গৃহহীন ঈশ্বর
কখনো জানাই ছিল না,
ঈশ্বর গৃহহীন একজন!
মানুষের মাঝেই ঈশ্বর খুঁজেছি;
সেখানেই পেয়েছি ঈশ্বরের দর্শন
ক্ষুধার্তের ক্ষুন্নিবৃত্তি করিয়ে ভেবেছি
এখানেই নিহিত আছেন তিনি!
কাঁপতে থাকা শীতকাতর বস্ত্রহীনকে
বাড়তি গরমজামাটা পরাতে কার্পণ্য করিনি
রাস্তায় ধুঁকতে থাকাকে ঘরে তুলিনি,
তবে চেষ্টা করেছি কোথাও ঠাঁই করে দিতে
আঙ্গুল উঁচিয়ে যাদের 'অবহেলিত' বলে
তাঁদের অবহেলা করার সুশিক্ষা পাইনি
এমন করেই আজীবন ভেবেছি
ঈশ্বরের বড্ড কাছাকাছি আছি
কিন্তু ঈশ্বর নিজেই যে গৃহহীন!
তাই পথের মোড় পেরুবার আগেই দেখি
অগুন্তি মন্দির, মসজিদ, গির্জার সারি!
ঈশ্বরের আবাস যোগাতে দেরীতে হলেও
এত তত্পরতা দেখেই বুঝেছি
এতদিন গৃহহীন এক ঈশ্বরের পূজা করেছি!
তাঁরও পার্থিব ঠাঁই প্রয়োজন
ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণই সবচাইতে জরুরি---
গৃহহীন মানুষ নির্দ্বিধায় অবহেলিত হোক!
কিছু যাবে আসবে না তাতে....
তবু ঈশ্বরের তো স্থায়ী ঠিকানা মিলল!
লেখক সানশাইন
- সানশাইন -এর ব্লগ
- ৪০ টি মন্তব্য
- ৩০ এপ্রিল ২০১২, ১১:৫৬
- কবিতা
- গড় রেটিং: ১০
প্রিন্ট করুন
- ৪০ টি মন্তব্য
-
তীর্যক নীল৩০ এপ্রিল ২০১২, ১২:১২
ঈশ্বরের অনুজ্ঞা তাই। দুষ্কৃতীর বিনাশ ভিন্ন ধর্ম প্রতীত হন না। ধর্ম নইলে ধেনু দুগ্ধবতী হয় না, গোধূম স্বয়ং পক্কাবস্থা প্রাপ্ত হয় না। ধর্মমতে মানবমোক্ষ অর্থের ফেটিশে, কামনায়, যজ্ঞের উৎপাদনে ও শত্রুর নিধনে। মানুষের ইতিহাসজুড়ে সমস্ত শ্রুতিই তাই সন্তান কামনায়, ফসল ও রাজ্যের বিস্তারে, শিল্পায়নে উদ্দিষ্ট। ধর্মের বিরোধীদের তাই পুড়িয়ে মারাই নিয়ম। ধর্মযুদ্ধের পর ইনকুইজিশন হয় চার্বাকপুত্রদের। যাঁরা বিজয়োল্লাস ম্লান করে দিতে ভরা রাজসভায় প্রশ্ন তোলেন, অক্ষৌহিণী হত্যায় তুমি কী পেলে রাজন? অন্ধনগরীর যুধিষ্ঠির অথরিটিকে প্রশ্ন করতে গিয়ে ব্রাহ্মণরোষে পুড়ে যান তাঁরা। কারণ, তস্কর পাষণ্ড ও বৌদ্ধনাস্তিক সমরূপে দন্ডনীয়। ইতিহাসের কর্মযজ্ঞের অনবারিত ধারাকে প্রশ্ন করে ফেলেন এঁরা। কমোডিটি-ফেটিশের অর্থবহ জীবন ছেড়ে দিয়ে বেছে নিতে বলেন ভিক্ষুর জীবন। প্রচার করে যান-- ঈশ্বর যদি থাকেন, মোক্ষ যদি থাকে, কর্মচক্র নির্ধারিত জন্মে তা নেই, জন্ম নির্ধারিত কর্মফলেও নয়। রয়েছে জীবনে, বৈরাগ্যে, অনাত্মায়, অনীহায়। -
জাফিরয়া৩০ এপ্রিল ২০১২, ১২:২৪
আজ আবার আমি না বুঝার তালে আছি মনে হচ্ছে ________ আপনার "ঈশ্বর" কোন "ঈশ্বর" আর এই "ঈশ্বর'র গৃহ" কী, "গৃহহীন" বা "স্থায়ী ঠিকানা" বিষয়গুলি আমার জানবার কৌতুহল ......
-
জিনজির৩০ এপ্রিল ২০১২, ১২:৪৩
ভাই আপনি নিশ্চই খুব জ্ঞানি মানুষ। আপনার এমন জ্ঞন গর্ভ কবিতা আমার বুঝার সামর্থের বাইরে। তাই কিবতা নিয়ে কিছু বলার নেই। শুধু হেদায়েত প্রাপ্তির দোয়া আর অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। -
সফেদ কুহেলি৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৩:১০
মানুষের মাঝেই ঈশ্বর খুঁজেছি;
সেখানেই পেয়েছি ঈশ্বরের দর্শন
ক্ষুধার্তের ক্ষুন্নিবৃত্তি করিয়ে ভেবেছি
এখানেই নিহিত আছেন তিনি!
মানুষের মাঝে ঈশ্বরের আবাস।।
শুভেচ্ছা জানবেন

-
সাজ্জাদ হোসাইন ৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৪:৪৫
মানুষের মাঝেই ঈশ্বর খুঁজেছি;
সেখানেই পেয়েছি ঈশ্বরের দর্শন
ক্ষুধার্তের ক্ষুন্নিবৃত্তি করিয়ে ভেবেছি
এখানেই নিহিত আছেন তিনি!
শক্তিশালি লিখন।
খুব ভালো লাগলো
সবাই সামাজিক কাজে মনোনিবেশ করুক সেই কামনা করি
ধর্ম হচ্ছে শান্তি,সেই শান্তি পৌঁছে যাক প্রতি মনে
শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা









-
কাছের মানুষ ৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৫:০৩
কবিতার প্রথম দিকটাতে ভাল লাগল অনেক সুন্দর চেতনা!
ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।
-
মোহাম্মদ রফিক৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৬:২০
সাধুমনের সুন্দর দর্শন! আত্নিক সুষমায় ভরপুর! মঙ্গল হোক যাত্রা , মঙ্গল রাজধীরাজ!....
-
মোহাম্মদ রফিক০১ মে ২০১২, ১৪:২৮
আমি আর রশীদ জামিল ভাইয়া একসাথে আপনার জন্য অনেক কান্না করেছিলাম,আপনি আমাদের কান্না শুনতে পাননি হি হি হি।আমি ভাল আছি, আপনি ভালতো?......তবে আপনার কথা সবসময় আমার মনে থাকে।। -
শাহিদুল হক৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৬:৫৭
আপনার সুন্দর কবিতার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ঈশ্বর আপনার আয় থেকে নির্ধারিত হারে অসহায়দের দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একবার দিয়ে দেখুন একজন আশ্রয়হীনও আর থাকবে না। যদি না দিয়ে ঐ মসজিদ মন্দির আর নানা নামের উপাশনালয় তৈরি কয়ে যায় তবেতো সেটা আমাদের জন্য চরম ভণ্ডামী। আসুন, ভণ্ডামীর বিরুদ্ধে আপনার কবিতার প্রতিবাদী হাতকে সহায়তা করি। ধন্যবাদ। -
জিনিয়াস৩০ এপ্রিল ২০১২, ১৮:২৯
শহিদুল হক @ হক ভাই দেখছি আস্ত নাস্তিক, ধর্মালয় নিয়ে কথা!
মানুষ না খেয়ে থাক, বস্ত্রহীন থাক, গাছ তলায় থাক তাতে কি যায় আসে, মসজিদ, মন্দির,গ্রীজা, প্যাগোডা টাইল্স আর স্বর্ণ দিয়ে মুড়ে দিব!! -
অনিন্দ্য অন্তর অপু৩০ এপ্রিল ২০১২, ২২:৫৫
কিন্তু ঈশ্বর নিজেই যে গৃহহীন!
তাই পথের মোড় পেরুবার আগেই দেখি
অগুন্তি মন্দির, মসজিদ, গির্জার সারি!
ঈশ্বরের আবাস যোগাতে দেরীতে হলেও
এত তত্পরতা দেখেই বুঝেছি
এতদিন গৃহহীন এক ঈশ্বরের পূজা করেছি!
তাঁরও পার্থিব ঠাঁই প্রয়োজন
ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণই সবচাইতে জরুরি---
আপনার সাহসী উচ্চারণকে শ্রদ্ধা আপা। আশে পাশের অনেক মানুষকে দেখি সারাজীবনের পাপের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে শেষে ঈশ্বরের ঘর বানিয়ে সব পাপ মওকুফের ব্যবস্থা করেন। বেশির ভাগ ইশ্বরের ঘরই পাপের টাকায় তৈরী। মানুষের চোখ কবে খুলবে কে জানে? -
অনিন্দ্য অন্তর অপু০৩ মে ২০১২, ০৯:৪০
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যতটা সাহসের দরকার বেশির ভাগ মানুষের ই তা নাই। মানুষ সারা জীবন এত বেশি পাপ করে ফেলে যে শেষে এসে ঈশ্বরের পায়ে সমর্পণ করে। আর ঈশ্বর কি করেন আমরা জানি না॥।॥।। -
আমি কালপুরুষ০১ মে ২০১২, ২২:৫৫
তাই পথের মোড় পেরুবার আগেই দেখি
অগুন্তি মন্দির, মসজিদ, গির্জার সারি!তাঁরও পার্থিব ঠাঁই প্রয়োজন
ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণই সবচাইতে জরুরি
তারাপথে নক্ষত্রের প্রতিরূপ
নদীর জলে দেখা কখনও এক নয়,
দেবালয়ে আমি যাইনি কখনও,কেউ গিয়েছে কিনা ভেবে
ঈশ্বরের কাছে চাইনি আশীর্বাদ;
পরমেশ্বরের ইচ্ছায় দুঃখীরা এখানে চিরদিনই দুঃখী।
রাতের চোখে এখানে ঘুম নেই
রাজপথে মৃতপ্রায় শিশুর পাশে
শুয়ে থাকা অর্ধনগ্ন মায়ের কোন
ধর্মবোধ নেই,তীর্থ নেই,হজ্জ নেই
পুণ্য নেই,পাপ নেই
সুখ নেই,দুঃখ নেই
তবু বেঁচে থাকার সুতীব্র আকাঙ্খা আছে-
সমাজের চোখে এই "আকাঙ্খা" শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।
বিধাতা মহানুভবতায় নির্বাক ।।Your text to link... -
সামিনা আলী১৮ মে ২০১২, ১৪:১২
অসাধারন লেগেছে কবিতাটা। কিভাবে এত্ত সুন্দর করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ঈশ্বরের গৃহ নির্মাণ করতে যেয়ে আমরা যাদের সত্যিকারের গৃহের প্রয়োজন তাদের কথা ভুলে গেছি।
শুভেচ্ছা রইল -
নির্জন শিশির২৬ মে ২০১২, ২০:১০
কেমন আছেন? প্রথমেই ক্ষমা চাইছি এতদিন পর মন্তব্য করার জন্য। অনেকদিন হল ব্লগে বসা হয়না।
ভাল লাগলো, বেশ অনেকদিন পর আপনার কবিতা পড়লাম।
গভীরভাবে ভাবতে বলে আপনার কাব্য,
আমি আর আমরা জানিনা,
পারিনি জানতে অথবা বুঝতে;
শুভ-অশুভ জ্ঞান ছাড়াই সব ভেবেছি 'ভবিতব্য'।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
অগুন্তি মন্দির, মসজিদ, গির্জার সারি! "
আরো লিখবেন। ভালো থাকবেন। ভালো ভালো কবিতা পাঠাবেন। ধন্যবাদ