বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট ২০১৪, ১৩ ভাদ্র, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বাংলাদেশে সমকামিতা: কতটুকু বাস্তব তার কতটুকু বায়বীয়

প্রথম পর্ব: বাংলাদেশে সমকামিতা: আমার ছোট ভাই আমাকে তার হাত ধরতে দেয় না

সমকামিতা বাংলাদেশে রয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। বোধহয় মানব সভ্যতা এমন কোন সময় অতিক্রম করে নি যে সময় কেউ সমকামিতায় লিপ্ত ছিল না। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে যখন একজনের সমকামিতা আরেকজনের বিনোদনের খোরাকে পরিণত হচ্ছে, সেখানে সমকামিতার বিস্তার ঘটবে না সেটা অস্বাভাবিক হবে। সুতরাং, এ কথায় আমার আপত্তি নেই যে সমকামিতার বিস্তার ঘটছে এবং তা সমাজের প্রায় সকল স্তরেই।

ইন্টারনেটে সমকামিতার পক্ষে যথেষ্ট রিসোর্স রয়েছে। সমকামিতা নিয়ে কাজ করছে এ ধরনের বেশ কিছু বাংলাদেশী সঙগঠনের ওয়েবে এ সঙক্রান্ত তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়। সিডনির সমকামিদের কোন এক পত্রিকায় ডেইলী স্টার পত্রিকার বরাত দিয়ে জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যালজির সহযোগী অধ্যাপক ড: সাইফুল আজমের মতে, বাংলাদেশে সমকামিতা বৃদ্ধির হার প্রায় বছরে প্রায় ৩.৫%। বাংলাদেশের সমকামিতা নিয়ে ওয়েব সাইটগুলোতে সমকামিদের সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এ সকল সাইটগুলোতে ভুল ভ্রান্তিতে ভরপুর। একটি সাইটের তথ্যানুসারে দেশে ৫-১০ শতাংশ সমকামী। পনেরো কোটি মানুষের দেশে এর পরিমান দাড়ায় ৭৫ লক্ষ থেকে দেড় কোটি। অথচ ১০০ কোটি মানুষের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত যেখানে সমকামিতাকে ২০০৯ সালে আইনগত বৈধতা দেয়া হয়েছে সেখানে নাকি সমকামিদের সংখ্যা মাত্র ২৫ লক্ষ (বিপ্লবকান্তির ব্লগ থেকে নেয়া)
সমকামিতার প্রসঙ্গ আসলেই স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে দুটো পক্ষ দাড়ায়। এক পক্ষ সকল দিক থেকে ঘৃন্য সমকামিতার বিপক্ষে অবস্থান নেয় যেখানে গুটিকতক ব্যক্তি অধিকারের ধুয়া তুলে সমকামিতার পক্ষে অবস্থান নেয়। আমি অবশ্যই প্রথম দলে।

সমকামিতাকে মানসিক সমস্যা/বিকৃতি হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছিল একসময়। পরবর্তীতে অবশ্য লবী গ্রুপের প্রচেষ্টায় একে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। বাদ দেয়া হলেও মানসিক বিকৃতি ছাড়া আর কিছু মনে হয় না বিশেষ করে শারীরিকভাবে পুরুষ হবার পরেও যারা এ ধরনের সংস্পর্শে জড়ায়। সমকামিতা নিষিদ্ধ সব দিক থেকে। পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আইনী - সব দিক থেকে নিষিদ্ধ সমকামিতা। বিশেষ করে বাংলাদেশে ক্রিমিনাল পেনাল কোডের ৩৭৭এ ধারায় একে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রায় সকল ক্ষেত্রের মতোই আইনের সঠিক প্রয়োগ এখানে অনুপস্থিত।

অনলাইনে সমকামিদের প্রচেষ্টাগুলো অকৃত্রিম, তবে ধোকায় পরিপূর্ণ। সমকামিতাকে বৈধ করার জন্য তারা বেশ ভালোই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। উদাহরন দেই। এই আর্টিকেলে সমকামিতাকে a practice so harmless and personal in practice বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ উইকি সহ প্রায় সব মেডিকেল সাইটেই একে ক্ষতিকর বলে বর্ননা করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন সাইটের লিংক সহ আমি মন্তব্য করেছিলাম যা মডারেশন বোর্ডে গিয়ে আটকে গিয়েছে, প্রকাশের মুখ দেখে নি। তাদের আরেকটি প্রচেষ্টা হলো বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বর্ননা করা। কোন মসজিদের কোন ইমাম একজন সমকামি এবং তিনি মনে করেন সমকামিতা পাপ নয়, যদিও তা কোরআনে সরাসরি নিষিদ্ধ - এই ভিত্তিতে সমকামিতার বৈধতার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবচে' নিকৃষ্ট হলো, ধর্মীয় লেবাসসমৃদ্ধ সাইটে সমকামিতার বৈধতার চেষ্টা করা। এমন একটি ঘৃণিত সাইট হলো আল-ফাতিহা যার নাম শুনে বোঝার কোন উপায় নেই যে এরা ধর্মের নাম ব্যবহার করছে মাত্র। বিশ্বের ১২৬ টি দেশে সমকামিতাকে আইনগত বৈধতা দেয়া হয়েছে, বিপ্লবকান্তির তথ্যানুসারে। ব্যক্তি অধিকারের ধুয়া তুলে আর সমকামিদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এর বৈধতা দানের ঘটনা নিতান্তই আহাম্মকি ছাড়া আর কিছু কি? চিন্তা করুন তো, দেশে ধর্ষন কিংবা ইভটিজিং এর পরিমান বেড়ে গেলে ব্যক্তি অধিকারের ধুয়া তুলে তারা যদি বৈধতা দাবী করে তবে এর বিপক্ষে যুক্তি কি হবে? হয়তো তখন সরকার ধর্ষকামীদের সুবিধার্থে বিশাল ফান্ড থেকে বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ করবে যেমনটি সমকামিদের সচেতনতা বৃদ্ধির নিমিত্তে কনডম এবং লুব্রিকেশন সরবরাহের জন্য ৫৬০ কোটি টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিনেমার ভূমিকা
সিনেমার ছাত্র বলেই বোধহয় এ ব্যাপারটিকে সমালোচনা না করে পারছি না। আমার সেই ভাইটি নিজেই জানিয়েছিল, পরবর্তীতে আলোচনার সময় আরও কয়েকজনের কাছে রেফারেন্স পেয়েছি। সমকামিদের অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে 'মিল্ক' অস্কার এ লড়াই চালিয়েছে বেশ শক্ত হাতে। দীপা মেহতার "ফায়ার " কিংবা "গার্লফ্রেন্ড " ছবিগুলো যথেষ্ট আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছিল। তবে, এ সকল ছবির পেছনে আমার ততটা ক্ষোভ নেই, কারণ অন্তত: এটা বুঝি যে সমকামিতাকে সমর্থন নয়, বরং আলোচিত দৃশ্যগুলো দেখার জন্যই অনেক দর্শক ছবিটি দেখেছিল। কিন্তু "দোস্তানা " ক্ষেত্রে বিষয়টা কিন্তু ভিন্ন। ছবিটিতে অভিনয় করেছে অভিষেক বচ্চন, জন আব্রাহাম এবং প্রিয়াঙকা চোপড়া। তরুন মানসুখানী কর্তৃক পরিচালিত হলেও বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে করন জোহরের নাম, কারণ তরুন করন জোহরের সহকারী। আমার ছোট ভাইয়ের বক্তব্য: ভাইয়া, এই যুগে হিন্দী ভাষা জানে না এমন মানুষ একটাও খুজে পাবেন না, আর দস্তানা দেখে নাই সেরকম মানুষও বিরল। সুতরাং কেউ যদি এ ব্যাপারে কিছু নাও জেনে থাকে, দস্তানা একাই যথেষ্ট। যদি কিছু করতে চান, তবে হিন্দী সিনেমা দেখা বন্ধ করেন।
আমি হয়তো হিন্দী সিনেমাই দেখানো বন্ধ করতে বলবো না, তবে নিয়ন্ত্রনের কথা অবশ্যই বলবো। আপনার ছোট ভাইটি, কিঙবা ছেলেটি তার গ্রহণক্ষমতার বেশী কিছুর দর্শক হয়ে যাচ্ছে নাতো?

সবশেষে, আমার ছোট ভাইদেরসহ সকলের উদ্দেশ্যে
সমকামিতা খারাপ - এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এদেশের সকল মানুষই কি সমকামী হয়ে গেল? অবশ্যই না। এটা এমনই একটা জঘন্য ব্যাপার যা একজন স্বাভাবিক মানুষ মাত্রই ঘেন্না করে। সুতরাং, সমকামিতাকে ঘেন্না করতে গিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতিকে, পারস্পরিক সম্পর্ককে সর্বোপরি আন্ত:ভালোবাসাকে দূরে সরিয়ে দেয়া কতটুকু যৌক্তিক হবে?
এ ধরনের আচরনের একটি উল্টো প্রভাবও ঘটতে পারে। যে ছেলেটি সমকামিতা সম্পর্কে এখনো জানতে পারেনি, সে ভুল জানবে, অথবা একটি দিক সম্পর্কে জানবে মাত্র। এই অল্প জানা তাকে সেই ঘৃণিত পথেই ঠেলে দিতে পারে, হতে পারে সম্পর্কের অবনতির। কে না জানে, নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি দুর্বার আকর্ষনই তার ব্যবহার বৃদ্ধির সবচে' বড় কারণ।
সমকামিতা নিয়ে জানার দরকার আছে, তার থেকেও বেশী দরকার এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানার। আর সবচে' বেশী প্রয়োজন এর বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃনা ধরে রাখার।
আইনগত বৈধতাই শেষ কথা নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতাই আসল কথা।
৩৪ টি মন্তব্য
dhusorbikel841 সপ্তর্ষি অরন্য০৬ জুলাই ২০১০, ২২:৫৫
ভালবাসার মুখোশে লুকানো যে কোন ধরনের কামকেই না বলুন।ব্যাস শেষ।
পারলে ভাল বাসুন মানুষকে।
asmarshad আ,শ,ম,এরশাদ০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:০৩
বিবিসির এক অনুষ্টানে শুনেছিলাম সমকামীদের এক বিশেষ জীন রয়েছে। যে জীন তাদেরকে সমকামী হতে উৎসাহী করে, যাদের এই জীন নেই তাদের ইচ্ছা করলেও সমকামী বানানো যায় না।
আপনার পোস্ট বেশ তথ্য সমৃদ্ধ এবং অনেক সোর্স দিয়ে লিখেছেন । জানলাম অনেক কিছুই। ধন্যবাদ।
shravanakash শ্রাবণ আকাশ০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:১১
সমকামী ছেলেদের ব্রেইন নাকি মেয়েদের ব্রেইনের মত কাজ করে। (লিঙ্ক)
darashiko দারাশিকো০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:১৯
ধন্যবাদ আশম এরশাদ।
এরকম একটি মন্তব্য আরো ভালো কিছু লিখতে উতসাহিত করে নি:সন্দেহে
shravanakash শ্রাবণ আকাশ০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:০৭
আমার মনে হয় ছোটোবেলা এটা "ফান" হিসাবেই অনেকে নেয় কিন্তু বড় হলে ঠিক হয়ে যায় আর দেশে সবারই কমবেশী প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ্য অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। দেশে তো বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে হাত ধরে এমনকি গলাগলি হয়েও চলতে দেখা যায় - কিন্তু এ থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা যায় না। যা হোক, দেশে থাকতে পারে তবে মারাত্মক নয় বলেই মনে হয়। তবুও বৃদ্ধির হার দেখে ভয় লাগে - মারাত্মক হতে কতক্ষণ!

একবার ভাবলাম কেন হয় তার পক্ষে একটা যুক্তি দেখাই - সমাজে ছেলে-মেয়েদের একসাথে মেলামেশা ভালো ভাবে নেয় না বলেও এটা হতে পারে। কিন্তু তার পরেই মনে হলো উন্নত দেশে যেমন আমেরিকায়, সেখানে তো অবাধ মেলামেশার সুযোগ, তাহলে সেখানে কেন এসব এত বেশী!

আপনার কথা ঠিক - মানব সভ্যতার প্রতি ধাপে ধাপে এটা ছিল, আছে। দেখতে হবে ভালো-মন্দের দিকগুলো। দরকার ভালোকে গ্রহণ আর মন্দকে বর্জন করার শিক্ষা।
kutubi নিজাম কুতুবী০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:১০
আপনি শুরুতেই ওই সব নিয়ে ব্লগ বিছিরি করছেন কেন?? ওসবকে ওয়াক তু বলুন সবসময়
darashiko দারাশিকো০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:১৮
জ্বি বস.. মনে থাকবে। আসলে, আজই শুরু করলাম, আর আজই লেখা এই পোস্টটা, তাই দিলাম।
ওয়াক থু বলতে চাই, তবে যুক্তি সহকারে, তাই বললাম
ধন্যবাদ
nayan_mallick নয়ন মল্লিক০৬ জুলাই ২০১০, ২৩:৫৮
সচেতনতার আরেক ধাপ।
লেখাটির জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
bartho ব্যর্থ পাব‍‍লিক০৭ জুলাই ২০১০, ০০:৪০
ভাইয়া, আপনার উপস্থাপন চমৎকার এবং তথ্য সমৃদ্ধ। অনেক কিছুই জানা হল।
sharmabangla সজল শর্মা০৭ জুলাই ২০১০, ০১:৩৫
বাংলাদেশে সমকামীতা নেই বললেই চলে, যা আছে সেটা উভকামী পর্যায়ের। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা তো আর আমাদের সমাজে হয় না, তাই সেখানে যৌনতার দিক দিয়ে সমকামীতা চলে আসে। আর যা আছে তা পুরুষদের মধ্যেই আছে বলে নজরে পড়েছে। কিন্তু একেবারে বিকৃত পর্যায়ের তেমন কাউকে চোখে পড়েনি। এক ব্যক্তিকে জানি, যে বিবাহিত, তার ছেলেমেয়ে অনেক বড় বড় মানে বিবাহের যোগ্য। সেই ব্যক্তি এসব উলটাপালটা কাজ করত যা এখানে বলা যাচ্ছে না। মানে তার কিছু চরিত্র মেয়েদের মতই, যদিও সে সক্ষম পুরুষ হিসেবে সন্তানের জনক হয়েছে।

অধ্যাপক সাহেব যা বলেছেন তা মনগড়াই হবে। কিছুটা খোলেই বলি। যুবকরা যৌন কাজ চরিতার্থ করতে অল্প বয়সী বালকদের সাথে এক ধরণের সমকামী সম্পর্ক স্থাপন করে। যেটা আমাদের দেশে হয়ে থাকে। তবে এই সম্পর্কটা শুধু যৌনতার জন্য। বিপরীত লিঙ্গ পাচ্ছে না দেখে, বাঁধা আছে দেখে, গর্ভধারণ, প্রোটেকশন- এসবে ঝামেলা দেখে- সে এমনটি করছে। এদের অনেকেই বিয়ে করে সন্তানের পিতা হয়ে বিপরীতকামী জীবন সুন্দরভাবে যাপন করছে। তাই আমি বলব- বাংলাদেশে যা আছে তা উভকামী পর্যায়ের। মেয়েদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। মেয়েদের সমকামীতার যে চিত্র আমরা বাইরে দেখি, সে হিসেবে কিছুই আমাদের দেশে নেই। থাকলেও অতি অতি নগন্য, আর তা থাকবে উচ্চশিক্ষিত পর্যায়ে যারা প্রভাবিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। আর এই প্রভাবিত হওয়ার কারণে আগামীতে হয়তো একেবারে খাঁটি সমকামী পাওয়া যাবে দেশে।
darashiko দারাশিকো০৭ জুলাই ২০১০, ১৪:২৭
আমি একমত যে, নানান ধরনের কারনে সমকামিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে আমার মনে হয় বিয়ে করার যে জটিল প্রক্রিয়া বিদ্যমান তা অনেক ক্ষেত্রেই এ অন্যায় আচরনে বাধ্য করে।
riyadh রিয়াদ০৭ জুলাই ২০১০, ১৫:৫৪
সজল শর্মা ভাইয়ের সুন্দর ব্যাখ্যার জন্য ধন্যবাদ।

সমকামিতা নিয়ে জানার দরকার আছে, তার থেকেও বেশী দরকার এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানার। আর সবচে' বেশী প্রয়োজন এর বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃনা ধরে রাখার।
আইনগত বৈধতাই শেষ কথা নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতাই আসল কথা।
- আপনার এইকথাগুলো এব্যাপারে শেষ কথা।
shravanakash শ্রাবণ আকাশ০৭ জুলাই ২০১০, ২২:০৫
আমার মনে হয় ঘৃণাটা কোনো কাজের কথা নয়। অনেক আগে খালিদের একটা গান শুনতাম, এখনো মাঝে মাঝে গুণগুণ করি - "...যে মোরগের আজান শুনে/ ঘুম ভাঙে তোমার সকালে/ সেই মোরগের মাথা না খাইলে/ তোমার মগজ ভরে না... যারে আমি ভালোবাসি/ তারেই আবার বাসি না/ তারেই ভালো লাগে না লাগে না..." ভালোবাসা-ঘৃণা বড়ই আপেক্ষিক বিষয়!
rajeen রাজিন০৭ জুলাই ২০১০, ১০:০৯
আমাদের দেশ তথা মুসলিম দেশগুলোতে এগুলো অবৈধ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য অনেক দেশে (এমনকি ভারত) আস্তে আস্তে এগুলো বৈধতা পাচ্ছে ।
darashiko দারাশিকো০৭ জুলাই ২০১০, ১৪:২৬
ভারতে বৈধতা পাচ্ছে বলাটা ঠিক হলো না, বরং ভারতে সমকামি বিবাহকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, সেটা ২০০৯ এ।
shravanakash শ্রাবণ আকাশ০৭ জুলাই ২০১০, ২৩:০৮
বৈধ-অবৈধ করে রোগ আটকানো যায় কি? এসব ঠেকাতে ভালো-মন্দ বিচার করার সুশিক্ষাটাই কি আগে দরকার না?
darashiko দারাশিকো০৮ জুলাই ২০১০, ১৭:৫৪
এ কথাটাই আমি শেষ বাক্যে বলতে চেয়েছি। একটা কাজকে বৈধ করে দিলেই কাজটা ভালো হয়ে যায় না, ঠিক তেমনি বৈধতা অবৈধতার শিক্ষার আগে ভালো মন্দের শিক্ষাটা বেশী দরকার।
elius ‍েমাহাম্মদ ইলিয়াছ ‍চৌধূরী০৭ জুলাই ২০১০, ১৪:৫৫
বিষয়টিকে তথ্য সমৃদ্ধ করে সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আরো বিভিন্ন বিষয়ে সুন্দর ও তথ্য সমৃদ্ধ লেখা পাঠের প্রত্যাশায় রইলাম।
darashiko দারাশিকো০৭ জুলাই ২০১০, ১৭:৩৫
ধন্যবাদ, চেষ্টা থাকবে।
gadha007 হুমায়ুন কবির হাকিম০৭ জুলাই ২০১০, ১৫:৩৮
সমকামীতা হচ্ছে মানসিক অসুস্থতা, বিকৃত রুচি ছাড়া আর কিছুই নয়।
prince007 মশিউর০৭ জুলাই ২০১০, ২৩:১৮
darashiko দারাশিকো০৮ জুলাই ২০১০, ১৭:৫৫
অকে অকে অকে...
ujjwalldhar1 উজ্জ্বল ধর০৮ জুলাই ২০১০, ০৩:১০
সমকামীতা গ্রহনযোগ্য নয় কি‍ছুতেই।
ferozkhan ফিরোজ খাঁন তুষার০৮ জুলাই ২০১০, ০৬:৪২
সমকামীদের মাঝে এইডস এর সংক্রমন হয় খুব বেশি, এর কিছু মেডিকেল বা শরীরবৃত্তীয় কারণ রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা হয়তো জিনিস টা ভালো ভাবে নেন না বলেই ঝুকি সেখানে বেশি রেখেছেন।

আর দোস্তানা সিনেমাতে কিন্তু কখোনো্ই সমকামিতা কে উপজীব্য করা হয় নাই। প্রচুর সমালোচনা হয় বলে আমি সিনেমাটা দেখি। সেখানে দেখানো হয়েছে যে নিউইয়র্ক শহরে দুই যুবক ( অভিষেক, জন ) থাকার মতন কোনো বাসা না পেয়ে এক মেয়ের সাথে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করেন, কিন্তু মেয়ের ফুফুর কাছে নিজেদের সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করার পর, তাতে মেয়ের ফুফু নিশ্চিত হন যে এই হাটকে যুবকদ্বয়ের কাছে তার ভাতিজি নিরাপদ। আর নিজেদের কে সমাকমী হিসেবে উপস্থাপনের কারণে কি ধরনের সমস্যায় তাদের পরতে হয়েছে সেটা নিয়েই এই সিনেমা।

ভালো থাকবেন আশা করি।
cameraman রিফাত জামিল ইউসুফজাই০৮ জুলাই ২০১০, ১০:০৬
ছেলেরাই কেবল সমকামী আপনার এই ধারণা ভুল। সমকামী কেবল ছেলেরাই হয় না, মেয়েরাও হয়। ইংরেজীতে দু'টো শব্দ আছে - গে এবং লেসবিয়ান। গে হলো পূরুষ সমকামী আর লেসবিয়ান মহিলা সমকামী। এদেশের মানুষ ধর্মানুরাগী বলে এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না। ফলে আমাদের সমাজে এদের সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। তথ্য নির্ভর কোন পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পূরুষ সমকামীদের সংখ্যা বেশী। এর একটা ঐতিহাসিক কারণও আছে - চট্টগ্রাম অনেক আগে থেকেই সমূদ্র বন্দর, বোধ হয় ঢাকা শহরের পত্তনের আগেই এর শুরু। ফলে এলাকার লোকজন সেই সময় থেকেই সমূদ্রগামী নৌযানের মাঝি-মাল্লা-নাবিক হিসেবে কাজ করছে। দূরযাত্রায় নারীসঙ্গ বিবর্জিত এই জনগোষ্ঠী সমকামীতায় লিপ্ত হতো। সেই ধারাটা বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর অনেকেই মধ্যেই গ্রোথিত হয়ে আছে।
sayedurchowdhury সাইদুর রহমান চৌধুরী০৯ জুলাই ২০১০, ১১:৫৯
কারেকশন: লেসবিয়ান শব্দটি একটি সেক্সিস্ট শব্দ, বছর বিশেক আগে চালু ছিলো। বর্তমানে অবসোলিট এবং যে সব দেশে সমকামীতা প্রকটা তার প্রায় প্রতিটি দেশেই শব্দটির ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ। এটার ব্যবহার অফেন্সিভ বিবেচনা করা হয়। নারী ও পুরুষ উভয় সমকামী বুঝাতেই 'গে' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

আর লেখক বলেননি যে, সমকামী শুধুই পুরুষ, তিনি বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা বা অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মাত্র।
cameraman রিফাত জামিল ইউসুফজাই০৯ জুলাই ২০১০, ১৪:১৮
সেক্সিষ্ট শব্দ মানে কি ? সমকামীতার ক্ষেত্রে যে শব্দটি নারী-পূরুষ উভয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় সেটি হোমোকেক্সুয়াল বা হোমোসেক্সুয়ালিটি। উইকিপিডিয়ার এই পাতায় লেসবিয়ান শব্দটি সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক কিছুই পাবেন।

"বাদ দেয়া হলেও মানসিক বিকৃতি ছাড়া আর কিছু মনে হয় না বিশেষ করে শারীরিকভাবে পুরুষ হবার পরেও যারা এ ধরনের সংস্পর্শে জড়ায়। " - এই বাক্য পড়ার পর এবং মহিলা সমকামিদের বিষয়ে কোন কিছু না পেয়ে আমার মনে হয়েছে লেখক সমকামী হিসেবে শুধূই পূরুষকে দেখছেন।
darashiko দারাশিকো০৯ জুলাই ২০১০, ১৯:১৮
ক্যামেরাম্যান ভাইয়ের মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা কেন জানি আসে নাই, দ্বিতীয়বার চেষ্টা করি নাই।
তিনিই সঠিক, আমার সেই বাক্যটি বিভ্রান্তিকর, তাছাড়া বাংলাদেশে লেসবিয়ান নিয়ে কোন তথ্য কোথাও পাইনি বলেই চেপে গিয়েছি।
sayedurchowdhury সাইদুর রহমান চৌধুরী১০ জুলাই ২০১০, ০০:৫৮
@রিফাত জামিল ইউসুফজাই

‍সেক্সিস্ট বলতে বোঝায় যে সব কথা বা আচরণ নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যবাচক। তাই উন্নত দেশগুলোয় নারী বা পুরুষবাচক অধিকাংশ শব্দের ব্যবহার অফিশিয়ালী নিষিদ্ধ, তাই লেসবিয়ান ও গে আলাদা দুটি শব্দ ব্যবহারও তাদের দৃষ্টিতে বৈষম্যমূলক, ফলে তারা গে শব্দটিকেই উভয় ধরনের সমকামী বুঝাতে ব্যবহার করে। অভিধানেও সেভাবেই উল্লখ করা হয় যেমন:
gay (g)
adj.
1. Of, relating to, or having a sexual orientation to persons of the same sex.
n.
1. A person whose sexual orientation is to persons of the same sex.
aponjon আপনজন০৮ জুলাই ২০১০, ১৬:২৭
সমকামিতার প্রসঙ্গ আসলেই স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে দুটো পক্ষ দাড়ায়। এক পক্ষ সকল দিক থেকে ঘৃন্য সমকামিতার বিপক্ষে অবস্থান নেয় যেখানে গুটিকতক ব্যক্তি অধিকারের ধুয়া তুলে সমকামিতার পক্ষে অবস্থান নেয়। আমি অবশ্যই প্রথম দলে।


১০০% রাইট ব্রাদার !
shoosmita সুস০৯ জুলাই ২০১০, ১১:৩৬
আমরা যাই বলি -তা কখনই এই ধরনের ব্যক্তিগত পর্যায়ের 'অপরাধ' প্রতিরোধ করতে সক্ষম নয়। তবে এটা সত্যি যে কোন অপরাধ নিয়ে যত বেশি আলোচনা করা হয়- তা তত উৎসাহিত হয়ে বেড়ে যেতে থাকে!!! (আর কিছু বলতে চাই না- জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য ইশারাই যথেষ্ট)
darashiko দারাশিকো০৯ জুলাই ২০১০, ১৯:২২
আপুর ইংগিতটা বুঝতে পেরেছি এবং মানছিও।
বছর দেড়েক আগে এরকম একটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম, আমি নিশ্চিত জানি সেখানে এক পক্ষ অবশ্যই কিছু জানে না, কারন জানার মত প্রাপ্তবয়স্ক সে তখনো হয়ই নি, এটা একটা উদ্দেশ্য বটে ।
ধন্যবাদ ...
sayedurchowdhury সাইদুর রহমান চৌধুরী০৯ জুলাই ২০১০, ১২:০৩
সমকামিতা নিঃসন্দেহে একটি বিকৃতি, যতই জিনের দোহাই দেয়া হোক না কেন, জীববিজ্ঞানের স্বাভাবিক সূত্রই হলো যৌনতা এসেছে প্রজননের প্রয়োজনে। যেখানে প্রজনন ও বংশবিস্তার অসম্ভব সেরকমের যৌনতার কোন জীববৈজ্ঞানীক ভিত্তিই দাড়ায় না। তাই মানুষের বিকৃতির প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকার তত্ত্ব দিয়ে এ ধরণের যৌনতাকে স্বাভাবিক প্রমান করার চেষ্টা চলছে মাত্র।
che21 চে২১১০ জুলাই ২০১০, ০৪:৫৮
@মি:রিফাত,"তথ্য নির্ভর কোন পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পূরুষ সমকামীদের সংখ্যা বেশী।".... আপনার সম্পর্কে কোন কিছু না জেনেই বলছি,না জেনে না বুঝে এভাবে সরাসরি কোন একটা জনগোষ্ঠির সম্পর্কে এরকম কিছু বলা আপনার ঠিক হয় নাই,এটা অনেকটা সাম্প্রদায়িক কথা, আপনার দৃষ্টি ভংগিতেই বলা যায়,এভাবে দেখতে গেলে সারাদেশেই পাবেন।

তবে সামগ্রিকভাবে পোস্টটা সম্পর্কে বলা যায়, গে অথবা লেসবিয়ান দুই সম্পর্কই আমাদের দেশে বিদ্যমান।অনেক ব্লগ সাইটে এ ব্যাপারে লিখা দেখা যায়।কেউ স্বীকার করুক আর না করুক তথ্য প্রমান পাওয়া আমাদের মত দেশে পাওয়া সম্ভব না।কিন্তু সারা দেশেই এটা বিদ্যমান।
আর আমার মতে এটা একটা বিকৃত মানসিকতার বহি:প্রকাশ।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment