রবিবার ২৬ মে ২০১৩, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


চলুন ঘুরে আসি খাগড়াছড়ি জেলার রহস্যময় আলুটিলা রহস্যগুহা থেকে

বাংলাদেশের দর্শনীয় জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জেলা হচ্ছে খাগড়াছড়ি। পাহাড়-পর্বত, ঝর্না বেষ্টিত এই জেলাটি সারা বছরই দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। দৃষ্টিনন্দন ও রহস্যঘেরা বিভিন্ন স্থানের কারণেই এই পর্যটকদের নিকট এতো পছন্দনীয়। তেমনই একটি দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হলো আলুটিলা। খাগড়াছড়ি শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পযর্টন কেন্দ্রে রয়েছে একটি রহস্যময় গুহা। স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। তবে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত বলে একে আলুটিলা গুহাই বলা হয় । এটি খাগড়াছড়ির একটি নামকরা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি বেড়াতে এলে সবাই অন্তত এক বার হলেও এখানে ঘুরে যায়। এটি একটি চমৎকার পিকনিক স্পট। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়, হৃদয় ছুয়ে যায়। আলুটিলা খাগড়াছড়ি জেলার সব চাইতে উচু পর্বত। নামে এটি টিলা হলেও মূলত এটি একটি পর্বতশ্রেনী। এখান হতে খাগড়াছড়ি শহরের বেশ কিছুটা অংশ দেখা যায়। শুধু তাই নয় পাহাড়ের সবুজ আপনার চোখ কেড়ে নেবে। আকাশ পাহাড় আর মেঘের মিতালী এখানে মায়াবী আবহ তৈরি করে।

ইতিহাস থেকে জানা যায় পূর্বে এই পাহাড়টির নাম ছিল আরবারী পর্বত। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই জেলাটিতে খাদ্যাভাব দেখা দিলে এখানকার মানুষ এই পাহাড় হতে আলু সংগ্রহ করে খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সেই থেকেই লোকমুখে প্রচারিত হতে হতে এই স্থানটির নাম এখন আলুটিলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

আসুন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করি
 আলুটিলা রহস্যগুহায় যেতে হলে দর্শনার্থীদের পর্যটন কেন্দ্রের নির্ধারিত টিকেট কাটতে হয়।
 প্রবেশের শুরুতেই বিশাল দুটি বটবৃক্ষ দর্শনার্থীদের স্বাগতম জানানোর জন্য শতবর্ষ ধরে দাড়িয়ে রয়েছে।
 পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ মুখ থেকে ডান ও বাম দু-দিকে দুটি রাস্তা রয়েছে। বাম দিকের রাস্তাটি দিয়েই মূলত রহস্য গুহায় যাওয়া যায়। আপনি চাইলে ডান দিকের রাস্তাটি ধরে কিছুটা এগিয়ে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করে নিতে পারেন।
 পর্যটন কেন্দ্রের মূল গেটের ডান দিক দিয়ে যে রাস্তা রয়েছে সেই রাস্তাটি ধরে কিছুটা পথ এগোলেই সামনে পড়বে চিকন একটি পাহাড়ীপথ। এটি নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই পথটি ধরে নিচে নামলে প্রথমেই চোখে পড়বে ছোট আকারের একটি ঝর্না।

এবার রহস্য গুহার দিকে যাওয়া যাক
 ফটক হতে বাম দিকে যে রাস্তাটি সেই রাস্তা দিয়ে কিছুটা এগুলোই দেখা মিলবে সেই রহস্যগুহার।
 গুহার মুখে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে একটি বিশ্রামাগার। বিশ্রামাগারের সামনে থেকে সোজা একটি পথ গুহার মুখে গিয়ে মিলেছে।
 গুহার ভেতরে পূর্বে অবশ্যই দর্শনার্থীদের মশাল সংগ্রহ করে নিতে হবে অথবা মাথায় হেডলাইট ওয়ালা ক্যাপ সাথে করে নিতে হবে। কেননা গুহার ভিতরে সূর্যের আলোর বিন্দুমাত্রও পৌছায় না।
 গুহার মুখে গিয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে হবে। ধাপে ধাপে ৩৪০টি সিড়ি বেয়ে নিচে নামলে দেখা মিলবে সেই রহস্যময় গুহার।
 ভিতরে ঢোকার পর যে কারোরই গায়ে কাটা দিতে বাধ্য। তাই ভীত না হয়ে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য এখানে অন্য কোনো জীব-জন্তুর ভয় নেই। মূলত এর নিচ দিয়ে একটি ঝর্না প্রবাহিত হওয়ার কারণে পর্যটকদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।
 গুহার ভেতরের পথ ধরে কিছুটা এগোলে দু দিকে দুটো রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে একটি রাস্তা বন্ধ। সোজা যেই রাস্তাটা রয়েছে সেই রাস্তা ধরেই এগোতে হবে। আপনি চাইলে বন্ধ রাস্তাটিতেও ঘুরে আসতে পারেন।
 মাঝপথে গুহাটির উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে কম হওয়ায় পর্যটকদের মাথা নুইয়ে চলতে হয়।
 গুহাটির মোট দৈর্ঘ্য ৩৫০ ফুট। গুহার এপাশ থেকে ওপাশে যেতে সময় লাগে মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো।
 অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত এই গুহাটি দেখে যে কারোরই ভালো লাগতে বাধ্য।


সম্পূর্ণ খাগড়াছড়ি জেলা ভ্রমণ, ঢাকা থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা, থাকার ব্যবস্থাসহ খাগড়াছড়ি ভ্রমণের সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন
৮ টি মন্তব্য
kamaluddin কামাল উদ্দিন০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৫:২৪
যাইনি এখনো, তবে যাবো ইনশাআল্লাহ্

সামুর অব্যক্ত ভালোবাসা কি আপনি ?
mahin89 মাহিন আহমেদ০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৭:৫৫
ধন্যবাদ। হ্যা আমিই সেই জন। আগে প্রথম আলোতে আমার ঐই নামেই আইডি ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে প্রথম আলোয় সার্ভার পরিবর্তন সংক্রান্ত কারণে আমার ঐই আইডিটি বাতিল হয়ে যায়। এবং পরবর্তীতে ঐই নাম ও ই-মেইল এড্রেস দিয়ে নতুন আইডি খুলতে পারি নাই। যার ফলে ভিন্ন নামে এই আইডিটি খুলেছি।
Rabbani রব্বানী চৌধুরী০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৫:৩৬
খাগড়াছড়ি জেলার রহস্যময় আলুটিলা রহস্যগুহর বর্ণনা শোয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ভ্রমনের ইচ্ছা আছে, শুভেচ্ছা রইল। ভালো থাকবেন।
Chatokpakhi1to6 চাতক পাখ ।০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৬:০৬
যেতে হবে তো
FarhanaAbir ফারহানা আবির০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৭:১৯
দারুণ... যাওয়ার ইচ্ছা জাগছে
Rajrakhi আমিনুল হক ভুইয়া০৯ নভেম্বর ২০১২, ১৮:৩৬
একটা ছবি দেখে কি মন ভরে ভাই, আরও কিছু ছবি দিলে আর না গেলেও হত
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:১৯
কবিতা। লিখতে থাকুন অবিরত। চলতে থাকুক আপনার কলম। আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।
sulary আলভী০৯ নভেম্বর ২০১২, ২২:৫০
চমৎকার.....

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment