শনিবার ২৫ মে ২০১৩, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


আসুন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদারের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী গীটার শিখি (ধারাবাহিক ভাবে)

গিটারের ছয় তারে নানা সুরের রঙ। ছয়টি তারে জড়িয়ে থাকে গানপাগলের ভালোবাসা। গিটারে সুর তুলে যারা নিজেদের স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ান, তাদেরই একজন বাপ্পা মজুমদার। যেসব নবীনের মধ্যে গিটার শেখার আগ্রহ আছে, তাদের জন্য দলছুট ব্যান্ডের এই সঙ্গীতশিল্পী নন্দনে ধারাবাহিকভাবে লিখবেন 'গিটারের ক্লাস'। আজ রইল নিয়মিত এই আয়োজনের প্রথম কিস্তি জ্ঞান অর্জনের কোন বয়সসীমা নেই, তেমনি গিটার বাজানোর জন্য কোনো বয়সসীমার দরকার হয় না। তবে অল্প বয়স থেকে নিয়মিত মনোযোগ দিয়ে শেখা শুরু করলে অনেক কিছুই আয়ত্ত্বে আনা যায়। তাই যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায় তত বেশি শেখা যায়। ছোটবেলায় শুরু করলে একটি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখতে হবে, গিটারটি যাতে দেহের তুলনায় বড় না হয়ে যায়। সুন্দরভাবে ধরে বাজাতে সক্ষম হবেন এমন একটি গিটার বেছে নিতে হবে। অনেকেই আছেন যারা খুব ছোটবেলা থেকে গিটার শিখছেন। কিন্তু এখনও হয়তো ভালো বাজাতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, হয়তো তিনি ভুল শিখছেন নয়তো তার শেখার প্রতি একাগ্রতা নেই। কোনো কাজকে যদি আমি কঠিন মনে করি তাহলে তা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। আর যদি তা সহজভাবে গ্রহণ করি তা এমনিতেই সহজ মনে হবে। কঠিন বলে কিছুই নেই, আবার গিটার শেখা খুব সহজও নয়। গিটার শেখার জন্য চাই একাগ্রতা, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম। যদি এই গুণগুলো থাকে তাহলেই গিটার শেখা খুব সহজ হয়ে যাবে। তবে অন্য বাদ্যযন্ত্রের থেকে গিটার বাজানো একটু কঠিন। গিটারে নিয়মিত চর্চার কোনো বিকল্প নেই। সামগ্রিকভাবেই সঙ্গীত হচ্ছে চর্চা ও ভক্তির বিষয়। যা শিখছেন তা নিয়মিত চর্চা করতে হবে। না হয় ভুলে যাবেন কিংবা সুর মেলাতে পারবেন না। ১৯৮৯ সালের ঘটনা। আমার বন্ধু সুমন আমাকে একটি ইকো গিটার উপহার দিয়েছিল। ওর বাসায় এই অ্যাকুস্টিক ইকো গিটার ছিল। যদিও এর আগ থেকেই দাদার [পার্থ মজুমদার] গিটার দিয়েই গান-বাজনা করতাম। আমি তখন খুব ছোট। বেশি হলে বয়স পাঁচ-ছয় বছর হবে। দাদা বেশ ভালো গিটার বাজাতে পারেন। দাদার গিটারের শব্দে মুখরিত হয়ে থাকত সারাঘর। সেই থেকেই গিটারের প্রতি আমার নেশা জন্মে। দাদা যখন গিটার বাজাতেন তখন দূর থেকে দাঁড়িয়ে সেই গিটারের শব্দ শুনতাম। দাদা বাসায় না থাকলে তার গিটার নিয়ে নিজেই বাজানোর চেষ্টা করতাম। একদিন তিনি দেখে ফেলেন। তারপর থেকে দাদা প্রায়ই আমাকে তার সামনে বসিয়ে গিটার বাজাতেন, একটু একটু করে গিটারের বিভিন্ন তাল শেখাতেন। দাদার কাছেই গিটারে আমার হাতেখড়ি। এরপর প্রায় তিন-চার মাস গিটারের তালিম নিয়েছিলাম নিলয় দা'র [প্রয়াত নিলয় দাশ] কাছে। গিটারের ছয়টি তারে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ছয়টি সুর। গিটারের প্রতিটি ফ্রেডেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নোট। এসব নোট ও তারের সমন্বয় করে সুর তোলা অনেক কষ্টের। এ ছাড়া গিটার বাজানোর জন্য দু'হাতকেই সক্রিয় রাখতে হয়। তবে দু'হাতের কার্যক্রম থাকে ভিন্ন। সব মিলিয়ে কিছুটা কষ্ট তো করতেই হবে। বাংলাদেশের যেসব মিউজিক স্কুল রয়েছে তা সম্পর্কে কোন কথা না বলাই ভালো। কারণ অনেক মিউজিক স্কুলেই ভুল শেখানো হচ্ছে। আবার অনেকে এসব স্কুলে শিক্ষা নিয়ে সঠিক ধাপে এগোতে পারছেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার আগে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে যারা পেশাদারমূলক গান-বাজনা করছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। গিটার কেনার সময় অনেকগুলো দিক মাথায় রাখতে হবে। যদি ভালো গিটার না হয়, তাহলে সঠিক সুর পাওয়া যাবে না। প্রথমেই দেখতে হবে গিটারটি নিখুঁত কিংবা ভালো আছে কি-না। আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন গিটার নেওয়া যাবে না। তারপরে দেখতে হবে নেকটা [সোজা অংশটা] সোজা কিংবা প্রতিটি ফ্রেড ঠিক আছে কি-না। সবকিছু ঠিকমতো দেখেই একটি গিটার কিনতে হবে। গিটার সম্পর্কে না বুঝে কেনা উচিৎ নয়। এ ক্ষেত্রেও একজন অভিজ্ঞ লোকের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। আগামী সপ্তাহে গিটার নিয়ে আরও আলোচনা করব।

বি:দ্র: ধারাবাহিকভাবে সমকাল পত্রিকায় প্রতি সপ্তাহে গীটার শিক্ষণ বিষয়ক ফিচারগুলো প্রকাশিত হয়েছে। সেসকল ফিচারগুলো একটি পাতায় আপনাদের জন্য জড়ো করা হয়েছে। সবগুলো ফিচার একসাথে দেখতে এখানে ক্লিক করতে পারেন । পরবর্তীতে এ বিষয়ে নতুন কোনো ফিচার প্রকাশিত হলে পাতাটি আপডেট করা হবে। তাই সাথেই থাকুন।
৪ টি মন্তব্য
shuvocu শুভ৬৯২২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৪:১৭
ধন্যবাদ, পোস্টটি অনেক কাজে লাগবে
neelsadhu নীল সাধু২২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৬:৫৩
ধন্যবাদ।
পোস্টটি অনেকেরই কাজে লাগবে আশা করছি।
sopnerdin45 অরিত্র অন্বয়২২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:০০
কাজের পোস্ট।
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানবেন।
শুভকামনা।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৩
অনেকের কাজে আসবে।
শুভেচ্ছা আপনাকে।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment