বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ৪ বৈশাখ, ১৪২১ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


যক্ষের ধন

যক্ষের ধন
মোহাম্মদ ইসহাক খান

থু থু দিয়ে টাকা গুনছেন তিনি। তাঁর শখ হল টাকা গোণা। একমাত্র এই কাজটিতেই তিনি কোন ক্লান্তি বোধ করেন না। তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে পাশে বসে আছে। হাঁ করে টাকা গোণা দেখছে।
তিনি এই প্রতিপত্তি একদিনে অর্জন করেননি। প্রত্যেকটি পয়সা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হয়েছে। তাই এই টাকাকে তিনি সন্তানের মতো, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু জ্ঞান করেন। তাঁর শয়নে টাকা, স্বপনে টাকা, নিদ্রায় টাকা, জাগরণে টাকা। টাকা ছাড়া তিনি অন্য কিছু নিয়ে চিন্তাভাবনা বিশেষ করেন না।
অনেকে তাঁর অনেক সমালোচনা করে। তা করুক গে। পাবলিকের কাজই হচ্ছে সমালোচনা। তিনি ভালো কাপড় কেনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ছেঁড়া কাপড় পরেন, ছেলেমেয়েকে কোনদিন কোন শখের জিনিস কিনে দেন নি, আড়ালে তাঁকে সবাই ডাকে কঞ্জুস, তাতে কী আসে যায়? প্রত্যেকটি পাই পয়সা তিনি নিজে রোজগার করেছেন, কোন শালা এসে তাঁকে এক পয়সা দিয়ে যায় নি।
পাশে বসে থাকা ছেলে অযাচিতভাবেই বলে উঠলো, বাবা, মা বলেছে যে টাকা গুনলে নাকি কমে যায়।
অ্যাঁ, কী বললি?
ছেলে কথার পুনরাবৃত্তি করে।
হা হা করে হেসে ওঠেন তিনি। পাগলের প্রলাপ আর কি। টাকা গুনলে কমে যাবে কেন? আরে টাকা তো গোনারই জিনিস। বলে নিজের কাজে আবার মন দেন তিনি।
কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। ঘটনা কী? এক হাজার টাকা কম কেন? গতকাল রাতেই তিনি নিজে গুনেছেন। কম তো হবার কথা নয়? আবার প্রথম থেকে শুরু করেন তিনি। বয়স হয়েছে, গোনায় ভুল হতেই পারে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি নোটে থু থু লাগিয়ে লাগিয়ে গোনেন তিনি। না, এক হাজার টাকাই কম। বুকটা হা হা করে ওঠে তাঁর। হায় হায়, এক টাকা না, দুই টাকা না, পুরো এক হাজার টাকা।
দুপুরে খেলেন না তিনি, টাকার শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়লেন। পুরো দিন বিমর্ষ হয়ে কাটালেন, কেউ কোন কথা বলতে এলে তাকে ধমকে দিলেন। কোনভাবেই হিসাব মেলাতে পারলেন না।
রাতে আরেকবার টাকা গুণতে বসলেন তিনি। গুণতে গুণতে শেষে এসে তাঁর বুক ধড়াস করে উঠলো। আরে, আরও এক হাজার টাকা কম!
কপালে ঘাম জমে তাঁর, গলা শুকিয়ে আসে। চিৎকার করতে ইচ্ছে হয়। কী আশ্চর্য, এখান থেকে টাকা যাচ্ছে কোথায়?
তাঁর চোখ এড়িয়ে এখান থেকে সংসার খরচের এক পয়সাও বের হয় না, কিন্তু আজ এ কী হচ্ছে? তারপরও স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি, কেউ টাকা নিয়েছে কীনা। মুখ ঝামটা দেন স্ত্রী। তোমার ঐ টাকা ছুঁতে বয়েই গেছে কারো।
তাহলে? এই দু হাজার টাকা কোথায় গেল?

পরদিন সকালে টাকাগুলো গোনেন তিনি, বারবার তিনবার। মাথায় হাত পড়ে তাঁর। যা আশঙ্কা করেছিলেন, তাই। আরও এক হাজার টাকা কম।
রাতে গোনার সাহস পেলেন না তিনি, কে জানে, যদি আরও কমে যায়? কিন্তু কৌতূহল কতক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা যায়? পরদিন সকালেই আবার গুণতে বসলেন তিনি। আরও এক হাজার টাকা গায়েব।

তিনি এখন আর রাতে ঘুমোতে পারেন না। প্রতিদিন তাঁর জমানো টাকা থেকে দু হাজার করে কমে যাচ্ছে।
১ টি মন্তব্য
PROMY01 প্রমি২৭ নভেম্বর ২০১২, ১১:৪৫