লজ্জা তিলক

সরকার, চক্রবর্তী, রায়, দাস, শীল, ভট্টাচার্য
নামের শেষে অদ্ভুত কিছু লেজ কি খুব অপরিহার্য?
মাঝখানে চন্দ্র, রাণী, কুমার
অদ্ভুত, অদ্ভুত সব নামের বাহার।
তোমার নাম কি? নাম বলি,
আহা পুরো নাম বল, পদবীটা কি?
উত্তর শুনে কেউ খুশি হয়, কারও মন খারাপ হয়।
আমি যে বর্ণে, পদবীতে কারও চেয়ে ছোট, কারও চেয়ে বড়!!
আমার চাকুরী দাতা আমার নাম দেখে
ইতস্ততবোধ করে; বড় ভাবনায় পড়ে।
নাম বলে ছেলেটা হিন্দু; সবই ঠিক; তবু,
চাকুরীটা দেব??? বেচারা বড় ভাবনায় পড়ে।
ওরা জানেনা, আমি আমার নামের পাশের
লজ্জা তিলকটা মনে প্রাণে ঘৃণা করি।
ওটা একটা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক আমার কপালে।
আমার মুখে বসন্তের কালো ক্ষতটা যেভাবে বয়ে বেড়াই,
নামের সাথে বৈষম্যের লজ্জাটাও তেমনি বয়ে বেড়াই।
আমি জন্মাবার সময় যদি কথা বলতে পারতাম,
কান্নার বদলে চিৎকার করে বলে উঠতাম,
“সাবধান!!! আমার নামের সাথে বর্ণ বৈষম্যের
লেভেলটা লাগাবেন না। লাগাবেন না।”
কিন্তু প্রকৃতি নিয়ম ভাঙ্গে না, প্রকৃতি বিভাজন চায়না।
আমরা চাই। জন্মের পর পর ই বর্ণ বৈষম্যের সিল মেরে দেই,
তুমি হিন্দু, তুমি মুসলমান, তুমি খ্রিষ্টান।
তুমি বৈশ্য, তুমি শূদ্র, তুমি ক্ষত্রিয় কিংবা ব্রাহ্মণ।।
নামের পাশে পদবী চাইনা, চাইনা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র নয়।
ছোট্ট সোনা প্রাণগুলো মানুষ হয়েই বেড়ে হোক, বেড়ে উঠুক।
লেখক অনিন্দ্য অন্তর অপু
- অনিন্দ্য অন্তর অপু -এর ব্লগ
- ৩০ টি মন্তব্য
- ১৫ মার্চ ২০১২, ২১:২৫
- কবিতা
- গড় রেটিং: ১০
প্রিন্ট করুন
- ৩০ টি মন্তব্য
-
মেঘলা_দুপুর ১৫ মার্চ ২০১২, ২১:৩৪
ছোট্ট সোনা প্রাণগুলো মানুষ হয়েই বেড়ে হোক, বেড়ে উঠুক।
সুন্দর অনুভব...ভালো থাকুন অপু -
সফেদ কুহেলি১৫ মার্চ ২০১২, ২১:৩৫
আমি জন্মাবার সময় যদি কথা বলতে পারতাম,
কান্নার বদলে চিৎকার করে বলে উঠতাম,
“সাবধান!!! আমার নামের সাথে বর্ণ বৈষম্যের
লেভেলটা লাগাবেন না। লাগাবেন না।”



দারুন ভাইজান, শুভেচ্ছা রইল

-
কবির য়াহমদ১৫ মার্চ ২০১২, ২১:৪৯
আমি যে বর্ণে, পদবীতে কারও চেয়ে ছোট, কারও চেয়ে বড়!!
ঠিক নয় এটা!
বাস্তবতাটা উঠে এলো।
শুভকামনা জানবেন। -
মিঠেল রোদ১৫ মার্চ ২০১২, ২১:৫৮
আপনার লেখাটা পড়ে খুবই ভাল লাগল।এই রকম সুন্দর সুন্দর লেখা ভবিষতে আরো আশা করছি।ধন্যবাদ ভাই। -
অসংজ্ঞায়িত মেহেদী১৫ মার্চ ২০১২, ২৩:১২
নামের পাশে পদবী চাইনা, চাইনা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক।

অনেক ভালো লাগলো....
-
বালুচর১৫ মার্চ ২০১২, ২৩:২২
নাম ব্যক্তি সনাক্তকরন
আর-
পদবী বর্ণ সনাক্তকরন।
আমরা না চাইলেও চলতে থাকবে, দেশে দেশে। -
আব্রাহাম আল আমিন জয়১৬ মার্চ ২০১২, ০৮:০২
ওরা জানেনা, আমি আমার নামের পাশের
লজ্জা তিলকটা মনে প্রাণে ঘৃণা করি।
ওটা একটা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক আমার কপালে।
আমার মুখে বসন্তের কালো ক্ষতটা যেভাবে বয়ে বেড়াই,
নামের সাথে বৈষম্যের লজ্জাটাও তেমনি বয়ে বেড়াই।
কিন্তু প্রকৃতি নিয়ম ভাঙ্গে না, প্রকৃতি বিভাজন চায়না।
আমরা চাই। জন্মের পর পর ই বর্ণ বৈষম্যের সিল মেরে দেই,
তুমি হিন্দু, তুমি মুসলমান, তুমি খ্রিষ্টান।
তুমি বৈশ্য, তুমি শূদ্র, তুমি ক্ষত্রিয় কিংবা ব্রাহ্মণ।।
অপু ভাই,
এতো সুন্দর করে আপনার মতো ভাবিনি কখনো।ব্লগে আরো আগে কেন যে আসলাম না!
অনেক মিস করেছি আপনার লেখা ।কিন্তু আর যাবেন কোথায়?
সঙ্গে আছি সবসময়।


-
কামাল উদ্দিন২০ মার্চ ২০১২, ০৭:২৩
তুমি হিন্দু, তুমি মুসলমান, তুমি খ্রিষ্টান।
তুমি বৈশ্য, তুমি শূদ্র, তুমি ক্ষত্রিয় কিংবা ব্রাহ্মণ।।
নামের পাশে পদবী চাইনা, চাইনা বর্ণ বৈষম্যের লজ্জা তিলক।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র নয়।
ছোট্ট সোনা প্রাণগুলো মানুষ হয়েই বেড়ে হোক, বেড়ে উঠুক।
আমি এমনটা কখনো চাই, মানুষ কে মানুষ হিসাবে দেখতে চাই, জানতে চাই মানুষ হিসাবে । আপনার এমন প্রতিবাদী কবিতা আমার খুব ভালো লেগেছে ।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক