নিষ্পাপ
একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। অফিস তেজগাঁও। পলাশী মোড়ের কাছে জহুরুল হক হলের ক্যান্টিনের পাশে একটা রুম ভাড়া করে তিনজন থাকি। আমার বোন এবং একমাত্র ভাগ্নে নিলক্ষেতের কাছে ঢাকা ইউনিভার্সিটির আবাসিক এলাকায় সাবলেট থাকে। ভাগ্নে ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে। সে ক্লাস নাইনে পড়াকালীন আমার দুলাভাই মারা গেছেন। পাবনা ওদের বাড়ি। সেখান থেকেই এসএসসি পাশ করেছিল। ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর মা-ছেলে দুই জায়গায় থাকলে দুইজনেরই মন খারাপ থাকবে বলে তাদেরকে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আমার ওখান থেকে তাদের বাসায় হেঁটে যেতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে। তাই বেশিরভাগ সময় আমি ওখানে গিয়ে খেয়ে আসি।
ওখানে আসা-যাওয়ার পথে আবাসিক এলাকার ভিতরের রাস্তায় এবং গেটে একটা মেয়ের সাথে মাঝে মাঝে দেখা হয়। মেয়েটা অনেক লম্বা ও ফর্শা। অধিকাংশ সময় তাকে বোরখা পরা এবং মুখ বাধা অবস্থায় দেখি। আবার বিকেলে ওদিকে গেলে সালোয়ার-কামিজ পরে মাথায় ওড়না দিয়ে তাকে ঘুড়তেও দেখি। খোঁপাটা ওপরের দিকে উঁচু করে বেঁধে যখন ছন্দে ছন্দে হাঁটাহাঁটি করে তখন তাকে দেখতে কি যে ভাল লাগে তা প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই।
মেয়েটার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, আমার বোনের বাসার সামনের বিল্ডিং-এ তারা থাকে। নাম সুমাইয়া। মাস্টার্স-এ পড়ে। তার বাবা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটা ডীন অফিসের সেকশন অফিসার। তারা দুই ভাই দুই বোন। সুমাইয়াই সবার বড়।
দিনের পর দিন তাকে দেখে, রাতের পর রাত তাকে নিয়ে কল্পনা করে তার প্রতি দুর্বলতা টের পেলাম। মাঝে মাঝে যখন টিএসসি, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান কিংবা নিউমার্কেটে ঘুরতে যাই তখন মনে হয় সে যদি পাশে থাকত তবে খুব ভাল হত। যখন পাবনা আমাদের বাড়িতে যাই তখন গাড়িতে বসে মনে হয় সে যদি আমার সাথে থাকত তবে ভ্রমণটা চার ঘণ্টার না হয়ে চার মিনিটেই শেষ হয়ে যেত। মনে হয় সুমাইয়ার মত সুন্দর মেয়েকে যদি আমাদের বাড়িতে স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে পারতাম তবে সবাই বলত আমি একটা কাজের কাজ করেছি। ভাবলাম সুমাইয়ার খোঁজ হয়ত বিয়ে করার বয়সী কোন ছেলে জানেনা। তাই সে এখনও একা আছে। কেউ জানলে সে অন্যের হয়ে যাবে।
তাই দেরি না করে আমার বোনকে দিয়ে সুমাইয়ার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম। পরদিন রাতে খেতে গিয়ে আপার কাছে জানতে চাইলাম, তারা কিছু জানিয়েছে কিনা। সে জানাল, তারা কিছু বলেনি। আমি নিজেকে সান্তনা দিলাম যে বিয়ে তো আর ছোটখাট বিষয় নয়। কিছু জানাতে তাদের সময় তো লাগবেই। তবে যেহেতু প্রস্তাব দেওয়ার সাথে সাথে না বলে দেয়নি তাতে আমি আশার আলো দেখতে পেলাম যে হয়তো আমাকে তারা নিরাশ করবে না।
এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল। প্রতিদিন খুব আশা নিয়ে জহুরুল হক হলের গেট দিয়ে বের হয়ে স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে দিয়ে আপার বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করি, তারা কিছু জানিয়েছে কিনা। সে যখন বলে যে কিছুই জানায়নি তখন হতাশায় মনটা ছেয়ে যায়। কোনরকমে রাতে খাওয়া শেষ করে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ওখান থেকে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও সিগারেট কিনে নিয়ে পলাশী মোড়ের দিকের রাস্তায় ফুটপাত ধরে সোডিয়াম লাইটের নিচে নির্জনতায় হাটতে হাঁটতে সিগারেট টানি আর দুশ্চিন্তা করি যে তারা যদি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়!
প্রায় একমাস পর আমি অফিসে থাকাকালীন আপা ফোন করে জানাল, সুমাইয়ার বাবা জানিয়েছে যে মাস্টার্স পরীক্ষার পর তিনি তার মেয়ের বিয়ের কথা ভাববেন, এখনই বিয়ের কথা ভাবছেন না। শুনে আমি খুব কষ্ট পেলাম। আপা আমাকে বলল, দুঃখ করিস না। এর চেয়েও ভাল মেয়ে আমরা খুঁজে বের করবো।
সুমাইয়াদের উপর খুব রাগ হল। তারা রাজি নেই, এই কথাটা এতদিন পর জানাল কেন? এতদিন যখন সময়ই নিল তখন তারা যে রাজি আছে তা বলল না কেন? চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে বসে রইলাম। অফিস ছুটির সময় হলেও উঠতে ইচ্ছা হল না। অবশেষে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অফিস থেকে বের হলাম। হাঁটতে হাঁটতেই বিজ্ঞান কলেজের সামনে দিয়ে এসে ফার্মগেটের ওভারব্রিজ পার হয়ে গ্রীন সুপার মার্কেটের দিকে হাঁটতে লাগলাম। আইবিএ হোস্টেলের সামনের চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে রতনের কথা মনে পড়লো।
পূর্ব রাজাবাজার আইবিএ হোস্টেলের পিছনেই ওদের বাসা। ঢাকায় এসে ওর সাথে পরিচিত হওয়ার পর এই চায়ের দোকানে আমরা অনেক চা খেয়েছি। ওর সাথে সংসদ ভবনে, জগন্নাথ হলের পুকুর পাড়ে বসে কিংবা একুশের বইমেলায় প্রতিদিন বিকালে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বেঞ্চিতে বসে আনন্দ-বেদনার কত কথা বলেছি। আজকেও ইচ্ছা জাগল, ওর সাথেই একটু ঘুরে-বেড়াই। কিন্তু ওকে বাসায় পেলাম না।
রুমে গিয়ে শার্ট-প্যান্ট পরেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আপার বাসায় খেতে গেলাম না। অনেক রাতে পলাশীর মোড়ে গিয়ে হোটেল থেকে খেয়ে এলাম।
সকালেও হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে অফিসে গেলাম। লজ্জায় আপার বাসায় কয়েকদিন গেলাম না। আমার খুব আশা ছিল যে তারা আমাকে ফেরাবে না। অথচ ফিরিয়ে দিল। ওদিকে গেলে সুমাইয়ার সাথে দেখা হলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে চাইনা।
যাতে সুমাইয়ার নজরে পড়তে না হয় সেজন্যে একদিন সন্ধ্যার পর আপার বাসায় রওনা হলাম। আবাসিক এলাকাটির গেট দিয়ে ঢুকেই দেখলাম সুমাইয়া দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই আমি চমকে উঠলাম। কিন্তু আমি থামলাম না। মাথা নিচু করে এগিয়ে যাওয়ার সময় সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, প্লিজ একটু দাঁড়ান।
সুমাইয়ার সাথে আগে কোনদিন কথা হয়নি। এই প্রথম কথা বলা। তাও আবার সেই নিজে থেকে কথা বলছে। তাই নিজের ভিতরে উত্তেজনা অনুভব করলাম।
দাঁড়ানোর পর সে বলল, আমি জানি আমার উপর আপনি খুব মাইন্ড করে আছেন। তাই আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই। আগামিকাল বিকাল পাঁচটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ওখানে অবশ্যই একটু আসবেন।
আমি কিছু না বলে এগিয়ে যাচ্ছি দেখে সে বলল, আসবেন কিনা তা বললেন না তো!
আমি তার দিকে না তাকিয়েই বললাম, ঠিক আছে আসবো।
বাসায় যেতে যেতে নতুন করে আবার চিন্তা এল মাথায়। কি বলবে সে আমাকে? প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার মধ্যে কি অনুশোচনা এসেছে যে ব্যাপারটা ঠিক হয়নি? নাকি অন্য কিছু বলবে? যা বলতে চায় তা এখনই বলে দিলেই তো পারতো! আগামিকাল বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা খুব দুরূহ একটা কাজ বলে মনে হল আমার কাছে।
বাসায় গিয়ে আপাকে কিছু বললাম না। ওখান থেকে রাতের খাবার খেয়েই রুমে চলে এলাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম যে কি বলতে পারে সে আমাকে। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারলাম না যে কি বলতে পারে। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। ছুটির দিন বলে সকালে একটু দেরীতেই বিছানা ছাড়লাম। দুপুরে সাধারণত একটু ঘুমাই। কিন্তু আজ ঘুম এল না।
পাঁচটার দিকে রিক্সা নিয়ে শহীদ মিনারের ওখানে গিয়ে দেখি সুমাইয়া আমার আগেই এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমার সাথে কথা বলার জন্য ও এতটা আগ্রহী দেখে অবাক হলাম।
কুশল বিনিময়ের পর পশ্চিম পাশে একটু নিরিবিলি জায়গায় দুজন পাশাপাশি বসলাম। সুমাইয়া বলল, আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর আপনি খুব কষ্ট পেয়েছেন তাইনা?
সুমাইয়ার কণ্ঠটা খুব সুন্দর। মাস্টার্স-এ পড়ে অথচ কণ্ঠ শুনলে মনে হয় এসএসসি-ই পাশ করেনি। আমি বললাম, কি বলতে চান বলুন। আমার কষ্ট পাওয়া নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।
সে বলল, অবশ্যই ভাবতে হবে। আর সেজন্যই তো আপনাকে এখানে আসতে বলেছিলাম।
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সে আবার বলল, আপনি হয়তো ভেবেছেন যে আমরা অহংকারী। আপনাকে আমার উপযুক্ত মনে করিনি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা সবাই আপনাকে পছন্দ করি। কিন্তু আমিই আপনার উপযুক্ত নই বলে আমিই রাজি হইনি। আমাদের পরিবারের অন্য সবাই রাজি কিন্তু আমি রাজি নই বলে আমাদের ফলাফল জানাতে এত দেরী হয়েছিল।
সে বলল, আমি অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর সেলিম নামে একটি ছেলে আমাদের বিল্ডিংয়ে তার বোনের বাসায় আসে চাকরি খুঁজবে বলে। কয়েকমাস পর সে আমাকে প্রস্তাব দেয়। তাকে দেখে ভাল মানুষই মনে হয়েছিল। তাছাড়া শিক্ষিত, বাবা দুবাই থাকে। এসব কারণে আমিও রাজি হয়েছিলাম। আমি তাকে এতটাই বিশ্বাস করেছিলাম যে সে আমাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে আমি আপত্তি করতাম না। ভাবতাম ও চাকরি পেলেই আমরা তো বিয়ে করবোই।
সুমাইয়া তার ডান হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলল, কিন্তু একসময় টের পেলাম আমি প্রেগন্যান্ট। আমার আত্মা কেঁপে উঠল। সেলিমকে জানালাম। সে এম আর করতে বলল। আশ্বাস দিল যে তারপর বিয়ে করবে। আমি ওর কথামত কাজ করলাম। কিন্তু এরপরই সে দূরত্ব বাড়িয়ে দিল। আমার বাবা-মা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। তাদেরকে জানানো হল যে সেলিমের বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার, বিদেশ থাকে। তাই তিনি আমাদের পরিবারে ছেলের বিয়েতে কিছুতেই রাজি হবেন না।
আমার বাবা-মা ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলেন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ভাবলাম জীবনটা শেষ করে দেব। কিন্তু বাবা-মা ও ছোট ভাই-বোনরা কষ্ট পাবে এবং আত্মহত্যা মহাপাপ ভেবে তা পারিনি। এরপর কয়েক জায়গা থেকে আমার বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি তো খারাপ একটা মেয়ে। সব পুরুষই একজন নিষ্পাপ মেয়েকে বউ হিসাবে পেতে চায়। তাই আমি যদি কারো বউ হই তবে একজন নিষ্পাপ বউ পাওয়া থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে। জেনে-শুনে এতবড় প্রতারণা আমি কিভাবে করি বলুন।
এত ভাল একটা মেয়ের জীবনে এত বড় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে ভাবাই যায় না।
সে আবার বলল, একজন মেয়ে হয়ে আপনাকে এসব কথা বলাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু আপনাকে আমি পছন্দ করি। আমার মনে হয়েছিল যে আপনাকে প্রকৃত বিষয়টা জানানো দরকার। তা না হলে আপনি আমাকে অহংকারী ভেবে কষ্ট পাবেন। আমি তা চাইনি।
তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আজ লোক ঠকানোটা যেখানে মানুষের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিজের জীবনকে সুন্দর করার জন্য একজন আরেকজনকে প্রতারিত করতে দ্বিধাবোধ করে না, বরং প্রতারণা করাটাই বাহবা কুড়ানোর মত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে সুমাইয়ার মত একটা মেয়ে কাউকে বিয়ে করাটা প্রতারণা করা হবে ভেবে নিজের মূল্যবান জীবনটা এভাবে শেষ করে দিচ্ছে? পৃথিবীর সব মানুষ তাকে খারাপ মনে করলেও আমি মনে করি যে সে একটা নিষ্পাপ মেয়ে।
ভাবলাম যা বলার আমাকে এখনই বলতে হবে। পরে বললে সুমাইয়া ভাববে সবকিছু শোনার পর প্রথমে আমি তাকে ঘৃণাই করেছিলাম। নিজের সাথে বোঝাপড়া করে নিতান্ত অনিচ্ছায় আমি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এখন বললে যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে পরে বললে তা নাও হতে পারে।
এতক্ষণ পাশাপাশি বসে থেকে সুমাইয়াকে খুব কাছের মানুষ মনে হওয়ায় আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সে লজ্জায় একপাশে মুখ ঘোরালো। আমি ঘনিষ্ঠজনের মত বললাম, অত শত বুঝি না। তোমাকে আমি ভালবাসি। তাই তোমাকে বউ হিসাবে পেতে চাই, ব্যস। আর আমার এই চাওয়া পূরণ না হলে আমি বাঁচবো না।
প্রথমে তার দু’চোখ দিয়ে পানি বের হল। কিছুক্ষণ পর একটু হাসল। তারপর বলল, আচ্ছা ঠিক আছে আমি রাজি। এবার হল তো?
আমি বললাম, তুমি যদি আমার সাথে রিক্সায় কিছু সময় ঘুরে বেড়াও তাহলে হবে।
সে বলল, কোথায় ঘুরে বেড়াবো?
আমি বললাম, এই ধরো এখান থেকে রিক্সায় উঠে দোয়েল চত্বর হয়ে শিশু পার্ক অতিক্রম করে শাহবাগ ও কাঁটাবন হয়ে বাসায়।
সে হেসে বলল, ঠিক আছে।
আমরা রিক্সায় উঠলাম। সুমাইয়ার শরীর থেকে প্রসাধনীর গন্ধ নাকে এলো। সেই গন্ধে আমি যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে গেলাম।
ওখানে আসা-যাওয়ার পথে আবাসিক এলাকার ভিতরের রাস্তায় এবং গেটে একটা মেয়ের সাথে মাঝে মাঝে দেখা হয়। মেয়েটা অনেক লম্বা ও ফর্শা। অধিকাংশ সময় তাকে বোরখা পরা এবং মুখ বাধা অবস্থায় দেখি। আবার বিকেলে ওদিকে গেলে সালোয়ার-কামিজ পরে মাথায় ওড়না দিয়ে তাকে ঘুড়তেও দেখি। খোঁপাটা ওপরের দিকে উঁচু করে বেঁধে যখন ছন্দে ছন্দে হাঁটাহাঁটি করে তখন তাকে দেখতে কি যে ভাল লাগে তা প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই।
মেয়েটার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, আমার বোনের বাসার সামনের বিল্ডিং-এ তারা থাকে। নাম সুমাইয়া। মাস্টার্স-এ পড়ে। তার বাবা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটা ডীন অফিসের সেকশন অফিসার। তারা দুই ভাই দুই বোন। সুমাইয়াই সবার বড়।
দিনের পর দিন তাকে দেখে, রাতের পর রাত তাকে নিয়ে কল্পনা করে তার প্রতি দুর্বলতা টের পেলাম। মাঝে মাঝে যখন টিএসসি, সোহরাওয়ার্দি উদ্যান কিংবা নিউমার্কেটে ঘুরতে যাই তখন মনে হয় সে যদি পাশে থাকত তবে খুব ভাল হত। যখন পাবনা আমাদের বাড়িতে যাই তখন গাড়িতে বসে মনে হয় সে যদি আমার সাথে থাকত তবে ভ্রমণটা চার ঘণ্টার না হয়ে চার মিনিটেই শেষ হয়ে যেত। মনে হয় সুমাইয়ার মত সুন্দর মেয়েকে যদি আমাদের বাড়িতে স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে পারতাম তবে সবাই বলত আমি একটা কাজের কাজ করেছি। ভাবলাম সুমাইয়ার খোঁজ হয়ত বিয়ে করার বয়সী কোন ছেলে জানেনা। তাই সে এখনও একা আছে। কেউ জানলে সে অন্যের হয়ে যাবে।
তাই দেরি না করে আমার বোনকে দিয়ে সুমাইয়ার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম। পরদিন রাতে খেতে গিয়ে আপার কাছে জানতে চাইলাম, তারা কিছু জানিয়েছে কিনা। সে জানাল, তারা কিছু বলেনি। আমি নিজেকে সান্তনা দিলাম যে বিয়ে তো আর ছোটখাট বিষয় নয়। কিছু জানাতে তাদের সময় তো লাগবেই। তবে যেহেতু প্রস্তাব দেওয়ার সাথে সাথে না বলে দেয়নি তাতে আমি আশার আলো দেখতে পেলাম যে হয়তো আমাকে তারা নিরাশ করবে না।
এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেল। প্রতিদিন খুব আশা নিয়ে জহুরুল হক হলের গেট দিয়ে বের হয়ে স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে দিয়ে আপার বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করি, তারা কিছু জানিয়েছে কিনা। সে যখন বলে যে কিছুই জানায়নি তখন হতাশায় মনটা ছেয়ে যায়। কোনরকমে রাতে খাওয়া শেষ করে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ওখান থেকে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও সিগারেট কিনে নিয়ে পলাশী মোড়ের দিকের রাস্তায় ফুটপাত ধরে সোডিয়াম লাইটের নিচে নির্জনতায় হাটতে হাঁটতে সিগারেট টানি আর দুশ্চিন্তা করি যে তারা যদি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়!
প্রায় একমাস পর আমি অফিসে থাকাকালীন আপা ফোন করে জানাল, সুমাইয়ার বাবা জানিয়েছে যে মাস্টার্স পরীক্ষার পর তিনি তার মেয়ের বিয়ের কথা ভাববেন, এখনই বিয়ের কথা ভাবছেন না। শুনে আমি খুব কষ্ট পেলাম। আপা আমাকে বলল, দুঃখ করিস না। এর চেয়েও ভাল মেয়ে আমরা খুঁজে বের করবো।
সুমাইয়াদের উপর খুব রাগ হল। তারা রাজি নেই, এই কথাটা এতদিন পর জানাল কেন? এতদিন যখন সময়ই নিল তখন তারা যে রাজি আছে তা বলল না কেন? চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে বসে রইলাম। অফিস ছুটির সময় হলেও উঠতে ইচ্ছা হল না। অবশেষে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অফিস থেকে বের হলাম। হাঁটতে হাঁটতেই বিজ্ঞান কলেজের সামনে দিয়ে এসে ফার্মগেটের ওভারব্রিজ পার হয়ে গ্রীন সুপার মার্কেটের দিকে হাঁটতে লাগলাম। আইবিএ হোস্টেলের সামনের চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে রতনের কথা মনে পড়লো।
পূর্ব রাজাবাজার আইবিএ হোস্টেলের পিছনেই ওদের বাসা। ঢাকায় এসে ওর সাথে পরিচিত হওয়ার পর এই চায়ের দোকানে আমরা অনেক চা খেয়েছি। ওর সাথে সংসদ ভবনে, জগন্নাথ হলের পুকুর পাড়ে বসে কিংবা একুশের বইমেলায় প্রতিদিন বিকালে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বেঞ্চিতে বসে আনন্দ-বেদনার কত কথা বলেছি। আজকেও ইচ্ছা জাগল, ওর সাথেই একটু ঘুরে-বেড়াই। কিন্তু ওকে বাসায় পেলাম না।
রুমে গিয়ে শার্ট-প্যান্ট পরেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আপার বাসায় খেতে গেলাম না। অনেক রাতে পলাশীর মোড়ে গিয়ে হোটেল থেকে খেয়ে এলাম।
সকালেও হোটেল থেকে নাস্তা খেয়ে অফিসে গেলাম। লজ্জায় আপার বাসায় কয়েকদিন গেলাম না। আমার খুব আশা ছিল যে তারা আমাকে ফেরাবে না। অথচ ফিরিয়ে দিল। ওদিকে গেলে সুমাইয়ার সাথে দেখা হলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে চাইনা।
যাতে সুমাইয়ার নজরে পড়তে না হয় সেজন্যে একদিন সন্ধ্যার পর আপার বাসায় রওনা হলাম। আবাসিক এলাকাটির গেট দিয়ে ঢুকেই দেখলাম সুমাইয়া দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই আমি চমকে উঠলাম। কিন্তু আমি থামলাম না। মাথা নিচু করে এগিয়ে যাওয়ার সময় সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, প্লিজ একটু দাঁড়ান।
সুমাইয়ার সাথে আগে কোনদিন কথা হয়নি। এই প্রথম কথা বলা। তাও আবার সেই নিজে থেকে কথা বলছে। তাই নিজের ভিতরে উত্তেজনা অনুভব করলাম।
দাঁড়ানোর পর সে বলল, আমি জানি আমার উপর আপনি খুব মাইন্ড করে আছেন। তাই আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই। আগামিকাল বিকাল পাঁচটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ওখানে অবশ্যই একটু আসবেন।
আমি কিছু না বলে এগিয়ে যাচ্ছি দেখে সে বলল, আসবেন কিনা তা বললেন না তো!
আমি তার দিকে না তাকিয়েই বললাম, ঠিক আছে আসবো।
বাসায় যেতে যেতে নতুন করে আবার চিন্তা এল মাথায়। কি বলবে সে আমাকে? প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার মধ্যে কি অনুশোচনা এসেছে যে ব্যাপারটা ঠিক হয়নি? নাকি অন্য কিছু বলবে? যা বলতে চায় তা এখনই বলে দিলেই তো পারতো! আগামিকাল বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা খুব দুরূহ একটা কাজ বলে মনে হল আমার কাছে।
বাসায় গিয়ে আপাকে কিছু বললাম না। ওখান থেকে রাতের খাবার খেয়েই রুমে চলে এলাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম যে কি বলতে পারে সে আমাকে। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারলাম না যে কি বলতে পারে। একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। ছুটির দিন বলে সকালে একটু দেরীতেই বিছানা ছাড়লাম। দুপুরে সাধারণত একটু ঘুমাই। কিন্তু আজ ঘুম এল না।
পাঁচটার দিকে রিক্সা নিয়ে শহীদ মিনারের ওখানে গিয়ে দেখি সুমাইয়া আমার আগেই এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমার সাথে কথা বলার জন্য ও এতটা আগ্রহী দেখে অবাক হলাম।
কুশল বিনিময়ের পর পশ্চিম পাশে একটু নিরিবিলি জায়গায় দুজন পাশাপাশি বসলাম। সুমাইয়া বলল, আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর আপনি খুব কষ্ট পেয়েছেন তাইনা?
সুমাইয়ার কণ্ঠটা খুব সুন্দর। মাস্টার্স-এ পড়ে অথচ কণ্ঠ শুনলে মনে হয় এসএসসি-ই পাশ করেনি। আমি বললাম, কি বলতে চান বলুন। আমার কষ্ট পাওয়া নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।
সে বলল, অবশ্যই ভাবতে হবে। আর সেজন্যই তো আপনাকে এখানে আসতে বলেছিলাম।
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সে আবার বলল, আপনি হয়তো ভেবেছেন যে আমরা অহংকারী। আপনাকে আমার উপযুক্ত মনে করিনি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা সবাই আপনাকে পছন্দ করি। কিন্তু আমিই আপনার উপযুক্ত নই বলে আমিই রাজি হইনি। আমাদের পরিবারের অন্য সবাই রাজি কিন্তু আমি রাজি নই বলে আমাদের ফলাফল জানাতে এত দেরী হয়েছিল।
সে বলল, আমি অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর সেলিম নামে একটি ছেলে আমাদের বিল্ডিংয়ে তার বোনের বাসায় আসে চাকরি খুঁজবে বলে। কয়েকমাস পর সে আমাকে প্রস্তাব দেয়। তাকে দেখে ভাল মানুষই মনে হয়েছিল। তাছাড়া শিক্ষিত, বাবা দুবাই থাকে। এসব কারণে আমিও রাজি হয়েছিলাম। আমি তাকে এতটাই বিশ্বাস করেছিলাম যে সে আমাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে আমি আপত্তি করতাম না। ভাবতাম ও চাকরি পেলেই আমরা তো বিয়ে করবোই।
সুমাইয়া তার ডান হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলল, কিন্তু একসময় টের পেলাম আমি প্রেগন্যান্ট। আমার আত্মা কেঁপে উঠল। সেলিমকে জানালাম। সে এম আর করতে বলল। আশ্বাস দিল যে তারপর বিয়ে করবে। আমি ওর কথামত কাজ করলাম। কিন্তু এরপরই সে দূরত্ব বাড়িয়ে দিল। আমার বাবা-মা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। তাদেরকে জানানো হল যে সেলিমের বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার, বিদেশ থাকে। তাই তিনি আমাদের পরিবারে ছেলের বিয়েতে কিছুতেই রাজি হবেন না।
আমার বাবা-মা ব্যর্থ হয়ে ফিরে এলেন। আমি হতবাক হয়ে গেলাম। ভাবলাম জীবনটা শেষ করে দেব। কিন্তু বাবা-মা ও ছোট ভাই-বোনরা কষ্ট পাবে এবং আত্মহত্যা মহাপাপ ভেবে তা পারিনি। এরপর কয়েক জায়গা থেকে আমার বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি তো খারাপ একটা মেয়ে। সব পুরুষই একজন নিষ্পাপ মেয়েকে বউ হিসাবে পেতে চায়। তাই আমি যদি কারো বউ হই তবে একজন নিষ্পাপ বউ পাওয়া থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে। জেনে-শুনে এতবড় প্রতারণা আমি কিভাবে করি বলুন।
এত ভাল একটা মেয়ের জীবনে এত বড় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে ভাবাই যায় না।
সে আবার বলল, একজন মেয়ে হয়ে আপনাকে এসব কথা বলাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু আপনাকে আমি পছন্দ করি। আমার মনে হয়েছিল যে আপনাকে প্রকৃত বিষয়টা জানানো দরকার। তা না হলে আপনি আমাকে অহংকারী ভেবে কষ্ট পাবেন। আমি তা চাইনি।
তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আজ লোক ঠকানোটা যেখানে মানুষের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিজের জীবনকে সুন্দর করার জন্য একজন আরেকজনকে প্রতারিত করতে দ্বিধাবোধ করে না, বরং প্রতারণা করাটাই বাহবা কুড়ানোর মত কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে সুমাইয়ার মত একটা মেয়ে কাউকে বিয়ে করাটা প্রতারণা করা হবে ভেবে নিজের মূল্যবান জীবনটা এভাবে শেষ করে দিচ্ছে? পৃথিবীর সব মানুষ তাকে খারাপ মনে করলেও আমি মনে করি যে সে একটা নিষ্পাপ মেয়ে।
ভাবলাম যা বলার আমাকে এখনই বলতে হবে। পরে বললে সুমাইয়া ভাববে সবকিছু শোনার পর প্রথমে আমি তাকে ঘৃণাই করেছিলাম। নিজের সাথে বোঝাপড়া করে নিতান্ত অনিচ্ছায় আমি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই এখন বললে যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে পরে বললে তা নাও হতে পারে।
এতক্ষণ পাশাপাশি বসে থেকে সুমাইয়াকে খুব কাছের মানুষ মনে হওয়ায় আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সে লজ্জায় একপাশে মুখ ঘোরালো। আমি ঘনিষ্ঠজনের মত বললাম, অত শত বুঝি না। তোমাকে আমি ভালবাসি। তাই তোমাকে বউ হিসাবে পেতে চাই, ব্যস। আর আমার এই চাওয়া পূরণ না হলে আমি বাঁচবো না।
প্রথমে তার দু’চোখ দিয়ে পানি বের হল। কিছুক্ষণ পর একটু হাসল। তারপর বলল, আচ্ছা ঠিক আছে আমি রাজি। এবার হল তো?
আমি বললাম, তুমি যদি আমার সাথে রিক্সায় কিছু সময় ঘুরে বেড়াও তাহলে হবে।
সে বলল, কোথায় ঘুরে বেড়াবো?
আমি বললাম, এই ধরো এখান থেকে রিক্সায় উঠে দোয়েল চত্বর হয়ে শিশু পার্ক অতিক্রম করে শাহবাগ ও কাঁটাবন হয়ে বাসায়।
সে হেসে বলল, ঠিক আছে।
আমরা রিক্সায় উঠলাম। সুমাইয়ার শরীর থেকে প্রসাধনীর গন্ধ নাকে এলো। সেই গন্ধে আমি যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে গেলাম।
লেখক ওয়াহিদ উদ্দিন
- ওয়াহিদ উদ্দিন -এর ব্লগ
- ১৬ টি মন্তব্য
- ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:৪১
- গল্প
প্রিন্ট করুন
- ১৬ টি মন্তব্য
-
ছদ্মবেশী১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৪৫
মেবাই বেশ ভালো রোমান্টিক গল্প লিখেন আপনি পড়লে ইচ্ছে হয় আবার প্রেমে পরি।
দুটি যায়গায় বাংলা সিনেমার ডায়লগের মত মনে হয়েছে একটু খেয়াল রাখলে আরো সুন্দর হবে।
আচ্ছা ঠিক আছে আমি রাজি। এবার হল তো?
সুমাইয়ার শরীর থেকে প্রসাধনীর গন্ধ নাকে এলো। সেই গন্ধে আমি যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে গেলাম।
এসব দিকে লক্ষ্য রাখলে আরো সমৃদ্ধ হবে লেখা।
আর একটি কথা সবার মন্তব্যের উত্তর দিবেন যদি না দেন তাহলে গল্প মাছি বসবে।
ধন্যবাদ -
অরিত্র অন্বয়১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২২
গল্প ভাল লাগলো। লিখতে থাকুন, সামনে আরো ভাল হবে।
আর উপরে ছদ্মবেশি ভাইজানের মন্তব্যটাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিবেন। আমারো চোখে লেগেছে গল্পের অই যায়গাটা।
শুভকামনা আপনার জন্য ভাই।

-
নুসরাত জাহান আজমি২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৪:০৮
সুন্দর গল্প...চারিদিকে যখন সবাই বলছে, মেয়েরা ছেলেদের ঠকাইতেসে , বিয়ের জন্য ভালো মেয়ে পাওয়াই যায় না.. তাদের জন্য এই গল্পটা পড়া বাধ্যতামূলক.. -
নীল সাধু২০ ডিসেম্বর ২০১২, ১৪:৪১
গল্প ভালো লেগেছে!
গল্পে টূইষ্ট ছিল। সেটা আরো জোরালভাবে ব্যাবহার করতে পারতেন । তবু ভালো লেগেছে।
শুভকামনা।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
যে অন্যায় করে অন্যায় স্বীকার করে তার মনের ভিতর কোন দোষ থাকেনা।
আর যে অন্যায় চেপে রাখে সে বড় অপরাধী।
ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।