মেঘের আঁকা ‘আমার বাবা’ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তথাকথিত বিচার
মোমিন মেহেদী
‘মেঘের রং পেন্সিলে আমি’
ফেসবুকে বাবা সাংবাদিক সাগর সরওয়ার গর্ব করে লিখেছিলেন। মা-বাবাকে অনেক ভালোবাসতো মেঘ। সবসময় হাসি আর আনন্দ দিয়ে ছন্দিত করে রাখতো। বাবার কাছে যত বায়না সব পুরন হতো, হতো মায়ের কাছেও। তবে মা’য়ের চেয়ে বাবার কাছাকাছি বেশি থাকার চেষ্টা করতো মেঘ। বাবাকে নিয়ে তার আঁকা দু’টি ছবির একটির কোনায় মেঘ লিখেছিল ‘আমার বাবা’। সেই সুন্দর হাসির বাবাকেই কেড়ে নিলো হায়েনাসম অন্ধকার। আর এই অন্ধকারের কারনে মা-বাবার মত রঙধনুহীন হতে হয়েছে তাকে। চারপাশে ভিড় করেছে কালো। ছোট্ট মেঘের জীবনে কালো ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট মেঘ। বয়স পাঁচ কিংবা পাঁচের একটু বেশি। মায়াময় মিষ্টি চেহারা। বুদ্ধিদীপ্ত দুটি চোখ, ঠিক মা আর বাবার মত। সেই চোখে চঞ্চলতার আভাস। মা মেহেরুন রুনির সঙ্গে দৌড়ে দৌড়ে নানির ইন্দিরার রোডের বাসার চার তলায় ওঠা, আবার নেমে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের খেলা। আবার কখনো বাবা সাগর সরওয়ারকে রিকশায় রেখেই দৌড়ে নানির বাসার দিকে। নানির ফ্ল্যাটের আশপাশের বাসার বাচ্চাগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, খেলাধুলা। সব সময় ব্যস্ত, প্রাণশক্তিতে ভরা একটি শিশু। কিন্তু মাহীন সরওয়ার মেঘ নামের এই শিশুটির জীবনে এবার নেমে এসেছে মেঘের কালো ছায়া। মেঘ হারিয়েছে তার প্রিয় মা-বাবাকে। বাবা সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মা রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। মা-বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শোয়ার ঘরে দেখে সে নিজেই নানিকে ফোন করেছে। তার নানি নুরুন নাহার মির্জা বলেন, ‘ মেঘ সকাল সাতটার দিকে আমাকে ফোন করে। বলে, মা-বাবা মরে গেছে।’ তখন কি সে একবারও ভাবতে পেরেছে, সে কি হারিয়েছে? সেটা ভাবার মতো বয়স কি তার হয়েছে? খবর পেয়ে সকালে সবাই যখন সাগর-রুনি দম্পতির বাসায় ভিড় করেন, তখন মেঘ অনেকটাই শান্ত হয়ে তাকিয়ে ছিল। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। মেঘ বলেছে, ‘তাদের (দুর্বৃত্ত) হাতে ছুরি ছিল, পিস্তল ছিল। আমাকে গুলি করতে চেয়েছিল।’ এই হলো আমাদের দেশ। যেখানে স্বপ্নেরও কোন স্থায়িত্ব নেই। যে কোন মূহুর্তে লুন্ঠন হতে পারে জীবনের সর্বস্ব। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। এগিয়ে চলে জীবনের জন্য, আগামীর জন্য। কিন্তু যেই আগামীতে মেঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, সেই আগামীতে কি চাওয়া থাকে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর হয়তো জানা নেই কারোই। কিন্তু মেঘ জানে, তার বাবার প্রতি ভালোবাসার কথা। এতটাই ভালোবাসতো বাবাকে যে, ছবি এঁকে মা’কে দেখাতো আর বলতো ‘আমার বাবা’। সেই সুন্দর হাসির বাবাকে যারা কেড়ে নিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে পরমপ্রিয় মা’কে তাদের বিচার কাম্য শুধু মেঘের নয়; আমাদেরও। পাশাপাশি এই হোক আগামী যেখানে কোন সন্তানকে আর হারাতে হবে না তার প্রিয় বাবা অথবা মা’কে। সবাই থাকবে শান্তির রঙধনু হয়ে। বর্তমান আর আগামীর সকল বিপদ কেটে যাক আমাদের শিশুতোষ সুখ থেকে যাতে করে শিশুরা থাকে ছন্দিত সবসময়। মায়ের হাত ধরে ধরে এইতো সেদিন ঘুরে এসেছে জার্মান। তারপর ঘুরে এসেছে ডিআরইউর আঙ্কেলদের সাথে বনভোজনে। সব জায়গাতেই সাথে ছিলো বাবা আর মা। দু’জনের প্রিয়তর বিষয়ই ছিল মেঘ। সেই মেঘের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হলো সংবাদের অনবদ্য মানুষ সাগর সওয়ার আর মেহেরুন রুনিকে। যা মেনে নিতে পারছে না কেউ-ই। পারেনি মেহেরুন রুনির সহকর্মী মুন্নী সাহা, শওকত মিল্টন,শামিম আরা মুন্নী অথবা সাগর সরওয়ারের সহকর্মী সাজেদ ফাতেমীসহ কেউ। আগামী আরো শতবছর পার হয়ে গেলেও বিষয়টি বিশ্বাস করা শুধু কষ্টদায়কই নয়, ব্যর্থতারও মনে হতে থাকবে সবার। কেননা, আমাদের নৈতিক পদস্খলন এতটাই ঘটেছে যে, এখন আর মমত্ববোধ বলতে কিছু নেই কারো মনে। কেবল মেঘের মত নিষ্পাপ মুখগুলো ব্যাতিত। আমরা আমাদের সকল নিষ্পাপ মুখগুলোকে সুখি রাখতে চাই; প্রয়োজনে নিজেদের সবটুকুর বিনিময়েও...
মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট ও মেয়র প্রার্থী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
‘মেঘের রং পেন্সিলে আমি’
ফেসবুকে বাবা সাংবাদিক সাগর সরওয়ার গর্ব করে লিখেছিলেন। মা-বাবাকে অনেক ভালোবাসতো মেঘ। সবসময় হাসি আর আনন্দ দিয়ে ছন্দিত করে রাখতো। বাবার কাছে যত বায়না সব পুরন হতো, হতো মায়ের কাছেও। তবে মা’য়ের চেয়ে বাবার কাছাকাছি বেশি থাকার চেষ্টা করতো মেঘ। বাবাকে নিয়ে তার আঁকা দু’টি ছবির একটির কোনায় মেঘ লিখেছিল ‘আমার বাবা’। সেই সুন্দর হাসির বাবাকেই কেড়ে নিলো হায়েনাসম অন্ধকার। আর এই অন্ধকারের কারনে মা-বাবার মত রঙধনুহীন হতে হয়েছে তাকে। চারপাশে ভিড় করেছে কালো। ছোট্ট মেঘের জীবনে কালো ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট মেঘ। বয়স পাঁচ কিংবা পাঁচের একটু বেশি। মায়াময় মিষ্টি চেহারা। বুদ্ধিদীপ্ত দুটি চোখ, ঠিক মা আর বাবার মত। সেই চোখে চঞ্চলতার আভাস। মা মেহেরুন রুনির সঙ্গে দৌড়ে দৌড়ে নানির ইন্দিরার রোডের বাসার চার তলায় ওঠা, আবার নেমে যাওয়া ছিল তার নিত্যদিনের খেলা। আবার কখনো বাবা সাগর সরওয়ারকে রিকশায় রেখেই দৌড়ে নানির বাসার দিকে। নানির ফ্ল্যাটের আশপাশের বাসার বাচ্চাগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, খেলাধুলা। সব সময় ব্যস্ত, প্রাণশক্তিতে ভরা একটি শিশু। কিন্তু মাহীন সরওয়ার মেঘ নামের এই শিশুটির জীবনে এবার নেমে এসেছে মেঘের কালো ছায়া। মেঘ হারিয়েছে তার প্রিয় মা-বাবাকে। বাবা সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মা রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। মা-বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শোয়ার ঘরে দেখে সে নিজেই নানিকে ফোন করেছে। তার নানি নুরুন নাহার মির্জা বলেন, ‘ মেঘ সকাল সাতটার দিকে আমাকে ফোন করে। বলে, মা-বাবা মরে গেছে।’ তখন কি সে একবারও ভাবতে পেরেছে, সে কি হারিয়েছে? সেটা ভাবার মতো বয়স কি তার হয়েছে? খবর পেয়ে সকালে সবাই যখন সাগর-রুনি দম্পতির বাসায় ভিড় করেন, তখন মেঘ অনেকটাই শান্ত হয়ে তাকিয়ে ছিল। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। মেঘ বলেছে, ‘তাদের (দুর্বৃত্ত) হাতে ছুরি ছিল, পিস্তল ছিল। আমাকে গুলি করতে চেয়েছিল।’ এই হলো আমাদের দেশ। যেখানে স্বপ্নেরও কোন স্থায়িত্ব নেই। যে কোন মূহুর্তে লুন্ঠন হতে পারে জীবনের সর্বস্ব। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। এগিয়ে চলে জীবনের জন্য, আগামীর জন্য। কিন্তু যেই আগামীতে মেঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়, সেই আগামীতে কি চাওয়া থাকে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর হয়তো জানা নেই কারোই। কিন্তু মেঘ জানে, তার বাবার প্রতি ভালোবাসার কথা। এতটাই ভালোবাসতো বাবাকে যে, ছবি এঁকে মা’কে দেখাতো আর বলতো ‘আমার বাবা’। সেই সুন্দর হাসির বাবাকে যারা কেড়ে নিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে পরমপ্রিয় মা’কে তাদের বিচার কাম্য শুধু মেঘের নয়; আমাদেরও। পাশাপাশি এই হোক আগামী যেখানে কোন সন্তানকে আর হারাতে হবে না তার প্রিয় বাবা অথবা মা’কে। সবাই থাকবে শান্তির রঙধনু হয়ে। বর্তমান আর আগামীর সকল বিপদ কেটে যাক আমাদের শিশুতোষ সুখ থেকে যাতে করে শিশুরা থাকে ছন্দিত সবসময়। মায়ের হাত ধরে ধরে এইতো সেদিন ঘুরে এসেছে জার্মান। তারপর ঘুরে এসেছে ডিআরইউর আঙ্কেলদের সাথে বনভোজনে। সব জায়গাতেই সাথে ছিলো বাবা আর মা। দু’জনের প্রিয়তর বিষয়ই ছিল মেঘ। সেই মেঘের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হলো সংবাদের অনবদ্য মানুষ সাগর সওয়ার আর মেহেরুন রুনিকে। যা মেনে নিতে পারছে না কেউ-ই। পারেনি মেহেরুন রুনির সহকর্মী মুন্নী সাহা, শওকত মিল্টন,শামিম আরা মুন্নী অথবা সাগর সরওয়ারের সহকর্মী সাজেদ ফাতেমীসহ কেউ। আগামী আরো শতবছর পার হয়ে গেলেও বিষয়টি বিশ্বাস করা শুধু কষ্টদায়কই নয়, ব্যর্থতারও মনে হতে থাকবে সবার। কেননা, আমাদের নৈতিক পদস্খলন এতটাই ঘটেছে যে, এখন আর মমত্ববোধ বলতে কিছু নেই কারো মনে। কেবল মেঘের মত নিষ্পাপ মুখগুলো ব্যাতিত। আমরা আমাদের সকল নিষ্পাপ মুখগুলোকে সুখি রাখতে চাই; প্রয়োজনে নিজেদের সবটুকুর বিনিময়েও...মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট ও মেয়র প্রার্থী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
লেখক মোমিন মেহেদী
- মোমিন মেহেদী -এর ব্লগ
- ৩ টি মন্তব্য
- ২৯ মে ২০১২, ১৩:০৬
- রাজনীতি
প্রিন্ট করুন
- ৩ টি মন্তব্য
-
নূর মোহাম্মদ নূরু২৯ মে ২০১২, ১৩:৪০
বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা যে আরো একটি অপরাধ তা কেন আমরা বিস্মৃত হই ? তাই সময় থাকতে আসুন আমরা আবারও খুনিদের বিচারের দাবিতেও সোচ্চার হই। ত্বরান্বিত করি আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যাতে করে শরৎএর আর কোন শুভ্র মেঘ যেন ঢাকা না পড়ে কাল বৈশাখীর রুদ্র কালো মেঘে। -
নোমান সারকার২৯ মে ২০১২, ১৯:৪৭
লেখা গুলো মনে করিয়ে দেয় , একজন শিশু ,একজন মেঘ আমদের দিকে তাকিয়ে আছে । তাকিয়ে আছে সে রাষ্ট্রের দিকে ,সমাজের দিকে । একদিন তার ও বলার দিন আসবে । সেই দিন সে যেন বলতে পারে , ''আমি বিচার পেয়েছি '' !
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক