শুক্রবার ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ১২ বৈশাখ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বিকেল বেলার মনটা খারাপ

আমার একটু মন খারাপ হয়ে যায়।

সবে লিংক রোড পার হয়ে বড় রাস্তায় উঠেছি আর বিকেল বেলায় দল বেধে উড়ে চলছে সফেদ কবুতর গুলো, মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকি। ভাবতে থাকি ওদের জীবন প্রণালী। জীবন যাপন। সংসার। আমার মনযোগী দৃষ্টিকে ওরা বুঝল কই? বড় দালানটার আড়ালে চলে গেলেই আর দেখা যায় না ওদের। আমার একটু মন খারাপ হয়ে যায়

কখনও চাঁদটা একটু আগেই ধরা দিয়ে যায় আর কেন যেন আমি আলো দেওয়া চাঁদটাকে ভুলতেই পারি না! আমি ভুলতেই পারি না। চাঁদ কখনও বিকেলের আকাশে ঝুলে থাকে, আর বিরান আকাশ জুড়ে চাঁদ খুব ভাবায় আমাকে। হঠাৎ করে চাঁদকে লাজুক লাগে, আমিও লাজুক হয়ে চোখ নামিয়ে নেই। মনে হয় “চাঁদটার একটা ছবি তুলে নিলে কেমন হয়! তাহলেই তো যখন ইচ্ছে তখনই দেখতে পারব!” যেই ভাবনা সেই কাজ! পকেটের মোবাইল দিয়ে এমনিতে তো বেশ ভালোই ছবি ওঠে কিন্তু এই ঝাঁকুনিতে চাঁদের ছবি বিকৃত হয়ে অন্য রূপ নেয়। বোঝাই যায় না চাঁদ এটা। মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে রাখি, মন খারাপটা বেড়ে যায় একটু।

সিগন্যাল হচ্ছে চিন্তাকে পাশ কাটানোর প্রকৃতি প্রদত্ত মাধ্যম। হুস করে থেমে যায় সব আর চিন্তারা বাস্তবে এসে হামাগুড়ি খায় কিছুক্ষণ। হামাগুড়ি খাচ্ছে পা হারা পথের ভিক্ষুক, হামাগুড়ি দিয়ে ডাস্টবিনের ময়লা গুলো রাজ পথ দখল করে নিচ্ছে কারও হুস নেই, হামাগুড়ি খাচ্ছে ফুটপাতের অভুক্ত করুণ শিশু, হামাগুড়ি খেয়ে পেছাতে যেয়েও ঠিকই একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আমার বাংলাদেশ। হারিয়েই দিলাম ওয়েস্টিন্ডিজ কে বিশাল ব্যবধানে। কিন্তু মনের অজান্তে চাকাটা একটু সামনে চলে যাওয়াতে ট্রাফিক পুলিশ খুব জোরে বয়স্ক রিকশাওয়ালার পায়ে বেত দিয়ে বাড়ি দিয়ে দিল। ভুলেই গেলাম ক্রিকেট জয়ের কথা! নগরের নাগরিকতা কানে বাজতে থাকে আর আমি বুড়ো চাচার অসহায় মুখ খানি না দেখার ভান ধরে, মন খারাপ করে বসে থাকি।

রামপুরা টিভি সেন্টার পার হবার সময় সুন্দর দুটো লাইন আসে মাথায়, আমি অবশ্যই পরবর্তী লেখাতে লাইন দুটো ব্যাবহার করব বলে মনে মনে আওড়াতে থাকি। জানি স্মৃতি শক্তি কম তবুও মুখস্থ করে ফেলি কিভাবে যেন। তখনও জ্যাম এ বসে, আর আমার সামনে একটা গাড়ির নম্বর প্লেট এ লেখা ছিল “ঢাকা মেট্রো-চ(.....)” গাড়ির নাম্বারটা হুবহু মনে করতে পারলেও আমার টপিকটা কিন্তু একদমই হাওয়া। জানি একে ফিরে পাব না আর কোন দিনই। মন খারাপ করে পুর বিকেলের পথটা শেষ করে ফেললেও, লাইন দুটো আর খুঁজে পাই না।

জমপেশ কৌতুক হত বিকেল গুলোতে। হবে না! ওকে শোনানোর আগে কতবার যে রিহার্সাল করতাম তার ইয়ত্তা নেই! আর এক সপ্তাহ ধরে নেট ঘেঁটে বের করা কৌতুক গুলো ওকে শোনানোর আগে আমি কারও সাথেই শেয়ার করতাম না। যেন ঈদের দিনের নতুন জামা! আগে কাওকে দেখালেই পুরনো হয়ে যাবে। ও হেসে উঠত খুব! হাসতে হাসতে ধলে পড়তো! একে বেকে যেত বাঁকা চাদের মতন। “তুমি কোথায় পাও এই সব বলতো” হাসি সংক্রামক হলেও আমি স্থির হয়ে যেতাম। এতো সুন্দর করেও কেও হাসতে পারে ভেবে সেই কৌতুকময়ী বিকেল গুলোতেও আমার খুব মন খারাপ হয়ে যেত।

যেন ভুল না হয়ে যায় তাই খুব সিরিয়াস হয়ে পরবর্তী কৌতুক গুলো গুছিয়ে গুছিয়ে বলতে থাকতাম। খুশি করার আপ্রাণ প্রয়াস ওর চোখে ধরা পরে যেত। আমায় থামিয়ে দিত তখন। চুপ করে যেতাম, ভালবাসা লুকনোর চেষ্টা চলত ভেতরে ভেতরে। ওর চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না তখন। হাতের মুঠোয় হাত রেখে অন্য দিকে আমরা আমাদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতাম। যদিও স্নিগ্ধ বিকেল, ঝিরিঝিরি হাওয়া আর সবচাইতে কাঙ্ক্ষিত মানব-মানবি খুব পাশাপাশি। কিন্তু চুপ করে থাকা অভিমানী কিশোরের চেয়েও চুপ করা মন খারাপ সেই বিকেল গুলোতে আমদের ছেয়ে ফেলত।

নতুন বিকেল কে সঙ্গী করে মন খারাপরাও নতুন রূপ নেয় প্রতি বিকেলে যদিও...পুরনো সেই বিকেল গুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় খুব। পুরনো মন খারাপের বিকেল গুলো কত মধুর ছিল ভেবে ভেবে প্রতি বিকেলেই আমি নতুন করে আরও খানিকটা মন খারাপ করে ফেলি। আমার একটু মন খারাপ হয়ে যায়।
৪ টি মন্তব্য
anindyaantar অনিন্দ্য অন্তর অপু০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:১৯
নতুন বিকেল কে সঙ্গী করে মন খারাপরাও নতুন রূপ নেয় প্রতি বিকেলে যদিও...পুরনো সেই বিকেল গুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে হয় খুব।

সমাপ্তিটা চমৎকার। শুভকামনা রইল
BABLA মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৫৮
লিখতে থাকুন।
আপনার জন্য অবিরাম শুভকামনা।
KohiNoor মেজদা০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০১:৫১
আপনার সাফল্য কামনা করি। শুভেচ্ছা রইলো।
kuhook কুহক০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৫৫
আজ মন ভালো নেই
তবুও কালকের ভাল লাগার
রেশ কাটেনি
হাজারো তারার ঝিলমিল ছিল
ঝলমলে চাঁদের হাসি ছিল
প্রকৃতি সেজেছিল রুপোলী আলোয়
আমি নেচে ছিলাম উদ্বাহ নৃত্যে।

বিস্তীর্ণ প্রান্তরের সীমানায় ছিল কালো রেখা
তাও ঝলমলে
পাহাড়ের কর্কশ গায়েও ঝিলিক ছিল
ঝিরঝিরে বাতাসে তনুমন ভেসেছিল
অচেনা বিভাসে।

মাতাল, মাতাল ছিল দীর্ঘকায় ঘাস
বাতাসের ঢেউয়ে ছিল নুয়ে পড়া প্রণাম
স্বাভাবিক রং তার ছিল না
আমিও মাতাল ছিলাম,
রং হীন মোহিতে।

মর্মর ধ্বনির ঐকতান ছিল
ডালে ডালে সারা ছিল ঘর্ষণে
সৌন্দর্যের উদ্বেলের হাসি ছিল
এক টুকরো
টিএসসির সবুজ চত্বর
আর ছিলোএকটি রক্তিম বিকেল।

তবু আজ মন ভালো নেই
ভালোলাগার জন যে, জড়িয়ে নেই।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment