সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


“নিরাপদ মৃত্যুর গ্যারান্টি নিয়ে মামলা।

প্রিয় পাঠক, এই মূহুর্তে মামলার শুনানী চলছে। আসুন, শুনানীর মাঝে আমরা ঢুকে পড়ি আদালতে। আমরা মনে হয় আমরা শুনানীর কিছু অংশ মিস করেছি। এই মূহুর্তে বাদী পক্ষে অবস্থান করছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেব। বিবাদীর পক্ষে সরকারের প্রতিনিধি রয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, রয়েছেন এটর্নি জেনারেল মহোদয়। এছাড়া সাংবাদিক বৃন্দও রয়েছেন। রয়েছেন সাধারন জনগনের প্রতিনিধি। বিবাদীর বক্তব্য চলছে...

সৈঃ আবুল হোসেন - অবশ্যই আমরা মৃত্যুর গ্যারান্টি দিব না। রাষ্ট্র কখনোই মৃত্যুর গ্যারান্টি দিতে বাধ্য নয়। উৎপাদকারীই তার পন্যের গ্যারান্টি দিতে পারে। যিনি উৎপাদন করেছেন তিনিই শুধু বলতে পারেন তার প্রোডাক্টটি কবে নষ্ট হবে, কিভাবে মেয়াদর্ত্তীন হবে। গ্যারান্টি, উৎপাদনকারীকেই দিতে হয়। এটাই নিয়ম। যেহেতু রাষ্ট্র জনগন সৃষ্টি বা উৎপাদন করে না, সেহেতু রাষ্ট্র এর এখতিয়ারও রাখে না।
বাদীর আইনজীবী - তার মানে আপনি বলছেন। মৃত্যুর গ্যারান্টি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়।
সৈ.আ. হোসেন - অবশ্যই নয়।
বাদীর আইনজীবী - তাহলে কে দেবে গ্যারান্টি ?
সৈ.আ. হোসেন - যিনি এই মাল সৃষ্টি করেছেন তিনি দেবেন। আল্লাহর মাল একমাত্র আল্লাহ-ই গ্যারান্টি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন। আমরা নই।
বিচারক - কিন্তু বাদী আল্লাহ বা স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন না। তিনি কার কাছে গ্যারান্টি চাইবেন? এবং কেন তিনি রাষ্ট্রের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাইতে পারবেন না ?
সৈ.আ. হোসেন - তিনি আল্লাহ বা স্রষ্টায় বিশ্বাস না করলে রাষ্ট্রের কাছে গ্যারান্টি চাইবার অধিকারও রাখে না। আপনি জানেন, আমাদের রাষ্ট্র আস্তিক। তার নিজস্ব একটি ধর্ম আছে। তার ধর্ম ইসলাম। সে প্রতিদিন বিসমিল্লাহ বলে ঘুম থেকে উঠে।
এটর্নি জেনারেল - মাই লর্ড। অত্যন্ত যৌক্তিক কথা বলেছেন মন্ত্রী মহোদয়। বাদী যেহেতু স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন না সেহেতু স্রষ্টার অনুসারীদের কাছে গ্যারান্টি চাওয়া অযৌক্তিক। মাই লর্ড, আপনি যদি অনুমতি দেন আমি বাদী সৈয়দ মকসুদ সাহেবকে জেরা করতে চাই।
বিচারক : অনুমতি দেয়া গেল।
এটর্নি জেনারেল - আপনি আর্জিতে তারেক মাসুদ বা মিশুক মনির এর মৃত্যুর কথা বলেছেন। তারেক মাসুদ বা মিশুক মনির বা যারা মারা গেছে তারা কি আপনার আত্মীয় ?
সৈ.আ.মকসুদ - না, তারা কেউই আমার আত্মীয় নন।
এটর্নি জেনারেল - যদি তারা আপনার আত্মীয় না হয়ে থাকেন। তবে তাদের মৃত্যুতে কেন আপনি সংক্ষুদ্ধ হলেন। কেনই বা সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে আপনি মামলা করলেন ?
সৈ.আ.মকসুদ - তারা দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। সবাই তাদের এক নামে চেনেন ও জানেন। তাদের মৃত্যুতে জাতির অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।
সৈ.আ. হোসেন - অবজেকশন। স্যার ! (বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে) তারেক মাসুদ বা মিসু মনি, খ্যাতিমান নয়। মকসুদ সাহেবরা তাদের মহান করে দেখানোর অপচেষ্টা করছে। আমি নিজেও তাদের চিনিনা। মরার আগে তাদের নামও শুনিনি।
(মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যে উপস্থিত দু একজন কিঞ্চিত ঠোঁট প্রশস্ত করে হাসলেন। মন্ত্রী মহোদয়ের অজ্ঞতায় নাকি সমর্থনে হাসলেন, বোঝা গেল না।)
সৈ.আ.মকসুদ - হুজুর, এদেশে মন্ত্রী হতে হলে গুনী লোকদের চিনতে হয় না। জ্ঞানের চর্চা করতে হয় না। নেত্রীর চেহারা মনে থাকলেই হয়। নেত্রীর গুনবন্দনা করে মন্ত্রী টিকিয়ে রাখতে হয় বলে অন্য গুনীরা তাদের অজ্ঞাত থেকে যায়। তাই বোধহয়, মন্ত্রী মহোদয় এই দুই কৃতি সন্তানের নাম নাও শুনে থাকতে পারেন।
বিচারপতি - মিস্টার এটর্নি, প্লিজ আপনার জেরা কন্টিনিউ করুন।
এটর্নি জেনারেল - (আবুল মকসুদকে উদ্দেশ্য করে) আপনি নিশ্চয়ই যোগাযোগমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে একমত। স্রষ্টাই শুধু তার তৈরী মালের গ্যারান্টি দিতে পারে। অন্য কেউ নয়।
সৈ.আ.মকসুদ - ইশ্বর বা স্রষ্টায় অনেকের বিশ্বাস নেই।
এটর্নি জেনারেল - তাহলে, আমি আপনার পথেই এগুচ্ছি। একথা নিশ্চয় স্বীকার করবেন একমাত্র উৎপাদনকারীই তার পন্যের ভবিষ্যত সম্পর্কে গ্যারান্টি দিবে।
সৈ.আ.মকসুদ - অবশ্যই।
এটর্নি জেনারেল - আপনার বীর্য হতে আপনার সন্তানের সৃষ্টি। ইশ্বর যদি না থাকে, তাহলে আপনার যুক্তিতে আপনিই আপনার সন্তানের স্রষ্টা এবং আপনাকেই আপনার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র নয়।
সৈ.আ. মকসুদ - অবশ্যই।
এটর্নি জেনারেল - তার আপনি আমার যুক্তি মেনে নিচ্ছেন। আপনি মানছেন যে, পিতাই সন্তানের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এবং সেটা রাষ্টের দায়িত্ব নয়।
সৈ.আ.মকসুদ - জ্বি, মানছি।
এটর্নি জেনারেল - মাননীয় আদালত, বাদী তার ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয়। তিনি মেনে নিয়েছেন প্রত্যেকের পিতাই তার নিরাপদ মৃত্যুর গ্যারান্টি নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্র নয়। তাই আমি এই মামলা খারিজ করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।
সৈ.আ.মকসুদ - আমার আরেকটি কথা ছিল। আমার সন্তানের গ্যারান্টি না হয় তার পিতা দিল। কিন্তু আমার নিরাপদ মৃত্যুর গ্যারান্টি দিবে কে ??
এটর্নি জেনারেল - কেন, আপনার পিতা নেই ? (কুৎসিত হাসি দিলেন এটর্নি জেনারেল)।
আপনার পিতাই আপনার মৃত্যুর গ্যারান্টি দিবে।
সৈ.আ.মকসুদ - যে মালের কোন মালিক থাকে না। তার মালিক কে? নিশ্চয়ই রাষ্ট ??
এটর্নি জেনারেল - হ্যা, মালিকানাহীন সম্পত্তির মালিক রাষ্ট্র।
সৈ.আ.মকসুদ - হুজুর, আমার পিতা পরলোকগত। এটর্নি জেনারেল মহোদয়ের কথা মতো মানুষকে পন্য হিসেবে বিবেচনা করলে পিতার মৃত্যুর পর আমি লাওয়ারিশ সম্পত্তি এবং রাষ্ট্রই আমার মালিক। রাষ্ট্রই আমার অভিভাবক। তাই বলছি, আমার স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
আদালত কক্ষে হাসির রোল উঠল। বিচারক হাতুড়ি দিয়ে দড়াম শব্দ করলেন। সবাই ঠান্ডা। এটর্নি জেনারেল ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালেন সৈ.আ.মকসুদ এর দিকে। এই লোক তাকে জ্বালাবে, বোঝাই যাচ্ছে। তাকে অন্যপথে এগুতে হবে। সক্রেটিসকে যুক্তিতে পরাজিত করতে না পেরে আইনজীবীরা ভিন্নপথ ধরেছিলেন। তাকেও স্ইে পথে এগুতে হবে।


সবশেষেঃ কোর্ট আজকের মতো মুলতবি ঘোষনা করা হলো। বাদীর আইনজীবী আরো স্বাক্ষী সাবুদ হাজির করার জন্য সময় চেয়েছেন। আগামীকাল যথাসময়ে আবার কোর্ট শুরু হবে।

[ চলবে...... ]

(বিঃদ্রঃ এই ধারাবাহিকের ১ম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো। বর্নিত গল্প পুরোটাই কাল্পনিক। গল্পে বর্নিত কারো নামের সাথে বাস্তবের কারো মিল খুঁেজ পাওয়া গেলে তা নিতান্তই কাকতাল মাত্র।)
৪ টি মন্তব্য
wayzul9203 অয়েজুল হক জীবন১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৫:০৪
haradhansharma বিকাল১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২০:২৬
সাধুবাদ
arafin মোঃ শামসুল আরেফিন১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, ২১:২২
ধন্যবাদ।
monowarrubel মনোয়ার রুবেল১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১৩:১৩
ভাই পুরো লেখা না পড়ে দয়া করে এইসব আইকন কমেন্ট দিবে না।