মেহফিল- শরাবীর শায়েরী
আজ সন্ধ্যার এই মেহফিলে আপনাদের জন্য পেশ করছি পাঁচটি শায়েরী। শরাবের নেশায় মত্ত ব্যর্থ এক প্রেমিকের ব্যথা ভরা কিছু কথা।
তার আগে বলে নিই শায়েরীর কিছু কথা। শায়েরী হচ্ছে দুই পঙ্কতির একটি শ্লোক যেখানে ফোটে উঠে সম্পূর্ণ একটি চিন্তার ছবি। শায়েরীর উৎপত্তি ইরান থেকে। এখন হিন্দি, উর্দু ও পাঞ্জাবী সাহিত্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আগেকার বাদশাহদের দরবারে খুব জনপ্রিয় ছিল শায়েরী। শায়েরীতে অল্প কথায় ফোটিয়ে তোলা হয় জাগতিক ও আধ্যাত্মিক প্রেম, সৌন্দর্য, বিরহ এবং মানবতা। এখানে চার পঙ্কতি দেখা গেলেও আসলে কিন্তু দুই পঙ্কতি। শায়েরী আবৃত্তির নিয়ম অনুসারে প্রথম পঙ্কতির প্রথম অংশ প্রথমে আবৃত্তি করে থেমে আবার প্রথম থেকে শুরু করে দ্বিতীয় পঙ্কতিসহ শেষ করতে হয়। আমি বাংলায় লিখতে চেষ্টা করেছি। আশা করি সবার ভাল লাগবে।
(১)
কোন বেদরদী বলে আমি শরাবী
শরাব তো বিরান হৃদয়ের মাঝে একটু বৃষ্টি,
দুঃখ ভুলে যেতে পান করি-দুঃখ ভুলে রই
আমি কিন্তু শরাবী নই ।।
(২)
প্রিয়ার আঁখি পানে চেয়ে যে নেশা পান করেছি
সেই নেশার ঘোরেই বেহুঁশ আমি,
আমার মন তো উজাড় করে দিয়েছি তার তরে
তবু সে আমায় ভালবাসেনি।।
(৩)
ছেঁড়া কাগজের মতই জীবন আমার
না আছে কোন সুহৃদ, অবহেলায় পড়ে থাকি,
শরাব ছাড়া কেউ বুঝলনা মনের ব্যথা
শরাবকে আপন করেই বেঁচে আছি।
(৪)
নার্গিসের বনে সুরহীন বুলবুলি
যেন কলিতে ঝরা গোলাপের বিলাপে নিরব,
আর এখনে আমি মরু তৃষ্ণায় ছটফট করে মরি
তবু প্রিয়া মোর রাখেনি খবর।।
(৫)
যে আরমান বেঁধেছিলাম বুকে
সেই আরমান মোরে করল ফকির,
শরাবের পেয়ালাতেও ভেসে উঠে
বেরহম প্রিয়ার তসবির।।
*আরমান- আশা *তসবির- ছবি
তার আগে বলে নিই শায়েরীর কিছু কথা। শায়েরী হচ্ছে দুই পঙ্কতির একটি শ্লোক যেখানে ফোটে উঠে সম্পূর্ণ একটি চিন্তার ছবি। শায়েরীর উৎপত্তি ইরান থেকে। এখন হিন্দি, উর্দু ও পাঞ্জাবী সাহিত্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আগেকার বাদশাহদের দরবারে খুব জনপ্রিয় ছিল শায়েরী। শায়েরীতে অল্প কথায় ফোটিয়ে তোলা হয় জাগতিক ও আধ্যাত্মিক প্রেম, সৌন্দর্য, বিরহ এবং মানবতা। এখানে চার পঙ্কতি দেখা গেলেও আসলে কিন্তু দুই পঙ্কতি। শায়েরী আবৃত্তির নিয়ম অনুসারে প্রথম পঙ্কতির প্রথম অংশ প্রথমে আবৃত্তি করে থেমে আবার প্রথম থেকে শুরু করে দ্বিতীয় পঙ্কতিসহ শেষ করতে হয়। আমি বাংলায় লিখতে চেষ্টা করেছি। আশা করি সবার ভাল লাগবে।
(১)
কোন বেদরদী বলে আমি শরাবী
শরাব তো বিরান হৃদয়ের মাঝে একটু বৃষ্টি,
দুঃখ ভুলে যেতে পান করি-দুঃখ ভুলে রই
আমি কিন্তু শরাবী নই ।।
(২)
প্রিয়ার আঁখি পানে চেয়ে যে নেশা পান করেছি
সেই নেশার ঘোরেই বেহুঁশ আমি,
আমার মন তো উজাড় করে দিয়েছি তার তরে
তবু সে আমায় ভালবাসেনি।।
(৩)
ছেঁড়া কাগজের মতই জীবন আমার
না আছে কোন সুহৃদ, অবহেলায় পড়ে থাকি,
শরাব ছাড়া কেউ বুঝলনা মনের ব্যথা
শরাবকে আপন করেই বেঁচে আছি।
(৪)
নার্গিসের বনে সুরহীন বুলবুলি
যেন কলিতে ঝরা গোলাপের বিলাপে নিরব,
আর এখনে আমি মরু তৃষ্ণায় ছটফট করে মরি
তবু প্রিয়া মোর রাখেনি খবর।।
(৫)
যে আরমান বেঁধেছিলাম বুকে
সেই আরমান মোরে করল ফকির,
শরাবের পেয়ালাতেও ভেসে উঠে
বেরহম প্রিয়ার তসবির।।
*আরমান- আশা *তসবির- ছবি
লেখক সজল শর্মা
- সজল শর্মা -এর ব্লগ
- ৩১ টি মন্তব্য
- ১৩ নভেম্বর ২০০৮, ০৭:২৪
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৩১ টি মন্তব্য
-
রিয়াদ১৩ নভেম্বর ২০০৮, ০৭:৪৫
প্রকৌশলীর ছাত্র। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে আপনি লিখেছেন। আচ্ছা লিখলে ভাবধারা কার থেকে নেয়া নাকি একেবারে নিজের। আসলে ভয়ংকর সুন্দর। রুমিকে ফলো করলে আর একটু ভাল করবেন।
-
হলুদ পাখি১৩ নভেম্বর ২০০৮, ০৯:০৯
সজলবাবু, এট্টুসখানি কৌতূহল হচ্চে, আপনি দাতা না গ্রহীতা - শিক্ষক না শিক্ষার্থী? -
আইরিন সুলতানা১৩ নভেম্বর ২০০৮, ১০:২৩
সজল শর্মা বলেছেন ২০০৮/১১/১৩ ২১:২৫:৩২
আদাব.....আদাব............আদাব ।
আপনি দেখছি মেহফিলের সব রীতি-নীতি জানেন।
===============================
কখনও উঁকি দিয়েছিলাম তোমাদেরই মেহফিলে
ছলকে পরা সাকির পেয়ালার টুং টাং শব্দে
ভরা মজলিশে একা আমিই ভেবে হয়রান
নিজ আঁখি জল পান করো সব কি এতো আনন্দে !
(ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন জনাব...কখনও এরকম কিছু লেখার চেষ্টা করিনি...শুধু আপনাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র) -
দিনমজুর১৬ নভেম্বর ২০০৮, ১০:৩৭
সুরার পাত্র হবে যখন খালি
কল্পনাতে ভেবো নারির আখি
অঙ্কে তুমি মোটেও নও কাচা
চেতন থেকে অবধি সজল শর্মা





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক