রাখী
বিঃদ্রঃঅদ্রির লেখা গল্প আজ বৃহস্পতিবার আবার ব্লগে দিলাম।ওর লেখা গল্প এর আগে আরও ৩টি দিয়েছিলাম,একটি হারিয়ে গেছে।এই গল্পটি ও লিখেছিল চতুর্থ শ্রেণিতে থাকতে।ইদানীং আমাকে প্রায়ই বলে ব্লগে একটি একাউন্ট খুলে দিতে। কি করা যায়,বলুন তো?
রাখীর বয়স যখন দশ,তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো।রাখী ছিল খুব ভাল ও সহজ সরল মেয়ে।এজন্য তার আব্বু, আম্মু তাকে খুবই ভালবাসত।বিশেষ করে তার মা তাকে অনেক ভালবাসত।রাখী জন্মের পর থেকে তার মা প্রায়ই অসুস্থ থাকত।রাখীর বাবা ছিল খুব ব্যস্ত মানুষ।সারাদিন অফিসে কাজ করত।এজন্য সারাদিন বাড়িতে রাখী তার মায়ের খেয়াল রাখত।রাখী সবসময় বাড়ি ফিরেই মাকে জিজ্ঞেস করত,মা তুমি কি খাবার খেয়েছ?রাখীর মা না বললে,সে সাথে সাথে রান্না ঘর থেকে মার জন্য খাবার নিয়ে আসত।একদিন রাখী তার স্কুল থেকে শুনতে পেল তার মা হাসপাতালে ভর্তি।তা শুনে রাখী জলদি করে হাসপাতালে চলে গেল।সে সারাদিন সেই হাসপাতালেই কাটালো ।রাখীর মা বলল,রাখী যেন বাড়ি গিয়ে পড়তে বসে।সে বলল, না আমার পড়াশুনা থেকে আমার মা খুবই গুরত্তপূর্ণ।আজ আমি যা আছি তাতো মায়ের জন্যই।তা শুনে মায়ের চোখে পানি এসে গেল।পাশে বুয়া বসে ছিল,রাখী বুয়াকে বলল, বুয়া তুমি বাসা থেকে জলদি করে মার জন্য খাবার নিয়ে আসো।এর পরের দিন রাখী তার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্কুলে চলে গেল।স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সে খাবার নিয়ে চলে গেলো হাসপাতালে।সেখানে গিয়ে দেখে তাদের বুয়া অনেক জোরে কাঁদছে। রাখী বুয়াকে দেখে বলল,কি হয়েছে বুয়া তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?বুয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, আপা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন।তা শুনে রাখী তো একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল।সে দৌড় দিয়ে তার মার কাছে গেল।রাখী তার মাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল।খবর শুনে রাখীর বাবা চলে আসলো।ওদিকে রাখী তো কাঁদছেই।রাখী বলল,মা তুমি তোমার একমাত্র মেয়েকে ছেড়ে চলে গেলে।তুমি তো জানো যে,আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবনা।তাহলে তুমি কেন এ রকম করলে?ঐ দিন রাখী সারাদিন তার মার কবরের কাছে বসে ছিল।রাখীকে সেখান থেকে কেউ সরাতে পারলনা।সন্ধ্যা হয়ে গেল।রাখী তারপরও তার মার কবর থেকে সরতে চায় না।পাশে তার বাবা দাঁড়িয়েছিল।বাবা বলল,সন্ধ্যা হয়ে গেছে মা,এখন চল।রাখী বলল,না আমি আমার মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।তখন তার বাবা বলল,তোমার মা তো তোমার সাথে সবসময় থাকবে।এখন দেখ তুমি যদি বাড়ি না যাও তাহলে তো তোমার মা তোমার সাথে রাগ করবে না?তখন রাখী বলল,ঠিক আছে তাহলে আমি বাড়ি যাব কিন্ত একটি শর্ত আছে, আমি প্রত্যেকদিন স্কুল থেকে আসার পর মার কবরের কাছে এসে বসব।তখন রাখীর বাবা বলল, ঠিক আছে।ঠিক তখন থেকেই রাখী প্রতিদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পর তার মায়ের কবরের কাছে এসে বসতো এবং নানা রকমের কথা বলত।
রাখীর বয়স যখন দশ,তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো।রাখী ছিল খুব ভাল ও সহজ সরল মেয়ে।এজন্য তার আব্বু, আম্মু তাকে খুবই ভালবাসত।বিশেষ করে তার মা তাকে অনেক ভালবাসত।রাখী জন্মের পর থেকে তার মা প্রায়ই অসুস্থ থাকত।রাখীর বাবা ছিল খুব ব্যস্ত মানুষ।সারাদিন অফিসে কাজ করত।এজন্য সারাদিন বাড়িতে রাখী তার মায়ের খেয়াল রাখত।রাখী সবসময় বাড়ি ফিরেই মাকে জিজ্ঞেস করত,মা তুমি কি খাবার খেয়েছ?রাখীর মা না বললে,সে সাথে সাথে রান্না ঘর থেকে মার জন্য খাবার নিয়ে আসত।একদিন রাখী তার স্কুল থেকে শুনতে পেল তার মা হাসপাতালে ভর্তি।তা শুনে রাখী জলদি করে হাসপাতালে চলে গেল।সে সারাদিন সেই হাসপাতালেই কাটালো ।রাখীর মা বলল,রাখী যেন বাড়ি গিয়ে পড়তে বসে।সে বলল, না আমার পড়াশুনা থেকে আমার মা খুবই গুরত্তপূর্ণ।আজ আমি যা আছি তাতো মায়ের জন্যই।তা শুনে মায়ের চোখে পানি এসে গেল।পাশে বুয়া বসে ছিল,রাখী বুয়াকে বলল, বুয়া তুমি বাসা থেকে জলদি করে মার জন্য খাবার নিয়ে আসো।এর পরের দিন রাখী তার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্কুলে চলে গেল।স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই সে খাবার নিয়ে চলে গেলো হাসপাতালে।সেখানে গিয়ে দেখে তাদের বুয়া অনেক জোরে কাঁদছে। রাখী বুয়াকে দেখে বলল,কি হয়েছে বুয়া তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?বুয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, আপা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন।তা শুনে রাখী তো একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল।সে দৌড় দিয়ে তার মার কাছে গেল।রাখী তার মাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল।খবর শুনে রাখীর বাবা চলে আসলো।ওদিকে রাখী তো কাঁদছেই।রাখী বলল,মা তুমি তোমার একমাত্র মেয়েকে ছেড়ে চলে গেলে।তুমি তো জানো যে,আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবনা।তাহলে তুমি কেন এ রকম করলে?ঐ দিন রাখী সারাদিন তার মার কবরের কাছে বসে ছিল।রাখীকে সেখান থেকে কেউ সরাতে পারলনা।সন্ধ্যা হয়ে গেল।রাখী তারপরও তার মার কবর থেকে সরতে চায় না।পাশে তার বাবা দাঁড়িয়েছিল।বাবা বলল,সন্ধ্যা হয়ে গেছে মা,এখন চল।রাখী বলল,না আমি আমার মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।তখন তার বাবা বলল,তোমার মা তো তোমার সাথে সবসময় থাকবে।এখন দেখ তুমি যদি বাড়ি না যাও তাহলে তো তোমার মা তোমার সাথে রাগ করবে না?তখন রাখী বলল,ঠিক আছে তাহলে আমি বাড়ি যাব কিন্ত একটি শর্ত আছে, আমি প্রত্যেকদিন স্কুল থেকে আসার পর মার কবরের কাছে এসে বসব।তখন রাখীর বাবা বলল, ঠিক আছে।ঠিক তখন থেকেই রাখী প্রতিদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পর তার মায়ের কবরের কাছে এসে বসতো এবং নানা রকমের কথা বলত।
লেখক নুসরাত জাহান আজমি
- নুসরাত জাহান আজমি -এর ব্লগ
- ২০ টি মন্তব্য
- ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৬:৩৮
- শিশুসাহিত্য
প্রিন্ট করুন
- ২০ টি মন্তব্য
-
রব্বানী চৌধুরী৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:০৯
অদ্রির জন্য দোয়া রইলো, আর বৃহস্পতিবার অদ্রির লেখা গল্পটা প্রকাশ করায় ব্লগের নিবন্ধিত লেখিকাকে (নুররাত জাহান) আমাদের শুভেচ্ছা।
ছোট্টদের জন্য চমৎকার একটি গল্প। ভালো থাকবেন। -
ফেরদৌসা৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৩
অদ্রির বলা গল্প আর আপনার লেখা গল্প ভাল লেগেছে।
অদ্রির জন্য অনেক অনেক আদর আর ভালবাসা রইল। -
মেজদা০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:০০
কয়েকদিন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। আজ কিছুটা সময় নিয়ে বসে বসে দেখছি কারও কারও লেখা। আমার নিজের পোস্টগুলো। তারপর নুসরাতের রাখী গল্পটা পড়লাম আর আবার দিলাম তো কেঁদে। কেন যে এত পানি শুধু চোখেই লুকিয়ে থাকে, সময়মত টুস করে বেড়িয়ে পরে।
ভাল থাকিসরে পাগলী।


-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
আজমিকে ধন্যবাদ ছোট্ট আপুটার পাশে আছে বলে ।