বিদ্যা অর্জনের জন্য একটি ছোট প্রাণের আকুতি এবং কিছু প্রশ্ন
সোহরাব মিয়া মাচায় বসে দুই আঙ্গুলে চেপে ধরে বিড়িতে শেষ সুখ টান দিচ্ছে । ঠিক এই সময়, ছোট ছেলেটি কাছে এসে দাড়ায় । এসেই জিজ্ঞেস করে,
- আব্বা বিড়ি খাইতাছ ?
- হ’ কি অইছে ?
- আব্বা বিড়ি খাইলে ক্যান্সার অয় । আর ক্যান্সার অইলে মানুষ মইরা যায় ।
- তরে কেডা কইছে?
- আমগর ইশকুলের স্যার ।
- তরে না কইছি ইশকুলে না যাইতে ।
- কেন আব্বা ?
- তুই লেহাপড়া কইরা কি করবি ? হেই চাষার পোলা চাষাই অইবি ।
- না বাজান । আমি সব সময় ফাষ্ট অই । আমি লেহাপড়া ভালা মতো শেষ কইরা বড় চাকরি করমু ।
- এহ্ ! বড় চাকরি করবো । তরে কেডা চাকরি দিবো ? এই দেশে ঘুষ না দিলে চাকরি হয় না । এই দেশে লেহাপড়া কইরা সবাই ঘুষ খায় । সবাই গরিবের রক্ত চুষে । আমি তরে বিদ্বান অইতে দিমু না । তুই আমার মত চাষা অইবি । আর যাই হোক গতর খাটাইয়া হালাল পয়সা কামাইবি ।
- না বাজান আমি লেহা পড়া করুম ।
ছেলেটি বাবার কাছে গোঁ ধরে । সোহরাবের মাথা গরম হয়ে যায় । একটা চড় মারে ছেলের গালে । ছেলেটি তাল সামলাতে না পেরে বাবার পায়ের কাছে বসে পরে । চিৎকার করে কেঁদে উঠে । তারপরও বাবার পায়ে ধরে স্কুলে যাবার জন্যে আকুতি জানাতে থাকে । সোহরাবের মনটা দুর্বল হয়ে যায় । এই ছেলেটির প্রতি সোহরাবের এমনিতেই দুর্বলতা আছে । ছেলেটি দেখতে হয়েছে তার বাবার মতো । ওর বাবা মারা গেছে অনেক দিন । ছেলেটির জন্মের পর থেকেই সোহরাব ওর বাবার ছায়া দেখতে পায় ওর মাঝে । ওর দু’টো ছেলে । বড়টি লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাষাবাদে মন দিয়েছে । এই ছোটটির বয়স ৮ বছর । ওকে বলেছে লেখাপড়া করার দরকার নেই । কথা শুনবে না । সে পড়ালেখা চালিয়েই যাবে । কিছুক্ষণ ওর ছেলের দিকে তাকিয়ে থেকে সোহরাবের মনটা হুহু করে কেঁদে উঠে । ছেলেটির কান্না সোহরাব সহ্য করতে পারে না । টেনে তুলে জড়িয়ে ধরে । মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
- হরে বাজান তুই লেহা পড়া করবি । আমার যত কষ্টই অয় আমি তরে লেহা পড়া করামু । তয় বাজান আমারে কতা দে, তুই অই রহম শিক্ষিত অইবি না । যারা গরিবের রক্ত চুইষা খায় । যারা এই দেশ চালায় দেহছ না কত বিদ্বান । ওরা তো দেশের গরিব মানুষের কতা কিছু ভাবে না । আমারে কতা দে, তুই কুনো দিন হারাম খাইবি না । ওগর মতো অইবি না । শিক্ষিত অইয়া গরিব মাইনসের কতা মনে রাকবি ।
ছেলেটি সোহরাবের অনেক কথাই বুঝতে পারে না । শুধু এই টুকু বুঝতে পারে ওর বাবার মতো ভালো মানুষ হতে হবে । কারো কোন ক্ষতি করা যাবে না । চোখ মুছে ওর বাবাকে বলে,
- না আব্বা আমি ভালা মানুষ অইমু তুমার মতো ।
ছেলেটির কথায় সোহরাবের চোখ ঝাপসা হয়ে উঠে । দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে গাল বেয়ে ।
সোহরাবের কেন এই ক্ষোভ শিক্ষিত মানুষের প্রতি ? এমন তো হবার কথা ছিল না । তবে কেন এমন হল ? এর দায় ভার কি আমাদের সবার নয় ? আমাদের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থা কি সোহরাবের ছেলেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারবে ? সোহরাবের শিক্ষিত মানুষের প্রতি ঘৃণা কি ওর ছেলে দূর করতে পারবে ? প্রশ্ন থেকেই যায় ।
বিঃ দ্রঃ এটা আমার হারিয়ে যাওয়া পোস্ট গুলোর একটি ।
- আব্বা বিড়ি খাইতাছ ?
- হ’ কি অইছে ?
- আব্বা বিড়ি খাইলে ক্যান্সার অয় । আর ক্যান্সার অইলে মানুষ মইরা যায় ।
- তরে কেডা কইছে?
- আমগর ইশকুলের স্যার ।
- তরে না কইছি ইশকুলে না যাইতে ।
- কেন আব্বা ?
- তুই লেহাপড়া কইরা কি করবি ? হেই চাষার পোলা চাষাই অইবি ।
- না বাজান । আমি সব সময় ফাষ্ট অই । আমি লেহাপড়া ভালা মতো শেষ কইরা বড় চাকরি করমু ।
- এহ্ ! বড় চাকরি করবো । তরে কেডা চাকরি দিবো ? এই দেশে ঘুষ না দিলে চাকরি হয় না । এই দেশে লেহাপড়া কইরা সবাই ঘুষ খায় । সবাই গরিবের রক্ত চুষে । আমি তরে বিদ্বান অইতে দিমু না । তুই আমার মত চাষা অইবি । আর যাই হোক গতর খাটাইয়া হালাল পয়সা কামাইবি ।
- না বাজান আমি লেহা পড়া করুম ।
ছেলেটি বাবার কাছে গোঁ ধরে । সোহরাবের মাথা গরম হয়ে যায় । একটা চড় মারে ছেলের গালে । ছেলেটি তাল সামলাতে না পেরে বাবার পায়ের কাছে বসে পরে । চিৎকার করে কেঁদে উঠে । তারপরও বাবার পায়ে ধরে স্কুলে যাবার জন্যে আকুতি জানাতে থাকে । সোহরাবের মনটা দুর্বল হয়ে যায় । এই ছেলেটির প্রতি সোহরাবের এমনিতেই দুর্বলতা আছে । ছেলেটি দেখতে হয়েছে তার বাবার মতো । ওর বাবা মারা গেছে অনেক দিন । ছেলেটির জন্মের পর থেকেই সোহরাব ওর বাবার ছায়া দেখতে পায় ওর মাঝে । ওর দু’টো ছেলে । বড়টি লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাষাবাদে মন দিয়েছে । এই ছোটটির বয়স ৮ বছর । ওকে বলেছে লেখাপড়া করার দরকার নেই । কথা শুনবে না । সে পড়ালেখা চালিয়েই যাবে । কিছুক্ষণ ওর ছেলের দিকে তাকিয়ে থেকে সোহরাবের মনটা হুহু করে কেঁদে উঠে । ছেলেটির কান্না সোহরাব সহ্য করতে পারে না । টেনে তুলে জড়িয়ে ধরে । মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
- হরে বাজান তুই লেহা পড়া করবি । আমার যত কষ্টই অয় আমি তরে লেহা পড়া করামু । তয় বাজান আমারে কতা দে, তুই অই রহম শিক্ষিত অইবি না । যারা গরিবের রক্ত চুইষা খায় । যারা এই দেশ চালায় দেহছ না কত বিদ্বান । ওরা তো দেশের গরিব মানুষের কতা কিছু ভাবে না । আমারে কতা দে, তুই কুনো দিন হারাম খাইবি না । ওগর মতো অইবি না । শিক্ষিত অইয়া গরিব মাইনসের কতা মনে রাকবি ।
ছেলেটি সোহরাবের অনেক কথাই বুঝতে পারে না । শুধু এই টুকু বুঝতে পারে ওর বাবার মতো ভালো মানুষ হতে হবে । কারো কোন ক্ষতি করা যাবে না । চোখ মুছে ওর বাবাকে বলে,
- না আব্বা আমি ভালা মানুষ অইমু তুমার মতো ।
ছেলেটির কথায় সোহরাবের চোখ ঝাপসা হয়ে উঠে । দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে গাল বেয়ে ।
সোহরাবের কেন এই ক্ষোভ শিক্ষিত মানুষের প্রতি ? এমন তো হবার কথা ছিল না । তবে কেন এমন হল ? এর দায় ভার কি আমাদের সবার নয় ? আমাদের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থা কি সোহরাবের ছেলেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারবে ? সোহরাবের শিক্ষিত মানুষের প্রতি ঘৃণা কি ওর ছেলে দূর করতে পারবে ? প্রশ্ন থেকেই যায় ।
বিঃ দ্রঃ এটা আমার হারিয়ে যাওয়া পোস্ট গুলোর একটি ।
লেখক মোঃ হাসান জাহিদ
- মোঃ হাসান জাহিদ -এর ব্লগ
- ১৯ টি মন্তব্য
- ২২ নভেম্বর ২০১২, ২০:৫০
- কিশোরসাহিত্য
প্রিন্ট করুন
- ১৯ টি মন্তব্য
-
লুৎফুন নাহার জেসমিন২২ নভেম্বর ২০১২, ২১:০৯
সত্যি এ খুব লজ্জার প্রশ্ন । লেখাপড়া করে লোকে এখন দুর্নীতি করার সিঁড়ি খুঁজছে ।
খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে লিখলেন । অভিনন্দন । -
মেজদা২২ নভেম্বর ২০১২, ২১:১৮
আমাদের যার যার অবস্থান থেকে শিক্ষার ব্যাপারে কিছু একটা করা উচিৎ। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ও আমার স্ত্রী সহ আমার গ্রামের মোট ১২ জন মিলে একটা হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি, সেখানে ৫০০ শতাধিক ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করছে। আলহামদুলিল্লাহ। -
রব্বানী চৌধুরী২২ নভেম্বর ২০১২, ২১:২৬
" হেই চাষার পোলা চাষাই অইবি ।
- না বাজান । আমি সব সময় ফাষ্ট অই । আমি লেহাপড়া ভালা মতো শেষ কইরা বড় চাকরি করমু ।"
দিন এখন অনেক পাল্টিয়েছে চাষীর ছেলে এখন আর চাষী হচ্ছে না, প্রতিটি শিশুর মনোবল শক্ত হোক, শিশুরা সঠিক পথের সন্ধান পাক, " আজকের শিশু আগামী কালের ভবিষৎ " কথাটি সত্য হোক সকল সময়ে।
বৃহস্পতিবার শিশু-কিশোরদের জন্য পোষ্ট সত্যই শিশু-কিশোরদের জন্য একটি ভুবন তৈরী করা হচ্ছে এই ধারা অব্যাহত থাক। ভালো থাকবেন প্রিয় জাহিদ। -
ফেরদৌসা২২ নভেম্বর ২০১২, ২১:৪৩
আগেও পড়েছিলাম । আপনার তো দেখি সব ই সংগ্রহে আছে। আমিও এখন থেকে আর হারাব না কোন লেখা । -
আরমানউজ্জামান২২ নভেম্বর ২০১২, ২৩:০৯
অনেক সুন্দর ভাইয়া
পৃথিবীর সব বাবা যদি সোহরাব মিয়ার মত করে সন্তানদের শিক্ষিত করত!
-
মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২৩ নভেম্বর ২০১২, ০০:৫৭
সোহরাবের কেন এই ক্ষোভ শিক্ষিত মানুষের প্রতি ? এমন তো হবার কথা ছিল না । তবে কেন এমন হল ? এর দায় ভার কি আমাদের সবার নয় ? আমাদের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থা কি সোহরাবের ছেলেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারবে ? সোহরাবের শিক্ষিত মানুষের প্রতি ঘৃণা কি ওর ছেলে দূর করতে পারবে ? প্রশ্ন থেকেই যায় ।
এ আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। দেশের যে টাকা লুটপাট হয় তার অর্ধেক টাকা দিয়ে সারা বাংলাদেশের সোহরাবদের ছেলেদের বিনা খরচে পড়া লেখা হয়। শিক্ষা নিয়ে সেমিনার হয়, শিক্ষানীতি হয়।
কিন্তু কোন সেমিনারে সোহরাবদের ছেলের উপযুক্ত শিক্ষার কথা হয় না।
তবে আমি আশাবাদী বাংলাদেশ একদিন ঘুরে দাঁড়াবে।
বিদেশে থেকে দেশের প্রাণের কথা লিখেছেন।
আপনার প্রবাসজীবন আনন্দের হোক- এ কামনায়।
-
মাইনুল আমিন২৪ নভেম্বর ২০১২, ২০:৪৬
প্রিয় হাসান জাহিদ ভাই
অনেক শুভেচ্ছা আপনাকে ---------------
সোহরাবের কেন এই ক্ষোভ শিক্ষিত মানুষের প্রতি ? এমন তো হবার কথা ছিল না । তবে কেন এমন হল ? এর দায় ভার কি আমাদের সবার নয় ? আমাদের ঘুণে ধরা শিক্ষা ব্যবস্থা কি সোহরাবের ছেলেকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারবে ? সোহরাবের শিক্ষিত মানুষের প্রতি ঘৃণা কি ওর ছেলে দূর করতে পারবে ? প্রশ্ন থেকেই যায় ।--------------
----------------------হয়ত কিছুটা পারবে--------- শিক্ষিত হয়েছে--- এটুকুই ।
---------হয়ত না । -------------হয়ত বা হারিয়ে যাবে সমাজের নষ্ট-জ্ঞানকীটদের ভিড়ে । -----------কারণ নষ্টরা এখন বিধাতার চাইতেও ক্ষমতাধারী । অসাধারণ সুন্দর গল্পো লিখেছেন প্রিয় হাসান জাহিদ ভাই ,
আপনার জন্যে অবিরাম শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা । এভাবেই আপনি চালিয়ে যান আপনার সাহসী দরদী কলম --------------- সমাজ-সংস্কারের দিকে অবিরত । আপনার সাফল্য কামনা করছি ।
ভালো থাকবেন সবসময় এ প্রত্যাশা -------------------
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক