শনিবার ০২ আগস্ট ২০১৪, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


নিজের কাছে ফিরে আসা


ইদানিং অনুভূতির নদীগুলো শুকিয়ে গেছে মনে হয়। না শীত না বর্ষা কোন কিছুই আলোড়িত করে না আর। একদা এমন ছিলে যে, শিশিরের ঝুপরি থেকে এক ফোটা স্ক্ষলিত আবেগ ঝরে পড়ার আগেই ঈষানের কোণে সহসা নেমে আসতো নান্দনিক আলোর সিঁড়ি। যা বেয়ে অনেক দূরে চলে যেতাম। একদম সিরাতুল মুস্তাকিমের শেষ প্রান্তে। সেখানে হয়ত কোন শশ্রুময় পবিত্র আলোর সন্ধানী বসে বসে তসবিদানা জপছেন একমনে। আমি নির্দ্বিধায় তার পাশে বসে যেতাম। পরমের নাম অথবা গুনের আবহ সংগীতে একদম ডুবে যেতাম, যেভাবে পাহাড়ী কোন নদী থেমে থেমে একমনে একই সুর গেয়ে যায়, অথচ প্রতিবার মনে হয় এই মাত্র শুনেছি।

গোধূলী ঘনিয়ে আসলে যেভাবে পাখিরা ডানাগুলো আস্তে করে থামায় কোন বৃক্ষের নিশ্চিন্ত শৈল্পিক ঘরে। সেখানে কোন প্রহরী নেই। নেই কোন দুরারোগ্য প্রতিযোগীতার কোলাহল। কেবল প্রশান্তি। আঁধার মানেই স্বপ্নের উঠোনে লুকোচুরি। সারাদিনের ক্লান্তির পর আঁধারের বালিশে মাথা রাখলে এক নিমিষেই মনে হয়, কোন ভরহীন পালকিতে শিশুদের আধোঘুম আধো জাগনের কোমল দোলাচল। ঠিক সেই রকম কোন পাখির নীড়ের পাশে দাঁড়ালে মনে হত আমিও নরোম ডানার পাখি। পাখিদের ভীড়ে চিৎকার করে সুর মিলিয়েছি কতদিন। সেই শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসতো আকাশের শরীর ছুঁয়ে। বটবৃক্ষের সাথে ধাক্কা খেয়ে আচড়ে পড়ত সবুজ ঘাসে। যেন শব্দের সৈকতে আমি একা। সম্মুখে অজস্র নীরবতা এবং সুরের মৌ মৌ ঢেউ।

তারপর নিসর্গের এক কোণে নারী এবং নৈশব্দ পরস্পর, প্রেমের অনিমেষ সঙ্গী হয়ে মেলে দিত নান্দনিক ইতিহাস। প্রেম মানে গোপন কথার পান্ডুলিপি। শিল্পীর ইজেলে ভেসে ওঠা মহীয়সী চোখ। ধুসর রঙ তুলি। কুয়াশার মত ঝরে যাওয়া অবিরাম। হাসি এবং উদ্ভাসিত নৈপুন্যের মোহিনী বিকেল। অবগাহনের জলভেজা শরীর। মাছরাঙার মত কিছুক্ষণ।

কেন যেন এখন সবকিছু একটা সীমাবদ্ধ কাঁচের এ্যকুরিয়ামে আটকে যায়। সব কিছু একটা নির্দিষ্ট কাঁটা তারের সীমান্তে ধরা পড়ে। বেশী দূর যেতে পারে না। যেভাবে দৃষ্টির সীমারেখা দূর দিগন্তের অসীমকে ভেদ করতে পারে না, অন্তর দৃষ্টির তো কোন সীমা নেই। তবে কেন এমন হয়? আমি কি এই শহরে নাগরিক হয়েছি খুব! সেই চোখ আমার অন্ধ হয়েছে কবে? নাকি খুব বেশী নিজেকে আড়াল করি, যেভাবে এই শহরে মানুষেরা খুব দ্রুত হাঁটে, কোন কিছু থেকে পালিয়ে ফেরারী বাতাসে। কিসের থেকে নিজেকে আড়াল করে সবাই? নিজের কাছে ফিরে আসার পথ কখন কোথায় হারিয়েছি আজ, এখন আর মনে নেই সেই স্মৃতি।
১৪ টি মন্তব্য
doyle দোয়েল২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫৪
সুন্দর লিখা। ভাল লাগলো। অভিনন্দন।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৬
লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ........
fardousha ফেরদৌসা২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৩
সেই চোখ আমার অন্ধ হয়েছে কবে? নাকি খুব বেশী নিজেকে আড়াল করি, যেভাবে এই শহরে মানুষেরা খুব দ্রুত হাঁটে, কোন কিছু থেকে পালিয়ে ফেরারী বাতাসে। কিসের থেকে নিজেকে আড়াল করে সবাই? নিজের কাছে ফিরে আসার পথ কখন কোথায় হারিয়েছি আজ, এখন আর মনে নেই সেই স্মৃতি।


এই অংশটুকু বেশি ভাল লেগেছে।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৭
এটাই আমাদের জীবনের বাস্তবতা। ধন্যবাদ আপনাকে.........
Jolrashi নুসরাত জাহান আজমি২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৬
দারুন লেখা।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৮
অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা.........
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৬
কথাগুলোর সাথে সাথে দেয়া ছবি বেশ লাগলো।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৯
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় বাবলা সাহেব.....
Titan টাইটান ১৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ০১:১১
‍েসসব আমরা সবাই খঁু‍েজ ফিরছি। অ‍েনক ভা‍েলা লাগল ‍েলখাটি।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১০
আপনাকেও শুভেচ্ছা অভিনন্দন.........
sulary আলভী৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১০:৫১
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
অনেক ধন্যবাদ আলভী ভাই.........
Shimi12 ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী)৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৩:৩৯
বাহ! গদ্য দিয়ে পদ্য। চমৎকার কবিতা।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা.........