শনিবার ২৫ মে ২০১৩, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


আসুন জেনে নিই বিভিন্ন ধরনের বনসাই সম্পর্কে

বনসাই অর্থ ট্রের মধ্যে ফলানো। শক্ত কান্ড রয়েছে এমন গাছের খর্বাকৃতি করার শিল্পকে বনসাই বলা হয়। বনসাই তৈরীতে নান্দনিকতার ছোঁয়া থাকে। বনসাই শব্দটি জাপানী; চীনা পেনজাই শব্দ থেকে বনসাই শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় পাত্রে/ টবে গাছের বিভিন্ন ধরনের চারা জন্মানোর কথা জানা যায়। ৪০০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে পাত্রে গাছ লাগানো হত। এরকম তথ্য সে সময়কার রাজনৈতিক নথিপত্র ঘেটে জানা যায়। ঐ সময়ে পাথর কেটে পাত্র তৈরী করে সে পাত্রে গাছ লাগানো হত। তৃতীয় ফারাও রামেসেস পাত্রে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে অনেক মন্দিরে দান করেছিলেন। প্রাচীন কালে ভারতে টবে পাত্রে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর প্রচলন ছিল। সে সময়ে ঔষধ ও খাবারের জন্য পাত্রে গাছ লাগানো হত। এক হাজার বছর আগে চীনে এর প্রচলন শুরু হলেও দ্বাদশ শতাব্দীতে জাপানীদের নান্দনিক ছোঁয়ায় এটি শিল্পে পরিণত হয়।

ভালো বনসাই
ভালো বনসাই গাছে সামনের চেয়ে পেছনে পাতা থাকতে হয়।
গাছের প্রধান কান্ডটিকে সবচেয়ে বেশি মোটা থাকতে হয়।
গাছের উচ্চতানুযায়ী গাছের শাখা প্রশাখা অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি থাকতে হয়। নিচের দিকের প্রথম ডালটি সবচেয়ে মোটা হতে হয়।
গাছের বাইরের আকৃতি দেখতে অনেকটা ত্রিভুজের বৃত্তের মত দেখাতে হয়।
মরে যাওয়া এবং রুগ্ন পাতা, পোকা-মাকড় থাকবে না।
টবের রং গাছের সাথে মানানসাই হতে হয়। বনসাইয়ের পাত্রে/ টব পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হয়।
গাছের সব পাতার আকার এরকম হতে হয়। ফুল ও ফলে কোন ধরনের বিকৃতি থাকতে পারে না।

বনসাইয়ের প্রশিক্ষণ
বনসাই তৈরীর প্রশিক্ষণ নিলে চাইলে নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি
ফোন: ০২- ৮১২২৬৮৬
মোবাইল: ০১৭১১-৮১০২৬২, ০১৭১১-৪২০১২২, ০১৭১১-৮২৬৫৩৩

বনসাই উপযুক্ত গাছগুলো
যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়। গাছের কান্ড মোটা হয়। বছরে একবার পাতা ঝরে। গাছের বয়স হলে গাছের ছাল মোটা হয়। গাছের ঝুরি নামে এমন গাছ, শিকড় কেটে দিলে ঝুরি গাছের শিকড়ের কাজ করে। গাছ অনেকদিন সতেজ থাকে এবং গাছের বয়স অনুযায়ী বেঁচে থাকে। যেখানে বা যেদেশে বনসাই করা হবে সে স্থানের আবহাওয়া উপযোগী হতে হয়।
বাংলাদেশে বনসাই করা যেতে পারে এমন গাছগুলো হল বট, বকুল, শিমুল, পাকুড়, তেতুল, শিবীষ, বাবলা, পলাশ, বিলিতি বেল, ছাতিম, হিজল, জাম, নিম, বেলি, গাব, শেফালী, পেয়ারা, হেওরা, ডালিম, তমাল, জাম্বুরা, কমলা, তুলশী, বহেরা, বরই, বর্ডার, কামিনী, বগুন, মেহেদী, কড়ই, অর্জুন, জারুল, জুনিপার, নরশিংধ, করমচা, লুকলুকি, কৃষ্ণচূড়া, কদবেল, দেবদারু, সাইকেশ, হরিতকি, কামরাঙা, আমলকি, নীলজবা, লালজবা, কুসুমফুল, এশফেরা, ধানপাতা, অশ্বথ বট, নুডা বট, পাকুর বট, কাঠলি বট, রঙ্গন ছোট, রঙ্গন বড়, নিম সুন্দরী, লাল গোলাপ, খই বাবলা, কনকচাঁপা, গোলাপজাম, পাথরকুচি, সাদা নয়নতারা, স্টার কুইন, বাগান বিলাস, হেলিকুনিয়া, লাল টাইমফুল, গোলাপিটা ফুল, ক্যাকটাস গোল, ক্যাকটাস লম্বা, পান বিলাস, লালা পাতাবাহার, লাল জামরুল, চায়না বাঁশ, সন্ধ্যা মালতী হলুদ, যজ্ঞ ডুমুর, আলমন্ডা, এলাচি ও ঢেড়শ।

বনসাই তৈরী করতে চাইলে
বনসাই করার আগে যে গাছ নির্বাচন করা হয় সে গাছের বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য সম্পর্কে জেনে নিলে তা পরবর্তীতে সাহা্য্য করে।
বনসাই গাছ বর্ষা ঋতুতে লাগানো উচিত।
বনসাইয়ের উচ্চতা ৩-৫ ফুট পর্যন্ত হয়। বনসাই গাছকে প্রয়োজন মত খাদ্য দিতে হয়।
বনসাই গাছে কালো মাটি, সরষে, নীমের খোল, ইটের চূর্ন, বালি খাবার হিসাবে কাজ করে।
শীতের সময়ে একদিন অন্তর অন্তর গাছে পানি দিতে হয়।
অপ্রয়োজনে গাছকে না ছোঁয়াই ভালো।
শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে গাছ রাখতে হয়।

যে জায়গা উপযুক্ত
পানি নিষ্কাশন সুবিধা রয়েছে এবং সূর্যের আলো পৌঁছে এমন জায়গা বেছে নিতে হয় বনসাইয়ের জন্য। অর্থাৎ পরিবেশটা অবশ্যই খোলামেলা হতে হয।
দোঁ-আশ ও বেলে মাটি বনসাইয়ের জন্য উপযুক্ত।
কয়টি গাছের বনসাই করা হবে তার উপর জায়গার পরিমাণ নির্ভর করে।
পাখি থেকে বনসাইয়ের কুড়ি বাঁচাতে নেট ব্যবহার করতে হয়।

যে যন্ত্রগুলি প্রয়োজন
পট/ টব (বনসাই রোপনের জন্য)
সিকেচার (ডাল কাটার জন্য)
কাঁচি (পাতা কাটার জন্য)
কনকেভ কাটার (ডালের গোড়া সরাতে)
ওয়্যার কাটার (তার কাটতে)

টব নির্বাচন
বনসাই উঁচু না হলে ছোট বাটির টব বাছাই করাই ভালো।
টব বনসাইয়ের শাখা, প্রশাখার বিস্তারের চেয়ে ছোট হলে ভালো হয় এবং এতে বনসাইয়ের সৌন্দর্য বেড়ে যায়।
টব যে কোন আকৃতির হতে পারে। রুচি অনুযায়ী ত্রিভুজাকার, বৃত্তাকার, আয়তাকার যেকোন আকৃতির বাছাই করা যেতে পারে।

বনসাইয়ের চারা তৈরী
বনসাইয়ের চারা নার্সারী থেকে সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া বীজ সংগ্রহ করেও চারা তৈরী করে নেওয়া যায়।
যে সকল গাছের বীজ পাওয়া যায় না সে সকল গাছের চারা পেতে অঙ্গজ পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়।
কাটিং, তেউড় বিভাজন, দাবা কলম, ঝড় বিভাজন দাবা কলম, চোখ কলম, ঝুটি কলম ও অন্যান্য অংগজ পদ্ধতি অনুসরণ করে চারা তৈরী করে নেওয়া যায়।
চারা তৈরী হয়ে গেলে টব/ পটে বনসাই রোপন করতে মাটি তৈরী করে নিতে হয়।

মাটি তৈরী
বিভিন্ন জাতের বনসাইয়ের জন্য আলাদা ভাবে মাটি তৈরী করতে হয়।
মাটি তৈরীতে জৈব সার ও দো-আঁশ বা পলি মাটি ব্যবহার করতে হয়। জৈবসার ও দো-আঁশ মাটির মিশ্রনে জৈব সারের পরিমাণ বেশী থাকতে হয়।

বনসাই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আরও অনেক তথ্য টেবিল আকারে হওয়ায় এখানে দেওয়া গেলো না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
৭ টি মন্তব্য
kamaluddin কামাল উদ্দিন২০ নভেম্বর ২০১২, ১৭:৫৪
ধন্যবাদ, বনসাইকে আমি সব সময়ই অবাক দৃষ্টিতে দেখে থাকি ।
KASHEMTIPU ভালোলাগে২০ নভেম্বর ২০১২, ১৭:৫৮
বনসাই সম্পর্কেে জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।একটা বনসাই নিজেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
KASHEMTIPU ভালোলাগে২০ নভেম্বর ২০১২, ১৭:৫৮
বনসাই সম্পর্কেে জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।একটা বনসাই নিজেই করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
KohiNoor মেজদা২০ নভেম্বর ২০১২, ১৮:৪৮
একটা বনসাই ফ্রি দেওয়া যায় না মাহিন সাহেব।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২০ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৪৭
বনসাই করা কঠিন। টিকিয়ে রাখা আরো কঠিন। তবে বনসাই প্রেমিকদের জন্য এ কিছুই না।
ধন্যবাদ।
sulary আলভী২০ নভেম্বর ২০১২, ২১:৩৯
চমৎকার পোষ্ট প্রিয় মাহিন....।
calvertbrett calvertbrett১৩ মে ২০১৩, ২০:০৭
Yeah, it's just what I need, I'm about to have a new one

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment