পৃথিবীর রঙ বদলে দেবে ফেসবুক

বর্তমান বিশ্বে ‘ফেসবুক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। ফেসবুক এখন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সমাজনীতির গন্ডি পেরিয়ে এখন অর্থনীতির চূড়ায় আরোহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে বড় এই সোস্যাল মিডিয়াটি। সম্প্রতি জুকারবার্গের ২৭তম জš§বার্ষিকী পালিত হলো। তিনি আঠাশে পা দিয়েই শেয়ার মার্কেটের ইতিহাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটান। ফেসবুক শেয়ার আইপিও ছাড়বে এমন খবর অনেক আগে থেকেই আলোচিত হলেও অতি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার মার্কেটে চলে আসলে তখন দুনিয়ার সব মিডিয়াতে আবারও ফেসবুক নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। কারণ মানুষ ফেসবুকের আইপিও দেদারছে কিনতে থাকে। এর সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টক মার্কেটে এতো দ্রুত প্রতিফলন ভালোর থেকে মন্দই হতে পারে বেশি। আর শেয়ার মার্কেটে আসার দুদিনের মাথায় ফেসবুকের দরপতন ঘটে। সে যাই হোক থেমে নেই ফেসবুক। চাকরির বাজারেও তাদের সাড়ে তিন হাজার কর্মীকে কাজের সন্ধান দিয়ে বিশেষ অবদান রাখছে ফেসবুক। এভাবে ফেসবুক তার সামাজিকতার পাশাপাশি অর্থনীতিতে অবদান রেখে চললে পৃথিবীর রং বদলাতেও অবদান রাখবে ফেসবুক।
ফেসবুকের জন্ম যেভাবে : শুরুটা হয়েছিল অনেকটা মজা করার জন্য দুষ্টুমির ভাবনা নিয়ে, কিন্তু এখন তা রূপান্তরিত হচ্ছে এক বাস্তবতায়। এ বাস্তবতা পরিবর্তন এনেছে মানুষের স¤পর্ক গড়ার েেত্র। ২০০৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে জুকারবার্গ ছিলেন ১৯ বছরের তরুণ- হার্ভার্ডের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তখন তিনি তার ডরমিটরি থেকে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন। বলা হলো এটি একটি অনলাইন ডিরেক্টরি, যা কলেজগুলোর ছাত্রদের মধ্যে সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ গড়ে তুলবে। চলতি বছরে এ নেটওয়ার্কের সদস্যসংখ্যা ৯০ কোটি ছাড়ালো। এরা কথা বলে ৭৫টি ভাষায়। এরা সম্মিলিতভাবে প্রতিমাসে ফেসবুকের পেছনে খরচ করে ৭০ হাজার কোটি মিনিট। সালটা ২০০৪ কলেজের তিন বন্ধু ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, এডওয়ার্ড স্যাভেরিন ও ক্রিস হিউকে নিয়ে মার্ক তৈরি করে ফেলেন ফেসবুক। প্রথমে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ফেসবুক। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বস্টনের অন্য কলেজগুলোতে। একটা সময় জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, ১৩ পেরিয়েই এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে নাম লেখাতে শুরু করে ফেসবুক-জ্বরে আক্রান্ত অসংখ্য ছেলেমেয়ে। এই মূহূর্তে ফেসবুকের সদস্য সংখ্যা ৯০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রকাশ্যেই এক সভায় বলেন, ফেসবুক আমেরিকার গর্ব। এই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে নিমন্ত্রন পান মার্ক। সে দিন নৈশভোজে স্টিভ জোবসের অয়াশে জায়গা করে নিয়েছিলেন মার্ক। সম্ভবত একই সঙ্গে ক¤িপউটার-ইন্টারনেটের দুনিয়াতেও মার্ক সে দিন জায়গা করে নিয়েছিলেন অ্যাপল-স্রষ্টার ঠিক পাশে। উল্ল্যেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিস¤পন্ন টাইম ম্যাগাজিন ২০১০ সালের জন্য বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচন করে জনপ্রিয় নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গকে। ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারের পাশাপাশি মানুষের জীবনে ও বছরের ঘটনাপ্রবাহে এর প্রভাব বিবেচনা করে জুকারবার্গকে এ খেতাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টাইম ম্যাগাজিন।
বাড়ছে চাকরির সুযোগ : শুধু সামাজিক যোগাযোগ নয়, বিশ্বব্যাপী চাকরি আর আয়ের সুযোগও তৈরি করেছে ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি আর চাকরির সুযোগও করছে ফেসবুক। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এ মুহূর্তে ফেসবুকের জন্য হাজার হাজার অ্যাপ চাহিদা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে টিকে থাকতে এটাই এখন মূল কৌশল। ৯০ কোটি গ্রাহককে সামাজিক যোগাযোগে বেঁধে রাখতে অ্যাপের সহজ কোনো সমাধান নেই। এখন ফেসবুক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন এবং পণ্য প্রচারে দারুণ এবং তাৎণিক ভূমিকা রাখছে। এতে ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজার বিজ্ঞাপনে ফেসবুক তাই নতুন গণমাধ্যম। এ ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড গবেষণায় ফেসবুক অ্যাপ ইকোনমি নামে নতুন অর্থনৈতিক অবস্থা স¤পর্কে ধারণা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৮২ হাজার কাজের সুযোগ তৈরি করেছে ফেসবুক। অর্থের হিসাবে এ খাতের আয় ১ হাজার ২১৯ কোটি ডলার। এটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে খানিকটা হলেও চাঙ্গা করেছে।
বৃহত্তম সংস্থার তালিকায় : পৃথিবীর অনেক দেশের শেয়ার বাজার নিুমুখী হলেও,উর্দ্ধমুখী ফেসবুকের চাহিদা আর তার জেরেই জনপ্রিয় এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটটি হতে চলেছে ৫ ল কোটি টাকার সংস্থা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সংস্থার তালিকায় নাম তালিকাভুক্ত করলো ফেসবুক। গত শুক্রবার থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনাবেচা করার মাধ্যমে ফেসবুকের যাত্রা শুরু। শুক্রবার থেকেই নিউ ইয়র্কের ন্যাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকা ভুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটি।
আইপিও বাড়িয়েছে ফেসবুক : গ্রাহক চাহিদা ল্য করে ২৫ শতাংশ বেশি আইপিও বা প্রারম্ভিক শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক। এই ঘোষণার মাত্র একদিন আগেই ফেসবুক তার শেয়ার প্রতি মূল্য ২১% বৃদ্ধি করে৩৪-৩৮ ডলার করেছে। ফেসবুক প্রাথমিক পাবলিক শেয়ারের সাথে আরো প্রায় ৮৪ মিলিয়ন শেয়ার যুক্ত করার মাধ্যমে সর্বমোট ৪২১ মিলিয়ন শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিল। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ৩৩৭ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা দিয়েছিল। আইপিও বাড়ানোর ফলে ১৮ বিলিয়ন ডলার বেশি মূলধন সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
বাজার স্থিতিশীল করতে পদপে : ফেসবুকের শেয়ার মূল্য এবং অধিক শেয়ার বাজারে ছাড়ার কৌশলটি বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই ধারণা করে রেখেছিল। মুরহেড প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরেও বাজারে আসার পর প্রাথমিক অবস্থায় শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন। এ ধরণের শেয়ারের েেত্র প্রথম দিন মূল্য বৃদ্ধি পায়, তারপর একটু কমে আসে, এবং কয়েক মাসের মধ্যে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসে।
সর্বশেষ আইপিওর দাম নির্ধারণ ৩৮ ডলার : বিনিয়োগকারীদের চাহিদার মুখে ২৫ শতাংশ বেশি আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক কো¤পানি ফেসবুক। আইপিও বাড়িয়ে ১৬ বিলিয়ন মূলধন সংগ্রহের ল্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৬ মে বুধবার ফেসবুক জানিয়েছে, আট কোটি ৪০ লাখ অতিরিক্ত শেয়ার যুক্ত হবে এবং প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়বে। জানা গেছে, বৃহ¯পতিবার অতিরিক্ত শেয়ারসহ মোট ৪২ কোটি ১০ লাখ শেয়ারের ঘোষণা দেয় ফেসবুক। এর আগে ফেসবুক শেয়ারবাজারে আইপিওয়ের মাধ্যমে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করার কথা জানিয়েছিল। সেসময় প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করেছিল ২৮ থেকে ৩৫ ডলার। পরে শুক্রবার তার দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৮ ডলার।
জায়ান্ট গুগলের আইপিওকে ছাড়িয়ে যাবে : প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ ডলার। ফেসবুকের এই স্মরণীয় কার্যতালিকা ২০০৪ সালের অনলাইন জায়ান্ট গুগলের ২৩ বিলিয়ন মূল্যের আইপিওকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই বিশাল অর্থের পুরোটাই পকেটে ঢুকবে কো¤পানিটির প্রথম দিকের বিনিয়োগকারীদের। এ তালিকায় রয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ ও অন্য নির্বাহীরা।
বিশ্বের বেশিরভাগ সফটওয়্যার ফেসবুকের সাথে : ফেসবুক কর্তৃপ ধরে নিয়েছে, অলস অর্থ ইন্টারনেট দুনিয়ায় সরিয়ে নেয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। কারণ এটা ইতোমধ্যেই অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমেই সামাজিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। মের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফেসবুক আইপিওর প্রচারে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি রোড শোও করেছেন মার্ক জুকারবার্গ, যেখানে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন,
কোনো-না-কোনো উপায়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের বেশির ভাগ সফটওয়্যার ফেসবুকের সাথে বন্ধনীতে আবদ্ধ হবে। এ দিকে জুকারবার্গের আরেক জুনিয়র অনুগামী ক্রিস কক্স দাবি করেছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ কিভাবে অন্যের সাথে যোগাযোগ করবে, সেটা নির্ভর করছে মাত্র এক জেনারেশন-পরবর্তী ফ্যাবরিকের ব্যবহারের ওপর।
বিজ্ঞাপন থেকে আয় তিন বিলিয়ন ডলার : ফেসবুক একটা ¯েপশ্যাল কো¤পানি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এটার সম্ভাব্য মূল্যমান এতটা (১০০ বিলিয়ন) হবে। যে ফিগারটা ইতোমধ্যেই ছুঁতে পেরেছে অধিকতর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারনেট কিং অ্যামাজন। তর্কের খাতিরে এটাও ধরে নেয়া যাক, আসছে দিনগুলোতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে সম হবে ফেসবুক। এ ছাড়া অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে ব্যাপক অর্থ উর্পাজনের ধারাবাহিকতাও রা করা সম্ভব হতে পারে। গেল বছর বিজ্ঞাপন থেকেই ফেসবুক আয় করেছে তিন বিলিয়ন ডলার। ওই আয়ের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার প্রতিষ্ঠানটির মুনাফাভাণ্ডারে যোগ হয়। আইপিও প্রচারের ভিডিওতে ফেসবুকের প্রধান ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ডেভিড ইবারসম্যান বলেছেন, তার কো¤পানি বর্তমানে ব্যবহারকারী প্রতি গড়ে মুনাফা করছে ৪ দশমিক ৩৪ ডলার। আমেরিকা ও কানাডাতে যেটার পরিমাণ ব্যবহারকারী প্রতি ৯ দশমিক ৫১ ডলার।
লিংকেডিন এখন ফেসবুকের আইকন! : ফেসবুকে বিনিয়োগে উৎসাহীদের আরো একটি টনিক হতে পারে পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগের সাইট লিংকেডিন। পাবলিক মালিকানায় আসার পর থেকেই দুর্দান্ত পারফরম করছে কো¤পানিটি। ২০১২ সালের প্রথম কোয়ার্টারে তারা ১৮৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে মের ৩ তারিখের এক বিবৃতিতে জানানো হয়। আগের বছরের একই সময়ের আয়ের চেয়ে যা দিগুণ। এ সময় ডকুমেন্ট ও ভিডিও আদান-প্রদান সাইট ¯াইডশেয়ার ১১৯ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়ার ঘোষণাও দেয় লিংকেডিন। পাবলিক মালিকানায় আসার পর থেকে কো¤পানিটির ঈর্ষাণীয় অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স ফেসবুকের জন্য বাড়তি প্লাস পয়েন্ট হবে।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ইয়াহুর : ফেসবুক মনে করছে, কো¤পানি শেয়ার বাজারে আসার কারণে ফেসবুক ব্যবসায়িকভাবে আরো সফল হবে। আর এতে কো¤পানির ভবিষ্যৎও হবে অধিকতর সুরতি। কয়েক সপ্তাহ আগে ফটো আদান-প্রদান সাইট ইনস্টাগ্রামকে এক বিলিয়ন এবং মাইক্রোসফটকে ফেসবুক প্যাটেন্ট ব্যবহারের মূল্য হিসেবে ৫৫০ মিলিয়ন গুনতে হয়। যদিও এটাতে ইয়াহুর সাথে কিছুটা ঝামেলা বেড়েছে ফেসবুকের। ইয়াহুর দাবি, নিজস্ব গণ্ডি পেরিয়ে আইন লঙ্ঘন করছে ফেসবুক।
লাভজনক হবে কিনা সন্দেহ : এদিকে বিশ্লেষকেরা প্রতিষ্ঠানটির লাভ জনক হবে কিনা সে ব্যাপারে বেশ সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। মার্কিন কার নির্মাতা জিএম মটোরস ফেসবুকে আর বিজ্ঞাপন দিবে না বলে বিবিসিকে মঙ্গলবার জানিয়েছে। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফোর্ড সামাজিক মাধ্যমকে গ্রাহক আকর্ষণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা বলবত রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য প্রতি বাৎসরিক আয় মাত্র ৫ মার্কিন ডলার এবং মোবাইল ডিভাইস, ফোন এবং ট্যাবলেট ক¤িপউটার থেকে আয় করার চিন্তা ভাবনা করছে। মুর ইনসাইট অ্যান্ড র্স্ট্যাটেজি’র প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক মুরহেড ব্যাপারটা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে ফেসবুকের সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে মোবাইল ত্রেটিতে কিন্তু সেখান থেকে বর্তমানে সে কিছুই আয় করছে না। তিনি ফেসবুককে গ্র“পন বা ফোরস্কয়ার ক্রয় করার অথবা এ ধরণের সুবিধা ফেসবুকের সাথে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
যে প্রশ্নের জবাব মেলেনি : যদিও আইপিও প্রচারের রোডশোতে ফেসবুকের এক্সিকিউটিভরা বেশ কয়েকটি কঠিন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি। যেটার প্রথমটি হচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারে আগের বছরের তুলনায় মুনাফা কমেছে ফেসবুকের। এটাকে ছোট সমস্যা ধরে নিলে ফেসবুক নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তারও কারণ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ইউজাররা একদমই অ্যানপ্রেডিক্টেবল। একটার মজা শেষ হলেই কোনোরকম বিবেচনা ছাড়াই আরেকটিতে ট্রান্সফার হতে ভাবারও প্রয়োজনবোধ করেন না ইউজাররা। বিজ্ঞাপন থেকে আয় নিয়েও এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে ফেসবুক। ফার্মটির আইপিও প্রচারণার ভিডিওতে বেন অ্যান্ড জেরিস নামের আইসক্রিমের ব্যবসায়ী দাবি করেন, ফেসবুকে প্রতি এক ডলার বিজ্ঞাপনে খরচের বিপরীতে তার বিক্রি হয়েছে তিন ডলার। যদিও বর্তমানে অন্য অনেক ফার্মই দিন-রাত পরিশ্রম করছে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনকে আরো বেশি ফলদায়ক করতে। এ লড়াইয়ে তারা জয়ী হলে যে ল্য সামনে রেখে পাবলিক মালিকানায় এসেছে ফেসবুক, সেটা তো বটেই এমনকি তার চেয়েও বেশি সাফল্য তুলে নিতে পারবেন জুকারবার্গ অ্যান্ড কো¤পানি।
শেয়ার মার্কেটে এসেই একটি কো¤পানি কিনেছে ফেসবুক : বাজার বন্ধ হবার কিছুণের মধ্যে এবং পাবলিক কো¤পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে না করতেই ফেসবুক কার্মা’ নামের একটি কো¤পানিকে অধিগ্রহণ করেছে। মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে উপহার ক্রয়ের অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে পরিচিত ‘কার্মা’। কার্মার ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার করে তাদের অনলাইন ক্যাটালগ থেকে যে কোন উপহার পছন্দ করবেন। উপহার এর প্রাপক একটি বার্তার মাধ্যমে উপহার স¤পর্কে জানতে পারবেন। তিনি ইচ্ছা করলে উপহারটি পরিবর্তন করতে পারবেন, অথবা শুধু ঠিকানা দিলে ডাকের মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই আপনার কাছে তা চলে আসবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লি লিন্ডেন সম্প্রতি এক সাাৎকারে জানিয়েছিলেন তাদের পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় এসএমএস এর সাহায্যে। অ্যাপটি প্রথম থেকেই ফেসবুকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। অ্যাপটি ফেসবুকে আপনার পোস্টগুলোর উপর নজর রাখে এবং উপহার পাঠাতে পারেন এমন বিশেষ ঘটনা বা দিনকে মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করবে। মোবাইল ত্রেটিতে ফেসবুকের অবস্থানকে আরো দৃঢ় করার ল্েয এই পদপে গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি জানা গিয়েছে ডেস্কটপ অপো মোবাইলে ফেসবুকের গ্রাহক বেশি হলেই এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম। আর নতুন এই অ্যাপের মাঝে ব্যবসায়িক যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা ল্য করলেই বোঝা যায় সেই অবস্থার পরিবর্তন আনতে আগ্রহী ফেসবুক। নামের একটি কো¤পানিকে অধিগ্রহণ করেছে।
ফেসবুকের মালিকানা : ফেসবুকের মালিকদের মধ্যে আমরা শুধু জুকারবার্গকেই চিনি। তার বাইরেও যারা মালিকানায় আছেন তারা হচ্ছেন, মার্ক জুকারবার্গ ২৪%, এক্সেল পার্টনার ১০%, ডিজিটাল স্কাই টেকনোলোজিস ১০%, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ ৬%, এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন ৫%, শন পার্কার ৪%, মাইক্রোসফট ১.৫%, কর্মচারী, বিভিন্ন তারকা (নাম অপ্রকাশিত) এবং বহির্ভূত মালিকানা ৩০%, অন্যান্য ৯.৫% ।
সূত্র : দৈনিক যুগান্তর, ২৮-০৫-২০১২
লেখক আরুন সুদ্বীপ
- আরুন সুদ্বীপ -এর ব্লগ
- ৩ টি মন্তব্য
- ২৮ মে ২০১২, ১৫:১৪
- তথ্যপ্রযুক্তি
প্রিন্ট করুন
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক