ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে
সেদিন এক আত্মীয়ার সাথে গিয়েছি শহরের একটি মেগাশপে। আত্মীয়া শপিং করছেন আর আমি ঐ দোকানের কাউন্টারের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ শুনি ডাক্তারদের গুষ্টিশুদ্ধো গালাগালি করা হচ্ছে। গালাগালি করছেন ঐ মেগাশপের মালিক। তার কাছে একজন লোক এসেছে সাহায্য নিতে তার বাচ্চাকে একজন ডাক্তার দেখাবে, সেই জন্য তিনি ঐ লোককে ৫০টাকা সাহায্য দিয়ে ডাক্তারদের খুব গালাগালি করছেন। “জানোয়ারের দল” “কসাই” “হারামী” ... তারা তো আছে নিজের পকেট ভারী করতে, মানুষের সেবা করে কই!!!
যে থেকে চিকিৎশাস্ত্র পেশা হিসেবে নিয়েছি সেদিন থেকেই মেনে নিয়েছি কিছু মানুষ অবশ্যই চিকিৎসকদের গালাগালি করবে, যতই সেবা দেই না কেনো মন প্রান ঢেলে তাদের প্রশংসা পাওয়া যাবে না কখনোই। আমি মুগ্ধ হয়ে গালাগালি শুনছি, এমন ভাব যেনো পুরো ব্যাপারটাতে আমার সায় আছে। (তিনি তো আর জানেন না আমি ডাক্তার)
এক সময় তিনি ডাক্তারদের কুকুরের বাচ্চা আর শুয়োরের বাচ্চা বলে গালাগালি করতে লাগলেন।
আমার তখন মনে হলো একটু কথা বলা দরকার।
আমি দোকানের মালিকের সাথে কথা না বলে ঐ দরিদ্র লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সরকারী হাসপাতালে গিয়েছিলেন? ওইখানে তো টাকা লাগবে না।
লোকটি জানালো সরকারী হাসপাতালে গেলে অনেক লম্বা লাইন, শ-দেড়শ মানুষ, ঠিকমতো সেবা নেয়া যায় না।
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। আসলেও তাই...
তখন ঐ দোকানের মালিক বলতে লাগলেন, সরকারী হাসপাতাল কি আর যাবার জায়গা, শ'য়ে শ'য়ে মানুষ, ঐখানে কি আর ভদ্র মানুষ যায়।
আমি নরম সুরে জিজ্ঞেস করি – কারা যায়?
আরে একদম গরীব মানুষ ছাড়া কি কেউ যায়!! ভাই ঐখানে ৫০-১০০জন মানুষের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়ার ধৈর্যও তো থাকা চাই...
আমি বলি, ঠিক বলেছেন। তা বুঝা গেলো আপনি সাধারণ মানুষ না, সরকারী হাসপাতালে গেলে ডাক্তার সব মানুষকে ছেড়ে আপনাকেই চিকিৎসা দিতে হবে তাই না??
লোকটি প্রথম বারের মতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
-না আমি তা বলিনি। ঐখানে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেয়ার মতো সময়ও তো থাকা চাই...
আমি বলি, জ্বী আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আপনার কাছে সময় নেই টাকা আছে, টাকা দিয়ে প্রাইভেট যে কোনো ডাক্তারের কাছে যেতে পারছেন।
তিনি একটু থেমে বললেন, প্রাইভেট যারা দেখাতে চায় সবার কাছে কি আর টাকা আছে!!! টাকা ছাড়া তো আর কোনো ডাক্তার প্রাইভেট রোগী দেখেন না।
আমি অবাক হয়ে বলি, কেনো দেখবেন!!! এটাতো তাদের রুটিরুজি। তারা ফ্রি দেখবেন কেনো???!!
তিনি আরও অবাক হয়ে বললেন, কেনো ফ্রি দেখবেন না??
আমি বলি, ভাই আমাকে আপনার দোকান থেকে কিছু মালামাল দিন তো ফ্রি...
তিনি মনে হয় এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। একটু চুপ মারেন। থেমে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি কি বলতে চাচ্ছেন?
আমি বলি কিছুই বলতে চাই না ভাই, আপনি কি কখনো একটি কাগজে নোট লিখে পাঠিয়েছিলেন কোনো ডাক্তারের চেম্বারে যে আপনি একজন হতদরিদ্র মানুষ, আপনার ফিস দেবার ক্ষমতা নেই, ঐ ডাক্তার যেনো আপনাকে ফ্রি দেখেন... করেছেন কখনো?
না... নরম সুরে জবাব দেন তিনি।
আমি বলি, কোনো কোম্পানীর অধীনে কাজ করেন না এমন যে কোনো ডাক্তারের কাছে নোট পাঠিয়ে চেষ্টা করে দেখবেন ফ্রি দেখানো যায় কি না... এবং আমি নিশ্চিত অধিকাংশ ডাক্তার আপনাকে সহায়তা করবেন। আপনি যদি, টাকা থাকার পরও ফ্রি দেখাতে চাইবেন তখন তো ব্যাপারটা ভালো হলো না, আর আপনি দরিদ্র এবং সরকারী হাসপাতালে যাবেন না আবার প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকে গালাগালি করবেন তা মেনে নেয়া যায় না...
তিনি আবার অভিযোগ করলেন, সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার সময় দিয়ে রোগের বিবরন শোনেন না, রোগীদের সময় দেন না...ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি বলি, ৬ঘন্টায় দেড়'শ রোগী ডাক্তার দেখছেন যদি হয় তবে তিনি যে পাগল হয়ে যাননি এটাই বড়ো কথা, আপনি চিকিৎসা দেয়ার দরকার নেই, শুধু ৬ঘন্টা যাবৎ দেড়শ জন মানুষের সাথে হাই হ্যালো করেন, দেখেন কেমন লাগে...
তিনি আবার অভিযোগ করেন, বর্তমান যুগের ডাক্তাররা শুধু টাকার পেছনে ছুটেন...তাদের শুধু টাকা চাই... শুধু টাকা।
আমি নিজের সুর আরও নরম করি, ভাই টাকা কার না চাই...!!! সবার টাকা চাই...
এতো মেধাবী একজন মানুষ, যে তার জীবনের পুরোটাই সময়ই দিয়ে দিলো লেখাপড়ার পেছনে। একজন স্পেশালিষ্ট হতে গিয়ে জীবনের ৪০-৪৫বছর সময় পার হয়ে গেলো, টাকা খরছ, জীবনের মূল্যবান সময় শেষ। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারী চাকরী নেয়ার পর বেতন কতো হয় জানেন? জানেন না মনে হয়, মাত্র সতের হাজার টাকা। এই সতের হাজার টাকা দিয়ে নিজে চলা, নিজের পরিবার চালানো, বাড়ী বাড়া, ছোটভাইবোনের পড়ালেখা, মা-বাবা টাকা পাঠানো, স্ত্রী-সন্তান... এতো সহজ নয়। আমি নিশ্চিত অনেক—অনেক ডাক্তারই প্রাইভেট প্রাকটিস করতেন না যদি সচ্ছলভাবে চলার মতো ভালো বেতন তাকে দেয়া হতো। একজন ডাক্তার যখন দেখে তার চেয়ে অনেক কম মেধাবী তার বন্ধু প্রাইভেট ব্যাংকে কাজ করে দ্বিগুন বেতন পাচ্ছে তখন তার কেমন লাগে। আর শুনোন প্রাইভেট প্রাকটিস করে টাকা ইনকাম করতে পারে এমডি, এফসিপিএস করা ভালো ডাক্তাররা, সবাই কি আর এমডি, এফসিপিএস পাস করে ভাই?? যারা শুধু এমবিবিএস এবং মিড লেবেলের ডাক্তার তাদের কি অবস্থা আপনি জানেন??? আপনারা কি তাদের খোজ নেন???
ভদ্রলোক হয়তো আমার কাছে থেকে অতটা প্রতিরোধ আশা করেননি।
আমি বিড় বিড় করে বলি, রোগী বাচালে আল্লাহ বাচান... আর মারা গেলে ডাক্তার মেরে ফেলেছে...
তিনি জিজ্ঞেস করেন, ভাই আপনি কেনো ডাক্তারদের পক্ষে এতো সাফাই গাইছেন???
এমনি বললাম ভাই, আপনার মনে কি আঘাত দিয়েছি... দিলে ক্ষমা করবেন। সব পেশায়ই ভালো খারাপ আছে ভাই... তাই বলে সবাইকে ঢালাও ভাবে গালাগালি করা কি ঠিক?? কয়েকজন ডাক্তার খারাপ হবে না এমনটি আশা করাও তো ঠিক নয়...তাই না??? আর ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে।
যে থেকে চিকিৎশাস্ত্র পেশা হিসেবে নিয়েছি সেদিন থেকেই মেনে নিয়েছি কিছু মানুষ অবশ্যই চিকিৎসকদের গালাগালি করবে, যতই সেবা দেই না কেনো মন প্রান ঢেলে তাদের প্রশংসা পাওয়া যাবে না কখনোই। আমি মুগ্ধ হয়ে গালাগালি শুনছি, এমন ভাব যেনো পুরো ব্যাপারটাতে আমার সায় আছে। (তিনি তো আর জানেন না আমি ডাক্তার)
এক সময় তিনি ডাক্তারদের কুকুরের বাচ্চা আর শুয়োরের বাচ্চা বলে গালাগালি করতে লাগলেন।
আমার তখন মনে হলো একটু কথা বলা দরকার।
আমি দোকানের মালিকের সাথে কথা না বলে ঐ দরিদ্র লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি সরকারী হাসপাতালে গিয়েছিলেন? ওইখানে তো টাকা লাগবে না।
লোকটি জানালো সরকারী হাসপাতালে গেলে অনেক লম্বা লাইন, শ-দেড়শ মানুষ, ঠিকমতো সেবা নেয়া যায় না।
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। আসলেও তাই...
তখন ঐ দোকানের মালিক বলতে লাগলেন, সরকারী হাসপাতাল কি আর যাবার জায়গা, শ'য়ে শ'য়ে মানুষ, ঐখানে কি আর ভদ্র মানুষ যায়।
আমি নরম সুরে জিজ্ঞেস করি – কারা যায়?
আরে একদম গরীব মানুষ ছাড়া কি কেউ যায়!! ভাই ঐখানে ৫০-১০০জন মানুষের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়ার ধৈর্যও তো থাকা চাই...
আমি বলি, ঠিক বলেছেন। তা বুঝা গেলো আপনি সাধারণ মানুষ না, সরকারী হাসপাতালে গেলে ডাক্তার সব মানুষকে ছেড়ে আপনাকেই চিকিৎসা দিতে হবে তাই না??
লোকটি প্রথম বারের মতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।
-না আমি তা বলিনি। ঐখানে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেয়ার মতো সময়ও তো থাকা চাই...
আমি বলি, জ্বী আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আপনার কাছে সময় নেই টাকা আছে, টাকা দিয়ে প্রাইভেট যে কোনো ডাক্তারের কাছে যেতে পারছেন।
তিনি একটু থেমে বললেন, প্রাইভেট যারা দেখাতে চায় সবার কাছে কি আর টাকা আছে!!! টাকা ছাড়া তো আর কোনো ডাক্তার প্রাইভেট রোগী দেখেন না।
আমি অবাক হয়ে বলি, কেনো দেখবেন!!! এটাতো তাদের রুটিরুজি। তারা ফ্রি দেখবেন কেনো???!!
তিনি আরও অবাক হয়ে বললেন, কেনো ফ্রি দেখবেন না??
আমি বলি, ভাই আমাকে আপনার দোকান থেকে কিছু মালামাল দিন তো ফ্রি...
তিনি মনে হয় এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। একটু চুপ মারেন। থেমে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি কি বলতে চাচ্ছেন?
আমি বলি কিছুই বলতে চাই না ভাই, আপনি কি কখনো একটি কাগজে নোট লিখে পাঠিয়েছিলেন কোনো ডাক্তারের চেম্বারে যে আপনি একজন হতদরিদ্র মানুষ, আপনার ফিস দেবার ক্ষমতা নেই, ঐ ডাক্তার যেনো আপনাকে ফ্রি দেখেন... করেছেন কখনো?
না... নরম সুরে জবাব দেন তিনি।
আমি বলি, কোনো কোম্পানীর অধীনে কাজ করেন না এমন যে কোনো ডাক্তারের কাছে নোট পাঠিয়ে চেষ্টা করে দেখবেন ফ্রি দেখানো যায় কি না... এবং আমি নিশ্চিত অধিকাংশ ডাক্তার আপনাকে সহায়তা করবেন। আপনি যদি, টাকা থাকার পরও ফ্রি দেখাতে চাইবেন তখন তো ব্যাপারটা ভালো হলো না, আর আপনি দরিদ্র এবং সরকারী হাসপাতালে যাবেন না আবার প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকে গালাগালি করবেন তা মেনে নেয়া যায় না...
তিনি আবার অভিযোগ করলেন, সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার সময় দিয়ে রোগের বিবরন শোনেন না, রোগীদের সময় দেন না...ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি বলি, ৬ঘন্টায় দেড়'শ রোগী ডাক্তার দেখছেন যদি হয় তবে তিনি যে পাগল হয়ে যাননি এটাই বড়ো কথা, আপনি চিকিৎসা দেয়ার দরকার নেই, শুধু ৬ঘন্টা যাবৎ দেড়শ জন মানুষের সাথে হাই হ্যালো করেন, দেখেন কেমন লাগে...
তিনি আবার অভিযোগ করেন, বর্তমান যুগের ডাক্তাররা শুধু টাকার পেছনে ছুটেন...তাদের শুধু টাকা চাই... শুধু টাকা।
আমি নিজের সুর আরও নরম করি, ভাই টাকা কার না চাই...!!! সবার টাকা চাই...
এতো মেধাবী একজন মানুষ, যে তার জীবনের পুরোটাই সময়ই দিয়ে দিলো লেখাপড়ার পেছনে। একজন স্পেশালিষ্ট হতে গিয়ে জীবনের ৪০-৪৫বছর সময় পার হয়ে গেলো, টাকা খরছ, জীবনের মূল্যবান সময় শেষ। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারী চাকরী নেয়ার পর বেতন কতো হয় জানেন? জানেন না মনে হয়, মাত্র সতের হাজার টাকা। এই সতের হাজার টাকা দিয়ে নিজে চলা, নিজের পরিবার চালানো, বাড়ী বাড়া, ছোটভাইবোনের পড়ালেখা, মা-বাবা টাকা পাঠানো, স্ত্রী-সন্তান... এতো সহজ নয়। আমি নিশ্চিত অনেক—অনেক ডাক্তারই প্রাইভেট প্রাকটিস করতেন না যদি সচ্ছলভাবে চলার মতো ভালো বেতন তাকে দেয়া হতো। একজন ডাক্তার যখন দেখে তার চেয়ে অনেক কম মেধাবী তার বন্ধু প্রাইভেট ব্যাংকে কাজ করে দ্বিগুন বেতন পাচ্ছে তখন তার কেমন লাগে। আর শুনোন প্রাইভেট প্রাকটিস করে টাকা ইনকাম করতে পারে এমডি, এফসিপিএস করা ভালো ডাক্তাররা, সবাই কি আর এমডি, এফসিপিএস পাস করে ভাই?? যারা শুধু এমবিবিএস এবং মিড লেবেলের ডাক্তার তাদের কি অবস্থা আপনি জানেন??? আপনারা কি তাদের খোজ নেন???
ভদ্রলোক হয়তো আমার কাছে থেকে অতটা প্রতিরোধ আশা করেননি।
আমি বিড় বিড় করে বলি, রোগী বাচালে আল্লাহ বাচান... আর মারা গেলে ডাক্তার মেরে ফেলেছে...
তিনি জিজ্ঞেস করেন, ভাই আপনি কেনো ডাক্তারদের পক্ষে এতো সাফাই গাইছেন???
এমনি বললাম ভাই, আপনার মনে কি আঘাত দিয়েছি... দিলে ক্ষমা করবেন। সব পেশায়ই ভালো খারাপ আছে ভাই... তাই বলে সবাইকে ঢালাও ভাবে গালাগালি করা কি ঠিক?? কয়েকজন ডাক্তার খারাপ হবে না এমনটি আশা করাও তো ঠিক নয়...তাই না??? আর ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে।
লেখক ডাঃ এনামুল হক এনাম
- ডাঃ এনামুল হক এনাম -এর ব্লগ
- ২২ টি মন্তব্য
- ১২ নভেম্বর ২০১২, ০৯:৫৫
- দিনপঞ্জি
প্রিন্ট করুন
- ২২ টি মন্তব্য
-
মাইনুল আমিন১২ নভেম্বর ২০১২, ১১:৫৩
ওয়াআলাইকুম আচ্ছালাম এনাম ভাই ।
মন্তব্যটা তিনবার চেষ্টা করে পোস্ট হতে সফল হয়েছি । বুঝতে পারছি না । ভালো থাকুন -----




-
নির্ঝর নাসির১২ নভেম্বর ২০১২, ১১:৫২
ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে
টিক বলেছেন এনাম ভাই। আমি চাই আপনি ও তাদের মধ্যে একজন হবেন।






-
রব্বানী চৌধুরী১২ নভেম্বর ২০১২, ১২:১৮
শুভেচ্ছা জানবেন এনাম ভাই, খুব ভালো লাগছে আপনার পোষ্ট পেয়ে, সময়ের প্রয়োজনের প্রয়োজনে জরুরী পোষ্ট, কিছু চিকিৎসকের কারণে ঢালাও ভাবে কিছু বলা ঠিক না।
অবশ্যই অবশ্যই " ""ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে"" -" একথাটির পুরোপুরি এক মত। দেশের বিখ্যাত শিশু চিকিৎসক ড. এম. আর খান সাহেবে বাসার পাশে কাটিয়েছি প্রায় তিন দশক এক কথায় আমাদের পড়শি, নিজের আর স্বজনের সন্তানদের নিয়ে তাঁর কাছে ছুটে গিয়েছি বহু বার, নিজের চোখে দেখা যেন এক জন মানব দেবতা, মহা-মানব। ভালো থাকবেন এনাম ভাই। -
মনিরুল ইসলাম (মনির)১২ নভেম্বর ২০১২, ১২:৩০
""ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে""
১০০% সত্য কথা। গুটি কয়েক ডাঃ এর জন্য ঢালাও ভাবে পুরা ডাঃ সমাজ কে দোষারোপ করা এটা চরম অন্যায়।
ধন্যবাদ -
আপেল খন্দকার১২ নভেম্বর ২০১২, ১৩:০০
লেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ । সত্যি কথা বলতে হলে বলবো এখন ভাল ডাক্তার এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, ডাক্তারদের ব্যবহারও দিন দিন ভাল হচ্চে। এর কিছুটা হয়েছে ডাক্তারদের মন মনসিকতার উন্নতির কারণে আর বাকিটুকু হয়েছে অর্থনৈতিক চিরন্তন বাণী চাহিদা এবং যোগান এর কারণে। আপনার একটি কথার সাথে এক মত হতে পারলাম না সেটা হল " দু'চারজন খারাপ ডাক্তার"। প্রকৃত পক্ষে এ খারাপ ডাক্তারদের সংখ্যা কিন্তু দুচাজন নয় তার চেয়ে যথেষ্ট বেশি। সমাজের সব পেষার মানুষের মেধ্যে পচচন ধেরেছে, ডাক্তাররা এ থেকে বাদ যাবে আমি এটা আশা করিনা। তবে-
একজন ডাক্তার যেমন ভাল ছাত্র একজন ইন্জিনিয়ারও প্রায় একই রকম ভাল ছাত্র। শুধু ইঞ্জিনিয়ার নয় সরকারি চাকুরি করে ডাক্তার ব্যতিত অন্য সবার কিন্তু কোন রকম ব্যবসা বা প্রাইভেট প্র্যকটিস করা নিষিদ্ধ।
আমার ক্ষোভ হয় বৈধ ভাবে এ সুযোগ থকার পরও কোন একজন ডাক্তার মানব সেবার শপথ নিয়ে (ব্যবসার নয়) কমিশন বানিজ্য, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর উপঢৌকন, প্রাইভেট হাসপাতালের সাথে গোপন চুক্তি কেন করবে, এবং এদর সংখ্য কিন্তু একেবারে কম নয় ।
এখানে উল্লেখ করতে হয় যে, যে সমন্ত ডাক্তার আমার কাছ থেকে তার প্রাপ্যের অতিরিক্ত, ফন্দি ফিকির করে আদায় করেননি তাদের নামে আমি, এমন কি আমার পরিবারের সকলেও প্রশংসা করেন।
শুভেচ্ছা রইল এনামুল হক ভাই ভাল থাকুন সব সময়। -
ভালোলাগে১২ নভেম্বর ২০১২, ১৩:১৫
আসলে এই পেশায় সেবা এবং আয় দুটোই পাশাপাশি করা সম্ভব, এটার জন্য মানসিকতা দরকার আপনার মতো করে সব ডাক্তার রা চিন্তা করূক এই প্রত্যাশা রইল। ঢালাও ভাবে পুরা ডাঃ সমাজ কে দোষারোপ করা এটা চরম অন্যায়। ধন্যবাদ।। -
ইসময়১২ নভেম্বর ২০১২, ১৪:৪৭
চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনাম ভাই।সবাই খারাফ বা সবাই ভালো তা নয়। তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে খারাফ লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের সবার প্রতি এই আস্থাহীনতা।
যাইহোক আপনি আপনার কর্তব্য করেজান ফল দেওয়ার যিনি মালিক তিনি নিশ্চয় ভুল করবেননা।
আপনাকে ধন্যবাদ । ভালো থাকবেন। -
মুস্তাফিজ ৭১১২ নভেম্বর ২০১২, ১৭:৩৪
প্রিয় ডাঃ এনামুল হক এনাম ভাই আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ একটি সময়োপযোগী চমৎকার পোষ্ট-এর জন্য।
আপনার উপরোক্ত অভিব্যক্তির সাথে দ্বিমত পোষণ করার সাহস আমার নাই, তবু অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আমার জীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা আপনাকে না বলে পারছি না।
১৭ অক্টোবর ২০০৬ সালে ঢাকা হলিফ্যামিলি হাসপাতালে আমার প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করি এবং শিশুবিভাগের প্রধান ডাঃ মিজানুর রহমান ও নার্সদের অবহেলার কারণে আমার সে সন্তানকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। জীবনের সকল সুখ ও স্বপ্নকে মুহুর্তেই হারিয়ে ফেলি। এটা যে আমি ও আমার পরিবারের জন্য কতটা ভয়াবহ দু:সময় তা বোঝাবার ভাষা আমার নেই।
অত:পর বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২২ অক্টোবর ২০০৬ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করে ২ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আজ ১২ নভেম্বর ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ দীর্ঘ ৫ বছরেও তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
তৎকালীণ সময়ে কয়েকটি সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল এ সংবাদ । তার একটির কপি আমি আপনার অবগতির জন্য নিম্নে দিলাম। -
মোঃ হাসান জাহিদ১২ নভেম্বর ২০১২, ২০:০৮
মাঝে মাঝে আমি নিজেও ডাক্তারদের প্রতি রাগান্বিত হয়েছি । কিন্ত ডাক্তারদের সমস্যাগুলো কি সেগুলো ভেবে দেখিনি । আপনার লেখাটা পড়ে অনেক কিছু বুঝতে পারলাম । অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয় এনাম ভাই । শুভেচ্ছা ।

-
মাঈনউদ্দিন মইনুল১২ নভেম্বর ২০১২, ২০:২৬
“ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে।”
একমত।
-
লুৎফুন নাহার জেসমিন১২ নভেম্বর ২০১২, ২৩:৪৬
রোগী সুস্থ হবেন নাকি হবেন না সেটা আল্লাহ্ই ঠিক করেন । ডাক্তার আর ওষুধ উসিলা মাত্র । আমরা সেই ডাক্তারের কাছে যাই সঠিক পরামর্শ সহ ভালো ব্যবহার পাওয়ার আশায় ।
এত বিপুল জনসংখ্যার জন্য ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম । তাদের পক্ষে হয়তো সবসময় সমান মনোযোগ দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব নয় । তবুও তাদের আন্তরিক ব্যবহার এসব নেগেটিভ কথা থেকে দূরে রাখবে । ভালো মন্দ সব জায়গায় আছে । শুধু ডাক্তারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই ।
ধন্যবাদ এমন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটির জন্য । -
মেজদা১৪ নভেম্বর ২০১২, ২১:৩৮
আমি সেদিন বালুচরের লেখায় লিখেছি, সব পেশায় ভাল মন্দ আছে। এই লেখাটি আজ পড়ে ভাল লাগলো এবং আমি সহমত পোষণ করছি। ধন্যবাদ
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
বেদনার গভীর ক্ষতের স্ফুরণ আপনার এ লিখাটি সার্বজনীন লিখা । অত্যন্ত সুন্দর এবং জরুরি লিখাটি। এটি সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের জানার এবং মঙ্গলের জন্যে প্রয়োজন ।
ভালো ডাক্তার রোগীকে,মানুষকে, সমাজকে বাঁচান । আবার কোন কোন ডাক্তারের অযাচিত ভুলে সমাজ বুঝে না বুঝে ক্ষেপে উঠে ।
আপনার------------""ভালো ডাক্তাররা আছেন বলেই এখনো এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিকে আছে"" ------------এ লিখাটি সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের জন্যে একটি টনিক হিসেবে কাজ করবে । আপনি সুন্দর জীবনে সুস্থভাবেই অনেক দিন বেচেঁ থাকুন আমাদের জন্যে এটাই প্রত্যাশা ------------------