মঙ্গলবার ২৯ জুলাই ২০১৪, ১৪ শ্রাবণ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


দহন

‘স্যার আসতে পারি ?’
নাইম কম্পিউটার মনিটর থেকে মুখ ঘুরিয়ে তাকাল । শিপ্রা । ডোরটা ফাঁক করে মাথাটা রুমের একটু ভেতরে নিয়ে এসেছে । কন্ঠস্বরেই ওকে চিনেছে নাইম । তবু তাকিয়ে দখল । মেয়েটা অসাধারন সুন্দরী । প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে । ওদের প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামার হিসেবে জব করছে । বিবাহিতা । ছমাস আগে বিয়ে হয়েছে । হাসবেন্ডও ইঞ্জিনিয়ার । সিভিল ইঞ্জিনিয়ার । চুয়েট থেকে পাশ করা । সে দুবাইএ চাকরী করে । একটা কন্সট্রাকশন কোম্পানীতে । ভাল সেলারী পায় । দুমাসের ছুটিতে এসে বিয়ে করে গেছে । শিপ্রার ফ্যামিলি খুবই সাধারন । বাবার গ্রামের বড় বাজারে একটা মুদি দোকান আছে । বেশ কিছু জমি জমা আছে । সেসব বর্গা দেয়া । তবে বছরের চাল ডাল পাওয়া যায় । স্বচ্ছল গৃহস্ত । শিপ্রার ছোট একটা ভাই আছে । ও গ্রামের হাই স্কুলে ক্লাশ সেভেনে পড়ে । পড়ালেখায় ভাল । ক্লাশের ফার্স্ট বয় ।
বিয়ের একমাসের মাথায় শিপ্রার বর চলে গেছে । শিপ্রার জন্যও ওখানে চাকরির চেষ্টায় আছে । খুব তাড়াতাড়িই পেয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । শিপ্রাও পাসপোর্ট টাসপোর্ট করে তৈরী হয়েই আছে । ডাক এলেই উড়াল দেবে ।
মাস দুই হয় ওদের কোম্পানীতে জয়েন করেছে । ওর এতসব কাহিনী অফিসের কেউ জানেনা নাইম ছাড়া । হেড অফিসেরও কেউ না । চাকরী নেয়ার সময় বিয়ের বিষয়টি সে গোপন করেনি, তবে এত সব পরিকল্পনার কথা চেপে গেছে । সেমন সুন্দর দেখতে বুদ্ধিও তেমনি ধারাল ।
নাইম এই কোম্পানীটির একটি সেলস ইউনিটের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছে । সেও কম্পিউটার ইঞ্জিনীয়ার । দেখা গেল মেয়েটি অফিসের আর কারো সাথেই তেমন কথা বার্তা বলেনা । শুধু নাইমের কাছাকাছি ঘেসতে চায় । এত সুন্দরী একটা মেয়ে ! ওর কেমন যেন ঘোর ঘোর লাগে ।
শিপ্রাকে ভেতরে আসতে বলল নাইম । এবার অনুমতি ছাড়াই সামনের চেয়ারটায় আরামে বসে পড়ল মেয়েটা । যথেষ্ট লম্বা । ছিপছিপে মেদহীন শরীর । চমৎকার ফিগার ওর । ঘন কাল চুল । মনে হয় কোন বিউটি পার্লার থেকে চমৎকার শেপে কাটা । দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রঙ । চোখজোড়া অন্যরকম সুন্দর । একবার তাকালে যে কোন পুরুষ ঘায়েল হবে । মেয়েটি চোখের ব্যবহার জানেও ভাল । কখনো শান্ত দীঘির মত, কখনো খরস্রোতা নদীর মত , কখনো পূর্ণিমার চাঁদের মত আবার কখনোবা জ্বলন্ত সূর্যের মত ।
এই অফিসে মোট একুশ জন স্টাফ । নাইম হল বিগ বস । ওর বয়স কম । এখনো বিয়ে করেনি । পাশ করে বেরিয়েছে প্রায় চার বছর হল । তখনি এই কম্পানীর চাকরীতে জয়েন করেছে । ভাল কাজ দেখানোতে প্রমোশন হয় তাড়াতাড়ি । বিয়েটা করতেই দেরী হয়ে যাচ্ছে । এটি অবশ্য অর্পার জেদের কারনেই । ও কিছুতেই পাশ করে বেরোবার আগে বিয়ে করতে সম্মত হল না । সেই থেকে অপেক্ষা। তবে অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে । অর্পার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে । এখন শুধু থিসিসের কাজ বাকী । আর দুতিন মাসের মধ্যে বিয়ের ফুল ফুটবে বলে নাইম আশাবাদী ।
মাঝে শিপ্রার উপস্থিতি ওকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে । মেয়েটা যখন তখন ওর রুমে চলে আসে, বসে গল্প করতে চায়, এসব কি নাইম পছন্দ করে ? না, কিছুতেই না । ব্যাপারটা ও মোটেই পছন্দ করেনা-এটাই নাইম প্রানপনে বিশ্বাস করতে চায় । কিন্তু শিপ্রা যেন কেমন রহস্যময় দৃষ্টিতে ওর চোখের দিকে তাকায় । নাইমের ভেতরে অস্বাভাবিক তোলপাড় শুরু হয় । নিজেকে অচেনা মনে হয় । কেমন যেন ভয় লাগে । মেয়েটিকে ও অবশ্য তার রুমে চলে যেতে বলে নাইম । কিন্তু সে বলায় কোন জোর থাকেনা । বরং মনে হয় মেয়েটা আরো কিছুক্ষণ থাকুক এটাই সে চাচ্ছে । ও অবাক হয়ে যায় । এসব কি হচ্ছে । ওর ভেতরে কিসের দ্বিধা তৈরী হচ্ছে ? কিসের ভাংচূর হচ্ছে ? নাইম নিতান্ত অসহায়ের মত সময়ের কাছে আত্মসমর্পন করছে কেন ? ও এসময়টায় প্রণপনে অর্পাকে মনে করার চষ্টা করে । শিপ্রা কথা বার্তাও বলে কিসব উলটাপালটা । ইচ্ছে করেই ওর ভেতর একটা ঘোর , একটা মোহ তৈরীর চেষ্টাই কি সে করছে ? মেয়েটা কি ওকে খেলাতে চাইছে ? কিন্তু কেন ? সে নিজে সদ্য বিবাহিতা । নাইমের বিষয়টিও প্রথম দিকেই বলেছে ওকে । তাহলে ? নাইম কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেনা মেয়েটির উদ্দেশ্য কি হতে পারে ।
‘ কেমন আছেন?’ মুখটা অল্প সামনে এনে প্রশ্ন করে মেয়েটি । সোজা নাইমের চোখের দিকে চেয়ে আছে । নিষ্কম্প নিষ্পলক স্থির চাউনি । রহস্যময় একটু হাসি চোখের গভীর থেকে উঁকি দিচ্ছে । নাইম ওর মত চেয়ে থাকতে পারেনা । পলক পড়ে যায় । পাতা আর পাঁপড়ি কেঁপে উঠে । দৃষ্টি সংকোচে সরে যায় ।
‘ ভাল আছি । তুমি ভাল আছ?’ নাইম বলল ।
শিপ্রা সামান্য শব্দ করে হাসল । খুবই মৃদু শব্দ । জল তরঙ্গের মত সুরেলা । কিছু বললনা । নিজের দুহাতের তালু মেলে তাকাল একবার । কি দেখল ওখানে ?
‘ চা খাবে ?” নাইম জিজ্ঞেস করল ।
‘খাব ।’
‘ র না দুধ মেশান ?’
‘ র , তবে সাথে লেবু হলে ভাল হয় ।’
নাইম কলিং বেল টিপে পিয়নকে দুকাপ লেবু চা দিতে বলল ।
চা চলে এল । কাপের দিকে গভীর মনযোগে তাকিয়ে চায়ে ধীরে ধীরে চুমুক দিতে লাগল নাইম । শিপ্রাও নিশব্দে চা খাচ্ছে । নাইম চোখ তুলে চেয়ে দেখতে পেল মেয়েটার চোখে মুখে খানিকটা হাসি ঝুলে আছে । ব্যাপার কি ?
‘ হাসছ কেন ?’ গাম্ভীর্য ধরে রেখেই নাইম জানতে চাইল ।
‘ এমনি ।’
‘এমনি কেউ হাসে নাকি ? এমনি কে হাসে জানতো ?
‘ কে বলেনতো ?’ হাসির মাত্রা খানিকটা বাড়িয়ে জানতে চাইল শিপ্রা ।
‘ পাগল ।’
‘ বাহ , আপনার দেখি অনেক বুদ্ধি ! আমি ভেবেছিলাম আপনি বেশ বোকা ।’
‘আমি বোকা ?’ আহত কন্ঠে প্রশ্ন করল নাইম ।
‘ তো ? আপনি কি ভেবেছিলেন ?’ মুচকি হাসির সাথে পালটা প্রশ্ন করে নাইমের মুখের দিকে তাকাল শিপ্রা । নাইম অসহায়ের মত ওর দিকে চেয়ে রইল । নির্বাক । কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা ।
‘ কি কথা বলছেন না যে ? আপনি কি নিজেকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেন ?
‘ বুদ্ধিমান না হতে পারি তবে বোকাতো নিশ্চয়ই নি ?’ কেমন অভিমানী শোনাল নাইমের কথা ।
চা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুজনই চুপ চাপ থাকল । নাইমের নিজেকে বেশ হ্যাংলা মনে হচ্ছে । কম্পিউটারে কাজ শুরু করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে আরম্ভ করেছে । শিপ্রা বলল,’ আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি ?’
নাইম ওর দিকে তাকাল । হ্যাঁ না কিছু বলল না । শিপ্রা আবার বলল,’ কি , একেবারে চুপ হয়ে গেলেন ?’ ‘বল কি বলবে ?’ নাইম বলল এবার ।
' আচ্ছা , আপনি যখন কোন মেয়ের দিকে তাকান প্রথম আপনার দৃষ্টি কোথায় যায় ?'
' বুঝলামনা , দৃষ্টি কোথায় যায় মানে ?'
' আহা , ধরেন কেউ তাকায় চোখের দিকে কেউ ফিগার কেমন দেখে - আপনি কি দেখেন ?'
শিপ্রার দিকে কিছু সময় চেয়ে রইল নাইম । একটু বেশিই ভাবল ও । বলল,' প্রথমে চোখ তারপর চুল ।' বেশ শব্দ করেই হেসে উঠল শিপ্রা, বলল,' ব্যস , আর কিছুনা ?'
' আর কি?'
রহস্যময় হাসি শিপ্রার মুখে । একটু সময় নিয়েই নাইমের দিকে চেয়ে থাকল । বলল,' বুক , দেখেন না ওদিকে ?'
নাইমের সারা দেহে যেন মাঝারি ভোল্টেজের বিদ্যূৎ প্রবাহিত হল । কান দিয়ে গরম বাতাস বেরোতে শুরু করল । হাতের আংগুল গুলো অল্প কাঁপতে আরম্ভ করল । জানালার পিংক কালারের ভার্টিক্যাল ব্লাইন্ডের দিকে তাকিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা চালাল । মেয়েটাকে তার বড়ই দূর্বোধ্য মনে হচ্ছে । নাইম বলল,' তুমি এসব কি বলছ ?' শিপ্রা বলল,' আপনি এমন নেতিয়ে গেলেন কেন বলেন তো , আমি কি অবান্তর কিছু বলেছি ? মেয়েদের বুকের দিকে কে না তাকায় ?' মুখ চোয়াল শক্ত করে নাইম বলল,' আমি তাকাই না ।' উচ্চস্বরে হাসল শিপ্রা । ' আপনি এত সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছেন কেন ? মাইন্ড করবেন জানলে আমি এভাবে বলতামনা । সরি ।' নাইম মুখে কিছু বললনা । তবে একটা লাজুক হাসি দিয়ে শিপ্রার দিকে তাকাল । শিপ্রা ভাবল এবার বিদায় নেয়ার সময় হয়েছে , বলল,' অনেক সময় নষ্ট করলাম । আসি ।' চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল । নাইম হ্যাঁ বা না কিছুই বলল না । মনে হয় ওর কন্ঠে উচ্চারনের শক্তি কমে এসেছে ।
শিপ্রা চলে গেলে নাইমের হারানো শক্তি সাহস ফিরে আসতে শুরু করল । ওর চেতনা জুড়ে শিপ্রা অদ্ভূত আলোড়ন তুলল । মেয়েটা অতিশয় দুঃসাহসী । মুখে ওর কিছু আটকায় না । যা ভাবে তাই অবলীলায় বলতে পারে । নাইমের মনে হল শিপ্রার স্বামীর খবর আছে । একমাসে কিছু বুঝেছে বলে মনে হয় না । তবে টের পাবে !
গেল সপ্তাহে এমন এক কথা জিজ্ঞেস করেছিল নাইম থ হয়ে গিয়েছিল । অফিস আওয়ার শেষ হতে অল্প বাকী । অচেনা মোহনীয় সেন্টের মৌ মৌ সৌরভ ছড়িয়ে শিপ্রা রুমে ঢুকল । ' স্যার বাসায় যাবেন না ?' নাইমকে জিজ্ঞেস করল । মেয়েটার তাল ঠিক নেই । কখনো বলে স্যার আবার কখনোবা ভাই । তবে অন্য অফিস স্টাফের সামনে স্যারই বলে । তাল তাহলে ঠিক আছে । সুপটু ধান্দাবাজ ।
নাইম বলল,' এইতো যাব , হাতের কাজটা শেষ করে নেই ।'
' আমি কি বসতে পারি ?'
'বস ।' কম্পিউটার কিবোর্ডে আংগুল চালাতে চালাতেই বলল নাইম ।
সামনের চেয়ারে খানিকক্ষণ চুপ চাপ বসে রইল শিপ্রা । তবে ওর মস্তিষ্কে সর্বদাই দুস্টুমি বুদ্ধি খেলা করে ।
ও দেখল নাইম বেশ ব্যস্ত । খট খট কিবোর্ডে কাজ করছে । বসে থেকে লাভ আছে কিছু , ভাবছে ও । 'আপনি খুব ব্যস্ত , আমি তাহলে যাই ?' শিপ্রা বলল । খটাখট বন্ধ করে ওর দিকে ফিরল নাইম । ' নাহ , বস । কাজ শেষ ।' বলল ও । শিপ্রাকে দেখি আজ অনেক বেশি সুন্দর লাগছে । পিংক , মেরুন আর পেস্ট সাদায় চমৎকার শিফনের ফিন ফিনে শাড়ি পরে আছে । পিংক কালারের ব্লাউজ । দুই ভূরুর মাঝে ছোট্ট পিংক কালারের টিপ । দাবানলের মত সর্বগ্রাসী সৌন্দর্য । কি অপরূপা মেয়েটি ।
' তারপর বল , কেমন আছ তুমি ।' নাইম জিজ্ঞেস করল ।
' জ্বি ভাল , আপনি ?'
' এতোক্ষণ ছিলাম না । এখন বেশ আছি ?'
শিপ্রা নাইমের দিকে তাকিয়ে থাকল । কিছু বলল না ।
' কি , কেন হঠাৎ ভাল আছি , জানতে চাইলে না ?' নাইম সহাস্যে জিজ্ঞেস করল ।
শিপ্রা সহাস্য সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ।
' তোমার মত সুন্দর একটি মেয়ে সামনে বসে থাকলে কারো ভাল না থেকে উপায় আছে ?'
'তাই বুঝি ?'
' হ্যাঁ তাই , তোমার স্বামীতো তোমাকে দেখে দেখেই জীবন পার করে দিতে পারবে ।'
' আপনি তো খুব সুন্দর কথা জানেন । আমিতো ভেবেছিলাম আপনি ভ্যাবদা ধরনের । '
' কি ধরনের ?' নাইম অবাক হল ।
' এই আরকি বোকাসোকা ধরনের । কি ভাবে প্রেম করলেন ভেবেই পাইনি । এখন মনে হচ্ছে আপনি হয়তো সত্যিই খুব রোমান্টিক ।' শিপ্রা বলল ।
' তাও আবার হয়তো ?'
'হুঁ ।' মুচকি হাসল শিপ্রা ।
খানিকক্ষণ দুজনেই চুপচাপ ।
' আচ্ছা , অর্পার সাথে আপনার সম্পর্ক কত দিনের ?' নীরবতা ভেংগে শিপ্রা জানতে চাইল ।
' এইতো ছ বছরের মত ।'
'উনি সৌভাগ্যবতী । আপনি তার জন্য কবছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন ।'
' কি করবো বল , লেখাপড়া শেষ না করে ও যে বিয়ে করবেনা ।'
' পড়া শেষ করে সে আপনাকেই বিয়ে করবে আপনি নিশ্চিত ?'
নাইম চমকে উঠল । মেয়েটি এভাবে বলল কেন ? সে নিজেও আজকাল মাঝে মাঝে একথা ভাবে । ভেবে চিন্তিত হয় । বিকল্প কিছু নাইম ভাবতে পারেনা । ভাবতে চায়ও না । অর্পঅকে ছাড়া ওর চলবে না ।
' অবশ্যই , অর্পা অবশ্যই আমাকে বিয়ে করবে ।' দৃর কন্ঠস্বরে নাইম যেন ঘোষনা করল ।
' ওকে চুমু খেয়েছেন ?' হাসিকে গাম্ভীর্যের আড়ালে ঢেকে প্রশ্ন করল শিপ্রা । চেয়ে আছে নাইমের মুখের দিকে । নাইম যেন ব্জ্রাহত হয়েছে । কথা বলতে ভুলে গেছে । ভাবনাও জট পাকিয়ে যাচ্ছে । কি উত্তর দিবে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা । চুমুতো খেয়েছেই । কিন্তু এ কথা শিপ্রাকে বলতে হবে কেন । আর ওই বা এত ব্যক্তিগত প্রশ্ন করছে কেন । এমন কেন মেয়েটা । ওর জবাব না পেয়েও শিপ্রার উৎসাহের ঘাটতি নেই । ' দীর্ঘ্য দিনের প্রেম , এত বছর অপেক্ষায় আছেন- ওকে নিয়ে বেডে গেছেন কখনো ?' এ প্রশ্ন শুনে অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর অবস্থা নাইমের । তবে এবার ওর কথা যোগাল , বলল,' এসব কি বলছ তুমি ? আমাকে কি ভেবেছ তুমি ?'
' সরি , আপনি মাইন্ড করবেন জানলে বলতাম না ।' শিপ্রা বলল ।
নীরবতা নেমে এল । দুজনেই চুপ । পাঁচটা পেরিয়ে ঘড়ির কাটা সাড়ে পাঁচটা ছুঁয়েছে ।
‘ যাবেনা ?’ নাইম জিজ্ঞেস করল ।
শিপ্রা উঠে দাঁড়াল ।
ওরা তিনজন মিলে শেওড়াপাড়ায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে । শিপ্রার দুজন হাউস মেটের একজন পূর্ব পরিচিত । জলি ওর ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছে । বিবিএ । ব্যাংকে ঢুকেছে । লতিফা আবার জলির পরিচিত । একই কলেজ থেকে ইন্টার করেছে । সেও ব্যাংকে জব করে । শিপ্রা ছাড়া বাকী দুজন ব্যাচেলর । বাসা পেতে বহু বেগ পেতে হয়েছে । অনেক খোঁজাখুঁজি করে হাজী সাহেবের বিল্ডিঙ্গের এই ফ্ল্যাটটি মিলেছে । একজন বুয়াও পাওয়া গেছে । বাড়ীওয়ালাই ঠিক করে দিয়েছে । সে খুব সকালে এসে ঘর দোর পরিষ্কার করে । নাস্তা বানায় । আবার সন্ধায় এসে রাতের খাবার রান্না করে । দুপুরে খাবার বালাই নেই । তবে বন্ধের দিনে মাঝে সাজে ওরা নিজেরাই রাঁধে । অধিকাংশ দিনই বাইরে চলে যায় ।

সেদিন নাইমের রুমে ঢুকেই শিপ্রা বলল,’ আজ আপনার দাওয়াত । স্পেশাল লাঞ্চ খাওয়াব ।‘
‘ তাই । ঠিক আছে ইনভাইট এক্সেপ্ট করলাম ।‘ নাইম হেসে বলল ।
‘ স্যার , ইনভাইট কিন্তু বাসায় ।‘
নাইম ভ্রূ কুঁচকে বলল,’ বাসায় ? কেন বাসায় কেন ?’
‘বারে , বললাম না স্পেশাল আইটেম খাওয়াব !’ কেমন আদুরে গলায় খানিক নাক ফুলিয়ে জবাব দিল শিপ্রা ।
‘ সরি , বাসায় যাওয়া যাবেনা । খাবার সাথে নিয়ে এলেওতো পারতে ।‘
‘ সাথে আনিনি । কিন্তু তাই বলে যাবেন না ?’ অভিমান ঝরে পড়ল মেয়েটির কন্ঠে ।
‘ কিভাবে যাব বল ? অনেক জরুরী কাজ পেন্ডিং রয়েছে ।‘
‘ কিযে বলেন , সর্বসাকুল্যে এক ঘন্টা লাগবে । এতে কাজের কি ক্ষতি হবে ? তাছাড়া অফিসে থাকলেও লাঞ্চতো করবেনই , তাইনা ?’
নাইম বেশ ভাবনায় পড়ে গেল । আসলে কাজ টাজ কিছু না । শিপ্রাকে এড়াতে চাইছিল । কিন্তু মেয়েটা সহজে ছাড়বার পাত্রী নয় । কি করা যায় ?
‘ কখন যাবে ?’ জানতে চাইল নাইম ।
‘ একটায় ।‘
‘ গাড়ীটা আছেতো ?’
‘ স্যার গাড়ীর কোন দরকার নেই । গাড়ী থাকলেও অফিসেই থাকুক । আমরা সিএনজি করে চলে যাব । মনিপুরিপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া দশ মিনিটের বেশি লাগবেনা ।‘
‘ অফিসের গাড়ী নিলে সমস্যা কি ?’
‘ না সমস্যা না । মনে করুন এক ঘন্টার জন্য অফিসের বাইরে যাব । মুক্ত স্বাধীন । অফিসকে সাথে বয়ে নিতে চাইনা , এই আরকি ।‘
নাইম সায় জানাল ,’ আচ্ছা তথাস্তু ।‘
শেওড়াপাড়ায় রোকেয়া স্মরনী থেকে ভেতরে ছোট একটা গলিতে সামান্য এগিয়ে শিপ্রার বাসা । চারতলা বিল্ডিং । ওরা দোতলার ফ্ল্যাটে থাকে । সিঁড়ি ঘরের কলাপসিবল গেট শিকল দিয়ে আটকানো । সামান্য ফাঁকা আছে । একজন কোনমতে কাত হয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবে । বাসার ভেতরে ঢুকে নাইম অবাক হল । চেয়ার খাট টেবিল নাই । পুরু বিছানা ফ্লোরে বিছানো । পৃথক তিন রুমে তিনজন থাকে । শিপ্রা তার রুমে মইনকে নিয়ে গেল । জানালার পাশে ফ্লোরে বেড পাতা । শিয়রের কাছে কাঠের ছোট র্যাক । এটির তাকে নানান বই । কিছু ম্যাগাজিন ডিভিডি ছড়ান ছিটান । র্যাকের উপরে ডিভিডি প্লেয়ার । রুমের একপাশে ওয়্যারড্রব । তার সাথে ওয়ালে ঠেস দেয়া বড় আয়না । ভালই । শিপ্রা হেসে বলল, ‘ গরীবের সংসার ।‘ ‘তাই ?’ নাইম মৃদু হেসে বলল । নাইমকে দুমিনিট বসতে বলে শিপ্রা পাশের রুমে গেল । বসবে কোথায়, নাইম ভাবল । শিপ্রা বলল ,’ বিছানায় আরাম করে বসুন । কষ্ট হবে ?’ ‘ না কষ্ট হবে কেন ?’ দু মিনিট নয় । প্রায় দশ বার মিনিট পর শিপ্রা এল । কিসের যেন সেন্ট মেখেছে । তীব্র সুগন্ধে ঘর ভরে গেল । ওকে দেখে নাইম চমকে উঠল । ড্রেস চেঞ্জ করেছে । কালচে রঙের ম্যাক্সি পড়েছে । এমন পোষাক নাইম আগে দেখেনি । স্লীভলেস ম্যাক্সি । গলার ফাঁকা বিশাল । বুকের কাছে আপত্তিজনক অংশতক দৃশ্যমান । শিপ্রা নাইমের পাশে এসে বিছানায় বসল । একদম গা ঘেঁসে । অর চেহারায় অদ্ভূত হাসি লেগে আছে । কেমন সর্বগ্রাসী । নাইম ওকে বহুবার দেখেছে , তবে এ হাসিটি ওর একেবারেই অপরিচিত । ওর ভেতরে অন্যরকম তোলপাড় শুরু হল । শিপ্রার উদ্দেশ্য কি ? কি চায় ও ? নাইমের মনে হল ওর শরীর ঘামতে শুরু করেছে । ‘ কি ব্যাপার খাবার দেবে কখন ? তোমার স্পেশাল আইটেম ?’ নাইম বলল । তবে নিজের কন্ঠই ওর অচেনা লাগল । ভেতর টা কেমন অবশ হয়ে আসছে । শিপ্রা আরো কাছে ঘেসে এল । নাইমের উরুর সাথে ওর উরু মিশে গেল । নাইমের কাছে সবকিছু কুয়াশাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে । ঘোলাটে লাগছে । শিপ্রার দিকে তাকাতে পারছে না । হৃদপিন্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করছে । বুকের ভেতর ধরাস ধরাস শব্দ হচ্ছে । শিপ্রা বিছানায় গা এলিয়ে দিল । জড়ানো কন্ঠে বলল, ‘ স্পেশাল আইটেম তো দিয়েছিই । আপনার মনে হচ্ছেনা ?’ নাইমের নাক কান দিয়ে গরম ভাঁপ বেরোচ্ছে । নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে । ভেতরটা গলে যাচ্ছে মোমের মত । আশান্ত ঝঞ্ঝায় মাঝ নদীতে ডুবতে গিয়েও খড় কূটা আঁকড়ে ধরল ও । অকস্মাৎ সটান উঠে দাঁড়াল । দ্রুত দরোজার কাছে গিয়ে জুতায় পা গলাল । ফিতা না বেঁধেই কম্পিত হাতে দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল । শিপ্রা পেছন থেকে ব্যাগ্র কন্ঠে ডাকছে, ‘ নাইম এই নাইম । দাঁড়াও শোন ।‘ এর কিছুই নাইমের কানে ঢুকল না । সে সোজা রাস্তায় নেমে এল । সমস্ত শরীর থর থর কাঁপছে । আশে পাশের কিছুই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেনা । রোকেয়া স্মরনীতে উঠে এল । কোন দিকে মনিপুরিপাড়া , ডানে না বামে তাও ঠাহর করতে পারছে না । ফুটপাতের কিনারে খানিক দাঁড়াল । ধাতস্থ হবার চেষ্টা করল । অর্পার কথা মনে হল । বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল । মোবাইল চাপল । ওপাশে অর্পা ধরতেই নাইম ব্যাকূল কন্ঠে বলল,’ অর্পা অর্পা –‘ অর্পা বলল,’ কি ব্যাপার কি হল তোমার , তোমার গলা এমন শোনাচ্ছে কেন ?’ নাইম বলল,’ তোমার সাথে এখনি দেখা হোয়া দরকার । চলে এস ধানমন্ডি লেকে , বোট পয়েন্টে ।‘ অর্পার চিন্তিত কন্ঠ ভেসে এল,’ তা আসছি , কিন্তু তোমার কি হয়েছে বল ।‘ নাইম শুধু বলল,’ তুমি আস । তাড়াতাড়ি আস ।‘
বোট পয়েন্টে অর্পা দাঁড়িয়ে আছে । দূর থেকে দেখা গেল ও ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে । ওকে সাথে নিয়ে লেকের গা ঘেঁসে একটা বেঞ্চিতে বসল নাইম । ওর চেহারা যথেষ্ট উদ্ভ্রান্ত । ওর দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকাল অর্পা, জিজ্ঞেস করল,’ কি হয়েছে ? এমন দেখাচ্ছে কেন তোমাকে ?’ নাইম উত্তর দিল না । নীরব থাকল । একটু সময় নিল । তারপর পুরো ঘটনার বর্ণনা দিল ।
অর্পা বলল,’ ব্যস ?’
নাইম অবাক চোখে তাকাল অর্পার দিকে । বলল,’ ব্যস মানে ?’
‘ মানে শুধু এটুকুই , আর কিছু না ?’
ব্যথিত দৃষ্টিতে অর্পার দিকে চাইল নাইম । ভেতরটা ভেঙ্গে চুরে যাচ্ছে । আশ্চর্য অর্পা ওকে অবিশ্বাস করছে ! মেয়েটা নাইমের দিকে নিষ্পলক চেয়ে আছে ।
‘ কই তুমিতো মেয়েটির কথা আগে কখনো বলনি । ও যে এতদিন তোমার অফিসে জব করে তাইতো জানিনা ।‘
নাইম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল । সত্যিই শিপ্রার কথা অর্পাকে বলা হয়নি । কেন বলেনি ? নিজেকে দূর্বোধ্য মনে হচ্ছে । সব কিছুই নিতান্ত জটিল হয়ে আসছে । ও নির্বাক চেয়ে রইল অর্পার দিকে । অর্পা উঠে দাঁড়াল । চলে যাচ্ছে কিছু না বলেই । নাইম তাকিয়ে দেখল ও চলে যাচ্ছে । এক সময় দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল । একবারের জন্যও পেছন ফিরে তাকাল না । নাইম বসেই রইল । মনের মাঝে শক্তি নেই । দেহেও শক্তি খুঁজে পেল না । জীবনটা অর্থহীন আর দূর্বহ মনে হচ্ছে । বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে । লেকের পারে মানুষের আনাগোনা বেড়ে চলেছে । সন্ধ্যা নামলে নাইম উঠে দাঁড়াল । বাসা কাছেই । জিগাতলা । নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করল । ভাবল , জীবনতো আর নারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ না । বছর তিন আগে ওর পিতৃবিয়োগ হয়েছে । ছোট বোনটাকে বিয়ে দিয়েছে । এক বছর বয়সী একরত্তি একটা ভাগ্নী আছে ওর । কিযে মায়া লাগে ওটার জন্য! ছোট ভাইটা বুয়েটের স্টুডেন্ট । ট্রিপল ই । থার্ড ইয়ার । মায়ের জন্য ওর কষ্ট হচ্ছে । বাবার মৃত্যূর পর থেকেই তিনি ওকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন । মার সাথে অর্পার পরিচয় আছে । সে ওদের বাসায় প্রায়ই যায় । মাও অনেক বুঝিয়েছেন । বলেছেন ,’ সমস্যা কি মা , তুমি আমার কাছে থেকে পড়বে ।‘ কিন্তু অর্পা বড় জেদী । কিছুতেই রাজী হলনা । এখন ও যদি নাইমকে বিয়ে না করে মাকে কি বুঝ দিবে ? মা বড় কষ্ট পাবে ।

পরদিন শিপ্রা অফিসে এলোনা । তার পর দিনও না । সপ্তাহ কেটে গেল ও এলনা । তৃতীয় দিন হেড অফিসে রিপোর্ট করল নাইম । আশ্চর্য মেয়েটা একটা ফোন করল না । নাইম নিজেই একবার ফোন করতে চেয়েছিল । শেষে ইচ্ছেটা দমন করল । অষ্টম দিন দুপুরে কুরিয়ারে শিপ্রার রেজিগনেশন লেটার এল । সাথে একটা চিঠি । লিখেছে,’ নাইম, ন্যয় অন্যায় বুঝিনা । বিবাহিতা হয়েও তোমাকে ভালবেসেছি । আমার স্বপ্নের পুরুষকে খুঁজে পেয়েছি তোমার মাঝে । অর্পা ভাগ্যবতী । আমার জব হয়েছে দুবাইএ । অফার এসেছে । ভিসার জন্য এপ্লাই করেছি । খুব শিঘ্রী চলে যাব । ওই বাসা ছেড়ে আমি উত্তরায় আমার ভাসুরের বাসায় চলে এসেছি । তোমার সাথে কোন দিন আর দেখা হবেনা । তবে আজীবন মনে রাখব তোমাকে । তুমি ভাল থেক । আমাকে ক্ষমা করো ।‘
চিঠিটা হাতে নিয়ে নিশ্চল বসে রইল নাইম । দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল । লাঞ্চের কথাও মনে রইল না । বুকে নিদারুন দহন । কান্নার উদগত বেগ গলা পর্যন্ত উঠে আসছে বারবার ।
জীবনের বসন্ত এমন রিক্ত নিঃস্ব হয়ে আসছে কেন ? এত দিন হয়ে গেল অর্পা একটা ফোন করল না । মানুষের সম্পর্ক এত ঠুনকো ! এটা কি বালির বাধ । বিনা কারনে হুড়মুড় ভেঙ্গে পড়ে ! নাইম সবকিছু ভুলতে চাইল । ভোলার প্রাণপন চেষ্টা করতে লাগল । যোগাযোগবিহীন তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেল । সেদিন রাতে বাতি নিভিয়ে শুয়েছে নাইম । এগারটা বাজে । মোবাইল সাইলেন্ট করা । মনিটরে আলো জ্বলা নেভা শুরু হল । হাত বারিয়ে মোবাইলটা বেড সাইড টেবিল থেকে এনে চোখের সামনে ধরল । অর্পার ফোন । চমকাল নাইম । ধরবে কি ধরবেনা ভাবতে ভাবতে নব টিপে কানের কাছে ধরল । ‘ হ্যালো নাইম ।‘অর্পার কন্ঠ ইথারে ভেসে এল । সে সহসাই কিছু বলতে পারল না । ‘ নাইম শুনতে পাচ্ছ ?’ নাইম বলল,’ হ্যাঁ বল ।‘
‘ কেমন আছ তুমি ?’
অর্পা একেবারে স্বাভাবিক । যেন কিছুই হয়নি । নাইম কি জবাব দেবে ?
‘ কি কথা বলছ না যে ? ভাল আছ ?’
‘ আছি ভাল । তুমি ভাল আছ ?’ নাইম বলল এবার ।
‘ শোন থিসিস সাবমিট করেছি । কাল ভাইবা । দুটোয় । তুমি থাকবে । প্রয়োজনে ছুটি নাও । ভাইবা শেষে ঘুরবো । রাতে খালাম্মার হাতে সব্জি খিঁচুড়ি খাব । ওকে ?’
নাইম হতভম্ব হয়ে রইল । কথা খুঁজে পাচ্ছেনা । অর্পা আবার বলল,’ ওকে ?’ কোনমতে নাইম বলল,’ ঠিক আছে ।‘
বিস্ময়ে আনন্দে বিহ্বল হয়ে গেল নাইম । অদ্ভূত নাটক শুরু হল ওর জীবনে । কোথ্থেকে একরাশ অভিমান ওর কন্ঠ পেঁচিয়ে ধরল । ঝর ঝর অশ্রূ ওর গন্ডদেশ ভাসিয়ে প্রবাহিত হতে লাগল ।
১২ টি মন্তব্য
Jalampwd আলম পিডাব্লিউডি১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২১
চমৎকার গল্প। আপনার কোন গল্প আগে কি পড়েছি? মনে করতে পারছি না।শুভ কামনা রইল। ভাল থাকবেন।
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২০
ধন্যবাদ । শুভকামনা আপনার জন্য ।
RaselBlogger এম রাসেল মাহমুদ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৩৬
good luck for Sipra
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২২
ধন্যবাদ ও শুভকামনা ।
sopnerdin45 এনামুল রেজা১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:০৯
সুন্দর লিখেছেন।
ভাল লাগলো।
শুভকামনা জানবেন।
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৩
ধন্যবাদ অরিত্র । শুভকামনা জানবেন । ভএল থাকবেন ।
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৭
পড়তে সময় লেগেছে। ভালো হয়েচে। সাইজ ছোট হলে সবার আগ্রহ বেশী থাকে। কারণ সবাই কমবেশী ৪০-৫০টি লেখা পড়েন।
আপনাকে ধন্যবাদ।
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৪
ধন্যবাদ বাবলা । শুভকামনা রইল । ভএল থাকবেন । আপনার পরামর্শ মনে থাকবে ।
kabirbdboy কাছের মানুষ ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
দারুন লাগল গল্পটা।

আপনার লেখার হাত চমৎকার ।
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৬
ধন্যবাদ ভাল লাগা ও প্রশংসার জন্য । শুভকামনা । ভাল থাকবেন ।
saiful82 নোমান সাইফুল্লাহ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৫৬
ভালো লেগেছে.......
Shahin121 ওয়াসেত সাহিন২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:২৭
ধন্যবাদ নোমান । শুভকামনা রইল ।