শুক্রবার ২৪ মে ২০১৩, ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


রেলমন্ত্রীর জন্য ‘দৃশ্যমান কাজের’ একটি প্রস্তাবনা

ঢাকা থেকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া অবধি ‘তিতাস এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটি যখন চালু হয় তখন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া,নরসিংদী,ভৈরবের অনেকেই ঢাকার বাসাবাড়ী ছেড়ে দেয়। এদের প্রায় সবাই চাকরীজীবী এবং ঢাকায় মেসে কিংবা বাসাভাড়া করে থাকতেন,সপ্তাহান্তে ফিরে যেতেন পরিবাররের কাছে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ীতে। কিন্তু ‘তিতাস’ তাদের জীবনযাত্রার ধরনটাই পাল্টে দেয়। ঠিক সময়ে ছেড়ে ঠিক সময়ে পৌঁছাটাই যখন এই ট্রেনের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাড়ায় তখন নিজ বাড়ী থেকে ভোরের ট্রেনে ঢাকায় গিয়ে চাকরী করে সন্ধ্যায় ফিরে আসাটাই হয়ে উঠে এই অঞ্চলের চাকরীজীবীদের অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিন। ’তিতাস এক্সপ্রেস’ এখনো চলছে এবং প্রতিবছরই মুনাফা করে যাচ্ছে। বলে রাখা ভালো ,এই ট্রেনটি পরিচালিত হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

গত (১২ ডিসেম্বর) দৈনিক ‘আমাদের সময়ে’ প্রকাশিত ‘দৃশ্যমান কাজের খোঁজে রেলমন্ত্রী’ শিরোনামে খবরটা পড়তে পড়তেই তিতাস এক্সপ্রেসের কথা মনে পড়লো। আমাদের সময়ের রিপোর্টটিতে যদিও আশাবাদী হ্ওয়ার মতো কোনা বার্তাই নেই। বরং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে কথাটি বলা হয়েছে তার মর্ম কথা হচ্ছে দেশের প্রথম রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রেল্ওয়েকে নিয়ে চোখে পড়ার মতো কিছু করতে চান, কিন্তু সেটি করার জন্য পর্যাপ্ত সময় তার হাতে নেই। আমি অবশ্য এর সঙ্গে একমত পোষন করি না। আমি মনে করি ’চোখে পড়ার মতো’ কিছু কাজ অন্তত দুই বছরেরও কম সময়েই করা সম্ভব।

রেলওয়ের ভাবমূর্তিকে ইতিবাচকধারায় ফিরিয়ে আনতে ‘নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে’র ইমেজ থেকে বের করে আনতে হবে। এর সঙ্গে বাজেট বা টাকা পয়সার তেমন একটা সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তা দিয়েই রেল্ওয়ের সময়ানুবর্তিতাকে নিশ্চিত করা যায়। তিতাস এক্সপ্রেসকেই যদি উদাহরন হিসেবে ধরি, তাহলে দেখা যায় এর ব্যবস্থাপনা এবং লোকবলই কেবল বেসরকারিখাতের। রেল্ওয়ের লাইন ব্যবহার করে তাদের নির্দেশনায়ই এই ট্রেনটি প্রতিদিন চলাচল করে। অথচ বলতে গেলে ঘড়ির কাটার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই ট্রেনটি চলাচল করে। কখনো কখনো এটিও যে দেরি করে না তা নয়, কিন্তু সেটি সামগ্রিক বাংলাদেশ রেল্ওয়ের চরিত্র এখনো ধারন করে নি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রতিটি স্টেশনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান আসন থাকে ট্রেনটিতে,সেই আসনঅনুপাতেই টিকেট বিক্রি করা হয়। বাড়তি কিছু টিকেট বিক্রি করা হয় ‘স্ট্যাণ্ডিং’ টিকেট হিসেবে,যারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ট্রেন ভ্রমন করতে চান তারা কিনেন এই টিকেটগুলো। বিনা টিকেটে কোনো যাত্রীকে তিতাসে চড়তে আমি অন্তত দেখিনি।

রেলস্টেশনগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ করে ওয়াশরুম আর যাত্রীদের অপেক্ষা করার রুমটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার সঙ্গে নিশ্চয় হাজার কোটি টাকার বাজেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রেল্ওয়ের বগিগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারটা যোগ করল্ওে কি খরচের হিসাবটা বেশি বেড়ে যাবে? ফ্যানের কথাটা আপাতত বাদই দিলাম,যথাসময়ে ট্রেন চলাচল করলে এইটুকু কষ্ট যাত্রীরা মেনেই নেবেন বলে আমার ধারনা।তবে নিরাপত্তার কারনেই লাইটের ব্যবস্থা রাখা জরুরী।এতে কিছু টাকা ব্যয় হল্ওে বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়। ট্রেনে চড়ে যারা চলাচল করেন তারা আপাতত এইটুকু পেলেই মন্ত্রীকে, সরকারকে যে বাহবা দিতে শুরু করবেন, তা নির্দি¦ধায় বলা যায়। ডবল লাইন কিংবা অন্যান্য বড় বড় প্রকল্পের জন্যে অর্থের প্রয়োজন,সময়ের প্রয়োজন- সেগুলো তিনি রয়ে সয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন।
তিতাসের অভিজ্ঞতা থেকে আরো একটা উদ্যোগ নিতে পারেন আমাদের রেলমন্ত্রী। সেটা হচ্ছে তিতাসের মতো অল্পবগির কয়েকটা ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিতে পারেন তিনি। শাটল এই ট্রেনগুলো চলবে কমলাপুর থেকে গাজিপুর,নিদেনপক্ষে টঙ্গী পর্যন্ত। অর্থের যোগান দেওয়া গেলে এই শাটল ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সিটা বাড়ানো যেতে পারে। দিনে রাতে মিলিয়ে বিশেষ করে সকালের অফিস আ্ওয়ারে এবং বিকেলে বাড়ীর ফেরার সময়টায় স্বল্পতম ফ্রিকোয়েন্সীতে এই শাটল ট্রেন চলাচল করলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যে এই শাটলট্রেনগুলোতে চেপে বসবে তা চোখ বন্ধ করেই বলে দ্ওেয়া যায়। রাজধানীর অসহনীয় যানযটে বাসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার চেয়ে খানিকটা ঘুরে হল্ওে লোকজন ট্রেনে চড়তেই উৎসাহি হবে। ফলশ্রুতিতে অনিবার্যভাবেই যানযটের চাপ খানিকটা হললেও কমবে।

যানযট নিয়ে আলোচনায় শাটল ট্রেনের প্রস্তাবনাটা ঢাকায় বিভিন্ন সময় উচ্চারিত হতে শুনেছি। কিন্তু এই প্রস্তাবনাটি নিয়ে জোড়েসোড়ে কোনো আলোচনা বা সমীক্ষা চালানোর কোনো খবর আমরা পাইনি। যোগাযোগমন্ত্রণালয় অবশ্য গত তিনবছর ধরেই আকাশ ছোঁয়া নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা নগরবাসীকে শুনিয়েছে। কিন্তু রেল্ওয়ে নির্ভর এই প্রস্তাবনাটা সম্ভবত বড় বড় স্বপ্নের ধারে কাছ্ওে পৌঁছাতে পারেনি। নতুন রেলমন্ত্রী যেহেতু ‘একটা কিছু’ করতেই চান, তিনি অন্তত এই উদ্যোগের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারেন।

পত্রিকার খবর অনুয়ায়ী , বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমানে ১৪ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২টি নতুন প্রকল্প এবং ৫ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর কয়টা প্রকল্প সত্যিকার অর্থেই রেল্ওয়ের উন্নয়নের জন্য ন্ওেয়া আর কয়টি রাজনৈতিক কারনে ন্ওেয়া তা জানার সুযোগ আমাদের নেই। তবে রেলমন্ত্রী এই প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি পর্যালোচনা করে কম প্রয়োজনীয় প্রকল্প থেকে প্রযোজনে তহবিল স্থানান্তর করে ছোটোখাটো কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারেন। বর্তমান সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ আছে আরো দুই বছর। এক বছরের মধ্যেই নতুন রেলমন্ত্রী ’দৃশ্যমান’ কিছু কাজ করে রেল্ওয়ের ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টার একটা বার্তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারেন। নতুন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সেটি করবেন কী না সেটিই অবশ্য বড় প্রশ্ন।
১২ টি মন্তব্য
nilbalok নীলবালক১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:৩৪
techmaxim ঢাকা১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:৪৯
রেলওয়ের ভাবমূর্তিকে ইতিবাচকধারায় ফিরিয়ে আনতে ‘নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে’র ইমেজ থেকে বের করে আনতে হবে।
shaugat শওগাত আলী সাগর ১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:১৭
আপনাকে ধন্যবাদ
vobogorepothik ভবঘুরে পথিক১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:৫২
ঠিক সময়ে ছেড়ে ঠিক সময়ে পৌঁছাটাই যখন এই ট্রেনের বৈশিষ্ট্য

তিতাস ট্রেন যখন বেসরকারী মালিকানায় চলে তখন ঠিক সময়ে চলে। কিন্তু যখন সরকারী মালিকানায় চলে তখন আর ট্রেনের নিডিউল ঠিক থাকেনা। কাল দেখলাম ট্রেন দুই ঘন্টা দেরিতে চলছে। আগের প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ মনে হয় শেষ। তাই (হয়তো) এখন সরকারীভাবেই চলছে। ট্রেন যদি সময় মত না চলে তাহলে লোকজন আর ট্রেনে উঠেনা।
soyan শয়ন১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ০০:৪৯
আপনার এই মতের সাথে একমত নই।সিডিউল ব্রেক হওয়ার মূল কারন দুটি ট্রেনের মধ্য ক্রসিং।এক ট্রেন আসছে বলে অপর ট্রেনকে স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়।এই সমস্যা এড়ানোর জন্য দুই লেনের রেলপথ বসানো দরকার। তীব্র লোকবল সংকট দূর করা দরকার।আর টিটিদের দূর্ণীতি রোধ করার জন্য ট্রেনকে বেসরকারি খাতে ভাড়া দেওয়া দরকার ,তবে রেলকে বেসরকারিকরণের বিপক্ষে ।
ট্রেন থাকবে বেসরকারী মালিকানায় কিন্তু রেল থাকবে সরকারি মালিকানায় দেশের আপামর জনসাধারণের সম্পদ হিসেবে
shaugat শওগাত আলী সাগর ১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:১৫
@ভবঘুরে পথিক
রেলকে সরকারি মালিকানায় রাখার পক্ষে আমি। তবে এর ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব আনতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।
vuterachor ভূতের আছড় ১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩:১৮
এই মন্ত্রীকে খতনা করিয়ে তবলিগে পাঠানো উচিত -- আগে মুখভঙ্গি ঠিক করা উচিত
monowarrubel মনোয়ার রুবেল১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১৩:৪৩
ভুতের আছর, হঠাত খেপ্লেন কেন
vuterachor ভূতের আছড় ১৮ ডিসেম্বর ২০১১, ১৭:২০
নুতান না পুরানো ক্ষ্যাপা -- আর এটা ক্ষ্যপা হিসেবে দেখছেন কেনো ?
soyan শয়ন১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ০০:৫১
মন্ত্রীর উপর ভূতের আছর পড়ুক
soyan শয়ন১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ০০:৩৫
১০০ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ জনের মত।১০০ জনের কাজ ৩০ জন করলে তো এরকম অব্যবস্থাপনা থাকবেই।
সকল ট্যাকনিক্যাল পদ সরকারি রেখে বেসরকারি খাতে ট্রেন ভাড়া দেয়া হোক।নতুন নতুন ট্রেন নামানো হোক।ক্রসিং এর সমস্যা এড়ানোর জন্য দুই লেনের রেলপথ বসানো হোক।এই ক্রসিং করতে যেয়েই কিন্তু টাইম সিডিউল নষ্ট হচ্ছে
shaugat শওগাত আলী সাগর ১৯ ডিসেম্বর ২০১১, ১২:১৩
@শয়ন
আসলে বছরের পর বছর ধরে রেলওয়েতে লুটপাটই হয়েছে। উন্নয়নের তেমন কোনো চেষ্টাই হয়নি। সে জন্যেই যোগ্য লোকবল তৈরিরও চেষ্টা হয়নি। কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সেই জন্যেই রেলওয়ে নিয়ে আমাদের বেশি বেশি কথা বলতে হবে।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment