কৃষক ও শহুরে চাকুরেদের প্রবন্ধ

একটি ছোট্ট গল্প বলি, যেটাকে দৃষ্টান্তও বলা যায়। আমার এক বন্ধু এ গল্পটি বলে আমাকে অনেকদিন চন্দ্রাহত করে রেখেছিল। তার মতে, আমাদের দেশের কৃষকরা অধিকাংশই চরম বোকা, বলা যায় বোকার হদ্দ। তারা আয়ব্যয়ের হিসাব জানেন না। সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ৫০ হাজার টাকা একসাথে পেলে তারা খুশিতে আটকানা।
অথচ বীজ সার মুজুরি যন্ত্রপাতি কীটনাশক ইত্যাদি বাবদ বিভিন্ন কিস্তিতে হয়তো ৫০ হাজার টাকা বা তারও অধিক খরচ হয়ে গেছে। সেটা তারা কখনও যোগ করে দেখেন না। ফসল বিক্রিতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পেয়েই তারা আবার স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করেন আগামি বছরের জন্য। এভাবেই চলছে তাদের জমি ও ফসলকে নিয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জীবনচক্র। এথেকে ওঠে আসার কোন তাগিদ তাদের নেই, বরং একে তারা উপভোগ করছে। এটি পুরোটাই যেন আত্মিক বিষয় - কোন আর্থিক বিষয় এখানে নেই, নেই কোন লাভ-লোকসানের হিসাব। কী লাভ হলো মাঝখানে এই গাধার খাটুনি খেটে? আমার বন্ধুর এই প্রশ্নে আমি যোগ দেই, কী লাভ হলো?
এবিষয়টি নিয়ে এভাবে কখনও ভাবি নি, তাই মহাচিন্তিত আমি এবং উত্তেজিতও। হঠাৎ একদিন ‘আইনস্টাইনের হাতের আপেলের’ মতো আমি চমকে ওঠলাম। তাই তো! আমরা যারা শিক্ষিত জনতার কাতারে পড়ি, আমরাও তো একই রকম জীবনচক্রে আবদ্ধ হয়ে আছি। মাসে একগোছা পাঁচ’শ আর একহাজার টাকার নোট পেয়ে ভুলে যাই মাবাবা আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশী আর বন্ধুর কথা। ভুলে যাই পুকুর নদী মাঠঘাট আর জোৎস্নারাতের কথা। যেখান থেকে বেড়ে ওঠেছি বড় হয়েছি বৃদ্ধি পেয়েছি দেহে মনে আর আত্মায় - সেই গ্রামের কথা ভুলে যাই। ভুলে যাই বাড়িভাড়া গাড়িভাড়া গ্যাস বিদ্যুৎ পানি বিল আর দারোয়ানের বেতন বাবদ কত টাকা খরচ করেছিলাম। মাস শেষ হবার ঠিক এক সপ্তাহ পূর্বেই ওই একগোছা নোট শেষ হয়ে যায়। অগ্রীম বেতনে চালাই বাকি এক সপ্তাহ। তবু মনে মনে খুশি এজন্যে আমি শহরে আছি।
অবচেতনে অতিক্রম করে চলেছি পিতামাতা থেকে পাওয়া উত্তরাধীকারের জীবনটি। মাড়িয়ে চলেছি টিএস ইলিয়টের এই আধুনিক ওয়েস্ট ল্যান্ড, কিন্তু কিশোরকুমারে গানের মতো ‘চিতাতেই সব শেষ’।
হুমায়ুন আজাদের দর্শনমতো ‘সবকিছু নষ্ট’ হয়ে যাবে। কিং সলোমনের জীবনাভিজ্ঞতার মতো ‘সবকিছুই অসার’ আর ‘বাতাসের পেছনে দৌড়ানো’ - তবু দৌড়ে চলেছি। উদাসীন পথিকের মতো। অবশেষে মৃত্যু এসে সকলকে একাকার করে দিয়ে যায়।
চল্লিশ বা পঞ্চাশ অতিক্রম হবার পর অথবা বয়স যখন ষাট পেরিয়ে যায়, তখন দেখি শহরের মানুষ আর গ্রামের মানুষ সকলেই এক। পোশাকের ব্যতিক্রম আর ঘরের আসবাবপত্রের বৈচিত্র ছাড়া আর কোন উত্তম বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না শহুরে মানুষগুলোর জীবনে। তখন মনে পড়ে যায় সকল অপচয় আর নষ্ট জীবনের কথা। তখন যদি ‘কন্ট্রোল জেড’ দিয়ে তখন যদি আনডু করা যেতো! ভাল কাজ করার যখন কোন সামর্থ্য আর অবশিষ্ট থাকে না, তখন প্রচণ্ড ইচ্ছা জাগে স্বজাতির জন্য কিছু করার। তখন মাথা ঠুকে ঠুকে কপালে তিলক পরে গেলেও হতাশা রেখা মুছে যায় না।
এযাবত আমাদের দেশে ম্যাগসেসে এওয়ার্ড পেয়েছেন মোট ১১জন। তাদের প্রায় সকলেই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। যেমন: স্যার ফজলে হাসান আবেদ (১৯৮০), ড. মুহাম্মদ ইউনূস (১৯৮৪), জাফরুল্লাহ চৌধুরী (১৯৮৫), এঞ্জেলা গোমেজ (১৯৮৭), অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ (২০০৪), মতিউর রহমান (২০০৫), এএইচএম নোমান খান (২০১০) প্রমূখ। তারা সকলেই স্ব স্ব কর্ম দিয়ে আমাদের সমাজকে একটি উন্নততর অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্য ও কর্মদক্ষতাকে তারা সমাজের উন্নয়নে ব্যবহার করেছেন। পুরস্কার হলো তাদের এ কৃতীত্বের স্বীকৃতি।
অতি সম্প্রতি (২০১২) ম্যাগসেসে এওয়ার্ড পেয়েছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পরিবেশ সুরক্ষায় তার নিরলস কর্মকাণ্ডের জন্য। জাহাজভাঙ্গা শিল্পের বিস্তৃতির ফলে পরিবেশের ভয়ানক দূষণ রোধে রিজওয়ানার তার পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন’ বেলা’র মাধ্যমে কাজ করেছেন। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় শিশুশ্রম প্রতিরোধেও তিনি জোড়ালো ভূমিকা পালন করেছেন।
আমরা সকলেই কাজ করছি এবং করি। কাজ করেই আমাদের জীবনের সার্থকতা বিচার করি। কারও কাজের প্রকৃতিই এরকম যে, তা সমাজের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত; আবার কারও কাজ হয়ত সরাসরি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে না। এ উভয় ধরণের পেশাজীবী নিয়েই আমাদের সমাজ। মনে অনেক প্রশ্ন জাগে - শুধুই বিদ্ধ হই ভেতরে। শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
*আলো ব্লগে সারভার ক্রাশের কারণে লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো।
লেখক মাঈনউদ্দিন মইনুল
- মাঈনউদ্দিন মইনুল -এর ব্লগ
- ৬০ টি মন্তব্য
- ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৯
- প্রবন্ধ
- গড় রেটিং: ১০
প্রিন্ট করুন
- ৬০ টি মন্তব্য
-
লুৎফুন নাহার জেসমিন০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৬
আমরা সকলেই কাজ করছি এবং করি। কাজ করেই আমাদের জীবনের সার্থকতা বিচার করি। কারও কাজের প্রকৃতিই এরকম যে, তা সমাজের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত; আবার কারও কাজ হয়ত সরাসরি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে না। এ উভয় ধরণের পেশাজীবী নিয়েই আমাদের সমাজ। মনে অনেক প্রশ্ন জাগে - শুধুই বিদ্ধ হই ভেতরে। শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম! ---------- এভাবে কি সবাই ভাববে ? না বোধহয় । -
লুৎফুন নাহার জেসমিন০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৩
সততা সবসময়ই সর্বোৎকৃষ্ঠ পন্থা। -- এটাই হওয়া উচিত । আমি ভালো কিছু করতে চাই এই বোধ আমার ভিতর যতক্ষণ কাজ করবে ততক্ষণ সমাজের জন্য ভালো কিছু না করতে পারলেও আমার দ্বারা সমাজের অপকার হবে না এটা নিশ্চিত ।
আর তাই সৎ হওয়া জরুরী । শুভেচ্ছা নিবেন । -
মুক্তমন৭৫০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৯
সামর্থ্য থাকার পরেও আমরা অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার চেষ্টা করে থাকি, আমরা এমনি। সমাজের জন্য করার মানুষের খুব অভাব, খুব ই অভাব। সামান্য এই ছোট্ট শিশু রুশানের অসুস্থতার ব্যাপারেই এই ব্লগের ব্লগারদের কথা একবার ভেবে দেখুন। তাহলেই অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। শুধুই লেখালেখি করেই অনেকে এখানে সমাজপতি হয়ে যেতে চান, কিন্তু কামের বেলায় ঠকঠকা আর কি---
আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। ভালো থাকবেন। -
নীল সাধু০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:০১
পোষ্টটি নির্বাচিত তালিকায় রাখতে সঞ্চালক বরাবর অনুরোধ রইলো।
পোষ্টটি বেশ সুন্দরভাবে শুরু করেছেন।
ভাবনার নানা দিকের দেখা মিলেছে। সকল কথাই সত্য বলেছেন।
নানা মুল্যবান কথার পর সবশেষে সমাধান দিয়েছেন।
একটি পুর্নাংগ পোষ্ট।
আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
আশা করি এই বক্তব্য আমরা সবাই আমাদের কার্যকর্মে প্রমানে সচেষ্ট হব।
সবশেষে ম্যাগসেসে এওয়ার্ড প্রাপ্ত সকলের জন্য শ্রদ্ধা।
আপনার জন্য ভালবাসা রইলো
-
কাছের মানুষ ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:০৪
শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
সত্যিই তাই। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ নিজের সামথ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দারানো, সমাজের জন্য কিছু করা সেটা ক্ষুদ্র পরিসরে হলে ও ক্ষতি নেই । সুন্দর চেতনা সবার মাঝে ছরিয়ে পরুক।
যাক ব্লগ ক্রাশ করায় সুন্দর একটা পোষ্ট পড়লাম মইনুল ভাই। -
শাহিদুল হক০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:১০
আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
পুনরায় সেই সুন্দর আহ্বানটাকে সকলের সামনে নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ আর শুভকামনা রইল।
-
মেঘনীল০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:১১
শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
চমৎকার নিদারুন সত্যগুলো তুলে ধরেছেন মইনুল ভাই। -
আশরাফুল কবীর০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:২৪
*আলো ব্লগে সারভার ক্রাশের কারণে লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হলো।
#প্রথমেই বলি ক্র্যাশ হয়ে কিছুটা হলেও এখন উপশম হয়েছে কারন দারুন লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে আবারো,শুভেচ্ছা আপনাকে মাঈনউদ্দীন মইনুল ভাই....দারুন পোস্টটির জন্য ভালবাসা

ফসল বিক্রিতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পেয়েই তারা আবার স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করেন আগামি বছরের জন্য। এভাবেই চলছে তাদের জমি ও ফসলকে নিয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জীবনচক্র।
#একদম সত্যি বলেছেন..চলছে এ সাইকল জন্মজন্মান্তরে...কোন পরিবর্তন নেই..তাদের একটু বোকা হয়ে থাকা শহুরে খাঁচায় আটকে থাকা মানুষগুলোর বেঁচে থাকার ভরসা

আমরা সকলেই কাজ করছি এবং করি। কাজ করেই আমাদের জীবনের সার্থকতা বিচার করি। কারও কাজের প্রকৃতিই এরকম যে, তা সমাজের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত; আবার কারও কাজ হয়ত সরাসরি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে না। এ উভয় ধরণের পেশাজীবী নিয়েই আমাদের সমাজ। মনে অনেক প্রশ্ন জাগে - শুধুই বিদ্ধ হই ভেতরে।
#অনেক ভাল লাগলো লেখাটি....রিচ প্রবন্ধটির জন্য আবারো শুভেচ্ছা, ভাল থাকুন ব্লগ রত্ন

#সঞ্চালকের দৃষ্টি আকর্ষন করছি
-
মাটিরময়না০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:২৫
শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
আচ্ছা প্রিয় মইনুল ভাই-- কি শুরু করলেন -- কয়েক দিন পর পর একটা পোস্ট দিচ্ছেন আর আমার প্রিয়তে সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
সুন্দর উপস্থাপনা কাকে বলে শিখলাম আবারো। -
মাটিরময়না০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:২১
আমি আছি এক রকম--
শুধু সকাল থেকে ট্রন্সিলের ব্যাথা-- হা করা মুশকিল হয়ে দাড়িয়েছে--
আপনি কেমন আছেন?? আপনার পোস্ট পড়ে অনেক কিছু শিখতে পারি তাই অপেক্ষায় থাকি জানার জন্য, শিখার জন্য। -
ভূতের আছড় ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:২৭
আসালাম আলাইকুম
সু প্রিয় মইনুল ভাই --আমি ভালো লিখতে পারিনা কিন্তু ভালো লেখা চিনতে ভুল করিনা । ব্লগে এরকম সমৃদ্ধ লেখা খুব একটা দেখেছি বলে মনে হয়না। আপনার লেখায় প্রকাশ পেয়েছে উচ্চ স্তরের সৃজনশীলতা। কখনো চলে গেছেন সেই মাটির কাছে বাংলার প্রান কৃষকের কাছে। কখনো বা শহুরে বানোয়াট আধুনিক জীবনের কাছে। এবং মৃত্যুই যে মুক্তি সেটাও অকপেটে বলে দিয়েছেন। আসলেই জীবন আমাদের একটি চাকার মত শুধু একই কেন্দ্রে উপর উঠা বার নিচে নাম । কিন্তু কেন্দ্র একটাই। শহর আর গ্রামের অসাধারণ সমন্বয় , আমি মুগ্ধ।
আপনি বলেছেন পুরুস্কারের কথা । যদিও এই একটা বিষয় আমার এলার্জি আছে। তাই এতো সুন্দর পোষ্টে এটা আলোচনা করবো না।
শেষের দিকে তো মূল কথাটি বলে দিয়েছেন--- আসলে এওয়ার্ডের জন্য কাজ যারা করে তারা অমর হয়না । যারা মানূষের কল্যাণের জন্য কাজ করে তারাই অমর হয়। কারন মানুষ পুরুস্কারে বেচে থাকেনা । বেচে থাকে মানূষের অন্তরে। যে ভাবে আছেন অনেক মহামানবরা।
আন্তরিক ধন্যবাদ এতো সুন্দর পোস্টের জন্য। -
ছাইফুল হুদা ছিদ্দীকি০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:৩৪
"তার মতে, আমাদের দেশের কৃষকরা অধিকাংশই চরম বোকা, বলা যায় বোকার হদ্দ।
তারা আয়ব্যয়ের হিসাব জানেন না।
সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ৫০ হাজার টাকা একসাথে পেলে তারা খুশিতে আটকানা।"
একজন চাষী বা খামারী জমিন এ কাজ করার পর শারীরিক যেই অজঁন করে ,
তা কিন্তু আপনার বন্ধু কোথাও পাবেনা এমনকি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ।
সব মিলে ভালো লাগলো। -
শ্যামল নওশাদ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:৩৮
আমরা শুধু ভীষণ একঘেয়ে জীবন চক্রে আবদ্ধ নই বরং নষ্ট কুমড়ার মতো একটা সমাজের নানা অভিঘাতে বিক্ষত। এমনিতে অজ্ঞানতার ঘোরে সৃজ্যমান বিপত্তিগুলে আমা্দের লক্ষ্য স্থির করতে দেয়না, আর যারা তা করতে পারে তারাও পশ্চাদপদতা ও যুথবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে থাকে।
আপনার পোস্টটি ক্রম ঘনায়মান অন্ধকারের মাঝে জ্যোতিরময় হয়ে থাকল। ভালবাসা জানবেন।

















-
মোতাসিম০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ০০:২৮
অবস্যই পারি । উদ্দেশ্য মহৎ হলে পথ যতই বন্ধুর হোক না কেন , বাহ্যিক পুরস্কার না মিললেও আত্মা পরিতৃপ্ত হতে বাধ্য ।আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে । -
ফেরদৌসা০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ০১:৩৮
আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
অবশ্যই পারি। আমাদের মানসিকতা আরও বড় করতে হবে।
খুব মূল্যবান কিছু কথা বলেছেন। আগেও পড়েছিলাম ।
আমাদেরও ইচ্ছা আছে বেঁচে থাকলে বুড়ো বয়সে গেরামে যামুগা
-
মেজদা০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৪:১৪
ভাল কাজের ইচ্ছা করলে অনেক ভাল কাজ হয়ে যায়।
অন্যকে অনুপ্রাণিত হয়
তাতে অনেক কাজ হয়।
ধন্যবাদ মইনুল ভাই


-
মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৭
আমেরিকান নাট্যকার Edward Albee রচিত মাত্র চার-পাঁচ পৃষ্ঠার The Zoo Story নাটকে Jerry এখন আর আমেরিকায় নেই । সে এখন বাংলাদেশের শহুরে মানুষগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে। Jerry শহরে পার্কে তথাকথিত বইপাঠক Peter এর কাছে গিয়েছিল দুটি কথা বলার জন্য । কিন্তু পারেনি। কারণ এ শহরে পাঠকটির চারপাশে এক ধরনের লোহার অদৃশ্য খাঁচা আছে যার জন্যে অন্যের সাথে সুখ-দু:খ আদান প্রদানে করতে পারে না।
আজ আমরা সবাই সেই চিড়িয়া খানার শিক্ষিত প্রাণীগুলো ছাড়া আর কিছই নই। এখানে পাশাপাশি ফ্লাটে থাকি অথচ দেখলে মুখ ভরা কৃত্রিম একটি হাসি দিয়ে বলি, “ভালো আছেন?” অপর দিন থেকে কোন সময় জবাব পেলেন হয়তোবা পেলেনই না। এতে অবশ্য আমরা কেউ কিছু মনে করিনা কারণ আমি চাই দ্রুত তিনি চোখের আড়াল হয়ে যান। পাশের ফ্লাটে বিপদের চিহ্ন আঁচ করতে পারলে দরজার খিলটা ভালো করে লাগিয়ে দিই। দরজার খিলটা যথাসময়ে লাগিয়ে স্বস্থি “যাক বাবা বাঁচা গেল!” এ হলো আমাদের জীবন।
বেশ তো কেটে যাচ্ছে যান্ত্রিক জীবন।
শ্রদ্ধা জানবেন। -
আহমেদ রব্বানী০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:১৮
আপনার লেখা পড়ে জানার আছে অনেক কিছু মইনুল ভাই।তাই একদিন পরে হলেও সমস্যা নেই। -
সাফ-কথা০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ০৫:১৮
পড়লাম মন্তব্যসমেত। অধিকাংশ মন্তব্যই ইতিবাচক। এটই প্রমাণ করে যে - ভালো কথা , ভালো কাজের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের মৌন সমর্থন হলেও পওয়া যায়। নি:স্বার্থ, ভালো কাজের সমঝদার হয়েও মানুষ কেন যে ভালো কাজে নিজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে চায় না তা নিয়ে নিশ্চয়ই ইউরোপ/ আমেরিকার কোথাও না কোথাও কিছু গবেষণা হয়েছে। আমরা তো আর পাশ্চাত্য গবেষণার একনিষষ্ঠ ভোক্তামাত্র।
একটা শিশুকে যদি কোন এক জনমানবহীন দ্বীপে, কোন এক অলৌকিক পন্থায়, সম্পূর্ণ একাকী ,বেড়ে উঠতে দেয়া হয় , তাহলে সে কি আমাদের অধিকাংশের মতো , আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর, আত্মঅহংকারী ইত্যাদি যতসব ‘‘আত্মদোষ’ আছে সেগুলো নিয়ে বেড়ে উঠবে? আমার এই অদ্ভূত প্রশ্নের মাজেজা হচ্ছে এটা যে - মানুষের ‘একনিষ্ঠ স্বার্পরতার’ পেছনে সমাজ কতখানি দায়ী? -
সাফ-কথা০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ০৫:৪১
একটা শিশু যখন বেড়ে ওঠে তার চারপাশে - হাটে-মাঠে-ঘাটে-বাটে -‘জীবনে টাকাই সব’ শুনতে শুনতে , তারপর বড় হবার পর সে যখন যেনতেন করে টাকা কামানোর ধান্ধায় অন্ধ হয়ে চক্কর দিতে থাকে তখন তাকে আমরা তার অমানবিকতা স্বার্থপরতার জন্য কতখানি দায়ী করতে পারি? এখানে সমাজের দায়ই বা কতটুকু?
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা যখন নিজদল ক্ষমতায় থাকাকালীন চাঁদাবাজি/ টেন্ডারবাজি/ ভর্তিবজি/ লাইসেন্সবিাজি ইত্যাদিতে বাজিমাত করে রাতরাতি পয়সাওয়ালা হয়ে যায় তখন আমরা বন্ধুবান্ধবরা/ আত্মীয়স্বজনরা/ পাড়াপড়শীরা কি তার ঝকমকে স্যুট আর চকচকে গাড়ির দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি না ! কেউ কেউ লম্বা দীর্ঘসশ্বাস ফেলি ! আমরা কি মুগ্ধ নয়নে দুই-কান-বিস্তৃত হাসিতে সেই নব্য পয়সাওয়ালা ‘ভাইয়ের’ সাফল্যের স্বীকৃতি দেইনা? তৃপ্তি, ঈর্ষা‘র মিশেলে আমরা কি বলি না ‘‘পাঁচ বছরে লালু-ভাই-তো-লালে-লাল হয়ে গেছে ! ‘ বা ‘মিঠ্রু ভাই উইঠ্রা গেছে ‘ বা ‘মালু ভাই তো মাল বানাই ফেলছে! ‘’ তার তিন জেনারেশনের আর কিছু করবার লাগবনা -টেং এর উপর টেং তুইল্যা খাইবার পারব !!!! -
উননুর০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:৪৩
কিছুটা হতাশ হলাম জনাব মাঈনউদ্দিন মইনুল। তবে আপনার লেখার উৎকর্ষের ব্যাপারে নয়। আমি মনে করেছিলাম কৃষকের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য আদ্যোপান্ত লেখা। ধারনা করতে পারেন আমেরিকা বাংলাদেশের ৫০ গুন বড়, লোক সংখ্যা ৩০ কোটি, আর আমাদের ১৬ কোটি। এত টুকু ছোট দেশের কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলিয়ে খাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। পশ্চাত্যের কৃষি বিজ্ঞ্যানীদের কাছে তা এক অপার বিস্ময়। আপনার অনুভব সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এই কামনা করি। -
এম ই জাভেদ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৫
সারভার ক্রাশ করার উপকারিতা এই প্রথম টের পেলাম। নয় তো এ রকম দারুন এক লেখা পড়ার সৌভাগ্য বঞ্চিত থাকতে হত হয়ত। প্রিয় তে নিলাম। সমাজের সকলের শুভ বোধ জাগ্রত হোক - এই আশাবাদ থাকল । আপনাকে বিনীত ধন্যবাদ । -
মো : নুর আলম০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০০
আমরা সকলেই কাজ করছি এবং করি। কাজ করেই আমাদের জীবনের সার্থকতা বিচার করি। কারও কাজের প্রকৃতিই এরকম যে, তা সমাজের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত; আবার কারও কাজ হয়ত সরাসরি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে না। এ উভয় ধরণের পেশাজীবী নিয়েই আমাদের সমাজ। মনে অনেক প্রশ্ন জাগে - শুধুই বিদ্ধ হই ভেতরে। শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
ভাবনা গুলো ইতিবাচক, আমরা সবাই নিজের অবস্থান থেকে সমাজের জন্য কিছু করতে পারি,
বিশাল অবদান রাখতে হবে যে তা না,ছোট ছোট অবদান ও একটি সমাজ কে বদলে দিতে পারে ।
নিজের ভাবনা নিয়েই আমরা ব্যস্ত , নিজেকে নিয়ে ভাবাটা দোষের কিছু না ,কিন্তু নিজের ভাবানার ফাকে বিপদ গামীদের নিয়েও একটু ভাবি ,সমাজকে নিয়েও একটু ভাবি ।
আর কতকাল নিজের আত্মাকে শয়ন ঘরে রাখবো ? এখনও কি জাগানোর সময় আসেনি ??????

-
কামাল উদ্দিন১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১১:১৮
আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!
.......পারি, এজন্য শুধু আমাদের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট । -
ঘাস ফুল০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ০৯:১২
অনেক দিন পর আপনার এই লেখাটি পড়ছি। হয়তোবা আপনার চোখে পরবেওনা আমার এই মন্তব্যটা। তারপরেও কিছু বলে যাচ্ছি। অনেক ভালো লেগেছে আপনার এই প্রবন্ধটি। খুবই চমৎকার একটা বিষয় আপনি তুলে ধরেছেশু। আমি এর সাথে কিছু যোগ করে বলতে চাই, ভালো কাজের জন্য কোন বয়সের প্রয়োজন পরে না। সময়ে আপনার যা করার দরকার ছিল, তা যদি আপনি না করে থাকেন, অসময়ে যদি তা করার অন্তত চেষ্টা করেন, তবু নিজেকে কিছুটা বোঝাতে পারবেন। না হলে যে আপনি পুরোটাই অপরাধী থেকে গেলেন। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালোর মতো। আমরা যার যার কাজটা যদি দায়িত্ব সহকারে সৎ ভাবে করে যাই, তাহলে কিন্তু যারা আজ ম্যাগসেসে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাদের আর আলাদা করে দরকার পরত না। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে, আমারা নিজ নিজ কাজটা ঠিকভাবে করছিনা। আর তাই আমাদের সমাজে স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এঞ্জেলা গোমেজ, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, মতিউর রহমান, এএইচএম নোমান খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমূখ খ্যাতনামা লোকদের দরকার হচ্ছে বা তাদের আবির্ভাব হচ্ছে। -
ঘাস ফুল২২ মে ২০১৩, ২১:২২
যাক অনেকদিন পরে হলেও আমার এই মন্তব্যটা আপনার চোখে পড়েছে। আপনার আন্তরিক প্রতিমন্তব্যে আমিও কৃতজ্ঞ মইনুল ভাই। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানবেন। আর এমন সব আরও পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক