রবিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ৬ আশ্বিন, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


চেতনার প্রদীপ প্রজন্ম চত্ত্বর

লিটু হাটছে শাহবাগের দিকে,ফেসবুকে কেবলই লিখলো একটা স্টেটাস
আমি ছুটছি শাহবাগের দিকে,যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি বাস্তবায়ন করতে
তার মতো ছুটছে হাজারও তরুণ-যুব একুশ সভ্যতার নতুন প্রজন্মের আগুয়ান যাত্রিরা
মানুষে মানুষ,জনারণ্য হয়ে উঠে শাহবাগের ঢাকা ভার্সিটির সম্মুখে টিএসসির চত্বর,
লিটু ছুটছে রিকশা করে,পকেটে নাকি তার দুটাকার ছেঁড়া নোট ছাড়া আর কিছু নেই
কোথায় যাবেন মামা-জিজ্ঞেস করে রিকশাওয়ালা? শাহবাগ মামা লিটুর উ˜িগ্ন উত্তর,
জানো মামা তোমাকে যে কিভাবে ভাড়া দিব,পকেটে ছেঁড়া একটা দু’টাকার নোট ছাড়া
লাগবো না মামা,আমি বুঝছি আপনি কই যাইতেছেন-যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তো-
ওইহানে যাইয়া এই অভাগা রিকশাওয়ালার কথা একটু বইলেন,তাতেই খুশি হইমু..
ঠিক আছে মামা বলে লিটু চলতে থাকে শাহবাগের দিকে,পৃথিবীর বুকে নেমে আসে আঁধার।

জন সমুদ্রে পরিণ হয় ঢাকা শাহবাগ,পৃথিবীর অসংখ নদীর সংযোগ হয় যেন এখানে
গণ জাগরণে গর্জে উঠে উত্তাল ঢেউ,নতুন প্রজন্মদের আগমনে প্লাবিত হয় বন্যা-¯্রােত
এখানে ছুটে এসে জমায়েত হয় ব্লগার,ফেসবুকার অনলাইন কলম যোদ্ধার মতামত বোদ্ধারা
কোলের শিশুকে নিয়ে আসে এ প্রজন্মের শিক্ষিত মা,তার সাথে নানা সংস্কৃতির মানুষ
ভার্সিটি পড়–য়া সোহানা মেয়ে হয়ে ছুটে আসে,কন্ঠে ফুটে উঠে বারুদের মতো স্ফুলিঙ্গ
এবার শাহবাগের পুরোনো চিত্র বদল হয়,নাম হয় সভ্যতার নতুন নাম-‘প্রজন্ম চত্বর’
রাত্রির কাশে জ্বলে উঠে চাঁদ-জো¯œার মতো প্রতিবাদের রঙিন মোমবাতির জাগরনের আলো
জন সমুদ্রে উচ্ছল ঢেউ আরও বেগবান হতে থাকে,তারুণ্যের কন্ঠে গর্জে উঠে বিস্ফোরিত শব্দ
নগ্ন শরীরে ফুটে উঠে “রাজাকারদের ফাঁসি চাই-দিতে হবে” এমন শব্দ-বাক্য
প্লেকার্ড,ব্যানার,ফেস্টুনে ভরে উঠে শাহবাগের ভূমিতে জেগে উঠা প্রজন্ম চত্ত্বর।

‘গর্জে উঠো বাংলাদেশ’ ‘জেগে উঠো বাংলাদেশ’ কন্ঠ সুরে জেগে উঠে প্রতিবাদের গর্জন
গণজাগরনের বাঁধভাঙা জোয়ারের ¯্রােত ছড়িয়ে পড়ে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ভিতর
মানবতাবিরোধী সেই যুদ্ধাপরাধী ৭১এর ঘাতকদের রক্ষা নেই,ফাঁসির দড়িতে চাই মৃত্যু
চেতনার প্রদীপের আলোর আয়নায় তারুণ্যের স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে প্রজন্ম চত্ত্বর
রাতের পর সকাল,সকাল থেকে সারা দিন,ফের রাতে জেগে উঠে মোমবাতির রঙিন আলো
বিক্ষোভের সমুদ্র ঝড় নার্গিস,সাইক্লোনের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিস্তিৃত জালের মতো,
এবার যুদ্ধাপরাধীরা পালাবে কোথায়? ‘জনতা জেগেছে ফাঁসির দাবিতে’পত্রিকার শিরোনাম
জনতার ঢলে শাহবাগ রুপ নেয় কায়রোর সেই বিখ্যাত প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল তাহরির স্কয়ার
বুদ্ধিজীবিদের অতীতের দৃশ্যমান আয়নায় ফুটে উঠে প্রামাণ্যচিত্রের মতো সেই ৭ই মার্চ
৭কোটি মানুষের সেই দেশে আজ ১৬ কোটি মানুষের কন্ঠে জেগে উঠেছে প্রতিবাদী হুংকার!

প্রকম্পিত কন্ঠের গর্জনে শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বর,মিছিল-মিটিংয়ের ছবি ছড়িয়েছে সারাদেশ
রুপসা থেকে পাথুরিয়া,টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া প্রতিবাদের ঢেউ বাদ পড়েনি কোথাও
লিটু-সোহানারা দলে দলে গণসংগীতে,চিত্রলিপিতে,নাটক,সিনেমায় ফুটিয়ে তুলে রক্তাক্ত ৭১
ধর্ষিত বোনের ভাই,স্বামীহারা স্ত্রী,সন্তানহারা মা,পিতৃহারা মানুষরা বাকশক্তিতে জেগে উঠে
বোবারাও যেন নতুন বাকশক্তি ফিরে পায়,৭১’এর ৯ মাসে ঘটিত ঘটনা স্পষ্ট ফুটে উঠে
ফেসবুক,ব্লগ,অনলাইন,প্রিন্টিং স্যাটেলাই সব মাল্টিমিডিয়া জুড়ে নতুন প্রজন্মের অবিভূত প্রতিবাদ
আমিও একজন সামান্য ফেসবুকার ও ব্লগার এ প্রতিবাদী দৃশ্য দেখে মরা গাছে পাতা গজাতে দেখি
কল্পনা করতে থাকি আমার অদেখা ৫২-৭১’এর ৭ই মার্চ কেমন ছিলো বিক্ষোভ ঝরা দিনগুলো
যদি ৭১’এ শিশুও থাকতাম,তবুও মাকে বলতাম-মা বিদায় দাও আমার দেশকে স্বাধীন করে আসি
মা বিদায় দিতেন,আমি যুদ্ধ করতাম…শহীদ হলেও অন্তত কালের আয়নায়তেও কথা বলতাম।
৮ টি মন্তব্য
sulary আলভী০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪১
doyle দোয়েল১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১০:১৬
ধন্যবাদ প্রিয় আলভী ভাই। ভালবাসা জানবেন।
rodela2012 ঘাস ফুল০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫২
খুব ভালো লাগলো দোয়েল । বিশেষ করে রিকশাওয়ালার ভাড়া না নেয়ার ব্যাপারটা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। ভালো থাকবেন আর প্রতিবাদের আগুনে রাজাকারদের জ্বেলে পুড়ে ছারখার করে দিন।
doyle দোয়েল১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১০:১৫
শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয় ঘাসফুল। ভালো লাগলো আপনার কথা শুনে।
MainulAmin মাইনুল আমিন০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০৯
ভালো লাগলো লিখাটি প্রিয় দোয়েল ভাই | কেমন আছেন ---?
সব রাজাকারের ফাঁসি চাই এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও পুন:প্রতিষ্ঠাতাদের বিচার চাই। আর রিক্সাওয়ালা বা মুক্তিযুদ্ধা ভাইদের পাশে দাঁড়াতেই হবে আমাদের ।
শুভেচ্ছা ---------------------
doyle দোয়েল১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১০:১৪
জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ভালবাসার সাথে শ্রদ্ধা জানবেন।
anindyaantar অনিন্দ্য অন্তর অপু০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২৬
জানো মামা তোমাকে যে কিভাবে ভাড়া দিব,পকেটে ছেঁড়া একটা দু’টাকার নোট ছাড়া
লাগবো না মামা,আমি বুঝছি আপনি কই যাইতেছেন-যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তো-
ওইহানে যাইয়া এই অভাগা রিকশাওয়ালার কথা একটু বইলেন,তাতেই খুশি হইমু..


চমৎকার লিখেছো দোয়েল।

তোমার কথাগুলো মানুষের কথা বলে। তোমার লেখা জীবনের কথা মলা।

কবিতার অলংকারের ঝলকানি দরকার নেই, যা মানুষকে অন্যরকম ভাবতে শেখায়, যা বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখায় তাই তো অনিন্দ্য। সব মানুষের হৃদয়ের কথা যেন প্রকাশ পেল এ কবিতায়। ভালো থেকো।
doyle দোয়েল১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১০:১২
ধন্যবাদ প্রিয় অপু ভাই। জীবনে যা দেখি,কঠিন বাস্তবতার ভিতর চলেছি তাই হয়তো এভাবেই ফুটে উঠে কবিতার পিন্ডবগুলো।
ভাল থাকুন প্রিয় আপনজনের মতো।