মঙ্গলবার ২৯ জুলাই ২০১৪, ১৪ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বর্তমান সরকারের দেয়া যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞা অনুযায়ী নিম্মোক্ত ব্যাক্তিরা যুদ্ধাপরাধী কিনা?

পাকিস্তানী রাষ্ট্র কাঠামোকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে অপরাধ বলা যায় কিনা, তা আজ বড় প্রশ্ন জাতির সামনে। শুধুমাত্র অখন্ড পাকিস্থানকে সমর্থন করার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামী লীগ আজ জামায়াত নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাকিস্থানের অখন্ডতাকে সমর্থন করছিলেন এবং সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন এরকম হাজার হাজার লোক আওয়ামী লীগে আছে।

যেমন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের বেয়াই মুসা-বিন শমসের, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজমের বাবা মীর্জা কাশেম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের শ্বশুর বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও উনার পিতা ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা খন্দকার নুরুল হোসেন নুরু মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ১৯৭১ সালে মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, ও শামসুল হক, ১৯৭২ সালে দালাল আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী এ কে ফায়জুল হক, রাজাকার কমান্ডার ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী সরকারের ধর্মমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ও মামুদ-উস সামাদ প্রমূখ। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে এক বৈঠকে উনার মেয়ের দাদা শশুড় ফরিদপুরের রাজাকারদের তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা খন্দকার নুরুল হোসেন নুরু মিয়াকে যুদ্ধাপরাধী না বলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, "রাজাকার মানেই যুদ্ধাপরাধী নয়।" আমাদেরও একই কথা... পাকিস্থানের অখন্ডতাকে সমর্থন করা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনটাই নয়। আর সারাদেশের রাজাকার, আল-বদর ইত্যাদীর তালিকা প্রকাশ করলেও দেখা যাবে যে সমস্ত জামায়াত নেতাদের টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে উনারা ঐ সমস্ত বাহিনীর সদস্যই ছিলোনা। কিন্তু সরকার যখন জামায়াত নেতাদের টার্গেট করে ফাঁসি দেয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয় তখন আমরা সংকিত। সরকার কি আসলে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাচ্ছে নাকি জামায়াতে ইসলামীর বিচার করতে চাচ্ছে?

পাঠকদের জানার সুবিধার্থে বিস্তারিত ভাবে আমরা তৎকালীন পাকিস্থানী বাহিনীকে সহযোগীতাকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের কিছু নাম দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আরো নাম আসবে।

যেমন নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর তৈরি এমএ মালেকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
এরপর নিম্মোক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি পাকিস্থানের পক্ষে ১৯৭১ সালে কাজ করেছেন।
চট্টগ্রামের প্রাদেশিক আসন ২৪ থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মুজিবুর রহমান তালুকদার, যশোর থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী, খুলনার ‘এমপিএ’ হাবিবুর রহমান খান, বগুড়া থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচিত ‘এমএনএ’ জহির উদ্দিন, লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)।
উল্লিখিত ২০ নেতার প্রত্যেকে জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসব নেতার স্বাধীনতাবিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। তালিকাভুক্ত এসব আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষই নেননি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।

বর্তমান সংসদ উপনেতা মাননীয়া সাজেদা চৌধুরী সহ ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ১৬৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮৮ জন সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও তার গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তাদের সদস্যপদ পুনর্বহাল করেছিলেন। পাকিস্তান সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঐ ৮৮ জন আওয়ামী লীগ এমপির নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা এবং সংসদীয় এলাকার উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার ৮৪ নম্বরে বেগম সাজেদা চৌধুরীর নাম রয়েছে। বেগম সাজেদা চৌধুরী এই ঐতিহাসিক তথ্যকে অস্বীকার করতে পারেননি।

এরপর ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম একাত্তর সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালে তৎকালীন ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপিএ খোদাবক্স মুক্তার, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্য মো. ফিরোজুর রহমান, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুস শুকুর মিয়া, ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল মিয়া মোক্তার, অ্যাডভোকেট কাজী খলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন মিয়া, চট্টগ্রাম সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল বাশার, নেত্রকোণার আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম খান, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি চাঁদবক্স পাটওয়ারী মোক্তার, নেত্রকোণার বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সদস্য সোহরাব হোসেন, নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামী লীগ সদস্য এমদাদুল হক, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী মোক্তার, চাঁদপুর রেডক্রস সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য খুরশিদ আলম চৌধুরী, মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্য বজলুর রহমান শেখ, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজ শেখ পাটওয়ারী, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম, রাজশাহীর সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, যশোর আওয়ামী লীগ নেতা মীর তৈয়ব, মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বিক্রমপুরী প্রমূখ আওয়ামী লীগ নেতা পাকিস্থানের পক্ষে এবং স্বাধীনতা বিরোধী কাজ করেন।

এসব তথ্য শুধু আমাদের নয়। বর্তমান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংসদকে জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য '৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত মোট ৪৩ জন গণপরিষদ সদস্যকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে, এ সব সদস্যের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কিংবা আদেশ বহাল রাখা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রালয়ের কিছু করণীয় নেই। এছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ থেকে বিজয়ী নুরুল আমিন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মেজর রাজা ত্রিদিব রায় বিদেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করার কারণে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ অনুসারে তারা কখনই বাংলাদেশ গণপরিষদ সদস্য ছিলেন না।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (নেত্রকোনা-৫) তারকা চিহ্নিত (১১৫ নং) প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদে এতথ্য জানান। ওয়ারেসাত হোসেনের প্রশ্ন ছিল, এটা সত্য কিনা যে, ১৯৭০ সালে তৎকালীন জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ৭১ এ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য কতিপয় সদস্যদের সদস্য পদ স্বাধীন বাংলাদেশে গণপরিষদ গঠনকালে বাতিল করা হয়েছিল। উত্তর হাঁ হলে বাতিলকৃত সদস্যদের নাম ও নির্বাচনী এলাকার নাম কি?

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, ময়সনসিংহ থেকে নুরুল আমিন ও পাবর্ত চট্টগ্রাম হতে মেজর রাজা ত্রিবিদ রায় তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ ১৯৭২-এর ৪ অনুচ্ছেদ কার্যকরি হওয়ার ফলে তারা বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য নন। তারা ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর তারিখে একটি বিদেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাই তারা কখনই বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না।
এছাড়া গণপরিষদ সদস্যদের মধ্য হতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হতে মোট ৪৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হচ্ছে- মোঃ হাবিবুর রহমান, সৈয়দ হোসেন মনসুর, মোঃ আব্দুল গফ্ফার, আবুল কালাম ফয়জুল হক, এবিএম নুরুল ইসলাম, আজমাদ হোসেন খান, মোঃ নুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, মোঃ ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, একেএম মাহাবুবুল ইসলাম, মোঃ সাঈদ, মোশাররফ হোসেন, আক্তারুজ্জামান, সৈয়দ বদরুজ্জামান, ডাঃ আবুল হাশেম, অধ্যাপক শামসুল হকম মোঃ আবদুল বারেক, ডাঃ আজহার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম আহাদ চৌধুরী, এ হাদী তালুকদার, আদিল উদ্দিন আহমেদ এডভোকেট, মুজিবুর রহমান তালুকদার, শামসুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আব্দুল মালেক, ডাঃ আবু সোলায়মান মন্ডল, ডাঃ জাহিদুর রহমান, তাহেরুল ইসলাম খান, রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ, মোঃ আব্দুস সালাম, কেবিএম আবু হেনা, জহুরুল হক, মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান, কাজী হেদায়েত হোসেন, আব্দুল হাকিম মাস্টার, মোঃ সাজেদ আলী মিয়া, মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, ডাঃ কাজী সিরাজউদ্দিন আহমেদ, গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ হাশেম, এম. সাখাওয়াতুল্লাহ এডভোকেট, মীর্জা আবু মনসুর এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী। অর্থাৎ উপরোক্ত নেতারা শেখ হাসিনার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধী ছিলেন। কিন্তু তাদের বিচারের কথা কি কেউ বলছে? বরং প্রশ্ন করা হচ্ছে তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে কিনা।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালে জামায়াত ছিল একটি ক্ষুদ্র দল। জামায়াতের তুলনায় মুসলিম লীগ ছিল শতগুণে বড় দল। আর আওয়ামী লীগ ছিলো হাজার গুণ বড়। যেহেতু জামায়াত ছোট দল ছিল সেহেতু ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকাও খুবই নগণ্য ছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার ইত্যাদি সংগঠন ও বাহিনীর তালিকা দেখলে বোঝা যাবে জামায়াতের উপস্থিতি সেখানে নেই বললেই চলে। সারাদেশে ১৯৭১ সালে গঠিত শান্তিবাহিনীতে জামায়াতকে কোন চেয়ারম্যানের পদ দিতে চায়নি অতি ক্ষুদ্র দল ছিল বলে এবং নেতা-কর্মী ছিলনা বলে। বরং শান্তিকমিঠি, রাজাকার, আল-বদরে আওয়ামী লীগ ও মুসলিম লীগের লোক জনই ৯৫% এর চাইতেও বেশী ছিলো। একটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হবে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ভোট পেয়েছিলো ৩৫০ মতো। আর ১৯৭১ সালে ঐ এলাকায় তালিকাভূক্ত রাজাকারই ছিলো ১১৫০০ জনের উপরে। আওয়ামী লীগের কথা মতো যদি জামায়াতের প্রাপ্ত সকল ভোটকেই রাজাকার হিসেবে ধরা হয় তাহলে বাকি ১১ হাজারেরও বেশী লোকগুলো কারা? নিশ্চয় তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক বা ভোটার ছিল। কারণ ঐ এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। সে হিসেবে সারাদেশের রাজাকার, আল-বদর ইত্যাদীর তালিকা প্রকাশ করলেও দেখা যাবে ৯০% রাজাকার আওয়ামী লীগ থেকে এসেছে। কিন্তু এখন কি সরকার রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে এর বিচার করবে? আসলে জামায়াতে ইসলামীকে সেদিনের কোন অপরাধে নয়, বরং ১৯৭১ সালে অখন্ড পাকিস্থানের সমর্থক ছিল এমন সব দল বর্তমানে বিলীন কিন্তু একমাত্র জামায়াত দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এই জনপ্রিয়তায় জামায়াতের জন্য কাল হয়েছে। অথচ স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চীনপন্থী বাম দলগুলোর ভূমিকার কথা কেউ আজ বলেনা। কারণ তারা কেউই আজ আর রাজনৈতিক মাঠে নেই। জামায়াতে ইসলামীর অপরাধ হলো জামায়াত আজ ইসলামের আদর্শবাদী একটি শক্তিশালী দল। আরেকটি তথ্য হলো ১৯৭১ সালে জামায়াতের সদস্য (রুকন) সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০০ জনের মতো। এখন সে সংখ্যা প্রায় ৩৫০০০ জন। শুধু জামায়াতের সদস্য (রুকন) সংখ্যার ১৯৭১ সালের তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯০ গুণ। এটা জামায়াতের ক্রমবদ্ধমান জনপ্রিয়তা ও সাংগাঠনিক শক্তি বৃদ্ধির অন্যতম উদাহরণ। এই জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপি জামায়াতের পাশে থাকে। আবার আওয়ামী লীগের জামায়াত বিরোধীতার কারণও ওই জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। জামায়াত যদি আজ মুসলিম লীগের অবস্থায় পতিত হতো তাহলে নিজামী-মুজাহিদেরকে কেউ শুধু তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী নয় সাধারণ অপরাধীও বলতো না। যেমন এখন কেউই মুসলিম লীগের নাম স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে মুখেও আনেনা।

অথচ আজকে জামায়াত নেতাদেরকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। এর বিপরীতে মাহমুদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে বেগম আখতার সোলায়মান (বেবী), আবদুল মালেক, রাজা ত্রিদিব রায় কারো নামই আজ বলা হচ্ছেনা যারা সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষে দেশে বিদেশে ভূমিকা রেখেছিল। তাদের নাম আজ কেউ অপরাধী হিসেবে উচ্চারণ করেনা। মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আবদুল হক একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, স্বাধীনতার পরও তিনি তার দলের নাম পূর্ব পাকিস্থান কমিউনিস্ট পার্টি রেখে দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাকে আজ কেন যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছেনা? তার দলের লোকেরা কি অপরাধী নয়? জামায়াতের কোন নেতা কি আবদুল হকের মতো ভূমিকা রেখেছিল?

সর্বশেষ প্রশ্ন----- আওয়ামী লীগ কি নিজ দলের কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে?
১৩ টি মন্তব্য
mgamamun মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আল্ মামুন২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৩:২১
Puspita পুস্পিতা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৩:২৭
বুঝতে পারিনি।!
durbolpasha পাশা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৩:৩১
না
Puspita পুস্পিতা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৩:৪২
আমরাও জানি আওয়ামী লীগ তা করবে না, কিন্তু সত্য তার আপন মহিমায় পরিস্পুটিত হয়ে উঠবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
kohin কোহিন২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৯:২২
আসসালামু আলাইকুম,
আপনার পোস্ট পাঠ করিয়া আবারও চক্ষু-কর্ণ খুলিয়া গিয়াছে।
আশা করি ধীরে-ধীরে হইলেও সবারই খুলিবে।
১৯৭১ সালে তো যুদ্ধ হয় নাই। উহা গণ্ডগোলের বছর ছিলো।
ভ্রাতায়-ভ্রাতায় গণ্ডগোল।
যেখানে যুদ্ধই হয় নাই সেখানে যুদ্ধাপরাধের কথা আসিবে কেন?
আমাদের বরং মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা উচিত:
১.লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র ব্যবহার করিবার অপরাধে।
২. দেশপ্রেমিকপাক- সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচার করিবার অপরাধে
৩. পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করিবার অপরাধে
৪. দেশকে ২ টুকরা করিবার অপরাধে....
পরম করুণাময় আমাদিগকে সহজ সরল পথে চলিবার তাওফিক দিন।
Puspita পুস্পিতা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৯:৫৫
১। আমি আমার লিখাতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছি। একই রকম অপরাধ (!?) করে আজ কেউ মন্ত্রী আর কেউ কারাগারে। এ ব্যাপারটি পরিস্কার করার চেষ্ঠা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। স্বাধীনতা আমাদের জন্য গৌরবের। সেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও দেশের মানুষকে বিভক্ত করার অপচেষ্ঠার বিরুদ্ধে বলেছি।

২। একটি রাজনৈতিক দলের সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে তা সম্ভব নয়। একটি প্রেক্ষাপঠে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একটি দল নিয়ে থাকে, আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গবেষণা মূলক মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু একপেশে মিথ্যা প্রচারণা চালানো কি ঠিক?

৩। জামায়াতের জন্ম প্রায় ৬০ বছর। এ অঞ্চলের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত ভূমিকা রেখেছে। শুধুমাত্র ১৯৭১ এর একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য জামায়াতের সকল গণতান্ত্রিক কাজ মূল্যহীন হয়ে যাবে? যে আওয়ামী লীগ আজ জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সেই আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার আগে জামায়াতের সাথে আইয়ুবের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সম্মিলিত বিরোধী দল (Combined opposition party) ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটির (Democratic Action Committee) ব্যানারে একসাথে আন্দোলন করেছে। স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আট বছর কখনো একমঞ্চে কখনো যুগপৎভাবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হয়েছে। তারা একমঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে এবং তার ছবি পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালের শেষের দিকে জামায়াত নির্দলীয় নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মূলা দেয় এবং স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর আওয়ামী লীগ এই ফর্মূলাটি লুফে নেয় এবং সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংযোজনের জন্য জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য এই আওয়ামী লীগই জামায়াতের সাথে সভা-সমাবেশ করেছে, একই প্লাটফরম থেকে তারা সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে। ১৯৯৬ সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার সংযোজন বিএনপি বিরোধী তাদের প্রায় তিন বছরব্যাপী যৌথ আন্দোলনেরই ফসল ছিল। সে সময় জামায়াত কেয়ারটেকার আন্দোলনে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসতে পারতো না বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ৮ বছর এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তিন বছর ধরে যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে আন্দোলন করেছে তখন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কেউই জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেনি, যেমন আনেনি স্বাধীনতা পরবর্তী তাদের প্রথম সরকারের আমলে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত কিংবা দ্বিতীয় সরকারের আমলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের অসংখ্য বৈঠক হয়েছে। এই সব বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আমীর হোসেন আমু এবং মোহাম্মদ নাসিম এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম উপস্থিত থাকতেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন দলই একক শক্তিতে ক্ষমতায় যাবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়নি। ঐ সময় জামায়াত ১৮টি আসন পেয়েছিল। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমীর হোসেন আমু এই মর্মে সরকার গঠনে জামায়াতের সাহায্য চেয়েছিল যে, যদি তারা অর্থাৎ জামায়াতের ১৮ জন এমপি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে তাহলে তারা সংরক্ষিত মহিলা আসনের কয়েকটি এমপি পদ ছাড়াও জামায়াতকে ২/৩টি মন্ত্রীত্বের পদ দিতে রাজি আছেন। জামায়াতের কাছে এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। তারা বিনাশর্তে বিনা মন্ত্রীত্বে বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করে। ক্ষমতায় যাবার জন্য সহযোগিতা না পেয়ে এর পর আওয়ামী লীগ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মাধ্যমে জামায়াত বিরোধী প্রচারণা শুরু করে এবং গণআদালতের নামে নৈরাজ্যের সূচনা করে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেয়ার নাটক মঞ্চস্থ করে। কিন্তু পরবর্তীকালে বিএনপি বিরোধী আন্দোলনে এই জামায়াতের সাথেই তারা এক মঞ্চে বৈঠক সম্মেলন করেছে। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এই বৈঠকগুলোতে অন্যান্যরা ছাড়াও তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন জামায়াত পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা ও বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম সাজেদা চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত উপস্থিত থাকতেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যদি ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ করে থাকেন তাহলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তাদের সাথে ১২ বছর ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, সভা সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলন করলেন কিভাবে? তারা জামায়াতের সাথে কোয়ালিশনে গিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাবই বা দিলেন কিভাবে? আবার এখন ৩৯ বছর পর এসে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের শ্লোগান তুলে আরেকটা মানবতাবিরোধী আইনের অধীনে বিচারের নামে প্রহসন করে তাদের ফাঁসি দিতে চাচ্ছেন কেন?

৪। আমরা ১৯৭১ দেখিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দুরদৃষ্টির কথা পড়েছি। সে সাথে ঐ সময়ের জাতির বিবেক বলে পরিচিত রাজনীতিবিদ আবুল মুনচুর আহমদ, আতাউর রহমান, মাওলানা ভাষানীর কথা ও লিখা পড়েছি। তাদের দৃষ্টি ছিলো ভবিষ্যতে দিকে। হিংসা-হানাহানি, বিবেদ ও বিভক্তি ভূলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশ ও জাতি গঠনের দিকে। তাই যখন তৎকালীন সরকার দালাল আইনে পাকিস্থানকে সমর্থনকারী ও পাকিস্থানপন্থীদের বিচারের ব্যবস্থা করলে উনারা সবাই এর বিরোধিতা করেছিলেন। আবুল মুনচুর আহমদ বলেছিলেন, "পৃথিবীর কোন দেশ ত্যাগ ছাড়া স্বাধীনতা পেয়েছে? কোন দেশের মানুষ জীবন দেয়া ছাড়া মুক্তি পেয়েছে? এত ত্যাগ, এত শহীদ, এত মৃত্যু ইত্যাদী দেশের মানুষ দিয়েছে তো স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য। এসব কিছুর বিনিময়েই তো স্বাধীনতা। এরপর আবার বিচার কি? প্রতিশোধ কি? স্বাধীনতা পাওয়াই তো বড় প্রতিশোধ, বড় বিচার।"

৫। আমরা সকল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গবেষণা করতে চাই। মিথ্যা প্রচারণা নয়। এক্ষেত্রে আপনাদের, আমাদের, সকলের সুন্দর ও গঠনতান্ত্রিক মানসিকতা ও সত্য স্বীকার করার সাহস থাকতে হবে।
mahkbd মুহাম্মাদ আনোয়ারুল হক খান২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ১৯:৫৪
যা ই করেন ভাই, আওয়ামিলীগের বিরুদ্বে কিছু বলবেন না কারন মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামিলীগের ব্যক্তিগত সম্পত্তি
Puspita পুস্পিতা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ২১:২০
আসলে আমাদের সময় এসেছে জাতিকে বিভক্ত না করে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। সে জন্যই আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাইনা। কাউকে নির্মূল করতেও চাইনা। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে সমস্যার অন্ত নেই। আবার সম্ভাবনাও আছে। আমরা চাইলেই দেশকে ভাল কিছু দিতে পারি। কিন্তু কেন জানি বারবার ষড়যন্ত্রের কারণে আমরা পিছনে পড়ে থেকেছি। বঙ্গবন্ধু দূরদৃষ্টি দিয়ে যে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন সে বিষয়টি স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আবারো সামনে এনে জাতিকে আবারো কোন পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা আমরা ভেবে পাচ্ছিনা। ভয় এখানেই।
kohin কোহিন২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ২০:০৮
আসসালামু আলাইকুম,
মুক্তিযোদ্ধা আর যুদ্ধাপরাধীদিগকে চিহ্নিত করাটা অপচেষ্টা?
সেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও দেশের মানুষকে বিভক্ত করার অপচেষ্ঠার বিরুদ্ধে বলেছি
যুদ্ধাপরাধীগণের কোনো দল নাই। তাহাদের একটিই পরিচয় তাহারা যুদ্ধাপরাধী।
তাহা যদি আমার পিতাও হইয়া থাকে আমি তবুও তাহার বিচার চাহিবো।
১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ তখন কাহারা জাতিকে বিভক্ত করিবার অপচেষ্টা করিয়াছিলো?
জারমান দেশে এখনও নাজি-সহযোগীদের বিচার হয়?
সেখানেও প্রো-হিটলার আর এন্টি-হিটলারের ভাগাভাগি চরমে।
আমরাও ঐক্যবদ্ধ হইতে চাহি কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদিগের সহিত নহি।
বিভক্ত থাকিবেই। যেমন সাধু আর শয়তানের ভিতর বিভক্ত থাকিয়া যায়।
যেমন ফেরেশতা আর শয়তানের ভিতর বিভক্তি থাকিয়া গিয়াছে।
যেমন মুমিন আর মোনফিকের ভিতর বিভক্তি থাকিয়া গিয়াছে।
তেমনি যুদ্ধাপরাধিদের সহিত আমরা কোনোমতেই মিলিত হইতে চাহি না।
দেশ-প্রেমের কথা স্বয়ং আল্লাহ পাকের রাসুল ( স.) বারবার বলিয়া গিয়াছেন।
যুদ্ধাপরাধিদের দেশপ্রেম নিয়া সকলেরই সন্দেহ রহিয়াছে।
আবারও কহিতেছি : যুদ্ধাপরাধী যে দলেরই হউক তাহাদের বিচার দাবী করি।
আমরা ঐক্যবদ্ধ হইতে চাহি কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের সহিত নহে।
ছহি-ছালামতে থাকিবেন।
Puspita পুস্পিতা২৩ ডিসেম্বর ২০১০, ২২:৪৫
আমরাও তো সেই চেষ্ঠাই করে যাচ্ছি। কথিত কিছু যুদ্ধাপরাধীর তালিকা আমরা দিলাম, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যাদের ভূমিকা অন্য কারো চাইতে কম ছিলনা। এখন আমরা দেখতে চাই, তাদের নাম ধরে ধরে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আপনারা অভিহিত করেন কিনা।
krantilawgno ক্রান্তিলগ্ন২৬ ডিসেম্বর ২০১০, ০৯:৩৩
১। আপনার নক্তব্যের স্পষ্ট উৎস প্রদান করুন।

২। //শুধুমাত্র অখন্ড পাকিস্থানকে সমর্থন করার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামী লীগ আজ জামায়াত নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।// অখণ্ড বাংলা যাহারা চাইয়াছিল, তাহারা যদি এই দেশে থাকিয়া অখণ্ড বাংলার কথা বলিতেন তবে আনার মতে তাহাদের কি করা উচিৎ?

৩। জামাতে ই্সলামী কে মানবতাবিরোধী বিচার করা হইতেছে তাহার কারণ রমনা বটমূল, হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা, জঙ্গিবাদ, সখ্যালঘুদের উপর হামলা, এবং এইরূপ আরও।

৪। //এ অঞ্চলের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াত ভূমিকা রেখেছে।// তাহা হইলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর একনায়কতন্ত্রের কথা বলে কেন উহারা? উহাদের তো দেখি নীতির ঠিক নাই।

৫। //আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার আগে জামায়াতের সাথে আইয়ুবের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সম্মিলিত বিরোধী দল (Combined opposition party) ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটির (Democratic Action Committee) ব্যানারে একসাথে আন্দোলন করেছে।// হাতের কাঁটা দিয়া পায়ের কাঁটা তুলিতে হয়। পাঁয়ের কাঁটা যখন আর থাকে না তখন হাতের কাঁটাটিকে ফেলিয়া দিতে হয়। যাহার পায়ে ঘন ঘন কাঁটা বিঁধে, সে অবশ্য ফেলে না।

৬। আপনার কথালেখালেখির উদ্দেশ্য কি? জনগণকে বলা যদি নিজেদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয়, তবে জামাতে ইসলামীর বিচার কারা যাইবে না- এইতো?

বি।দ্র। * আমার সকল প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
* উত্তরকালে প্রয়োজন অনুসারে লেখার স্পষ্ট উৎস প্রদান করিবেন।

krantilawgno ক্রান্তিলগ্ন২৬ ডিসেম্বর ২০১০, ০৯:৩৩
* বক্তব্য
Geyobut গেঁয়ো ভূত৩১ ডিসেম্বর ২০১০, ১৩:৫১
আপনারা সবাই ভূল করতাছেন বিচার আওয়ালীগ করতাছে না জনগণের দাবীর কারণে করতে বাধ্য হচ্ছে।