মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৩, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


সম্ভাবনাময় আমাদের অর্থনীতিঃ প্রয়োজন গতিশীল সঠিক কর্ম পরিকল্পনা

সমস্যা সঙ্কুল পরিস্থিতি অতিক্রম এর পরও বেশ কিছু সেক্টর এর উপর ভর করে বাংলাদেশ এর অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।।।অন্তত পক্ষে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমীক্ষার প্রাপ্ত রিপোর্ট,বছর জুড়ে জিদিপির ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যান এটাই নির্দেশ করছে।এরপর ও কথা থেকে যায়,কোথায় যেন একটা গ্যাপ রয়ে যায় এখানে,প্রান্তিক পর্যায় এর জনগন অর্থনীতির এ সুবিধা টা যেন ভোগ করতে পারছেনা।ধনীরা সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে আর গরিবেরা অনেক ক্ষেত্রেই দারিদ্র থেকে আর ও দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে।গত বছর জুন এর দিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু গড় বার্ষিক আয় ৩০৬৩৬/-টাকা,এবং পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ১০৬৪১/- টাকা।হয়তবা পুরো ব্যাপার টা বিশ্লেষণ করলে এ গড় আয় টা উঠতির দিকে তবে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী ঠিক সন্তোষজনক নয়। একজন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবার এ বাস করা মাত্র্ই যে কেউ ব্যাপার টা উপলব্ধি করবেন যে জীবন যাত্রা কতটা কঠিন।পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যতার জন্য বহুলাংশে দায়ি হলে, এর পেছনে রয়েছে সমাজের কিছু মানুষের এক চেটিয়া ভোগের ঐচ্ছিক শক্তি।ধনী গরীবের অর্থনৈতিক ব্যবধান এটা অতীতের সকল সমাজ ব্যবস্থায় ছিল, আজো আছে।আজ যেন সম্পদ আহরণ নেশার মত পেয়ে বসেছে।ধনী আর ধনী হচ্ছে,গরিব হচ্ছে আর ও গরিব।
বেশ কিছুদিন হয়ে গেল,বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রতিবেদন এর বরাত দিয়ে অনেক পত্রিকা একটা খবর প্রকাশ করে যে,দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা ২৮০০০।অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শেষে সেখানে বলা হয়েছে, কোটিপতির সংখ্যা আর ও বেশি। কারন,বাংলাদেশ এর ব্যাংক সমুহে যারা টাকা আমানত রেখেছেন,সে তালিকা থেকে হিসাব টি বের করা।অনেকেই দেশের বাইরের ব্যাংক এ টাকা রেখেছেন,তাদের হিসাব বেড় করা সম্ভব হয়নি।আবার এ ২৮০০০ কোটিপতি হচ্ছেন মোট আমানতকারির ০.৬% অথচ তাদের একাউন্ট এ জমা টাকার পরিমান মোট জমা টাকার এক তৃতীয়াংশ।এ থেকে বুঝা যায়,আমাদের দেশে সম্পদের অভাব নেই,তবে সেটা এক চেতিয়া দখলে চলে গেছে।গার্মেন্টস খাত হল বাংলাদেশ এর সব চেয়ে সম্ভাবনাময় একটা খাত।এই খাতের সম্ভাবনা কে মাথায় রেখে বাংলাদেশ কে দ্বিতীয় চীন হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।অথচ আজো আমাদের দেশের শ্রমিকদের মজুরির দাবিতে রাজপথে নামতে হয়,দেশে আজো ৪০%এর বেশি মানুষ চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে,তারা জিডিপির ঊর্ধ্বগতি বুঝেনা, সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রনয়নের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায় এর মানুষ দের জীবন যাত্রার নিশ্চয়তার সাথে সম্পৃক্ত করলেই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পূর্ণদোমে আর ও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।।
৬ টি মন্তব্য
sujonsarkar অনিন্দ্য অন্তর অপু০৮ নভেম্বর ২০১২, ২৩:২৪
পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা এই অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যতার জন্য বহুলাংশে দায়ি হলে, এর পেছনে রয়েছে সমাজের কিছু মানুষের এক চেটিয়া ভোগের ঐচ্ছিক শক্তি।ধনী গরীবের অর্থনৈতিক ব্যবধান এটা অতীতের সকল সমাজ ব্যবস্থায় ছিল, আজো আছে।আজ যেন সম্পদ আহরণ নেশার মত পেয়ে বসেছে।ধনী আর ধনী হচ্ছে,গরিব হচ্ছে আর ও গরিব।

সম্পদের সমবন্টন জরুরী। চমৎকার একটা পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
FaisolChowdhury ফয়সল চৌধুরী০৮ নভেম্বর ২০১২, ২৩:৩৫
আপনাকেও ধন্যবাদ অপু ভাই,এই ব্লগ এ এটা আমার প্রথম পোস্ট। পাশে থাকলে উৎসাহ পাব।ঃ)
meherajsarmin1 পাহাড়ী০৮ নভেম্বর ২০১২, ২৩:২৭
আমার তো মাথায় ঢোকে না , ওদের এত প্রয়োজন কিসের ?

মানুষের মিনিমাম জীবনযাত্রার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ।
FaisolChowdhury ফয়সল চৌধুরী০৮ নভেম্বর ২০১২, ২৩:৪০
পাহাড়ি ভাই,আমাদের বর্তমানে অর্থনীতির যে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে পুরোটাই ব্যক্তি কেন্দ্রিক,সামগ্রিক নই।।তাই একদিকে রাষ্ট্র যেমন এটা করছেনা বা করতে পারছেনা অন্যদিকে গরীব মানুষদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর ব্যপার টা কিছুটা বাধা গ্রস্ত হয়ে যায় অনেক সময়।ঃ)
MainulAmin মাইনুল আমিন০৯ নভেম্বর ২০১২, ০৩:৩৪
প্রিয় ফয়সাল ভাই
আপনার তথ্যনির্ভর লিখাটি চমত্কার হয়েছে । শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে । চালিয়ে যান ---------
FaisolChowdhury ফয়সল চৌধুরী০৯ নভেম্বর ২০১২, ০৯:২৯
আপনাকেও ধন্যবাদ মাইনুল ভাই।শুভ সকাল

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment