ভূট্টোর পিপিপি ক্ষমতায়ঃ বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবে না ধরে নেওয়া যায়
আজ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশে এক সরকারি সফরে ৫ ঘন্টার জন্যে এসেছেন ।সফর উপলক্ষে আমাদের ''বাফার স্টেইট '' (Buffer State)সম্পর্কে ধারণা না থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহাশয় গণমাধ্যে জানিয়েছেন -মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা করার দাবি করা হবে ।এছাড়া উত্তরসূরী রাষ্ট্র হিসেবে অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়, আটকে পড়া।পাকিস্তানিদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন এবং বাংলাদেশকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা.দীপু মনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ আহবান এই প্রথম নয় ।এই সরকারের আমলে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বার কিন্তু এই সূর উঠে এসেছে ।কিন্তু পাকিস্তান ! এতো সহজে এদের গন্ডারের চামড়ার মতো চামড়ায় সেই আহবান পৌচ্ছঁবে না তা নিশ্চিত ।কিন্তু বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া দরকার তাদের নিজের ভালোর জন্য।আমাদের এলাকায় একটা কথা প্রচলিত আছে ''পাপে বাপেরে ছাড়ে না ।''আমাদের প্রতি এই রাষ্ট্রটি যে সব অন্যায় অত্যাচার করেছে তার ফল সুদে-আসলে এখন পাচ্ছে ।অহনির্শি এদের মনে শান্তি নেই ,দিন রাত মারা যাচ্ছে হাজারও মানুষ পাখির মতো ।এরপর এদের টনক নড়ের না ।আসলে এদের খাসলত ই সেই রকম ।দেশের জাতীয় পশু ছাগল হলে সেই দেশের মানুষ কিছুটা হলেও ছাগলের মতো আচরণ করবে স্বাভাবিক ।
খোদ পাকিস্তানে ভেতর থেকে এমন সুর উঠেছিল ।পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বর্তমানে রাজনীতিবিদ ইমরান খান গত বছর বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে সেই আহবান করেন সরকারের প্রতি ।ইমরান খান বলেন -'একাত্তরের নির্মম গণহত্যা ও অত্যাচার-জন্য পাকিস্তানকে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই হবে না, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকায় আটকে পড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া ও আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক পাওনা থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করতে হবে'।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনেক বার দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে ।এমন
কি ১৯৭৪ সালের জুনে ঢাকায় এক সরকারি সফরে এসে এক নাগরিক সংবর্ধনায় পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভূট্টো বাংলাদেশের ক্ষতির জন্যে শুধু দুঃখ প্রকাশ করে ।তবে আমাদের প্রতি সেই সময় যে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে তার জন্য এই লোকটিও কোন অংশে কম দায়ী নয় ।
যেমন'' ১৯৭১ সালের নভেম্বর -ডিসেম্বর মাসে জাতি সংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারত-উপমহাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুষ্ঠিত বির্তকে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানী প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন ।তৎকালীন পূর্ব বঙ্গে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের রক্তপিপাসু সৈন্যবাহিনীর নিধন যজ্ঞে সমর্থন করে তিনি বলেন ,একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র (ভারত)পূর্ব বঙ্গের ''বিচ্ছিন্নতাবাদী'' আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ।পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে পূর্ব বঙ্গের পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেন ।বাংলাদেশ''সমস্যা''র সমাধানের ব্যাপারে ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের ''চূড়ান্ত সমাধান''(ফাইনাল সলিউশান)তিনি খোলাখুলি ভাবে সমর্থন করেন ।তা ছাড়া ইয়াহিয়াও টিক্কা খানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের ছ'দফা দাবি এবং ঢাকার বাড়িঘরের উপর ''বাংলাদেশের পতাকা '' উত্তোলন ''ফ্যাসিজম সুলভ দুঃস্বপ্ন''(নাইট মেয়ার অব ফ্যাসিজম) ছাড়া আর কিছুই নয় ।
সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারতের বক্তব্য পেশ উপলক্ষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা সমর সেন ''দি গ্রেট ট্র্যাজেডী'' শীর্ষক একটি বই থেকে বহু অংশ উদ্ধৃত করে বলেন,জুলফিকার আলী ভূট্টোর পরামর্শ অনুযায়ী ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ পাকিস্তান সৈন্যবাহিনীকে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ।তিনি আরো বলেন,বইটির লেখক হলেন জুলফিকার আলি ভুট্টো ।ভূট্টো চীৎকার করে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন এবং সমর সেন কে জিজ্ঞেস করেন ,তিনি এই বই কোথায় পেয়েছেন ?সমর সেন অবশ্য কোন জবাব দেননি এবং ভূট্টোও বইটি লেখার কথা অস্বীকার করেন নি ।''(উৎস:কামাল আতাতুর্ক ;আধুনিক তুরস্কের জনক:লেখক আবদুল মতিন )
এই হলেন জুলফিকার আলি আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধে এই মানুষ রূপী হায়েনা পরামর্শের রসদ যোগায় ।এর প্রতিষ্ঠিত দল পিপিপি এখন ক্ষমতায় ,সেই দলের অনুগত্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবেন তা ধরে নেওয়া যায় ।তবে তার আগে দরকার পাকিস্তানি ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী তাদের মধ্যে যারা এখনও বেচেঁ আছে যাদের বিচার করা ।ঐ বেইমানরা কোনদিনও এদের বিচার করবে না ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ আহবান এই প্রথম নয় ।এই সরকারের আমলে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বার কিন্তু এই সূর উঠে এসেছে ।কিন্তু পাকিস্তান ! এতো সহজে এদের গন্ডারের চামড়ার মতো চামড়ায় সেই আহবান পৌচ্ছঁবে না তা নিশ্চিত ।কিন্তু বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া দরকার তাদের নিজের ভালোর জন্য।আমাদের এলাকায় একটা কথা প্রচলিত আছে ''পাপে বাপেরে ছাড়ে না ।''আমাদের প্রতি এই রাষ্ট্রটি যে সব অন্যায় অত্যাচার করেছে তার ফল সুদে-আসলে এখন পাচ্ছে ।অহনির্শি এদের মনে শান্তি নেই ,দিন রাত মারা যাচ্ছে হাজারও মানুষ পাখির মতো ।এরপর এদের টনক নড়ের না ।আসলে এদের খাসলত ই সেই রকম ।দেশের জাতীয় পশু ছাগল হলে সেই দেশের মানুষ কিছুটা হলেও ছাগলের মতো আচরণ করবে স্বাভাবিক ।
খোদ পাকিস্তানে ভেতর থেকে এমন সুর উঠেছিল ।পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বর্তমানে রাজনীতিবিদ ইমরান খান গত বছর বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে সেই আহবান করেন সরকারের প্রতি ।ইমরান খান বলেন -'একাত্তরের নির্মম গণহত্যা ও অত্যাচার-জন্য পাকিস্তানকে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই হবে না, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকায় আটকে পড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া ও আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক পাওনা থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করতে হবে'।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনেক বার দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে ।এমন
কি ১৯৭৪ সালের জুনে ঢাকায় এক সরকারি সফরে এসে এক নাগরিক সংবর্ধনায় পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভূট্টো বাংলাদেশের ক্ষতির জন্যে শুধু দুঃখ প্রকাশ করে ।তবে আমাদের প্রতি সেই সময় যে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে তার জন্য এই লোকটিও কোন অংশে কম দায়ী নয় ।
যেমন'' ১৯৭১ সালের নভেম্বর -ডিসেম্বর মাসে জাতি সংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারত-উপমহাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুষ্ঠিত বির্তকে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানী প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন ।তৎকালীন পূর্ব বঙ্গে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের রক্তপিপাসু সৈন্যবাহিনীর নিধন যজ্ঞে সমর্থন করে তিনি বলেন ,একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র (ভারত)পূর্ব বঙ্গের ''বিচ্ছিন্নতাবাদী'' আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ।পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে পূর্ব বঙ্গের পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেন ।বাংলাদেশ''সমস্যা''র সমাধানের ব্যাপারে ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের ''চূড়ান্ত সমাধান''(ফাইনাল সলিউশান)তিনি খোলাখুলি ভাবে সমর্থন করেন ।তা ছাড়া ইয়াহিয়াও টিক্কা খানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের ছ'দফা দাবি এবং ঢাকার বাড়িঘরের উপর ''বাংলাদেশের পতাকা '' উত্তোলন ''ফ্যাসিজম সুলভ দুঃস্বপ্ন''(নাইট মেয়ার অব ফ্যাসিজম) ছাড়া আর কিছুই নয় ।
সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারতের বক্তব্য পেশ উপলক্ষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা সমর সেন ''দি গ্রেট ট্র্যাজেডী'' শীর্ষক একটি বই থেকে বহু অংশ উদ্ধৃত করে বলেন,জুলফিকার আলী ভূট্টোর পরামর্শ অনুযায়ী ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ পাকিস্তান সৈন্যবাহিনীকে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ।তিনি আরো বলেন,বইটির লেখক হলেন জুলফিকার আলি ভুট্টো ।ভূট্টো চীৎকার করে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন এবং সমর সেন কে জিজ্ঞেস করেন ,তিনি এই বই কোথায় পেয়েছেন ?সমর সেন অবশ্য কোন জবাব দেননি এবং ভূট্টোও বইটি লেখার কথা অস্বীকার করেন নি ।''(উৎস:কামাল আতাতুর্ক ;আধুনিক তুরস্কের জনক:লেখক আবদুল মতিন )
এই হলেন জুলফিকার আলি আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধে এই মানুষ রূপী হায়েনা পরামর্শের রসদ যোগায় ।এর প্রতিষ্ঠিত দল পিপিপি এখন ক্ষমতায় ,সেই দলের অনুগত্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইবেন তা ধরে নেওয়া যায় ।তবে তার আগে দরকার পাকিস্তানি ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী তাদের মধ্যে যারা এখনও বেচেঁ আছে যাদের বিচার করা ।ঐ বেইমানরা কোনদিনও এদের বিচার করবে না ।
লেখক রূপাই
- রূপাই -এর ব্লগ
- ৫ টি মন্তব্য
- ০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৫:০৯
- রাজনীতি
প্রিন্ট করুন





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক