমি তাদেরকে দেখতে পাবে, অহঙ্কারবশত বিমুখ হয়ে চলে যেতে। [সূরা আল-মুনাফিকুন: ৫]

[فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضٗاۖ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمُۢ بِمَا كَانُواْ يَكۡذِبُونَ﴾ [البقرة: 10]
[অর্থ, তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। কারণ তারা মিথ্যা বলত। [বাকারাহ: ১০]

আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রহ. বলেন, সন্দেহ, সংশয় ও প্রবৃত্তির ব্যাধি তাদের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলছে, ফলে তাদের অন্তর বা আত্মা ধ্বংস হয়ে গেছে। আর তাদের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও নিয়তের উপর খারাপ ও নগ্ন মানসিকতা প্রাধান্য বিস্তার করছে। ফলে তাদের অন্তর একদম হালাক বা ধ্বংসের উপক্রম। বিজ্ঞ ডাক্তাররাও এখন তার চিকিৎসা দিতে অক্ষম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضٗاۖ ﴾ [তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।]

قُل لَّا تَعۡتَذِرُواْ لَن نُّؤۡمِنَ لَكُمۡ বল, ‘তোমরা ওজর পেশ করো না, আমরা তোমাদেরকে কখনো বিশ্বাস করব না। قَدۡ نَبَّأَنَا ٱللَّهُ مِنۡ أَخۡبَارِكُمۡۚ অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের খবর ও অবস্থা সম্পর্কে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। وَسَيَرَى ٱللَّهُ عَمَلَكُمۡ وَرَسُولُهُۥ অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের আমলসমূহ দেখবেন এবং তাঁর রাসূলও। অর্থাৎ, তোমাদের আমলসমূহ আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে মানুষের সম্মুখে প্রকাশ করে দেবেন। ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে গায়েব ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট। فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা আমল করতে সে সম্পর্কে’। অর্থাৎ তোমাদের খারাপ আমল ও ভালো আমল সম্পর্কে অবগত করবে আর তোমাদের তার উপর বিনিময় দিবেন।

আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের আমলের নিন্দা করে বলেন, তারা তাদের খারাপীগুলো মানুষের থেকে গোপন করে, যাতে তারা তাদের খারাপ না বলে, অথচ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের চরিত্রগুলো প্রকাশ করে দেন। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের গোপন বিষয় ও তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে কি আছে, সে সম্পর্কে জানেন। এ কারণেই তিনি বলেন, ﴿وَهُوَ َ مَعَهُمۡ إِذۡ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرۡضَىٰ مِنَ ٱلۡقَوۡلِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا يَعۡمَلُونَ مُحِيطًا﴾ অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।

﴾سَوَآءٌ عَلَيۡهِمۡ أَسۡتَغۡفَرۡتَ لَهُمۡ أَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ لَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ ٦﴿ [المنافقون: ٦]
অর্থ, তুমি তাদের জন্য ক্ষমা কর অথবা না কর, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।

إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ﴾ নিশ্চয় মুনাফিকরা হল, সত্যের পথ হতে বিচ্যুত, আর গোমরাহির পথে পরিবেষ্টিত।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)
habbib ব্লগার হাসান০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৩৮

গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়’: গোমর ফাঁস- ইতিহাস রচনা করল আমার দেশ

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আকবার। গোটা দুনিয়ার সংবাদপত্রের জগতে আলোড়ন তৈরিকারী নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ফাঁস করে দু:সাহসিকতার নতুন মাত্রা যোগ করল আমার দেশ তথা বাংলাদেশের সূর্যসন্তান মাহমুদুর রহমান।

মানবতাবিরোধী বিচারের নামে নজিরবিহীন এই কেলেঙ্কারিতে শুধু ট্রাইব্যুনাল নয়, আ.লীগ সরকারের লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম) নিয়মিত বিচারের নানাদিক নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে স্কাইপি কথোপকথন করেন। গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিভিন্ন দিনে মোট ১৭ ঘণ্টার ৬২ পৃষ্ঠার কথোপকথনের বিস্তারিত বিস্তারিত
KohiNoor মেজদা০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:২০
ব্লগার হাসান যে ১০০% জামাতের ভাড়াটিয়া তার প্রমান তার ব্লগের ক্রমকান্ড।
মাহমুদুর রহমান যে হারুন-উর-রশিদ খান মুন্নু মিয়ার মেয়ের জামাই। মুন্নু মিয়া তাকে মুন্নু সিরামিক্সের দায়িত্বে দিয়েছিল। সেখানে অসততা ও অসামাজিক কাজের জন্য ফ্যাক্টরী থেকে বের করে দেয়। যে শুশুরের ব্যবসায় অসততার জন্য চিহ্নিত তাকে জামাতীরা তো সূর্য সন্তান বলবেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ১/১১ আগে উত্তরা কেলেংকারি নামক কেলেংকারির জনক মাহমুদুর রহমান।
আর দ্যা ইকোনোমিস্ট ও আমার দেশ যা ছাপে তা পয়সায় বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ নিয়া বাংলার জনগন ভাবেনা, ভাবে কয়েকজন রাজাকার বা তাদের গঠিত শিবির। ধন্যবাদ হাসান, লিখতে থাকুন। নিজের উন্নতি হবে।
probirbidhan প্রবীর বিধান০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
ঐসব আকাম-কুকাম কইরা জানোয়ারদের বিচার থামাইতে পারবেনা জামায়াত-শিবির-বিএনপি জোট। যুদ্ধাপরাধীদের থামান, এখুনি!
habbib ব্লগার হাসান১০ ডিসেম্বর ২০১২, ১০:৫১
মানবতা বিরোধী বিচারের নামে মানব ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবতাবিরোধী পাতানো রায়ের নীল নকশা ফাঁস করে দিলেন মহান আল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আকবার। মজলুমদের দোয়া আল্লাহ কবুল করলেন।

ঘটনাটি প্রকাশ করার মাধ্যমে মানবতার পক্ষে ভূমিকার জন্য বিশ্বের অন্যতম সাহসী সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জানাই অভিনন্দন।

মিথ্যা গল্প শুনিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধোকা দেওয়ার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হলো। ইতিহাস বিকৃতির কারনে আ.লীগের রাজনীতির জানাজা হলো।

মানবতাবিরোধী বিচারের নামে নজিরবিহীন এই কেলেঙ্কারিতে শুধু ট্রাইব্যুনাল নয়, আ.লীগ সরকারের লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ জাতীয় দাবী। তবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ। ট্রাইব্যুনাল নামের এই কিলিং মিশনের হোতাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।


আসলে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন কত?

আজ থেকে ২১ বছর পূর্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ২ শতাধিক আসনে জামায়াত ১২.১৩ শতাংশ ভোট পান। মনমোহনদের হিসেবে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ২৫% (অর্থাৎ ৪ কোটি)।


একমাত্র ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম সবগুলো আসনে অংশ নিলেও নৌকা ঠেকাতে তারা অধিকাংশ আসনে ধানের শীষে ভোট দেয়। আজ থেকে ২১ বছর পূর্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ২ শতাধিক আসনে ১২.১৩ শতাংশ ভোট পেলেও তাদের জনসমর্থন আরো বেশি। কারন আমার নিজের আসনে ৯১ এর নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশে কমপক্ষে ১৫০০০ লোক হলেও ভোট পায় মাত্র ২৬০০ হাজার। কারন ছিল নৌকা ঠেকাতে জামায়াতের লোকেরাও বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। মূলত জামায়াতের সমর্থন তখন আরো বেশি ছিল। আর ২১ বছরে নিশ্চয়ই তাদের সমর্থন আরো বেড়েছে। তাছাড়া অনেকেই চান জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক। কিন্তু প্রপাগান্ডার কারনে অনেকেই মনে করেন জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারবে না তাই ভোট দিয়ে লাভ কি?

বিগত নির্বাচনের তুলনায় প্রতি নির্বাচনেই প্রধান ইসলামী দল জামায়াতের মোট ভোট বেড়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিখিল পাকিস্থানে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬ শতাংশ আর পূর্ব পাকিস্থানে প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪ শতাংশ । ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ৪.৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত আসন পায় ১০টি, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২.১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পায় ১৮টি, ১৯৯৬ সালে ৩০০ আসনে নির্বাচন করে ৩টি আসন পেলেও প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮.৬১ শতাংশ। ২০০১ সালে ৪.২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পায় ১৭টি আর ২০০৮ সালে ৪.৬০ শতাংশ ভোট পেয়েও জামায়াত পেয়েছে ২টি আসন।

প্রহসনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসহ নানা ইস্যুতে আওয়ামীপন্থী সুশীলরা হাতে-গোনা এই ৪/৫ শতাংশ ডাইল খোরের দাবীকে দেশের দেশের সকল মানুষের দাবি তথা চাওয়া পাওয়া বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। New Age এর অনলাইন জরিপে দেশের ৯৩% এবং যায় যায় দিনের জরিপে ৮২% মানুষ জামায়াতের রাজনীতি বন্ধের বিপক্ষে।

দেশের সীমান্তবর্তী ৩১টি জেলার প্রায় দেড় শতাধিক আসনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আওয়ামী বরাবরই বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। কারণ যে কোন মানুষই বর্ডার এলাকায় গেলে দেশপ্রেম তথা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উপলব্ধিটা অধিক জাগ্রত হয়। এছাড়া সীমান্তবর্তী ৩১ টি জেলার প্রায় দেড়শ’ আসনেই জামায়াতের আছে একটা ভালো ভোট ব্যাংক। যা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের ব্যবধান বরাবরই বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

জামায়াত নেতাদের বিচার অবৈধ না হলে গণভোট দিন : ড. রশিদ ঘানুশি
তারিখ: ১০ ডিসেম্বর, ২০১২


মানবতাবিরোধী অপরাধ নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই অবৈধভাবে জামায়াত নেতাসহ বিরোধীদের বিচার করা হচ্ছে। তা ছাড়া জামায়াত নেতাদের বিচার অবৈধ না হলে গণমত যাচাইয়ের জন্য গণভোটের আহ্বান জানান তিউনিসিয়া বিপ্লবের নায়ক ড. রশিদ ঘানুশি। গতকাল বিকেলে তিউনিস শহরে আল নাহাদা পার্টি কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এ আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে সরকারি দলের অন্যতম নেতা আল জাবেরির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসরের সরকারি দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সাবেক প্রধান মাহদি আকেফ, সুদানের দারফুরি আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদম ইউসেফ, ব্রাদারহুডের ছাত্রসংগঠনের আইমান আব্দুল গনি। মুসলিম ব্রাদারহুডের সাবেক প্রধান অধ্যাপক গোলাম আযমের বন্ধুবর মাহদি আকেফ বলেন, বাংলাদেশসহ আজ বিশ্বের মুসলমানদের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন চলছে তা সবাই অবগত। তবে কে বা কারা এই জুলুম-নির্যাতন করছে আজ বিশ্ববাসীর কাছে তারা পরিচিত। জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে আসছে। তাদের অপরাধ তারা নিজদের মতামত প্রকাশ করেছে ১৯৭১ সালে। যার ধুয়া তুলে মুজিবের কন্যা জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছেন। তবে আমি তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই তাদেরকে বাংলাদেশের মাটিতেই রাজনীতি করতে হবে অন্য দেশের মাটিতে নয়। তাই কালপেণ না করে অবিলম্বে জামায়াত নেতাদের মুক্তি দিয়ে দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এমন কিছু করুন।

অন্যান্য নেতা বলেন, সরকারি দল যদি যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে চায় তবে তাদের দলের নেতাকর্মীদের দিয়েই আগে শুরু করতে হবে।


"যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অলরেডি হয়ে গেছে, জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিচার সম্পন্ন করে ফেলেছে" শেখ হাসিনা


২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনেই বলেছিলেন “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অলরেডি হয়ে গেছে, জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিচার সম্পন্ন করে ফেলেছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ম্যান্ডেট দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুর নিস্পত্তি করেছেন।”

আমরা সব কিছু কেমন যেন তাড়াতাড়ি বেমালুম ভুলে যাই।

আ.লীগ যত সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে, অন্যেরা তত সুন্দর করে সত্যটাও বলতে পারে না। যাদের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রপাগান্ডার বিষয়ে ধারনা রয়েছে তারা ভালো করেই অবগত রয়েছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কোন প্রপাগান্ডায় মুহুর্তের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী একজন শিক্ষক কিংবা কোর্টের একজন দলীয় আইনজীবী যেমন শতভাগ জেনে যান এবং সুর মেলান, তেমনি শতভাগ জেনে যান এবং সুর মেলান একেবারে অজ পাড়া গাঁয়ের একজন আওয়ামী সমর্থক মহিলাও।

আ'লীগ বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তকে অশ্রদ্ধা করে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তথা বিশ্ববরেণ্য আলেমদের প্রতি ৭১'র কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিজেরাই মানবতাবিরোধী আচরন করছে।


একজন সাঈদীকে এত ভয় কেন? কোন পথে দেশ? একজন মানুষের জন্য ভালোবাসা যখন ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ক্ষেত্রেও (গণেশ এবং সুখরঞ্জণ নামে দুই জন হিন্দু ভাইয়ের সত্যের পক্ষে অবিচল অবস্থান) অনেক লোভ কিংবা জীবনের ভয় ছাপিয়ে যায় তখন আল্লাহর এই গোলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসার গভীরতা কিংবা শক্তি বুঝতে কিছু অজানা থাকার কথা নয়। আর বিরোধীদের ভয় এই শক্তি ও ভালোবাসার জায়গাতেই। যে শক্তির অনাচারে ভরা এই স্বপ্নের দেশটিতে সত্যের বিপ্লব বইয়ে দিতে পারে।

মূল অপরাধীদের ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ: কথিত দেশীয় সহযোগিদের ওপর কঠোরতা ও জুলুমের দ্বৈত নীতি

পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলেছি: দীপু মনি; অতীত ভুলে সামনে এগুতে চাই: পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পাকিস্থানি মূল অপরাধীদের ক্ষমা চাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার স্ব-প্রণোদিত হয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করতে পারল, অথচ মূল অপরাধের কথিত এ দেশীয় সহযোগিদের (প্রকৃত পক্ষে ভারতীয় আগ্রাসনের আশংকায় অখণ্ডতার সমর্থক, যুদ্ধাপরাধের সহযোগিও নয়) ওপর এত কঠোরতা, অবিচার ও জুলুমের দ্বৈতনীতির কারন একটি শিশুরও অজানা নয়।

আওয়ামী লীগ যদি সত্যিই যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইত, তাহলে ক্ষমা চাইতে না বলে পাকিস্তানে অবস্থানরত মূল যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানাত।

তরুণ প্রজন্মের সত্যিকার প্রয়োজন ও চাওয়ার দিকে কোন নজর না দিয়ে, কিছু ভারতপ্রেমিক সুশীল মিডিয়া ও তাদের ক্রীম খাওয়া কতিপয় প্রবীন ভারের জাতি বিনাশী ইস্যুকে তরুণ প্রজন্মের ইচ্ছার নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রচারনা অনুযায়ী দেশের মানুষের বিশেষ করে তরুণদের চাওয়ার পাওয়ার মত কোন স্বপ্নই হয়তো নেই। মনে হয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদন নয়, তরুণ প্রজন্ম কেবল তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চায়!!!?

মালয়েশিয়া যখন বলে 'এক মালয়েশিয়া', তখন স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও আমরা জাতিকে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ দু'ভাগে বিভক্ত করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি! আজকে বিচারপতি, আইনজীবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবি, শ্রমিক, কৃষক সব জায়গাতেই ২ দলে বিভক্ত। বিদেশী শকুনদের হাত থেকে দেশের সম্পদকে রক্ষা করে সামনে এগুতে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য সময়ের দাবী। তবে তার দর্শন হতে হবে ন্যায় ও দেশ।
probirbidhan প্রবীর বিধান১২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫৫
আন্তর্জাতিকভাবে ও দেশের ভেতরে সকল প্রশ্নের উর্দ্ধে থাকার জন্য ট্রাইবুন্যাল-১এর বিচারক নিজামুল হক পদত্যাগ করেছেন বা সরকার তাকে সরিয়ে দিয়েছে। অনেক কমপ্রোমাইজ করা হলো ভদ্রতার খাতিরে, এবার আগেরমতোই যথানিয়মে বিচারকাজ শেষ করে প্রমানিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো ও বাকীদের সারাজীবনে কারাগরে পচে মরার ব্যবস্থা করতে হবে। আর কোন সুযোগ দেয়া নয়। সরকারের খামখেয়ালীপনার কারনে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন থেকে আরো সাবধান হতে হবে ও দক্ষতার সাথে ****দের মোকাবেলা করতে হবে।

জামায়াত-বিএনপি অপশক্তির চাপে কোনমতেই এই বিচার বন্ধ করা যাবেনা।


বন্ধু নিঝুম মজুমদারের একটা স্ট্যাটাস শেয়ার করছিঃ

"বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেছেন। আমার দৃষ্টিতে যেটি'র কোনো দরকারই ছিলো না। এমন কিছুই হয়নি যেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। তারপরেও ট্রাইবুনালকে বিতর্কের উর্ধে রাখতে, ট্রাইবুনালকে নিয়ে যাতে কেউ একটি কথা উচ্চারণের সাহস না পায় সে কারনেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হয়ত।

জামাত গত ৩ বছর সময়ে এই ট্রাইবুনাল থেকে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমকে সরাবার জন্য কোনো পদক্ষেপ বাকি রাখেনি, কোনো উপায় বাকি রাখেনি। নোংরা থেকে নোংরাতম উপায়ে চেষ্টা করেছে তাকে সরাবার। এই পুরো ঘটনাটিতে জামাত শিবির তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের উপর আমার যে ক্রোধ, আমার যে আক্রোশ সেটি আমি এখানে এখন না বলি।

আমি শুধু বলি তাদের কথা যারা জামাত শিবির কিংবা বিএনপি'র এই ষড়যন্ত্রে সরাসরি না থেকেও কচ্ছপের মত তাদের খুলিখানা প্রায়ই গর্তের মধ্য থেকে বের করে টুক করে ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতেন। আমি শুধু বলি তাদের কথা যারা সিনেমা দেখার মত এই ট্রাইবুনাল বসে বসে দেখতেন আর পান থেকে চুন খসলেই পাছার *** চুলকিয়ে আর ঠোঁট বাঁকিয়ে বলতেন, "বিচার আমিও চাই, তবে সুষ্ঠু, ফেয়ার" ১৯৭২ সালে যখন দালাল আইনে বিচার শুরু হয় তখন মাওলানা ভাসানী ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বাধীনতা বিরোধীদের সমর্থন পেতে জাতীয় লীগের আতাউর রহমান সহ সকল পিকিংপন্থী জোট নির্বাচনের আগেই এই দালাল আইন বাতিল করবার জন্য আলটিমেটাম দেয়।

মাওলানা ভাসানী এ সময় হুমকি দেন যে ১৯৭২-এর ৩১-শে ডিসেম্বরের মধ্যে দালাল আইন বাতিল না করলে তিনি দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। (সূত্রঃ দৈনিক বাংলা, ৫ই ডিসেম্বর ১৯৭২)

এই কথা সুশীলরা আজকে ৪০ বছর পর ভুলে গেছে।

১৯৫ জন পাকিস্তানী আর্মিকে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার না করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া নিয়েও অনেকে সমালোচনা করে এই সুশীলরা। এই ১৯৫ জনের বিচার করলে পাকিস্তানে আটকে পড়া ৪ লক্ষ মানুষকে হত্যার হুমকি দেয় জুলফিকার আলী ভুট্টো। সে সময় ৩২ নাম্বারে এসে সেই স্বজনদের আত্নীয় স্বজন বঙ্গবন্ধুর পা ধরে বসে থাকতেন, নাকের পানি, চোখের পানি এক করতেন যাতে বঙ্গবন্ধু এই বিচার না করেন এবং তাদের স্বজনদের মুক্ত করে আনেন। বঙ্গবন্ধু পাহাড়ের মত অটল থাকেন। তিনি বিচার করবেন বলেই সিদ্ধান্ত নেন। একটা পর্যায়ে এই স্বজনেরা ৩২ নাম্বারের সামনে অবস্থান নেন, পত্রিকায় লিখতে থাকেন। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। পাকিস্তানও এইদিকে অটল থাকে। ১৯৫ জনকে ফিরিয়ে না দিলে তারা ছাড়বে না কাউকে। মিশরের প্রেসিডেন্ট, সৌদীর রাজা, কুয়েত, ইরান, ইরাকের সব রাষ্ট্রপ্রধানরা চাপ দিতে থাকে বঙ্গবন্ধুকে। বাংলাদেশকে কেউ স্বীকৃতি দিবে না বলে জানায়। মসলিম বিশ্ব থেকে বহিষ্কার করবে, যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটা পয়সাও কেউ পাঠাবে না বলে হুমকি দেয়। বঙ্গবন্ধু আর অটল থাকতে পারেন না। ১৯৫ জনকে ছেড়ে দেন।

এই কথা সুশীলরা আজকে ৪০ বছর পর ভুলে গেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হোলো। থেমে গেলো বিচার। জিয়া ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে দালাল আইনটি বাতিল করে দেয়। বন্ধ করে দেয় বিচারের রাস্তা।

এই কথা সুশীলরা আজকে ৪০ বছর পর ভুলে গেছে।

২০১০ সালের ২৫শে মার্চ থেকে চলা ট্রাইবুনালের প্রথম দিন
থেকে বি এনপি, জামাত আদাজল খেয়ে নেমেছে বিচার বন্ধ করবার জন্য। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের লবিস্ট, আইনজীবী নিয়োগ করেছে। কিনে নিয়েছে পত্রিকা, জার্নাল, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। ভাড়া করেছে হ্যাকার, কিনেছে গোপন ডিভাইস। ওপেন টিভিতে বলছে, এই বিচার হতে দেবে না। যে কোনো উপায়ে এই বিচার বন্ধ করবে।

এই কথাও সুশীলরা একদিন ভুলে যাবে, ইনফ্যাক্ট ওরা তো এটা এখনই মনে রাখছেনা। এরা মুখ বাঁকিয়ে বলবে, "কই বিচার তো হইলো না"। আর সাধারণ নাগরিকও মজা দেখে বসে বসে। খায়-দায়, ঘুমায়, ঘুরে ফিরে। একদিন তারাও আঙ্গুল তুলবে আওয়ামীলীগ সরকারের দিকে হয়ত।

কিন্তু যুগে যুগে চলা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বলে না কেউ। খুনী খুন করে চলে যায়, ধর্ষক ধর্ষন করে চলে যায়, ডাকাত ডাকাতি করে চলে যায়। আমরা বলি, সাবধানে চললে তো আর খুন হোতো না, নিজেকে ঢেকে রাখলে তো আর ধর্ষিত হতে হোতো না, অর্থ লুকিয়ে রাখলে তো আর ডাকাতি হোতো না ... হায় বাঙালী ... আহা বাঙালী..."
probirbidhan প্রবীর বিধান১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:১৭
ট্রাইবুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতিটবু নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করার পর থেকেই মউদুদ আহমেদ, খোন্দকার মাহবুবুদ্দিন, জয়নাল আবেদিন (এরা প্রত্যেকেই বিএনপি'র রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত) নতুন একটাআওয়াজ তুলছেন। সেটা হল পদত্যাগকারী বিচারপতি যেসব সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন সব বাতিল করতে হবে । মউদুদ এক ধাপ এগিয়ে, বলেছেন এই ট্রায়াল void ab initio অর্থাৎ শুরু থেকেই বাতিল।

এ প্রসঙ্গে ড. শাহদিন মালিক, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালিদ, রাস্ত্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত, ঢাবির আইনের সহযোগী অধ্যাপক শেখ কার্জন সবার বক্তব্য শুনলাম। উনারা সবাই বলেছেন, নতুন করে ত্রাইয়াল শুরু করার কোন কথাই আইনে বলা নেই, দরকারও নেই।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা সদস্য পরিবর্তন হলে আইন অনুযায়ী পূর্ববর্তী বিচারকের অধীনে যতদূর বিচার কাজ সমাপ্ত হয়েছে সেখান থেকেই বিচার কাজ শুরু হবে । এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন অর্থাৎ The International Crimes Tribunals Act,1973 এর ধারা-৬ পুরো ব্যাপারটা খোলাসা করার জন্য যথেষ্ট মনে হয়েছে যেখানে ৬(৬) বলা হয়েছে

'A Tribunal shall not, merely by reason of any change in its membership or the absence of any member thereof from any sitting, be bound to recall and re-hear any witness who has already given any evidence and may act on the evidence already given or produced before it. এটার সাথে একয় ধারার ৪ উপধারা অর্থাৎ ৬(৪) অনুযায়ী, 'If any member of a Tribunal dies or is, due to illness or any other reason, unable to continue to perform his functions, the Govt. may by notification in the official gazette, declare the office of a such member to be vacant and appoint thereto another person qualified to hold the office.

তার মানে আইনেই বলা আছে, নতুন করা কোন কিছু শুরু করার দরকার নেই এবং সরকার একটা গেজেট নটিফিকেসানের মাধ্যমে নতুন বিচারক নিয়োগ দিয়ে পূর্ববর্তী বিচারক যেখানে শেষ করেছেন সেখান থেকে নতুন বিচারক বিচারকাজ শুরু করতে পারবেন। বাংলাদেশে অন্য সব বিচারকার্য এভাবেই হয়ে আসছে । তাহলে, মউদুদ, মাহবুব, জয়নাল-গং ইন্তারপ্রেতিসানের নামে যা করলেন সেটা স্রেফ মিথ্যাচার এবং আইনের অপব্যাখ্যা ।

বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই মউদুদ, মাহবুব গংরা এটা বানচাল করার নানামুখী ষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচারে লিপ্ত। দলের পা চাটা কুত্তা হিসেবে আর যাই হওয়া যাক, অন্তত স্বাধীন পেশাজীবী হওয়া যায়না।

(এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি লিখেছেনঃ Sabuz Paul)

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment