শুক্রবার ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ১২ বৈশাখ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


একটি অনন্য পরিবেশবাদী দলিল

(প্রথম আলো ব্লগে ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমি প্রথম পোস্ট দেই। ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ শিরোনামে সেই পোস্টটি পড়ে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। অনেক খ্যাতিমান ব্লগার আমাকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানিয়েছেন। সবাইকে একযোগে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দ্বিতীয় পোস্টটা দিলাম। আশা করি ভালো লাগবে।)

১৮৫৪ সালে ওয়াশিংটন থেকে আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফ্যাঙ্কলিন পিয়ার্স ( ১৮০৪- ১৮৬৯) সিয়াটল আদিবাসী গোষ্ঠীর লোকজনকে তাদের বসতি এলাকা ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ দেন। কেননা সেখানে তৈরি হবে আধুনিক সভ্য শহর অঞ্চল। ঠিক যেমন বাঁধ, কারখানা,থার্মল পাওয়ার স্টেশন তৈরি করার জন্য বা রাস্তা চওড়া করবার জন্য নিজেদের ভিটে, গ্রাম, জঙ্গল ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয় বিভিন্ন দেশের আদিবাসী বা গরিব জনগোষ্ঠীকে। ওয়াশিংটনের জারি করা নির্দেশের জবাবে সিয়াটল আদিবাসীদের প্রধান একটি চিঠি দেন তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে। চিঠিতে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে ‘সাদাদের বড় সর্দার’ হিসাবে অভিহিত করেন। অসাধারণ সৌন্দর্যময় এই চিঠি সারা পৃথিবীর পরিবেশবাদীদের দর্শনকে সবচেয়ে সুন্দর ও সরলভাবে প্রকাশ করেছে।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কোনও কবিতার মতো এই লেখা যা রচিত হয়েছিল দেড়শো বছর আগে এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার মতোই এর মধ্যে নিহিত আছে সত্য। কী মহান সরলতায় এখানে বলা হয়েছে পৃথিবী, প্রকৃতি ও মানুষের আন্তঃসম্পর্কের সত্যতম কথাগুলি।

ওয়াশিংটনের বড় সাদা সর্দারের কাছে সিয়াটল উপজাতি প্রধানের চিঠি- ১৮৫৪ সাল

কী করে তোমরা বেঁচাকেনা করবে আকাশ, ধরিত্রীর উঞ্চতা? আমরা তোমাদের চিন্তা বুঝতে পারিনা।
বাতাসের সতেজতা, জলের ঝিকিমিকি- আমরা তো এগুলোর মালিক নই। তোমরা আমাদের কাছ থেকে এগুলো কিনবে কেমন করে?
এই ধরিত্রীর প্রতিটি অংশই আমার লোকদের কাছে পবিত্র। পাইন গাছের প্রত্যেকটি চকচকে ডগা, বালুকাময় প্রতিটি সমুদ্রতট, অন্ধকার বনভূমিতে জমে থাকা কুয়াশা, প্রতিটি প্রান্তর, প্রত্যেকটি পতঙ্গের গুনগুন আমার লোকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিতে পবিত্র। প্রতিটি বৃক্ষের ভেতর দিয়ে যে বৃক্ষরস প্রবাহিত হচ্ছে তারা ‘ লাল মানুষদের’ ( আদিবাসী) স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে।
সাদা মানুষদের মৃতেরা তাদের নিজেদের দেশকে ভুলে দূর আকাশের তারার কাছে চলে যায়। আর আমাদের মৃতেরা এই সুন্দর পৃথিবীকে কখনো ভোলে না। কেননা এই পৃথিবী লাল মানুষদের মা।
আমরা ধরিত্রীর অংশ, এও আমাদের অংশ।
সুগন্ধি ফুলগুলি আমাদের বোন, হরিণ, ঘোড়া, বিশাল সব ঈগল পাখি- এরা আমাদের ভাই।
পাহাড়ের পাথুরে সব গহ্বর, সরস মাঠ, ঘোড়ার বাচ্চার গায়ের যে উঞ্চতা আর মানুষ- সব কিছু মিলে একই পরিবার।
তার জন্য ওয়াশিংটনের বড় সাদা সরদার যখন বলে পাঠায় যে, সে আমাদের দেশ নিতে চায় তখন সে আমাদের কাছ থেকে অনেক বেশি কিছুই চায়। বড় সর্দার( মার্কিন রাষ্ট্রপতি) আমাদের জানিয়েছে, সে আমাদের বাস করবার জন্য একটা রিজার্ভ অঞ্চল দেবে যেখানে আমরা আরামে থাকবো। সে আমাদের পিতার মতো হবে, আমরা তার সন্তানের মতো হবো। সুতরাং আমরা তার কথা বিবেচনা করে দেখবো।
কিন্তু এটা এতো সহজ নয়। এই ভূমি আমাদের কাছে পবিত্র।
এই যে নদীর জল ঝিলমিল করে বয়ে যাচ্ছে এ শুধু জল নয়, এ আমাদের পূর্ব পুরুষের রক্ত।
যদি আমরা এই ভূমি তোমাদের নিয়ে দিই তাহলে তোমাদের মনে রাখতে হবে যে এই ভূমি পবিত্র। তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়েদেরও নিশ্চয় করে শেখাবে এর পবিত্রতার কথা। তাদের শিখিও যে, এখানকার হৃদগুলির পরিষ্কার জলের মধ্যে দেখতে পাওয়া যে কোন রহস্যময় ছায়াই আমাদের মানুষদের জীবনের কোনো না কোনো ঘটনার স্মৃতি।
ঝরণাগুলোর জলের মর্মরে আমার বাবার ও তার পিতৃপুরুষদের স্বর শোনা যায়।
নদীরা আমাদের ভাই, তারা আমাদের তৃষ্ণা মেটায়। নদীরা আমাদের কেনো বয়ে নিয়ে যায়, আমাদের ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার যোগায়। যদি আমরা আমাদের দেশ তোমাদের দিই তাহলে তোমরা মনে রেখো, তোমরা ছেলেমেয়েদের শিখিও যে, নদীরা মানুষের ভাই। সুতরাং তোমরা নদীদের সে রকমই যতœ করো যেমন তোমরা তোমাদের ভাইদের করো।
আমরা জানি সাদা মানুষরা আমাদের ধরনধারন বোঝে না। তাদের কাছে পৃথিবীর এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের কোন তফাৎ নেই। কেননা সে ভীনদেশী- রাত্রির অন্ধকারে আসে, নিজের যা দরকার মাটির কাছ থেকে কেড়েকুঁড়ে নিয়ে চলে যায়। এই ধরিত্রী তার আত্মীয় নয়, তার শত্রু। সে একে জয় করে, তারপর ফেলে দিয়ে যায়।
সে পেছনে ফেলে দিয়ে যায় নিজের পিতার কবর, কিছুই মনে করে না। নিজের সন্তানদের কাছ থেকে পৃথিবীকে সে চুরি করে, কিছুই মনে হয় না।
তার পিতৃপুরুষের কবর, তার সন্তানের অধিকার সে ভুলে যায়। তার মা এই ধরিত্রী, তার ভাই আকাশ- এসবকে সে মনে করে ভেড়া কিংবা রঙ্গীন পুঁতির মতো কেনা বেঁচা করার, লুঠ করার জিনিস।
তার লোভ এই পৃথিবীকে খেয়ে ফেলবে, পড়ে থাকবে এক মরুভূমি।
আমরা এসব বুঝতে পারি না। আমাদের ভাবনা অন্যরকম।
আমাদের শহরগুলি লাল মানুষদের চোখে ব্যথা দেয়। অবশ্য আমরা লাল মানুষরা জংলী, তার জন্যই হয়তো এমন হয়।
সাদা মানুষদের শহরে কোথাও শান্ত নিরিবিলি যায়গা নেই- যেখানে বসে বসন্তকালে পাতায় কুঁড়িগুলোর খুলে যাবার শব্দ শোনা যায়।
অবশ্য হয়তো আমরা জংলী বলেই আমাদের এরকম মনে হয়। এতো গোলমাল মনে হয় যেন তা মানুষের কানকে অপমান করছে। জীবনের কী মূল্য আছে একজন লোক যদি জলের ঘূর্ণির মধ্যে আপন মনে একাকী গুনগুন করার শব্দ শুনতে না পায়? কিংবা রাত্রে ব্যাঙেদের বকবকানি? আমি একটা লাল মানুষ, আমি এ সবের কিছু বুঝতে পারি না। আমরা লাল লোকেরা ছোট পুকুরের জল ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের হাল্কা শব্দ শুনতে ভালোবাসি, ভালোবাসি দুপুরের বৃষ্টিতে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যাওয়া বাতাসের নিজস্ব গন্ধ, পাইন বর্ণের গন্ধ।
লাল লোকদের কাছে বাতাস পবিত্র আর মূল্যবান। কেননা জন্তু, গাছ, মানুষ সবার নিঃশ্বাস এই একই বাতাসের মধ্যে ধরা আছে।
সাদা মানুষেরা যে বাতাসের মধ্যে নিঃশ্বাস নেয় তার দিকে মন দেয় না। অনেক দিন বাসি মৃতদেহদের মতো হয়ে গেছে তারা, তাদের আশপাশের বাতাসের দুর্গন্ধ তারা আর বোধ করে না।
কিন্তু আমরা তোমাদের দিয়ে দেব আমাদের জমি। মনে রেখো এই বাতাস আমাদের কাছে মূল্যবান। বাতাস যে জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে তার সঙ্গে মিশে থাকে। যে বাতাস আমাদের পূর্ব পুরুষের বুকে তার প্রথম বাতাসটি দিয়েছিল, সেই তার শেষ নিঃশ্বাসটিকে ধরে রেখেছে।
যদি আমাদের জমি আমরা তোমাদের দিই তাহলে একে আলাদা এবং পবিত্রই রাখতে হবে তোমাদের, যাতে এমনকি সাদা মানুষদেরও জায়গা থাকে কখনো কখনো মাঠের ফুলের মিষ্টিগন্ধে ভরা বাতাসে নিঃশ্বাস নেবার।
তোমরা আমাদের ভূমি কিনে নিতে চাও, একথা আমরা ভেবে দেখবো। কিন্তুু সাদাদের অঙ্গীকার করতে হবে যে, আমাদের জায়গা কিনে নিলে সেখানকার প্রতিটি জন্তুকে ভালোবাসতে হবে নিজের ভাইয়ের মতো।
আমি একজন জংলী লোক, এছাড়া অন্যকোন পথও আমি বুঝি না।
প্রেইরি জুড়ে আমি দেখেছি অগণিত মহিষের পচতে থাকা শব, চলন্ত ট্রেন থেকে গুলি করে যাদের মেরে ফেলেছে সাদারা। আমি জংলী লোক, আমি বুঝতে পারি না এই ধোঁয়া ওঠা লোহার ঘোড়া কী করে বেশি জরুরি ও মূল্যবান হয় সেই সব বুনো মহিষদের থেকে যাদের দু একজনকে আমরা কখনো কখনো মারি নিজেদের বেঁচে থাকবার প্রয়োজনে।
জীবজন্তু ছাড়া মানুষ কী! যদি পৃথিবীতে কোন জানোয়ার না থাকে তার আতœার একাকীত্বে মানুষ নিজেও মরে যাবে।
জন্তু জানোয়ারদের যা হবে কিছুদিন পর মানুষেরও তাই হবে। সব কিছুই একে অন্যের সাথে জড়ানো।
তোমাদের সন্তানদের শিখিও যে তাদের পায়ের তলায় যে মাটি তাতে আছে তাদের পিতৃপুরুষদের দেহাবশেষ। তাই মাটিকে তারা যেন শ্রদ্ধা করে। তোমাদের সন্তানদের শিখিও এই মাটিতে আছে তার পূর্বপুরুষদের ছাই। আমাদের স্বজনদের প্রাণ মাটিতে মিশে একে সমৃদ্ধ করেছে।
তোমাদের ছেলেমেয়েদের শিখিও যা আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখাই যে এই ধরিত্রী আমাদের মা। যা মায়ের হবে তার সন্তানদেরও তাই হবে। যদি কেউ মাটিতে থুথু ফেলে সে তার নিজের গায়েই থুথু ফেলছে।
একথা আমরা জানি যে, এই পৃথিবী মানুষের সম্পত্তি নয়, মানুষই পৃথিবীর। আমরা একথা জানি।
প্রতিটি জিনিসই একে অন্যের সাথে বাঁধা। যেমন রক্তের সম্পর্ক একটা পরিবারের লোকদের বেধেঁ রাখে। সব কিছুই একে অন্যের সঙ্গে বাধাঁ।
এই পৃথিবীর যা হবে পৃথিবীর সন্তানদেরও তাই হবে। জীবনের এই ছড়ানো জাল, মানুষ একে বোনেনি- সে কেবল এর একটি সুতা মাত্র। এই জালটিকে সে যা করবে তার নিজেরও হবে ঠিক তাই।
এমনকি সাদা লোকেরা, যাদের ঈশ্বর বন্ধুর মতো তাদের মতো তাদের সঙ্গে চলাফেরা করেন, কথা বলেন, তারাও সকলের এই সাধারণ নিয়তির বাইরে নয়।
শেষ অবধি হয়তো দেখা যাবে যে, আমরা সকলেই একে অন্যের ভাই।
যে কথা আমরা জানি হয়তো একদিন সে কথা সাদারাও বুঝতে পারবে যে - আমাদের ঈশ্বর আসলে একই।
আজ তোমরা ভাবো ঈশ্বর তোমাদেরই। যেমন তোমরা আমাদের এই দেশকে দখল করে নিতে চাও তোমাদের নিজেদের বলে, কিন্তু তা তোমরা পারবে না। সে সব মানুষের ঈশ্বর, তার দয়ার কাছে সাদা এবং লাল মানুষ একই রকম।
এই পৃথিবী তার কাছে অতি মূল্যবান। এর ক্ষতি করা মানে এর সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাচ্ছিল্য দেখানো।
সাদা মানুষরাও চলে যাবে পৃথিবী থেকে। হয়তো অন্যদের থেকে একটু তাড়াতাড়িই যাবে। একবার নিজের বিছানা নষ্ট করো, একদিন রাত্রে নিজের আবর্জনাতেই দম আটকে মরে যাবে তুমি।
হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবার সময়েও তোমাদের দেখাবে উজ্জ্বল, ঈশ্বরের শক্তির আগুনে দীপ্যমান। কেননা ঈশ্বর তোমাদের এই দেশে এনেছেন, লাল মানুষদের ওপরে আধিপত্য দিয়েছেন কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে।
সেই নিয়তি আমাদের কাছে এক রহস্য। কেননা তাকে আমরা বুঝতে পারি না। যখন সমস্ত মহিষ নিহত হবে, সমস্ত বুনো ঘোড়াকে পোষ মানানো হয়ে যাবে, অরণ্যের প্রতিটি কন্দর ভারি হয়ে ওঠবে ভিরের গন্ধে, প্রবীণ পাহাড়গুলি আড়াল করে ফেলবে কথা বলতে থাকা টেলিফোনের তার।
ঝোপ জঙ্গলগুলো কোথায়? নেই।
ঈগলগুলো কোথায়? নেই।
বেঁচে থাকা শেষ, কোনো রকম টিকে থাকার শুরু।


কৃতজ্ঞতা: মননশীল পত্রিকা ‘ উন্নয়ন পদক্ষেপ’।
৬ টি মন্তব্য
Maeen মাঈনউদ্দিন মইনুল০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৫
“পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কোনও কবিতার মতো এই লেখা যা রচিত হয়েছিল দেড়শো বছর আগে এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার মতোই এর মধ্যে নিহিত আছে সত্য। কী মহান সরলতায় এখানে বলা হয়েছে পৃথিবী, প্রকৃতি ও মানুষের আন্তঃসম্পর্কের সত্যতম কথাগুলি।”
----------------------------------------------------------

হুম্, কবিতার মতোই লেগেছে নিচের কথাগুলো। পরিবেশ বিষয়ে আলো ব্লগে বেশি লেখা হচ্ছে না। আপনার লেখাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে আশা করছি। নতুন ব্লগারকে অনেক শুভেচ্ছা!
kamalghatail শ্যামল নওশাদ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫৭
শুভ কামনার জন্য শীতের উষ্ণতা মিশ্রিত ভালোবাসা দিলাম।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৪৯
লিখতে থাকুন।
সাইজের দিকে একটু খেয়াল রাখুন। লেখা ভাল। । আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।
kamalghatail শ্যামল নওশাদ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০৭:৪৭
আপনার পরামর্শ মাথায় নিলাম। ধন্যবাদ।
salimmollah সেলিম মোল্লা০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:০০
ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা জানাতেই হয়।
kamalghatail শ্যামল নওশাদ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:১৮
আপনাকেউ শুভেচ্ছা।