শনিবার ০২ আগস্ট ২০১৪, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


নিজ জেলার গৌরবগাথা

আ: রশিদ মাস্টার। বইটি পড়তে গিয়ে নামটি দেখে চোখ আটকে গিয়েছিল। পরম শ্রদ্ধায়, গৌরবে আমার চোখ বন্ধ হয়ে এসেছিল। আ: রশিদ মাস্টার, তিনি আমার শিক্ষক । আমাদের হেড স্যার। স্যার সম্পর্কে শুধু জানা ছিল তিনি একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা। কিন্তু যুদ্ধে তার কাজের ক্ষেত্র কি ছিল জানতাম না।
বইয়ের নাম ’জামালপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’। বইয়ের লেখক ইতিহাস বয়ান করছেন এভাবে, ‘ বকশিগঞ্জের আ: রশিদ মাস্টার, আব্দুল গণি ও জামালপুরের আ: আজিজ মাস্টার ভারতের তুরায় প্রশিক্ষণ শেষে গোয়েন্দা বিভাগে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তারা বকশীগঞ্জ, কামালপুর, শেরপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর শহর থেকে সংবাদ সরবরাহ করে গোয়েন্দা বিভাগে প্রেরণ করতো।’ কামালপুর রণাঙ্গন মুক্ত করতে তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনস্বিকার্য। স্যারকে লেখা ভারতীয় মিত্র বাহীনির কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস. কে নাগির দুটি চিঠি দেওয়া আছে বইতে। যে চিঠিগুলোতে তিনি জানতে চেয়েছেন স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীদের কর্মকান্ড, হানাদার বাহীনির সমরাস্ত্রের তথ্য সহ কামালপুর রণাঙ্গন আক্রমনের ছক আটতে কৌশনগত অনেক বিষয়। উল্লেখ্য, কামালপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরের অন্যতম কৌশলগত রণাঙ্গন। পাক হানাদার বাহীনির একটি দূর্ভেদ্য ঘাঁটি।
আমি বইটি যতোই পড়ছিলাম, আমার জেলার বীর সন্তানদেও বিরত্বগাথা আমাকে নতুন ভাবে উদ্ভাবিত করছিল, উজ্জ্বীবিত করছিল যুদ্ধে তাদেও গৌরবময় ভূমিকা। আমি গর্বিতবোধ করছি আমার শিক্ষকের অবদান পড়ে, অন্যদের বিরত্বপূর্ণ ভূমিকা জেনে। আবার, সেই শিক্ষকের কাছে কখনো আমার বস্তব অভিজ্ঞতা শোনা হয়নি ভেবে একটা অপরাধবোধও কাজ করছিল।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু বই পড়েছি। প্রতিটি বই হয়ত নতুন অনেক বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত করিয়েছে। পরিচয় ঘটিয়েছে জাতীয় অনেক বিষয়ের সঙ্গে, জাতীয় বীরদের অনেকের অবদান সম্পর্কে। কিন্তু আমার নিজ জেলার বীরদের আমি চিনতামনা, তাদের সম্পর্কে জানতাম না।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অঞ্চল ভিত্তিক রচিত বইগুলো নিজ জেলার বিরত্বগাঁথা যেমন পরিচয় করিয়ে দিবে তেমনি তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধে অনেকের ভূমিকা সম্পর্কে। আসুন আমরা নিজ জেলার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানি। নিজ জেলার মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা বার বার পড়ি।
১৪ টি মন্তব্য
rodela2012 ঘাস ফুল২১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৬:৫৩
মুক্তিযুদ্ধের যে কোন কাহিনীই আমাকে আলোড়িত করে। আপনি সত্যিই ভাগ্যবান, আপনার স্যার আ: রশিদ মাস্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ধন্যবাদ আপনাকে একজন বীরের গল্প শোনাবার জন্য।
SOZIB সজীব মিয়া২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:১৮
আমার অনুভূতি সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে আমারও ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকেও
KohiNoor মেজদা২১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৭:৪৫
মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে যে যত জানবে সে তার জ্ঞানের ভান্ডার নিজেই সমৃদ্ধ করবে। ধন্যবাদ
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১২:১৫
প্রত্যেক জেলার গৌরবগাথাঁ লেখা উচিত।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৩:৪৩
ব্লগ সঞ্চালককে আন্তরিক কৃতজ্ঞা জানাচ্ছি পোস্টটি নির্বাচিত বক্সে দেয়ার জন্য।
ব্লগ সঞ্চালককে আন্তরিক কৃতজ্ঞা জানাচ্ছি পোস্টটি নির্বাচিত বক্সে দেয়ার জন্য।


shahidulhaque77 শাহিদুল হক২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১২:৩০
আজ মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবগাথা যেভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে তাতে অবাক না হয়ে পারা যায় না। ক’টা টাকা ভাতা দিয়েই তাদের প্রতি দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে সঠিক মূল্যান হয় নি। আর হয় নি রাজনৈতিক কারণেই। তাদেরকে সব দলই রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবকার করতে চেয়েছে। আর তাঁদের বড় একটা
অংশ সেই ফাঁদে পাও দিয়েছেন। যাই হোক, আপনার সুন্দর চেতনার জন্য অবিরাম ধন্যবাদ।
SOZIB সজীব মিয়া২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:১৪
আপনা‍কওে ধন্যবাদ
solaiman94 সোলাইমান ইসলাম নিলয়২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৫:২৮
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গৌরবগাথা কৃতকর্ম‍ এভাবে তুলে ধরি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।
সজিব ভাইকে শুভেচ্ছা। সঞ্চালক মহোদয়কে ধন্যবাদ লেখাটি নির্বাচিত বক্সে নেওয়ার জন্য।
SOZIB সজীব মিয়া২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:১৯
শুভেচ্ছা আপনাকেও
pramanik99 শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:৩৩
ভাল লাগল।
baganbilas1207 কামরুন্নাহার ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৬
ধন্যবাদ আপনাকে, একজন অজানা মুক্তিযোদ্ধার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য, যিনি আপনার শিক্ষক।
nuru07 নূর মোহাম্মদ নূরু০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১২:৫২
এই মন্তব্যটি্ মুছে দিন প্লিজ
nuru07 নূর মোহাম্মদ নূরু০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১২:৫১
ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল আমার গর্ব

বরিশাল শুধু আমার নয় বাংলাদেশের
প্রতিটি মানুষের গর্ব করার মতো একটি জেলা।