সোমবার ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


হে জান্নাতি শিশু

(১)
তখন শেষরাত,
(তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোতকৃষ্ট সময়)
সফেদ সাদায় তুমি এসেছিলে আমাদের মাঝে,
রক্তাক্ত এক টুকরো ছেঁড়া পাণ্ডুলিপিতে সওয়ার হয়ে।
তোমার আগমনে সেদিন বিরহ গীত গায়নি কেউ,
কারো চোখেই ভেসে ওঠেনি ব্যথার রংধনু,
তথাপি, সবার মুখেই ছিল প্রশান্তির আভা,
ছিল শুকরিয়া মুনাজাত- আনন্দের জলধারা।

হে জান্নাতি শিশু,
তোমার মায়ের কান্না সেদিন ম্লান করে দিয়েছিল
অসীম কুয়াশার অন্তহীন অশ্রু পতন
অর্থহীন করে দিয়েছিল পৃথিবীর সমস্ত বিলাপ- হাহাকার
স্তব্ধ করে দিয়েছিল মহাকালের ঘূর্নন
বারংবার কাঁপিয়ে তুলেছিল খোদার আরশ।

হে জান্নাতি শিশু,
তোমার পিতার ব্যথিত বুকে পাথর
চাপা দিতে হয়েছিল লাখো- কোটি,
দূর্বার অশ্রু প্লাবন ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল নির্মমভাবে-
দিতে বাধ্য হয়েছিল, তোমার মায়ের জন্য।
তোমার পিতা-মাতার মায়েরা সেদিন কাদেনি,
কাদেনি তাদের সঙ্গী- সন্তানরাও-
কাঁদতে পারেনি, তোমার মায়ের জন্য।
লুকিয়ে রাখা কান্নার আকুতি যে অসীম
সমুদ্রে দিকভ্রান্ত নাবিকের উদ্ভ্রান্তির প্রতিচ্ছবি
সেতো তুমিই সবচেয়ে ভালো বোঝো!
জানি, তুমি কাঁদতে পারনি
তোমার মায়ের বুকফাটা কান্না তুমি শুনেছো,
তোমার পিতার ফোফানো আর্তনাদ তুমি অনুভব করেছ,
তবুও তুমি কাঁদতে পারোনি।
জানি, নিশ্চয়ই খোদার কাছে এর প্রতিদান চাইবে তুমি

হে জান্নাতি শিশু,
তুমি নূর হয়ে জ্বলে থেকো তোমার পিতা-মাতার হৃদয়ে-
অনন্তকাল ধরে; সোনালী নৌকা যেন ভেরে
অসীম জীবন স্রোতে- তাদের পারাপারে,
আশা রাখি, আমাদেরও দেখা হবে সেই স্রোতের বাঁকে।

উৎসর্গঃ গর্ভাবস্থায় সদ্যপ্রয়াত আমার জান্নাতি চাচ্চু(বড় ভাইয়ের সন্তান) কে
০ টি মন্তব্য