........................ভালবেসে সখি আমার নামটি রেখ মনেরও মন্দিরে
মামা। ওই মামা, যাবেন .....................? মিরপুর-১ নাম্বার, আনসার ক্যাম্প, মতিঝিল, সিটি কলেজ..............................???
সকালবেলা বাস হেল্পারদের এই রকম ডাকাডাকির সাথে আমরা যারা ঢাকায় থাকি তারা খুবই পরিচিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা যারা বাইরে থাকি তারা এই ডাকাডাকিতে অনেক বিরক্ত। প্রতিদিন সারা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন নামের বাস চলে। জ্যাম এর কারনে আমাদের দিনের অনেকটা সময় বাসের মাঝেই কেটে যায় । যারা অফিসে যায় তাদের বেশিরভাগই পেপার পড়েন, দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন অথবা কানে হেডফোন লাগিয়ে এফ এম রেডিও নয়তো গান শুনের। বিরক্ত হতে হতে সবাই শান্ত হয়ে গেছেন। কারন কিছু করার নেই এই শহরে থাকতে হলে জ্যাম সহ্য করতেই হবে। আমাদের মত যারা তরুণ স্কুল কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া তারা জ্যাম টাকে আনন্দদায়ক করে তুলি বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে অথবা সুন্দরি মেয়েদের দেখে। বাসে সুন্দরি মেয়েরা না থাকলে আমাদের যে কি হত এই জ্যামে তার আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই রকম মানুষের মাঝে অর্ক একজন । সে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে । বাসা খিলগাঁও। তাই কলেজ গেট যাওয়ার বাস একটাই ।
বাসের নাম ‘বাহন পরিবহন’। খিলগাঁও হতে মিরপুর-১৪। সে রেলগেট থেকে উঠে । বাস চলার সময় বিভিন্ন জায়গায় থামে আর নানা জায়গা থেকে নানা ধরণের যাত্রী উঠে। প্রায় দিনই পুরানো যাত্রিদের সাথে দেখা হয়। বাসটার থামার জায়গাগুলোর মাঝে সিটি কলেজ অন্যতম। এগারোটার দিকে সিটি কলেজের মেয়েদের ছুটি হয়। তাই প্রতিদিনই কিছু চেনা মুখ দেখা যায়। সাধারণত সিটি কলেজের মেয়েরা উঠলেও মাঝে মাঝে কিছু রাইফেলস কলেজের মেয়েরাও উঠে। অর্ক বিরক্ত হয়ে থাকে ওই সময়টাতে কারণ জ্যামের কারনে মাঝে মাঝে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়। এই রকমই একদিন খুব বিরক্ত নিয়ে বাসে বসে বন্ধুর সাথে কথা বলছিল আর পরীক্ষার পড়া পড়ছিল। হঠাৎ কয়েকজন মেয়ে উঠলো। ড্রেস দেখেই বুঝা যায় রাইফেলস এর মেয়ে। অর্ক বাইরে তাকিয়ে আছে। হটাৎ ওর পাশের বন্ধুটা বলে উঠলো একজন মেয়ের দিকে তাকাতে। অর্ক মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলো ওর, বন্ধু কোন মেয়েটাকে দেখতে বলল। অর্ক মুগ্ধ হয়ে তাকায় মেয়েটার দিকে। এতো সুন্দর মেয়ে সে জীবনেও দেখে নি। হালকা পাতলা শরীর, গায়ের রঙ খুব ফর্সা না একটু শ্যামবর্ণের, চেহারাটা অনেক মায়াবি, চশমা পরে, ভদ্র, মার্জিত। এক কথায় অনেক সুন্দর স্নিগ্ধ একটা মেয়ে। দেখলেই ভাললাগে এমন টাইপের মেয়ে। মেয়েটা দরজা থেকে ক্রমেই সামনের দিকে আসতে থাকে। অর্কর মনে হতে থাকে, ঈশ! মেয়েটা যদি ওদের পাশের ফাঁকা সিটটায় এসে বসত। তবে পাশের সিটে না বসলেও মেয়েটা এসে তার ঠিক সামনের ফাঁকা সিটটায় বাসে। অর্কের হাতে একটা নোট তাই পড়ার ভান করে বন্ধুটার সাথে মেয়েটাকে নিয়ে কথা শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে হেল্পার ভাড়া নিতে আসে। সাধারণত মেয়েরা বাসে অর্ধেক ভাড়া দেয় না। কিন্তু ওরা দিল। তাই অর্ক আরও মজা পেয়ে বন্ধুটাকে বলতে লাগলো আজকাল মেয়েরা ও হাফ ভাড়া দেয় বাসে। মজার ব্যাপার হল অর্ক ইচ্ছে করেই শুনিয়ে শুনিয়ে বলে। মেয়েটা এবং তার বান্ধবী বুঝতে পারে অর্ক যে ওদের নিয়ে কথা বলছে। মেয়েটা ঘুরে বার বার অর্কের নোটটা দেখতে লাগলো আর তাকালে লাগলো ওর দিকে। অর্ক কথা বলার চিন্তা করছে, এমন সময় বন্ধুটা জানাল যে ওর স্কুলের মেয়ে এটা, এমন কি গ্রুপও এক। অর্ক শুনে খুশি হল তাই ওর বন্ধুকে কথা বলতে বলল যেহেতু এক গ্রুপের মেয়ে, তাই সহজেই কথা বলা যায়। কিন্তু বন্ধু বলল ওর ও খুব পছন্দ হয়েছে। যেহেত ওর স্কুলের ছোট বোন, তাই ওর দাবি বেশি। সে ই প্রেম করতে চায়। শুনেই অর্কের মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । কিছু না বলে মেয়েটাকে আড় চোখে দেখতে থাকে। মেয়েটাও ওকে দেখতে থাকে ঘুরে। মেয়েটা চশমাটা খোলার পরে অর্ক বুঝতে পারে মেয়েটার চোখ হরিণীর চোখের মত মায়াবি। ইচ্ছে হল বলে দিতে চশমা না পরতে কিন্তু সে উপায় নেই। বন্ধুটাকে বলে মেয়েটার ঘুরে তাকিয়ে ওকে দেখার কথা কিন্তু সে বলে যে মেয়েটা অর্ককে দেখছে না দেখছে তার নোটগুলোকে । অর্ক মুখে কিছু না বললেও মানতে রাজি না মেয়েটা ওকে দেখছে না। অর্ক ভাবছে মেয়েটার সাথে এখনি কথা বলবে। তাই যেই ভেবে গলাটা একটু কেশে পরিষ্কার করে নিয়ে যখন মেয়েটার দিকে তাকাল ঠিক তখনি ওর আশায় গুরুবালি দিয়ে ওদের বয়সেরই আরেকটা ছেলে এসে ওই মেয়েটার পাশে ফাঁকা সিটটায় বসে পড়ে। অর্ক থেমে যায়। আর একটু পরেই নেমে যেতে হবে। নামতে ইচ্ছে হচ্ছিলনা। কিন্তু পরীক্ষা থাকাতে নেমে যেতেই হল কলেজ গেট। না হলে মেয়েটার পিছু পিছু গিয়ে বাসা চিনে আসতো । বাস থেকে নামার সময় অর্ক মেয়েটাকে বারবার দেখতে লাগলো মেয়েটাও বাসের জানালা দিয়ে মুখ বের করে ওকে দেখে, খালি পরীক্ষা না হলেই হত!
অর্ক সারা দিন সারা রাত ধরে উত্তেজিত হয়ে আছে খুব, কখন সকাল হবে আর মেয়েটার সাথে আবার দেখা হবে। কিন্তু দেখা হবে কিনা সেই ভরসা নেই। তাও অর্ক স্বপ্ন দেখে ওর সাথে আবার দেখা হবে। তাই কিভাবে কথা বলবে সেই চিন্তা শুরু করে।
পর পর তিন দিন মেয়েটার সাথে দেখা হয় ওর । চার নম্বর দিন চিন্তা করে মেয়েটার সাথে যেভাবেই হোক কথা বলতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিন মেয়েটা বাসে উঠে অর্কের দুই সিট সামনে বসে। মেয়েটা পিছনে ঘুরে অর্ককে খুঁজে পুরু বাসে। অর্ক ইচ্ছে করে মাথা নিচু করে রাখে যাতে মেয়েটা দেখতে না পায়। অর্ককে না দেখে চেহারাটা বিষণ্ণ করে মাথা ঘুরিয়ে নেয়। এমন সময় আট –নয় বছরের একটা মেয়ে কিছু গোলাপ নিয়ে উঠে বাসে বিক্রি করতে। অর্ক মেয়েটাকে ডাক দিয়ে গোলাপগুলোর দাম জেনে মেয়েটাকে গোলাপের দাম দিয়ে সামনের ওই মেয়েটাকে দেখিয়ে দিয়ে বলল তাকে দেয়ার জন্য। মেয়েটা ইতস্তত করে ফুলগুলো বাচ্চাটার হাত থেকে হাতে নিয়ে পিছনে তাকাল। তাকিয়েই অর্ককে দেখে মিষ্টি একটা দেয়। হাসি দেখে অর্ক সাহস করে মেয়েটার সিটের পাশে গিয়ে দাড়ায়। মেয়েটা ওকে ধন্যবাদ দেয়। অর্ক ওর পরিচয় দেয় তাই মেয়েটাও ওর পরিচয় দেয়। জানতে পারে মেয়েটার নাম অহনা। নামটা খুব পছন্দ হয় অর্কের । অর্ক আরও কিছুক্ষণ কথা বলল। নামার সময় মেয়েটার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে আসে। মেয়েটা ওর নম্বরটাও রেখে দিল। অর্ক বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় দেখল অহনা আগের মত ওর দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে। বাসটা চলে গেল। অর্ক অহনাকে ফোন করে।
যখন রিং বাজতেছিল অর্কর হার্ট বিট হচ্ছিল। কতক্ষণ রিং হওয়ার পরে নিরবতা ভেঙ্গে মিষ্টি করে অর্ক কে বলল সে তখনি কেন ফোন দিয়েছে। অর্ক অহনাকে প্রশ্ন করে কেন অহনা ওকে প্রতিদিন বাস থেকে মাথা বের করে দেখে। অহনা মিষ্টি করে জানায় অর্ককে পিছন থেকে দেখতে ওর অনেক ভাল লাগে তাই তাকায়। অর্ক জানতে চায় সামনে থেকে ভাল লাগে কিনা। অহনা জানায় এখনো কিছু বুঝতে পারে নি।
এভাবেই সম্পর্ক এগুতে থাকে ওদের। প্রতিদিনই দেখা হয় বাসে। অর্কের পাশে সিট খালি না থাকলে অর্ক অহনার সিটের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কথা বলে, গল্প করে, আর স্বপ্ন বুনে দুজনে। যেহেতু অহনা মাত্র টেনে পড়ে তাই ও অনার্সে উঠতে উঠতে অর্ক ভাল একটা চাকুরি পেয়ে যাবে। তারপরে বর সেজে গিয়ে অহনাকে সারা জীবনের জন্য নিয়ে আসবে। ওর মনের মন্দিরে বসিয়ে দিবে সারা জীবনের জন্য। পছন্দ অপছন্দ সব কিছুর মাঝেই মিল খুঁজে পায় ওরা। দেখতে দেখতে ছয়-সাতটি মাস কেটে যায় ওদের । দুজন দুজনের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে ততদিনে। প্রতিদিন প্রায় সাত-আট ঘণ্টা ফোন, ফেসবুক না হয় স্কাইপিতে কথা হয়। ফ্যামিলিতেও পরিচিত হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। অন্যদের মত ঝগড়া-ঝাটি হয় না ওদের। অনেক মধুর সময় কেটে যাচ্ছে।
সামনে ভালবাসা দিবস আসছে তাই অর্ক চিন্তা করে ওই দিনেই অহনাকে অফিসিয়ালি অফার করবে।
চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর দিন সকালে অর্ক খুব সুন্দর করে সেজেগুজে তৈরি হল।
অনেক সুন্দর একটা সাদা নতুন কেনা পাঞ্জাবি পড়লো। একটু আগেই বের হল অন্যান্য
দিনের চেয়ে। শাহবাগ নেমে আটটা আটটা করে সাদা এবং গোলাপি অর্কিড, গ্ল্যাডিওলাস
এবং লাল টকটকে গোলাপ কিনল। কারণ ওদের সম্পর্কের বয়স আট মাস হতে চলেছে।
ফুলগুলো সুন্দর করে হাতে নিয়ে সিটি কলেজের সামনে হেঁটে হেঁটে চলে যায় কারণ
বাসে মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে ফুল গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। মিনিট দশেক পরে অহনা আসলো ।
আজ চশমা পরে নি কারণ অর্ক ওকে বলে দিয়েছিল চশমা ছাড়া যে ওকে অনেক সুন্দর
লাগে। অর্কের মুগ্ধ হয়ে তাকানো দেখে অহনা একটু লজ্জা পাচ্ছিলো।
দুজন একসাথে বাসে উঠে পাশাপাশি বসে। অর্ক বাসে সবার সামনে হাঁটু ভেঙ্গে বসে বলে
অহনাকে ওর জীবনসঙ্গিনী হওয়ার জন্য অফার করলো। অহনা লজ্জা পাচ্ছিলো কারণ
বাসের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। অহনা রাজি হয় হাসি মুখে। তারপরে অহনা
জানায় যখন প্রথম অর্কের পিছন পাশ ও দেখেছিলো তখন কেমন যেন চেনা চেনা মনে
মনে হচ্ছিলো।পর পর কয়েক দিন দেখার পরে ও মনে করতে পারে অন্য মেয়েদের মত
যখন জীবনসাথীর কথা চিন্তা করত তখন একজন রাজপুত্র ওর কল্পনায় এসে হানা
দিত। হাজার চেষ্টা করেও ছেলেটার মুখটা দেখতে পারে নি। শুধু পিছন পাশটা দেখতে
পেত। ওকে এই কারণেই প্রথম দেখে চমকে উঠেছিলো। মাথার পাশটা ওর স্বপ্নের
রাজকুমারের মত লেগেছিল। তাই ও নামার সময় ওর পিছটা বাস থেকে মাথা বের করে
যত দূর পর্যন্ত দেখা যেত ততক্ষন তাকিয়ে থাকতো। অর্ক শুনে খুব খুশি হয়। জিজ্ঞাস করে
শুধু কি ওর পিছন পাশই পছন্দ করে,সামনের পাশ পছন্দ করে না। অহনা জানায় যে
মানুষের পিছন পাশটাই এত সুন্দর তার সামনের পাশের কথা কি আর বলতে হয়।
সময়তো কারো জন্য থেমে থাকে না। তাই আস্তে আস্তে কলেজগেট এসে গেল।
অর্কের নামার কোন ইচ্ছা ছিল না। ইচ্ছে হচ্ছিল অন্যান্য দিনের মত ওর সাথে গল্প করতে
করতে মিরপুর-এক পর্যন্ত চলে যেতে। কিন্তু অহনা আজ সেই সুযোগ দিল না।বলল
অর্কের যেহেতু আজ পরীক্ষা, তাই আজকের ঘুরাটা ওরা আরেক দিন ঘুরে নিবে।
অগত্যা মন খারাপ করে অর্ক বাস থেকে নামলো। কেন জানি আজ খুব খারাপ লাগছে
ওকে ছেড়ে নামতে। কিন্তু কোন উপায় নেই । রাস্তা পার হতে হতে অহনার সাথে ফোনে
কথা বলছে আর অহনাও মাথা বের করে ওকে দেখছে, মুখে মিষ্টি একটা হাসি। অহনাকে
দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। অর্ক স্বপ্নেও চিন্তা করেনি এতো সুন্দর একটা গার্লফ্রেন্ড
পাবে। কারণ ছোটবেলা থেকেই সবাই বলত, সে অনেক সুন্দর তাই ওর বউ অনেক বিশ্রী
হবে। এই নিয়ে ওর অনেক মন খারাপ থাকত। কিন্তু আজ সে অনেক খুশি। অহনার সাথে কথা বলছে আর চিন্তা করছে ও অনেক ভাগ্যবান এত ভাল একটা মেয়ে পেয়েছে।
হঠাৎ অপর পাশ থেকে একটা গাড়ি এসে অর্কের পাশে জোরে ব্রেক
কষে দাঁড়াল। কিন্তু ওটা অর্ককে শেষ রক্ষা করতে পারে নি। অর্ক তিন চার হাত দূরে গিয়ে
ছিটকে পড়লো ।
অহনা বাস থেকে কি করবে বুঝে উঠার আগেই বাসটা ফাঁকা রাস্তায় প্রচণ্ড
গতিতে ছুটে গেল। আশে পাশের মানুষরা সবাই জড় হতে থাকে অর্কের চারপাশে । অর্ক
কিছুই দেখতে পারছে না। শত চেষ্টা করেও চোখ দুটি খোলা রাখতে পারছে না কেন
জানি। সব কিছু কেমন যেন আবছা হয়ে আসছে আর গুলিয়ে যাচ্ছে। অহনার সেই হাসি মাখা মায়াবি মুখটা খুব মনে হচ্ছে। অহনাকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে যে সে তাকে অনেক ভালবাসে। ওকে মনের মন্দিরে আসন পেতে দিয়েছে। সারা জীবন সেই আসনেই বসিয়ে রাখতে চায়। কোন দিনই হারাতে চায় না অহনাকে। কিন্তু অহনার বাসতো চলে গেছে। অহনা হয়ত কোনদিন জানতেই পারবে না ওর কথা। মনে করবে ও অহনাকে ঠকিয়েছে। ওতো এই রকম চায় নি। ওতো শুধু চেয়েছিল অহনার মনের মন্দিরের দেবতা হয়ে থাকতে । কিন্তু অহনা ওকে প্রতারক মনে করে ওর মনের মন্দির থেকে ছিটকে ফেলে দিবে কিছুদিন পরে।
আধো তন্দ্রা আধো জাগরণে অর্ক বুঝতে পারলো কেউ একজন মানুষের ভিড় ঠেলে চিৎকার করতে করতে ওর দিকে ছুটে আসছে । মানুষটা এসে ওকে জড়িয়ে ধরা মাত্রই সব অন্ধকার হয়ে যায় অর্কের কাছে।
সকালবেলা বাস হেল্পারদের এই রকম ডাকাডাকির সাথে আমরা যারা ঢাকায় থাকি তারা খুবই পরিচিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা যারা বাইরে থাকি তারা এই ডাকাডাকিতে অনেক বিরক্ত। প্রতিদিন সারা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন নামের বাস চলে। জ্যাম এর কারনে আমাদের দিনের অনেকটা সময় বাসের মাঝেই কেটে যায় । যারা অফিসে যায় তাদের বেশিরভাগই পেপার পড়েন, দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন অথবা কানে হেডফোন লাগিয়ে এফ এম রেডিও নয়তো গান শুনের। বিরক্ত হতে হতে সবাই শান্ত হয়ে গেছেন। কারন কিছু করার নেই এই শহরে থাকতে হলে জ্যাম সহ্য করতেই হবে। আমাদের মত যারা তরুণ স্কুল কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া তারা জ্যাম টাকে আনন্দদায়ক করে তুলি বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে অথবা সুন্দরি মেয়েদের দেখে। বাসে সুন্দরি মেয়েরা না থাকলে আমাদের যে কি হত এই জ্যামে তার আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই রকম মানুষের মাঝে অর্ক একজন । সে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে । বাসা খিলগাঁও। তাই কলেজ গেট যাওয়ার বাস একটাই ।
বাসের নাম ‘বাহন পরিবহন’। খিলগাঁও হতে মিরপুর-১৪। সে রেলগেট থেকে উঠে । বাস চলার সময় বিভিন্ন জায়গায় থামে আর নানা জায়গা থেকে নানা ধরণের যাত্রী উঠে। প্রায় দিনই পুরানো যাত্রিদের সাথে দেখা হয়। বাসটার থামার জায়গাগুলোর মাঝে সিটি কলেজ অন্যতম। এগারোটার দিকে সিটি কলেজের মেয়েদের ছুটি হয়। তাই প্রতিদিনই কিছু চেনা মুখ দেখা যায়। সাধারণত সিটি কলেজের মেয়েরা উঠলেও মাঝে মাঝে কিছু রাইফেলস কলেজের মেয়েরাও উঠে। অর্ক বিরক্ত হয়ে থাকে ওই সময়টাতে কারণ জ্যামের কারনে মাঝে মাঝে ক্লাসে দেরি হয়ে যায়। এই রকমই একদিন খুব বিরক্ত নিয়ে বাসে বসে বন্ধুর সাথে কথা বলছিল আর পরীক্ষার পড়া পড়ছিল। হঠাৎ কয়েকজন মেয়ে উঠলো। ড্রেস দেখেই বুঝা যায় রাইফেলস এর মেয়ে। অর্ক বাইরে তাকিয়ে আছে। হটাৎ ওর পাশের বন্ধুটা বলে উঠলো একজন মেয়ের দিকে তাকাতে। অর্ক মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলো ওর, বন্ধু কোন মেয়েটাকে দেখতে বলল। অর্ক মুগ্ধ হয়ে তাকায় মেয়েটার দিকে। এতো সুন্দর মেয়ে সে জীবনেও দেখে নি। হালকা পাতলা শরীর, গায়ের রঙ খুব ফর্সা না একটু শ্যামবর্ণের, চেহারাটা অনেক মায়াবি, চশমা পরে, ভদ্র, মার্জিত। এক কথায় অনেক সুন্দর স্নিগ্ধ একটা মেয়ে। দেখলেই ভাললাগে এমন টাইপের মেয়ে। মেয়েটা দরজা থেকে ক্রমেই সামনের দিকে আসতে থাকে। অর্কর মনে হতে থাকে, ঈশ! মেয়েটা যদি ওদের পাশের ফাঁকা সিটটায় এসে বসত। তবে পাশের সিটে না বসলেও মেয়েটা এসে তার ঠিক সামনের ফাঁকা সিটটায় বাসে। অর্কের হাতে একটা নোট তাই পড়ার ভান করে বন্ধুটার সাথে মেয়েটাকে নিয়ে কথা শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে হেল্পার ভাড়া নিতে আসে। সাধারণত মেয়েরা বাসে অর্ধেক ভাড়া দেয় না। কিন্তু ওরা দিল। তাই অর্ক আরও মজা পেয়ে বন্ধুটাকে বলতে লাগলো আজকাল মেয়েরা ও হাফ ভাড়া দেয় বাসে। মজার ব্যাপার হল অর্ক ইচ্ছে করেই শুনিয়ে শুনিয়ে বলে। মেয়েটা এবং তার বান্ধবী বুঝতে পারে অর্ক যে ওদের নিয়ে কথা বলছে। মেয়েটা ঘুরে বার বার অর্কের নোটটা দেখতে লাগলো আর তাকালে লাগলো ওর দিকে। অর্ক কথা বলার চিন্তা করছে, এমন সময় বন্ধুটা জানাল যে ওর স্কুলের মেয়ে এটা, এমন কি গ্রুপও এক। অর্ক শুনে খুশি হল তাই ওর বন্ধুকে কথা বলতে বলল যেহেতু এক গ্রুপের মেয়ে, তাই সহজেই কথা বলা যায়। কিন্তু বন্ধু বলল ওর ও খুব পছন্দ হয়েছে। যেহেত ওর স্কুলের ছোট বোন, তাই ওর দাবি বেশি। সে ই প্রেম করতে চায়। শুনেই অর্কের মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । কিছু না বলে মেয়েটাকে আড় চোখে দেখতে থাকে। মেয়েটাও ওকে দেখতে থাকে ঘুরে। মেয়েটা চশমাটা খোলার পরে অর্ক বুঝতে পারে মেয়েটার চোখ হরিণীর চোখের মত মায়াবি। ইচ্ছে হল বলে দিতে চশমা না পরতে কিন্তু সে উপায় নেই। বন্ধুটাকে বলে মেয়েটার ঘুরে তাকিয়ে ওকে দেখার কথা কিন্তু সে বলে যে মেয়েটা অর্ককে দেখছে না দেখছে তার নোটগুলোকে । অর্ক মুখে কিছু না বললেও মানতে রাজি না মেয়েটা ওকে দেখছে না। অর্ক ভাবছে মেয়েটার সাথে এখনি কথা বলবে। তাই যেই ভেবে গলাটা একটু কেশে পরিষ্কার করে নিয়ে যখন মেয়েটার দিকে তাকাল ঠিক তখনি ওর আশায় গুরুবালি দিয়ে ওদের বয়সেরই আরেকটা ছেলে এসে ওই মেয়েটার পাশে ফাঁকা সিটটায় বসে পড়ে। অর্ক থেমে যায়। আর একটু পরেই নেমে যেতে হবে। নামতে ইচ্ছে হচ্ছিলনা। কিন্তু পরীক্ষা থাকাতে নেমে যেতেই হল কলেজ গেট। না হলে মেয়েটার পিছু পিছু গিয়ে বাসা চিনে আসতো । বাস থেকে নামার সময় অর্ক মেয়েটাকে বারবার দেখতে লাগলো মেয়েটাও বাসের জানালা দিয়ে মুখ বের করে ওকে দেখে, খালি পরীক্ষা না হলেই হত!
অর্ক সারা দিন সারা রাত ধরে উত্তেজিত হয়ে আছে খুব, কখন সকাল হবে আর মেয়েটার সাথে আবার দেখা হবে। কিন্তু দেখা হবে কিনা সেই ভরসা নেই। তাও অর্ক স্বপ্ন দেখে ওর সাথে আবার দেখা হবে। তাই কিভাবে কথা বলবে সেই চিন্তা শুরু করে।
পর পর তিন দিন মেয়েটার সাথে দেখা হয় ওর । চার নম্বর দিন চিন্তা করে মেয়েটার সাথে যেভাবেই হোক কথা বলতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরদিন মেয়েটা বাসে উঠে অর্কের দুই সিট সামনে বসে। মেয়েটা পিছনে ঘুরে অর্ককে খুঁজে পুরু বাসে। অর্ক ইচ্ছে করে মাথা নিচু করে রাখে যাতে মেয়েটা দেখতে না পায়। অর্ককে না দেখে চেহারাটা বিষণ্ণ করে মাথা ঘুরিয়ে নেয়। এমন সময় আট –নয় বছরের একটা মেয়ে কিছু গোলাপ নিয়ে উঠে বাসে বিক্রি করতে। অর্ক মেয়েটাকে ডাক দিয়ে গোলাপগুলোর দাম জেনে মেয়েটাকে গোলাপের দাম দিয়ে সামনের ওই মেয়েটাকে দেখিয়ে দিয়ে বলল তাকে দেয়ার জন্য। মেয়েটা ইতস্তত করে ফুলগুলো বাচ্চাটার হাত থেকে হাতে নিয়ে পিছনে তাকাল। তাকিয়েই অর্ককে দেখে মিষ্টি একটা দেয়। হাসি দেখে অর্ক সাহস করে মেয়েটার সিটের পাশে গিয়ে দাড়ায়। মেয়েটা ওকে ধন্যবাদ দেয়। অর্ক ওর পরিচয় দেয় তাই মেয়েটাও ওর পরিচয় দেয়। জানতে পারে মেয়েটার নাম অহনা। নামটা খুব পছন্দ হয় অর্কের । অর্ক আরও কিছুক্ষণ কথা বলল। নামার সময় মেয়েটার মোবাইল নম্বরটা নিয়ে আসে। মেয়েটা ওর নম্বরটাও রেখে দিল। অর্ক বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় দেখল অহনা আগের মত ওর দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে। বাসটা চলে গেল। অর্ক অহনাকে ফোন করে।
যখন রিং বাজতেছিল অর্কর হার্ট বিট হচ্ছিল। কতক্ষণ রিং হওয়ার পরে নিরবতা ভেঙ্গে মিষ্টি করে অর্ক কে বলল সে তখনি কেন ফোন দিয়েছে। অর্ক অহনাকে প্রশ্ন করে কেন অহনা ওকে প্রতিদিন বাস থেকে মাথা বের করে দেখে। অহনা মিষ্টি করে জানায় অর্ককে পিছন থেকে দেখতে ওর অনেক ভাল লাগে তাই তাকায়। অর্ক জানতে চায় সামনে থেকে ভাল লাগে কিনা। অহনা জানায় এখনো কিছু বুঝতে পারে নি।
এভাবেই সম্পর্ক এগুতে থাকে ওদের। প্রতিদিনই দেখা হয় বাসে। অর্কের পাশে সিট খালি না থাকলে অর্ক অহনার সিটের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। কথা বলে, গল্প করে, আর স্বপ্ন বুনে দুজনে। যেহেতু অহনা মাত্র টেনে পড়ে তাই ও অনার্সে উঠতে উঠতে অর্ক ভাল একটা চাকুরি পেয়ে যাবে। তারপরে বর সেজে গিয়ে অহনাকে সারা জীবনের জন্য নিয়ে আসবে। ওর মনের মন্দিরে বসিয়ে দিবে সারা জীবনের জন্য। পছন্দ অপছন্দ সব কিছুর মাঝেই মিল খুঁজে পায় ওরা। দেখতে দেখতে ছয়-সাতটি মাস কেটে যায় ওদের । দুজন দুজনের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে ততদিনে। প্রতিদিন প্রায় সাত-আট ঘণ্টা ফোন, ফেসবুক না হয় স্কাইপিতে কথা হয়। ফ্যামিলিতেও পরিচিত হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। অন্যদের মত ঝগড়া-ঝাটি হয় না ওদের। অনেক মধুর সময় কেটে যাচ্ছে।
সামনে ভালবাসা দিবস আসছে তাই অর্ক চিন্তা করে ওই দিনেই অহনাকে অফিসিয়ালি অফার করবে।
চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর দিন সকালে অর্ক খুব সুন্দর করে সেজেগুজে তৈরি হল।
অনেক সুন্দর একটা সাদা নতুন কেনা পাঞ্জাবি পড়লো। একটু আগেই বের হল অন্যান্য
দিনের চেয়ে। শাহবাগ নেমে আটটা আটটা করে সাদা এবং গোলাপি অর্কিড, গ্ল্যাডিওলাস
এবং লাল টকটকে গোলাপ কিনল। কারণ ওদের সম্পর্কের বয়স আট মাস হতে চলেছে।
ফুলগুলো সুন্দর করে হাতে নিয়ে সিটি কলেজের সামনে হেঁটে হেঁটে চলে যায় কারণ
বাসে মানুষের ধাক্কাধাক্কিতে ফুল গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। মিনিট দশেক পরে অহনা আসলো ।
আজ চশমা পরে নি কারণ অর্ক ওকে বলে দিয়েছিল চশমা ছাড়া যে ওকে অনেক সুন্দর
লাগে। অর্কের মুগ্ধ হয়ে তাকানো দেখে অহনা একটু লজ্জা পাচ্ছিলো।
দুজন একসাথে বাসে উঠে পাশাপাশি বসে। অর্ক বাসে সবার সামনে হাঁটু ভেঙ্গে বসে বলে
অহনাকে ওর জীবনসঙ্গিনী হওয়ার জন্য অফার করলো। অহনা লজ্জা পাচ্ছিলো কারণ
বাসের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। অহনা রাজি হয় হাসি মুখে। তারপরে অহনা
জানায় যখন প্রথম অর্কের পিছন পাশ ও দেখেছিলো তখন কেমন যেন চেনা চেনা মনে
মনে হচ্ছিলো।পর পর কয়েক দিন দেখার পরে ও মনে করতে পারে অন্য মেয়েদের মত
যখন জীবনসাথীর কথা চিন্তা করত তখন একজন রাজপুত্র ওর কল্পনায় এসে হানা
দিত। হাজার চেষ্টা করেও ছেলেটার মুখটা দেখতে পারে নি। শুধু পিছন পাশটা দেখতে
পেত। ওকে এই কারণেই প্রথম দেখে চমকে উঠেছিলো। মাথার পাশটা ওর স্বপ্নের
রাজকুমারের মত লেগেছিল। তাই ও নামার সময় ওর পিছটা বাস থেকে মাথা বের করে
যত দূর পর্যন্ত দেখা যেত ততক্ষন তাকিয়ে থাকতো। অর্ক শুনে খুব খুশি হয়। জিজ্ঞাস করে
শুধু কি ওর পিছন পাশই পছন্দ করে,সামনের পাশ পছন্দ করে না। অহনা জানায় যে
মানুষের পিছন পাশটাই এত সুন্দর তার সামনের পাশের কথা কি আর বলতে হয়।
সময়তো কারো জন্য থেমে থাকে না। তাই আস্তে আস্তে কলেজগেট এসে গেল।
অর্কের নামার কোন ইচ্ছা ছিল না। ইচ্ছে হচ্ছিল অন্যান্য দিনের মত ওর সাথে গল্প করতে
করতে মিরপুর-এক পর্যন্ত চলে যেতে। কিন্তু অহনা আজ সেই সুযোগ দিল না।বলল
অর্কের যেহেতু আজ পরীক্ষা, তাই আজকের ঘুরাটা ওরা আরেক দিন ঘুরে নিবে।
অগত্যা মন খারাপ করে অর্ক বাস থেকে নামলো। কেন জানি আজ খুব খারাপ লাগছে
ওকে ছেড়ে নামতে। কিন্তু কোন উপায় নেই । রাস্তা পার হতে হতে অহনার সাথে ফোনে
কথা বলছে আর অহনাও মাথা বের করে ওকে দেখছে, মুখে মিষ্টি একটা হাসি। অহনাকে
দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। অর্ক স্বপ্নেও চিন্তা করেনি এতো সুন্দর একটা গার্লফ্রেন্ড
পাবে। কারণ ছোটবেলা থেকেই সবাই বলত, সে অনেক সুন্দর তাই ওর বউ অনেক বিশ্রী
হবে। এই নিয়ে ওর অনেক মন খারাপ থাকত। কিন্তু আজ সে অনেক খুশি। অহনার সাথে কথা বলছে আর চিন্তা করছে ও অনেক ভাগ্যবান এত ভাল একটা মেয়ে পেয়েছে।
হঠাৎ অপর পাশ থেকে একটা গাড়ি এসে অর্কের পাশে জোরে ব্রেক
কষে দাঁড়াল। কিন্তু ওটা অর্ককে শেষ রক্ষা করতে পারে নি। অর্ক তিন চার হাত দূরে গিয়ে
ছিটকে পড়লো ।
অহনা বাস থেকে কি করবে বুঝে উঠার আগেই বাসটা ফাঁকা রাস্তায় প্রচণ্ড
গতিতে ছুটে গেল। আশে পাশের মানুষরা সবাই জড় হতে থাকে অর্কের চারপাশে । অর্ক
কিছুই দেখতে পারছে না। শত চেষ্টা করেও চোখ দুটি খোলা রাখতে পারছে না কেন
জানি। সব কিছু কেমন যেন আবছা হয়ে আসছে আর গুলিয়ে যাচ্ছে। অহনার সেই হাসি মাখা মায়াবি মুখটা খুব মনে হচ্ছে। অহনাকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে যে সে তাকে অনেক ভালবাসে। ওকে মনের মন্দিরে আসন পেতে দিয়েছে। সারা জীবন সেই আসনেই বসিয়ে রাখতে চায়। কোন দিনই হারাতে চায় না অহনাকে। কিন্তু অহনার বাসতো চলে গেছে। অহনা হয়ত কোনদিন জানতেই পারবে না ওর কথা। মনে করবে ও অহনাকে ঠকিয়েছে। ওতো এই রকম চায় নি। ওতো শুধু চেয়েছিল অহনার মনের মন্দিরের দেবতা হয়ে থাকতে । কিন্তু অহনা ওকে প্রতারক মনে করে ওর মনের মন্দির থেকে ছিটকে ফেলে দিবে কিছুদিন পরে।
আধো তন্দ্রা আধো জাগরণে অর্ক বুঝতে পারলো কেউ একজন মানুষের ভিড় ঠেলে চিৎকার করতে করতে ওর দিকে ছুটে আসছে । মানুষটা এসে ওকে জড়িয়ে ধরা মাত্রই সব অন্ধকার হয়ে যায় অর্কের কাছে।
লেখক মঞ্জুরুল আরেফিন সবুজ
- মঞ্জুরুল আরেফিন সবুজ -এর ব্লগ
- ৫ টি মন্তব্য
- ০৮ নভেম্বর ২০১২, ২০:৩৬
- গল্প
প্রিন্ট করুন
- ৫ টি মন্তব্য
-
মনিরুল হাসান০৮ নভেম্বর ২০১২, ২২:০০
শিরোনামে দুইটি শব্দ মনে হয় বাদ পড়ে গিয়েছে।
ভালবেসে সখি 'নিভৃতে যতনে' আমার নামটি রেখ মনেরও মন্দিরে -
অনিন্দ্য অন্তর অপু০৯ নভেম্বর ২০১২, ০০:০৮
প্রাঞ্জল ভাষার গদ্য বেশ সুখপাঠ্য মনে হয়েছে। শুভ কামনা নিরন্তর





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।