মেঘের কোলে রোদ-৭(ধারাবাহিক উপন্যাস)
মেঘের কোলে রোদ-ধারাবাহিকের আগের পর্ব গুলি
মেঘের কোলে রোদ-১
মেঘের কোলে রোদ-২
মেঘের কোলে রোদ-৩
মেঘের কোলে রোদ-৪
মেঘের কোলে রোদ-৫
মেঘের কোলে রোদ-৬
সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে গনেশ। সে এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।
বাড়ির সকলের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। বাবা তার চেহারা
দেখলেই ক্ষেপে ওঠে। মায়েরও খুব একটা মায়া নাই। থাকেই বা কি করে।
বাবা-মায়ের বিরক্ত হওয়ার মত কাজ করেছিল গনেশ।
মেয়েটির নাম শিউলি। যাত্রাপালা করে।শান্ত আর ভদ্র।যাত্রাপালার
যারা এসেছিল তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পড়েছিল গনেশের উপর।
হয়ত বাড়াবাড়ি রকমের দেখভাল করেছিল গনেশ, যা নিন্দুকদের চোখে
দৃষ্টিকটু। তাদের কেউ খবরটা তুলে দিয়েছিল বাবার কানে।
সকালে গনেশ ঘুম থেকে উঠতে পারেনি। সারারাত জেগে থাকার
ধকল।পাছায় লাথি খেয়ে চিৎকার করে উঠেছিল, কে-কে, কোন শালা
রে।
পটাপট আরো চারটে লাথি, সেই সাথে গালমন্দ,আমি তোর বাপ,
তোর মামারা আমার শালা হয়।
হতচকিত গনেশ কি বলবে আর কি করবে ভেবে উঠতে পারেনি।
কোনরকমে বলেছিল, আমি কি দোষ করলাম?
--- ওই বেবুশ্যে মেয়েটার সাথে তোর অত মাখামাখি কিসের?
শিউলিকে অমন ভাষায় সম্বোধন আশা করেনি গনেশ। তার
মাথায় রক্ত চড়ে গেল। বলল, খবরদার ওর সমন্ধে খারাপ কথা
বলবে না, ওকে আমি ভালবাসি।
শুরু হয়ে গেছিল বাবা-ছেলের তর্কযুদ্ধ। কেউ নিজের জেদ থেকে
একচুল সরতে নারাজ। তখনই কে যেন খবরটা পৌঁছে দিয়েছে
দাদার কানে। দাদা এল। দরজার বাইরে থেকে ডাকল, কাকাবাবু
একবার বাইরে আসেন।
সাপের মাথায় জড়ি পড়লে নাকি ফণা নামিয়ে পালায়। বাবারও
তেমন অবস্থা। ধীরপায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দাদার মধ্যস্থতায় মিটমাট হল সমস্যার কিন্তু আগুন এখনও জ্বলে।
বাবা সুযোগ পেলেই কথার বাণ মারে। মা পোড়া রুটি-তরকারী তার
জন্যে বেছে তুলে রাখে।
ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে গনেশের। পারে না। দাদার মুখ
মনে পড়ে। দাদাকে ছেড়ে একদিন থাকতে কষ্ট হয়, তাই সে বাড়ি
থেকে পালানোর ভাবনাটা স্থগিত রাখে। তবে দিদি যখন কথার
খোঁচা দেয়, তখন মনে হয়, চলে যাব শিউলীর কাছে।
এবারের পালায় অন্য মেয়ে আসছে। তাতে মনে কোন
দুঃখ নাই গনেশের।তবু শিউলীর কথা ভেবে কষ্ট হয়।জানতে
ইচ্ছে করে,কেমন আছে সে। জানার কোন উপায় নাই। সেই
মেয়ের ঠিকানা জানে না গনেশ। মোবাইল নাম্বারও নেওয়া
হয়নি। দাদা জানে ।তাকে এসব বলা যায় না।
দাদার কথা ভেবে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে গনেশ। রাত
বেশ গভীর।হাঁকডাক করলে হয়ত দরজা খুলবে,কিন্তু গালমন্দ
করবে। তারচেয়ে পাঁচিল টপকানো ভাল।
পাঁচিল টপকে বাড়ি ঢুকে ধরা পড়ে গেল গনেশ। অতসী
জেগে ছিল। সে দোতলার বারান্দা থেকে টর্চের আলো ফেলে
বলে উঠল, কে,কে ওখানে?
--- আমি দিদি।
---ও গনশা, তা তুই পাঁচিল টপকালি কেন? আমাকে ডাকলেই
তো দরজা খুলে দিতাম।
পাঁচিল টপকাতে গিয়ে হাত-পা ছড়ে গেছে গনেশের। সেখানে
হাত বুলোতে বুলোতে সে বলল, আমি ভেবেছিলাম তোমরা
বোধহয় ঘুমিয়ে গেছো।
--- যুগ্গি পুত্তুর সমাজসেবা করে ফিরবেন বলে কি বাবা-মাকে
জেগে বসে থাকতে হবে।
নিরুপায় গনেশ এবার ঠোঁটে আঙুল রেখে চাপা স্বরে বলল,
চুপ, দাদা আছে বাইরে।
তাড়াতাড়ি সিঁড়ি টপকে নিচে নেমে এল অতসী। বলল, মানুষটাকে
বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস!
--- কি করব, দাদা যে ভিতরে আসতে চায় না,আমি তাই বাড়ি
ঢুকলাম দুটো মুড়ি পেয়াঁজ নিয়ে চলে যাব বলে।
--- কই কোথায় তিনি, চল আমি দেখি, এতরাতে পরের বাড়ির
মুড়ি চুরি করে খাবেন, ভারি ভদ্রলোক।
--- তোর পায়ে পড়ি দিদি, দাদাকে অপমান করিস না।
গনেশের কথা শুনেও শুনল না অতসী। সদর দরজা খুলে বেরিয়ে
এল বাইরে। অন্ধকারে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে দেখল আশেপাশে গনেশের
‘দাদা’ আছে কিনা।
(পরের কথা আগামী পরবে।)
মেঘের কোলে রোদ-১
মেঘের কোলে রোদ-২
মেঘের কোলে রোদ-৩
মেঘের কোলে রোদ-৪
মেঘের কোলে রোদ-৫
মেঘের কোলে রোদ-৬
সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে গনেশ। সে এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।
বাড়ির সকলের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। বাবা তার চেহারা
দেখলেই ক্ষেপে ওঠে। মায়েরও খুব একটা মায়া নাই। থাকেই বা কি করে।
বাবা-মায়ের বিরক্ত হওয়ার মত কাজ করেছিল গনেশ।
মেয়েটির নাম শিউলি। যাত্রাপালা করে।শান্ত আর ভদ্র।যাত্রাপালার
যারা এসেছিল তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পড়েছিল গনেশের উপর।
হয়ত বাড়াবাড়ি রকমের দেখভাল করেছিল গনেশ, যা নিন্দুকদের চোখে
দৃষ্টিকটু। তাদের কেউ খবরটা তুলে দিয়েছিল বাবার কানে।
সকালে গনেশ ঘুম থেকে উঠতে পারেনি। সারারাত জেগে থাকার
ধকল।পাছায় লাথি খেয়ে চিৎকার করে উঠেছিল, কে-কে, কোন শালা
রে।
পটাপট আরো চারটে লাথি, সেই সাথে গালমন্দ,আমি তোর বাপ,
তোর মামারা আমার শালা হয়।
হতচকিত গনেশ কি বলবে আর কি করবে ভেবে উঠতে পারেনি।
কোনরকমে বলেছিল, আমি কি দোষ করলাম?
--- ওই বেবুশ্যে মেয়েটার সাথে তোর অত মাখামাখি কিসের?
শিউলিকে অমন ভাষায় সম্বোধন আশা করেনি গনেশ। তার
মাথায় রক্ত চড়ে গেল। বলল, খবরদার ওর সমন্ধে খারাপ কথা
বলবে না, ওকে আমি ভালবাসি।
শুরু হয়ে গেছিল বাবা-ছেলের তর্কযুদ্ধ। কেউ নিজের জেদ থেকে
একচুল সরতে নারাজ। তখনই কে যেন খবরটা পৌঁছে দিয়েছে
দাদার কানে। দাদা এল। দরজার বাইরে থেকে ডাকল, কাকাবাবু
একবার বাইরে আসেন।
সাপের মাথায় জড়ি পড়লে নাকি ফণা নামিয়ে পালায়। বাবারও
তেমন অবস্থা। ধীরপায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দাদার মধ্যস্থতায় মিটমাট হল সমস্যার কিন্তু আগুন এখনও জ্বলে।
বাবা সুযোগ পেলেই কথার বাণ মারে। মা পোড়া রুটি-তরকারী তার
জন্যে বেছে তুলে রাখে।
ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে গনেশের। পারে না। দাদার মুখ
মনে পড়ে। দাদাকে ছেড়ে একদিন থাকতে কষ্ট হয়, তাই সে বাড়ি
থেকে পালানোর ভাবনাটা স্থগিত রাখে। তবে দিদি যখন কথার
খোঁচা দেয়, তখন মনে হয়, চলে যাব শিউলীর কাছে।
এবারের পালায় অন্য মেয়ে আসছে। তাতে মনে কোন
দুঃখ নাই গনেশের।তবু শিউলীর কথা ভেবে কষ্ট হয়।জানতে
ইচ্ছে করে,কেমন আছে সে। জানার কোন উপায় নাই। সেই
মেয়ের ঠিকানা জানে না গনেশ। মোবাইল নাম্বারও নেওয়া
হয়নি। দাদা জানে ।তাকে এসব বলা যায় না।
দাদার কথা ভেবে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে গনেশ। রাত
বেশ গভীর।হাঁকডাক করলে হয়ত দরজা খুলবে,কিন্তু গালমন্দ
করবে। তারচেয়ে পাঁচিল টপকানো ভাল।
পাঁচিল টপকে বাড়ি ঢুকে ধরা পড়ে গেল গনেশ। অতসী
জেগে ছিল। সে দোতলার বারান্দা থেকে টর্চের আলো ফেলে
বলে উঠল, কে,কে ওখানে?
--- আমি দিদি।
---ও গনশা, তা তুই পাঁচিল টপকালি কেন? আমাকে ডাকলেই
তো দরজা খুলে দিতাম।
পাঁচিল টপকাতে গিয়ে হাত-পা ছড়ে গেছে গনেশের। সেখানে
হাত বুলোতে বুলোতে সে বলল, আমি ভেবেছিলাম তোমরা
বোধহয় ঘুমিয়ে গেছো।
--- যুগ্গি পুত্তুর সমাজসেবা করে ফিরবেন বলে কি বাবা-মাকে
জেগে বসে থাকতে হবে।
নিরুপায় গনেশ এবার ঠোঁটে আঙুল রেখে চাপা স্বরে বলল,
চুপ, দাদা আছে বাইরে।
তাড়াতাড়ি সিঁড়ি টপকে নিচে নেমে এল অতসী। বলল, মানুষটাকে
বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস!
--- কি করব, দাদা যে ভিতরে আসতে চায় না,আমি তাই বাড়ি
ঢুকলাম দুটো মুড়ি পেয়াঁজ নিয়ে চলে যাব বলে।
--- কই কোথায় তিনি, চল আমি দেখি, এতরাতে পরের বাড়ির
মুড়ি চুরি করে খাবেন, ভারি ভদ্রলোক।
--- তোর পায়ে পড়ি দিদি, দাদাকে অপমান করিস না।
গনেশের কথা শুনেও শুনল না অতসী। সদর দরজা খুলে বেরিয়ে
এল বাইরে। অন্ধকারে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিয়ে দেখল আশেপাশে গনেশের
‘দাদা’ আছে কিনা।
(পরের কথা আগামী পরবে।)
লেখক তুষার আহাসান
- তুষার আহাসান -এর ব্লগ
- ৬ টি মন্তব্য
- ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
- উপন্যাস
প্রিন্ট করুন
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক