রাকিবের একদিন
রাকিবের আব্বু রাকিবকে বকেছে । তাই ওর মনটা সকাল থেকে খুব খারাপ । বকবেই বা না কেন ? সামনে পরীক্ষা । কিন্তু পড়ালেখায় একদম মন নেই রাকিবের । সব সময় শুধু খেলা । রাকিব মনে মনে ঠিক করেছে । ওর বাবাকে একটা শিক্ষা দিবে । বাড়ী থেকে পালাবে । তাহলে বুঝবে মজা । অথচ বাড়ীর সবার ছোট বলে সবাই কত ভালবাসে ওকে । সেদিকে রাকিবের খেয়াল নেই । একদিন বকেছে তাতেই অভিমান হয়েছে । পড়ালেখা না করলে একটু তো বকা দিবেনই গুরুজনেরা । কিন্তু যে ভাবা সেই কাজ । একটু পরেই সবার চোখের আড়ালে রাকিব বাড়ী থেকে পালিয়ে যায় । গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটতে থাকে । যেতে যেতে অনেক দূর চলে যায় । এক সময়, ক্লান্ত হয়ে বসে পরে একটি গাছে ছায়ায় । পানি পিপাসাও পেয়েছে প্রচুর । কি করবে ঠিক ভেবে পাচ্ছে না । হঠাৎ একটি লোক পাশ দিয়ে যাবার সময় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,
- তোমার নাম কি বাবা ? তোমার বাড়ী কোথায় ? কোথায় যাবে ?
- আমার নাম রাকিব । ঐ দিকে একটা গ্রামে থাকি । আমার বন্ধুর বাড়ীতে যাব ।
- তোমাকে দেখে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে । আমার বাড়ীতে চল । তবে তেমন কিছু খেতে দিতে পারবো না । আমি খুব গরীব মানুষ ।
রাকিব মনে মনে ভাবে ছিঃ এই লোকটা কত গরীব । এর বাড়ীতে কিছুতেই খাওয়া যাবে না ।
- কি ভাবছো বাবা ? চল ।
- না আমার ক্ষিদে নেই ।
লোকটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায় । রাকিব আবার হাঁটা শুরু করে । কিন্তু হাঁটতে পারে না । প্রচন্ড ক্ষুধায় কাতর । ও তো কোন দিন না খেয়ে থাকেনি । আজ বুঝতে পারছে ক্ষুধার জ্বালা কাকে বলে । রাকিব মনে মনে ভাবছে, লোকটির সাথে গেলেই ভালো হতো । যেই ভাবা সেই কাজ । আবার এসে সেই গাছটির নীচে এসে বসল । লোকটির সাথে আবার দেখা হবে সেই আশায় চেয়ে থাকে । অনেক সময় বসে থেকে লোকটির দেখা না পেয়ে ঘুমিয়ে পরে রাকিব । হঠাৎ ঘুমের ঘোরে শুনতে পায় কে যেনো ওর নাম ধরে ডাকছে । তাকিয়ে লোকটিকে দেখতে পায় । লোকটি ওকে উনার বাড়ীতে নিয়ে যেতে চাইলে ও বিনা বাক্যে রাজি হয়ে যায় । লোকটি বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে উনার ছেলে এবং স্ত্রী সাথে পরিচয় করিয়ে দেন । লোকটির ছেলের নাম শামিম । শামিম রাকিবের মত একই ক্লাসে পড়ে । আরও জানতে পারে শামিমের পড়ালেখার খরচ ওর বাবা খুব কষ্টে জোগাড় করেন । মাঝে মাঝে বই খাতা কিনে দিতে পারেন না । তবুও শামিম ক্লাসে প্রথম হয় । শামিমের মা খুব আদর করে রাকিবকে খেতে দেন । রাকিবের তখন গরীবের বাড়িতে থেতে ঘৃণা করে না । শামিমের বাবা রাকিবের সব কথা আস্তে আস্তে জানতে পারেন । কি কারণে বাড়ী থেকে পালিয়েছে । শামিমের বাবা বলেন চিন্তা না করতে । উনিই রাকিবকে বাড়ী পৌছে দিবেন । কিছু সময়ের মধ্যে রাকিবের সাথে শামিমের খুব ভাব হয়ে যায় । শামিমের বাবা রাকিবকে বাড়ী পৌছে দেবার সময় শামিমও বায়না ধরে সাথে যাবে । রাকিবও দারূণ খুশি হয় । শামিমের বাবা দু’জনকে ছাইকেলে চড়িয়ে রাকিবের বাড়ী এসে পৌছেন ।
বাড়ীতে এসে রাকিব দেখে ওকে খুঁজতে খুঁজতে সবাই হয়রান । রাকিবকে জড়িয়ে ধরে ওর বাবা-মার সে কি কান্না । রাকিব আজ বুঝতে পেরেছে ওর বাবা-মা ওকে কত ভালবাসেন । বুঝতে পেরেছে ওর পড়ালেখা করতে হবে । বুঝতে পেরেছে গরীবদেরকে ঘৃণা করতে নেই । বুঝতে পেরেছে ক্ষুধা পেলে কেমন লাগে । ওর বাবাকে শিক্ষা দিতে গিয়ে রাকিব নিজেই ভালো শিক্ষা পেয়ে এসেছে ।
বিঃ দ্রঃ এটা আমার হারিয়ে যাওয়া পোস্টের একটি ।
- তোমার নাম কি বাবা ? তোমার বাড়ী কোথায় ? কোথায় যাবে ?
- আমার নাম রাকিব । ঐ দিকে একটা গ্রামে থাকি । আমার বন্ধুর বাড়ীতে যাব ।
- তোমাকে দেখে খুব ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে । আমার বাড়ীতে চল । তবে তেমন কিছু খেতে দিতে পারবো না । আমি খুব গরীব মানুষ ।
রাকিব মনে মনে ভাবে ছিঃ এই লোকটা কত গরীব । এর বাড়ীতে কিছুতেই খাওয়া যাবে না ।
- কি ভাবছো বাবা ? চল ।
- না আমার ক্ষিদে নেই ।
লোকটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায় । রাকিব আবার হাঁটা শুরু করে । কিন্তু হাঁটতে পারে না । প্রচন্ড ক্ষুধায় কাতর । ও তো কোন দিন না খেয়ে থাকেনি । আজ বুঝতে পারছে ক্ষুধার জ্বালা কাকে বলে । রাকিব মনে মনে ভাবছে, লোকটির সাথে গেলেই ভালো হতো । যেই ভাবা সেই কাজ । আবার এসে সেই গাছটির নীচে এসে বসল । লোকটির সাথে আবার দেখা হবে সেই আশায় চেয়ে থাকে । অনেক সময় বসে থেকে লোকটির দেখা না পেয়ে ঘুমিয়ে পরে রাকিব । হঠাৎ ঘুমের ঘোরে শুনতে পায় কে যেনো ওর নাম ধরে ডাকছে । তাকিয়ে লোকটিকে দেখতে পায় । লোকটি ওকে উনার বাড়ীতে নিয়ে যেতে চাইলে ও বিনা বাক্যে রাজি হয়ে যায় । লোকটি বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে উনার ছেলে এবং স্ত্রী সাথে পরিচয় করিয়ে দেন । লোকটির ছেলের নাম শামিম । শামিম রাকিবের মত একই ক্লাসে পড়ে । আরও জানতে পারে শামিমের পড়ালেখার খরচ ওর বাবা খুব কষ্টে জোগাড় করেন । মাঝে মাঝে বই খাতা কিনে দিতে পারেন না । তবুও শামিম ক্লাসে প্রথম হয় । শামিমের মা খুব আদর করে রাকিবকে খেতে দেন । রাকিবের তখন গরীবের বাড়িতে থেতে ঘৃণা করে না । শামিমের বাবা রাকিবের সব কথা আস্তে আস্তে জানতে পারেন । কি কারণে বাড়ী থেকে পালিয়েছে । শামিমের বাবা বলেন চিন্তা না করতে । উনিই রাকিবকে বাড়ী পৌছে দিবেন । কিছু সময়ের মধ্যে রাকিবের সাথে শামিমের খুব ভাব হয়ে যায় । শামিমের বাবা রাকিবকে বাড়ী পৌছে দেবার সময় শামিমও বায়না ধরে সাথে যাবে । রাকিবও দারূণ খুশি হয় । শামিমের বাবা দু’জনকে ছাইকেলে চড়িয়ে রাকিবের বাড়ী এসে পৌছেন ।
বাড়ীতে এসে রাকিব দেখে ওকে খুঁজতে খুঁজতে সবাই হয়রান । রাকিবকে জড়িয়ে ধরে ওর বাবা-মার সে কি কান্না । রাকিব আজ বুঝতে পেরেছে ওর বাবা-মা ওকে কত ভালবাসেন । বুঝতে পেরেছে ওর পড়ালেখা করতে হবে । বুঝতে পেরেছে গরীবদেরকে ঘৃণা করতে নেই । বুঝতে পেরেছে ক্ষুধা পেলে কেমন লাগে । ওর বাবাকে শিক্ষা দিতে গিয়ে রাকিব নিজেই ভালো শিক্ষা পেয়ে এসেছে ।
বিঃ দ্রঃ এটা আমার হারিয়ে যাওয়া পোস্টের একটি ।
লেখক মোঃ হাসান জাহিদ
- মোঃ হাসান জাহিদ -এর ব্লগ
- ১৫ টি মন্তব্য
- ১৫ নভেম্বর ২০১২, ২২:২৬
- কিশোরসাহিত্য
প্রিন্ট করুন
- ১৫ টি মন্তব্য
-
রব্বানী চৌধুরী১৫ নভেম্বর ২০১২, ২২:৩৫
প্রতি বৃহস্পতিবার শিশু কিশোরদের নিয়ে লেখার দিন এই কথা মনে রেখে পোষ্ট দিয়েছেন - অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয় জাহিদ।
পোষ্টটি যদিও আগের পড়া তবুও আজ বৃহস্পতিবার তাই পোষ্টের লেখাগুলিকে খুব কাছের মনে হচ্ছে। শুভেচ্ছা রইলো, ভালো থাকবেন। -
লুৎফুন নাহার জেসমিন১৫ নভেম্বর ২০১২, ২৩:১৩
গল্পটি আগে পড়া হয়নি । চমৎকার ভাবে আপনি দেখাতে চেয়েছেন ছোটদের কিভাবে বড় হতে হবে ।
শুভেচছা রইলো । -
মাটিরময়না১৫ নভেম্বর ২০১২, ২৩:৪৪
জাহিদ ভাই তখন গল্পটা পড়া হয়নি। এখন পড়লাম। এবং এক নিমিশে শেষ করে ফেললাম। এখন বুঝতে পারছি আমি কি মিস করেছিলাম।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা থিম দেবার জন্য গল্পের মধ্য দিয়ে।
নিরন্তর শুভ কামনা। -
রশীদ জামীল১৬ নভেম্বর ২০১২, ০০:৩৬
হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আনন্দই আলাদা।
আপনার এই লেখাটি হারিয়ে গেলেও সংরক্ষণে ছিলো আপনার তাই আবার দিতে পেরেছেন।
এখান থেকে, মানে আলোর এই সার্ভার সমস্যা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া দরকার। যেনো নিজের কাছেও থাকে।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক