পথশিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকা হচ্ছে...

দেশের বড় বড় শহর গুলোতে মেয়ে পথশিশুরা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনিশ্চয়তায় ঢেকে যাচ্ছে তাদের জীবন। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।
এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৮ লাখ পথশিশু রয়েছে। এর মধ্যে সমান সংখ্যক মেয়েশিশু। এই মেয়েশিশুদের বেশিরভাগই এ বয়স থেকেই নানা রকম যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ।সম্প্রতি যৌন নির্যাতনবিরোধী নীতিমালা নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও পথশিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে কেউ ভাবছে না। পথেঘাটে রাত যাপনের ফলে তারা নানাভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। অথচ তাদের নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভাবনা নেই। ফলে এসব শিশুর এইডসসহ বিভিন্ন যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে অনেকাংশেই। যৌন নির্যাতন ছাড়াও অশিক্ষা, অযত্ন, অবহেলা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে বেড়ে ওঠাসহ নানা কারণে পথশিশুরা যৌন কার্যকলাপে জড়িয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মেয়েশিশু নিয়োজিত হচ্ছে পতিতাবৃত্তিতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই না বুঝে এসব সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে তারা। পরে জীবনধারণের প্রয়োজনে টাকা আয়ের পথ হিসেবে তারা পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিতে বাধ্য হচ্ছে। দেশের ভাসমান পতিতাদের অধিকাংশই ছিন্নমূল শিশু।

ইউনিসেফের ২০০১ সালের এক তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ৬১ লাখ শিশুশ্রমিকের মধ্যে মেয়েদের শতকরা ৩২ জন পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত। যৌন নির্যাতনের শিকার এসব মেয়েশিশুকে দেখার মতো সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। নামেমাত্র কয়েকটি শিশুসদন থাকলেও তা পথশিশুদের প্রয়োজনে আসে না। ফলে তাদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন বেড়েই চলেছে। এমনকি পথশিশুদের ওপর এ ধরনের অত্যাচার চললেও সরকারসহ সুশীল সমাজের সংশিল্গষ্টরা নীরব ভূমিকা পালন করে।

দেশে পথশিশুদের নিয়ে অপরাজেয় বাংলাদেশ, পদক্ষেপ, বার্ড, টিএসটিসি, এএসডিসহ বেশ কয়েকটি এনজিও কাজ করছে। এসব এনজির মধ্যে কিছু এনজিওতে দিনরাত উভয় সময়ই পথশিশুদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা পথশিশুদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া অধিকাংশ শিশুই এসব ডেকেয়ার সেন্টারের কথা জানে না। পথশিশুদের থাকার জন্য সরকারিভাবে আশ্রয় হোম, বেবিহোমসহ দেশে মোট ৮০টি শিশু পরিবার রয়েছে। নামমাত্র এগুলো থাকলেও তা প্রয়োজনে কাজে আসে না। এগুলোতে এতিম এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের রাখা হয়।
লেখক নিজাম কুতুবী
- নিজাম কুতুবী -এর ব্লগ
- ২৩ টি মন্তব্য
- ১১ আগস্ট ২০১০, ১৪:৪৪
- সমাজ
প্রিন্ট করুন
- ২৩ টি মন্তব্য
-
রুবেল আহমদ ১১ আগস্ট ২০১০, ১৫:০৬
একটি তথ্যপূর্ণ পোষ্ট
পথশিশুদের যৌন নির্যাতন বন্ধ করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে ।
আপনি কেমন আছেন ভাই ?
ভাল থাকবেন ।
শুভকামনা রইলো ... -
মাহাফুজুর রহমান১১ আগস্ট ২০১০, ১৬:১০
অসাধারন পোষ্ট ।
"এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪ কোটি ২৪ লাখ পথশিশু রয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ২৭ লাখ ছেলে এবং ১ কোটি ৯৭ লাখ মেয়েশিশু। "
১৫ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যা নিয়ে আমি সন্দিহান । এত বেশী হওয়ার কথা নয় । সংখ্যা যাইহোক এদের নিয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে ।
কিছু ধারনা :
১ । ইউএনডিপির অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ২০০৫ সালে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮। ক্রমাগত বেড়ে চলা এ সংখ্যা বর্তমানে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায়নি। (সমকাল ,১৯ ডিঃ ২০০৯)
২।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস)-এর ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার পথশিশু। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ লাখ ৩০ হাজারে। একই সময়ে ইউনিসেফের দেয়া তথ্যে বলা হয়, বাংলাদেশে মোট ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ পথশিশু রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ। (জনকন্ঠ , ৩১ জানুয়ারি ২০১০ )
৩।দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ পথশিশু রয়েছে। ঠিকানাবিহীন এসব শিশুর ৮০ ভাগই নেশায় আসক্ত। পথশিশুদের নিয়ে সরকারের কার্যক্রমকে নিতান্তই লোক-দেখানো বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অথচ এই শিশুরা বেঁচে আছে নিরাশ্রয় হয়ে।
অন্যদিকে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে পথশিশুর সংখ্যা ৮ লাখ, শহরাঞ্চলে এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। সরকারের অ্যাপ্রোপ্রিয়েট রিসোর্স ফর ইম্প্রুভিং স্ট্রিট চিলড্রেন্স এনভায়রনমেন্ট [এরাইজ] প্রকল্পের অধীনে ২০০১-এর জরিপ অনুযায়ী পথশিশুর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২২৬। গত ১০ বছরে এর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। সরকারি হিসাবে বর্তমানে ৭ লাখ পথশিশু রয়েছে। এদের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ রাজধানীতে, ৯ দশমিক ৯ ভাগ চট্টগ্রাম বিভাগে, ২ দশমিক ৪ ভাগ রাজশাহী বিভাগে, ৮ দশমিক ৫ ভাগ খুলনা বিভাগে ও ১ দশমিক ৫ ভাগ সিলেট বিভাগে রয়েছে। এসব পথশিশুর মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগ ছেলে এবং ৪৭ ভাগ মেয়ে। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা বেঁচে থাকে শুধু নিজেদের ওপর নির্ভর করে। দু’বেলা পেটপুরে খাবার, রাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই, অসুস্থ হলে একটু চিকিত্সা—কোনোটাই পায় না তারা। যেখানে রাত হয় সেখানেই তারা ঘুমিয়ে থাকে। শিশু অধিকার ফোরামের গবেষণা অনুযায়ী, পথশিশুরা শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপত্তাহীন প্রায় ৩০০ ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এসব কাজের মধ্যে ৪০টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, এদের মধ্যে শতকরা ৩২ ভাগ কন্যাশিশু যৌনকর্মে নিয়োজিত এবং ৪৩৮ ধরনের অর্থনৈতিক খাতে শ্রম দিচ্ছে এ শিশুরা। এসব শিশুর দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অপরাধীচক্র নানা অনৈতিক কাজে নিয়োগ করেছে তাদের দু’মুঠো ভাতের বিনিময়ে। অস্ত্র ও মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করাসহ ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন, চুরি—কোনোটাই বাদ যায় না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মাদক বহনের সঙ্গে জড়িতদের ৩০ ভাগই পথশিশুু। ৮০ ভাগই থাকে বিভিন্ন নেশায় আসক্ত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় পথশিশুর শতকরা ৫০ ভাগ নিরাময়যোগ্য রোগে ভোগে এবং শতকরা ১২ ভাগ দুর্ঘটনার জন্য প্রতিবন্ধী হয়। নিরাময়যোগ্য রোগের মধ্যে ৩৪ ভাগ বায়ু দূষণের ফলে একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এইআরআই), ৬৪ ভাগ শব্দ দূষণে ও ৩২ ভাগ দূষিত পানি ও স্যানিটেশনের কারণে পানিবাহিত রোগে ভোগে।
এছাড়াও ইউনিসেফের প্রকাশিত ২০০৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচআইভিতে আক্রান্ত ১৪ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩১০ জন। অথচ পথশিশুদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রকল্প রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন দৈনিক আমার দেশকে জানান, পথশিশুদের নিয়ে তাদের একটি প্রকল্প রয়েছে। তবে কি ধরনের কার্যক্রম রয়েছে সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে চাননি তিনি।
জাতীয় স্বাস্থ্য আন্দোলনের সভাপতি ডা. মাহবুব-ই-রশীদ বলেন, পথশিশুদের নিয়ে সরকারি-সেরকারি তেমন পদক্ষেপ নেই। একদিকে লোকদেখানো কিছু কাজ দেখিয়ে বিদেশ থেকে সাহায্য পায় কিছু এনজিও অন্যদিকে সমাজসেবা অধিদফতর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজ লোকদেখানো। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।(আমার দেশ,১১ আগ: ২০১০) -
সজল শর্মা১১ আগস্ট ২০১০, ১৮:৪৫
এ ব্যাপারে লেখার জন্য ধন্যবাদ। চাইলেই কিন্তউ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে সফল ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু আন্তরিকতার সাথে কে নেবে?
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
আর এই রকম তথ্যপূর্ণ লেখা আরো দিবেন আশা করি।
ভালো থাকবেন।
শুভ ব্লগিং।