আইভরিকোষ্ট কড়চা-২
অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষে অবস্থিত আইভরিকোষ্টের বাণিজ্যিক রাজধানী আবিদজান। ভাটির দেশের মানুষ বলে নদী আর সাগরের প্রতি আমার রয়েছে দুর্নিবার মোহ। তাই মহাসাগরের আহ্বান আর উপেক্ষা করতে পারলাম না। পরদিন বের হয়ে পড়লাম ‘গ্র্যান্ড বাসাম’ সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। শহর থেকে সড়ক পথে সৈকতে যেতে সময় লাগে প্রায় ঘণ্টা খানেক। যেতে যেতে সড়কের দুইপাশে সারি সারি করে লাগানো অসংখ্য নারিকেল বাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। অবশ্য এটাকে বাগান না বলে ঘন অরণ্য বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত। মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত এরকম ঘন নারিকেল বৃক্ষের সমাহার ইতোপূর্বে দেখিনি কোথাও। এর ব্যাপ্তি সৈকতের সর্ব শেষ সীমা অবধি।
গ্র্যান্ড বাসাম পৌঁছে হাঁটাহাঁটি শুরু করলাম সৈকতের উত্তপ্ত বালুকাভুমিতে। নগ্ন পায়ে হাঁটতে গিয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হল। মনে হল যেন জ্বলন্ত উনুনের উপর দিয়ে হাঁটছি। দৌড়ে সমুদ্রের ভেজা কাদা বালিতে পা ডুবিয়ে এ যাত্রা বেঁচে গেলাম। অদূরে সূর্যকিরণ পড়া সমুদ্রতীরের বালিকনা গুলো চিক চিক করে জ্বলে আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। আর পাহাড় সমান বিশাল বিশাল ঢেউ এসে প্রচণ্ড ক্রোধে আছড়ে পড়ছে তীরে। তাই দেখে কারো আর পানিতে নামার দুঃসাহস হলনা। তাছাড়া বীচ টাও বড্ড বেশি খাড়া। একবার ঢেউয়ের ধাক্কায় পা ফসকে শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারালে নির্ঘাত সলিল সমাধি। স্থানীয় লোকজনও সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বিচিত্র ভঙ্গিতে কি সব বলল। ভাষা না বুঝলেও আকারে ইঙ্গিতে বুঝলাম নামতে নিষেধ করছে। অগত্যা মহাসাগর স্নানের অদম্য বাসনাকে আপাতত নিবারণ করতে হল।
সমুদ্র তীর ঘেঁষে আরও সামনে এগুতে থাকি। অদূরে এক দল আফ্রিকান কিশোরদের দেখলাম সমুদ্রের কাদা মাটি দিয়ে কি সব চিত্রশিল্প তৈরি করছে। অনেককে আবার নিকটবর্তী ঠাণ্ডা বালিতে গড়াগড়ি করে স্যান্ড বাথ করতে দেখা গেল। সমুদ্রের পাড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের হোটেল মোটেল। পাতা দিয়ে তৈরি কিছু কটেজ ও দেখলাম। প্রতি উইক এন্ডে এগুলো বেশ জমজমাট হয়ে উঠে। আইভরিয়ানরা খুব আমোদ প্রমোদ প্রিয় জাতি। প্রতি শনি আর রবিবারে তারা আনন্দ ফুর্তি করতে দল বেঁধে অথবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে চলে আসে সি বীচে। কেউ কেউ আবার সাউন্ড বক্স লাগিয়ে গানের তালে তালে করে উদ্দাম নৃত্য। লোকমুখে শুনেছি এদেশে কেউ শনি কিংবা রবিবারে মারা গেলে তাদের সৎকারের জন্য রেখে দেওয়া হয় পরবর্তী সোমবার পর্যন্ত! তারা বিষাদে উইক এন্ড মাটি করতে নারাজ। কথাটার সত্তি মিথ্যা যাচাই করা হয়নি। তবে এ দুইদিন শহরের প্রায় সকল অফিস আদালত আর দোকান পাট বন্ধ থাকে। এক ফুটবলকে নিয়ে এরা যে উন্মাদনায় মেতে উঠে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফাইনালে দ্রগবার পেনাল্টি মিসে হেরে গেল আইভরিকোষ্ট । তারপরও দেশে ফেরত দ্রগবাদের সংবর্ধনা দেবার জন্য বিমান বন্দরে দেখেছি হাজার হাজার যুবক, যুবতী, কিশোর কিশোরীদের ভিড়। তারপর রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা গেল কনসার্ট উৎসব চলছে।আমাদের দেশে এমন হলে বরং লোকজন ঢিল ছুঁড়ে সংবর্ধনা জানাত খেলোয়াড়দের।
হাঁটাহাঁটি করে বেশ তেষ্টায় পেয়ে বসলো। এদেশে আবার পানির দাম অনেক। তুলনামুলকভাবে পানির চেয়ে পানীয় মানে এলকোহল অনেক সস্তা। তাই পানির তেষ্টা এরা মেটায় পানীয় দিয়ে। কিছুদূর খুঁজতেই সৌভাগ্যক্রমে দেখতে পেলাম একটা মেয়ে ডাবের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। প্রান ভরে তেষ্টা মেটানো গেল সুমিষ্ট ডাবের পানি দিয়ে। ডাবের দাম সস্তাই মনে হল। একেকটা ১০০ সেফা, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫-১৬ টাকা। মনে পড়লো এই কিছুদিন আগেও আমি ঢাকা শহরে ডাব কিনেছি ৪৫- ৫০ টাকা দরে।
শেষ বিকেলে সাগরের বুকে সূর্যাস্তের অপরূপ শোভা দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠা কাঠের শো পিচের দোকান গুলোতে একটু ঢুঁ মারলাম। শিল্পীর নিখুঁত নৈপুণ্যে তৈরি শিল্প কর্ম গুলো দেখার মতো। মানুষ, প্রানি, ফুল, ফল, গাছ এসবই শিল্প কর্মের উপজীব্য। সবই কাঠ দিয়ে তৈরি কিংবা কাঠের উপর খোদাই করা। দরদাম করে এবনি কাঠের কিছু শো পীচ কিনে ফেললাম সুভেনির হিসাবে। এ কাঠটা বেশ মজবুত আর দামি - আমাদের সেগুন কাঠের মত। তবে কাঠের রং একেবারে কৃষ্ণ বরন। এ রং দেখেই চিনতে হয় এবনি কাঠ। এ দেশে তৈরি কাঠের ফার্নিচার গুলো ও অনেক চোখ ধাঁধানো। এসব তো আর দেশে বয়ে নেয়া সম্ভব না। তাই উইন্ডো শপিং করেই মনের সাধ মেটাতে হল। ফেরার পথে দেখলাম রাস্তার দু পাশের মাকিছ গুলো( মানে বার) আস্তে আস্তে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠছে। হাই ভলিউমে বাজছে আফ্রিকান রক সঙ্গীত। গানে বিটের মাত্রা অত্ত্যাধিক। পশ্চিমা রকের আগ্রাসন এখানে কবে পৌঁছে গেছে কে জানে ?
গ্র্যান্ড বাসাম পৌঁছে হাঁটাহাঁটি শুরু করলাম সৈকতের উত্তপ্ত বালুকাভুমিতে। নগ্ন পায়ে হাঁটতে গিয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হল। মনে হল যেন জ্বলন্ত উনুনের উপর দিয়ে হাঁটছি। দৌড়ে সমুদ্রের ভেজা কাদা বালিতে পা ডুবিয়ে এ যাত্রা বেঁচে গেলাম। অদূরে সূর্যকিরণ পড়া সমুদ্রতীরের বালিকনা গুলো চিক চিক করে জ্বলে আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। আর পাহাড় সমান বিশাল বিশাল ঢেউ এসে প্রচণ্ড ক্রোধে আছড়ে পড়ছে তীরে। তাই দেখে কারো আর পানিতে নামার দুঃসাহস হলনা। তাছাড়া বীচ টাও বড্ড বেশি খাড়া। একবার ঢেউয়ের ধাক্কায় পা ফসকে শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারালে নির্ঘাত সলিল সমাধি। স্থানীয় লোকজনও সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বিচিত্র ভঙ্গিতে কি সব বলল। ভাষা না বুঝলেও আকারে ইঙ্গিতে বুঝলাম নামতে নিষেধ করছে। অগত্যা মহাসাগর স্নানের অদম্য বাসনাকে আপাতত নিবারণ করতে হল।
সমুদ্র তীর ঘেঁষে আরও সামনে এগুতে থাকি। অদূরে এক দল আফ্রিকান কিশোরদের দেখলাম সমুদ্রের কাদা মাটি দিয়ে কি সব চিত্রশিল্প তৈরি করছে। অনেককে আবার নিকটবর্তী ঠাণ্ডা বালিতে গড়াগড়ি করে স্যান্ড বাথ করতে দেখা গেল। সমুদ্রের পাড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের হোটেল মোটেল। পাতা দিয়ে তৈরি কিছু কটেজ ও দেখলাম। প্রতি উইক এন্ডে এগুলো বেশ জমজমাট হয়ে উঠে। আইভরিয়ানরা খুব আমোদ প্রমোদ প্রিয় জাতি। প্রতি শনি আর রবিবারে তারা আনন্দ ফুর্তি করতে দল বেঁধে অথবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে চলে আসে সি বীচে। কেউ কেউ আবার সাউন্ড বক্স লাগিয়ে গানের তালে তালে করে উদ্দাম নৃত্য। লোকমুখে শুনেছি এদেশে কেউ শনি কিংবা রবিবারে মারা গেলে তাদের সৎকারের জন্য রেখে দেওয়া হয় পরবর্তী সোমবার পর্যন্ত! তারা বিষাদে উইক এন্ড মাটি করতে নারাজ। কথাটার সত্তি মিথ্যা যাচাই করা হয়নি। তবে এ দুইদিন শহরের প্রায় সকল অফিস আদালত আর দোকান পাট বন্ধ থাকে। এক ফুটবলকে নিয়ে এরা যে উন্মাদনায় মেতে উঠে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফাইনালে দ্রগবার পেনাল্টি মিসে হেরে গেল আইভরিকোষ্ট । তারপরও দেশে ফেরত দ্রগবাদের সংবর্ধনা দেবার জন্য বিমান বন্দরে দেখেছি হাজার হাজার যুবক, যুবতী, কিশোর কিশোরীদের ভিড়। তারপর রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা গেল কনসার্ট উৎসব চলছে।আমাদের দেশে এমন হলে বরং লোকজন ঢিল ছুঁড়ে সংবর্ধনা জানাত খেলোয়াড়দের।
হাঁটাহাঁটি করে বেশ তেষ্টায় পেয়ে বসলো। এদেশে আবার পানির দাম অনেক। তুলনামুলকভাবে পানির চেয়ে পানীয় মানে এলকোহল অনেক সস্তা। তাই পানির তেষ্টা এরা মেটায় পানীয় দিয়ে। কিছুদূর খুঁজতেই সৌভাগ্যক্রমে দেখতে পেলাম একটা মেয়ে ডাবের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। প্রান ভরে তেষ্টা মেটানো গেল সুমিষ্ট ডাবের পানি দিয়ে। ডাবের দাম সস্তাই মনে হল। একেকটা ১০০ সেফা, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫-১৬ টাকা। মনে পড়লো এই কিছুদিন আগেও আমি ঢাকা শহরে ডাব কিনেছি ৪৫- ৫০ টাকা দরে।
শেষ বিকেলে সাগরের বুকে সূর্যাস্তের অপরূপ শোভা দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠা কাঠের শো পিচের দোকান গুলোতে একটু ঢুঁ মারলাম। শিল্পীর নিখুঁত নৈপুণ্যে তৈরি শিল্প কর্ম গুলো দেখার মতো। মানুষ, প্রানি, ফুল, ফল, গাছ এসবই শিল্প কর্মের উপজীব্য। সবই কাঠ দিয়ে তৈরি কিংবা কাঠের উপর খোদাই করা। দরদাম করে এবনি কাঠের কিছু শো পীচ কিনে ফেললাম সুভেনির হিসাবে। এ কাঠটা বেশ মজবুত আর দামি - আমাদের সেগুন কাঠের মত। তবে কাঠের রং একেবারে কৃষ্ণ বরন। এ রং দেখেই চিনতে হয় এবনি কাঠ। এ দেশে তৈরি কাঠের ফার্নিচার গুলো ও অনেক চোখ ধাঁধানো। এসব তো আর দেশে বয়ে নেয়া সম্ভব না। তাই উইন্ডো শপিং করেই মনের সাধ মেটাতে হল। ফেরার পথে দেখলাম রাস্তার দু পাশের মাকিছ গুলো( মানে বার) আস্তে আস্তে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠছে। হাই ভলিউমে বাজছে আফ্রিকান রক সঙ্গীত। গানে বিটের মাত্রা অত্ত্যাধিক। পশ্চিমা রকের আগ্রাসন এখানে কবে পৌঁছে গেছে কে জানে ?
লেখক এম ই জাভেদ
- এম ই জাভেদ -এর ব্লগ
- ৯ টি মন্তব্য
- ০৮ নভেম্বর ২০১২, ২০:৪১
- ভ্রমণ
প্রিন্ট করুন
- ৯ টি মন্তব্য
-
ফেরদৌসা০৯ নভেম্বর ২০১২, ০০:৪২
আমি ভিন্ন পদ্ধতিতে আপলোড করি। সরাসরি ছবি আপলোড করতে পারিনা। অনেকবার চেষ্টা করেছি , হয়নি। আমার ভিন্ন পদ্ধতি বার্তা দিয়ে জানাব। নাহলে মানুষ শুনলে হাসবে
-
মাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৩৯
”আমার ভিন্ন পদ্ধতি বার্তা দিয়ে জানাব। নাহলে মানুষ শুনলে হাসবে”
আমি তো শুনার আগেই হাসতেছি, আমারে থামান


-
মাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৪১
পড়েছি। আবারও পড়লাম, আর বুঝলাম ছবি নেই।
ধন্যবাদ আবার শেয়ার করার জন্য।


-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক