বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ১১ বৈশাখ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


মোটর বাইক চালকের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতা

আমাদের দেশে এমন কোন পুরূষ মানুষ খুঁজে পাবেন না যিনি, মোটর বাইক চালানোর স্বপ্ন দেখেনা অথবা স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেনা।আসলে এটাকে দেখলে সবাই রোমাঞ্জিত হয়, ছেলে বুড়ো সবাই এ বাহনটি পছন্দ করে। এছাড়া এটি চালাতে নিজেকে স্মার্টই মনে হয়।বাইক চালানোয় রয়েছে চালকের পূর্ণ স্বাধীনতা,যেহেতু বাইক চলার পথের কম প্রসস্থতা দরকার হয় এবং যেকোন ছোট গলি রাস্তা দিয়ে চলে যেতে পারে, তাই যান জটে আটকে থাকার ভয় প্রায় নেই বললেও চলে। অনায়াসে যখন ইচ্ছা তখন, যেখানে ইচ্ছা সেখানে, অতি দ্রূত বাইকটি চালিয়ে চলে যেতে পারে। সর্ব পরি এ বাহনটা স্বাশ্রয়ী। এ কারনে বাইক জনপ্রিয় একটি বাহন। এ বাহনটার মত আর একটাও যানবাহন পাবেন না যার এত স্বাধীনতা রয়েছে।

আমার দেখা ভিয়েতনামে বোধহয় ৯৯% লোক, লোক বলেছি এজন্য পুরূষ ও মহিলাই বাইক চালিয়ে দৈনন্দিন কাজ করতে দেখা যায়।যাদের বাইক কেনার সামর্থ নেই তারা সাইকের চালিয়ে কাজ সারে।তবে সেখানে ব্যাংক সহজ শর্তে বাইক কেনার জন্য এবং বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও ডিলাররা সুলভে সহজ শর্তে ও কিস্তিতে বাইক বিক্রয় করে।

বাংলাদেশে ও ইদানিং মহিলা বাইক চালক দেখা যাচ্ছে বিশেষত ঢাকায় ও চট্টগ্রামে। ব্রাক এ কর্মরত মহিলাদেরকে হোন্ডা ৫০সিসি এবং ৮০সিসি বাইক চালাতে দেখা যায়।এছাড়া সৌখিন মহিলা চালক ও রয়েছে।ধীরে ধীরে তরূনীদের কাছে স্কুটী বাইক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাইক ক্রয় করার পূর্বেই ড্রাইভিং শিখে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স (লাইট গাড়ীর সহ) করিয়ে নিন্ নতুবা আপনার ক্রয়কৃত বাইকটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত চালানো শুরূ করবেন।যার কারনে রাস্তায় দুর্ঘটার শিকার হতে পারেন এবং ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মামলার জটিলতায় পড়তে পারেন।

আমাদের দেশে অধিকাংশ তরূন প্রজন্মকে হেলমেট বিহীন এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বাইকের ব্লুবুক এবং বাইকের লুকিং গ্লাস বিহীন বাইক চালাতে দেখা যায়। যা কিছুতেই উচিৎ নয়্।
বাইক চালানোর সময় আপনার নিজের লাইসেন্স সঙ্গেই রাখুন। সাথে রাখুন গাড়ীর কাগজপত্র যেমনঃ ১)বাইকের রেজিষ্ট্রেশন সনদ পত্র,২)কর পরিশোধ সনদ পত্র, ৩) ইনসিওরেন্স সার্টিফিকেট (হালনাগাদ)।

এতসব কিছু থাকার পর আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে বাইক চালানোর সময়।ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আপনার হেলমেটটি সঙ্গে নিন।এবং আপনার পেছনে যদি কেউ চড়ে তাকেও হেলমেট ব্যবহার করতে বলুন। মুখে মাস্ক ব্যবহার করূন কারন আপনার বাইকটি খোলা,ফলে রাস্তার ধুলাবালি সব অনায়ারে আপনার নাকে ঢুকে যাচ্ছে এতে সাইনাসে,এবং ফুসফুসে সমস্যা হতে পারে। চোখ জোড়া কড়া রোদের আঁচ থেকে বাঁচাতে রোদ চশমা ব্যবহার করূন।রোদ চশমাটি খুব বেশী ডার্ক না হওয়াই ভাল। বাইক চালানোর সময় মেরূদন্ড সোজা করে বসুন নতুবা কিছুদিন পর আপনার মেরূদন্ডে ব্যথা অনভুত হতে পারে।চিকিৎসা হিসেবে বাইক চালনা ছেড়ে দিতে হবে।
শহর এলাকায় চালানোর সময় অযথা ৩০ উপর স্পীড তোলা উচিত নয় আর এই স্পীডে বাইক সুন্দর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শুধু আপনিই সব গাড়িকে কাটিয়ে সামনে যাবেন এই মানসিকতা দূরে রাখুন। এতে দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন।লেন ঠিক রেখে চলুন অযথা লেন পরিবর্তন করবেন না,যদি করতে হয় হর্ণ দিন সিগন্যাল বাতি জালিয়ে পেছনের গাড়িকে সতর্ক করূন কোন পাশে আপনি যেতে চাইছেন । এরপর ও দেখুন আপনার সিগন্যাল পেছনের গাড়ি বুঝতে পেরেছে কিনা এবং ত‍া নিশ্চিত হয়ে লেন পরিবর্তন করূন।ধরি আপনার রাস্তায় কোন লেন ‍নির্দেশনা নেই তাহলেও আপনি সোজা চালান এটাই আপনার লেন ।ইচ্ছে হলেই এদিক ওদিক করবেন না।মোড়ে ঘুরার জন্য যে দিকে যেতে চান সে দিকে সিগন্যাল বাতি জালান এবং গতি বেশ কমিয়ে ডান বাম দেখে সামনে অগ্রসর হউন।
মনে রাখবেন সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী।আপনার বাইকের ভিউ মিরর আপনাকে পেছনের গাড়ীর অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করে।সুতারাং ভিই মিরর ব্যবহার করূন, ভিই মিরর ব্যবহার না করার মাঝে কোন স্মার্টনেস নেই।ভিই মিররে পেছনের গাড়ীর অবস্থা দেখে আপনি সতর্ক হয়ে নিরাপদ দূরত্বে থেকে আপনার বাইকটি চালাতে পারেন।কোন স্টপে বা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী থামতে হলে অন্ততঃ১০০গজ আগে থাকতেই বামে সিগন্যাল দিন।

বিশ্বরোডে বাইক না চালানোই ভাল কারন এ রোডে দ্রূতগামী ভারী যানবাহন চলাফেরা করে সুতারাং আপনার ছোট বাইকটি এ রোডে নিরাপদ নয়। আপনি তখনি আপনি স্মার্ট যখন আপনি সকল নিয়ম কানুনের মধ্যে থেকে বাইক চালাবেন।বাইকের বেলায় মনে রাখবেন গতিই আপনার দুর্ঘটনার একমাত্র কারন হতে পারে।
আসলে উপরোক্ত নিয়ম কানুন গুলো আমরা সকলেই জানি,তবুও যে হারে দুর্ঘটনা ঘটছে তাই আবার একটু মনে করিয়ে দেয়ার জন্য আমার এ প্রয়াস।
সবাই স্বাধীনভাবে নিরাপদে বাইক চালান এই কামনা করি।
১ টি মন্তব্য
klantoratdin ধুসর রাজকন্যা১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ০০:২২
ধন্যবাদ।