মিথিলা--শেষ পর্ব।
প্রিয় অদিতি,
চিঠি পেয়ে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিস?বিশেষ কিছু বলব বলেই আসলে চিঠি লিখছি, যা ঠিক মোবাইলে কিংবা সামনাসামনি বলা যেতনা। মানে আমি ঠিক গুছিয়ে হয়তো বলতে পারতাম না তোকে। মাঝখানে হঠাৎ অসুখটা বেড়ে গিয়েছিল।ইচ্ছে করেই তোকে জানাইনি। অনেকটা অভিমান থেকেই বলতে পারিস। নতুন চাকরি পেয়েছিস,ব্যস্ততা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে দু'একবার ফোন করারও সময় পাসনা? কতদিন আসিস না আমাদের বাসায় বলতো?
মা আমাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে চাইছে। যেন ওখানকার ডাক্তারদের চিকিৎসা পেলেই আমি ভাল হয়ে যাব।আমরা মানুষরা এত বেশি আশাবাদি যে, ব্যর্থ হব জেনেও শেষ চেষ্টা করতে ছাড়িনা। ভিসা পেতে মাকে খুব দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। একবার ভেবেছিলাম না করি,যে আমি নিশ্চিৎ মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি তার জন্য এতটা কষ্টকরার কি দরকার? পরে মনে হল থাক। মা হয়তো এভাবেই নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে চাইছে। আমি ছাড়া যে মায়ের আর কেও নেই। মার দিকে তাকালে ভিষণ কষ্ট হয় জানিস? যে মানুষটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গুলো আমার জন্য নষ্ট করল, তার জন্য আমি কি করতে পারলাম? শুধু কষ্টই দিয়ে গেলাম। কে বলবে ওনার সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই?জন্ম না দিয়েও
যে পুরটা মাতৃত্তের অধিকার নিয়ে নেয়া যায় তার জলজ্যন্ত উদাহরন উনি নিজেই। তুই কি অবাক হলি আমার কথা শুনে?
হ্যা, সত্যি মায়ের সাথে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই।
আচ্ছা অদিতি,মৃত্যুর কাছাকাছি এলে কি মানুষের বুদ্ধি অনেক বেড়ে যায়? আমি এতটা বুদ্ধিমতি না হলে কি খুব একটা
ক্ষতি হত?
জীবনের শেষ কটা দিন তাহলে হয়তো নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম।আমার আয়ু যে আর মাত্র ২৯দিন, সেটা আমার কাছে
গোপনই থেকে যেত।মরে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত বেচে থাকার স্বপ্ন দেখতাম।সব কিছু জেনেও না জানার ভান করতে হতনা
আমাকে।প্রতিটা মুহুর্তে এখন আমাকে নিজের সাথে অভিনয় করতে হচ্ছে। এরকম নিষ্ঠুর সত্যটা যে আমি জেনে গেছি সেটা যাতে কেও না বুঝতে পারে তাই ভেতরে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়েও হাসতে হচ্ছে। এ যে কি ভয়ানক কষ্ট সেটা তুই ছাড়া আর কেও বুঝবেনা বলেই তোকে বলছি।
প্রথমেই নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিলি মা আমার নিজের মা না শুনে।তোকে আরো কিছু গোপন কথা জানাব আজকে।
তোর নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে কে আমার মা? যদিও জন্ম দেয়নি তারপরও আমি ফারহানাকেই আমার মা হিসেবে জানি।
পরজন্ম বলে কিছু সত্যিই যদি থাকত, আমি ফারহানার মেয়ে হয়েই জন্মাতে চাইতাম। অদিতি তুইতো একটা ব্যপার
জানতিস, দোলা আন্টিকে মা ঠিক সহ্য করতে পারতো না। যখন খুব ছোট ছিলাম অবাক হয়ে লক্ষ্য করতাম, দোলা আন্টি
বাসায় এলেই মা কেমন পাগলের মত হয়ে যেত,তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি, মার কিছু একটা নিয়ে ভয় ছিল।অদিতি,
তুই কি বুঝতে পারছিস? মা কেন ভয় পেতেন।
আমি জানি তুই বুঝতে পারছিস।
সবাই বলে দোলা আন্টি নিখোজ। আমি কিন্তু জানি উনি কোথায় আছেন।তোকে বলবনা। শুধু এটুকু জেনে রাখ, উনি এখন স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন।এবার তোকে আরো সকিং একটা খবর দেই। আমার মৃত বাবা,মানে মিঃ রেজোয়ান কিন্তু সত্যি সত্যি মরেননি।
আচ্ছা অদিতি, মা হতে না পারাটা কি নারীর অপরাধ? সৃষ্টি কর্তা যাকে মা হওয়ার ক্ষমতা দেননি, তার পাপটা কোথায় যার জন্য তাকে এতো বড় শাস্তি পেতে হবে। মা জাতটাকে ঠিক বুঝলাম না। এক মা সন্তান পাওয়ার জন্য স্বামী, সংসার সব ছেড়ে দিল, আর একজন! সন্তান দিয়ে স্বামী কিনেছেন। শব্দটা বোধ হয় একটু অশ্লিল হয়ে গেল। কি করব বল? এর চেয়ে ভাল শব্দ যে আর খুজে পেলাম না। মার জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমার জন্যই তো তার এত আত্মত্যাগ। কি করতে পারলাম তার জন্য? বরঞ্চ আরো যন্ত্রনা দিয়ে যাচ্ছি।
কষ্ট হচ্ছে আরো একজনের জন্য। তোর না বোঝার কথা না। হ্যা, আদিত্যর কথাই বলছি। ছেলেটা যে আজ পর্যন্ত আমি ছাড়া আর কোন মেয়েকেই ভাল বাসেনি। ও বড্ড একা হয়ে যাবে রে। অদিতি, নিবি ওর দায়িত্ব? জানি না অন্যায় আবদার করলাম কিনা। তুই ছাড়া এত বড় দায়িত্বটা আমি আর কাকে দিতে পারি বল? জানিসনা হয় তো, আমার মত আদিত্যও কিন্তু তোকে অনেক বেশি পছন্দ করে। ওর এই ভাললাগাটাকে ভালবাসায় গড়ে নিতে পারবিনা ?
আমি জানি, একমাত্র তুই-ই পারবি, ওর মন থেকে আমাকে ভুলিয়ে দিতে।
এবার তোকে আসল গল্পটা বলব।মনে আছে একবার তোর কোন এক শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় গিয়ে এক ছেলের সাথে দেখা হয়েছিল। সম্ভবত ছেলেটা হাতের কাজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তোকে ওর প্রতিদ্বন্দি ভেবে যাচ্ছেতাই ভাবে পিন মেরে কথাও বলেছিল। যা তুই ঠিক সহ্য করতে পারিসনি। রেগে গিয়েছিলি ভিষণ। শুনিয়েও দিয়েছিলি একচোট কথা। তারপরও ছেলেটার প্রতি তোর রাগ বেশিক্ষন থাকেনি।কারণ ছেলেটা মাটি দিয়ে একজন মুক্তি যোদ্ধার মুর্তি বানিয়েছিল যার হাতে ছিল আমাদের জাতীয় পতাকা।
ইয়ার্কির ছলে বহুবার তোর মুখে শুনেছি, ওটাই তোর প্রথম প্রেম,যার কারনে নাকি আজ পর্যন্ত অন্য কোন ছেলেকে ভাল বাসতে পারিস নি, আমার কেন যেন মনে হয় এটা শুধু ইয়ার্কি না। এটাই তোর জীবনের বাস্তব সত্য। তা নাহলে কোন মেয়ের চোখে কোন দিনই কোন ছেলেকে ভাল লাগবে না এরকমটা ঠিক হয় না,জানিস? মানুষ মাত্রই তার জীবনে প্রেম আস্তে বাধ্য।এটাই স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক। কি,ভাবছিস ? কেন তোকে গল্পটা বললাম? আচ্ছা আমাকে বলতো, বান্ধবীর প্রেমিকের দিকে ভাল করে তাকানো কি নিষেধ? কোনদিনই বোধ হয় আদিত্যকে ভাল করে দেখিসনি তাই না? তাহলে হয়তো আজকে আমাকে কিছুই বলতে হত না। সময় মানুষের চেহারায় পরিবর্তন আনে সত্যি,পুরোটা কি বদলাতে পারে? সময় করে একবার আদিত্যর রুমটা দেখে যাস। ওর পরার টেবিলে এখনো মূর্তিটা সযতনেই রাখা আছে। ওর নাকি মূর্তিটা এত বেশি পছন্দ হয়ে গিয়েছিল যে রেজাল্ট হয়ে যাওয়ার পর নিজের গড়া মূর্তি টা নিজেই চুরি করে নিয়ে এসেছিল।
আমি জানি তুই এখন ভাবছিস কেন আমি এতোদিন তোকে কথাটা বলিনি, তাইনা? সত্যিটাই বলি, ভয় পেয়েছিলাম। আমি জানি তোর কাছে আমার হারানোর কিছু নেই। যার দিয়েই অভ্যাস সে কখনো অন্যের জিনিস নেয় না।তারপরও দুর্বল মন তো। ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম,যদি হারাই ওকে।অথচ কি ভাগ্য দেখ আজ তোর কাছেই ওকে দিয়ে যাচ্ছি। ভাবিস না তোকে তোর ভালবাসা ফিরিয়ে দিতে চাইছি। আমার ভালবাসাকে একটা নিরাপদ আশ্রয় দিতে চাইছি মাত্র।
কেমন স্বার্থপরের মত কথা তাইনা? আমি কি ভুল করলাম অদিতি? দিবিনা ওকে একটু আশ্রয়? আমি জানি তুই না বলবি না। তুই না বলতে পারিসই না। তুই ছাড়া সত্যিই যে আর কারো পক্ষে সম্ভব না, আদিত্যর মন থেকে মিথিলার স্মৃতি মুছে দেওয়া।
আমি আর লিখতে পারছিনা। আর কিছু লেখার নেইও অবশ্য। অনেক অগোছালো ভাবে লিখলাম তাইনা? কি করব বল? আমি যে গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তাও আবার লিখলাম কত বছর পর। আমি জানি চিঠি পড়ে তুই বিরক্ত হবিনা। বুঝে নিস নিজের মত করে।যা আমি বোঝাতে চেয়েও বোঝাতে পারিনি হয়তো। আর সময় পেলে একবার এসে ঘুরে যাস। সত্যি ভীষণ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে তোকে। চিঠিটা আমি আদিত্যর হাতেই পাঠাচ্ছি। বলেও দিচ্ছি যাতে তোর চিঠি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোর সামনেই অপেক্ষা করে। পারলে ওর সাথেই চলে আসিস। দুজনকে এক সাথে দেখতে আমার ভালই লাগবে।
তা না হলে হয়তো দেখার সুযোগই পাবনা, কেমন মানায় দুজনকে পাশাপাশি।
অনেক ভালবাসা সহ
মিথিলা।
চিঠিটা অনেক মনযোগ দিয়ে পড়ল অদিতি।সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্য। ওকি জানে কি লেখা আছে এই চিঠিতে? জানে হয়তো!কি করবে অদিতি এখন? সে কি ধরবে আদিত্যর হাতটা??????????????????????????????
চিঠি পেয়ে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিস?বিশেষ কিছু বলব বলেই আসলে চিঠি লিখছি, যা ঠিক মোবাইলে কিংবা সামনাসামনি বলা যেতনা। মানে আমি ঠিক গুছিয়ে হয়তো বলতে পারতাম না তোকে। মাঝখানে হঠাৎ অসুখটা বেড়ে গিয়েছিল।ইচ্ছে করেই তোকে জানাইনি। অনেকটা অভিমান থেকেই বলতে পারিস। নতুন চাকরি পেয়েছিস,ব্যস্ততা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে দু'একবার ফোন করারও সময় পাসনা? কতদিন আসিস না আমাদের বাসায় বলতো?
মা আমাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে চাইছে। যেন ওখানকার ডাক্তারদের চিকিৎসা পেলেই আমি ভাল হয়ে যাব।আমরা মানুষরা এত বেশি আশাবাদি যে, ব্যর্থ হব জেনেও শেষ চেষ্টা করতে ছাড়িনা। ভিসা পেতে মাকে খুব দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। একবার ভেবেছিলাম না করি,যে আমি নিশ্চিৎ মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি তার জন্য এতটা কষ্টকরার কি দরকার? পরে মনে হল থাক। মা হয়তো এভাবেই নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে চাইছে। আমি ছাড়া যে মায়ের আর কেও নেই। মার দিকে তাকালে ভিষণ কষ্ট হয় জানিস? যে মানুষটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় গুলো আমার জন্য নষ্ট করল, তার জন্য আমি কি করতে পারলাম? শুধু কষ্টই দিয়ে গেলাম। কে বলবে ওনার সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই?জন্ম না দিয়েও
যে পুরটা মাতৃত্তের অধিকার নিয়ে নেয়া যায় তার জলজ্যন্ত উদাহরন উনি নিজেই। তুই কি অবাক হলি আমার কথা শুনে?
হ্যা, সত্যি মায়ের সাথে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই।
আচ্ছা অদিতি,মৃত্যুর কাছাকাছি এলে কি মানুষের বুদ্ধি অনেক বেড়ে যায়? আমি এতটা বুদ্ধিমতি না হলে কি খুব একটা
ক্ষতি হত?
জীবনের শেষ কটা দিন তাহলে হয়তো নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম।আমার আয়ু যে আর মাত্র ২৯দিন, সেটা আমার কাছে
গোপনই থেকে যেত।মরে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত বেচে থাকার স্বপ্ন দেখতাম।সব কিছু জেনেও না জানার ভান করতে হতনা
আমাকে।প্রতিটা মুহুর্তে এখন আমাকে নিজের সাথে অভিনয় করতে হচ্ছে। এরকম নিষ্ঠুর সত্যটা যে আমি জেনে গেছি সেটা যাতে কেও না বুঝতে পারে তাই ভেতরে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়েও হাসতে হচ্ছে। এ যে কি ভয়ানক কষ্ট সেটা তুই ছাড়া আর কেও বুঝবেনা বলেই তোকে বলছি।
প্রথমেই নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিলি মা আমার নিজের মা না শুনে।তোকে আরো কিছু গোপন কথা জানাব আজকে।
তোর নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে কে আমার মা? যদিও জন্ম দেয়নি তারপরও আমি ফারহানাকেই আমার মা হিসেবে জানি।
পরজন্ম বলে কিছু সত্যিই যদি থাকত, আমি ফারহানার মেয়ে হয়েই জন্মাতে চাইতাম। অদিতি তুইতো একটা ব্যপার
জানতিস, দোলা আন্টিকে মা ঠিক সহ্য করতে পারতো না। যখন খুব ছোট ছিলাম অবাক হয়ে লক্ষ্য করতাম, দোলা আন্টি
বাসায় এলেই মা কেমন পাগলের মত হয়ে যেত,তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি, মার কিছু একটা নিয়ে ভয় ছিল।অদিতি,
তুই কি বুঝতে পারছিস? মা কেন ভয় পেতেন।
আমি জানি তুই বুঝতে পারছিস।
সবাই বলে দোলা আন্টি নিখোজ। আমি কিন্তু জানি উনি কোথায় আছেন।তোকে বলবনা। শুধু এটুকু জেনে রাখ, উনি এখন স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন।এবার তোকে আরো সকিং একটা খবর দেই। আমার মৃত বাবা,মানে মিঃ রেজোয়ান কিন্তু সত্যি সত্যি মরেননি।
আচ্ছা অদিতি, মা হতে না পারাটা কি নারীর অপরাধ? সৃষ্টি কর্তা যাকে মা হওয়ার ক্ষমতা দেননি, তার পাপটা কোথায় যার জন্য তাকে এতো বড় শাস্তি পেতে হবে। মা জাতটাকে ঠিক বুঝলাম না। এক মা সন্তান পাওয়ার জন্য স্বামী, সংসার সব ছেড়ে দিল, আর একজন! সন্তান দিয়ে স্বামী কিনেছেন। শব্দটা বোধ হয় একটু অশ্লিল হয়ে গেল। কি করব বল? এর চেয়ে ভাল শব্দ যে আর খুজে পেলাম না। মার জন্য কষ্ট হচ্ছে। আমার জন্যই তো তার এত আত্মত্যাগ। কি করতে পারলাম তার জন্য? বরঞ্চ আরো যন্ত্রনা দিয়ে যাচ্ছি।
কষ্ট হচ্ছে আরো একজনের জন্য। তোর না বোঝার কথা না। হ্যা, আদিত্যর কথাই বলছি। ছেলেটা যে আজ পর্যন্ত আমি ছাড়া আর কোন মেয়েকেই ভাল বাসেনি। ও বড্ড একা হয়ে যাবে রে। অদিতি, নিবি ওর দায়িত্ব? জানি না অন্যায় আবদার করলাম কিনা। তুই ছাড়া এত বড় দায়িত্বটা আমি আর কাকে দিতে পারি বল? জানিসনা হয় তো, আমার মত আদিত্যও কিন্তু তোকে অনেক বেশি পছন্দ করে। ওর এই ভাললাগাটাকে ভালবাসায় গড়ে নিতে পারবিনা ?
আমি জানি, একমাত্র তুই-ই পারবি, ওর মন থেকে আমাকে ভুলিয়ে দিতে।
এবার তোকে আসল গল্পটা বলব।মনে আছে একবার তোর কোন এক শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় গিয়ে এক ছেলের সাথে দেখা হয়েছিল। সম্ভবত ছেলেটা হাতের কাজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তোকে ওর প্রতিদ্বন্দি ভেবে যাচ্ছেতাই ভাবে পিন মেরে কথাও বলেছিল। যা তুই ঠিক সহ্য করতে পারিসনি। রেগে গিয়েছিলি ভিষণ। শুনিয়েও দিয়েছিলি একচোট কথা। তারপরও ছেলেটার প্রতি তোর রাগ বেশিক্ষন থাকেনি।কারণ ছেলেটা মাটি দিয়ে একজন মুক্তি যোদ্ধার মুর্তি বানিয়েছিল যার হাতে ছিল আমাদের জাতীয় পতাকা।
ইয়ার্কির ছলে বহুবার তোর মুখে শুনেছি, ওটাই তোর প্রথম প্রেম,যার কারনে নাকি আজ পর্যন্ত অন্য কোন ছেলেকে ভাল বাসতে পারিস নি, আমার কেন যেন মনে হয় এটা শুধু ইয়ার্কি না। এটাই তোর জীবনের বাস্তব সত্য। তা নাহলে কোন মেয়ের চোখে কোন দিনই কোন ছেলেকে ভাল লাগবে না এরকমটা ঠিক হয় না,জানিস? মানুষ মাত্রই তার জীবনে প্রেম আস্তে বাধ্য।এটাই স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক। কি,ভাবছিস ? কেন তোকে গল্পটা বললাম? আচ্ছা আমাকে বলতো, বান্ধবীর প্রেমিকের দিকে ভাল করে তাকানো কি নিষেধ? কোনদিনই বোধ হয় আদিত্যকে ভাল করে দেখিসনি তাই না? তাহলে হয়তো আজকে আমাকে কিছুই বলতে হত না। সময় মানুষের চেহারায় পরিবর্তন আনে সত্যি,পুরোটা কি বদলাতে পারে? সময় করে একবার আদিত্যর রুমটা দেখে যাস। ওর পরার টেবিলে এখনো মূর্তিটা সযতনেই রাখা আছে। ওর নাকি মূর্তিটা এত বেশি পছন্দ হয়ে গিয়েছিল যে রেজাল্ট হয়ে যাওয়ার পর নিজের গড়া মূর্তি টা নিজেই চুরি করে নিয়ে এসেছিল।
আমি জানি তুই এখন ভাবছিস কেন আমি এতোদিন তোকে কথাটা বলিনি, তাইনা? সত্যিটাই বলি, ভয় পেয়েছিলাম। আমি জানি তোর কাছে আমার হারানোর কিছু নেই। যার দিয়েই অভ্যাস সে কখনো অন্যের জিনিস নেয় না।তারপরও দুর্বল মন তো। ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম,যদি হারাই ওকে।অথচ কি ভাগ্য দেখ আজ তোর কাছেই ওকে দিয়ে যাচ্ছি। ভাবিস না তোকে তোর ভালবাসা ফিরিয়ে দিতে চাইছি। আমার ভালবাসাকে একটা নিরাপদ আশ্রয় দিতে চাইছি মাত্র।
কেমন স্বার্থপরের মত কথা তাইনা? আমি কি ভুল করলাম অদিতি? দিবিনা ওকে একটু আশ্রয়? আমি জানি তুই না বলবি না। তুই না বলতে পারিসই না। তুই ছাড়া সত্যিই যে আর কারো পক্ষে সম্ভব না, আদিত্যর মন থেকে মিথিলার স্মৃতি মুছে দেওয়া।
আমি আর লিখতে পারছিনা। আর কিছু লেখার নেইও অবশ্য। অনেক অগোছালো ভাবে লিখলাম তাইনা? কি করব বল? আমি যে গুছিয়ে লিখতে পারিনা। তাও আবার লিখলাম কত বছর পর। আমি জানি চিঠি পড়ে তুই বিরক্ত হবিনা। বুঝে নিস নিজের মত করে।যা আমি বোঝাতে চেয়েও বোঝাতে পারিনি হয়তো। আর সময় পেলে একবার এসে ঘুরে যাস। সত্যি ভীষণ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে তোকে। চিঠিটা আমি আদিত্যর হাতেই পাঠাচ্ছি। বলেও দিচ্ছি যাতে তোর চিঠি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোর সামনেই অপেক্ষা করে। পারলে ওর সাথেই চলে আসিস। দুজনকে এক সাথে দেখতে আমার ভালই লাগবে।
তা না হলে হয়তো দেখার সুযোগই পাবনা, কেমন মানায় দুজনকে পাশাপাশি।
অনেক ভালবাসা সহ
মিথিলা।
চিঠিটা অনেক মনযোগ দিয়ে পড়ল অদিতি।সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্য। ওকি জানে কি লেখা আছে এই চিঠিতে? জানে হয়তো!কি করবে অদিতি এখন? সে কি ধরবে আদিত্যর হাতটা??????????????????????????????
লেখক অদিতি
- অদিতি -এর ব্লগ
- ৬ টি মন্তব্য
- ০৫ অক্টোবর ২০১০, ২৩:৩০
- গল্প
প্রিন্ট করুন
- ৬ টি মন্তব্য
-
ছেলেবেলা০৬ অক্টোবর ২০১০, ১৪:১৯
হঠাৎ করেই আবার মিথিলা। আগের পর্বগুলো অনেক আগে পড়লেও এখনো মনে আছে। তবুও লিংক দিলে অনেকের সুবিধা হত। বরাবরের মতই এটা মিস্ করেছেন।
শেষটা অসাধারণ হয়েছে। অনেকগুলো কিন্তুকে খুব দক্ষ গল্পকারের মত একসাথে মিলিয়ে দিয়েছেন। পারফেক্ট ফিনিশিং।
আপনাকে আবার নিয়মিত দেখলে অনেক ভালো লাগবে।
ভালো থাকা হয় যেন... -
অলিউর রহমান চৌধুরী২১ ডিসেম্বর ২০১০, ০৫:৪০
আগের একটি পর্বও যদি পড়িনি কিন্তু লেখার টানই শেষ পর্যন্ত নিয়ে এলো আমাকে। আপনার লেখার হাত ভীষন সাবলিল। সুন্দর ও। -
অলিউর রহমান চৌধুরী২২ ডিসেম্বর ২০১০, ০৬:৩৩
আমি কিন্তু গল্পের টানের কথা বলিনি, বলেছি লেখার টান। অর্থাৎ অল্প একটু চোখ বোলানোর ছলে তাকাচ্ছিলাম শুধুমাত্র কিন্তু শেষ পর্যন্ত আটকে গেলাম। প্রথম থেকে শুরু করব কাল থেকে। আপনাকে জানাব।





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক