শনিবার ২৫ মে ২০১৩, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


সুগন্ধি কারিপাতা গাছ


কারি গাছের পাতাকে কারিপাতা বলে যা সুগন্ধি তৈরিতে ও খাবার বাসনাময় করতে ব্যবহৃত হয়।কারিপাতাগাছ এ দেশে পরিচিত গাছ হলেও সুগন্ধি গাছ হিসেবে এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। দক্ষিণ ভারতে রান্নাকে সুগন্ধিযুক্ত করতে কারিপাতার ব্যবহার চলে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।খাদ্যকে শুধু সুস্বাদু করাই নয়, এ পাতার কিছু ভেষজগুণও আছে। তাই আমাদের বুনো এ গাছটির পাতা তেজপাতার মতো মসলা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কারিপাতা এদেশে কোথাও কোথাও নিমভুতগাছ হিসেবে পরিচিত। বনে জঙ্গলে জন্মে, আপনা আপনি হয়। কেউ কখনো এ গাছ লাগায় না। এগাছ অবশ্য কেউ কেউ কবিরাজী কাজে ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর সুগন্ধি পাতা ব্যবহার করে এদেশে কেউ কখনো রান্না করেন না।

হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদেও কারিপাতার গাছ জন্মাতে দেখা যায়।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ মিটার উঁচুতেও কারিপাতাগাছ জন্মাতে পারে।

গাছ মাঝারি উচ্চতার, উচ্চতায় ৫-৬ মিটার হয়। পাতা দেখতে অনেকটা নিম পাতার মতো। পাতায় সালফারঘটিত এক ধরনের উদ্বায়ী তেল থাকার কারণে সুন্দর ঝাঁঝাল গন্ধ আসে। কাঁচা পাতা ডললে পাতা থেকে গোলমরিচ, লবঙ্গ, মরিচ, আদা ইত্যাদি মসলার মিশ্রিত এক প্রকার ঘ্রাণ বের হয়।

এই সুগন্ধির জন্যই কারিপাতা রান্নায় মসলাপাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতা পক্ষল ও যৌগিক, নিমপাতার মতোই। তবে পাতাগুলো ডালের মাথা থেকে চারদিকে সূর্যের রশ্মির মতো ছড়িয়ে পড়ে।

তাই পত্রবিন্যাস সুন্দর দেখায়। প্রতিটি পাতায় অনুপত্রকের সংখ্যা ৯-১৫টি। অনুপত্রকের কিনারা খাঁজকাটা, অগ্রভাগ সূচালো। ডালের মাথায় পুষ্পমঞ্জরীতে সাদা রঙের ফুল ফোটে, ফুলেও সুগন্ধ আছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ফুল ফোটে। ফুল থেকে নিমের মতো ফল হয়। ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, কাঁচা ফলের রঙ সবুজ। পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে লালচে থেকে কালো হয়ে যায়। বীজ থেকে সহজে চারা হয়।

এর ইংরেজি নাম কারি লিফ, বাংলায় কারি পাতা। বাংলায় স্খানীয় কিছু নামও আছে- নিমভুত, বারসাঙ্গা ইত্যাদি।
কাঁচা কারিপাতা কয়েকটা পানিতে ধুয়ে রান্নার সময় তার ভেতরে ছিঁড়ে দিলে রান্নায় সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝ আসে। গরু ও খাসির গোশত, মিশ্র সবজি, ডাল ইত্যাদি কারিপাতা দিয়ে রান্না করা যায়। কারিপাতা শুকনো করে গুঁড়ো হিসেবে কারি পাউডার তৈরি করা যায়। বোতলে ভরে রেখে রান্নার সময় তা ব্যবহার করা যায়। তবে কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ বেশি।
কারিপাতা, গাছ, শিকড় সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। গাছের শিকড় অর্শ রোগে উপকারী। আমাশয় ও ডায়রিয়া সারাতেও কারিপাতা ওস্তাদ। কয়েকটা সবুজ পাতা চিবিয়ে খেলে এটা সেরে যায়। পাতা সেঁকে ও তা থেকে ক্বাথ তৈরি করে খেলে বমিভাব দূর হয়। রেচনতন্ত্রের ব্যথা দূর করতে পাতার রস সেবন করতে পরামর্শ দেয়া হয়। শরীরের কোথাও কোনো বিষাক্ত পোকা কামড়ালে কাঁচা কারিপাতা ডলে সেখানে লাগালে দ্রুত উপশম হয়। যকৃতের কঠিন ব্যথা সারাতে রোগীদের কারিপাতা গাছের শিকড়ের রস খাওয়ানো হয়। শুধু পাতা নয়, এর ফলও খাওয়া যায়। বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তার গন্ধ অনেকটা নারকেল তেলের মতো আর স্বাদ মরিচের মতো ঝাঁঝালো। তেল জিহ্বায় স্পর্শ করলে ঠাণ্ডা মনে হয়। এ গাছে সহজে কোনো রোগ পোকা আক্রমণ করে না।
৯ টি মন্তব্য
kamaluddin কামাল উদ্দিন০৫ জুন ২০১২, ১৮:৫৩
কখনো দেখিনি, সামনে থেকে কোথাও গেলে খুজবো, ধন্যবাদ ।
fardousha ফেরদৌসা০৫ জুন ২০১২, ১৯:০১
অনেক কিছুই জানতে পারলাম।ছবি গুলি ও অনেক সুন্দর ।মনে হয় আপনার বাসার টবে লাগানো ।
somoynews ইসময়০৫ জুন ২০১২, ১৯:০৪
দারুন তো দেখতে।
dollar জিনজির০৫ জুন ২০১২, ১৯:০৯
সুন্দর পোস্ট। কারিপাতা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। অনেক কিছু জানলাম আপনার পোস্ট পড়ে। ছবিগুলো দারুন। শুভেচ্ছা জানবেন।
Rabbani রব্বানী চৌধুরী০৫ জুন ২০১২, ১৯:১৫
শেয়র করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইল। ভালো থাকবেন।
mukto75 মুক্তমন৭৫০৫ জুন ২০১২, ১৯:২৯
শেয়ার করবার জন্য ধন্যবাদ। এই গাছের নাম আপনার এই লিখা থেকেই প্রথম জানলাম।
শুভকামনা রইল, ভালো থাকুন।
mohsinpr অনিন্দ্য মহসীন০৫ জুন ২০১২, ২২:৫৮
অজানা তথ্য জানা গেল। খুব ভালো লেগেছে। গাছটির চারা কোথায় পাবো একটু জানালে উপকৃত হবো। ঠবে লাগাতে চাই। ধন্যবাদ।
saurafik ‍েমা: রফিকুল ইসলাম১০ নভেম্বর ২০১২, ১২:৩৭
অনেক তথ্যবহুল পোস্ট। অনেক কিছু জানতে পারলাম। আসলে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি কি বাণিজ্যিকভাবে চাষ লাভজনক?? যদি হয় এই উপকারিতা বিবেচনা করে চাষ করা যেতে পারে। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।
calvertbrett calvertbrett১৩ মে ২০১৩, ২০:০৭
Yeah, it's just what I need, I'm about to have a new one