বুধবার ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ১০ বৈশাখ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


জাগো

জাগো!!!
-পরিতোষ বসাক

"অতিকায় হস্তি লোপ পাইয়াছে; তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"-শরৎচন্দ্র
একসময় ইংরেজীতে পড়েছিলাম- Survive the Strongest, পরে –Survive the Fittest. এখন জানতে পারলাম- Survive who can adjusting well.
কিন্তু হাতি লোপ পেয়েছে, মূল্যবান হবার দরুন। মানুষের বিলাসী অহংকার হাতিকে লোপ পাইয়েছে। তেলাপোকার পাখনা যদি স্বর্নের হতো, তবে তেলাপোকাও আজ বিপন্ন প্রানী গোষ্ঠির তালিকায় থাকত।
টিকে থাকাটাই মানুষের একমাত্র লক্ষ্য নয়। যেকোন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো- যোগ্যতার মানদন্ড নয়। মেরুদন্ডহীন মানুষেরা যে কোন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে। মানুষের মত মানুষেরা পরিবেশকে নিজের মত করে নেয়। অন্যায়তন্ত্রের সমাজে অন্যায় করে যাওয়াটাই টিকে থাকার অবলম্বন ।টিকে থাকাই এখন সার্থকতা, তাই তেলাপোকার মত টিকে থাকে।
কিন্তু এটাকি জীবনযোদ্ধার মানায়? এটা যেন শরীর থেকে মেরুদন্ড অপসারন করার মত কাপুরুষতা।সেচ্ছা জীবনের বলিদান দেয়া যাবেনা। সর্বদা প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকতে হবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রচেষ্টা মাহাত্মপূর্ন, কিন্তু শুধু টিকে থাকার মনোবৃত্তি অন্যায়। ভয়ংকর অত্যাচারের মধ্যে টিকে থাকাটাও বিস্ময়য়কর। কিন্তু শুধু টিকে থাকাই তো জীবন নয়। যদি টিকে থাকাই সবকিছু হতো, তবে ক্রীতদাসেরা কখনো বিদ্রোহ করতো না, আর কোন আন্দোলন ইতিহাস সৃষ্টি করতো না। জীবন -সৃষ্টিশীলতা, ইন্দ্রিয়ের স্বাধীনতা, সুখের সন্ধানে পথ চলা, প্রতিটি মুহূর্ত স্বাধীনভাবে উপভোগ করা, স্বাধীনভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করা, ক্রমশ মানুষ হয়ে ওঠার সংগ্রাম ও আরো অনেক অনেক কিছু। পদের লালসায় টিকে থাকার সংগ্রামে ব্যস্ত শরীসৃপ মানুষেরা সমাজে বিষ্ঠার পোকার মত কিলবিল করছে। ঘা-কে দগদগে ঘাএ পরিনত করার জন্য এদের বিচরন আরো উদ্বেগজনক। পোকাগুলো টিকে থাকবে আমরা মারা যাব।
স্বাধীনতা বলতে আমি যা বুঝি তার শতকরা একশ ভাগ প্রতিফলন আমার নিজের জীবনেও নেই, আমি এখনও সে পর্যায়ে পৌছাতে পারিনি; ব্যাপারটা খুবই লজ্জার বিষয় (যার জন্য আমার কিছুটা হলেও ঘৃণা প্রাপ্য)। দু’কলম লিখে বাহাদুরী দেখানো আমার উদ্দেশ্য নয়, বরং ক্রমশ মানুষ হয়ে ওঠাই আমার লক্ষ্য। সুখের কথা আমি সে পথেরই পথিক।
ক্ষমতা ব্যবহারের যোগ্যতা অর্জন না করে, ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই চলছে সর্বত্র। শুধু চাটুকারিতা করে টিকে থাকা যায়, কিন্তু দেশ-জাতি-অবহেলিত-মজলুম জনগনের জন্য কিচ্ছু করা যায় না

তুমি মানুষ তোমার জীবন নিয়ে তোমার কত কথা । বেঁচে থাকার , ভাল থাকার কত চেষ্টা । একটা মানুষ অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে তা নিয়ে কত হই চই । তুমি মানুষ তোমার জীবন নিয়ে তুমি কত শঙ্কিত । কত ভাবে তুমি তোমার জীবনকে নিরাপদ করতে চাও । এমন একটা ভাব তুমি যত নিরাপদে থাকবে তত অমরত্ব পেয়ে যাবে । কিন্তু সত্য এই যে , মায়ের গর্ভে তোমার হৃৎপিণ্ড সচল হওয়ার সাথে সাথেই তুমি এগিয়ে যাচ্ছ মৃত্যুর দিকে ।

একটি পিপড়া তার জীবনের নিরাপত্তা কি? হেঁটে যাচ্ছ মাড়িয়ে গেলে শেষ । কুকুর বেড়াল দেখেছো তুমি ? ছোট্ট এক টুকরো রুটি অথবা এক টুকরো হাড় কতটা আগ্রহ করে খায়? চোখে তার কত টা শঙ্কা ? এই না কেউ কেড়ে নেয় ? এই না তুমি লাত্থি দিয়ে তাড়িয়ে দাও । ওরা থাকে সর্বক্ষণ ক্ষুধার্ত । পৃথিবীতে এক মানুষ ছাড়া বাকী প্রাণীকুলের কাজই হচ্ছে অন্ন সংস্থান আর প্রকৃতিতে টিকে থাকার লড়াই । এটাই ওদের জীবন ।

তুমি মানুষ তোমার জীবন, প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের জ্ঞান আছে । তুমি যে কটা দিন বাঁচো , জীবনের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাঁচো । শুধু অন্ন আর প্রকৃতিতে টিকে থাকাই তোমার জীবন না । তুমি মানুষ তোমার জীবনের মানে অনেক অনেক বিশাল। এটা কি সৃষ্টিকর্তার প্রতি, নিজের জীবনের প্রতি, নিজের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় ?

শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে যেন আজ আর শান্তির সুবাতাস বয় না। স্বল্প মানুষের ধন-সম্পত্তি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বেশির ভাগ মানুষ সংসার যাপন করছে অতিকষ্টে। আর অনেকের সামাজিক অবস্থান দারিদ্র্য সীমার নিচে। জীবনযুদ্ধের প্রতিযোগিতায় পিছিয়েপড়া সাধারণ ও নির্বিবাদী লোকেরা চারপাশের ধেয়েচলা জৌলুষময় জীবনধারার সাথে তাল মেলাতে পারছে না। অপমান, ব্যর্থতা আর লজ্জায় তারা মাথা নত করে যেন মেনে নিয়েছে সমাজের এই অপ্রত্যাশিত বৈষম্যের ভয়াবহ বাস্তবতা।

চারিদিকে কি দাপটের সাথে বিচরণ করছে অযোগ্যরা? এসব কথা ভাবতে গেলে আজকাল কবি ও কথানির্মাতা জীবনানন্দের লেখা একটি কবিতার কথা মনে পড়ে। তিনি লিখেছিলেন: ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,/যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;/যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই,করুণার আলোড়ন নেই/পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।/যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,/এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়/মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা/শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।’ এই আঁধার থেকে কি আমাদের কোনো মুক্তি নেই?
৩ টি মন্তব্য
sulary আলভী৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১০:৪৮
Niloy1073 নির্ঝর নাসির৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:৫৮
Shimi12 ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী)৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৩:৪৭
এই আঁধার থেকে কি আমাদের কোনো মুক্তি নেই?

সুন্দর কথা।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment