বিয়ের কার্ড

আমার বিয়ের কার্ড প্রথম আমার হবু শ্বশুরকে দিলাম।
শ্বশুর হতবাক, তার মেয়ের আসন্ন দুর্যোগ চিন্তায় স্তব্ধ।
আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।
তার ছল ছল চোখে দেখলাম শুধুই হতাশা।
আমার অফিসের বসকে আমার বিয়ের কার্ডটা দিতেই
তিনি তেড়ে উঠলেন। একটা কড়া ঝাড়ি দিয়ে বললেন,
“গত সপ্তাহেই তো ছুটি নিয়েছো।
আজ আর ছুটি পাবেনা। যাও।”
ওটা আমার বিয়ের কার্ড বলতেই ভ্রু- কুচকে বস
খামটা খুললেন, আমার দিকে উদাসীন চোখে তাকালেন।
আমার বন্ধু ইকবালকে বিয়ের কার্ডটা দিলাম।
ও খামটা খুলেই আমার দিকে ওর দীর্ঘ লোমশ
শরীরটা নিয়ে তেড়ে আসল।
আমি দৌড় দিলাম ওর বিখ্যাত ঘুষিটা এড়ানোর জন্য।
শুনলাম ও বলেছে, “শালা, আমার সাথে ফাজলামি।
এটা তোর বিয়ের কার্ড? তোকে পেয়ে নেই হাতের নাগালে।”
নীতার হাতে বিয়ের কার্ডটা দিলাম,
এই কার্ডে আমার নামের পাশে কনে হিসেবে ওর নাম লেখা।
পাতলা হলুদ খামে, সাদাকালো নকশাবিহীন একটা ফটোকপি কাগজ।
আমার বিয়ের কার্ড।
নীতা উল্টে পাল্টে কয়েকবার পড়ল কার্ডটা,
ওর চোখে অঝড় বৃষ্টি ঝড়ল, কাপা ঠোঁটে
কিছু হয়ত বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু ওর ঠোঁটের ক্ষমতা নেই
ওর ভিতরটা শব্দ দিয়ে বাইরে বের করে আনবে।
ওর ভিতরের ঝড় শুধু বৃষ্টি হয়েই ওর চোখে নামল।
নীতা শুধু ঝুকে এসে আমায় প্রণাম করল।
বুঝলাম ওর হৃদয়, ওর সমস্ত অস্তিত্ব আমার কাছে
সমর্পন করে দিয়ে ও অপেক্ষা করছে
আমার আত্মায় একাত্ম হওয়ার জন্য।
শুধু নীতাই বিয়ের কার্ডের উল্টো পিঠ পড়েছিল।
ওখানে লেখা ছিল,
“হিসেব করে দেখলাম, আমার ৫০০ অতিথির জন্য
৫০০ টা কার্ড ছাপতে অন্তত ৫০,০০০ টাকা লাগবে।
এ টাকায় আমি অন্তত ৫০০ দুঃস্থ, অভাগার মুখে
একবেলা একটু ভালো খাবার তুলে দিতে পারব।
তাই ২৫০ টাকায় ছাপানো আমার ৫০০
বিয়ের কার্ডের একটি আপনাকে।”
৫০০ মানুষের কয়েক সেকেন্ডের দৃষ্টি ক্ষুধা মেটানোর
চেয়ে ৫০০ মানুষের একবেলা বেঁচে থাকার ক্ষুধা
মেটানোই কি বেশি প্রয়োজন নয়? বেশি সুন্দর নয়?
কাগজে আঁকা কাল্পনিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে
মনের বাস্তব সৌন্দর্য্যই কি আরও বেশি সুন্দর নয়?
(পূর্বে প্রকাশিত)
লেখক অনিন্দ্য অন্তর অপু
- অনিন্দ্য অন্তর অপু -এর ব্লগ
- ৩৩ টি মন্তব্য
- ২৬ মার্চ ২০১২, ০০:২০
- কবিতা
প্রিন্ট করুন
- ৩৩ টি মন্তব্য
-
লুৎফুন নাহার জেসমিন২৬ মার্চ ২০১২, ০০:২৭
এক কথায়, অন্যরকম।
নীতা শুধু ঝুকে এসে আমায় প্রণাম করল।
বুঝলাম ওর হৃদয়, ওর সমস্ত অস্তিত্ব আমার কাছে
সমর্পন করে দিয়ে ও অপেক্ষা করছে
আমার আত্মায় একাত্ম হওয়ার জন্য।
ভয়ঙ্কর ভাল লেগেছে । আর সুন্দর সুন্দর লিখা আশা করছি । -
লুৎফুন নাহার জেসমিন২৬ মার্চ ২০১২, ০০:২৮
এক কথায়, অন্যরকম।
নীতা শুধু ঝুকে এসে আমায় প্রণাম করল।
বুঝলাম ওর হৃদয়, ওর সমস্ত অস্তিত্ব আমার কাছে
সমর্পন করে দিয়ে ও অপেক্ষা করছে
আমার আত্মায় একাত্ম হওয়ার জন্য।
ভয়ঙ্কর ভাল লেগেছে । আর সুন্দর সুন্দর লিখা আশা করছি । -
আহমেদ রাশেদ২৬ মার্চ ২০১২, ০০:৫০
এসব আইডিয়া কোথায় পান, ভাই!!! মাথা ভরা দুষ্টুবুদ্ধি না থাকলে তো এ জিনিস বেরুবার কথা নয়
হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে গেল আপনার চমৎকার ভাবনা...
এতদিনে একটি দুষ্টু ছেলের সন্ধান পাওয়া গেল; এমন দুষ্টুমি প্রতিনিয়ত কর ('তুমি' সম্বোধন করলাম, আশা করি কিছু মনে করবে না)।
জীবনের গভীরে অবলোকনের সামর্থ্যই তো শিল্পীর পুঁজি, এ না হলে শিল্পচর্চায় লাভ কি? শিল্পের সাধনা কর। জীবনের আরাধনার মাধ্যমে অনেক বড় লেখক হয়ে ওঠো, এই আশীর্বাদ! -
মাহফুজ আন্দালিব২৬ মার্চ ২০১২, ০১:৩২
ভালো লাগলো। আপনার সুন্দর কবিতার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগার মুহুর্তগুলো দীর্ঘস্থায়ী হোক। -
মাইনুল আমিন২৬ মার্চ ২০১২, ০১:৩৭
নীতা শুধু ঝুকে এসে আমায় প্রণাম করল।বুঝলাম ওর হৃদয়, ওর সমস্ত অস্তিত্ব আমার কাছে
সমর্পন করে দিয়ে ও অপেক্ষা করছে
আমার আত্মায় একাত্ম হওয়ার জন্য।
এক কথায় অসাধারণ। এমন প্রণামেয় মেয়ে জুটলে জীবনটা কেয়ামত চে কেয়ামত সুখেই কাটবে।
কার্ডের ডিজাইটা কি নিজের হাতে করা- তা আরও চমৎকার।
শুভকামনা রইলো সবসময় অনিন্দ্য। শুভেচ্ছা। -
সানশাইন ২৬ মার্চ ২০১২, ০২:০৪
একজন ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের মানুষকে জীবন সাথী করে আজীবন কাটাবার ধনুক ভাঙ্গা পণ যে করেছে, কার্ডটা উল্টে দেখা তার পক্ষেই সবচাইতে জরুরি....
আবারও মুগ্ধ!!! সারাজীবনেও আপনার পাগলামো না কমুক বরং উত্তরোত্তর বেড়ে চলুক, এই কামনা করছি -
বাউন্ডুলে তীর্থ২৬ মার্চ ২০১২, ০২:৩৬
আপসোস আপনার কবিতার মত সবাই সত্যিই যদি এমনটি ভাবত...
কিন্তু কেউ ভাবে না.. ভাবলেও করবে না... -
জালাল উদ্দিন মুহম্মদ২৬ মার্চ ২০১২, ০৬:৫৮
দরদ দিয়ে পড়েছি লেখাটা। দারুন একটা দৃশ্যকল্প ও চেতনার অনুভূতি। ভাল লাগল খুব। শুভকামনা রইলো। -
জিনজির২৬ মার্চ ২০১২, ১২:৫০
খুব ভাল লাগল। বিয়ের কার্ড দেখে মনটা জানি কেমন হল!!! কুহু কুহু ডাক দিল কিনা বুঝতে পারছি না! শুভেচ্ছা।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক