বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৩, ৬ আষাঢ়, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


আমার কিছু এলেবেলে কবিতা

"দ্বিধা"

মনের ভেতরে এসে যখন উড় বার্তা চলে যায়,
তখন পড়ে থাকে কিছু মুখস্থ কথা-
হিব্রু, আরাবিয়ান, আর চলমান সময়ের-
লাল বাবু, ক্রুসিয়ান, সুরাইয়াদের হাড়ী ভাঙ্গা দর্শন।

আমি কে? কোথায় যাবো? কেন এসেছি এখানে?
এসবের উত্তর হাতের তালু বন্ধ করে কেউ রেখেছে?
যার কাছে একটু আশ্রয়ী হবো !
যাকে বলব আমার দ্বিধা-ভঁয়ে কেন মরে যাওয়া ।

কেউ যুক্তির শেষে দ্যাখায় ‘ঐ দ্যাখো ধর্মশালা’
আমি সেখানেই ছুটে যায়। তারপর
দুপুর গড়িয়ে যায়, এখন নাকী সব ভুল হয়েছে।
বেলাও চলে যায় ভুলের ঘাই গুঁত খেয়ে যায় যত্রতত্র।

পেছনে পড়ে থাকে একগাদা ভুলের ঢেড়ি
এভাবেই একদিন চলে যায় নিরুদ্দেশে সবাই।
কত অপেক্ষায় থেকেছি কেউ ফিরে আসেনি!
যার কাছে শুনবো কোথায় গিয়েছিলে? কি দেখলে সেখানে ?



"তুড়িবাজ পৃথিবী"

এ তুড়িবাজ পৃথিবীতে
ঢলানির মন ভোলান বেহাইয়া নাচন!
কাঁপা মন দু'দণ্ড একটু দাঁড়াতে চায়,
এই উষ্ণ-নিঃশ্বাস থেকে মুক্ত বাতাসে।
কাল্‌-তালায় চলে কালের অট্টহাসি
গোলাপের হাইব্রিড গন্ধ শুঁকে !
অদৃশ্যে দৃশ্যতার চেয়ে বেশি কিছু থাকে
আমি মেনে নিয়েছি,ওখানেই আমার ভবিষ্যৎ ।



"আমাকে ভঙ্গুর করে দাও"

কেড়ে নাও তীক্ষ্ণ বিচক্ষণতা
আমাকে ভঙ্গুর করে দাও
এ চোখ যেন আর না দ্যাখে-
কতটা আঘাতে প্রাণের মৃত্যু ঘটে!
কীভাবে হয় কুমারীর কোলের ছেলে নৌজোয়ান !

বোধির করে শ্রবণ শক্তি নিশ্চল করে দাও
আমি এখন দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষ হতে চায়।
তাই হবে বেশ ভালো
আমার কোন পরিচয় থাকবে না
আমি হবো নিষ্পাপ সবুজ অরণ্য।
হ্যাঁ তাই হবে বেশ ভালো ।

ঘুটঘুটে অন্ধকারে ক্লেদাক্ত সভ্যতা
গতি প্রগতির অথর্ব নর-হুংকার
প্রতি মুহূর্তে জন্ম দিচ্ছে অনাগত শক্তি!
ধিরে ধিরে গাঁঢ় অন্ধকার হচ্ছে পৃথিবীর রং

আর অশ্লীলতা অবাঁধ যৌন তামাশায়
উলঙ্গ নারীর খ্যাপাটে নৃত্য! পরাস্ত ধর্ম!
জঘিন্য রাজনীতির পচা গন্ধ ঘ্রাণে
ভেঙ্গে পড়ছে নীতির ধর্মশালা!

আজকাল আশ্রয়হীন কুকুরের মতো লোকেদের ঘাই-গুঁত
তার থেকে এই ভালো আমাকে ভঙ্গুর করে দাও।



"ভাঙ্গা প্রতিশ্রুতি"

তুমি ফিরব বলে সেই যে গ্যালে...
তারপর আমার দাঁড়িয়ে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু হল
অক্লান্ত বিরামহীন আজও আমি দাঁড়িয়ে আছি
তুমি আসবেই আসবে কথা রেখে আমার খোঁজ নিতে !

কত অপেক্ষায় কত সকাল চলে গেল, বিকেল গেল,
ধিরে ধিরে নিভে গেল সব আলোর উৎস গুলো ।
ঘন আঁধারে নোংরা পথের ধারে ঢিবির উপরে,
আরও কতদিন এভাবে প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে রাখবে...?

লতাবানু কতবার গলা হাঁকিয়ে হাত নাড়িয়ে বলেছে
আমি যেন তড়িঘড়ি এসবের দাঁড় টেনে ফিরে যাই ।
আমি কাউকেই কিচ্ছু বলিনি সব উপেক্ষা করে,
শুধু নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে ভেবেছি- তুমি এসেই যদি ফিরে যাও!

আজ অনেকদিনের উদ্বিগ্ন আমি, সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছি ।
কতজনকে শুধিয়েছি- মানুষ কি কথা ভাংতে পারে?
প্রতি উত্তরে সবাই বলেছে- 'হয়ত পারে'
তবু বিশ্বাসকে ধমকে বলেছি- সব মিথ্যে বলছে ওরা!

অথচ সত্যিই তুমি এলে না ।
তাই আমিও কথা ভেঙ্গে অনেক খুঁজেছি লতাবানুকে
কিন্তু ততদিনে সেও যে অনেক দূরে চলে গেছে...।
তারপর সময়ের পালা বদল, আমি হয়েগেছি পথের কবি !

এখন পথে পথে ফুটপাতে, দ্বিধান্বিত পথকবি ঘুরে বেড়াই!
অবহেলায় জটা পেকেছে চুলে,
রোঁদে জ্বলে গেছে দেহের বাদামী রং !
অথচ কেন? জনমের শেষ প্রান্তে, আজ তুমিও কাউকে খোঁজো?



পরিশেষে অত্যন্ত দুঃখের বলতে হচ্ছে- আমার আগের নৈশতরী নামের আইডি টা বাতিল করে দিয়েছে, না কি হয়েছে ওটাতে কোনমতেই লগইন হচ্ছে না ! কিন্তু কেন বাতিল করা হল সে ব্যপারে আমাকে মটেও অবগত করা হয়নি !
৬ টি মন্তব্য
sulary আলভী০৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৫১
চমৎকার......
moishotori নৈশতরী১৩ নভেম্বর ২০১২, ১২:১১
ধন্যবাদ
asrafulkabir আশরাফুল কবীর০৯ নভেম্বর ২০১২, ২৩:৫৩
মনের ভেতরে এসে যখন উড় বার্তা চলে যায়,
তখন পড়ে থাকে কিছু মুখস্থ কথা-
হিব্রু, আরাবিয়ান, আর চলমান সময়ের-
লাল বাবু, ক্রুসিয়ান, সুরাইয়াদের হাড়ী ভাঙ্গা দর্শন।


#প্রথমেই বলি আপনার ডিকশন ভাল লেগেছে, প্রতিটি কবিতাই ভাল লিখেছেন, অভিনন্দন আপনাকে, শুভেচ্ছা অজস্র

#আমার মনে হলোো প্রেজেন্টেশন আরো ভাল হতে পারতো, ভাল থাকুন সবসময়
moishotori নৈশতরী১৩ নভেম্বর ২০১২, ১২:১৪
আসলে এভাবে দেখাচ্ছে কেন আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না !
পোস্ট টি এক্ষুনি ডিলিট করছি দাঁড়ান তারপর আবার দিবো!
১০ নভেম্বর ২০১২, ১৬:১১
moishotori নৈশতরী৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৬
ধন্যবাদ