অভিন্ন
অভিন্ন
মোহাম্মদ ইসহাক খান
সিয়াটল, রাত দুটো।
ছোট্ট নোরা মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কবে আসবে, মা?
নোরার বাবা, সার্জেন্ট গ্যারি এখন আছেন প্যারিসে, ইন্টারপোলের একটা বিশেষ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের হোতাকে ধাওয়া করে এই পর্যন্ত এসেছেন তিনি। তাঁর চোখে ঘুম নেই, খাওয়াদাওয়ার ঠিক নেই। কবে এই মিশন শেষ হবে, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।
মা মারিয়া বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
নোরা শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
কঙ্গো, রাত দুটো।
ছোট্ট ইভা মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কখন আসবে, মা?
ইভার বাবা, লুমুম্বা গেছেন ফসলের ক্ষেতে। তিনি গোত্রপ্রধান, ফসলের ক্ষেত প্রতি রাতে এসে তছনছ করে দিয়ে যায় পাগলা হাতির দল, নির্ঘুম রাত কাটায় তাঁর গোত্রের লোকেরা, আজ নিজে গিয়েছেন তাদেরকে সঙ্গ দিতে। ফসল ঘরে তোলার আগে ঘুম নেই তাদের চোখে।
মা হাপ্রিত বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
ইভা শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
খাগড়াছড়ি, রাত দুটো।
ছোট্ট শারমিন মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কবে আসবে, মা?
শারমিনের বাবা, কমান্ডার মামুনুর রহমান এখন আছেন তাঁর বাহিনীর সাথে, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে আসছে মাদক, পুলিশ কোন সুরাহা করতে না পারায় সেনাবাহিনীর লোকজন এসেছে। অবস্থান নিয়ে আছেন তাঁরা। চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সবাই নিঃশব্দে অপেক্ষা করছেন নির্দেশের জন্য। হিমেল হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়, গাছ থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ছে শিশির।
মা নাসরিন বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
শারমিন শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
নোরা, ইভা, শারমিন বসবাস করে একে অপরের থেকে হাজার মাইল দূরে। তাদের গায়ের রং, স্ট্যাটাস, দেশ, জাতি সব আলাদা, কিন্তু তারা চিন্তাভাবনায় অভিন্ন। ভিন্ন চিন্তাভাবনার শিশু কোথাও পাওয়া যাবে না, তারা সবখানেই বাবার জন্য একই ব্যাকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করে।
মোহাম্মদ ইসহাক খান
সিয়াটল, রাত দুটো।
ছোট্ট নোরা মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কবে আসবে, মা?
নোরার বাবা, সার্জেন্ট গ্যারি এখন আছেন প্যারিসে, ইন্টারপোলের একটা বিশেষ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের হোতাকে ধাওয়া করে এই পর্যন্ত এসেছেন তিনি। তাঁর চোখে ঘুম নেই, খাওয়াদাওয়ার ঠিক নেই। কবে এই মিশন শেষ হবে, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।
মা মারিয়া বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
নোরা শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
কঙ্গো, রাত দুটো।
ছোট্ট ইভা মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কখন আসবে, মা?
ইভার বাবা, লুমুম্বা গেছেন ফসলের ক্ষেতে। তিনি গোত্রপ্রধান, ফসলের ক্ষেত প্রতি রাতে এসে তছনছ করে দিয়ে যায় পাগলা হাতির দল, নির্ঘুম রাত কাটায় তাঁর গোত্রের লোকেরা, আজ নিজে গিয়েছেন তাদেরকে সঙ্গ দিতে। ফসল ঘরে তোলার আগে ঘুম নেই তাদের চোখে।
মা হাপ্রিত বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
ইভা শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
খাগড়াছড়ি, রাত দুটো।
ছোট্ট শারমিন মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করছে। শুধোল, বাবা কবে আসবে, মা?
শারমিনের বাবা, কমান্ডার মামুনুর রহমান এখন আছেন তাঁর বাহিনীর সাথে, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে আসছে মাদক, পুলিশ কোন সুরাহা করতে না পারায় সেনাবাহিনীর লোকজন এসেছে। অবস্থান নিয়ে আছেন তাঁরা। চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, সবাই নিঃশব্দে অপেক্ষা করছেন নির্দেশের জন্য। হিমেল হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়, গাছ থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ছে শিশির।
মা নাসরিন বললেন, চলে আসবে, মামনি। তুমি ঘুমোও।
শারমিন শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
নোরা, ইভা, শারমিন বসবাস করে একে অপরের থেকে হাজার মাইল দূরে। তাদের গায়ের রং, স্ট্যাটাস, দেশ, জাতি সব আলাদা, কিন্তু তারা চিন্তাভাবনায় অভিন্ন। ভিন্ন চিন্তাভাবনার শিশু কোথাও পাওয়া যাবে না, তারা সবখানেই বাবার জন্য একই ব্যাকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করে।
লেখক ইসহাক খান
- ইসহাক খান -এর ব্লগ
- ৬ টি মন্তব্য
- ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৩
- গল্প
প্রিন্ট করুন
- ৬ টি মন্তব্য
-
মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৪৭
িভন্ন খেলা।
লিখতে থাকুন।
আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক