এক গ্লাস দুধ
মানুষকে সাহায্য করুন। যতটা আপনার পক্ষে সম্ভব । হয়তো এই অল্প সাহায্যের ফল হিসেবে আপনি এমন কিছু পাবেন, যা কখনো আপনি চিন্তাই করেননি। ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করতে যেয়ে আমি নিচের গল্পটা আবিষ্কার করি। গল্পটা হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যে পড়ে থাকতে পারেন। তারপরেও, গল্পটা এতোই ভালো লেগেছিল যে, আপনাদের সাথে শেয়ার করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম নাম। গল্পটা হুবুহু তুলে ধরা হল।
একদিন একটা গরীব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিলো। সে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতো । ছেলেটার গায়ে ছিলো একটা জীর্ন মলিন পোষাক।
সে ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলো । ...
সে ভাবলো যে, পরে যে বাসায় যাবে, সেখানে গিয়ে সে কিছু খাবার চাইবে। কিন্তু সে যখন একটা বাসায় গেলো খাবারের আশা নিয়ে, সে ঘর থেকে একজন সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন। সে খাবারের কথা বলতে ভয় পেলো।
সে খাবারের কথা না বলে শুধু এক গ্লাস পানি চাইলো। মহিলা ছেলেটার অবস্থা দেখে বুঝলেন যে সে ক্ষুধার্ত। তাই
তিনি ছেলেটাকে একটা বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন। ছেলেটা আস্তে আস্তে দুধটুকু খেয়ে বলল
"আপনাকে আমার কত টাকা দিতে হবে এই দুধের জন্য ?"
মহিলা বলল"তোমাকে কোন কিছুই দিতে হবে না। ছেলেটা বলল "আমার মা আমাকে বলেছেন কখনো করুণার দান না নিতে । তাহলে আমি আপনাকে মনের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।"
ছেলেটার নাম ছিলো স্যাম কেইলি। স্যাম যখন দুধ খেয়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে এল, তখন সে শারিরিকভাবে কিছুটা শক্তি অনুভব করলো। স্যাম এর বিধাতার উপর ছিলো অগাধ বিশ্বাস। তাছাড়া সে কখনো কিছু ভুলতো না।
অনেক বছর পর ঐ মহিলা মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরলো। স্থানীয় ডাক্তাররা তাকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হল। তখন তাকে পাঠানো হলো একটা বড় শহরের নামকরা হাসপাতালে। যেখানে দুলর্ভ ও মারাত্মক রোগ নিয়ে গবেষণা ও চিকিত্সা করা হয়। ডা: স্যামকেইলি কে এই মহিলার দায়িত্ব দেওয়া হলো। যখন ডাঃ স্যাম কেইলি শুনলেন যে মহিলা কোন শহর থেকে এসেছেন, তার চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত একটা আলো যেন জ্বলে উঠলো। তিনি তাড়াতাড়ি ঐ মহিলাকে দেখতে গেলেন। ডাক্তারের এপ্রন পরে তিনি মহিলার রুমে ঢুকলেন। এবং প্রথম দেখাতেই তিনি মহিলাকে চিনতে পারলেন। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যেভাবেই হোক তিনি মহিলাকে বাঁচাবেনই। ঐদিন থেকে তিনি ঐ রোগীর আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া শুরু করলেন। অনেক চেষ্টার পর মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হলো।
ডাঃ স্যাম কেইলি হাসপাতালের একাউন্টেন্ট কে ঐ মহিলার চিকিত্সার বিল দিতে বললেন, কারণ তার সাইন ছাড়া ঐ বিল কার্যকর হবে না। ডাঃ স্যাম কেইলি ঐ বিলের কোণায় কি যেনো লিখলেন এবং তারপর সেটা ঐ মহিলার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। মহিলা ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন বিলটা খুলতে। কারণ তিনি জানেন যে এতো দিনে যে পরিমাণ বিল এসেছে তা তিনি সারা জীবনেও শোধ করতে পারবেন না। অবশেষে তিনি বিলটা খুললেন এবং বিলের পাশ দিয়ে লেখা কিছু কথা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। তিনি পড়তে লাগলেন "আপনার চিকিত্সার খরচ হলো পুরো এক গ্লাস দুধ।" এবং বিলের নিচের সাইন করা ছিলো ডাঃ স্যাম কেইলির নাম।
==================================================
ঘাস ফুল

একদিন একটা গরীব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিলো। সে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতো । ছেলেটার গায়ে ছিলো একটা জীর্ন মলিন পোষাক।
সে ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলো । ...
সে ভাবলো যে, পরে যে বাসায় যাবে, সেখানে গিয়ে সে কিছু খাবার চাইবে। কিন্তু সে যখন একটা বাসায় গেলো খাবারের আশা নিয়ে, সে ঘর থেকে একজন সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন। সে খাবারের কথা বলতে ভয় পেলো।
সে খাবারের কথা না বলে শুধু এক গ্লাস পানি চাইলো। মহিলা ছেলেটার অবস্থা দেখে বুঝলেন যে সে ক্ষুধার্ত। তাই
তিনি ছেলেটাকে একটা বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন। ছেলেটা আস্তে আস্তে দুধটুকু খেয়ে বলল
"আপনাকে আমার কত টাকা দিতে হবে এই দুধের জন্য ?"
মহিলা বলল"তোমাকে কোন কিছুই দিতে হবে না। ছেলেটা বলল "আমার মা আমাকে বলেছেন কখনো করুণার দান না নিতে । তাহলে আমি আপনাকে মনের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।"
ছেলেটার নাম ছিলো স্যাম কেইলি। স্যাম যখন দুধ খেয়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে এল, তখন সে শারিরিকভাবে কিছুটা শক্তি অনুভব করলো। স্যাম এর বিধাতার উপর ছিলো অগাধ বিশ্বাস। তাছাড়া সে কখনো কিছু ভুলতো না।
অনেক বছর পর ঐ মহিলা মারাত্মক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরলো। স্থানীয় ডাক্তাররা তাকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হল। তখন তাকে পাঠানো হলো একটা বড় শহরের নামকরা হাসপাতালে। যেখানে দুলর্ভ ও মারাত্মক রোগ নিয়ে গবেষণা ও চিকিত্সা করা হয়। ডা: স্যামকেইলি কে এই মহিলার দায়িত্ব দেওয়া হলো। যখন ডাঃ স্যাম কেইলি শুনলেন যে মহিলা কোন শহর থেকে এসেছেন, তার চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত একটা আলো যেন জ্বলে উঠলো। তিনি তাড়াতাড়ি ঐ মহিলাকে দেখতে গেলেন। ডাক্তারের এপ্রন পরে তিনি মহিলার রুমে ঢুকলেন। এবং প্রথম দেখাতেই তিনি মহিলাকে চিনতে পারলেন। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, যেভাবেই হোক তিনি মহিলাকে বাঁচাবেনই। ঐদিন থেকে তিনি ঐ রোগীর আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া শুরু করলেন। অনেক চেষ্টার পর মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হলো।
ডাঃ স্যাম কেইলি হাসপাতালের একাউন্টেন্ট কে ঐ মহিলার চিকিত্সার বিল দিতে বললেন, কারণ তার সাইন ছাড়া ঐ বিল কার্যকর হবে না। ডাঃ স্যাম কেইলি ঐ বিলের কোণায় কি যেনো লিখলেন এবং তারপর সেটা ঐ মহিলার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। মহিলা ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন বিলটা খুলতে। কারণ তিনি জানেন যে এতো দিনে যে পরিমাণ বিল এসেছে তা তিনি সারা জীবনেও শোধ করতে পারবেন না। অবশেষে তিনি বিলটা খুললেন এবং বিলের পাশ দিয়ে লেখা কিছু কথা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। তিনি পড়তে লাগলেন "আপনার চিকিত্সার খরচ হলো পুরো এক গ্লাস দুধ।" এবং বিলের নিচের সাইন করা ছিলো ডাঃ স্যাম কেইলির নাম।
==================================================
ঘাস ফুল

লেখক ঘাস ফুল
- ঘাস ফুল -এর ব্লগ
- ৫৪ টি মন্তব্য
- ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৭
- গল্প
প্রিন্ট করুন
- ৫৪ টি মন্তব্য
-
মাইনুল আমিন৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪১
বেশ ভালো লাগলো গল্পটি প্রিয় ঘাস ফুল। চালিয়ে যান অবিরাম । শুভকামনা রইলো অশেষ ---------------
-
লুৎফুন নাহার জেসমিন৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৯
অনেক স্পর্শ করা গল্প । আগে পড়িনি ।
আমরা যদি এর ছিটেফোঁটা মায়াও নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারতাম ।
ধন্যবাদ ঘাস ফুল ভাই কে । -
লুৎফুন নাহার জেসমিন৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
নিঃস্বার্থ ভাবে কারো উপকারে আসতে পারলে তবেই নিজেকে মমতাময়ী ভাববো । আমি চেষ্টা করি প্রতিদান আশা না করেই কারো কাজে লাগতে ।
তবে এমন করে এখনো সুযোগ হয় নি । আবার অনেক সময় সুযোগ আসলেও বেকার বলে সেভাবে অনেক কিছুই করতে পারি না । -
মেজদা৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫১
সাদামাটা ভাবে দেখলে কবিতা নয়, এটা মানবিকতা ও বাস্তবতা, মানুষের মনুষ্যত্ব জাগানোর এক সাহসী উচ্চারণ। ধন্যবাদ ঘাস ফুল।
-
মাঈনউদ্দিন মইনুল৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
অসম্ভব ভালো লাগলো লেখাটি
অনেক ভালো কথা আমরা প্রতিদিন পড়ি আর শিখি
শুধু প্রয়োগের বেলায় স্বার্থপরতা এসে বাসা বাঁধে।
প্রতিদানের আশা না করে উপকার করলে সত্যিই স্বর্গীয় সুখ পাওয়া যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে সেটা অনুভব করা যায়।
আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা
-
আলভী৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২০
এক কথায় অসাধারন......আপনার ডাক্তারের নাম স্যাম আর আম ভিক্ষুকের নাম ও শ্যাম...দারুন মিল...
তবে আপনার শকুনের সেই কাকতালিয় মনে হচ্ছে//////////// আমি আপনাকে দুই গ্লাস দুধ খাওয়াবো আপনি কি আমার মনের রোগ সারাতে পারবেন?

-
রব্বানী চৌধুরী৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:৩৮
ডাঃ স্যাম কেইলির আদর্শ ছড়িয়ে যাক মানুষের মাঝে। ভালো লাগলো গল্পের কথা। ভালো থাকবেন। -
জামাল হোসেন সেলিম৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২৩:৫৮
বেশ ভালো লাগলো গল্পটি। অনেক অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্য। সেই সাথে অনেক অনেক ফুল।
-
মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ০২:২৭
গল্পটি বেশ ভালো লাগলো। গল্পলেখার হাত আপনার দারুন। লিখতে থাকুন অবিরত।
-
ফেরদৌসা৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ০২:৩২
খুব সুন্দর একটা গল্প শেয়ার করলেন।
আমাদের কত কিছুই শেখার আছে, জানার আছে।
মানব সেবার চেয়ে বড় সেবা আর কি আছে।
আমারও কারো জন্য কিছু করতে পারলে খুবই ভাল লাগে। -
সেলিনা ইসলাম৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ০৬:৩৯
যার সামর্থ্য আছে সে ইচ্ছা করলেই যেকোন ভাল কাজ করতে পারে । আর সেই ভাল কাজের ফল কখনোই বৃথা যায়না। শিক্ষনীয় গল্প শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ -
আমির হোসেন৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১০:০২
জনাব ঘাসফুল ‘এক গ্লাস দুধ’ নামে যে গল্পটি আপনি প্রকাশ করেছেন সেই গল্পটি যেহেতু আপনার নিজের নয় ফেসবুক থেকে হাওলাত করা সেহেতু প্রকৃত লেখকের নামটি উল্লেখ করলে আরো বেশি ধন্যবাদ পেতেন। তার পরও এমন একটি শিক্ষামূলক গল্প পোস্ট করা জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। লিখতে থাকুন। পাশে থাকুন। ভাল থাকুন। -
কামরুন্নাহার ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৫:৪৫
ধন্যবাদ ঘাস ফুল। সুন্দর একটা গল্প উপহার দেবার জন্য। গল্পটি খুব আবেগপ্রবন সেই সাথে শিক্ষনীয়।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক