রঙধনু চার্টের পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদখাদ্য দিয়েই গড়তে হবে খাদ্যনিরাপত্তা
রঙধনু চার্টের পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদখাদ্য দিয়েই গড়তে হবে খাদ্যনিরাপত্তা
কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী এক সীমাহীন উন্মাদনা চলছে। ৬ বিলিয়নের বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত পৃথিবীতে অনাহারি মানুষের সংখ্যাই বেশি। আর বাংলাদেশের অবস্থা বিশ্ব পরিস্থিতির সাথে অনেকভাবে তুলনীয়। বিবিএস এর জরিপে দেশের ৫টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় মোট ২০ লাখ ৩৮হাজার ১শ’ ৩০ পরিবারের মধ্যে কৃষিশ্রমিক পরিবার ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬শত ৪৫টি। পিকেএসএফ এর চলমান প্রাইম প্রকল্পের হাউসহোল্ড জরিপে দেখা যায় বৃহত্তর রংপুরের ৫টি জেলার ২৫ টি উপজেলায় ২শ’ ১২ টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য পরিবারের সংখ্যা ১১ লাখ ৪০ হাজার। এ জনসংখ্যার মধ্যে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে ৫ লাখ ৭০ হাজার লোক। এ এলাকার প্রান্তিকচাষি প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার ও কৃষি দিন মজুর ২৮ লাখ ৫০ হাজার। কৃষি দিন মজুর ও প্রান্তিক চাষি মিলে মোট ৩৭ লাখ ৫ হাজার লোক এ যন্ত্রণার সম্ভাব্য শিকার। বাংলাদেশে বন্যা ও ২০০৭ এর ১৫ নভেম্বরের সাইক্লোন সিডরে প্রায় ৬শ’ মিলিয়ন ডলারের ধান নষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক গবেষণার উপাত্ত অনুযায়ী দেশের ৫০ শতাংশ পরিবার বছরের কোন না সময় খাদ্য সংকটে থাকে, ২৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে সারাবছর খাদ্য সংকটে থাকে, ১৫ শতাংশ পরিবার সবসময় চিন্তিত থাকে পরের বেলা খাবার নিয়ে এবং ৭ শতাংশ মানুষ কখনোই ৩ বেলা খেতে পায় না। এদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রয়োজন বলে আমরা খাদ্য উৎপাদন বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলছি অহরহ। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা নিরাপদ খাদ্য ব্যতিরেকে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুললে তা আরো বিপদ হয়ে যাবে। সুতরাং খাদ্য নিরাপত্তার সাথে নিরাপদ খাদ্যের কথা ভাবতে হবে একান্তভাবে।

এতো হতাশা মাঝেও আলো ঝিলিক আমাদের হাতছানি দেয়। এ সোনার দেশে কতো হাজারো ইতিহাস আর ঐতিহ্যবাহী আশাজাগানিয়া সম্পদ আমাদের আকর্ষণ করে, জমা আছে আমাদের গর্বিত ভাণ্ডার তার মূল্য জানিনা বলে সেগুলো কদর পায়না। খাদ্যের কথাই বলি ভালোখাদ্য বলতে আমরা সাধারণত দামী বিদেশি খাবারকেই বুঝি। অথচ আমাদেরও আছে অনেক মূল্যবান ঐতিহ্যবাহি দেশীয় খাবার দাবার। একটু পুষ্টিসচেতন হলেই আমরা পুষ্টি ও খাদ্যভিত্তিক সম্ভাবনাকে অনেকটুকু এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। নিরাপদ খাদ্য দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। খাদ্য গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো সুস্থ্য সবল ও কর্মক্ষম হয়ে বেঁচে থাকা। যে কোন খাবার খেলে পেট ভরে যায় একথা ঠিক কিন্তু তাতে দেহের চাহিদা কোনভাবেই মিটিয়ে সুস্থ থাকা যায় না। সেজন্য প্রকৃত বা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে আমাদের সবার পরিষ্কার জ্ঞান ও ধারণা থাকা দরকার।

আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতির চেয়ে পুষ্টি ঘাটতি বেশি প্রকট। আর পুষ্টিঘাটতির চেয়ে পুষ্টি জ্ঞান সমস্যা আরো ব্যাপক। এদেশের লাখ লাখ লোক পুষ্টি সমস্যায় ভুগছে। আশ্চার্যের কথা হলো কেউ ভুগছে অপুষ্টিতে কমখাবার খেয়ে আবার কেউ ভুগছে অতিপুষ্টিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে। পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বড় বেশি সীমিত অসম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পুষ্টিহীনতার কারণে অনেকে মৃত্যু আর অসুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মা ও শিশুরাই এর বেশি শিকার। এদের পুষ্টিঘাটতি পূরণে দানাদার খাদ্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। অথচ এ ধরনের খাবার ছাড়া শাকসবজি, ফলমূল খাবারের যে বেশি দরকার সেটা আমরা বুঝি না। বিশেষ করে শাকসবজি ফলমূলে যে পুষ্টির আধার এটা আমরা অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইনা। পুষ্টিজ্ঞানের অভাবে সুষমখাদ্য গ্রহণের প্রতি আমরা মোটেই সচেতন না। এ সব কারণে পুষ্টিশিক্ষা জ্ঞান আর প্রচারণার দরকার আরো অনেক বেশি।

আমরাতো জানি নানা উপাদান দিয়ে গঠিত আমাদের শরীর। সুতরাং শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত এবং পরিমিত উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের জানতে হবে সব মানুষের খাবার একরকম না। পরিশ্রমী মানুষ, দুগ্ধপোষ্য মা, গর্ভবতী নারী, শিশু, বাড়ন্তবয়স ছেলে মেয়ে, বয়স্ক সবার জন্য আলাদা হিসাব করে খাওয়া দিতে হবে। তবেই পুষ্টিসমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারবে সবাই। যেমন গর্ভবতী, দুধপ্রদানকারী মা, শিশু, বাড়ন্ত ছেলে মেয়েদের জন্য আমিষ ভিটামিন আর খনিজ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি দরকার। আবার যারা পরিশ্রমী তাদেরকে শ্বেতসার ও স্নেহজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার বয়স্কদের জন্য বেশি দরকার। কিন্তু আমিষ ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ খাবার বয়স্কদের বেশি দেয়া যাবেনা। বরং যতকম দেয়া যায় তত ভালো। সুতরাং সব বয়সীদের খাদ্য নির্বাচনে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। সমপুষ্টি পেতে দামী খাবারের চেয়ে কমদামী খাবার নির্বাচনও যে যুক্তিযুক্ত আমরা কিন্তু তা ভাবিনা। এব্যাপারে আগ্রহী এবং অভিজ্ঞ হলে আমাদের জাতীয় লাভ বেশি হবে।

পুষ্টি বিদগণ বলেন দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন এবং দেহকে সুস্থ সবল ও নিরোগ রাখার জন্য নানাবিদ শাকসবজি ফলমূল খাওয়া খুব প্রয়োজন। এগুলোছাড়া সুষম খাবারের কথা চিন্তাও করা যায় না। তারা বলেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২শ’ ৫০ গ্রাম শাকসবজি খাওয়ার প্রয়োজন। আর আমরা খেতে পারছি মাত্র ৫০ গ্রাম। ফল খাওয়া দরকার ১শ’ ৪০ গ্রাম। আমরা খেতে পারছি মাত্র ৪০ গ্রাম। তাহলে প্রাপ্তি আর সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান অনেক। এতো ব্যবধানে সুস্থ্য সবল থাবার কোন উপায় নেই। আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য ৬টি খাদ্য উপাদান ঠিকমতো খাওয়া। এ ৬টি উপাদান হলো প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা বা শ্বেতসার, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, মিনারেল বা খনিজ এবং পানি। পানি আর শ্বেতসার এদুটি পুষ্টি উপাদান আমাদের পর্যাপ্ততা আছে। তবে পানির ক্ষেত্রে পানির অপর নাম জীবন একথা না বিশ্বাস করে বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন এটিকে বেদবাক্য মেনে পানি খাওয়া দরকার সচেতনভাবে। মোটামুটিভাবে তেলও আমরা ইদানিং গ্রহণ করছি প্রয়োজনের খুব কাছাকাছি। বেশি জোর দিতে হবে আমিষ, ভিটামিন আর খনিজ উপাদানের ওপর। এগুলোর মূল উৎস শাক সবজি ফলমূল।

জানা যাক শাকসবজি ফলমূলভিত্তিক কোন কোন উপকরণে কোন কোন পুষ্টি উপাদান আছ। আমিষের যোগানে জন্য সব ধরনের ডাল, শিম, মটরশুটি, বরবটি খেতে পারি, শ্বেতসার বা শর্করার উৎস হিসেবে আলু, মিষ্টিআলু, কচু, মূলজাতীয় সবজি, আম, কাঁঠাল, পেঁপে খেতে হবে। স্নেহ জাতীয় পুষ্টির যোগানে নারকেল, তেলজাতীয় ফসল, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, জলপাই, কাকরোল খেতে হবে। ক্যালসিয়ামের জন্য সব ধরণের শাকসবজি, লৌহের জন্য গুড়, শাকসবজি, তেঁতুল, তরমুজ, কলা এবং আয়রনের জন্য আনারস, বিভিন্ন শাকপাতা, আর বিভিন্ন ধরণের ভিটামিনের জন্য সব ধরণের রঙিন শাকসবজি, সব ধরণের ফল খেতে হবে।

পুষ্টিবিদরা বলেন একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৫ রঙের চার্ট ব্যবহার করে খাবার খান তাহলে তার পুষ্টির কোন অভাব হবেনা। পুষ্টি সমস্যা সমাধানে নতুন ধারণা সৃষ্টি করেছেন পুষ্টিবিদরা। তারা নাম দিয়েছেন ফাইভ কালারস এ ডে (Five colors a day) অর্থাৎ দিনে ৫ রঙের খাবার। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে নাম দেয়া যায় রঙধনু খাবার। ব্যাপারটি হলো যেকোনভাবে প্রতিদিনের খাবারে এ ৫রঙের খাবার থাকতেই হবে। তবেই কেবল আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাবো অনায়াসে। ৫টি রঙ হলো লাল, হলুদ, সাদা, সবুজ এবং কালো। লাল রঙের খাবারের উৎস হলো লালশাক, বিট, টমেটু, ডালিম, তরমুজ। হলুদ রঙের যোগানদাতা হলো গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, আম, কাঁঠাল, বেল, তাল, আনারস, কলা, কমলা, ডেউয়া, লটকন, বাঙ্গি, ডাল। সাদা রঙের মধ্যে আছে মাশরুম, ফুলকপি, মুলা, আলু, বেগুন, কচু, শালগম, ওলকপি, কুল, লিচু, পেয়ারা, নারকেল, শরিফা, আতা, জামরুল আমলকি, কামরাঙা। সবুজ রঙের খাদ্য আসবে শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, ঢেঁড়স, লাউ, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউশাক, ধনিয়া, পুদিনা, কুমড়াশাক, ধনিয়া, কাচামরিচ, কলমিশাকসহ অন্যান্য সবুজশাক থেকে। কালো রঙের যোগানদাতা খাদ্য হলো কালোজাম, কালোআঙ্গুর। এভাবে পরিকল্পনা করে বেড়ে ওঠা শিশুসহ সবার জন্য খাদ্য তালিকা তৈরি করে যোগান নিশ্চিত করে খাওয়াতে পারলে আমরা আমাদের দৈনিক জীবনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাবো অনায়াসে, কমদামে।

এ সহজ সরল ব্যাপারটি মনে রেখে প্রতিদিনের খাবার খেলে খাবারভিত্তিক পুষ্টির দৈন্যতা আমাদের আর থাকবেনা। আর রঙধনু কিংবা ফাইভ কালারস এ ডে ব্যাপারটি দারুনভাবে জনপ্রিয় করার সুযোগ আছে সকলের মাঝে। বয়স, শ্রম, চাহিদা, অবস্থা অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত করতে পারলে পুষ্টিগত লাভ বেশি হবে। রঙধনু চার্ট বা তালিকার কথা বেতারে, টেলিভিশনে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, অফিসে, রাস্তায়, সিনেমায়, যানবাহনে, স্টেশনের, পত্রিকায়, প্রচারণায়, সব জায়গায় নিয়মিত এবং পরিমিত কৌশলে আবশ্যকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে একসাথে। তবেই কার্যকারিতা বা ফলাফল আসবে কাক্সিক্ষত পরিসীমায়। মনে রাখতে হবে সুস্থ নাগরিক মানে সুস্থ দেশ।

আমাদের করনীয় হলো:
- আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির আঙ্গিনায় যেটুকু খালি পতিত জায়গা আছে তা যথাযথভাবে পরিকল্পনা আর ব্যবস্থাপনার মাধ্যম প্রয়োজনীয় ফলমূল শাক সবজির বাগান গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন আর চাহিদা অনুযায় খাওয়া;
- যে কোনভাবেই হোক প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ তাজা সতেজ শাকসবজি ফলমূল খাওয়া;
- বাজার থেকে যাচাই বাছাই করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা;
- তরিতরকারি বাকল না ফেলা, ফল খাওয়ার সময় যথাসম্ভব চামড়া না ফেলা, ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া;
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাওয়া এবং তা পুষ্টি বুঝে খাওয়া; ছেলে মেয়ে বলে আলাদা পরিমাণ নিদির্ষ্ট না করা;
- প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি করে দেশীয় ফল খাওয়া তা যে ওজনের মাপের বা আকারের হোক না কেন;
- পরিমাণ মতো পরিমিত খাওয়া অর্থাৎ সিডিউল করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের চাহিদা প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া;
- ফলমুল শাক সবজি কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেয়া, যথা সম্ভব টাটকা খাওয়া;
- কাটার পরে কখনো না ধোয়া, যত বড় করে কাটা যায় তত বেশি ভালো;
- অনেকে বিভিন্ন কিছু রান্নার সময় সিদ্ধ করা পানি ফেলে না দেয়া; ভাতের মাড় না ফেলে মাড়সহ ভাত রান্না করা;
- রান্না করার সময় যত কম পানি, কম জ্বালে রান্না, কম মশলা ব্যবহার করা, পাতিলের ঢাকনা দিয়ে রান্না করা
- রান্নার পর গরম গরম খাওয়া, চর্বি জাতীয় রান্নায় ঢাকনা খুলে রান্না করা;
- মিশ্র রান্না শরীরের জন্য পুষ্টির জন্য বেশি লাভজনক, বিভিন্ন ব্যঞ্জনের সমন্বয়ে তরকারি রান্না।

ইদানিং বাজারে সময়ে অসময়ের শাকসবজি ফলমূল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। দাম যদিও আকাচুম্বি। কিন্তু আমরা জানি কি কিনছি আমরা বা কি কিনে খাচ্ছি? হয়তো এসব শাকসবজি ফলমূলের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। যার কারণে আমাদের শারীরীক মানসিক বিভিন্ন বিপর্যয় ডেকে আনবে অনায়াসে। আমাদের শ্রমের ঘামের বিনিময়ে কেনা এসব আবশ্যকীয় উপাদান। সেজন্য পারতপক্ষে নিজেরা যদি যে কোন পরিসরেই হোক না কেন একচিলতে জমিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মতো শাক সবজি উৎপাদন করা যায় তাহলে তো কথাই নেই। জমি ছাড়াও ছাদে বাগান, বারান্দায়, টবে, ড্রামে, কৌটায় কোথায় না করা যায় এসব। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে তোলা আর সে প্রেক্ষিতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য চিন্তা ভাবনা ছাড়াই আমাদের দেশীয় শাকসবজি ফলমূলের ওপর একান্তভাবে নির্ভর করতে পারি। শুধু প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। একটি সুস্থ্য সবল নির্ভেজাল জীবন আমাদের সকলের কাম্য। সে প্রত্যাশায় ফলমূল শাকসবজিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আমরা নিশ্চিত করবো এবং অনুসরণ করবো এ হোক আমাদের অঙ্গিকার। আর পুষ্টিসমৃদ্ধ বিষমুক্ত প্রয়োজনীয় খাবার উৎপাদনের সাথে খাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারলে আমরা গর্বের সাথে বলতে পারবো নিরাপদ খাদ্য দিয়ে আমরা গড়বো আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বলয়। তখন সুখে থাকবে বাংলার মানুষ, সুখে থাকবে বাংলাদেশ।

কৃষিবিদ ডক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী এক সীমাহীন উন্মাদনা চলছে। ৬ বিলিয়নের বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত পৃথিবীতে অনাহারি মানুষের সংখ্যাই বেশি। আর বাংলাদেশের অবস্থা বিশ্ব পরিস্থিতির সাথে অনেকভাবে তুলনীয়। বিবিএস এর জরিপে দেশের ৫টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় মোট ২০ লাখ ৩৮হাজার ১শ’ ৩০ পরিবারের মধ্যে কৃষিশ্রমিক পরিবার ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬শত ৪৫টি। পিকেএসএফ এর চলমান প্রাইম প্রকল্পের হাউসহোল্ড জরিপে দেখা যায় বৃহত্তর রংপুরের ৫টি জেলার ২৫ টি উপজেলায় ২শ’ ১২ টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য পরিবারের সংখ্যা ১১ লাখ ৪০ হাজার। এ জনসংখ্যার মধ্যে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে ৫ লাখ ৭০ হাজার লোক। এ এলাকার প্রান্তিকচাষি প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার ও কৃষি দিন মজুর ২৮ লাখ ৫০ হাজার। কৃষি দিন মজুর ও প্রান্তিক চাষি মিলে মোট ৩৭ লাখ ৫ হাজার লোক এ যন্ত্রণার সম্ভাব্য শিকার। বাংলাদেশে বন্যা ও ২০০৭ এর ১৫ নভেম্বরের সাইক্লোন সিডরে প্রায় ৬শ’ মিলিয়ন ডলারের ধান নষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক গবেষণার উপাত্ত অনুযায়ী দেশের ৫০ শতাংশ পরিবার বছরের কোন না সময় খাদ্য সংকটে থাকে, ২৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে সারাবছর খাদ্য সংকটে থাকে, ১৫ শতাংশ পরিবার সবসময় চিন্তিত থাকে পরের বেলা খাবার নিয়ে এবং ৭ শতাংশ মানুষ কখনোই ৩ বেলা খেতে পায় না। এদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রয়োজন বলে আমরা খাদ্য উৎপাদন বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলছি অহরহ। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা নিরাপদ খাদ্য ব্যতিরেকে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুললে তা আরো বিপদ হয়ে যাবে। সুতরাং খাদ্য নিরাপত্তার সাথে নিরাপদ খাদ্যের কথা ভাবতে হবে একান্তভাবে।

এতো হতাশা মাঝেও আলো ঝিলিক আমাদের হাতছানি দেয়। এ সোনার দেশে কতো হাজারো ইতিহাস আর ঐতিহ্যবাহী আশাজাগানিয়া সম্পদ আমাদের আকর্ষণ করে, জমা আছে আমাদের গর্বিত ভাণ্ডার তার মূল্য জানিনা বলে সেগুলো কদর পায়না। খাদ্যের কথাই বলি ভালোখাদ্য বলতে আমরা সাধারণত দামী বিদেশি খাবারকেই বুঝি। অথচ আমাদেরও আছে অনেক মূল্যবান ঐতিহ্যবাহি দেশীয় খাবার দাবার। একটু পুষ্টিসচেতন হলেই আমরা পুষ্টি ও খাদ্যভিত্তিক সম্ভাবনাকে অনেকটুকু এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। নিরাপদ খাদ্য দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। খাদ্য গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো সুস্থ্য সবল ও কর্মক্ষম হয়ে বেঁচে থাকা। যে কোন খাবার খেলে পেট ভরে যায় একথা ঠিক কিন্তু তাতে দেহের চাহিদা কোনভাবেই মিটিয়ে সুস্থ থাকা যায় না। সেজন্য প্রকৃত বা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে আমাদের সবার পরিষ্কার জ্ঞান ও ধারণা থাকা দরকার।

আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতির চেয়ে পুষ্টি ঘাটতি বেশি প্রকট। আর পুষ্টিঘাটতির চেয়ে পুষ্টি জ্ঞান সমস্যা আরো ব্যাপক। এদেশের লাখ লাখ লোক পুষ্টি সমস্যায় ভুগছে। আশ্চার্যের কথা হলো কেউ ভুগছে অপুষ্টিতে কমখাবার খেয়ে আবার কেউ ভুগছে অতিপুষ্টিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে। পুষ্টিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বড় বেশি সীমিত অসম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পুষ্টিহীনতার কারণে অনেকে মৃত্যু আর অসুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মা ও শিশুরাই এর বেশি শিকার। এদের পুষ্টিঘাটতি পূরণে দানাদার খাদ্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। অথচ এ ধরনের খাবার ছাড়া শাকসবজি, ফলমূল খাবারের যে বেশি দরকার সেটা আমরা বুঝি না। বিশেষ করে শাকসবজি ফলমূলে যে পুষ্টির আধার এটা আমরা অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইনা। পুষ্টিজ্ঞানের অভাবে সুষমখাদ্য গ্রহণের প্রতি আমরা মোটেই সচেতন না। এ সব কারণে পুষ্টিশিক্ষা জ্ঞান আর প্রচারণার দরকার আরো অনেক বেশি।

আমরাতো জানি নানা উপাদান দিয়ে গঠিত আমাদের শরীর। সুতরাং শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত এবং পরিমিত উপযুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের জানতে হবে সব মানুষের খাবার একরকম না। পরিশ্রমী মানুষ, দুগ্ধপোষ্য মা, গর্ভবতী নারী, শিশু, বাড়ন্তবয়স ছেলে মেয়ে, বয়স্ক সবার জন্য আলাদা হিসাব করে খাওয়া দিতে হবে। তবেই পুষ্টিসমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারবে সবাই। যেমন গর্ভবতী, দুধপ্রদানকারী মা, শিশু, বাড়ন্ত ছেলে মেয়েদের জন্য আমিষ ভিটামিন আর খনিজ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি দরকার। আবার যারা পরিশ্রমী তাদেরকে শ্বেতসার ও স্নেহজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার বয়স্কদের জন্য বেশি দরকার। কিন্তু আমিষ ও স্নেহ জাতীয় পদার্থ খাবার বয়স্কদের বেশি দেয়া যাবেনা। বরং যতকম দেয়া যায় তত ভালো। সুতরাং সব বয়সীদের খাদ্য নির্বাচনে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। সমপুষ্টি পেতে দামী খাবারের চেয়ে কমদামী খাবার নির্বাচনও যে যুক্তিযুক্ত আমরা কিন্তু তা ভাবিনা। এব্যাপারে আগ্রহী এবং অভিজ্ঞ হলে আমাদের জাতীয় লাভ বেশি হবে।

পুষ্টি বিদগণ বলেন দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন এবং দেহকে সুস্থ সবল ও নিরোগ রাখার জন্য নানাবিদ শাকসবজি ফলমূল খাওয়া খুব প্রয়োজন। এগুলোছাড়া সুষম খাবারের কথা চিন্তাও করা যায় না। তারা বলেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২শ’ ৫০ গ্রাম শাকসবজি খাওয়ার প্রয়োজন। আর আমরা খেতে পারছি মাত্র ৫০ গ্রাম। ফল খাওয়া দরকার ১শ’ ৪০ গ্রাম। আমরা খেতে পারছি মাত্র ৪০ গ্রাম। তাহলে প্রাপ্তি আর সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান অনেক। এতো ব্যবধানে সুস্থ্য সবল থাবার কোন উপায় নেই। আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য ৬টি খাদ্য উপাদান ঠিকমতো খাওয়া। এ ৬টি উপাদান হলো প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা বা শ্বেতসার, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, মিনারেল বা খনিজ এবং পানি। পানি আর শ্বেতসার এদুটি পুষ্টি উপাদান আমাদের পর্যাপ্ততা আছে। তবে পানির ক্ষেত্রে পানির অপর নাম জীবন একথা না বিশ্বাস করে বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন এটিকে বেদবাক্য মেনে পানি খাওয়া দরকার সচেতনভাবে। মোটামুটিভাবে তেলও আমরা ইদানিং গ্রহণ করছি প্রয়োজনের খুব কাছাকাছি। বেশি জোর দিতে হবে আমিষ, ভিটামিন আর খনিজ উপাদানের ওপর। এগুলোর মূল উৎস শাক সবজি ফলমূল।

জানা যাক শাকসবজি ফলমূলভিত্তিক কোন কোন উপকরণে কোন কোন পুষ্টি উপাদান আছ। আমিষের যোগানে জন্য সব ধরনের ডাল, শিম, মটরশুটি, বরবটি খেতে পারি, শ্বেতসার বা শর্করার উৎস হিসেবে আলু, মিষ্টিআলু, কচু, মূলজাতীয় সবজি, আম, কাঁঠাল, পেঁপে খেতে হবে। স্নেহ জাতীয় পুষ্টির যোগানে নারকেল, তেলজাতীয় ফসল, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, জলপাই, কাকরোল খেতে হবে। ক্যালসিয়ামের জন্য সব ধরণের শাকসবজি, লৌহের জন্য গুড়, শাকসবজি, তেঁতুল, তরমুজ, কলা এবং আয়রনের জন্য আনারস, বিভিন্ন শাকপাতা, আর বিভিন্ন ধরণের ভিটামিনের জন্য সব ধরণের রঙিন শাকসবজি, সব ধরণের ফল খেতে হবে।

পুষ্টিবিদরা বলেন একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৫ রঙের চার্ট ব্যবহার করে খাবার খান তাহলে তার পুষ্টির কোন অভাব হবেনা। পুষ্টি সমস্যা সমাধানে নতুন ধারণা সৃষ্টি করেছেন পুষ্টিবিদরা। তারা নাম দিয়েছেন ফাইভ কালারস এ ডে (Five colors a day) অর্থাৎ দিনে ৫ রঙের খাবার। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে নাম দেয়া যায় রঙধনু খাবার। ব্যাপারটি হলো যেকোনভাবে প্রতিদিনের খাবারে এ ৫রঙের খাবার থাকতেই হবে। তবেই কেবল আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাবো অনায়াসে। ৫টি রঙ হলো লাল, হলুদ, সাদা, সবুজ এবং কালো। লাল রঙের খাবারের উৎস হলো লালশাক, বিট, টমেটু, ডালিম, তরমুজ। হলুদ রঙের যোগানদাতা হলো গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, আম, কাঁঠাল, বেল, তাল, আনারস, কলা, কমলা, ডেউয়া, লটকন, বাঙ্গি, ডাল। সাদা রঙের মধ্যে আছে মাশরুম, ফুলকপি, মুলা, আলু, বেগুন, কচু, শালগম, ওলকপি, কুল, লিচু, পেয়ারা, নারকেল, শরিফা, আতা, জামরুল আমলকি, কামরাঙা। সবুজ রঙের খাদ্য আসবে শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, ঢেঁড়স, লাউ, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউশাক, ধনিয়া, পুদিনা, কুমড়াশাক, ধনিয়া, কাচামরিচ, কলমিশাকসহ অন্যান্য সবুজশাক থেকে। কালো রঙের যোগানদাতা খাদ্য হলো কালোজাম, কালোআঙ্গুর। এভাবে পরিকল্পনা করে বেড়ে ওঠা শিশুসহ সবার জন্য খাদ্য তালিকা তৈরি করে যোগান নিশ্চিত করে খাওয়াতে পারলে আমরা আমাদের দৈনিক জীবনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যাবো অনায়াসে, কমদামে।

এ সহজ সরল ব্যাপারটি মনে রেখে প্রতিদিনের খাবার খেলে খাবারভিত্তিক পুষ্টির দৈন্যতা আমাদের আর থাকবেনা। আর রঙধনু কিংবা ফাইভ কালারস এ ডে ব্যাপারটি দারুনভাবে জনপ্রিয় করার সুযোগ আছে সকলের মাঝে। বয়স, শ্রম, চাহিদা, অবস্থা অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত করতে পারলে পুষ্টিগত লাভ বেশি হবে। রঙধনু চার্ট বা তালিকার কথা বেতারে, টেলিভিশনে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, অফিসে, রাস্তায়, সিনেমায়, যানবাহনে, স্টেশনের, পত্রিকায়, প্রচারণায়, সব জায়গায় নিয়মিত এবং পরিমিত কৌশলে আবশ্যকীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হবে একসাথে। তবেই কার্যকারিতা বা ফলাফল আসবে কাক্সিক্ষত পরিসীমায়। মনে রাখতে হবে সুস্থ নাগরিক মানে সুস্থ দেশ।

আমাদের করনীয় হলো:
- আমাদের প্রত্যেকের বাড়ির আঙ্গিনায় যেটুকু খালি পতিত জায়গা আছে তা যথাযথভাবে পরিকল্পনা আর ব্যবস্থাপনার মাধ্যম প্রয়োজনীয় ফলমূল শাক সবজির বাগান গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন আর চাহিদা অনুযায় খাওয়া;
- যে কোনভাবেই হোক প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ তাজা সতেজ শাকসবজি ফলমূল খাওয়া;
- বাজার থেকে যাচাই বাছাই করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা;
- তরিতরকারি বাকল না ফেলা, ফল খাওয়ার সময় যথাসম্ভব চামড়া না ফেলা, ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া;
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাওয়া এবং তা পুষ্টি বুঝে খাওয়া; ছেলে মেয়ে বলে আলাদা পরিমাণ নিদির্ষ্ট না করা;
- প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি করে দেশীয় ফল খাওয়া তা যে ওজনের মাপের বা আকারের হোক না কেন;
- পরিমাণ মতো পরিমিত খাওয়া অর্থাৎ সিডিউল করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের চাহিদা প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়া;
- ফলমুল শাক সবজি কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেয়া, যথা সম্ভব টাটকা খাওয়া;
- কাটার পরে কখনো না ধোয়া, যত বড় করে কাটা যায় তত বেশি ভালো;
- অনেকে বিভিন্ন কিছু রান্নার সময় সিদ্ধ করা পানি ফেলে না দেয়া; ভাতের মাড় না ফেলে মাড়সহ ভাত রান্না করা;
- রান্না করার সময় যত কম পানি, কম জ্বালে রান্না, কম মশলা ব্যবহার করা, পাতিলের ঢাকনা দিয়ে রান্না করা
- রান্নার পর গরম গরম খাওয়া, চর্বি জাতীয় রান্নায় ঢাকনা খুলে রান্না করা;
- মিশ্র রান্না শরীরের জন্য পুষ্টির জন্য বেশি লাভজনক, বিভিন্ন ব্যঞ্জনের সমন্বয়ে তরকারি রান্না।

ইদানিং বাজারে সময়ে অসময়ের শাকসবজি ফলমূল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। দাম যদিও আকাচুম্বি। কিন্তু আমরা জানি কি কিনছি আমরা বা কি কিনে খাচ্ছি? হয়তো এসব শাকসবজি ফলমূলের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। যার কারণে আমাদের শারীরীক মানসিক বিভিন্ন বিপর্যয় ডেকে আনবে অনায়াসে। আমাদের শ্রমের ঘামের বিনিময়ে কেনা এসব আবশ্যকীয় উপাদান। সেজন্য পারতপক্ষে নিজেরা যদি যে কোন পরিসরেই হোক না কেন একচিলতে জমিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মতো শাক সবজি উৎপাদন করা যায় তাহলে তো কথাই নেই। জমি ছাড়াও ছাদে বাগান, বারান্দায়, টবে, ড্রামে, কৌটায় কোথায় না করা যায় এসব। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে তোলা আর সে প্রেক্ষিতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য চিন্তা ভাবনা ছাড়াই আমাদের দেশীয় শাকসবজি ফলমূলের ওপর একান্তভাবে নির্ভর করতে পারি। শুধু প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। একটি সুস্থ্য সবল নির্ভেজাল জীবন আমাদের সকলের কাম্য। সে প্রত্যাশায় ফলমূল শাকসবজিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আমরা নিশ্চিত করবো এবং অনুসরণ করবো এ হোক আমাদের অঙ্গিকার। আর পুষ্টিসমৃদ্ধ বিষমুক্ত প্রয়োজনীয় খাবার উৎপাদনের সাথে খাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারলে আমরা গর্বের সাথে বলতে পারবো নিরাপদ খাদ্য দিয়ে আমরা গড়বো আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বলয়। তখন সুখে থাকবে বাংলার মানুষ, সুখে থাকবে বাংলাদেশ।

লেখক ডঃ জাহাংগীর আলম
- ডঃ জাহাংগীর আলম -এর ব্লগ
- ১০ টি মন্তব্য
- ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:০৯
- উদ্যোগ
প্রিন্ট করুন
- ১০ টি মন্তব্য
-
কামরুন্নাহার ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৫:৩২
আপনার এই লেখার জন্য ধন্য বাদ। পৃথীবিতে বহু খাবার, ক'টা আর চাষ করে খাওয়া যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা বিষমুক্ত খাবার পাই না। -
ছাইফুল হুদা ছিদ্দীকি৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৫:৪১
অশেষ ধন্যবাদ।আমাদের সাথে সাথে প্রয়োজন বিষমুক্ত খাদ্য।ফরমালিন মুক্ত । -
লুৎফুন নাহার জেসমিন৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:১০
অসম্ভব চমৎকার একটি পোস্ট । কিন্তু দেশের মানুশ ঠিক কিভাবে সচেতন হবে ? যেখানে প্রায় সব খাবার ভেজাল । -
কে এম আব্দুল মোমিন৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৯
সমপুষ্টি পেতে দামী খাবারের চেয়ে কমদামী খাবার নির্বাচনও যে যুক্তিযুক্ত আমরা কিন্তু তা ভাবিনা। এব্যাপারে আগ্রহী এবং অভিজ্ঞ হলে আমাদের জাতীয় লাভ বেশি হবে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। পোস্টটি প্রিয়তে নিলাম।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক